বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বেণুবন মর্মরে দখিন বাতাসে, প্রজাপতি দোলে ঘাসে ঘাসে

    Kasturi Das লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৪২৯ বার পঠিত
  • কালীসায়রের পাশের রাস্তা দিয়ে গিয়ে বড় মাঠ পেরিয়ে, বাঁঁ দিকে ঘুরে ডিপার্টমেন্ট। সামনেই মাঘ মেলার মাঠ। ডিপার্টমেন্টের দোতলার করিডরে দাঁড়ালে দূরের সবুজের হাতছানি। নীচে, অ্যাকাউন্ট সেকশনের পাশে, কাঞ্চন গাছটা ফুলে ফুলে সাদা। অডিও ভিস‍্যুয়াল ইউনিটের বাইরে, চালতার কুঁড়ির উঁকিঝুঁকি। 
    এসব পেরিয়ে লাইব্রেরীর পথ ধরলো কলি। ছোট্ট লাইব্রেরী। এই বইভূমিতে বেশ লাগে কলির। রিডিং রুমের জানলার বাইরে রঙীন প্রজাপতি আর পাখিদের আলাপন। আত্মশাসন করেও দৃষ্টিকে স্ব-বশে রাখতে পারেনা কলি। প্রায় ফাঁকা রিডিং রুমে বইয়ের পাতায় নিঃশব্দ পাশ ফেরা আর বাইরে পাখিদের কলতানে আচ্ছন্ন কলির মন।
    সেদিন, লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে, হোস্টেলের পথ ধরতেই, দিগন্ত সহেলী হেমন্তদের সাথে দেখা হয়ে গেল। ওদের জোরাজুরিতে হোস্টেলে ফেরা হলোনা কলির। সাইকেল নিয়ে দল বেঁধে চললো সোনাঝুরির পথে। যেতে যেতে অরণ্য গান ধরলো, "আজি বরিষণমুখরিত শ্রাবনরাতি".. সবাই হই হই করে উঠলো, 'কি ব্যাপার ভাই, সবে ফাগুন বনে ফুল ফোটাচ্ছে, আর তুই কিনা এখনই শ্রাবণ বন্দনা শুরু করলি। এ এ এ ভাই, ফাগুনের গান ধর'। 
    ক্যানাল পাড়ে এসে অরণ্য সাইকেল থামাতেই, সবাই থেমে গেল। অরণ্য আড়চোখে দেখে নিল কলি আসছে কিনা। শান্তিনিকেতনে এসেই সাইকেল শিখেছে কলি। তাই, ওদের থেকে ধীর গতি। 
    কলি এসে পড়তেই, অরণ্য গেয়ে উঠলো, 'সে কি আমায় নেবে চিনে..এই নব ফাল্গুনের দিনে'। 
    সদলবলে এগিয়ে চললো ওরা সোনাঝুরির পথে। 
    ওদের সাইকেলগুলো রাখা থাকলো নন্দী কাকুর সাইকেল সারাইয়ের দোকানে। 
    ঋজু চেহারায়, ঝিরি ঝিরি পাতার হিল্লোলে সোনাঝুরি বন, ফাগুনের নবীন আনন্দে মেতে উঠেছে।
    তরু দা-অরুণিমা, দিগন্ত-মহুয়া, সহেলী-হেমন্ত যে যার পথে এগিয়ে গেল। 
    এই সোনাঝুরি বনের, মনের নানা কোণে, ওরা নিজেদেরকে ছড়িয়ে দিল। 
    অরণ্য আর কলি, খোয়াই বনের অন্য হাট পেরিয়ে এগিয়ে চললো আরো। 
    কলি, ভালো নাম কৃষ্ণকলি। এম.এস.সি ফার্স্ট ইয়ার এ্যনথ্রোপলজি, আর অরণ্য শিক্ষাভবন ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। কলি জানে না কোন সাবজেক্ট। 
    ওদের নিঃশব্দ এগিয়ে চলার মাঝে, ফাগুনী হওয়ায় শুধু খস খস পাতাদের ঝরে পড়া। দূরে পলাশের ডালে ডালে কুঁড়ির পথ চাওয়া। কিছুদিনের মধ্যেই সেজে উঠবে তারা। 
    শিমুলের রক্তিম ফুলে পাতায় মনকেমনের বাসন্তিক হাওয়া। 
    অরণ্যই নৈঃশব্দ ভাঙলো.. 'তোমার হবি কি'.. 
    কথার আগল খুলতেই, আপাত শান্ত চেহারার কলি বলল, 'গান, শোনা আর গাওয়া দুটোই '। 
    উফফ, কথা বলতে পেরে কলি যেন বাঁচলো। না হলে কতক্ষণ যে এভাবেই শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনী মনের মাঝে বেজে চলতো কে জানে। 
    'একটা গান গাও না অরণ্য দা'  
    খুব জোরে হেসে উঠলো অরণ্য.., 'নিশ্চয়ই, গানে আমার কোনো না নেই। বলো, কি শুনতে চাও।'
    উত্তরের অপেক্ষা না করেই অরণ্য গেয়ে উঠলো, 'আমার বনে বনে ধরলো মুকুল'।.. 
    গানে গানে, মনে, অনুরণনে কলির হৃদয় জুড়িয়ে গেল। ভীষণ এক ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল ওর সমস্ত সত্ত্বা।
    কলির আয়ত চোখের উদাস দৃষ্টি, সোনাঝুরি বন পেরিয়ে সেই শান্ত শালী নদীটির মতো ভালোলাগায় ভালোবাসায় বইতে লাগলো। 
    অরণ্য কখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, কলি বুঝতে পারেনি। কলির চিবুক স্পর্শ করে অরণ্য বললো, 'তুমি খুব সুন্দর, কলি। তোমার এই সজীব প্রাণবন্ত মনের সঙ্গী করবে আমাকে' । 
    অরণ্যর হাতের পাতায় কলির উদাস চোখের জল গড়িয়ে পড়ে। তার নিমীলিত চোখে নীরব সমর্থন। 
    সোনাঝুরি বনকে সাক্ষী রেখে, ওদের জীবনে আজ ভালোবাসার উদযাপন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Mousumi Banerjee | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৭:১৮504075
  • সুন্দর লেখার ধরণ। লেখাটি আরোও চলতে থাকুক। শুভেচ্ছা রইল।
  • Kasturi Das | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৭:৩০504076
  • ধন্যবাদ মৌসুমী দি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন