• খেরোর খাতা

  • এবিসিডি

    Abhishek Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ১০৪ বার পঠিত
  • CD কি? যা DC নয়। তাহলে DC কি? যা AC নয়। তাহলে AC কি CD না CD নয়? এইটা নিয়ে সমস্যা আছে। উপপাদ্য, সম্পাদ্য ইত্যাদি হলে প্রতিপাদ্য বিষয় অন্য হত। কিন্তু কমপ্যাক্ট ডিস্ক সিডি হলে আজ থেকে আনুমানিক পঁচিশ বছর আগে কী ছিল আমার মনে, তা-ই স্বপনপুরের দূরগত অতীতের মতো ভেসে ওঠে। AC, DC কারেন্ট তখন শোনাই যেত, সেই নিয়ে তামাশাও ছিল নানা রকম। AB বললেই মনে পড়ে অনেক স্যার অ্যাটেনডেন্সের খাতায় অনুপস্থিত লিখতেন ওটা দিয়ে। অনেকে ডট দিতেন। আমি এখন ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সে ভরসা করি। BA বললে যা যা মনে হয় তার বয়স তখনও আসেনি। BA করতে পরে যাদবপুরে আসব। AC তখনও কারেন্ট ছিল, এয়ার কন্ডিশনার হয়নি। CA তখন অনেকেই হতেন, কেউ কেউ অন্য আরো পেশায় খ্যাতি পেতেন। DA তখনও সরকার ঘোষণা করতেন। যদিও বিশদ বুঝতাম না। আর AD বলতে ভিটামিন অয়েল বুঝতাম, একটা মিষ্টি গন্ধ, শীতকালে মাখতে হত, অনিচ্ছা নিয়েও। BC আর CB নিয়ে কিছু ভেবে দেখিনি। ভাবলে দেখাই যাবে কিছু আছে বা ছিল। আপাতত মিসিসিপি নদীর কথা কেন জানি না মনে পড়ছে। সে যাই হোক, আসল হল সিডি।
    স্কুলে একদিন কম্পিউটার ক্লাসে নিয়ে যাওয়া হল। ল্যাবে তখনও প্রবেশাধিকার নেই। ফিজিক্স বিভাগে একটা রঙীন কম্পিউটার। তার আগে সব সাদাকালো ছিল। রাশভারি স্যার একটা ছোট বাক্স খুলে একটা গোল চাকতি বের করে বললেন, এটা সিডি। তখনও নতুন সহস্রাব্দের জন্ম হয়নি। নতুন কিছু আসবে এমন কিছু ধারণাও নেই তখন। গোল চাকতি, তার থেকে সাত রঙ বেরোচ্ছে। কম্পিউটারে দিতেই রবীন্দ্রনাথের গান বেজে উঠল। তাহলে কম্পিউটারে হিসাব ছাড়াও আরও কিছু হয়?
     
    এরপর আরো বেশ কিছু বছর পর কম্পিউটার হঠাৎ বাধ্যতামূলক হয়ে গেল। মহা ফ্যাসাদ। ক্লাসে বাইনারি নাম্বার লিখে লিখে বাড়িতে এনে আর কিছুই বোঝা যেত না। কম্পিউটার শূন্য আর এক ছাড়া কিছুই নাকি বোঝে না। কিন্তু ও টুকুও বোঝার কী দরকার ছিল? তাছাড়া সবই প্রকৃতই পরম শূন্য বলে শুনছি তখন, শূন্য থেকে সৃষ্টি, শূন্যেই বিলয়। তাহলে এক আসছে কেন? আর শেখানো হলই যখন আরো কিছু সংখ্যা দিলে কী ক্ষতি হত? এমন সংখ্যালঘু পরিস্থিতি, খাতায় শূন্য গুনে গুনে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। একবার মনে হল তেরোটা শূন্য। তারপর মনে হল পনেরোটা হয়ত। আবার গুনতে দেখা গেল চোদ্দটা। এর মধ্যে এক লিখেছি নাকি পেনের আঁচড় পড়ে গেছে ভুলক্রমে? সামান্য ভুল হলেই প্রলয় নেমে আসবে।
     
    এমনই এক ক্লাসে বাইনারি রেখে প্রথম ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হল। সাজানো গোছানো সুন্দর। AC মানে এয়ার কন্ডিশনার আছে। জুতো খুলে ঢুকতে হয়। বেরিয়ে নিজের জুতো যথাস্থানে না পাওয়ার আশঙ্কা কুরকুর করে মনে। সব জুতোই একরকম, কালো। জুতো ঠিকঠাক না হলে প্রেয়ার হলে ঠাসঠাস চড় পড়ত। যাই হোক, ঠেলাঠেলি করে এরপর যতবারই ল্যাবে ঢুকেছি, বলা বাহুল্য যন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছনোর ভাগ্য হয়নি। দূর থেকেই প্রণাম জানিয়েছি। এটা অনেকটা ফুটবল মাঠের পরিস্থিতি। বল কিছু নির্দিষ্ট লোকের পায়েই ঘুরছে। তারা কে সেন্টার কে ফরওয়ার্ড কে ব্যাকওয়ার্ড বলা মুশকিল। আসল কথা তারা সবাই কম্পিউটার জানে। আর পেশিশক্তির চেয়ে বলীয়ান আর কিছুই নয়। তারা কাজ করত মন দিয়ে। আমরা অনেকেই বলের আশায় বসে থেকে থেকে দুর্বলতর হয়ে অবশেষে চেয়ার বাঁচানোর কাজ করে যেতাম মন দিয়ে। কারণ আমাদের থেকেও প্রতিকূল অবস্থায় কেউ কেউ চেয়ারের অভাবে দাঁড়িয়ে থাকত আর চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার আবেদন-নিবেদন-হুমকি ইত্যাদি ভেসে আসত। গোলকিপার যেমন একসময় কী করছিল বুঝতে না পেরে বারে খানিকটা জিমন্যাস্টিক করে সেখানেই হতোদ্যম হয়ে বসে থাকত, তেমন করেই চেয়ার ধরে রাখত সবাই। স্কুলবাসের সুবাদে এই সিট দখলের ব্যাপারটা সকলেই শিখে যায়। পিছনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে কি আমাকে জানালার ধারটা ছুটির পরে ছেড়ে দেবে? নাতো। ডিউস বলের ফুটবল খেলায় নেবে? কভি নেহি। তাহলে তার জন্য যে বেঞ্চের ধারের জায়গাটা রাখে রোজ, সে কি করবে? অতয়েব, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে চেয়ারে বসে থাকো। কিসের ক্লাস যেন? কম্পিউটার, অ্যাটেনডেন্সের খাতায় তো নাম উঠে গেছে আজকের মতো। AB তো বসতে দেওয়ার সুযোগ দিইনি। আমি কি আর চেয়ারে বসে আছি এমনি এমনি!!
     
    কীসের কথা যেন হচ্ছিল? হ্যাঁ, সিডি। এরপর যখন নিজের কম্পিউটার হল, তখন অনেক সিডি জুটল। আসল, নকল, ভরা, খালি, কেনা, ফ্রিতে পাওয়া, পাইরেটেড, রিরাইটেবল ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে তখনই সিডি আন্ডাররেটেড। পেন ড্রাইভ এসে গেছে। এক্সটারনাল হার্ড ডিস্ক আসছে। ক্রমে কেবি এমবি হল, এমবি জিবি হল, জিবিও টিবি হল। এবার না পটল তোলে। টিবি উল্টে দিলে বিটি। অনেক আগে বিটি বা বেসিক ট্রেনিং করত অনেকে। আমি বি এড করব ভেবেছিলাম। করা হয়নি। করিনি। কী যেন হচ্ছিল? সিডি। মাথা বুজে আসছে, চোখ জড়িয়ে আসছে। সকালে ঘুম ভাঙলে শুনতে পাই, পুরনো মোবাইল আছে, পুরনো ল্যাপটপ আছে, পুরনো টিভি আছে, পুরনো ট্যাবলেট আছে। মানে বিক্রি আছে ওজনদরে। সিডি নেবে ওরা? আমার অনেক সিডি আছে। যদি একটা ড্রাইভ পাই পর পর চালাই, উনিশশো নিরানব্বই, আটানব্বই, সাতানব্বই, ছিয়ানব্বই সালগুলো ফুটে উঠবে না মনে হয়। রাখতে পারিনি কোনও সিডিতে। আমি যে দোকান থেকে সিডি কিনতাম সেটা এখন সিসিডি। ঐ দোকানের সামনে আমাদের বাস থামত। রিক্সাস্ট্যান্ডে দু একটা রিক্সা। একটার পিছনে ঝকঝক করছে অনেক সিডি। পরপর। সিডি ফ্লপ করেছে। ফ্লপির মতো। ওর মধ্যে কত কী ধরা আছে। রিক্সাগুলো পরপর চলে যাচ্ছে, স্বপ্নের দিকে। একটায় লেখা ঠাকুমার আশির্বাদ। আর একটায়, আসি বন্ধু, আবার দেখা হবে।।
     
    ©️অভিষেক ঘোষ

     

  • বিভাগ : অন্যান্য | ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ১০৪ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:৫৮500184
  • খাসা লেখা। আহা সিডি ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​শুরু ​​​​​​​করেছেন ​​​​​​​মানে ​​​​​​​তো ​​​​​​​নেহাৎ ​​​​​​​বাচ্চা। ​​​​​​​আমি ​​​​​​​সেই মস্তবড় ​​​​​​​কালো ফ্লপি ​​​​​​​ডিস্ক ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​শুরু করে, ​​​​​​​ছোট ​​​​​​​রঙিন ফ্লপি ​​​​​​​হয়ে ​​​​​​​তাপ্পরে ​​​​​​​সিডি। 
     
     
     
  • Abhishek Ghosh | ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১৪:২৩500189
  • ধন্যবাদ।
  • Abhishek Ghosh | ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১৪:২৪500190
  • ধন্যবাদ। সিনিয়ররা বড় আর জুনিয়ররা ছোট হয়। ফ্লপি আর সিডিরও তাই বোধহয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন