এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • তুমি তো প্রহর গোনো, তারা মুদ্রা গোনে কোটি কোটি

    অতনু চক্রবর্তী 
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৭ জুলাই ২০২২ | ৯৬২০ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৭ জন)
  • রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট  তোলপাড় তুলে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা,  দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার  পার্থ চট্টোপাধ্যায় যিনি রাজ্য মন্ত্রীসভার দ্বিতীয় ব্যক্তি । শুধু প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীই নন, তিনি তৃণমূল দলের বিরাট মাপের এক নেতা, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির চেয়ারম্যান ও বটে । শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যার উপর দল  সঁপেছিল তিনিই এতো বড় কেলেঙ্কারি, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন --- নির্মম পরিহাসের এর থেকে বড় উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে রয়েছে কিনা সন্দেহ আছে । তাঁর সাঙাততন্ত্রের  কদর্য চেহারাও  দেখলো গোটা রাজ্য। কিভাবে তাঁরই এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিলাসবহুল আবাসন থেকে উদ্ধার হল গুপ্তধন, কোটি কোটি টাকা,  অঢেল বিদেশি মুদ্রা ও সোনার অলঙ্কার! মিলল কি বিপুল স্থাবর  সম্পত্তির হদিশ । কুৎসিত বৈভবের নির্লজ্জ প্রদর্শনী চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এই সমস্ত হোমরা চোমরা নেতা - মন্ত্রী কত বড় বহরের অন্যায় - অবিচার - কে গোপনে সংগঠিত করেছিল বছর বছর ধরে। এতোবড় দুর্নীতির সাথে নাম জড়ানো  সত্ত্বেও রাজ্য মন্ত্রীসভা থেকে পার্থবাবুকে বরখাস্ত করা হল না। বোঝাই গেল, দুর্নীতির প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতার নীতি আমাদের নীতিবাগিশ  মুখ্যমন্ত্রীর না- পসন্দ। আর তারপরেও সবাইকে  অবাক করে  মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, তিনি নাকি এই সমস্ত কিছুর বিন্দু - বিসর্গ ও জানতেন না!!  

    কিন্তু, এতো বড় অন্যায়ের শিকার যাঁরা হলেন, তাঁদের কি হবে?  রাজ্যের সাধারণ ঘরের অগুনতি  ছেলে মেয়েরা বহু পরিশ্রম করে এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় নাম ওঠার পরও দেখলেন তাঁদের চাকরি হলো না। উল্টে তা বিপুল টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে গেল।   এদিকে, ডাহা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে বাঁচাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন।  বঙ্গ - সম্মান প্রদানের মঞ্চকে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের মঞ্চে পরিনত করে অবলীলায় জানালেন যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতে পারেননি। অথচ কে না জানে, ২০১৯ সালের এসএলএসটি - র মেধা তালিকায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে- র নাম হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসল আর তিনি চাকরি পেয়ে গেলেন "যাদুকরী"  স্পর্শে।  গেজেট অনুযায়ী নিয়োগ না করার প্রতিবাদে ২০১৯ -র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি কলকাতার মেয়ো রোডে প্রেস ক্লাবের সামনে ' যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ' এর ব্যানারে দুর্নীতি মুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে শুরু হয় অনশন আন্দোলন। ২৯ দিনের মাথায় হঠাৎ অনশনস্থলে আবির্ভূত হলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি এসএসসি কে ঘুঘুর বাসা হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তিনি সেখানে গঠন করেন একটা কমিটি ---- আর, সেখানে তাঁদেরই রেখে দিলেন  যাঁরা ইতিমধ্যেই দুর্নীতিবাজ হিসাবে চিহ্নিত।  কে না জানে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এসএসসি - র মাধ্যমে শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালে যে পরীক্ষা হয়, তাতেও লেপ্টে ছিল দুর্নীতির বড়সড় অভিযোগ। টেট কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে যে এলো, তাও কি মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না?  হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি - র নিয়োগ দুর্নীতি যাচাই করতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। এটাও কি জানতেন না মুখ্যমন্ত্রী? হাইকোর্ট নিযুক্ত বাগ কমিটি এসএসসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে আঙুল তুলেছিলেন, তাও কি শুনতে পাননি মুখ্যমন্ত্রী?  না কি শুনতে চাননি? একদিকে   ক্ষমতার দম্ভ ও দাপটের মিশেল, অন্যদিকে ঠগ খুঁজতে দল উজাড় হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নীতিহীন আপোষ করেছেন দুর্নীতির সাথে। 

    ২০১৫ সালে সংঘটিত আপার প্রাইমারি প্যানেলের মধ্যে বিরাট অসঙ্গতি থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে তা সংশোধন করতে।   আজও ওই প্যানেলের নিয়োগ সম্পন্ন হলো না। ফলে, প্যানেলের মধ্যে থাকা চাকুরিপ্রার্থীরা ২০১৫- ২০২২ - --- এই দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে স্বপ্ন সযত্নে লালন পালন করেছিলেন, তার ভ্রূণ হত্যা হল। টেট কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসলেও তার সমাধান আজ পর্যন্ত হল না। এদিকে,  সংকট থেকে পরিত্রাণ খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দিকে দায় ঠেলে দিলেন। হাইকোর্ট ও শিক্ষা সচিবের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে কোন কোন শূন্যপদ পূরণ আদালতের রায়ের কারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তা হলফনামা পেশ করে জানাতে। 

    সাম্প্রতিক দুর্নীতি কান্ডে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে রাজ্যে আতঙ্কজনক কর্মহীনতার ছবি। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ঘনিয়ে ওঠা সরকার - সৃষ্ট নৈরাজ্য, পড়ুয়া -পিছু শিক্ষকদের লজ্জাজনক ঘাটতি, রাজ্য সরকারি - আধা সরকারি - স্বশাসিত সংস্থাগুলোতে বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণে শূন্যপদ না পূরণ করার আখ্যান। পড়ুয়া - শিক্ষক অনুপাতের চরম দৈন্যতা আজ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গিলে খাচ্ছে। সংবাদে প্রকাশ, মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে সাকার ঘাট জুনিয়ার হাই স্কুলে উচ্চ প্রাথমিকে ৭৭২ জন পড়ুয়া পিছু শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১! এটা কোন ব্যতিক্রমী উদাহরণ নয়। বহু উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে মাত্র এক বা দু' জন শিক্ষকের উপর পঠন পাঠনের পুরো দায়ভারটি ন্যস্ত। এমনও দেখা যায়, সেই এক বা দু'জন শিক্ষক ছুটিতে গেলে স্কুলের গ্রুপ -  ডি কর্মীকে ক্লাস নিতে হয়। কখনও বা আংশিক সময়ের শিক্ষক নিয়োগ করে এই অবস্থার সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। শিক্ষার প্রতি এই নির্দয় অবহেলা অপরাধসম। শিক্ষার অধিকার আইনের পরিপন্থী। শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলে ক্লান্তিহীন বিজ্ঞাপন যতই দেওয়া হোক না কেন, এই রাজ্য সরকার তিলে তিলে গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকেই ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ছয় মাস পার হওয়া সত্ত্বেও  ২০২১ সালের টেট লিখিত পরীক্ষায় পাশ করা কর্মপ্রত্যাশীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুই করা গেল না। আরও উল্লেখ্য, এই নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কোন ধরনের মামলাই দায়ের করা হয়নি।

    শুধু পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবই নয়, সরকার এবং সরকার - পোষিত স্কুলগুলোতে শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ, পরিকাঠামো পর্যন্ত নেই। নেই পর্যাপ্ত স্কুল ঘর, কোথাও খোলা আকাশের নীচে চলছে পঠন পাঠন, কোথাও শিক্ষক নেই, নেই শৌচাগার - পরিশ্রুত পানীয় জল - এমনই করুন অবস্থা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে। গোটা শিক্ষাক্ষেত্র জুড়ে কত শূন্যপদ রয়েছে ( শিক্ষক - অশিক্ষক পদে)  তার কোন সরকারি হিসাব আজ পর্যন্ত পেলনা রাজ্যবাসী। অথচ, তুমুল মস্করা করে, ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন রাজ্যে নাকি ৩০ হাজার চাকরি তৈরি! সরকার নাকি শুধুমাত্র নিয়োগ পত্র দেওয়ার অপেক্ষায়। আর, ঠিক ক'দিন আগে সংবাদে প্রকাশিত হল রাজ্যে কর্মসংস্থানের আরেকটি মর্মান্তিক ছবি। সংবাদে প্রকাশ, মালদায় সরকারি কর্মসংস্থান কেন্দ্র পরিচারিকাদের জন্য একটা প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠিত করে, যাতে অংশ নেয় ৪০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মহিলারা। 

    এতো বড় একটা ঘটনার পরও রাজ্যের নাগরিক  সমাজ নীরব নিশ্চল! ক্ষমতার উদ্ধত চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন তোলার মূল্যবোধ এ রাজ্যে যেন বড়ই বিষম বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, যে সমস্ত টগবগে প্রাণ কাউকে তোয়াক্কা না করে গান্ধী মূর্তির পাদদেশকে পরিনত করেছেন তাঁদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের তীর্থস্থান, এক গণ আদালত, এক গণ সংসদে -- সেটাই আগামীতে রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনবে এক ফুটন্ত সকাল! সেই অবিচল, অবিনশ্বর বিশ্বাসের উপর ভর করেই উত্তাল সমুদ্রে বেয়ে চলেছে নবজীবনের তরনী। সমস্ত বাধা বন্ধনকে উপেক্ষা করে।

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৭ জুলাই ২০২২ | ৯৬২০ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | 42.110.139.233 | ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:০১515503
  • দীপ | 42.110.145.219 | ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১২515537
  • দীপ | 42.110.145.219 | ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১৫515538
  • দীর্ঘ ১১ বছর পরে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র।
  • দীপ | 42.110.146.216 | ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:০২515744
  • দীপ | 2402:3a80:196c:686c:6098:8e94:6508:44fb | ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২৫516147
  • দীপ | 42.110.146.151 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৩৫516166
  • দীপ | 42.110.138.193 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৫516469
  • যে হারে পি এইচ ডি , ডি লিট ইত্যাদি ডিগ্রী পলিটিকাল লিডারদের দেওয়া হচ্ছে তাতে অনেকদিন আগে শোনা একটি গল্প মনে পড়ে গেল...
     
    ফ্রান্সের এক শহরের রাস্তায় চাদর বিছিয়ে একটি লোক পি এইচ ডি ডিগ্রী বিক্রী করছে ৷ এক ফরাসী সাহেব ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন ৷ তিনি তাঁর ঘোড়াটিকে খুব ভালবাসতেন ৷ ভাবলেন ঘোড়াটি এতদিন তাঁর সেবা করেছে ওকে একটা 
    পি এইচ ডি ডিগ্রী কিনে দিলে কেমন হয়!
    যে ডিগ্রী বিক্রী করছে তার কাছে গিয়ে বললেন, "ও হে আমার ঘোড়ার জন্য একটা পি এইচ ডিগ্রী কিনব ৷ কত লাগবে?"
     
    লোকটি বলল " মাপ করবেন স্যর ৷ আপনার ঘোড়াকে কোনো ডিগ্রী দিতে পারবো না।"
     
    "কেন পারবে না শুনি?" অশ্বারোহী রাগত স্বরে বললেন৷ " যত ফ্রাঁ লাগবে তাই দেব।"
     
    লোকটি একটু কাতর স্বরে বলল " স্যার, এই ডিগ্রীগুলো শুধু গাধাদের জন্য।"
     
    (নেটদুনিয়া থেকে সংগৃহীত)
  • দীপ | 42.110.138.193 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৪৬516531
  • মাৎস্যন্যায়!
  • দীপ | 42.110.145.122 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৮516623
  • দীপ | 42.110.145.122 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৯516624
  • অকপট স্বীকারোক্তি!
  • দীপ | 42.110.145.122 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৪২516625
  • এদিকে ইনিিিিিিি্িিিিিিি্্
  • দীপ | 42.110.145.122 | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৪২516626
  • এদিকে ইনিও আছেন!
  • দীপ | 2402:3a80:196c:6fe5:43aa:2128:a612:16db | ১৪ মার্চ ২০২৩ ১১:৩২517378
  • শূকরশাবক স্বীয় কর্তব্যে অবিচল!
  • দীপ | 2402:3a80:196c:6fe5:43aa:2128:a612:16db | ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:৩৮517381
  • দীপ | 2402:3a80:196c:6fe5:43aa:2128:a612:16db | ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:৩৮517382
  • শিক্ষাক্ষেত্রের চালচিত্র!
  • দীপ | 42.110.163.20 | ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:২৫517429
  • "ডাল মে কুছ কালা হ্যায়" :-
    স্কুল শিক্ষকদের উপর অত্যাচার করছে কে? যে নিজে স্কুল শিক্ষক। সরাসরি হুমকি দিয়ে বলছে - " কমলেশ, কাল না এলে খেলা হবে। নাম ধরে বলছি। ওর স্কুলে আমি নিজে যাবো"! হ্যাঁ, এটা ধ্রুব মাস্টারের হুমকি।
     
    কে এই ধ্রুব? ধ্রুব হাওড়ার একজন তৃণমূলী কেউকেটা। কেমন কেউ কেটা? যখন মিডিয়ায় কাজ করতাম তখন একে মন্ত্রীর চ্যালা/তল্পিতল্পা বাহক হিসেবেই চিনতাম। বাড়ি, হাওড়ার শিবপুর এলাকায়। পরে পার্থ চ্যাটার্জি শিক্ষা মন্ত্রীর আমলে প্রাথমিক স্কুলে চাকরির জমানায় গায়ে সেঁটে যায় শিক্ষকের স্ট্যাম্প। 
     
    প্রথম দিকে ওই ব্যাক্তির প্রোফাইল সার্চ করে দেখেছি তাতে স্পষ্ট লেখা ছিলো স্কুল টিচার। এবং পাশে প্রাথমিক স্কুলের নামও লেখা থাকতো। কিন্তু যেদিন থেকে ভুয়ো শিক্ষক ইস্যু সামনে এসেছে সেদিন থেকে বদলে গেলে প্রোফাইল ইনফো। প্রাইমারি এসএসসি স্ক্যাম সামনে আসায় ওই ব্যাক্তির জব ইনফোয় শিক্ষক ও স্কুলের তথ্য বদলে mathematics facilitator at employees of Government of West Bengal লেখা হয়েছে।
     
    কখন কোনোও মানুষ ক্রমাগত নিজের পেশা ও পেশা স্থলকে আড়াল করে বলুন তো? যখন ডালমে কুছ কালা হোতা হ্যায়!
     
    D, A নিয়ে ধর্মঘট এর আগের দিন ৯ তারিখে নিবড়া প্রিয়ময়ী স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশবাবুকে হুমকি দিয়ে এই ম্যাসেজ করে ওই তৃনমূলী কেউকেটা ধ্রুব সেন। এর পর ধর্মঘট এর দিন ১০ তারিখ কিছু তৃণমূলী শিক্ষক বাইক বাহিনী নিয়ে প্রিয়ময়ী স্কুল সহ অন্য স্কুলে যান। অবশ্যই নিজেদের স্কুলে কাজ না করেই। অবশ্য এও জানা যাচ্ছে এই শিক্ষকদের অনেকেই নিয়মিত নিজেদের স্কুলেই যান না। অবশ্য রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ যা হালহকিকত তাতে কবে কার নাম স্ক্যামে উঠে এসে স্কুল যাওয়া পার্মানেন্ট বন্ধ হবে তা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না।
     
    অথচ ওই ধ্রুব বাবু নিজেই ধর্মঘটের আগের দিন ৯ তারিখ সকাল ১০.৪৫ থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা রামরাজা তলা এলাকায় রাজনৈতিক পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন বিধায়িকা দিদিমণির অবজারভার হয়ে। গত শনিবার সকাল ১০.৫৪ মিনিট থেকে দিনের বেশিরভাগ সময় আইএনটিটিইউসি এর রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। যার ডকুমেন্টস আমাদের হাতে। যে সময় মাস্টার মশায় সেনের স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানোর কথা তখন সেন মশায় স্কুল পালিয়ে এদিক ওদিক রাজনীতি করেন বেড়ান বলে অভিযোগ । কিন্তু ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটে এই স্কুল ছুট শিক্ষকই মনিটর বনে যান। মনে পরে যায় স্কুল শিক্ষকদের ধর্মঘটে ছাত্রদের বিস্তর ক্ষতি হয়ে যাবে। মাস্টার সেন নিজের স্কুলে নিয়মিত যান, স্কুলে বাচ্চাদের পড়ান। আপনার কর্মস্হল স্কুলটিতে শিক্ষকের ঘাটতি। 
     
  • দীপ | 2402:3a80:1967:85ec:478:5634:1232:5476 | ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:৩০517430
  • দীপ | 42.110.138.102 | ২৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৩৭517977
  • দীপ | 42.110.138.102 | ২৮ মার্চ ২০২৩ ২৩:৩৮517978
  • সাধারণ মানুষের উপর এই জঘন্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই! 
    আশা করি সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সরব হবেন।
  • দীপ | 42.110.136.58 | ৩০ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪৭518044
  • দীপ | 42.110.136.58 | ৩০ মার্চ ২০২৩ ২৩:৪৮518045
  • বাঁদরদের বাঁদরামি!
  • দীপ | 42.110.139.214 | ০১ এপ্রিল ২০২৩ ২২:০২518133
  • দীপ | 42.110.139.214 | ০১ এপ্রিল ২০২৩ ২২:০৩518134
  • শিবঠাকুরের আপন দেশে
    আইনকানুন সর্বনেশে!
  • দীপ | 42.110.144.194 | ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ০০:২০518462
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন