ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • তুমি তো প্রহর গোনো, তারা মুদ্রা গোনে কোটি কোটি

    অতনু চক্রবর্তী 
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৭ জুলাই ২০২২ | ৯৫৮ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট  তোলপাড় তুলে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা,  দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার  পার্থ চট্টোপাধ্যায় যিনি রাজ্য মন্ত্রীসভার দ্বিতীয় ব্যক্তি । শুধু প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীই নন, তিনি তৃণমূল দলের বিরাট মাপের এক নেতা, শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির চেয়ারম্যান ও বটে । শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যার উপর দল  সঁপেছিল তিনিই এতো বড় কেলেঙ্কারি, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন --- নির্মম পরিহাসের এর থেকে বড় উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে রয়েছে কিনা সন্দেহ আছে । তাঁর সাঙাততন্ত্রের  কদর্য চেহারাও  দেখলো গোটা রাজ্য। কিভাবে তাঁরই এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিলাসবহুল আবাসন থেকে উদ্ধার হল গুপ্তধন, কোটি কোটি টাকা,  অঢেল বিদেশি মুদ্রা ও সোনার অলঙ্কার! মিলল কি বিপুল স্থাবর  সম্পত্তির হদিশ । কুৎসিত বৈভবের নির্লজ্জ প্রদর্শনী চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এই সমস্ত হোমরা চোমরা নেতা - মন্ত্রী কত বড় বহরের অন্যায় - অবিচার - কে গোপনে সংগঠিত করেছিল বছর বছর ধরে। এতোবড় দুর্নীতির সাথে নাম জড়ানো  সত্ত্বেও রাজ্য মন্ত্রীসভা থেকে পার্থবাবুকে বরখাস্ত করা হল না। বোঝাই গেল, দুর্নীতির প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতার নীতি আমাদের নীতিবাগিশ  মুখ্যমন্ত্রীর না- পসন্দ। আর তারপরেও সবাইকে  অবাক করে  মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, তিনি নাকি এই সমস্ত কিছুর বিন্দু - বিসর্গ ও জানতেন না!!  

    কিন্তু, এতো বড় অন্যায়ের শিকার যাঁরা হলেন, তাঁদের কি হবে?  রাজ্যের সাধারণ ঘরের অগুনতি  ছেলে মেয়েরা বহু পরিশ্রম করে এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় নাম ওঠার পরও দেখলেন তাঁদের চাকরি হলো না। উল্টে তা বিপুল টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে গেল।   এদিকে, ডাহা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে বাঁচাবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন।  বঙ্গ - সম্মান প্রদানের মঞ্চকে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের মঞ্চে পরিনত করে অবলীলায় জানালেন যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতে পারেননি। অথচ কে না জানে, ২০১৯ সালের এসএলএসটি - র মেধা তালিকায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে- র নাম হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসল আর তিনি চাকরি পেয়ে গেলেন "যাদুকরী"  স্পর্শে।  গেজেট অনুযায়ী নিয়োগ না করার প্রতিবাদে ২০১৯ -র ২৮ শে ফেব্রুয়ারি কলকাতার মেয়ো রোডে প্রেস ক্লাবের সামনে ' যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ' এর ব্যানারে দুর্নীতি মুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে শুরু হয় অনশন আন্দোলন। ২৯ দিনের মাথায় হঠাৎ অনশনস্থলে আবির্ভূত হলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি এসএসসি কে ঘুঘুর বাসা হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তিনি সেখানে গঠন করেন একটা কমিটি ---- আর, সেখানে তাঁদেরই রেখে দিলেন  যাঁরা ইতিমধ্যেই দুর্নীতিবাজ হিসাবে চিহ্নিত।  কে না জানে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এসএসসি - র মাধ্যমে শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালে যে পরীক্ষা হয়, তাতেও লেপ্টে ছিল দুর্নীতির বড়সড় অভিযোগ। টেট কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে যে এলো, তাও কি মুখ্যমন্ত্রী জানতেন না?  হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি - র নিয়োগ দুর্নীতি যাচাই করতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। এটাও কি জানতেন না মুখ্যমন্ত্রী? হাইকোর্ট নিযুক্ত বাগ কমিটি এসএসসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে আঙুল তুলেছিলেন, তাও কি শুনতে পাননি মুখ্যমন্ত্রী?  না কি শুনতে চাননি? একদিকে   ক্ষমতার দম্ভ ও দাপটের মিশেল, অন্যদিকে ঠগ খুঁজতে দল উজাড় হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নীতিহীন আপোষ করেছেন দুর্নীতির সাথে। 

    ২০১৫ সালে সংঘটিত আপার প্রাইমারি প্যানেলের মধ্যে বিরাট অসঙ্গতি থাকায় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল অবিলম্বে তা সংশোধন করতে।   আজও ওই প্যানেলের নিয়োগ সম্পন্ন হলো না। ফলে, প্যানেলের মধ্যে থাকা চাকুরিপ্রার্থীরা ২০১৫- ২০২২ - --- এই দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে স্বপ্ন সযত্নে লালন পালন করেছিলেন, তার ভ্রূণ হত্যা হল। টেট কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসলেও তার সমাধান আজ পর্যন্ত হল না। এদিকে,  সংকট থেকে পরিত্রাণ খুঁজতে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দিকে দায় ঠেলে দিলেন। হাইকোর্ট ও শিক্ষা সচিবের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে কোন কোন শূন্যপদ পূরণ আদালতের রায়ের কারণ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তা হলফনামা পেশ করে জানাতে। 

    সাম্প্রতিক দুর্নীতি কান্ডে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে রাজ্যে আতঙ্কজনক কর্মহীনতার ছবি। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ঘনিয়ে ওঠা সরকার - সৃষ্ট নৈরাজ্য, পড়ুয়া -পিছু শিক্ষকদের লজ্জাজনক ঘাটতি, রাজ্য সরকারি - আধা সরকারি - স্বশাসিত সংস্থাগুলোতে বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণে শূন্যপদ না পূরণ করার আখ্যান। পড়ুয়া - শিক্ষক অনুপাতের চরম দৈন্যতা আজ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গিলে খাচ্ছে। সংবাদে প্রকাশ, মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে সাকার ঘাট জুনিয়ার হাই স্কুলে উচ্চ প্রাথমিকে ৭৭২ জন পড়ুয়া পিছু শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১! এটা কোন ব্যতিক্রমী উদাহরণ নয়। বহু উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে মাত্র এক বা দু' জন শিক্ষকের উপর পঠন পাঠনের পুরো দায়ভারটি ন্যস্ত। এমনও দেখা যায়, সেই এক বা দু'জন শিক্ষক ছুটিতে গেলে স্কুলের গ্রুপ -  ডি কর্মীকে ক্লাস নিতে হয়। কখনও বা আংশিক সময়ের শিক্ষক নিয়োগ করে এই অবস্থার সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। শিক্ষার প্রতি এই নির্দয় অবহেলা অপরাধসম। শিক্ষার অধিকার আইনের পরিপন্থী। শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলে ক্লান্তিহীন বিজ্ঞাপন যতই দেওয়া হোক না কেন, এই রাজ্য সরকার তিলে তিলে গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকেই ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ছয় মাস পার হওয়া সত্ত্বেও  ২০২১ সালের টেট লিখিত পরীক্ষায় পাশ করা কর্মপ্রত্যাশীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুই করা গেল না। আরও উল্লেখ্য, এই নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কোন ধরনের মামলাই দায়ের করা হয়নি।

    শুধু পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবই নয়, সরকার এবং সরকার - পোষিত স্কুলগুলোতে শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ, পরিকাঠামো পর্যন্ত নেই। নেই পর্যাপ্ত স্কুল ঘর, কোথাও খোলা আকাশের নীচে চলছে পঠন পাঠন, কোথাও শিক্ষক নেই, নেই শৌচাগার - পরিশ্রুত পানীয় জল - এমনই করুন অবস্থা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে। গোটা শিক্ষাক্ষেত্র জুড়ে কত শূন্যপদ রয়েছে ( শিক্ষক - অশিক্ষক পদে)  তার কোন সরকারি হিসাব আজ পর্যন্ত পেলনা রাজ্যবাসী। অথচ, তুমুল মস্করা করে, ২১ জুলাই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন রাজ্যে নাকি ৩০ হাজার চাকরি তৈরি! সরকার নাকি শুধুমাত্র নিয়োগ পত্র দেওয়ার অপেক্ষায়। আর, ঠিক ক'দিন আগে সংবাদে প্রকাশিত হল রাজ্যে কর্মসংস্থানের আরেকটি মর্মান্তিক ছবি। সংবাদে প্রকাশ, মালদায় সরকারি কর্মসংস্থান কেন্দ্র পরিচারিকাদের জন্য একটা প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠিত করে, যাতে অংশ নেয় ৪০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মহিলারা। 

    এতো বড় একটা ঘটনার পরও রাজ্যের নাগরিক  সমাজ নীরব নিশ্চল! ক্ষমতার উদ্ধত চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন তোলার মূল্যবোধ এ রাজ্যে যেন বড়ই বিষম বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, যে সমস্ত টগবগে প্রাণ কাউকে তোয়াক্কা না করে গান্ধী মূর্তির পাদদেশকে পরিনত করেছেন তাঁদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের তীর্থস্থান, এক গণ আদালত, এক গণ সংসদে -- সেটাই আগামীতে রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনবে এক ফুটন্ত সকাল! সেই অবিচল, অবিনশ্বর বিশ্বাসের উপর ভর করেই উত্তাল সমুদ্রে বেয়ে চলেছে নবজীবনের তরনী। সমস্ত বাধা বন্ধনকে উপেক্ষা করে।

     
  • আলোচনা | ২৭ জুলাই ২০২২ | ৯৫৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Somenath Guha | ২৭ জুলাই ২০২২ ১৮:১২510418
  • সাম্প্রতিক আর্থিক কেলেঙ্কারির সার কথাটা হলো এটাই যে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের বহু স্কুলে বিজ্ঞান পড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ গণিত, ফিজিক্স ইত্যাদির শিক্ষক নেই। এটা এক ভয়ংকর পরিস্থিতি।
  • Nabendu Dasgupta | ২৭ জুলাই ২০২২ ১৯:০৬510420
  • রাজ্যকে দুর্নীতি গ্রাস করেছে। ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাসন সর্বত্রই এক ছবি। যারা কোন দিন ক্ষমতার অলিন্দে ছিলেন না, তাদের প্রতিবাদের স্বরও শোনা যাচ্ছে না।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b143:3000:3f72:f7a0:c43a:9c8e | ২৭ জুলাই ২০২২ ২০:৪৫510422
  • শুধু শিক্ষা ব্যবস্থা কেন? পুরো সরকারই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী কর্মীর বদলে সব বিভাগই চলছে আংশিক সময়ের অস্থায়ী ও চুক্তিতে নিযুক্ত কর্মী দিয়ে। কিছুদিন আগে কোন একটি কাগজে পড়লাম একটু বৃষ্টি হলেই তড়িতাহত হয়ে মানুষের মৃত্যুর কারণ এই অস্থায়ী কর্মীদের কম সংখ্যা ও অপ্রতুল জ্ঞান।
     
    নির্বাচনের ফল ভোগ করতে হয়। একটি আদ্যোপান্ত অসৎ মহিলাকে তার সাঙ্গপাঙ্গ সহ নির্বাচিত করার ফল এই রাজ্য বহুদিন ধরে ভোগ করবে। আর রাজ্যের তথাকথিত মোমবাতি বিশারদ বুদ্ধিজীবীরা আর মিডিয়া হাউসেরা রাজ্যের লাশের ওপর ভোজসভা বসিয়েছে। 
  • দীপ | 42.110.146.225 | ২৭ জুলাই ২০২২ ২২:২৩510427
  • এক‌ অসহায় চাকরিপ্রার্থীর কণ্ঠস্বর!
  • দীপ | 42.110.146.225 | ২৭ জুলাই ২০২২ ২৩:২২510433
  • শিক্ষাজগতের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন। ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
    -------------------------

    চিটফান্ডে সরাসরি লেনদেন ছিল টাকার। তৃণমূল সরকারের আমলের বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারিকেও ছাপিয়ে যেতে পারে নিয়োগের দুর্নীতির সঙ্গে অর্থ যোগ। 

    কলকাতা হাইকোর্ট তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, ৫০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ঘোটালার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকতার চাকরি। কিন্তু সেই পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র এসএসসি’র গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির চাকরি নিয়োগ দুর্নীতি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি জড়িয়ে আছে রাজ্যের সমস্ত স্তরের নিয়োগের সঙ্গে। রাজ্যের গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রের হিসাবে, গত এক দশকে রাজ্যের সব ধরনের নিয়োগে যেভাবে টাকার খেলা হয়েছে তা কোনোভাবেই সারদা,রোজভ্যালির কেলেঙ্কারির থেকে কম নয়। একটি সূত্রের হিসাব, প্রায় ১৫হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি জড়িয়ে আছে রাজ্যের নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে। নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অন্যতম আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বক্তব্য,‘‘ কয়েক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। আর এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কেই বের করতে হবে। এটা সিবিআই-এরই দায়িত্ব।’’ 

    স্কুলে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, পঞ্চম থেকে অষ্টমের সঙ্গে ওয়ার্ক এডুকেশন, ফিজিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তারমধ্যে দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে শিক্ষাকর্মী ও নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ নিয়োগে। আর্থিক দুর্নীতি এখনও চাপা পড়ে আছে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে। একইভাবে আপার প্রাইমারি নিয়োগের দুর্নীতিও আদালতে বিচারাধীন। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী নিয়োগের দুর্নীতির বাইরে নেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনও। গত এক দশকে সরকারি দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, গ্রুপ ডি পদে নিয়োগেই চলেছে সীমাহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি। আসলে গত এক দশকে রাজ্যের সর্বত্র নিয়োগের নামে বেকার যুবক, যুবতীদের কাছ থেকে লুট করা হয়েছে হাজার, হাজার কোটি টাকা। গত সোমবারই সামনে এসেছে নার্সিং পদে দুর্নীতি। 

     

    আপার প্রাইমারির নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি এখন আদালতের কাছে জমা পড়ে আছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ঘরে পড়ে আছে আপার প্রাইমারি (পঞ্চম-অষ্টম) নিয়োগ মামলা। বিদ্যালয়ের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের মামলায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আপার প্রাইমারি নিয়োগের স্থগিতাদেশ জারি করে রায় দিয়েছিলেন, আপার প্রাইমারির (পঞ্চম থেকে অষ্টম) চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করার জন্য এসএসসিকে ‘অভিযোগ সেল’ খুলতে হবে। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই অভিযোগ সেলেই প্রায় ১৮হাজার চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে স্কুল সার্ভিস কমিশন ১৪৪৮জন চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগের যৌক্তিকতা মেনে তাদের ফের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে। আইনজীবীদের বক্তব্য,‘‘ তার অর্থ এটাই সেদিন দাঁড়িয়েছিল, ১৪৪৮জনের অভিযোগের সারবত্তা লিখিতভাবে মেনে নিয়েছিল এসএসসি। অর্থাৎ তারা চাকরি পাওয়ার যোগ্য ছিল। বেনিয়ম হয়েছিল বলেই তাদের চাকরি হয়নি। আদালতের দ্বারস্থ না হলে আপার প্রাইমারির এই দুর্নীতিও প্রকাশ্যে আসতো না।’’

    আপার প্রাইমারির মেধা তালিকা বাতিল করেছিলেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য। আদালতের রায় ছিল, মেধা তালিকার সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের নাম্বার প্রকাশ্যে আনতে হবে। আপার প্রাইমারির মামলা আদালতে উঠলে আবার ফাঁস হবে টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার আরও দুর্নীতি। ইন্টারভিউ নেওয়ার পর ফাইনাল লিস্ট আদালতে এলে দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসবে। আইনজীবী মহলও মনে করছে, এরাজ্যে সরকারি ব্যবস্থায় চাকরি পাওয়ার আর কোনও রাস্তাই খোলা রাখেনি প্রশাসন। শেষ ভরসাস্থল হয়ে উঠছে আদালতই। 

    এরাজ্যে নিয়োগের পরীক্ষায় বসে চাকরি পাওয়া এখন অতীত। বরং পরীক্ষায় বসে ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েও আন্দোলনে নামতে হয় পরীক্ষার্থীদের। আন্দোলনের চাপে একদিন ফল প্রকাশিত হয়। তখন খুলে যায় কেলেঙ্কারি প্যান্ডোরার বাক্স। পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ জায়গায় এসে পৌঁছেছে চাকরি পাওয়া তো দূর, চাকরির অধিকার পাওয়ার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে এরাজ্যের বেকার ছেলে-মেয়েদের।

    শুধু প্রাইমারিতে নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিন দিনে ২৫হাজার আবেদন জমা পড়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। গত বছর ৬জানুয়ারি থেকে ৮জানুয়ারি এই তিনদিনে প্রাইমারিতে নিয়োগ দুর্নীতির ফয়সালা চেয়ে এই বিপুল আবেদন জমা পড়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ থেকে আপার প্রাইমারি এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্টে বিচার চেয়ে প্রায় ১০হাজারের ওপর চাকরিপ্রার্থী মামলা করেছেন। এ কোন রাজ্য! যেখানে চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠি বিচার করে চাকরি পাওয়ার কথা। তার পরিবর্তে তাদের দৌড়ে বেড়াতে হচ্ছে কোর্টের এজলাসে। ঝড়, জল, রোদ মাথায় করে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। 

    ২০১৬সালের নেওয়া পরীক্ষার নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে পারেনি রাজ্য সরকার। সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করে সরকারে ১১বছরের পূর্তি উৎসব পালন করেন,‘‘উন্নয়নের পথে ১১’’! আর নিয়োগ দুর্নীতির বিচার চেয়ে গত ২০১৯সালে প্রথম দফায় কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯দিনের অবস্থান অনশন। দ্বিতীয় দফায়, সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের ৫নং গেটে ১৮৭দিনের ধরনা। গত বছর বিধানসভা ভোটে জয়ের পর নয়া শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে এনে দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি কোন প্রতিশ্রুতিই। ফলে গত বছর ৮অক্টোবর থেকে কলকাতা হাইকোর্টের কাছ থেকে অনুমতি আদায় করে ফের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চলছে ধরণা, অবস্থান। 

    হাইকোর্টের রায়ে জেরার মুখে পড়তে হয়েছে মন্ত্রীসভার সদস্যদের। এফআইআর হয়েছে স্বশাসিত সংস্থা এসএসসি’র ওপর নজরদারি করার নিয়োগ কমিটির সদস্যদের। শাসক দল, সরকারের শীর্ষকর্তাদের দুর্নীতি যোগ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কিন্তু মেধা তালিকায় থাকা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী, এই প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা।

    ‘‘আইনের পথে যারা লড়াই চালাচ্ছে তারাও আমাদের মতোই চাকরিপ্রার্থী। তারাও অন্যায়ের বিরুদ্ধেই আদালতে লড়াই চালাচ্ছেন। আমাদের আদালতে লড়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই। পড়াশোনা করে শিক্ষকতার চাকরির জন্যই পরিবারের শেষ সম্বলটুকুই চলে গেছে। আমরা যারা মেধা তালিকায় আছি। আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়? আমাদের শিক্ষকতার পেশায় যেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?’’ গান্ধী মূর্তির সামনে থেকে প্রশ্ন করছেন ওঁরা। জবাব দেওয়ার কেউ নেই।

    সংগৃহীত
  • দীপ | 42.110.146.225 | ২৭ জুলাই ২০২২ ২৩:৪৮510435
  •  
    রোদ্দুর রায়ের কথা। গালাগালি গুলো খুব‌ কম‌ই মনে হচ্ছে!
  • প্রতিভা | 2402:3a80:1cd3:c01a:478:5634:1232:5476 | ২৮ জুলাই ২০২২ ১১:৪৯510450
  • আচ্ছা, রোদ্দুর রায় কি জামিন পেয়েছেন?  আমার চোখ এড়িয়ে গেছে খবরটা। 
  • হজবরল | 193.111.248.108 | ২৮ জুলাই ২০২২ ১১:৫৩510451
  • হ্যাঁ জামিন পেয়েছেন কিন্তু তারপর আর নতুন কিছু বানাননি । ওপরের ভিডিও পুরোনো সোর্স এডিট করে বানানো ।
  • দীপ | 42.110.147.180 | ০৮ আগস্ট ২০২২ ১৮:৪২510877
  • দীপ | 42.110.147.180 | ০৮ আগস্ট ২০২২ ১৮:৪৩510878
  • উনবিংশতি মহাপ্রভু!
  • দীপ | 42.110.147.180 | ০৮ আগস্ট ২০২২ ১৮:৫১510879
  • তবে এদের মধ্যে দুজন ইহলীলা সম্বরণ করেছেন! 
  • দীপ | 42.110.147.99 | ০৯ আগস্ট ২০২২ ১৩:৫৩510891
  • দীপ | 42.110.147.99 | ০৯ আগস্ট ২০২২ ১৩:৫৫510892
  • আরেক  মহাপ্রভু!
    ইনিই কলকাতায় দাঙ্গা লাগিয়েছিলেন! এখন দৌড় দিয়েছেন!
  • দীপ | 2401:4900:3a22:d978:3675:fcdf:b1c6:8f8e | ১০ আগস্ট ২০২২ ২৩:৪৬510909
  • শাসকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মহিলাদের বিদ্রোহ!
    মানুষের ক্রোধ ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে!
  • দীপ | 42.110.139.160 | ১১ আগস্ট ২০২২ ১৩:৩১510919
  • নির্লজ্জ দুকান কাটা কেষ্ট গ্রেপ্তার হয়েছে।
  • দীপ | 42.110.146.135 | ১২ আগস্ট ২০২২ ১৬:২৯510942
  • দীপ | 42.110.146.135 | ১২ আগস্ট ২০২২ ১৬:২৯510943
  • কেষ্টর সম্পত্তি!
  • দীপ | 42.110.146.135 | ১২ আগস্ট ২০২২ ১৬:৩০510944
  • এতোদিন কেউ কিছু জানতো না, সব ভূতে করেছে! 
    গপ্পিবাজি চলছে, "আমরা সবাই চোর ন‌ই!"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন