• টইপত্তর  আলোচনা  রাজনীতি

  • শিল্পপতিরা ব্যাংক খুলবেনঃ আপনা হাত জগন্নাথ

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ | ৫১০ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • শিল্পপতিরা ব্যাংক খুলবেঃ ‘আপনা হাত জগন্নাথ’?


    প্রস্তাবনা

    গত ২০শে নভেম্বর, ২০২০ তারিখে রিজার্ভ ব্যাংকের ‘ইন্টার্নাল ওয়ার্কিং গ্রুপ’ একটি প্রস্তাব বা রেকমেন্ডেশন পেশ করেছে যে শিল্পপতি ঘরানা বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাউসগুলোকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক খুলতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে অনুমতি দেওয়া হোক।[1]

    এতে অবাক হওয়ার কি আছে? ওরা, মানে আদানি-আম্বানি-টাটা-বিড়লা-সিঙঘানিয়ারা ব্যাংক খুলবে নাতো কি আপনি আমি খুলবো? ব্যাংক খুলতে পুঁজি লাগে মশাই, আছে?

    আর এর আগে কি ভারতে দেশি বা বিদেশি প্রাইভেট ব্যাংক লাইসেন্স পায়নি? এইচ ডি এফ সি, অ্যাক্সিস ব্যাংক, আই সি আই সি আই, ইত্যাদি? বা হংকং সাঙ্ঘাই ব্যাংকিং করপোরেশন, আমেরিকান সিটি ব্যাংক? আমাদের আনন্দবাজার পরিবার থেকে অন্যতম ‘সেরা বাঙালীর’ পুরস্কার পাওয়া চন্দ্রশেখর ঘোষ মশাইয়ের ‘বন্ধন ব্যাংক'?

    একটু ভুল হল। এরা সবাই ফিনান্সিয়াল ইন্সটিট্যুশন - মানে পুঁজি বা টাকাপয়সার লেনদেনের কারবার করে, কিন্তু এদের মালিকানা বা পরিচালনার দায়িত্ব শিল্পপতিদের নয়।

    তাহলেও এত চেঁচামেচির কী হয়েছে?

    বিরোধীদলগুলো? ওদের কাজই হল বিবাদী সুর লাগানো। আর বামদলগুলো পারলে সব প্রাইভেট ব্যাংককে আবার সরকারি ব্যাংক বানিয়ে দেয়। নইলে সমাজবাদ হয় না।

    কিন্তু বিবাদী স্বর যে অন্য শিবির থেকে শোনা যাচ্ছে।

    সমালোচনা কারা করছেন?

    আশ্চর্য, যাঁরা খবরটা বাজারে ছড়ানো মাত্র খড়গহস্ত হয়েছেন তাঁরা সবাই পুঁজিবাদী অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, কেউ সমাজবাদী বা বাম ঘরাণার নন। ধরুন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিঙ ধার্য করার জন্যে নামী সংস্থা S & P Global Ratings, আমাদের রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন, প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য, ভূতপূর্ব ফিনান্স সেক্রেটারি বিজয় কেলকর এবং মোদি সরকারের দুই প্রাক্তন মুখ্য উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামনিয়ান ও শংকর আচার্য। আমরা এবার দেখব এঁদের আপত্তির কারণ কী। এবং শেষে শুনব ডঃ কৌশিক বসু (বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং ইউপিএ-২ এর সময় ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা) কী বলছেন।

    ওঁরা একসুরে বলছেনঃ

    ‘এটা খুব বড় ভুল হবে। এর ফলে ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ বড় ধাক্কা খাবে। তাই আমরা দোহাই পাড়ছি, এই প্রস্তাবটিকে তাকে তুলে রাখুন’।[2]

    আপত্তির মূল কারণটি কী?

    রঘুরাম রাজন এবং বিরল আচার্য [3] বলছেন আপত্তির মূল কারণ হল দুটি ।

    এক,’কনেক্টেড লেন্ডিং’ ও ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম।[4] একই কথা বলছেন অরবিন্দ সুব্রামনিয়ান, শংকর আচার্য ও বিজয় কেলকর।[5]

    এরা এটাও বলছেন - ওই রিপোর্টেই স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে যে রিপোর্ট পেশ করার আগে রিজার্ভ ব্যাংকের ওই ইন্টার্নাল ওয়ার্কিং কমিটি কিছু এক্সপার্টের পরামর্শ নিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মত অগ্রাহ্য করা হয়েছে। কারণ একজন বাদে বিশেষজ্ঞরা সবাই সমস্বরে বলেছেন –বাঘা বাঘা করপোরেট বা শিল্পপতিদের ব্যাংক খুলতে অনুমতি দেয়া উচিত নয়।[6] এই কদম ভারতে ব্যাংকিং সেক্টরের পক্ষে ক্ষতিকর হবে।

    তাহলে রিজার্ভ ব্যাংকের কমিটি ওই বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতাদের পরামর্শ এবং সাবধানবাণী অগ্রাহ্য করে এই দাওয়াইটি বাতলেছে!

    এতেই টনক নড়েছে রঘুরাম রাজনদের এবং ওঁরা মুখ খোলা দরকার মনে করেছেন।

    আগে বুঝতে হবে ‘কনেক্টেড লেন্ডিং’ এবং ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ কাকে বলে।

    ‘কনেক্টেড লেন্ডিং’ হল যখন শিল্পপতিরা নিজেদের নানা কোম্পানি খুলে বা এজেন্টদের নামে কোম্পানি খুলে তাদের নিজেদের ব্যাংক থেকে লোন দেয় এবং বকলমে নিজের আখের গুছিয়ে নেয়। এটা বাইরে থেকে সাদা চোখে ধরা খুব কঠিন। কে যে কাকে কোন কাজের জন্যে লোন দিচ্ছে আর টাকাটা কার কার হাত ঘুরে বাস্তবে কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং কার পকেটে যাচ্ছে তা শুধুমাত্র লোনের কাগজ আর ব্যাংকের লেজার দেখে বোঝা কঠিন।

    আসলে এভাবে তারা আমজনতার থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে নামমাত্র সুদে যোগাড় করে নেয়া ডিপোজিট পুঁজি হিসেবে নিজেদের প্রোজেক্টে লাগায়। নইলে ওদের বাজার থেকে একটু চড়া সুদে প্রোজেক্টের জন্যে ধার করতে হবে বা বাজারে শেয়ার ছেড়ে পুঁজি জোগাড় করতে হবে এবং লাভ হলে শেয়ারের মালিকদের তার থেকে লাভাংশ বা ডিভিডেন্ড দিতে হবে।

    কোন স্বতন্ত্র ব্যাংক যখন এই কাজটি করে তখন আগে নিজের মানে ব্যাংকের স্বার্থ দেখে । বেশি রিস্ক হলে হয় প্রস্তাবটি খারিজ করে অথবা আংশিক লোন দেয় এবং চড়া হারে সুদ নেয়্। এবং অনেক বেশি কোল্যাটারাল বা সম্পত্তি বন্ধক রাখে ও সম্পন্ন ব্যক্তিদের জামিন নিতে বলে। কিন্তু শিল্পপতির নিজের ব্যাংক হলে ‘আপনা হাথ জগন্নাথ’।

    আরও আছে। আর্থিক ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ টি টি রামমোহন যেমন তাঁর ব্লগে এবং হিন্দু পত্রিকায় লিখেছেনঃ

    শিল্পপতিরা যখন নিজেদের উদ্বৃত্ত ক্যাশ ব্যাংকে কিছু সময়ের জন্যে জমা রাখেন তখন তাঁদের দরাদরি করে নির্ধারিত সুদে সেটা রাখতে হয়। কিন্তু ব্যাংক যদি নিজের হয় তাহলে তাঁরা সেটা বাজার দরের থেকে উঁচু হারে রাখতে পারেন। সেটা হলে ব্যাংকের ক্ষতি করে ইডাস্ট্রিয়াল হাউসটি লাভ বাড়িয়ে নেবে।[7]

    মোদ্দা কথা, টি টি রামমোহ্নের মতানুসারে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাউস সহজেই তার নিজস্ব ব্যাংকটিকে নিজের প্রোজেক্টের বিত্ত জোগাড়ের ভান্ডারে বদলে দিতে পারে। তাতে সাধারণ লোকের টাকা ফাটকায় লাগবে। দেখুন, শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি জোগাড় করা আর ব্যাংকে জমাকর্তাদের পয়সা তাদের অজান্তে রিস্কি প্রোজেক্টে লাগানোর মধ্যে মূলগত তফাৎ রয়েছে।

    শেয়ার তারাই কেনে যাদের উদ্বৃত্ত পয়সা আছে। তারা বাজারের ওঠাপড়া জেনেই রিস্ক নেয়্। কিন্তু ব্যাংকে কম সুদে জমা রাখে আমার আপনার মত ছাপোষা লোকজন।

    আর এটা বোধহয় এখন সবাই জানেন যে সরকারি ব্যাংকেও প্রতি জমাকর্তা সরকার বীমা করে সুরক্ষা দিচ্ছে মাত্র ৫ লক্ষ টাকার। অর্থাৎ আপনি একটি ব্যাংকে একটা বা দশটা একাউন্ট রাখুন, ব্যাংক ডুবলে পাবেন ওই পাঁচ লাখ।[8]

    তবু এর পেছনে সরকার আছে, পরে বাকি টাকা ফেরৎ দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রয়েছে সরকারের বিশ্বসনীয়তা, ইমেজ ও সম্মানের প্রশ্ন। ওকে দেশ বা গোটা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে হবে।

    কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাউসের ব্যাংকের অমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।তাই ওদের ব্যাংক ডুবলে ওই ৫ লাখ পেলেন তো সন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি যান। কিছুদিন আগে পিএমকে ব্যাংক, ইয়েস ব্যাংক ইত্যাদির কান্ড তো সবাই দেখেছেন। রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশে বেশ কিছুদিন ডিপোজিটরের ১০,০০০ এর বেশি টাকা তোলা বারণ ছিল। পরে মাসে ২৫,০০০ এবং ক্রমশঃ ৫০,০০০ হল। তাতে বহুলোকের ঘরের খরচা ছেলেমেয়ের স্কুল-কলেজের ফীস দেওয়া বাবা-মা’র চিকিৎসা, ক্যান্সার বা হার্ট অপারেশন - সব আটকে গেছল।

    ফেল কড়ি মাখো তেল

    অক্সফোর্ড ডিকশনারির মতে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ হল an economic system characterised by close mutually advantageous relationships between business leaders and government officials.

    অর্থাৎ, ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ হল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে করপোরেট ঘরাণা ও সরকারি আমলাদের মধ্যে ‘তুমি আমায় দেখ, আমি তোমায় দেখি’ গোছের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এর উদাহরণ আমরা একটু পরেই দেখব।

    কৌশিক বসু (বিশ্বব্যাংকের ভুতপূর্ব মুখ্য উপদেষ্টা) বলছেন সমস্ত সফল অর্থনীতিতে একটা স্পষ্ট লক্ষ্মণরেখা টানা থাকে।তার একদিকে শিল্পপতি এবং কর্পোরেট ঘরানা, অন্যদিকে ব্যাংক এবং অন্যান্য টাকা ধার দেওয়ার সংস্থাগুলি। দুটোকে মিশিয়ে দেয়া বা ওই লক্ষ্মণরেখাটি মুছে দেয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে বিপজ্জনক। এতে বিত্তীয় অব্যবস্থা বেড়ে যাবে এবং ক্রোনি ক্যাপিটালিজম পোক্ত হবে। কৌশিক বসুর মতে ওই ব্যবস্থায় পুঁজিবাদের সুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে আর্থিক বৃদ্ধির বদলে হাতে গোণা কিছু পুঁজিপতি সমস্ত বিজনেস এরিনায় নিজেদের ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্রমশঃ ছোটদের বের করে দেবে।[9] এভাবে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এদের অশুভ কব্জা পাকা হয়। তাই রিজার্ভ ব্যাংকের ওয়ার্কিং গ্রুপের এই প্রস্তাব ‘ব্যাড’ এবং খারিজ করা উচিত।

    গোদা বাংলায় বললে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’এর জমানায় দেশের অর্থনীতির বিকাশ হোক বা না হোক, আম নাগরিকের রোজগার, জীবনযাত্রার মান না বাড়ুক, কিছু শিল্পপতি ঘরাণার বা কর্পোরেট হাউসের মুনাফা ও সম্পত্তির মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। এরা ক্রমশঃ সরকারি আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যোগসাজশে এমন সব আইন বা নির্দেশ জারি করায় যে বাজার থেকে অন্য শিল্পপতিরা হটতে বাধ্য হয় এবং এরা একের পর এক শিল্প ও বিজনেসের নতুন নতুন ক্ষেত্রে নিজেদের সাম্রাজ্যের প্রসার করতে থাকে।

    কথা হল রিজার্ভ ব্যাংকের ওয়ার্কিং গ্রুপও এই রিস্কের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। ওই রিপোর্টেই ওঁরা নিজেরাই বলছেন যে এতে ‘কনেক্টেড লেন্ডিং’ ও আর্থিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের ভয় আছে। তারপরই ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে বলছেন লাইসেন্স দেবার আগে এগুলো আটকানোর জন্য ঠিকমত আইন পাশ করলেই হবে।

    এখানেই রাজন, আচার্য, সুব্রামনিয়ান এবং কৌশিক বসুদের আপত্তি। ওঁরা উদাহরণ দেখিয়ে বলছেন এগুলো আইন করে আটকানো যায় না। রিজার্ভ ব্যাংক বা অন্য কোন কন্ট্রোলার আর্থিক ঘোটালা টের পায় অনেক পরে, ‘জব চিড়িয়া চুগ গই ক্ষেত’! যখন পাখি খুঁটে খেয়ে ক্ষেত সাফ করে উড়ে চলে গেছে।

    সে নীরব মোদীদের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের কেস হোক বা পদ্মভূষণ চন্দা কোচারের আইসিআইসি আই অথবা ইয়েস ব্যাংকের। কাজেই ওঁদের আবেদন এই প্রপোজাল অবিলম্বে বাতিল হোক ।

    শিল্পপতি ও ব্যাংকঃ ভারতের ইদানীং কালের অভিজ্ঞতা

    রঘুরাম রাজন সেই ২০০৮ সালেই রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর থাকাকালীন শিল্পপতিদের ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার বিরোধিতা করে বলেছিলেন—ভারতের ব্যাংকিং পরিদৃশ্য এখনও শিল্পপতিদের ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উপযুক্ত নয়। এ’ধরণের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকাতেও রয়েছে।

    ২০১৪ সালেও রঘুরাম তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেননি। কেন? সেটা বুঝতে আমাদের হালের কিছু ঘটনা দেখতে হবে।

    প্রথমেই একটা কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। প্রাইভেট ব্যাংক, মানে পুঁজিপতির ব্যাংক, আর শিল্পপতিদের নিজস্ব ব্যাংক –দুটো এক জিনিস নয়।

    প্রাইভেট ব্যাংক-- যেমন চন্দ্রশেখরবাবুর ‘বন্ধন’ বা হসমুখভাই পারেখের এইচ ডি এফ সি-- শুধু ব্যাংকিং করে। মানে এঁদের কারোবার বিত্তীয় পুঁজি (ফিনান্স ক্যাপিটাল)নিয়ে, এরা কোন শিল্পের মালিক নয় । যদিও এরা বিভিন্ন শিল্প, ছোট বা বড়,বিভিন্ন ব্যবসা, এবং সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি-গাড়ি-শিক্ষা- বা কোন কনজিউমার জিনিসের কেনাকাটা করার জন্যে ঋণ দেয়। কিন্তু এদের কাছে টাটা-বিড়লা বা আপনি-আমি চাইলেই লোন পাব না। ওরা আগে পরীক্ষা করে দেখবে লোনের প্রস্তাবটিতে ‘রিস্ক’ কতখানি? কারণ ওরা কম সুদে আপনার আমার জমা পয়সা নিয়ে সেই পয়সার এক অংশ বেশি সুদে শিল্প-ব্যবসা-নাগরিককে ঋণ দেয় । তাতে আমাদের পয়সা চাইলেই ফেরত পাওয়া যায় এবং লাভ জুড়ে ব্যাংকের পুঁজি বাড়ে। মানে এরা বড় শিল্পপতিকেও অনেক সময় (প্রোপোজাল সুরক্ষিত মনে না হলে)’ব্যর্থ নমস্কারে’ ফিরিয়ে দেয়।

    কিন্তু ব্যাংকটি যদি শিল্পপতিদের নিজের হয়? তাহলে যখন দরকার ওরা নিজেদের যে কাজটির জন্যে কোন খানদানি ব্যাংক লোন দেবেনা তাতে জমাকর্তাদের পুঁজি ইনভেস্ট করে দেবে। যাকে বলে আপনা হাত জগন্নাথ!

    হাতে গরম উদাহরণ

    এক, শিল্পপতি আদানি গ্রুপের কয়লাখনি প্রোজেক্ট

    ২০১৪ সাল। আদানি গ্রুপ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে কয়লাখনির জন্যে স্টেট ব্যংকের সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলার লোন স্বীকৃতির মেমোর‍্যান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং(এম ও ইউ) সই করে।কিন্তু বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তোলে যে এই আদানি গ্রুপকে ওই একই প্রস্তাবে পাঁচটা নামকরা গ্লোবাল ব্যাংক ঋণ দিতে অস্বীকার করেছে—যেমন সিটি ব্যাংক, ডয়েটশে ব্যাংক, রয়াল ব্যাংক অফ স্কটল্যান্ড, হংকং এন্ড সাঙ্ঘাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন এবং বার্কলে। তাহলে ওই ‘রিস্কি’প্রপোজালে আমাদের স্টেট ব্যাংক কেন পয়সা ফাঁসাবে? ফলটা হল –ওই প্রস্তাব ব্যাংক তাকে তুলে রাখল। তারপর ছ’বছর গড়িয়ে গেছে।মোদী সরকার বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসীন। স্টেট ব্যাংক ওই একই প্রপোজালে এখন ২০২০ সালে ৫০০০ কোটি টাকা লোন স্যাংশন করবে বলে শোনা যাচ্ছে।[10]

    কিন্তু সিডনিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচের ছ’ ওভার খেলা হওয়ার পর দু’জন বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাঠে ঢোকে যাতে লেখা ছিল “NO $ 1B ADANI LOAN”। বাইরেও কিছু প্রদর্শনকারী স্টেট ব্যাংকের নাম এবং ওই লোনের বিরোধিতাসূচক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।[11]

    গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসুং সিকিউরিটিজ ঘোষণা করেছে যে ওরা আদানীর কুইন্সল্যান্ডে কারমাইকেল কয়লাখনি প্রোজেক্টে পয়সা ঢালবে না।।[12]

    ফ্রান্সের ডাকসাইটে আমুন্ডি ফান্ড, যারা পরিবেশ রক্ষার প্রজেক্টে বন্ড কেনে, স্টেট ব্যাংক থেকে ‘ গ্রীন বন্ড’ কিনেছিল।ওরা এবার স্টেট ব্যাংককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে ব্যাংক আদানিকে এই প্রজেক্টে লোন দেওয়া বন্ধ না করলে ওরা স্টেট ব্যাংক থেকে কেনা বন্ড আবার ব্যাংককে ফেরত দিয়ে পয়সা ফেরত নেবে। কারণ ওদের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই কারমাইকেল খনিতেঁ লীজ অনুযায়ী ৬০ বছর ধরে কয়লা খনন করলে বাতাসে ২০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড ছড়াবে । পরিবেশ বিরোধী এই প্রজেক্টে লোন দেওয়া এবং পরিবেশ রক্ষার গ্রীন বন্ড বিক্রি করা অনৈতিক, তাই একসঙ্গে চলতে পারে না।

    এবং এর পর আরও কিছু ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। রয়টারের খবর অনুযায়ী লয়েড কোমাপ্নির ইন্স্যুরার অ্যাপোলো তার অন্যতম।[13]

    এবার ভাবুন, যদি আদানি হাউসের একটা নিজস্ব ব্যাংক থাকত? তাহলে কবে ব্যাংকের লোন ইত্যাদি হয়ে অস্টেলিয়ার কয়লাখনিতে আদানিদের কাজ শুরু হয়ে যেত। আম জনতা টেরটি পেত না।

    ভাবছেন, এত সোজা নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। অডিট আছে। তাহলে দ্বিতীয় গল্পটি শুনুন।

    দুই, আইসি আইসি ব্যাংক এবং চন্দা ও দীপক কোচারঃ ভিডিওকন কেস

    চন্দা কোচার ১৯৮৪ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হিসেবে আইসিআইসিআই(ICICI) ব্যাংকে যোগ দেন এবং কর্মদক্ষতা দেখিয়ে ২০০৯ সালে ম্যানেজিং ডায়রেক্টর তথা চিফ এগজিকিউটিভ অফিসারের দায়িত্ব পান। সব ঠিক চলছিল। উনি অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কমিটি এবং ব্যাংকিং সম্মেলনে শীর্ষমুখ হয়ে বিশেষ খ্যাতিপ্রাপ্ত হন। ব্যাংকেরও খুব উন্নতি হয়। ভারত সরকার তাঁকে ২০১১ সালে পদ্মভূষণ দিয়ে সম্মানিত করে।

    কিন্তু ব্যাংকের একজন বিবেক- জেগে-ওঠা- ভেতরের লোকের থেকে(হুইসল ব্লোয়ার) ্কিছু গোপন দস্তাবেজ পেয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২৯ মার্চ ২০১৮তে খবর ছাপে যে চন্দা কোচার ভিডিওকন হাউসের মিঃ ধুতকে ২০১২ সালে যে ৩২৫০ কোটি টাকার লোন দিয়েছেন তা আসলে ঘুরিয়ে তাঁর স্বামী দীপক কোচারের নু-পাওয়ার রিনিয়ুয়েবলস প্রাইভেট লিমিটেডকে দেওয়ার জন্যে। এবং ওই লোন কয়েকবছরের মধ্যেই আই সি আই সি আই ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণ খাতায় (এনপিএ) ক্ল্যাসিফাই হয়েছে।

    দেখুন, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টে রিজার্ভ ব্যাংক ও সরকারের প্রতিনিধি রয়েছে। কিন্তু কমপ্লেইন পাওয়ার পর বোর্ডের নিযুক্ত কমিটি তদন্ত করে বলল—সব ঠিক আছে। লোন দেওয়ায় কোন ভুল নেই, চন্দা কোচার অন্যায় কিছু করেননি।

    কিন্তু হুইসল ব্লোয়ারের এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সৌজন্যে আরও দস্তাবেজ বেরোল, এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টোরেট (ইডি) এবং সিবিআই তদন্তে নামতে বাধ্য হল। চন্দা কোচার পদত্যাগ করলেন। এফ আই আর এ সিবিআই কোচার দম্পতি, ভিডিওকনের মিঃ ধুত, এবং দুটো কোমানির নামে এফ আই আর করল । ওদের নতুন কেনা ফ্ল্যাট বাজেয়াপ্ত হল, গত সেপ্টেম্বরে দীপক কোচার গ্রেফতার হলেন। ইডি গত মাসে প্রথম চার্জশীট পেশ করল উপরোক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে।অন্য অনেক চার্জের মধ্যে মুখ্য হল ভিডিওকন গ্রুপ অফ কোম্পানিকে বেআইনি ভাবে ১৮৭৫ কোটি টাকার লোন দেওয়া।[14]

    তিন, ভূষণ স্টীলের ধোঁকাবাজী

    এ’বছর গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (নীরব মোদী ও চৌকসে জুয়েলার্স ফ্রডের জন্যে ইদানীং বদনাম) রিজার্ভ ব্যাংককে জানায় যে ৩৮০০ কোটি টাকার আর একটা নতুন ‘ফ্রড’ কেস ধরা পড়েছে। ভূষণ পাওয়ার এন্ড স্টীল লিমিটেড ৩,৮০০ কোটি লোন নিয়ে ব্যাংককে ঠকিয়েছে, পয়সা অন্য কাজে খরচ করেছে এবং সেই টাকা এখন আদায় হবার সম্ভাবনা কম, তাই লোনটা এনপিএ।[15]

    চার, ইয়েস ব্যাংকের ঘপলা

    চারটে ফার্মের সঙ্গে যোগসাজশে ব্যাংকের জমাপুঁজি নয়ছয় করে বেআইনি ভাবে নিজেদের আলিশান বাঙলো ও অন্যান্য সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে খোদ ইয়েস ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুর ও অন্যদের মার্চ ৮, ২০২০ তারিখে গ্রেফতার করা হয়েছে।[16]

    গতমাসে সিবি আই রানা কাপুরের মেয়ে রোশনি কাপুর সহ চারটে আরও কোম্পানির, যেমন DHFL, Belief Realtors Pvt Ltd, RKW Project PVT Ltd, DoIT Urban Ventures (India) Pvt Lt বিরুদ্ধে এই ঠগবাজি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে চার্জশীট দিয়েছে । শুধু মেয়ে রোশনি জামিন পেয়েছেন।

    পাঁচ, গুজরাতের স্বর্ণব্যব্যসায়ীরা - নীরব মোদী, চ্যৌকসে ইত্যাদি

    বাস্তবে রাজনৈতিক ক্ষমতার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে কীভাবে ব্যাংক ও পাবলিককে দিনের পর দিন ঠকানো সম্ভব তা এই জুয়েলারি নির্মাতারা হাতে কলমে করে দেখালেন।মাত্র ক’বছর আগে দক্ষিণ দিল্লির বড় রাস্তায় হাঁটতে গেলে চোখে পড়ত এদের বিশাল সব চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন। তাতে আসল মুখ ঢাকা পড়ে গেছল। এঁরা কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারলেন এবং তাতে সরকারি আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে একসময় সংসদে বহু চাপান-উতোর হয়েছে। একজন ইংল্যান্ডের জেলে অন্যজন এদেশ ওদেশ। কিন্তু জনতার টাকা?

    ছয়, মদ্যউৎপাদক এবং কিংফিশার প্রাইভেট এয়ারলাইন্সের মালিক বিজয় মালিয়া

    ইউনাইটেড ব্রিউয়ারিজ বেচে দিয়ে কিংফিশারের কর্মচারিদের বেতন ও ব্যাংকের বিশাল টাকা বকেয়া রেখে ইংল্যান্ডে পালিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন বিজয় মালিয়া। তাঁর ইংল্যান্ডেও বিশাল সম্পত্তি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরেই চলছে। কিন্তু উনি কাদের যোগসাজশে ভারত থেকে পালাতে পারলেন এবং ইংল্যান্ডে ঘাঁটি গাড়লেন তার সবটা এখনও জানা যায়নি।

    সাত, বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান যশোবর্ধন বিড়লা

    কোলকাতার ইউকো ব্যাংকের হেড অফিস যশ বিড়লা গ্রুপের চেয়ারম্যান যশোবর্ধন বিড়লাকে একবছর আগে ‘উইলফুল ডিফল্টার’ -অর্থাৎ যে জেনেশুনে এবং ইচ্ছে করে ব্যাংকের লোন ফেরত দিচ্ছে না-- ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ, ‘বিড়লা সূর্য্যা’কে দেওয়া ৬৭.৬৫ কোটি টাকার ঋণ আদায় করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছল।[17]

    আট, আম্বানি পরিবারের অনুজ অনিল আম্বানি দেউলিয়া!

    দেশেবিদেশে বহু কোম্পানির মালিক অনিল আম্বানি সন ২০০৮ নাগাদ ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিলিওনেয়ার ছিলেন । কিন্তু ভেতরে ভেতরে ধ্বস নামছিল। দেশি ও বিদেশি বড় বড় ব্যাংক পাওনাদার। এসব রাজনৈতিক প্রভাবে কিছুদিন চেপে রাখা গেছল। কিন্তু বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদ এবং কম্পিটিশনে হেরে আজ অনিল দেউলিয়া, এদিকে বড়ভাই এখন বিশ্বের ৬নম্বর ধনী ব্যক্তি। জেলে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে অনিলকে ওর ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি রিলায়েন্স ডট কমকে নামমাত্র দামে বড়ভাইয়ের ‘জিও’ কোম্পানির কাছে বেচে দিতে হল। কিন্তু এই উজ্বল উদ্ধার সাময়িক।

    অনিল আম্বানীর দুটো অ্যাকাউন্টকে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ বরোদা ‘ফ্রড” অ্যাকাউন্ট ঘোষণা করেছে। ফরেনসিক অডিটে ধরা পড়েছে যে কাজের জন্যে ব্যাংক লোন দিয়েছিল তা অন্য কাজে লাগানো হয়েছে। আপাততঃ অনিল আম্বানী দিল্লি হাইকোর্ট থেকে টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে (আমাকে ব্যাংক আগে নোটিশ দেয়নি) স্থগিতাদেশ পেয়েছেন।[18]

    গত মে মাসে লন্ডনের এক আদালত প্রাক্তন বিলিয়নেয়ার অনিল আম্বানীকে দুটো চাইনিজ ব্যাংক ও একটি বৃটিশ ব্যাংকের লোন অনাদায়ী হওয়ায় অন্ততঃ ৭০০ মিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করতে বলেছে।[19]

    অনিল আম্বানীর গ্রুপের অনেকগুলো কোম্পানি নিজেদের দেউলে ঘোষণা করেছে। তাদের সম্পত্তি বিভিন্ন পাওনাদার ব্যাংক দখল করে নিচ্ছে। শেষতম উদাহরণ হল এ’বছর রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ২৮৯২ কোটি পাওনা টাকা আদায় করতে ইয়েস ব্যংকের তরফ থেকে সান্তাক্রুজে অনিল আম্বানীর ওই কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং দক্ষিণ মুম্বাইয়ের আরও দুটো অফিস দখল করে নেয়া [20]

    এবার স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া অনিল আম্বানীর দুটো কম্পানি তাদের ১২০০ কোটি লোন বকায়া হওয়ায় দেউলে ঘোষিত অনিলের বিরুদ্ধে কোর্টে গেছে। কারণ ওই দুটো লোনের ব্যক্তিগত জামিন অনিল নিজে। কিন্তু ব্যাংকের উকিল বলছেন—অনিল প্রাণপণে লড়ছেন যাতে ব্যাংককে এক পয়সা ফেরত না দিতে হয়।[21]

    এর আগে এই কেসে দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্ট স্টেট ব্যাঙ্কের আবেদন খারিজ করে অনিল আম্বানীর পক্ষে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।[22]

    হ্যাঁ, এদের বোধহয় নিজস্ব ব্যাংক খোলার লাইসেন্স দেওয়াই ভাল।

    এবার আমরা দেখব ভারতে ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের চেহারা।

    ক্রোনি ক্যাপিটালিজম

    ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের ৫০তম বার্ষিক অধিবেশনে অক্সফ্যাম এক স্টাডি রিপোর্ট পেশ করে, যার সারমর্ম হচ্ছে যে ভারতের ১% লোকের হাতে জনসংখ্যার ৭০% সম্পদের ৪ গুণ বেশি সম্পদ সঞ্চিত হয়েছে। তিনবছর আগেও এই সংখ্যাটি ৩% ছিল। অর্থাৎ আর্থিক কেন্দ্রীকরণ দ্রুত বেড়ে চলেছে। দেশের সমস্ত বিলিয়নেয়ারদের সম্পত্তি গোটা দেশের বাজেটের চেয়ে বেশি।[23]

    এই সূচীতে সবচেয়ে ওপরে দুটি নাম—মুকেশ আম্বানী ও গৌতম আদানী।

    মুকেশ আম্বানী বর্তমানে গুগল এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ষষ্ঠতম ধনী ব্যক্তি। বিশ্বের সর্বোচ্চ দশজন ধনীদের ব্লুমবার্গ লিস্ট অনুযায়ী ওঁর সম্পত্তির মূল্য আজ ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং এই লিস্টে উনি একমাত্র এশীয়। মজার ব্যাপার গত এক বছরে, যখন দেশের জিডিপি সমানে কমছে, বাজারে মন্দী চলছে, তখন ওঁর সম্পদ বেড়েছে ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার।

    গৌতম আদানীর সম্পত্তি এখন ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার। উনি এখন বিশ্বের ৪০তম ধনী ব্যক্তি। এই এক বছরে ওর সম্পদ বেড়েছে ১৯.১ বিলিয়ন ডলার।[24]

    আমরা ক্রোনি ক্যাপিটালিজমকে বুঝতে সবচেয়ে ধনী ওই দুটি পরিবারের—আম্বানী ও আদানী-- নতুন নতুন শিল্পে পদক্ষেপ এবং তার সঙ্গে সরকারের কিছু নীতির যুগলবন্দী নিয়ে আলোচনা করব।ওই ফিল্ডগুলো হল টেলিকম, অসামরিক বিমান উড়ান(সিভিল অ্যাভিয়েশন), শিক্ষা, কৃষি ও সামরিক বিমান।

    টেলিকমঃ

    এয়ারটেল আইডিয়া ইত্যাদিকে পেছনে ফেলে জিও’র জয়যাত্রা অব্যাহত। প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপর সরকার বিশাল বকায়া ট্যাক্সের কেস চালিয়েছে। ওঁরা সুপ্রীম কোর্ট অব্দি কেস লড়তে ব্যস্ত। ভাই অনিল আম্বানীও প্রতিযোগিতায় হেরে নিজের সংস্থাটি বড়ভাইকে নামমাত্র দামে বেচে দিয়েছেন

    কিন্তু ভারত সরকারের ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড? যা বিশ্বের সপ্তম বৃহৎ টেলিকম কোম্পানি? কেন হেরে যায় মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্সের কাছে?

    সূর্যকান্ত মুদ্রা, প্রাক্তন টেলিকম ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, মুম্বাইয়ের ইউনিয়ন অফিসে বসে জানালেন তিনটে কারণ।

    এক, মুকেশ এনেছেন নামমাত্র মূল্যে ৪জি, সরকারি ফোন এখনও ৩জি, একে ৪জি লাইসেন্স দিতে এবং মান্ধাতার আমলের তামার তারের জায়গায় ফাইবার লাগাতে সরকার রাজি নয়।

    দুই, ভলান্টিয়ারি রিটায়ারমেন্ট স্কীম এনে এবং একরকম প্রেশার দিয়ে লোক্ককে রিটায়ার করানো হচ্ছে, কিন্তু নতুন লোক নেয়া হচ্ছে না।

    তিন, লোক কমায় সার্ভিসের মান কমছে। কমপ্লেইন অ্যাটেন্ড করাস স্টাফ খুব কম। ফলে দ্রুত কাস্টমার বেস কয়েক মিলিয়ন কমছে।

    অর্থাৎ সরকার চাইছে না এই নিগম চলুক।[25]

    অসামরিক বিমান উড়ান(সিভিল অ্যাভিয়েশন):

    এয়ার ইন্ডিয়াকে বেচে দেওয়ার জন্যে গত কয় বছর ধরে নীলাম ডাকা হলেও কোন ফল হয়নি। তাতে কি, ভারত সরকার ফেব্রুয়ারি ২০১৯শে ছ’টি প্রধান এয়ারপোর্টকে প্রাইভেট সেক্টরে নিয়ে এসেছে। এরা হল লক্ষ্ণৌ, আমেদাবাদ, জয়পুর, ম্যাঙ্গালোর, তিরুঅনন্তপুরম এবং গৌহাটি। এর সবকটির আগামী ৫০ বছর ধরে দেখাশুনোর ও পরিচালনার অধিকার পেয়েছেন আদানী গ্রুপ। এর জন্যে নীলামে কড়া প্রতিযোগিতা হয়েছিল। সে অন্য গল্প। বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ , এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী । লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দর আদানী গ্রুপকে সঁপে দিয়েছে।[26]

    শিক্ষাঃ

    মুকেশ আম্বানী ২০১৭ সালেই জানিয়েছিলেন,“কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—তিনটেই আমাদের রোডম্যাপে আছে”। এবার মজাটা দেখুন।

    ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন ২০১৭ সালের শেষের দিকে ঘোষণা করেছিল যে ১০টি পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গুণমানের হিসেবে নির্বাচিত করে ‘ইন্সটিট্যুট অফ এমিনেন্স’ তকমা দেয়া হবে এবং তারা ১০০০ কোটি টাকা করে সরকারি সাহায্য পাবে। কিন্তু ১০টি শ্রেষ্ঠ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকেও একই মাপকাঠিতে ওই টাইটেল দেওয়া হবে, তবে ওদের কোন টাকা দেয়া হবে না।কিন্তু জুলাই ২০১৮ সালের প্রথম সপ্তাহে ভারত সরকার ঘোষণা করল যে একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জিও ইন্সটিট্যুটকে ওই সম্মান দেয়া হবে। কী আশ্চর্য! তখন তো জিও ইন্সটিট্যুট শুরুই হয়নি, কেবল ‘ইচ্ছা’ হয়ে মুকেশজীর মনের মাঝারে রয়েছে। এ যে রাম না জন্মাতেই রামায়ণ লেখা!লোকজন ওই ‘জিও ইন্সটিট্যুট অফ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনে’র ওয়েবসাইট খুঁজে হয়রান হয়ে গেল। অথচ আই আই টি দিল্লি ও মুম্বাই এবং বিটস পিলানির মত এত বছরের পুরনো খ্যাতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিও ইন্সটিট্যুটের নাম একই লিস্টে ঢুকে গেছে।[27]

    অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ পানাগড়িয়া, যিনি গোড়ার তিনবছর নীতি আয়োগের কর্ণধার ছিলেন, আমেরিকা থেকে মন্তব্য করলেন- এভাবে (না- জন্মানো) কাউকে বর দিতে বুকের পাটা লাগে।[28]

    কৃষিঃ

    আবার আদানী গ্রুপের কৃষি ব্যবসায়ের সিইও অতুল চতুর্বেদী একটি প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন যে ‘আদানি অ্যাগ্রো-লজিস্টিক্স’ ফসল গুদামজাত করা, বাজারে পৌঁছানো এবং তার পরিবহনে বড় রকম বিনিয়োগ করেছে এবং ‘আদানী উইলমার জয়েন্ট ভেঞ্চার’ শিগগিরই দেশের বৃহৎ ফুড কোম্পানি হতে চলেছে।[29]

    এবারে দেখুন তিনটি কৃষি বিল

    আজকে রাজপথে নামা ৪০০ কৃষক ইউনিয়নের নেতারা সরকারকে প্রশ্ন করছেন—কোন কৃষক প্রতিনিধি তো এই রিফর্ম চায়নি। তবে কার দাবিতে বা কার স্বার্থ রক্ষায় এই সংস্কার?

    তিনটে বিলের সার কথা কী?

    এক, আগে কৃষকদের থেকে প্রথম দফায় ফসল কেনার অধিকার শুধু কৃষি মন্ডীর ভেতরে লাইসেন্সড আড়তিয়ারা কিনতে পারত। তাদের সঙ্গে দরদামে না পোষালে সরকার মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (যা উৎপাদন খরচের থেকে একটু বেশি)দামে কিনে নিয়ে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার গুদামে রাখত।

    এখন প্যানকার্ড নিয়ে যে কেউ মন্ডীর বাইরে দরাদরি কিনতে পারবে। তারা দেশের যে কোন রাজ্যের লোক হলেও, এক দেশ এক বাজার।

    দুই, আগে ফসল, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি ২১টি আইটেম ‘আবশ্যক বস্তু’ ধরা হত। এদের একটা নির্দিষ্ট মাপের বাইরে মজুত করা যেত না। বে-আইনি মজুতদারের জেলে যাওয়ার বিধান ছিল।

    এখন কোন সীমা নেই। ব্যবসায়ী যেকোন পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত করতে পারে আইন মেনেই।

    তিন, কন্ট্র্যাক্ট ফার্মিং। বড় বড় হাউসগুলো চাষীদের আগাম পয়সা দিয়ে চুক্তি করবে (দাদন) যে ওরা নির্দিষ্ট ফসল চাষ করে নির্দিষ্ট গুণমানের ভিত্তিতে সেই হাউসগুলোকে বেচতে বাধ্য থাকবে। কোয়ালিটি পছন্দ না হলে তা না কিনে খারিজ করাও যাবে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কোন বিবাদ হলে কোর্টে যাওয়া যাবে না। বড়জোর স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং তারপরে কলেক্টরের কাছে ‘সমঝোতা’র জন্যে যাওয়া যেতে পারে। বাঘে আর ছাগলে! অনেকটা নীলকরদের নীলচাষের মত লাগছে না?

    কৃষকদের বক্তব্য এই তিনটে আইন চাষীদের শোষণমুক্ত না করে বিগ হাউসদের নিয়ন্ত্রণ্ মুক্ত করে অবাধ মৃগয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে।

    ভারত সরকারের মন্ত্রীপদ থেকে ইস্তফা দেয়া আকালী নেতা হরসিমরত কৌর বাদল বলছেন—‘জিও এল, বিনেপয়সায় মোবাইল বিলিয়ে দিল। সবাই ওই ফোন কিনল, অভ্যস্ত হয়ে গেল।কম্পিটিশন ধুয়েমুছে সাফ।ব্যস, জিও ওদের রেট বাড়িয়ে দিল। কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেট হাউসগুলো ঠিক এই কান্ড করবে”।[30]

    সামরিক বিমান নির্মাণঃ অনিল আম্বানী

    খবরে প্রকাশ মার্চ ২০১৫ সালের শেষ সপ্তাহে, মানে মোদীজির প্যারিস যাওয়া এবং ৩৬ রাফেল ফাইটার জেটএর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্টের জন্যে ফ্রান্সের নির্মাতা দাসাউ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি ঘোষণা করার, দু’সপ্তাহ আগে অনিল আম্বানী প্যারিসে গিয়ে মন্ত্রীর বিভাগীয় কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপরই প্রায় ৩০০০০ কোটি টাকার দাসাউ -রিলায়েন্স জয়েন্ট ভেঞ্চারের ঘোষণা হয় যে রাফেল ফাইটার প্লেনের পার্টস নাগপুরে আম্বানীর ফ্যাক্টরিতে তৈরি হবে। যদিও আম্বানীর ফাইটার জেট বা কোন প্লেন বানানোর কোন অভিজ্ঞতা নেই, এবং ভারত সরকারের বেঙ্গালুরুতে হ্যাল ফ্যক্টরি বহুদিন ধরে হেলিকপ্টার এবং মিগ ফাইটারের পার্টস বানাচ্ছে। [31] লক্ষণীয়, ছোটভাই অনিল আম্বানীর ওই ফ্যাক্টরিটি ঘোষণার মাত্র একমাস আগে তৈরি হয়েছিল, অনেকটা বড়ভাইয়ের স্কুলের গল্পের মত শোনাচ্ছে না?

    গতবছরের গোড়ায় প্যারিসের নামজাদা খবরের কাগজ ‘লা মঁদ’ একটি রিপোর্ট ছেপে হৈচৈ ফেলে দেয় যে ফ্রান্স সরকার নাকি ওদেশে অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স গ্রুপের মালিকানাধীন একটি কোম্পানির প্রায় ১৪৩.৭ মিলিয়ন ইউরো ট্যাক্স ছাড় দিয়েছে! ফ্রান্স সরকারের ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট হিসেব কষেছিল ১৫১ মিলিয়ন ইউরো। অনিল বললেন ৭.৬ মিলিয়ন ইউরো।

    শেষে দিল্লিতে ফরাসী রাষ্ট্রদূত জানান যে সাতবছর পুরনো একটি বকেয়া ট্যাক্স মামলায় সমঝোতা হয়েছে এবং যা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই হয়েছে।[32]

    উপসংহার

    সব বুঝলাম। অতঃ কিম?

    এই মন্দার সময়ে ক্রমাগত বেড়ে চলা এনপিএ বা অনাদায়ী লোনের ভারে ঝুঁকে পরা সরকারি বা প্রাইভেট ব্যাংকও নতুন লোন বেশি দিতে চাইছে না। মাঝারি-ছোট- ক্ষুদ্র শিল্প বা ব্যবসায়ী ইউনিটের লোনের জন্যে ভারত সরকার নিজে ১০০% গ্যারান্টি দেবে বলে ঘোষণা করেছে। তবু লোনের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত ধীরে বাড়ছে। কিন্তু বর্তমান সংকট থেকে ইকনমিকে টেনে তুলতে আর্থিক কাজকম্ম বাড়াতে টাকার যোগান চাই। ব্যাংক লোনে গতি ও বৃদ্ধি প্রয়োজন।

    তাই নতুন কিছু ব্যাংক খোলা একটি সম্ভাব্য সমাধান। কিন্তু তাই বলে শিল্পপতিদের ব্যাংক খুলতে লাইসেন্স? ফের ‘কনেক্টেড লোন’?

    ্কৌশিক বসু বলছেন, “এই ’কনেক্টেড লোন’ ব্যাপারটাই যে ১৯৯৭ সালে এশিয়া মহাদেশে ‘ব্যাড লোন’ বেড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল তার প্রচূর সাক্ষ্যপ্রমাণ মজুদ রয়েছে। এর ফলশ্রুতিতেই থাইল্যান্ড থেকে ‘পূর্ব এশীয় সংকট’ শুরু হয় এবং সেটা ক্রস্মশঃ বিশ্বজুড়ে বিশাল বিত্তীয় ধ্বসের রূপ নেয়”।

    রঘুরাম রাজন ও বিরল আচার্য দুজনে মিলে প্রবন্ধটিতে বলছেন রিজার্ভ ব্যাংকের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রস্তাবটি— বিভিন্ন শিল্পপতি ঘরানাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক খুলতে লাইসেন্স দেয়া হোক—একটি ‘বম্বশেল’ এবং এই কঠিন সময়ে এসব এক্সপেরিমেন্ট না করে উচিত হবে পুরনো ‘টেস্টেড’ পদ্ধতিতে চলা।[33]

    সেটা কী?

    ওই রিপোর্টেই আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তা হল ১০ বছর ধরে ঠিকমত ফাইন্যান্স করে চলা এন বি এফ সি বা ‘নন -ব্যাংকিং ফিনাশিয়াল কোম্পানিজ’কে ব্যাংকিং লাইসেন্স দেওয়া। রঘুরাম রাজনের সময় আমাদের বন্ধন ব্যাংক এভাবেই একটি এনবিএফসি থেকে ব্যাংকের মর্য্যাদায় উত্তীর্ণ হয়েছিল।

    ‘নন -ব্যাংকিং ফিনাশিয়াল কোম্পানিজ’ কারে কয়?

    এরা ব্যাংকের মতই লোন দিতে পারে, শেয়ার ও সিকিউরিটিজে কেনাবেচা করতে পারে। ফিক্সড ডিপোজিট নিতে পারে, কিন্তু কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেনা, চেকবুক জারি করতে পারেনা এবং গ্রাহকের হয়ে থার্ড পার্টি লেনদেন করতে পারেনা।

    এরাই ভারতের অর্থনীতিতে বিভিন্ন স্টার্ট আপ ইউনিটকে ও ছোটখাট ইনফর্মাল ইউনিটকে লোন দেওয়ার মাধ্যমে ছোট-মাঝারি-ক্ষুদ্র ইউনিটকে লোন দিয়ে প্রচুর লোকের রোজগার এবং আর্থিক কাজকম্মের কারক হয়েছে। ইদানীং এদের অবস্থাও খারাপ। তাই বিত্তমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের ‘প্যাকেজে’ এদের বারবার উল্লেখ।

    কৌশিক বসু একমত। কিন্তু উনি সাবধান করছেন যে ওই এনবিএফসি’র মধ্যে বেশ কিছু রয়েছে যাদের মালিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাউস। তাদের যেন লাইসেন্স না দেওয়া হয়, নইলে সেই ঘুরিয়ে নাক দেখানো হবে।

    ফের সেই ‘কনেক্টেড লেন্ডিং’? তেল কা পয়সা ঘিউ মেঁ , অউর ঘিউ কা পয়সা তেল মেঁ? নৈব নৈব চ![34]

    ===============================================

    [লেখাটির প্রাথমিক পাঠ 4thpillars.com এ আগে প্রকাশিত হয়েছে]

    [1] বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৩ নভেম্বর, ২০২০।
    [2] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৭-১১-২০২০
    [3] বিজনেস টুডে, ২৩ নভেম্বর, ২০২০
    [4] বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২৩ নভেম্বর, ২০২০।
    [5] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ২৭ নভেম্বর, ২০২০।
    [6] ঐ।
    [7] টি টি রামমোহন, ব্লগ এবং দি হিন্দু, ২৫ নভেম্বর, ২০২০।
    [8] ইকনমিক টাইমস, ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০০২।
    [9] ফিনাসিয়াল এক্সপ্রেস, ২৬ নভেম্বর, ২০২০।
    [10] জি নিউজ; ২৯ নভেম্বর, ২০২০ এবং ন্যাশনাল হেরাল্ড, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
    [11] বিজনেস ইন্সাইডার ইন্ডিয়া, ২৭ নভেম্বর।
    [12] ইকনমিক টাইমস নাউ ডিজিটাল ; ২৯ নভেম্বর, ২০২০।
    [13] মানি কন্ট্রোল নিউজ, ৩০ নভেম্বর, ২০২০।
    [14] পিটিআই ও বিজনেস টুডে, ৫ নভেম্বর, ২০২০।
    [15] ইন্ডিয়া টুডে, ৭ জুলাই, ২০১৯।
    [16] ঐ , ০৬ অক্টোবর, ২০২০ এবং পিটিআই, ১২ নভেম্বর, ২০২০।
    [17] ফিনানসিয়াল এক্সপ্রেস, ১৭ জুলাই, ২০১৯।
    [18] ইকনমিক টাইমস, ০৬ অগাস্ট, ২০১৯ এবং দ্য ওয়্যার ও লিভমিন্ট। ডট কম, ১৮ অগাস্ট, ২০২০।
    [19] ব্লুমবার্গ ডট কম, ২২ মে, ২০২০।
    [20] ইউরেশিয়ান টাইমস, ১ অগাস্ট, ২০২০।
    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২ ডিসেম্বর, ২০২০।
    [21] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর, ২০২০।
    [22] ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০।
    [23] পিটিআই ও ইকনমিক টাইমস, ২০ জানুয়ারি, ২০২০।
    [24] ইকনমিক টাইমস ডিজিটাল; ২০ নভেম্বর, ২০২০।
    [25] কোয়ার্জ ইন্ডিয়া, ২৩ নভেম্বর, ২০২০।।
    [26] ইকনমিক্ টাইমস, ২৯ নভেম্বর, ২০২০।
    [27] স্ক্রল ডট ইন, ১০ জুলাই, ২০১৮।
    [28] দ্য ওয়্যার ডট ইন, ১৪ জুলাই, ২০১৮।
    [29] ক্রিস্টোফার জেফারলট ও হিমেল ঠক্কর, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০।
    [30] ঐ ।
    [31] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২ ডিসেম্বর, ২০২০।
    [32] দি হিন্দু, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯।
    [33] ঐ
    [34] দি হিন্দু, ২৬ নভেম্বর, ২০২০।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 202.168.10.164 | ২২ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫:৩৬733417
  • ভালো হয়েছে লেখাটা রঞ্জনদা 

  • Ranjan Roy | ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১৭:২৪733420
  • অমিত,


    লেখাটা মন দিয়ে পড়েছেন। অনেক ধন্যবাদ।

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 2405:201:8008:c03c:b1b1:c6b0:158b:8a61 | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০৭:১১733421
  • রঞ্জনদা, খুব ভালো লিখেছেন, অভিনন্দন জানাই। ফন্ট টা আমার ইনকনসিসটেন্ট‌ লাগল মানে কখন বোল্ড কখন না, কখন কি সাইজ তার আইন কানুন ধরতে পারিনি। এটা একটু কেউ ঠিক করে দিলে ভালো হত, তথ্য পূর্ণ লেখা অনেক লোকের কাজ লাগত।  ধন্যবাদ জানাই।

  • S | 2405:8100:8000:5ca1::907:13b4 | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০৮:১১733422
  • @রঞ্জনদা, দারুন হয়েছে লেখাটা। খুব ভালো করে বুঝিয়ে লিখেছেন। হ্যাঁ এই প্রস্তাবটা আম্বানীদের হয়ে অনেকদিন ধরেই করা হয়েছে। সেকালে আমরা সবাই হেসে উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু দিন পাল্টেছে, ওদের হাতেই সব ক্ষমতা।

    আপনি ঠিকই বলেছেন যে কিছু এনবিএফসিকে স্টেটওয়াইজ অপারেট করার লাইসেন্স দেওয়া যেতে পারে। ক্রোনি ক্যাপিটালিজম কিন্তু ক্যাপিটালিজমকেই সবার আগে ধ্বংস করে। সেইদিকেই সবকিছু এগোচ্ছে।

  • S | 2405:8100:8000:5ca1::1148:e8be | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০৮:১৪733423
  • 4th pillars এর ওয়েবসাইটটা দিব্যি লাগলো। কিন্তু ওটা তো পিলার হওয়ার কথা, পিলারস নয়। মনে হচ্ছে ডোমেইনটা কিনতে পয়সা লাগবে অনেক।

  • Ranjan Roy | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১৭:০৭733424
  • সবাইকে ধন্যবাদ। মানে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য। 


    @এস ,


    গ্রামারের হিসেবে অবশ্যই pillar হয়, কিন্ত ওই নামে একটি মার্কিন সংস্থা আগেই রেজিস্ট্রেশন করেছে। তাই  এরা বাধ্য হয়ে pillars  করে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছেন ।


    কর্ণধার সুদীপ্ত  সেনগুপ্ত  বাম জমানার 24 ঘন্টা চ্যানেল এর এডিটর।  দিদি জমানায় ইস্তফা। একসময় আনন্দবাজার পত্রিকার বামঘেঁষা সাংবাদিকদের অন্যতম ছিলেন। 


    আজ ওখানে ইকনমিস্ট অমিত ভাদুড়ীর লেখাটি দেখুন। 

  • দীপ | 103.77.136.24 | ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ২০:৩২733425
  • বেশ ভালো লেখা! এই অন্যায়, ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ খুব প্রয়োজনীয়! নাহলে এরা আরো ঔদ্ধত্য দেখাতে থাকবে! 

  • Samarendra Biswas | ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ ০৯:০৬733434
  • প্রবন্ধটি সাম্প্রতিক আর্থিক সংকটের জামানায় দেশের মানুষদের চোখ খুলে দিতে সাহায্য করবে। প্রচুর রেফারেন্স সহ এই মূল্যবান লেখাটি আন্তরিক সমাজ ভাবনার ফসল। পড়ে ভালো লাগলো। রঞ্জনদাকে আমার আন্তরিক অভিবাদন! 

  • শিবাংশু | ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ ১১:২২733439
  • সংক্ষেপে একটি ভাবী বিপর্যয়ের নিপুণ বিশ্লেষণ। 


    নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন কেন হচ্ছে? সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক সব মিলিয়ে এদেশে সংখ্যার কমতি নেই। তাদের অবস্থা বেহাল কেন, সেটা কখনও সঠিক ভাবে মূল্যায়ণ করা হয়নি। ব্যাংকিং ব্যবসা চকমেলানো বাড়ি আর টাইপরা , ইংরেজি বলা লোকদের মওরসিপট্টা নয়। এই ব্যবসায় সবার আগে প্রয়োজন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। যে সব ব্যবসায়ী নানা ভাবে মানুষের সঙ্গে তঞ্চকতা করে সন্দেহের ভাগী হয়েছেন, তাঁদের স্বার্থেই নতুন আইন করা। ইক্যুইটি বাজার নির্মম জায়গা। সেখান থেকে নামে-বেনামে পুঁজি তোলার চেষ্টায় কোম্পানিদের অসুবিধে হয়। 'ঘরের ব্যাংক' থাকলে কোম্পানির ব্যবসার ক্ষতি বেমালুম ব্যাংকের ঘাড়ে চড়িয়ে রেহাই পাওয়া যায়। শুধু নির্বাচন বন্ডের অছিলায় ক্ষমতাশালী রাজনীতিকদের তছরুপ করা টাকার কিছুটা উৎকোচ দিলেই উদ্দেশ্য সাধন হয়ে যাবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ফান্ড ও ননফান্ড ভিত্তিক ব্যবসায় লেনদেনের শৃঙ্খলা এতোটাই জটিল প্রপঞ্চ যে দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ীদের তছরুপ ধরার আগেই তারা 'নীরব মোদি' হয়ে যাবার যথেষ্ট সময় পাবে। এই আইনে যে তফাতটি করা হয়েছে তার মোদ্দা কথা, আগে ব্যবসায়ীরা বাজার থেকেই নতুন পুঁজি তুলতো। কিন্তু তা ছিলো যাঁরা পুঁজি বাজারের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাঁদের টাকা। তাঁরা ব্যবসার ঝুঁকি সম্বন্ধে সচেতন হয়েই টাকা ফাঁসান। এখন হবে সাধারণ অনভিজ্ঞ মানুষের বিশ্বাসের সঞ্চয় নিয়ে কর্পোরেট লালসার তাণ্ডব নৃত্য। আইন হাজারটা থাকতে পারে। কিন্তু তা প্রয়োগ করার অধিকার থাকে শুধু মাত্র সরকারি ভাবে ক্ষমতাসীন লোকদের। এই সরকারের সদিচ্ছা কতোটা আছে, তা সবাই জেনে গেছেন এতোদিনে। নিজের গচ্ছিত টাকা ফেরৎ চাইলেও শেষে UAPA'র ধারা মতো 'দেশদ্রোহী'র তকমা লাগিয়ে দেবে এরা।     

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে প্রতিক্রিয়া দিন