এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দুর্গাপূজোর অন্য গল্প (৬)

    Mousumi Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১৫৬ বার পঠিত
  • সপ্তমীর পূজোর শেষে দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল সেদিন। এছাড়াও পাঁচ কিলোমিটার দূরে রেলওয়ে কলোনির পূজোয় নিমন্ত্রণ ছিল। পূজো প্যাণ্ডেলে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারটা তখনও কলকাতায় শুরু হয় নি। বাংলার বাইরে যে কোনোও রাজ্যে তখন এমনভাবেই পূজো হত। যে কোনোও পরিবারের আত্মীয়, বন্ধুসহ এইসব পূজোয় জড়ো হওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার ছিল। ভিনরাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালীরা  উৎসবের দিনগুলিতে এমনভাবেই স্বজন বন্ধুদের সাহচর্য পেতে চাইতেন। আমাদের বিশেষ পরিচিত এক বন্ধু ঐদিন নিমন্ত্রণ করেছিলেন আগে থেকেই। বাবা, মা তাঁদের নতুন বন্ধুদের সঙ্গে  আমাদের নিজেদের  মণ্ডপেই  খেয়ে নিয়েছিলেন। বোনকে নিয়ে আমরা দুজন গিয়েছিলাম। বিকেলের আগেই ফিরে এসে বিশ্রাম নিলাম।

    সন্ধ্যায় বেঙ্গলী অ্যাসোসিয়েশনে  আরতির পর ছিল বিচিত্রানুষ্ঠান। আমাদের মধ্যে অনেকেই অনুষ্ঠানের শিল্পী আবার দর্শকও। একাধিক ভূমিকায় আবার এক একজন। একটু বয়স্করা দর্শক রূপেই ছিলেন। নৃত্যনাট্যের নামটা সঠিক মনে না থাকলেও মহিষাসুরমর্দিনী থিমের ছিল সেকথা মনে আছে। গ্ৰীনরুম বলতে ছিল একটিমাত্র ঘর। সেখানেই বড় আয়না লাগানো ছিল। মেয়েদের মেকআপে সময় লাগবে এবং সাজগোজের পর মেয়েদের ঐ ঘরটিতেই বসবার ব্যবস্থা ছিল বলে মহিষাসুর এবং অন্যান্য দেবতার ভূমিকায় যে দাদারা ছিলেন তাঁরা চোখ, ভুরু এঁকে আগেই তৈরী হয়ে গিয়েছিলেন। মহাদেবের জটা, ব্রহ্মা, বিষ্ণুর দাড়ি, চুল এবং সর্বোপরি মহিষাসুরের শিং, চওড়া ভুরু, গোঁফ ইত্যাদি রাখা ছিল একটি অন্য ছোট ঘরে।

    পূজো কমিটির এক বিশেষ সক্রিয় সদস্য, এক দাদা অবতীর্ণ হবেন মহিষাসুরের ভূমিকায়। তাঁরই ব্যবস্থাপনায় সমস্ত সাজ সরঞ্জাম এসেছে। তিনি মাথায় শিং লাগিয়ে, মুখে গোঁফ লাগিয়ে প্রায় তৈরী। ধরাচুরা পরে মহিষাসুরের  হা হা রব করে  পরখের চেষ্টা তিনি করেছিলেন উল্টোদিকের  সেই ছোট ঘর থেকে।  মণ্ডপের পাশে ছিল বেশ কয়েকটি কুকুর, সব তারস্বরে চীৎকার করতে শুরু করে দিল। অনেক কষ্টে থামানো হল ওদের। মহিষাসুরবেশী দাদা দ্বিতীয়বার যেই শুরু করেছেন আবার সমস্বরে কুকুরদের চেঁচামেচি শুরু। এবার আরোও কয়েকখানা এসে যোগ দিয়েছে দেখা গেল। বকা দিয়ে থামানো হল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই একটু রোগা চেহারার একটি কুকুর ও ও ও ও করে কাঁদতে শুরু করতেই বাকিরাও নানা সুরে যোগ দিল। সে কি বিভ্রাট! মেয়েরা মেকআপ ফেলে সব বেরিয়ে এসেছে। সকলের মাথায় প্রশ্ন , এইভাবে অনুষ্ঠান হবে কি করে?  হাসিও পেয়ে যাচ্ছে তখন। মহিষাসুরবেশী দাদাই হর্তা কর্তা। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মাথায় শিং পরেই। কুকুরের দল সে দেখেও বিশাল হৈ চৈ শুরু করেছিল। তার উপর মহিষাসুর দাদার  বছর তিনেকের মেয়ে অমন শিংওয়ালা বাবাকে দেখে কেঁদেকেটে অস্থির। বৌদি এসে সামলালেন কোনোওরকমে। কিছু খাবারের লোভ দেখিয়ে সারমেয় কূলকে সেদিন ঠাঁইনাড়া করা হয়েছিল অনুষ্ঠান শুরু হতেই। কিশোর ভলান্টিয়াররা বাকিটা সামলেছিল ভালো করেই।

    এরপর অনুষ্ঠানে বিভ্রাট বিশেষ আর হয় নি। স্টেজে ওঠার কিছু আগে  মহাদেবের অজান্তে অর্দ্ধেক গোঁফ খুলে পড়ে গিয়েছিল এই যা!  বোধহয় ব্রহ্মার চোখে পড়ে যায় ব্যাপারটা।  তবে গোঁফের অর্দ্ধাংশ পেয়ে যাওয়ায়  সমস্যার  সমাধান শেষমেশ হয়েই গিয়েছিল।  আমি, বোন তখন স্টেজে গানের আসরে। এই ঘটনাটা পরে জেনেছিলাম। তাই এর থেকে বেশী কিছু বলা গেল না।  সেই দুই বোনের নাচ প্রশংসা পেয়েছিল সকলের।  সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নৃত্যনাট্য যথেষ্ট ভালো হয়েছিল।

    অনুষ্ঠানের শেষে এইসব ঘটনার উল্লেখ করে  মহিষাসুরবেশী দাদা  সকলকে প্রচুর হাসতে বাধ্য করেছিলেন। বৌদিও সঙ্গ দিয়ে আড্ডায় মাধুর্য যোগ করেছিলেন। রাতে সেদিন লুচি, তরকারি, মিষ্টি ইত্যাদি সকলে মিলে খেয়ে ফিরে এলাম ঘরে। আর হ্যাঁ, সারমেয়র দলকে ডেকে আবার ফিরিয়ে আনাও হয়েছিল সেইদিনই। ........

    ক্রমশঃ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন