বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শের পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় কংগ্রেস 

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৬ আগস্ট ২০২২ | ১৪৩ বার পঠিত
  • বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ও সুলেখক রামচন্দ্র গুহ  তাঁর ‘ Makers of Modern India’ বইয়ের ভূমিকাতে এই নিয়ে বিস্ময় ও আহ্লাদ প্রকাশ করেছেন যে আধুনিক ভারতের রূপকার যাঁরা , তাঁরা তাঁদের কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি প্রচুর লিখে গেছেন তাঁদের স্বপ্নের ভারত নিয়ে। মহাত্মা গান্ধীর সংকলিত রচনাবলীর ( ১৯৫৮ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে ভারত সরকার দ্বারা প্রকাশিত) খণ্ডের  সংখ্যা নব্বইয়ের বেশি। নেহেরুর  অনুরূপ খণ্ডের  সংখ্যা ষাটের বেশি।  আশির  দশকে মহারাষ্ট্র সরকার প্রকাশিত আম্বেদকারের রচনাবলীর  খণ্ড  সংখ্যা ষোল (বেশ কিছু  খন্ডের পৃষ্ঠাসংখ্যা  হাজারের  বেশি ) । এর মধ্যে অনেক রুটিন বক্তৃতা বা চিঠি রয়েছে বটে  , কিন্তু বহু বিষয়ে বিস্তৃত  প্রবন্ধ  রয়েছে। বিষয় জাতিগত আত্মপরিচয়, গণতন্ত্র,ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং সামাজিক ন্যায়। শুধু এই তিনজনই নন, রামচন্দ্রের মতে অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং সংস্কারকরাও একই সঙ্গে  ছিলেন কর্মনিষ্ঠ এবং চিন্তাবিদ।
    কী নিয়ে ভাবিত ছিলেন এই  রাষ্ট্রনায়করা ? দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তো বটেই, পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশ ও মুক্তি নিয়েও।  এরমধ্যে  নেহেরু এবং সুভাষচন্দ্রের সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার প্রতি পক্ষপাতের কথা আমরা জানি । যেহেতু সুভাষচন্দ্র দেশশাসনের সুযোগ পান নি তাই আপাতত শুধু  নেহেরুর সমাজতান্ত্রিক চিন্তা এবং তার প্রয়োগ নিয়ে আমরা দু চার কথা এখানে স্মরণ করে নিতে পারি।১৯৩১ সালে করাচী  অধিবেশনে কংগ্রেসের  মৌলিক অধিকার ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রস্তাব গৃহীত হয়।  সেখানে স্পষ্ট করেই বলা হয় সমাজের অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ন্যায়বিচারের  ওপর এবং প্রত্যেক নাগরিককে সুস্থ জীবনযাপনের অধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে কলকারখানায় খেটে খাওয়া  মজদুরদের স্বার্থ রক্ষা করা যাতে তাঁরা জীবনধারণের উপযুক্ত বেতন ও সুস্থ পরিবেশ পান, তাঁদের পরিশ্রমের সময় আইনানুগভাবে সীমিত হয় এবং বার্ধক্য ও ব্যাধির সময় তাঁরা সহায়তা পান। অন্যদিকে রাষ্ট্রকে জমির মালিকানা ও কর ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে যাতে ছোটো কৃষকেরা উপকৃত হন। এছাড়াও এই প্রস্তাবে বলা হয়  যে মৌলিক শিল্প, খনিজ সম্পদ, রেলপথ, জলপথ,জাহাজ ও অন্যান্য সাধারণ পরিবহণ ব্যবস্থা  রাষ্ট্রের মালিকানাধীন থাকবে। এই প্রস্তাবের অন্যতম রূপকার ছিলেন জওহরলাল নেহেরু। ১৯২৬ সালেই তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘুরে আসার পর সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, অন্তত অর্থনৈতিক দিশার লক্ষ্যে। নেহেরু ১৯৩৩ সালে কন্যাকে লেখা চিঠিতে সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞা শেখাতে গিয়ে বলছেন যে এর লক্ষ্য হচ্ছে একদিকে  উৎপাদনের উপকরণগুলির উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ যেমন জমি, খনি ও কারখানার ওপর।  পাশাপাশি বন্টনের উপকরণগুলির ওপরও যেমন রেল,  ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দরকার। উদ্দেশ্য হল যাতে ব্যক্তি এই ধরণের কোনো প্রতিষ্ঠান বা অন্যের শ্রমকে শোষণ করে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সুবিধা বৃদ্ধি করতে না পারে। নেহেরু অবশ্য পাশাপাশি আশা  প্রকাশ করতেন যে সমাজতন্ত্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে হত্যা করবে না। ১৯৩৬ সালে কংগ্রেস সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, ‘ পুঁজিবাদ তার সংকট থেকে বাঁচতে ফ্যাসিজমের রূপ ধরেছে। ফ্যাসিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ তাই অবক্ষয়ী পুঁজিবাদের দুই মুখ। পশ্চিমে সমাজতন্ত্র এবং পূবে উদীয়মান জাতীয়তাবাদ এই অশুভ শক্তিসমন্বয়ের বিরোধিতা করছে ।‘
    সমাজতন্ত্রের পক্ষে নেহেরুর এই  পক্ষপাতের বিরুদ্ধে অবশ্য কংগ্রেস দলের মধ্যেও যথেষ্ট বিরুদ্ধতা দেখা যায়। ১৯৩৮ সালের জুন মাসে রাজেন্দ্রপ্রসাদ, রাজাগোপালাচারী, কৃপালনী সমেত কার্যকরী পরিষদের সাত জন সদস্য নেহেরুর  মতের বিরোধিতায় পদত্যাগ পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন। গান্ধীর মধ্যস্থতায় ব্যাপারটার ফয়সালা হয়। নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে (১৯৩৬ ) যা লিখেছিলেন তাতে তো তাঁকে একজন মার্কসবাদীর সঙ্গে আলাদা করাই মুশকিল হয়ে পড়ে ,
    “আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য কেবল এক শ্রেণীহীন সমাজ যেখানে সকলের সমান অর্থনৈতিক ন্যায় এবং সুযোগ রয়েছে। এই পথে যে বাধাই আসুক না কেন তাকে দূর করতে হবে সম্ভব হলে নরমভাবে আর প্রয়োজন হলে  জোর করে। আর এ ব্যাপারে বেশি সন্দেহ নেই যে বলপ্রয়োগের দরকারও  প্রায়ই ঘটবে। “ অবশ্য নেহেরু নিজেই এই বলপ্রয়োগের নীতি সম্বন্ধে পরবর্তী সময়ে সন্দিহান হয়ে ওঠেন।  ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নেহেরুর মনে হয়  যে তাঁর দল ও দেশ  বৈপ্লবিক সমাজতন্ত্রের জন্য প্রস্তুত নয়। তবু তিনি মিশ্র অর্থনীতি এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে তাঁর আদর্শের রূপায়নের চেষ্টা অব্যহত রাখেন।  এরই মধ্যে ১৯৫৫ সালে  প্রথম পরিকল্পনা চলাকালীন কংগ্রেস বিশেষ অধিবেশনে এই প্রথম ঘোষণা করে দেশে সমাজতান্ত্রিক ধাচের সমাজ প্রতিষ্ঠা  তার লক্ষ্য।  বাংলার প্রাক্তন কংগ্রেসী অর্থমন্ত্রী এবং সুলেখক  শংকর ঘোষের মতে  এই প্রস্তাবের বীজ ছিলো কংগ্রেস সংবিধানে যে সমতাভিত্তিক সমবায় সমাজের (কোঅপারেটিভ কমনওয়েলথ )  কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে। ১৯৫৭ সালের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের ইস্তাহারে এই বামপন্থী চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছিলো। স্টেট ব্যাংক ও জীবনবীমার জাতীয়করণ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। ১৯৬৪ সালে ভুবনেশ্বরে কংগ্রেস পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে নিজের লক্ষ্য বলে মেনে নেয়।  ১৯৬৯ সালের  জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী  ১৪ টি  বৃহৎ ব্যাংক জাতীয়করণ করেন । তাঁর অর্থমন্ত্রী মোরারজি দেশাই এই জাতীয়করণ  প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে  ছিলেন বলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
    সংবিধানের ২৬ তম সংশোধনের মাধ্যমে  রাজন্যভাতা বিলোপের জন্য বিল আনা আরেকটি প্রগতিশীল কাজ বলে বিবেচিত হয় যেটা ঘটে ১৯৭০ সালের ১৮ই মে। ভারতে ২৭৮ জন রাজন্যভাতার গ্রাহক ছিলেন যাদের জন্য সরকারের খরচ হত ৪৮ কোটি টাকা। এরা না দিতেন আয়কর,  না এদেরকে দিতে হত কোনো বিদেশী দ্রব্যের জন্য আমদানি শুল্ক। মজার ব্যাপার লোকসভাতে ৩৩৯-১৫৪ ভোটে পাস করলেও রাজ্যসভায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে এই বিলটিকে পাস করানো যায় নি। অবশেষে ১৯৭১ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ডিসেম্বর মাসে এই বিল আইনসভার দুই কক্ষেই  পাস করানো যায়।
    অনেকে প্রশ্ন করবেন এই সমস্ত তথ্যের দ্বারা আমি কী প্রমাণ করতে চাইছি। না, কংগ্রেস একটি খাঁটি বামপন্থী দল ছিল , একথা বলার মত মূর্খ আমি নই। আমি শুধু মনে করিয়ে দিতে  চাই যে কংগ্রেসের একটি বামপন্থী ঐতিহ্য ছিল যা নেহরুর ক্ষেত্রে ছিল অনেকটাই মতাদর্শ  সঞ্জাত এবং ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষেত্রে ছিল ব্যবহারিক জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতির অংশ।  কিন্তু  পিতা এবং কন্যা উভয়ের ক্ষেত্রেই দলের ভেতরে এবং বাইরে  এই  নীতিসমূহের সমর্থক অনেকেই ছিলেন। নয়তো এই নীতিসমূহের রূপায়ন আদৌ সম্ভব ছিল না। তাই বলে কংগ্রেস কখনোই কম্যুনিজমকে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নি বা শ্রেণী রাজনীতিকে তাদের মনোযোগের কেন্দ্রে স্থাপন করে নি। কম্যুনিস্টদের সঙ্গে তাদের বৈরিতার ইতিহাসও তাই  বলে। কম্যুনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা, ১৯৫৭ সালে কেরল রাজ্য সরকারকে ফেলে দেওয়া,১৯৬২ সালে তাদের বিরুদ্ধে ভারতরক্ষা আইন প্রয়োগ ইত্যাদির মাধ্যমে সেই বৈরিতা  আরো তীব্র হয়েছে। যদিও কখনো সি পি  আই  এবং প্রথম ইউ পি এ সরকারের সময় সি পি আই এম দলের সঙ্গে তাদের কার্যকরী ঐক্যের কিছু নমুনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু  বরাবরই কম্যুনিস্টদের বৃহদংশ  কংগ্রেসকে  বুর্জোয়া দলের বেশি কিছু গুরুত্ব দিতে রাজি হন নি। বরং সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে নেহেরু জমানার কংগ্রেস তাঁদের কাছে যথার্থ কারণেই যথেষ্ট নম্বর পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেসের মধ্যে কম্যুনিস্ট বিদ্বেষের ইতিহাসও যথেষ্ট পুরোনো। এমনকি ১৯৪৫ সালে কংগ্রেসের ভেতরে থাকা কমুনিস্টদের বিতাড়নের  জন্য যে কমিটি  তৈরি হয়েছিলো, স্বয়ং নেহেরু সেই কমিটির সদস্য ছিলেন।
     আজ যখন ১৩৭ বছরের প্রাচীন এই দলটির  পুনর্জাগরণের কথা বলা হয় তখন নেতৃত্বের পরিবর্তনের কথা অথবা পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলা হয় বড় জোর। কিন্তু দলীয় নীতি বা মতাদর্শের কথা বলা হয় না। কংগ্রেসে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ ছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রচুর বিতর্ক ছিল, কিন্তু তাই বলে কংগ্রেসের কোনো মতাদর্শ ছিল না একথা ভাবা ভুল। অন্তত নেহেরুর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর কয়েক  বছর পর পর্যন্ত তা ছিল সমাজতান্ত্রিক (কম্যুনিস্ট নয়) ভাবধারার প্রতি সনিষ্ঠ। এই ঐতিহ্যের অবক্ষয় শুরু হয় গত শতাব্দীর সাতের দশক থেকেই। পরবর্তী সময়ে  কংগ্রেস নয়ের দশকে  উদারনৈতিক আর্থিক নীতি গ্রহণ করে । তারপর থেকে বামপন্থী আর্থিক নীতির প্রতিফলন তাদের চিন্তায় আর দেখা যায় নি একমাত্র ইউ পি এ ১ সরকারের অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচী ছাড়া যেখানে ১০০ দিনের কাজের অধিকারের মত বামঘেঁষা আর্থিক নীতি গৃহীত হয়। কিন্তু সেটা ছিল বামপন্থীদের সমর্থন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা যেটা বামপন্থীদের  সমর্থন প্রত্যাহারের পর মনমোহন সিং নিজেই স্বীকার করে ফেলেছিলেন।   কিন্তু নীতিগত প্রশ্নে  বা আর্থিক দিশা  নির্ধারণের জন্য  কোনো চিন্তন বা মন্থন  বৈঠক বা অধিবেশনের কথা শোনা যায় নি। অথচ ২০০৮ পরবর্তী বিশ্ব পুঁজিবাদ যখন ক্রমাগত  সংকটাপন্ন, কোভিড মহামারী তাকে আরো বিপন্ন করেছে , তখন কংগ্রেসের উচিত ছিল তার অতীতের সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শের ঐতিহ্যকে আবার খতিয়ে দেখা। অনেকেই ভয় পান যে এর মানে কি আবার লাইসেন্স রাজ নীতিতে প্রত্যাবর্তনের ডাক ? ব্যাপারটা আদৌ তা নয়। কিন্তু আমজনতার মঙ্গলের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতির সন্ধান এবং তাকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা আজ জরুরী।  একটা উদাহরণ দিই। রাজন্যভাতা বিলোপের মত একটি  প্রগতিশীল পদক্ষেপ নিতে গিয়েও কংগ্রেসকে একসময় বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমনকি এই প্রশ্ন এবং ব্যাংক জাতীয়করণের ইস্যুকে সামনে রেখে কংগ্রেস ভেঙ্গেও গেছে। কিন্তু আমজনতা প্রগতিশীল সিদ্ধান্তের পক্ষেই তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। আজ যদি কংগ্রেস কর্পোরেট লবির বিরুদ্ধে, আদানি আম্বানির ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে পারে তাহলে কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত লাগলেও জনসমর্থন তারা পাবে। একই ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের নির্বিচার বেসরকারিকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধেও তারা আন্দোলনমুখী অবস্থান নিতে পারে। অনেকে বলবেন এই সমস্ত ক্ষেত্রে আন্দোলন করার নৈতিক অধিকার কি কংগ্রেসের আছে কারণ সে নিজেই এসব ব্যাপারে পথ দেখিয়েছে। সেখানে একটাই কথা বলার, কংগ্রেস চিরকাল এই পথে হাঁটে নি এবং তার  দায়িত্ব আছে এব্যাপারে নিজেদের অবস্থানকে সময়ের  পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্মূল্যায়ন করার। যদি সে তা করতে পারে তাহলে কংগ্রেস বাঁচবে এবং নিজের অতীতের প্রতি সুবিচার করবে। এটাই এই মুহূর্তে তার কাছে সময়ের চাহিদা।বরং কেন্দ্রের শাসন ক্ষমতায় আসীন বিজেপি বা তার পূর্ব অবতার জনসংঘ বরাবর  সমস্ত বামপন্থী ও জনকল্যাণমূলক নীতির বিরোধিতা করে এসেছে। সেই তুলনায় কংগ্রেসের যদি তার অতীত বামপন্থী ঐতিহ্যকে নবায়িত করে প্রয়োগ করতে চায় সেটা অন্তত শাসকের খেলার মাঠটাকে পাল্টাতে সাহায্য করবে। ইংল্যাণ্ডে  লেবার পার্টি টোনি ব্লেয়ারের আমলে যে সম্পূর্ন দক্ষিণপন্থী দিকে ঝুঁকে পড়েছিলো সেখান থেকে জেমস করবিনের মত নেতারা তাকে আবার পুরোনো বামমুখী ঘরানায় ফিরিয়ে এনেছেন (এখনো চূড়ান্ত সাফল্য না পেলেও মানুষকে ভরসা জোগাতে পারছেন )। কংগ্রেসকেও তার উত্তরাধিকারকে আবিষ্কার করতে হবে,মানুষকে ভরসা জোগানোর জন্য। এই উত্তরাধিকার মানে পারিবারিক কোনো অনুষঙ্গ নয়, মতাদর্শের উত্তরাধিকার।

    তথ্যঋণ ঃ স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, শঙ্কর ঘোষ, সাহিত্য সংসদ, ১৯৭৫

     
  • আলোচনা | ১৬ আগস্ট ২০২২ | ১৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন