• টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • মনুসং হিতায় কী আছে (২)ঃ নারী

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২২ মে ২০২১ | ৬৭৪ বার পঠিত | ১ জন
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মনুসংহিতায় কী আছে? ২

    নারী

    নারীদের সম্পর্কে মনুস্মৃতি কী বলে দেখা যাক।

    কিন্তু এত ভাবার কী আছে? নীৎশে নাকি বলেছেন “ I know of no book in which so many delicate and kindly things are said of woman as in the Law book of Manu”[1]

    আবার মনু তো এটাও বলেছেন,“যত্র নার্য্যন্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ”। অর্থাৎ, যে গৃহে নারীকে সম্মান দেয়া হয় বা পুজো করা হয় সে গৃহ তো দেবালয়। এ তো বেশ কথা, তাই তো  হওয়া উচিৎ। কিন্তু নিন্দুকেরা মনুস্মৃতিতে নারীর স্থান নিয়ে আকথা-কুকথা বলে কেন? নিঘঘাৎ রাজনীতি!

    নাঃ, হাতে পাঁজি মঙ্গলবার। সায়েবসুবো মাথায় থাক, মনুস্মৃতিই খুলে বসা যাক।

    গোড়ায় সৃষ্টিতত্ত্বে বলা হচ্ছে স্রষ্টা নিজদেহ দ্বিধা বিভক্ত করে অর্ধভাগে পুরুষ হলেন, বাকি অর্ধে নারী। তার থেকে বিরাট পুরুষ সৃষ্ট হল, যিনি মনুর স্রষ্টা।(১/৩২)।

    এ তো একেবারে কবি নজরুলের লাইনঃ “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির  কল্যাণকর; অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। (সাম্য)

    তবে তো নারী পুরুষ সমান সমান, কোন পক্ষপাতের প্রশ্নই ওঠে না। তবে রামায়ণ ও মহাভারতে নিশ্চয়ই নারীদের বিশেষ সম্মান দেয়া হয়েছে। কারণ মহাপুরাণের চরিত্ররা, মায় বশিষ্ঠের মত কুলগুরুরা কথায় কথায় মনুস্মৃতির দোহাই দেন। তাহলে মায়ের মুখের কথায় দ্রৌপদী পঞ্চস্বামীর মধ্যে ভাগ হয়ে যান কী করে?তাঁর কী ইচ্ছে কেন জিজ্ঞেস করা হয় না? এরপর যুধিষ্ঠির দ্রৌপদীকে জুয়োয় পণ রেখে হেরে যান কী করে? এবং সর্বসমক্ষে পত্নীকে বিবস্ত্রা করা হলে কোন ধর্মশাস্ত্রের নীতি মেনে মাথা নিচু করে গুডবয় হয়ে বসে থাকেন? নারী কি জমিজিরেত টাকাপয়সা গয়নার মত লুটের মাল? মনু কী বলেন?

    n  স্ত্রীলোক হল রথ, অশ্ব, ছত্র, ধন, ধান্য, পশু, জিনিসপত্র বা তামার মতোই লুটের মাল; যে জিতে নেবে তার।(৭/৯৬)।

    এই জন্যেই বোধহয় পঞ্জিকায় বিশেষ বিশেষ তিথিতে কোন কোন জিনিস সেদিন খাওয়া যাবেনা তার লিস্টিতে “স্ত্রী সম্ভোগ” জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, মৎস্য, মাংস, অলাবু ও বার্তাকু ভক্ষণ এবং স্ত্রীসম্ভোগ নিষিদ্ধ।

    মহাভারত হোল, এবার রামায়ণের সাক্ষ্য দেখা যাক।

    উত্তরভারতে এখন একজনই আরাধ্য—  মর্য্যাদাপুরুষোত্তম রামচন্দ্র।

    কিন্তু আদর্শপুরুষ রামের পত্নীর প্রতি ব্যবহারও তো আদর্শ হওয়া উচিত। অথচ বাল্মীকি রামায়ণে দেখছি উনি সীতাকে দু’দুবার সতীত্বের অগ্নিপরীক্ষা দিতে বললেন। আসন্ন প্রসবের সময় গুপ্তচরের চুকলি শুনে সীতাকে বনবাসে পাঠালেন। শুধু তাই নয়, লঙ্কা বিজয়ের পর পতির দেখা পেয়ে আনন্দিত সীতাকে কটুবাক্যে বললেন— ‘সীতা, ভেব না আমি তোমার জন্যে এই যুদ্ধ করেছি। আমি রাবণকে পরাজিত করে লঙ্কা দখল করেছি নিজের সম্মান ও হৃতগৌরব উদ্ধার করতে। আজ আমার পৌরুষ তৃপ্ত’। সীতা অবাক, সীতা কাঁদো কাঁদো।  

    রামের ক্রোধ বেড়ে গেল। চোখ পাকিয়ে সীতার দিকে তাকিয়ে উনি উপস্থিত সমস্ত রাক্ষস ও বানর সেনার সামনে সীতাকে বললেনঃ

    “সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছ, কিন্তু তুমি আমার চক্ষুশূল। কারণ তোমার চরিত্র নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে।কাজেই তোমাকে অনুমতি দিলাম-দশদিকের যেকোন দিকে সোজা চলে যাও। দূর হয়ে যাও।পরগৃহে এতদিন ছিলে, কোন উচ্চবংশীয় পুরুষ এমন নারীকে ফিরিয়ে নেবে?তুমি রাবণের অঙ্কশায়িনী।  আমি যা বলছি তা অনেক ভেবে বলছি। যদি মন চায় তো লক্ষ্মণ, ভরত, বানরশ্রেষ্ঠ সুগ্রীব বা রাক্ষস শ্রেষ্ঠ বিভীষণ—যার কাছে ইচ্ছে হয় চলে যাও। রাবণ তোমার অপরূপ স্বর্গীয় রূপ দেখেছিল। নিশ্চয়ই ওর গৃহে তোমাকে ছুঁয়েছে”। সীতা কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারালেন।[2] (মূল বাল্মীকি রামায়ণের সংস্কৃত থেকে নীতি আয়োগের প্রাক্তন সদস্য বিবেক দেবরায়ের করা ইংরেজি থেকে বাঙলা অনুবাদ; অবশ্য আমার কথায় বিশ্বাস নাহলে আগ্রহী পাঠক এই প্রসঙ্গে ডঃ সুকুমারী ভট্টাচার্য্যের প্রবন্ধ ওঁর রচনাসংগ্রহে দেখে নিতে পারেন)।অবশ্য কৃত্তিবাসী বা তুলসীদাসী রামায়ণ ভক্তের দৃষ্টিতে রচিত, তাই সেখানে এ’রকম বেশ কিছু অপ্রীতিকর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

    যদিও বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের মানদণ্ডে পত্নীর প্রতি রামের ব্যবহার ও কটুবচন শুধু অন্যায় নয়, অকল্পনীয়। কিন্ত সেই সময়ের মূল্যবোধে? তখন তো মনুস্মৃতিই পঞ্চম বেদের মর্য্যাদা পেয়েছিল।

    বোঝাই যাচ্ছে, পুরুষ যখন সামাজিক প্রথা, আইনকানুন বানাতে শুরু করল, তখন নিজেদের দিকে টেনে খেলল। নারী আর সুখে দুঃখে সমান অংশীদার রইল না। ‘ওরা’ এবং ‘আমরা’র খেলা শুরু হয়ে গেল। ‘এ বাণী প্রেয়সী হোক মহীয়সী, তুমি আছ, আমি আছি’ শুধু কবির ইচ্ছেয় রয়ে গেল।মনুসংহিতায় এবার সেই খেলাটাই পর্বে পর্বে দেখব।

    আসলে হাতির দেখানোর দাঁত আর চিবোনোর দাঁত আলাদা হয়। তেমনই মনুস্মৃতিতে মেয়েদের পুরুষের সমান বলে এবং দেবী বানিয়ে কুল্যে দুটো শ্লোক আছে। কিন্তু বাকি অধ্যায়গুলো জুড়ে মেয়েদের জন্যে বিধান দিয়ে যে প্রায় দুশো শ্লোক আছে? সেগুলো এবার একঝলক দেখা যাক।

    সাধে কি “রামচরিতমানস” রচয়িতা ভক্তকবি গোস্বামী তুলসীদাস বলেছেনঃ

    “চোর ঢোর গাঁওয়ার শূদ্র অউ নারী,

    ইয়ে সব হ্যায় তাড়ণ অধিকারী”।

    বাংলায় বললে-“ চোর মোষ গোঁয়ার, শুদ্র ও নারী,

               এদের সামলে রাখতে চাই লাঠির বাড়ি”।

    n  নারীদের স্বভাবই হল পুরুষদের দূষিত করা। সাধু সাবধান! (২/২১৩)

    সত্যিই তো, ইডেন গার্ডেনে সাদাসিধে আদমকে আপেল খেতে কে প্ররোচিত করেছিল?

    n  অতএব, পুরুষ যেন মা, বোন বা কন্যার সঙ্গে শূন্যগৃহে না থাকে।(২/২১৫)

    n  রাজা মন্ত্রণাকালে জড়বুদ্ধি, বোবাকালা, অঙ্গহীন, ম্লেচ্ছ, রুগ্ন, অতিবৃদ্ধ, টিয়েপাখি এবং স্ত্রীলোককে ওখান থেকে সরিয়ে দেবেন। কারণ এরা গোপন খবর ফাঁস করতে পারে,(৭/১৪৯-১৫০)।

    n  স্ত্রী, পুত্র ও দাস—এই তিনজনই ধনহীন থাকবে। এরা যদি কিছু উপার্জন করে তাহলে সেটা তাদের মালিকেরই সম্পত্তি হয়ে যাবে।(৮/৪১৬)।

     

    দেখুন স্ত্রীজাতির উপনয়ন বা দ্বিতীয় জন্ম হয়না, ওরা দ্বিজ ন’ন; তাই ওদের বেদ পাঠে অধিকার নেই। তাহলে ওঁদের সংস্কার বলতে কী রয়েছে?

    --স্ত্রীলোকের জন্যে বিবাহবিধিই বৈদিক সংস্কার, পতিসেবাই গুরুগৃহে বাস, এবং গৃহকর্মই তাঁদের যজ্ঞ বা অগ্নি-পরিচর্যার সংস্কার। (২/৬৭)।

    দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দিতে গিয়ে অনেকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে যে পুরুত মশায় বলছেন—ব্রাহ্মণেরা ওঁ বলবেন। অন্যেরা এবং সমস্ত মা-বোনেরা ‘নমঃ’ বলবেন। ঠাকুরমশায়ের দোষ নেই। ‘ওঁ’ হল প্রণব- বৈদিক মন্ত্র; উপবীতধারী বিনা কারও অধিকার নেই উচ্চারণ করার। ব্রাহ্মণের স্ত্রী হলেও নয়। মনুর বিধান যে!

    লালন গেয়েছেন—যদি সুন্নত দিলে হয় মুসলমান, নারীজাতির কী হয় বিধান,

             বামন চিনি পৈতে প্রমাণ, বামনি চিনি ক্যামনে?

    স্ত্রীজাতির ধর্ম

    সে না হয় হল, কিন্তু স্ত্রীজাতির ধর্মাচরণ, মানে দৈনন্দিন জীবন কেমন হবে, সে’ব্যাপারে মনু কিছু বলে যাননি? আলবাৎ বলেছেন।

    n  নিজের ঘরেও বালিকা, যুবতী বা বৃদ্ধা নারী স্বাধীনভাবে কিছু করবেন না।(৫/১৪৭)

    n  “বাল্যে পিতুর্বশে তিষ্ঠেৎ পাণিগ্রাহস্য যৌবনে।

    পুত্রাণাং ভর্তরি প্রেতে ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম।। (৫/১৪৮)

    নারী বাল্যে পিতার, যৌবনে স্বামীর এবং বার্ধক্যে পুত্রদের অধীন; কখনও স্বাধীনভাবে থাকবেন না।

    n  পতি দুশ্চরিত্র, কামুক বা গুণহীন হলেও তিনি সাধ্বী স্ত্রী ‘র কাছে সর্বদা দেবতার  মত সেবা পাওয়ার যোগ্য।(৫/১৫৪)।

    বোঝাই যাচ্ছে কেন সতী অনুসূয়া কুষ্ঠরোগী স্বামীর ইচ্ছে মেটাতে তাকে কাঁধে করে বেশ্যাবাড়ি নিয়ে গেছলেন; সে রবীন্দ্রনাথ এই আখ্যানটিকে পুরুষের কাপুরুষতার চরম উদাহরণ বলে যতই গালমন্দ করুন না কেন![3]

    n  স্ত্রীলোকের আলাদা কোন যজ্ঞ, ব্রত বা উপবাস নেই। তিনি যে পতিসেবা করেন তাতেই স্বর্গে পূজো পাওয়ার যোগ্য হন।(৫/১৫৫)

    n  পতি মৃত হলে স্ত্রী পবিত্র ফল মূল খেয়ে দিন কাটাবেন, কিন্তু অন্য পুরুষের নাম পর্য্যন্ত নেবেন না। (৫/১৫৭)

    n  স্ত্রী  সন্তানের মা না হলেও পতির মৃত্যুর পরে  ব্রহ্মচর্য পালন করে স্বর্গে যাবেন। (৫/১৬০)।

    n  সন্তান লোভে যে নারী স্বামীকে এড়িয়ে ব্যভিচারিণী হন, তিনি ইহকালে নিন্দিত, এবং পরকালে পতিলোক থেকে পতিত হন।(৫/১৬১)।

    n  স্ত্রী স্বামীকে অবহেলা করে ব্যভিচারিণী হলে সংসারে নিন্দে হয়, সে পরের জন্মে শেয়াল হয়ে জন্মায় এবং যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ইত্যাদি পাপরোগের শিকার হয়।(৫/১৬৪)।

    n  স্ত্রী  মারা গেলে শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ স্বামী  ওঁর চিতায় আগুন দিয়ে ফের বিয়ে করবেন।(৫/১৬৮)।

    n  যে নারী পিতার ধনের গর্বে বা নিজ সৌন্দর্যের অহংকারে স্বামীকে ত্যাগ করে, তাকে রাজা সবার সামনে কুকুর দিয়ে খাওয়াবেন।(৮/৩৭১)

     

    স্বামী-স্ত্রীর পালনীয় ধর্মঃ

    নবম অধ্যায়ে এব্যাপারে বিস্তৃত নির্দেশ দেয়া রয়েছে। এখানে স্থানাভাবে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি।

    n  পুরুষেরা স্ত্রীদের দিনরাত পরাধীন রাখবেন।(৯/২)

    n  স্ত্রীলোক স্বাধীনতার যোগ্য নয়(৯/৩)।

    n  বিয়ের বয়েস হলে কন্যা সম্প্রদান না করলে পিতা, ঋতুকালে পত্নীগমন না করলে পতি, পিতা মৃত হলে মায়ের দেখাশুনো না করলে পুত্র নিন্দের পাত্র হয় (৯/৪)।

    n  অরক্ষিত স্ত্রীলোক পিতৃ, মাতৃ উভয়কুলের দুঃখের কারণ (৯/৫)।

    n  মদ্যপান, দুষ্টলোকের সংসর্গ, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি, ঘুরে বেড়ানো, অকাল নিদ্রা, পরগৃহে বাস—এই ছয়টি নারীর ব্যভিচারাদি দোষের কারণ(৯/১৩)।

    n  এরা রূপ দেখে না, বয়স দেখে না; পুরুষ রূপবান বা কুরূপ যাই হোক,  পুরুষ দেখলেই সম্ভোগরত হয় (৯/১৪-১৫)।

    n  ব্রহ্মা এদের এমন স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন, কাজেই পুরুষ স্ত্রীলোকের রক্ষার ব্যাপারে বিশেষ প্রযত্ন করবে(৯/১৬)।

    n  মনু স্ত্রীদের স্বভাবে দিয়েছেন – শয়ন, উপবেশন, অলংকার,কাম, ক্রোধ, কুটিলতা, হিংসুটেপনা, মন্দ আচরণ(৯/১৭)।

    n  স্ত্রীলোকের ব্যভিচারের প্রায়শ্চিত্তের শ্রুতি বা বৈদিক মন্ত্র হলঃ আমার মাতা যে অসতী হয়ে পরপুরুষ সম্ভোগ  করতে চেয়েছেন, ওই ইচ্ছায়  অপবিত্র হওয়া (মাতৃরজঃস্বরূপ) শুক্রকে আমার পিতা শুদ্ধ করুন (৯/২০)।

    n  তবে নীচকুলে জাত স্ত্রী উচ্চকুলের পতির সঙ্গে মিলিত হলে পতির ভাল গুণ প্রাপ্ত হন। যেমন শূদ্রজাতীয় অক্ষমালা বশিষ্ঠের সঙ্গে এবং শারঙ্গী মন্দপালের সঙ্গে মিলিত হয়ে মাননীয় হয়েছিলেন(৯/২৩)।

    n  নারী হল খেত, পুরুষ হল বীজ। দুয়ের মিলনে সন্তান। কখনও খেত প্রধান, কখনও বীজ। উভয়েই সমান হলে সন্তান  ভালো হয়ে জন্মাবে।(৯/৩৩,৩৪)।

    n  সন্তানের জন্ম দেয়া, তাদের বড় করা এবং  প্রতিদিনের অতিথিসেবা আদি রীতিনীতির জন্যে স্ত্রীলোকেরা লক্ষ্মী (৯/২৬,২৭)।

     

     

    নিয়োগপ্রথা

    প্রাচীন ভারতে নিয়োগপ্রথা ছিল । মহাভারতে কুরুবংশে দুই রাণী অম্বিকা ও অম্বালিকা নিঃসন্তান। তাই মাতা সত্যবতীর আগ্রহে সম্পর্কে দেবর বেদব্যাস এসে দুই রাণীর গর্ভে ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডু এবং শূদ্রাণীর গর্ভে বিদুরের জন্মের কারণ হয়েছিলেন। এবার দেখুন নিয়োগ নিয়ে মনু কী বলছেনঃ

    n  সন্তানের অভাবে পতি প্রভৃতি গুরুজনের দ্বারা সম্যকরূপে নিযুক্ত হয়ে নারী দেবর বা সপিন্ড [4](নীচের টীকা দেখুন) কারও থেকে সন্তানলাভ করতে পারে, কিন্তু একটির বেশি নয়(৯/৫৯)।

    n  বিধবা নারীতে, নিয়োগ  ব্যাপারটা নিয়মমাফিক সম্পন্ন হলে তারপরে তারা দু’জন পুত্রবধূ ও বড় ভাইয়ের মতো আচরণ করবে(৯/৬২)।

    n  কিন্তু ব্রাহ্মণের বিধবা অন্য পুরুষের সঙ্গে এভাবে ‘নিযুক্ত’ হতে পারে না। তাহলে সনাতন ধর্ম নষ্ট হবে (৯/৬৪)।

    মনে হয় নিয়োগ বা বিধবার যৌনতা নিয়ে মনু দ্বিধায় ছিলেন, তাই সাবধান করছেন- একের বেশি সন্তান নয়, এরপর কামবশে ফের মিলিত হওয়া পাপ।(৯/৬১, ৬৩)।

    n  কিন্তু বিবাহ সংক্রান্ত মন্ত্রে কোথাও ‘নিয়োগ’ এর উল্লেখ নেই। বিবাহ বিধায়ক শাস্ত্রে কোথাও ‘বিধবা-বিবাহ’এর কথা বলা হয়নি।

    n  অথচ নিয়োগ প্রথা নিয়ে স্বয়ং মনুরই যে যথেষ্ট দ্বিধা ছিল, তার প্রমাণ এই কথায় ধরা পড়ে। তিনি বলছেন, পন্ডিত দ্বিজগণ এই ‘নিয়োগপ্রথা’কে পশুধর্ম বলেছেন। এসব অধার্মিক বেনরাজার কীর্তি। উনিই কামের পরবশ হয়ে এসব শুরু করিয়ে পৃথিবীতে ‘বর্ণসংকর’ (বাস্টার্ড) সৃষ্টি করেছিলেন।(৯/৬৬,৬৭)।

    স্বামী-স্ত্রী-নিয়োগ এসব নিয়ে ঢের হল। এবার খোদ বিবাহ নিয়েই মনুর বিধান নেড়েচেড়ে দেখা যাক।এতে অবধারিত ভাবে জাতিভেদের প্রশ্ন উঠবে।

    বিবাহঃ

    প্রথমে মেয়ে দেখা হোক।

    n  নিজ বর্ণের সুলক্ষণা মেয়ে বিয়ে করা উচিত। যে কন্যা মাতার সপিন্ড এবং পিতার সগোত্র নয়, সেই মেয়েই দ্বিজের(অর্থাৎ, ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য, যার পৈতে হয়েছে) বিবাহে এবং মৈথুনে  উপযুক্ত(৩/৪-৫)।

    n  কিন্তু স্বজাতেও বিয়ে করার ক্ষেত্রে নানা বাধা আছে। নীচের দশ রকমের পরিবারের মেয়ে আনতে নেইঃ

    o   যেসব পরিবার হীন কাজ করে, পুরুষসন্তান নেই , বেদপাঠহীন, শরীর লোমে ভরা, অর্শ, যক্ষ্মা, অ্যাসিডিটি, শ্বেতী বা কুষ্ঠরোগগ্রস্ত(৩/৭)।

    o   যে মেয়ে কপিলবর্ণা,মানে যার গায়ের রঙ পাঁশুটে , হাত-পায়ে বেশি আঙ্গুল, রোগী, লোমহীনা, বেশি লোম, বাচাল, আর যাদের নামে নক্ষত্র, বৃক্ষ, নদী, পর্বত, পক্ষী, সর্প, দাস আছে বা ভীতিজনক নাম—তাদের বিয়ে করা যাবে না।

    এটা মানলে তো আমাদের ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় অবস্থা হবে (৩/৮-৯)।

    o   বিয়ে করবে এমন মেয়েকে যে অঙ্গহীন নয়, হংসগতি বা গজগামিনী, যার নাম ধরে সহজে ডাকা যায়, যার লোম ও কেশ কোমল, দাঁত ছোট, অঙ্গ মৃদু। (৩/১০)।

    উঃ! যেন গোহাটে গরু কিনছে!

    o   যে মেয়ের ভাই নেই, পিতা কে জানা যাচ্ছে না, বিজ্ঞ ব্যক্তি তাকে বিয়ে করবে না কারণ কি জানি যদি ও তার কন্যাসমা হয়!(৩/১১)

    o   এক কন্যা বরকে দেখিয়ে অন্য কন্যা দান করলে এক শুল্ক দিয়েই পাত্র দুজনকেই বিয়ে করতে পারবে—এই হল মনুর বিধান (৮/২০৪)।

     

    n   প্রথম স্ত্রী তো নিজেদের বর্ণের হতে হবে।(প্রথম বিয়ে তো বংশরক্ষার জন্যে; পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা) কিন্তু কামবশঃ ফের বিয়ে করতে চাইলে কন্যার যোগ্যতা নীচে দেওয়া হলঃ

    o   ব্রাহ্মণ – ব্রাহ্মণী ও তিন বর্ণের মেয়েকে।

    o   ক্ষত্রিয়— ক্ষত্রিয়া এবং বৈশ্য ও শূদ্রের মেয়েকে।

    o   বৈশ্য— বৈশ্য ও শূদ্রের মেয়েকে।

    o   শূদ্র- শুধু শূদ্রে্র মেয়েকে। (৩/১২-১৩)।

    n  কিন্তু ব্রাহ্মণের শূদ্র বৌ নিয়ে মনুমহারাজের বড্ড অস্বস্তি ছিল। গোটা পাঁচেক শ্লোকে অমন বিয়ে করলে ব্রাহ্মণের কী কী ঝামেলা হতে পারে তা’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। দুটো তুলে দিচ্ছিঃ

    o   ব্রাহ্মণ শূদ্রাকে শয্যায় নিলে অধোগতি প্রাপ্ত হয়।তাতে পুত্রোৎপাদন করলে ব্রাহ্মণত্বই চলে যায়।(৩/১৭)।

    o   যে ব্রাহ্মণ শূদ্রার অধররস পান করেন, তার শ্বাস নিজের শ্বাসে যুক্ত করেন  এবং  গর্ভে সন্তান উৎপাদন করেন, তাঁর শুদ্ধি হয় না(৩/১৯)।

    মেয়েও পছন্দ হল, এবার বিয়ে। কিন্তু বিবাহ যে আট রকম। কোনটা করব কীভাবে ঠিক হবে? ঠিক হবে বরের জাত দিয়ে।

    কতরকম বিয়ে?

    n  বিয়ে আট রকমঃ ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য, আসুর, গান্ধর্ব, রাক্ষস ও পৈশাচ। এর মধ্যে প্রথম চারটি (ব্রাহ্ম থেকে প্রাজাপত্য) ব্রাহ্মণের জন্যে, রাক্ষস ও গান্ধর্ব ক্ষত্রিয়ের জন্যে, বৈশ্য ও শূদ্রের জন্যে আসুর প্রশস্ত। পৈশাচ বিবাহ কারোরই করা উচিত নয়।(৩/২১.২৪ ও ২৫)।

    n  কিন্তু কার নাম দুন্দুভি? কাকে বলে অরণি?

    o   ব্রাহ্মঃ বিদ্বান চরিত্রবান পাত্রকে আহ্বান করে কাপড়চোপড় উপহার  দিয়ে সম্মানিত করে কন্যাদান।(৩/২৭)

    o   দৈবঃ যজ্ঞের সময় কাপড়ে গয়নায় সাজিয়ে গুছিয়ে কন্যাকে পুরোহিতের নিকট দান।(৩/২৮)

    o   আর্যঃ বরের থেকে ধর্মার্থে একটি করে বৃষ ও গাভী নিয়ে কন্যাদান (৩/২৯)।

    o   প্রাজাপত্যঃ সোজা কথায় প্রজাপতির নির্বন্ধ।  ‘দুজনে একত্র হয়ে ধর্মাচরণ কর’ বলে বরের পূজো করে কন্যাদান(৩/৩০)। আজকাল হিন্দুমতে এ’রকম বিয়েই আকছার হচ্ছে।

    o   আসুরঃ বর যদি মেয়ের বাবা বা জ্ঞাতিদের যথাশক্তি ধন দিয়ে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে।এটাও বহুদিন ধরে আমাদের দেশে চলে আসছে। (৩/৩১)।

    o   গান্ধর্বঃ ‘গান্ধর্বঃ স তু বিজ্ঞেয়ো মৈথুনাঃ কামসম্ভবঃ।। (৩/৩২)

      কন্যা ও বরের ইচ্ছানুসারে মিলন, মনুর মতে এই বিবাহ কামবশে মৈথুনেচ্ছায় ঘটে!আজকাল এরকমও হচ্ছে বটে, যাকে আমরা হরদম ‘লাভ ম্যারেজ’ বা প্রেম করে বিয়ে বলে থাকি।

     

    o   রাক্ষসঃ কন্যাপক্ষের লোকজনকে আহত বা হত্যা করে, আর্তনাদ করতে থাকা কন্যাকে বলপূর্বক হরণ করে বিয়ে করা(৩/৩৩)।এটা হামলা এবং ধর্ষণ, যেমন ডাকাত দলের কান্ড ।

    o   পৈশাচঃ নিদ্রিতা, মদ্যাপানে বিহ্বল বা পাগল কন্যাকে নির্জনে সম্ভোগ করলে সর্বাধিক পাপজনক ও নিকৃষ্ট বিয়ে(৩/৩৪)। এটা অবশ্যই ধর্ষণ।

    একটা জিনিস খেয়াল করার মত। তখন বরকে কন্যাপণ দিতে হত, যদিও এই প্রথাকে মনু কয়েক জায়গায় গর্হিত এবং মেয়ের বাপের দিক থেকে এটা টাকার লোভে কন্যা বিক্রয় বলে নিন্দে করেছেন।কিন্তু লক্ষণীয় যে তখন আজকের মত মেয়ের বাবাকে যৌতুক দিতে হত না।

    অন্ততঃ মনুস্মৃতি তাই বলছে।বিয়ে হয়ে গেল। এবার সন্তান জন্মের রহস্য জেনে নিন।

     

    n  প্রথম চারপ্রকারের বিয়ের ফলে ভদ্রজনের মান্য বেদাধ্যয়ন করা তেজস্বী পুত্র হয় । রূপ,গুণ, যশ ও প্রচুর ভোগের অধিকারী হয় এবং তার একশ’ বছর আয়ু হয়। কিন্তু বাকি চারটে নিকৃষ্ট বিয়ের ফলে নিষ্ঠুর,মিথ্যেবাদী এবং বেদ ও যাগযজ্ঞের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন পুত্র জন্মায়।(৩/৩৯.৪০, ৪১)।

    n  শোণিতস্রাবযুক্ত প্রথম চার রাত্রি, একাদশ ও ত্রয়োদশ রাত্রি এবং অমাবস্যাদি মনুর বিধিতে নিন্দিত। বাকি সময়ে গৃহস্থ স্ত্রীর প্রতি অনুরক্ত হয়ে রতিকামনায় দারগমন করবেন।(৩/৪৫,৪৬,৪৭)।

    n  ওই প্রশস্ত রাত্রিগুলোর মধ্যে  জোড় সংখ্যার রাতে, যেমন ষষ্ঠ ও অষ্টম, ছেলে হয় এবং বেজোড় সংখ্যার রাতে, যেমন পঞ্চম বা সপ্তম,  মেয়ে। তাই ছেলে চাইলে য জোড় সংখ্যার রাত্রিতে দারগমন করিবেন(৩/৪৮)।

    n   পুরুষের শুক্র বেশি হলে পুত্র, স্ত্রীর শুক্র বেশি হলে কন্যা জন্মায়। দু’জনেরই সমান সমান হলে জোড়া সন্তান বা হিজড়ে জন্মায়। কিন্তু দুজনের শুক্র খুব অল্প হলে গর্ভ হয় না।(৩/৪৯)।

     

    পাঠকদের মনে পড়বে যে মাত্র ক’বছর আগে সল্ট লেকে এবং আরও দুয়েকটা জায়গায় হিন্দু বা বৈদিকশাস্ত্র মতে উত্তম মেধাবী সন্তান জন্মানোর গ্যারান্টি দিয়ে রীতিমত ওয়ার্কশপ খোলা হয়েছিল, অবশ্য ভাল ফী নিয়ে।বেশ কিছু দম্পতি নাম লিখিয়েছিলেন যেমন পুত্রসন্তানের গ্যারান্টি পেয়ে অনেকে হাতুড়ে ডাক্তারের নার্সিং হোমে নাম লেখান। অনেক বাপমা চাইবেন যে তাঁদের সন্তান বিদ্যাদিগগজ মহাধনুর্ধর হয়ে উঠুক। তো বিশ্বাসীরা নিজেরা যদি  বৃহদারণ্যক উপনিষদের পাতা ওল্টাতেন তো দেখতে পেতেন যে এর জন্যে নানান ফর্মূলা তার ষষ্ঠ অধ্যায়ে দেয়া আছে। তার একটি হোল কালো বাছুর বা ষাঁড়ের মাংসের পলান্ন (বিরিয়ানি?) রন্ধন করে স্বামীস্ত্রীর খেয়ে নেয়া।

    n  কন্যাপণ নেওয়া নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। কোন কোন স্মৃতি এবং মেধাতিথির ভাষ্য যেন পণের পক্ষে; কিন্তু মনু বেশ কড়া।

    o   কন্যার পিতা সামান্য শুল্কও নেবেন না, নইলে মেয়ে বিক্রয় করা হল।(৩/৫১)

    o   ‘আর্যবিবাহে যে গাইবলদ নেবার প্রথা তাকে পণ না বলে কেউ কেউ শুল্ক বলেন। ওটা মিথ্যা। পণ কম বা বেশি যাই হোক, নিলে মেয়ে বিক্রিই হল’।(৩/৫৩)।

    দেখাই যাচ্ছে, সে’সময়ে ছেলের বাড়ি পণ নিত না, উলটে ছেলের পরিবার মেয়ের বাবাকে দিত।

    n   “যত্র নার্য্যন্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।

      যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলাঃ ক্রিয়াঃ”।।(৩/৫৬)

       যেখানে নারীগণ সম্মানিত হন, সেখানে দেবগণ প্রীত হন।এঁরা সম্মানিত নাহলে সকল কর্ম নিস্ফল হয়।

     মনুস্মৃতিতে নারীর কত উঁচু স্থান প্রমাণ করতে এই শ্লোকটি সর্বত্র উল্লেখ করা হয়। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তাঁর “হিন্দুবিবাহ” প্রবন্ধে মনুস্মৃতিতে ওই শ্লোক এবং মনুসংহিতায় আরও কয়েকটি শ্লোক উল্লেখ করে প্রাচীন কোড অব কন্ডাক্টে নারীকে উঁচু স্থানে বসানোর মিথকে কাটাছেঁড়া করেছেন। আর “স্ত্রীর পত্র” নভেলায় মৃণালের মুখ দিয়ে সতী অনুসূয়ার কুষ্ঠরোগগ্রস্ত স্বামীর ইচ্ছেপূরণ করতে ওঁকে পিঠে করে বেশ্যাবাড়ি পৌঁছে দেবার আখ্যানটিকে পুরুষের কাপুরুষতার চরম নিদর্শন বলেছেন।

    এবার নারীরাই ভাবুন তাঁদের মর্যাদা কত উঁচুতে রেখেছে মনুর বিধান। আপনারাই আমার জুরি।

     আই রেস্ট মাই কেস, মিলর্ড!      (আগামী সংখ্যায় শেষ)

     


    [1] মনুসংহিতা, সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় । ভূমিকার আগের পৃষ্ঠায়।

    [2] দ্য বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকান্ড, অধ্যায় ৬/১০৩।বরোদা ওরিয়েন্টাল ইন্সটিট্যুটের অনুমোদিত মূল সংস্কৃত থেকে বিবেক দেবরায়ের ইংরেজি অনুবাদ।; পেঙ্গুইন বুকস ।

    [3] “স্ত্রীর পত্র”; মৃণালের উক্তি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    [4] সপিন্ডঃ মানে পিন্ড দানের অধিকারী।

    যেমন, (১)কোন ব্যক্তির পিতার থেকে ঊর্ধ্বতন (ঠাকুর্দা, তার বাবা এইভাবে) ছয় পুরুষ, মানে ৭ জন তার সপিন্ড এবং নিজের থেকে অধস্তন (ছেলে, নাতি, তার সন্তান এইভাবে ছয় জেনারেশন)ছয় পুরুষ, মানে ৬ জন তার সপিন্ড।

    এভাবে সে উপরের পিতা ও আরও ছয় জনের পিন্ডদানের অধিকারী এবং তার ছেলেকে ধরে নীচের ছয়জন তার উদ্দেশে পিন্ডদানের অধিকারী।

          (২) কিন্তু মায়ের দিক থেকে উর্ধ্বতন চার পুরুষ এবং মায়ের অধস্তন চার পুরুষ তার সপিন্ড।

আরও পড়ুন
হে রাম! - Ranjan Roy
আরও পড়ুন
দাবা - Ruy Lopez
আরও পড়ুন
চুপির চর  - Abhyu
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • এলেবেলে | 2402:3a80:114a:34c9:bc16:4bdb:59fb:160e | ২২ মে ২০২১ ২৩:১০734434
  • পড়লাম। এই মনুকে তদানীন্তন ভারতবর্ষে কতজন মানুষ মানতেন? তাঁকে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠতম মান্য ক্যানন হিসেবে কারা তুলে ধরল? কখন? কেন? সেই তুলে ধরাটাকে কোন ভারতীয় 'মহাপুরুষ'রা এন্ডোর্স করলেন? কেন?


    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাইলাম। এখানেও দিতে পারেন বা পরের সংখ্যার লেখাতেও দিতে পারেন।

  • Ranjan Roy | ২৩ মে ২০২১ ১৩:৪২734436
  • এলেবেলে,


      ভাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা নেই, তাই আপনাকেই দিতে হবে। আপনার লেখা বইটি মন দিয়ে পড়েছি, (যদিও একটি পাঠ যথেষ্ট নয়)। তাতে খানিকটা আলোচনা আছে, এ'নিয়ে আপনি পড়েছেন এবং ভেবেছেন,  তাই বলছি।


    আমার এই লেখাটার ফোকাস খুব সীমিত। আজকাল ভারতের ধর্ম, দর্শন, সংস্কৃতি নিয়ে যে একতরফা সংকীর্ণ ও বিকৃত প্রচার চলছে তার বিরুদ্ধে মান্য ধার্মিক গ্রন্থ, পুরাণ ও দর্শনে বাস্তবে কী লেখা আছে তার একটা শর্ট মেড ইজি বের করা, ওইটুকুই। এটা আমার বুড়ো বয়সের একান্ত নিজস্ব প্রজেক্ট। ওপরে গিয়ে চিত্রগুপ্তকে জবাব দিতে হবে না?


    তবু দুটো কথা বলার ছিল।


    এক, মনু বিধবাবিবাহের পক্ষে বলেননি। বিদ্যাসাগর তাঁর সেই "নষ্টে মৃতে প্রব্রজিতে--" শ্লোক  পরাশর  থেকে নিয়েছিলেন । অর্থাৎ এখানে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল , মনু নয়-যাকে  পান তাঁকে ধরে বিধবাবিবাহ যে শাস্ত্রসম্মত সেটা বলা। কিন্তু দু'মাস পরে বহুবিবাহ রোধের সময় ফের মনু।


    দুই, আমরা যেমন মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক বলে জানি। এই টাইটেলটি অবশ্যই কোন একজন ব্যক্তি শুরু করেছিলেন এবং কোন এক প্রভাবশালী গ্রুপ প্রচার করেন। আজ যদি আমরা, যারা এটা স্কুল থেকে  পড়ে জেনে বড় হয়েছি তাঁদের যদি মহাত্মার নোয়াখালিতে যৌন পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা জান না অথচ বাপ  ডাকছ - বলে তিরস্কার করেন তাহলে ন্যায় হবে কি?  তেমনই  বিদ্যাসাগর/রামমোহন তাঁদের সময়ের সমাজে সেই সময়ের প্রেজুডিস অনুযায়ী খানিকটে ছাড় পেতে পারেন বলে আমার ধারণা। এ নিয়ে পরে বিস্তৃত কথা বলা যাবে।

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৪ মে ২০২১ ০৪:০৫734438
  • রঞ্জনদা,


    কোথাও একটা মারাত্মক ভুল করছেন। মনুসংহিতা মনুর একার লেখা নয়।



    এখানে অতি সামান্য কিছু আলোচনা আছে।

  • Ranjan Roy | ২৪ মে ২০২১ ১৫:৪২734439
  • @সে,


    মহাভারত রামায়ণ কোনটাই  একা বেদব্যাস বা বাল্মীকির লেখা নয়। সবগুলোতেই কয়েক হাজার বছরের পলিমাটির চিহ্নগুলো স্পষ্ট।  অনেকেই গোটা উত্তর কান্ডকে রামায়ণের প্রক্ষিপ্ত অংশ মনে করেন।  


    আমি ইউটিউবে আপনার  প্রোগ্রামের বিদুষী ধর্মপালের সঠিক বিশ্লেষণ শুনেছি। দুহাজার বছরেরও আগে সংকলিত মানুষের অনেক হাত পড়েছে, কিছু পাল্টছে -- সেটাই  স্বাভাবিক। 


     কিন্ত  বর্তমান লেখাটি কোন  টেক্সটভিত্তিক সোশিও অ্যানথ্রোপলজিক্যাল আলোচনা নয়। এটার ফোকাস খুব ছোট, তাহল ভারতীয সংস্কৃতির নামে একপেশে প্রচারের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সাধারণ পাঠককে মনুসংহিতার  প্রকট ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। তারজন্য নথিবদ্ধ প্রচলিত শ্লোক নিয়ে কথা বলা পর্যাপ্ত মনে হয়। 

  • Ranjan Roy | ২৪ মে ২০২১ ১৫:৪৫734440
  • "সংকলিত মনুসংহিতায় অনেক  মানুষের  হাত" হবে।


    অটোকারেকশন !!

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৪ মে ২০২১ ১৬:২০734441
  • " কিন্ত  বর্তমান লেখাটি কোন  টেক্সটভিত্তিক সোশিও অ্যানথ্রোপলজিক্যাল আলোচনা নয়। এটার ফোকাস খুব ছোট, তাহল ভারতীয সংস্কৃতির নামে একপেশে প্রচারের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সাধারণ পাঠককে মনুসংহিতার  প্রকট ব্রাহ্মণ্যবাদী পিতৃতন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। তারজন্য নথিবদ্ধ প্রচলিত শ্লোক নিয়ে কথা বলা পর্যাপ্ত মনে হয়। " — বটেই তো। মনুসংহিতার গোড়ার দিকের শ্লোকগুলোও আসুক, সেগুলোর ফোকাস দেখছি না এই লেখায়। এটাও বলা দরকার নয় কি যে সময়ের সঙ্গে এতে সংযোজন হয়েছে পিতৃতন্ত্র ও ব্রাহ্মন্যবাদকে পোক্ত করতে। হ্যাঁ, মনু অবশ্যই শূদ্রের কোনও অধিকারে বিশ্বাস করতেন না। এটা ঠিক। কিন্তু গৌরী ধর্মপাল ও রোহিনী ধর্মপাল (বিদুষী শব্দটি ওঁর নাম নয়), এখন যে নতুন ধারায় কাজ করে চলেছেন সেটাই তো ধার্মিক আচারকে সঙ্গে রেখে চমৎকার কাজ। 


    আপনি বাংলায় লিখছেন, তাই ধরে নিচ্ছি আপনার পাঠক মূলতঃ বাঙালি। সেই বাঙালিদের একাংশ কিন্তু পরিবর্তিত আচারবিধিকে সমর্থন করছেন।


    মনুসংহিতা কজন বাঙালি পড়েছেন বলা শক্ত, সংখ্যা আমার জানা নেই। কিন্তু মানুষ আধুনিক হচ্ছে তার প্রমাণ মহিলা পৌরোহিত্যকে তারা সাপোর্ট করছে। উপবীত ম্যান্ডেটরি নয়। একটি সিনেমাও হয়ে গেছে গেল বছর। "ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি"। এই বিষয়ের ওপরেই। 


    বঙ্গদেশের মানুষ মনুসংহিতার (শেষের অংশগুলির) নিয়মাবলী কতটা জানে সেটা সমীক্ষানির্ভর কিন্তু নতুন ভাবে বৈদিক বিবাহ অনুষ্ঠান, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রচলন যে হচ্ছে সেটা আশাব্যাঞ্জক ঠেকছে।

  • Ranjan Roy | ২৪ মে ২০২১ ১৭:১৩734442
  • সত্যিই ভাল খবর।

  • &/ | 151.141.85.8 | ২৪ মে ২০২১ ২২:১২734444
  • এই নতুনভাবে প্রচলিত 'বৈদিক বিবাহ অনুষ্ঠান' নিয়ে বিস্তারে জানতে আগ্রহী। খুবই ভালো একটা ব্যাপার এটা।

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৪ মে ২০২১ ২২:২০734445
  • ঐতো ওপরে লিংক দিয়েছি বৈদিক বিবাহের ব্যাপারে। আলোচনা ও কিছু তথ্য আছে।

  • এলেবেলে | 202.142.71.189 | ২৪ মে ২০২১ ২৩:০১734448
  • কিন্তু বাংলার মানুষ যেমন মনু জানেন না, তেমনই বেদও বিন্দুবিসর্গ জানেন না। সেই বাঙালি তাহলে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করবেন কেন?

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৪ মে ২০২১ ২৩:০৯734449
  • করেন বুঝি?

  • এলেবেলে | 202.142.71.189 | ২৪ মে ২০২১ ২৩:১৫734450
  • 'বৈদিক বিবাহ অনুষ্ঠান' নাম কেন? কোন মন্ত্র সেই অনুষ্ঠানে উচ্চারিত হয়?

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৪ মে ২০২১ ২৩:১৭734451
  • আপনি আমার দেয়া লিংকটা দয়া করে দেখে নিন।

  • এলেবেলে | 202.142.71.189 | ২৪ মে ২০২১ ২৩:২৭734452
  • অবশ্যই দেখব। যাঁর ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে তিনি আমার পরিচিত ঋকের জননী। যাদবপুরের সংস্কৃতের গেস্ট লেকচারার নন্দিনী ভৌমিকও এই কাজটা করে থাকেন। আগে এক ঘন্টার ভিডিওটা শুনি, পরে আপত্তি থাকলে লিখব।

  • Ranjan Roy | ২৫ মে ২০২১ ০৬:০৩734453
  • @সে,  


    মনে হোল আমার অবস্থানটি আর একটু স্পষ্ট করা দরকার।


    আপনার আপত্তিগুলোঃ


    ১  "মনুসংহিতার গোড়ার দিকের শ্লোকগুলোও আসুক, সেগুলোর ফোকাস দেখছি না এই লেখায়"। 


    ২ " এটাও বলা দরকার নয় কি যে সময়ের সঙ্গে এতে সংযোজন হয়েছে পিতৃতন্ত্র ও ব্রাহ্মন্যবাদকে পোক্ত করতে"।


    ৩  বঙ্গদেশের মানুষ মনুসংহিতার (শেষের অংশগুলির) নিয়মাবলী কতটা জানে সেটা সমীক্ষানির্ভর কিন্তু নতুন ভাবে বৈদিক বিবাহ অনুষ্ঠান, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রচলন যে হচ্ছে সেটা আশাব্যাঞ্জক ঠেকছে।


    আমার উত্তরঃ


    ১ গোড়ার দিকের শ্লোক? আমার আগের কিস্তিটায়  --মনুসংহিতায় কী আছে (১)-- স্পষ্ট করে বারোটা অধ্যায়ের নাম এবং তার বিষয়বস্তুগুলো লিস্টি করে দেয়া আছে। তার ছোট একটা অংশে নারী নিয়ে কথাবার্তা। এই কিস্তিটা কেবল নারী নিয়ে যাতে অধ্যায় ১, ২, ৩, ৫, ৭, এবং ৯ থেকে  নারী সম্বন্ধিত শ্লোক কোট করা হয়েছে। অর্থাৎ মনু যে যে অধ্যায়ে নারী নিয়ে বিধান দিয়েছেন।


    অধ্যায়                    শ্লোকের  মোট  সংখ্যা


    ১                                   ১


    ২                                  ৩


    ৩                                    ৩৩


    ৫                                       ৯


    ৭                                        ৩


    ৮                                      ৩


    ৯                                    ২২


    আপনি সম্ভবতঃ  আপনার উল্লিখিত ওয়েবনারে রোহিণী ধর্মপালের একটি উক্তিটিকে ভিত্তি করেছেন --যে মনু তৃতীয় অধ্যায়ে নারীদের সম্বন্ধে এত ভাল কথা বলেছেন তিনি  পরে নবম অধ্যায়ে মেয়েদের নিয়ে এত নোংরা কথা কেন বলবেন? এটা পরে অন্য কেউ করেছেন?


    ওনার বৈদিক সাহিত্যে পান্ডিত্যের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সবিনয়ে বলছি -- আমি সহমত নই। উনি এবং অনেকেই তৃতীয় অধ্যায়ের ওই একটি শ্লোক “যত্র নার্য্যন্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।

      যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলাঃ ক্রিয়াঃ”।।(৩/৫৬) 

    নিয়ে কথা বলছেন।   কিন্তু গোটা তৃতীয় অধ্যায়ে আর একটি শ্লোকও নেই- এক'থাটাও আমার লেখায় আছে। উপরের সূচী দেখুন-- নবম অধ্যায়ে ২২ শ্লোক উদ্ধৃত করেছি, কিন্তু ওঁর প্রশংসিত তৃতীয় অধ্যায় থেকেই ৩৩টি শ্লোক, পঞ্চম অধ্যায় থেকে ৯ টি শ্লোক। অর্থাৎ আমি নারী নিয়ে মনু কোন ভাল ভাল কথা বলেছেন, আমি তার উল্লেখ করিনি এমন নয়।

    উনি যা বলেননি তা আমি কী করে আনব?

     কাজেই আপনার আপত্তিটি বোধহয় তাড়াহুড়োর ফল।

    ২  না, দরকার নেই। দু'আড়াই হাজার বছর আগের গ্রন্থে অনেকের হাত পড়বে সেতো স্বাভাবিক। কাশীদাসী মহাভারতের ছোট অংশটা কাশীদাসের নিজের লেখা, বাকিটা তাঁর ভাইপো নন্দরাম দাসের। উনি বিরাটপর্ব অব্দি পৌঁছে মারা যান। 

    'আদি সভা-বন-বিরাটের কতদূর,

      তাঁহা রচি কাশীদাস গেলা স্বর্গপুর"।

    এবং  অন্তিম ইচ্ছাঃ "আজ্ঞা দেহ আমি এবে যাই পরলোকে,

                                     রচিতে নাপালাম পোথা পাই বড় শোকে।

                                    আশীর্বাদ করি বাপু বলি হে তোমারে,

                                     পান্ডব চরিত্র বাপু রচিবা আদরে।

                                    তাঁর আজ্ঞা শিরে ধরি ভাবি রাধাশ্যাম,

                                   দ্রোণপর্ব ভারত রচিল নন্দরাম"।।

    দেখছেন তো, বড় অংশটাই উনি লিখে যেতে পারেননি। তবু ওটা কাশীদাসী মহাভারতই বলা হয়, বাকি টেক্সচুয়াল বিশ্লেষণ মহাভারত পাঠে আনন্দলাভের বিষয় নয়।

     ওয়েবনারে আপনার কথা ধরেই বলি। আপনি এগুলোকে আইন বা সংবিধানে  সংশোধনের সঙ্গে সঠিক ভাবে তুলনা করেছেন। তাই যখন কোর্টে আইনের প্রয়োগ হবে তখন তো সংশোধিত রূপ নিয়েই কথা হবে, তাই না?

    এছাড়া আমি অধিকাংশ কোট তৃতীয় অধ্যায় থেকেই দিয়েছি। আপনার কথার মানে হয় অরিজিনাল মনুতে ব্রাহ্মণবাদ বা নারীর অবমাননা কম ছিল, আমার তা মনে হয়না। তিন থেকে পাঁচ অধ্যায়ের শ্লোকগুলোই তার প্রমাণ ।

     

    ৩ দেখুন, রোহিণী ধর্মপালের বক্তব্য এবং ওঁরা যা করছেণ তা হোল বৈদিক মতে বিবাহ, মনুমতে নয়। বৈদিক মতে কি ছিল সেটা তো আমার প্রবন্ধের বিষয় নয়। আমার পুরো ফোকাস মনুর বিধানে নারীর স্থান।নারী পৌরোহিত্যে পিতৃতন্ত্রে আঘাত পড়ে তাই সমর্থন যোগ্য। মনুতে কোথাও নারীর পৌরোহিত্যের সমর্থন নেই।

    কিন্তু নারী পৌরোহিত্য পিতৃতন্ত্রে এবং গোঁড়ামিতে আঘাত হানে তাই আমার পূর্ণ সমর্থন।

    আমার কাছে আশাব্যঞ্জক হোল যে ক্রমশঃ বিয়ে ও পারলৌকিক ক্রিয়াতে ধর্মের এবং পুরোহিতের ভূমিকা হ্রাস পাচ্ছে। এটা একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে।

  • এলেবেলে | 2402:3a80:117e:6654:40dd:68f0:9019:9548 | ২৫ মে ২০২১ ০৯:০৯734455
  • কাল রাতে পুরো ভিডিওটা শুনলাম। ঋকের দৌলতে ফেসবুকে আগেই দেখেছি কিন্তু সেখানে কিছু লিখিনি ইচ্ছে করেই। 


    সঞ্চালক মনু জানেন না সেটা স্পষ্ট। যোশিতা ভুল জানেন। তিনটে ভুল তিনি গোটা ভিডিওটায় উচ্চারণ করছেন। ১. স্ত্রীধনের কথা বলেছেন ঠিকই অথচ মনু যে একাধিক শ্লোকে বিধবা নারীর (স্ত্রী বা কন্যা) স্বামী ও পিতার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার বিষয়ে দৃঢ় উচ্চারণ করেছেন, সেটা তিনি জানেন না। ২. ব্রাহ্মবিবাহকে আলাদা বলেছেন অথচ বিবাহে শালগ্রাম শিলার উপস্থিতি নিয়ে দেবেন ঠাকুরের সঙ্গে কেশব সেনের গণ্ডগোলের বিষয়টাও জানেন না। ৩. মনুকে হাস্যকরভাবে সংবিধান ও সেই সংবিধান সংশোধনের কথা বলেছেন। কিন্তু মনু যে আইন নন, আচরণবিধি বা কোড অফ কনডাক্ট মাত্র - এই বেসিকটাই তিনি জানেন না।


    রোহিনী ধর্মপাল যে মন্ত্রের কথা বলেছেন তার ভাষা বাংলা ও সংস্কৃত (ক্ষেত্রবিশেষে ইংরেজিও)। সেটা বৈদিক শ্লোক হওয়ারই কথা কারণ গোটা সাক্ষাৎকারে তিনি যে একটিমাত্র শ্লোক বলেছেন, সেটি 'মধুবাতা ঋতায়তে'। এছাড়াও তিনি যে ঋগ্বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে থাকেন, সেটা নিজে মুখেই জানিয়েছেন।


    তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে এইরকম - বিবাহের ক্ষেত্রে আমরা স্মৃতি থেকে শ্রুতির উজানের দিকে এগোচ্ছি মাত্র। সেটা ভালো কি মন্দ তা আলাদা আলোচনা দাবি করে। উপরন্তু তিনি 'ঋষিষা'-র উল্লেখ করেছেন অথচ সুকুমারী ভট্টচার্য দেখিয়েছেন এই ঋষিষাদের অস্তিত্ব বৈদিক যুগেই কমতে শুরু করে।


    বাঙালি তার বিয়ের অনুষ্ঠানটাকে ইদানীং অ্যাপার্ট ফ্রম আদার্স দেখানোর চেষ্টা করছে হুতোম কথিত 'এই এক নতুন'-এর মতো। বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাজ বেঙ্গলে! আগে কেউ পুরোহিতকে পাত্তাও দিত না বিয়েবাড়িতে, সব মিলিয়ে সমবেত আনন্দ করাটাই বড় ছিল। ইদানীং পুরোহিত আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন। এই যা পার্থক্য। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতার শিকড় অত পলকা নয় যে সামান্য একদিনে রিচ্যুয়ালের পরিবর্তনে তা ভেঙেচুরে পড়বে।


    আমার কন্যা যে বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে, সেখানে বিগত প্রায় দশ বছর ধরে স্কুলেরই সংস্কৃতের দিদিমণি স্কুলের সরস্বতী পুজোয় পৌরোহিত্য করে আসছেন। স্মার্ত রঘুনন্দনের জন্ম ও কর্মভুমিতে তাই নিয়ে সামান্যতম গণ্ডগোলও হয়নি। কিন্তু তাঁর কথা কলকাতা তথা বাংলার অন্য অঞ্চলের মানুষরা জানেন কি না জানি না।


    এখানে প্রথমে দিলাম নন্দিনী ভৌমিকের সাক্ষাৎকার।


    https://timesofindia.indiatimes.com/life-style/relationships/love-sex/meet-nandini-bhowmik-the-priestess-whos-challenging-patriarchy/articleshow/81367488.cms


    আর এই থাকল তাঁর পরিচালিত বিবাহের অনুষ্ঠানের ভিডিও



    অবশ্য এত সবের পরেও জানতে পারলাম না কেন বাঙালি বেদের শরণাপন্ন হবেন!!!

  • এলেবেলে | 2402:3a80:117e:6654:40dd:68f0:9019:9548 | ২৫ মে ২০২১ ০৯:১১734456
  • যোশিতা যোষিতা

  • এলেবেলে | 2402:3a80:117e:6654:40dd:68f0:9019:9548 | ২৫ মে ২০২১ ০৯:৫৪734457
  • ইরিব্বাস! বিশ্বেন্দুদার পুরনো লেখা ভেসে উঠেছে। ২০১৩-তে গুরু খায় না মাথায় মাখে জানতাম না। বিশ্বেন্দুদা তারও প্রায় পাঁচ বছর পরেও আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। কিন্তু এলেবেলে নামক শুয়োরটি ঠিক বিশ্বেন্দুদা নামক কচুটাকে চিনে ফেলেছে গো! ম্যাক্স ম্যুলার তু তো গয়া রে!!

  • সে | 2001:171b:c9a7:d3d1:b091:b160:efdc:97bd | ২৫ মে ২০২১ ১০:১১734458
  • না রঞ্জনদা, "তাড়াহুড়োর ফল" নয়। তবে পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে যাঁরা গলা ফাটান, তাঁরাও পিতৃতান্ত্রিক এটাই আলোচনাগুলো পড়লে প্রকাশ পাচ্ছে। মনুসংহিতার নারী বিষয়ক অংশের সমালোচনা করলেই পিতৃতান্ত্রিকতার বাইরে বের হওয়া যায় না সেটা আরও একবার প্রমাণ হলো। 


    আলোচনা আরও হোক, তবে আর ফুট কাটব না। লাভ নেই। 

  • এলেবেলে | 2402:3a80:1152:8c7b:40dd:68f0:9019:9548 | ২৫ মে ২০২১ ১০:৪২734459
  • ঠিক। বরং ২৩.১৫-তে করা প্রশ্নের উত্তরে ২৩.১৭-তে উত্তর দেওয়া ঢের সুবিধাজনক! এবং তার পরে দীর্ঘ মন্তব্যের ভিত্তিতে ফুট না কাটার সিদ্ধান্তটিও!!

  • Ranjan Roy | ২৫ মে ২০২১ ১২:৩২734461
  • সে


    "তবে পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে যাঁরা গলা ফাটান, তাঁরাও পিতৃতান্ত্রিক এটাই আলোচনাগুলো পড়লে প্রকাশ পাচ্ছে।"


    -- এ তো সাক্ষ্য বা যুক্তি ছাড়াই রায় দেয়া। 


    ১ প্রথম দিকের শ্লোক বাদ দিয়েছি? দেখালাম,  দিইনি। দেখালাম নারী সম্বন্ধে মনু ওই একটি ছাড়া আর কোনও সম্মানজনক কথা বলে যাননি। বরং ওই তৃতীয় অধ্যায় থেকেই সবচেয়ে বেশি কোট করেছি। আমি যদি ভুল হই তো কয়েকটা বা অন্ততঃ দুটো উদাহরণ দিন যে আমি মনুস্মৃতির প্রথম দিকের নারীর প্রশংসাসূচক শ্লোক উল্লেখ করিনি। 


    ২ রোহিণী ধর্মপাল বৈদিক পদ্ধতিতে বিয়ে করান, ভালো কথা। তার সঙ্গে এই মনুকেন্দ্রিক লেখাটির সম্পর্ক কী? বেদের পরের দিকে এসেছে উপনিষদ। তার পরে এসেছে দর্শনের সূত্রগ্রন্থগুলো।


    বেদান্তদর্শনের ব্রহ্মসূত্রের শাংকরভাষ্য দেখুন।


    জগত মিথ্যা বলা শংকরাচার্যও ব্রহ্মসূত্রের গোড়াতেই অধিকার প্রশ্নে স্পষ্ট করছেন মনুকে মানতে হবে। ফলে যাদের উপনয়ন হয়নি যারা যজ্ঞোপবীত ধারণ করেনা তারা বেদ ও উপনিষদ পাঠে অধিকারী নয়।এমনকি বেদপাঠের অপরাধে শূদ্রের কানে গরম ইত্যাদি ঢেলে দেবার শাস্তিরও অনুমোদন করছেন।


    ৩ যে কোন রোগ বা অসমব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে যে রোগটি বিদ্যমান। চাপা দিয়ে রাখলে পরে বড় ঘা ফুটে বেরোয়। তাই পিতৃতন্ত্রের বিরোধিতা করতে  হলে আগে তার সমস্ত কংক্রিট এক্সপ্রেশনের দিকে আঙুল তুলতে হবে।


    একজন নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বা একজন মহিলা রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবীসিং    দিয়ে যেমন ভারতে নারীর ক্ষমতায়নের সিদ্ধান্ত টানা ভুল হবে তেমনই  বিশাল উপনিষদ সম্ভারে কেবল গার্গী, মৈত্রেয়ী, অপাল, বিশ্বাবারা, ঘোষার উদাহরণ দিয়ে বৈদিক যুগে নারীদের দারুণ সম্মান ছিল ভাবাটাও একরকম আত্মপ্রবঞ্চনা হবে। 


    রোহিণী ধর্মপাল আপনার ওয়েবনারে বৃহদারণ্যক উপনিষদ থেকে যে যাজ্ঞবল্ক্য ও গার্গীর দুটো ডিবেটের উদাহরণ দিলেন সেই গ্রন্থেরই পঞ্চম অধ্যায় দেখুন। যেখানে বলা হচ্ছে নারীকে শয্যায় নিয়ে আসার জন্যে পুরুষ আগে তাঁকে মিষ্টবাক্য উপহার বসন আভরণ দিয়ে রাজি করাবেন। তাতে উনি ' নো মিন্স নো' বলে দিলে হাত বা   লাঠি দিয়ে প্রহার করে বশে আনতে হবে। মানা হয় গোটা বৃহদারণ্যক উপনিষদ যাজ্ঞবল্ক্য রচনা করেছিলেন।


    কাজেই  পুরো বৃহদারণ্যক একসঙ্গে দেখলে আমরা রোহিণী ধর্মপালের বলা গ্লোরিফায়েড ছবির বদলে অন্যরকম চিত্র পাচ্ছি।


    আমার শেষ কথাঃ কোন আলোচনায় বা বিতর্কে কথাবার্তাগুলো বিষয় বা আলোচ্য বিন্দুতে সীমিত থাকাই কাম্য। বক্তার প্রতি বাণ নিক্ষেপ কি কোন আলোচনাকে এগোতে সাহায্য করে?

  • স্বাতী রায় | 117.194.32.44 | ২৯ মে ২০২১ ১৯:০৮734471
  • রঞ্জন  অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। আমাদের মত লোক যারা সনাতন দর্শন আর সংস্কৃতের ভয়ে মূল টেক্সটের কাছে ঘেঁষতে পারি না  তাদের কিঞ্চিৎ সাহায্য করবে এটা।  আপনার বুড়ো বয়সের প্রজেক্ট বেঁচে  থাক। ...


    তবে মহিলা পৌরহিত্য  ( কথাটা এখানে উঠেছে বলেই বলছি )  নিয়ে প্রশ্ন আছে মনে।  ধর্ম ভাল বুঝি না তাই জানা নেই যে জন্ম- বিবাহ-মৃত্যুর জন্য মিডলম্যান লাগবে কেন! তাই মিডলম্যান নারী হলেন কি পুরুষ হলেন তাতে কতটা পিতৃতান্ত্রিকতার অদল-বদল হয় তা বুঝি না । যদি ঈশ্বর থাকেনই , তাহলেও নিজের বক্তব্য নিজের মুখে সোজা সাপটা বলতে পারব না?  আর মহিলা পুরোহিতও আমি আমার স্কুলে চিরকালই দেখে এসেছি।  তাই সেটা যে বিরাট একটা বিপ্লব কিছু তাও মনে হয় নি কোনদিনই বরং পুরোহিত ব্যাপারটাই গন্ডগোলের লেগেছে .


    আর  একটা মজার গল্প বলার লোভ সামলাতে পারছি না। সম্প্রতি একটি বিয়ে হয়  "বৈদিক রীতি" অনুসরণ করে। এবং বিয়ে দিয়ে মহিলা পুরোহিতের দল বেরিয়ে যাওয়ার পর পুরোহিত এসে আবার "হিন্দু মতে" বিয়ে দেন, কারণ ছেলের বাড়ি এইসব ঢপের বিয়ে মানে না ।  কাজেই  নতুন প্রথা কতটা সামাজিক প্রথা ভাঙছে আর   সালংকারা , সুশোভিতা , সুশিক্ষিতা  ব্যক্তিত্বশালিনী মহিলার দল কতটা ইভেন্ট বিউটিফিকেশনের পার্ট হচ্ছে  সেটাও ভাবার।  

  • Ranjan Roy | ২৯ মে ২০২১ ১৯:৫৩734472
  • স্বাতী রায়,


    আপনার সঙ্গে পুরোপুরি সহমত। আমি 'সে' ম্যাডামকে প্রথম বক্তব্যেই বলেছি যে আমি খুশি যে ক্রমশঃ বিয়ে এবং পারলৌকিক কাজে ক্রমশঃ পুরোহিতের ভূমিকা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। এগুলো ব্যক্তিমানুষের একান্ত ব্যক্তিগত অনুভুতির জায়গা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। তাতে উনি রেগে গেলেন। 


     আরেকটা কথা বলে দিই। এ লেখাগুলো পড়ে ভাববেন না আমি আদৌ সংস্কৃত জানি বা ওই টেক্সটগুলো সংস্কৃতে পড়েছি। আমার বিদ্যে হায়ার সেকেন্ডারির সময় মুখস্থ করে কোনরকমে সংস্কৃতের পেপার ক্লিয়ার করা এবং তারপর ভুলে যাওয়া। আমি মূল সংস্কৃত শ্লোকের পাশাপাশি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি টীকা মিলিয়ে পড়ে লিখছি।


    আমার প্রোজেক্টের লক্ষ্য হোল সংস্কৃত ভাষার ভয় দেখিয়ে আজকাল যে ঐতিহ্যের নামে একতরফা দক্ষিণপন্থী ব্যাখ্যা হচ্ছে তার বিরোধিতা করা, জায়গা না ছেড়ে দেয়া।  


    এর তৃতীয় ভাগের পর আসবে শংকরাচার্যের 'মায়াবাদ বা  কেবল 'ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা ' দর্শনের কাটাছেঁড়া।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন