• হরিদাস পাল  আলোচনা  গান

  • তোমায় চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী

    lcm লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | গান | ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ২৬৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • রবীন্দ্রনাথের জন্মের ১৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে সারেগামা ১০টি সিডির একটি কালেকশন বের করে  - "সার্ধ জন্ম শতবর্ষে রবিপ্রণাম - রবীন্দ্রসংগীতের ধারা :১৯০৪ থেকে ২০০৯"। এতে ১নং সিডিতে পূর্ণকুমারী দাসী-র গাওয়া গান আছে - তোমায় চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী  (১৯০৫) ।



    এটা আসলে 'আমি চিনি গো চিনি তোমারে' - দেখাই যাচ্ছে যে গানটির প্রথম পংক্তি পাল্টে গেছে। এছাড়া 'তোমায় দেখেছি মাধবী রাতে' আগে এসেছে; পরে এসেছে 'তোমায় দেখেছি শারদ প্রাতে'। পূর্ণকুমারী এখানে  গাইলেন 'হৃদি মাঝারে'-র বদলে 'হৃদয় মাঝারে'। সেই সঙ্গে 'এসেছি নূতন দেশে'-র বদলে 'এসেছি তোমারই দেশে' - সব মিলিয়ে পরিবর্তন ঘটে গেল গানটিতে।  


    এই গানটি ১৮৯৫ সালে ২৩ বছর বয়েসে শিলাইদহে বসে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ছোটোবেলায় শোনা একটা গান  'তোমায় বিদেশিনী সাজিয়ে কে দিলে' এর অনুপ্রেরণায় এই গানটি বেঁধেছিলেন, বলেছিলেন - "এই পদটির মোহে আমিও একটি গান লিখিতে বসিয়াছিলাম"। রবীন্দ্ররচনায় গানটির সুরনির্দেশ ঝিঁঝিঁট একতালায়, পূর্ণকুমারী গেয়েছেন সিন্ধুতে। 


    কিন্তু এটা কি করে হল? রবীন্দ্রনাথের গান এরকম একজন অন্য ভাবে অন্য কথায় অন্য সুরে বেমালুম গেয়ে দিলেন ! 


    একটা দীর্ঘ সময় ধরে রবীন্দ্রনাথের সম্মতি ছাড়াই তাঁর গান রেকর্ড করা হয়েছে। এ গানটি একটি উদাহারণ। এটি ১৯০৫ সালে রেকর্ডেড। 


    রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর জীবদ্দশায় কেউ কেউ গাইতে চেয়েছিলেন তাঁকে জানিয়েই - কিন্তু সবসময় ঠিক পছন্দ হত না। একবার দিলীপকুমার রায় 'হে ক্ষণিকের অতিথি' গানটি গেয়ে রবীন্দ্রনাথকে শুনিয়েছিলেন - কিন্তু তিনি সে পরিবেশন মেনে নিতে পারেন নি।


    রবীন্দ্রনাথের গান রেকর্ড হতে থাকে। বিক্রিও চলতে থাকে। ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথের আইনজীবী খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় গানের ‌রয়্যালটি দাবি করে গ্রামোফোন কোম্পানিকে চিঠি দেন। গ্রামোফোন কোম্পানি রবীন্দ্রনাথকে গীতিকারের ‌রয়্যালটি দিতে রাজি হলেন। ভারতবর্ষে রবীন্দ্রনাথই সর্বপ্রথম গীতিকার হিসেবে ‌রয়্যালটি পান। কিন্তু এর পরে শুরু হয় নতুন বিপত্তি। আগেও রবীন্দ্রনাথের গান যেমন খুশি রেকর্ড হচ্ছিল, আর এখন থেকে যেহেতু তিনি গীতিকার হিসেবে রয়্যালটির টাকা পাচ্ছেন, তাই গানের সুরে ও পরিবেশনায় ইচ্ছেমতো শিল্পীদের নিজস্ব ভঙ্গি প্রয়োগ চলতে থাকল, গীতিকারের অনুমতি নেবার প্রয়োজন হল না, তেমন কোনো আইনও হয়ত ছিল না। রেকর্ড ‌লেবেলে তখন গীতিকার-‌সুরকারের নাম উল্লেখ হত না। গানের পাশে রাগরাগিণীর নাম লেখা হত। কিন্তু তাঁর গানের চেহারা এমন পাল্টে যাচ্ছিল যে এসব আটকাতে ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ আইনের সাহায্য নিতে বাধ্য হলেন। রবীন্দ্রনাথের নাম রেকর্ড লেবেলে ছাপা শুরু হয় ১৯২৬ সাল নাগাদ, কপিরাইট নিয়ে আইনি নিষ্পত্তির পর থেকে। ১৯০৫ থেকে ১৯২৬ পর্যন্ত মানদাসুন্দরী, বেদানা দাসী, কে মল্লিক - এমন  অনেক শিল্পী  রবীন্দ্রনাথের গানের কথা ও সুর পাল্টে গেয়েছিলেন। ১৯২৬ এর আগের গানগুলোকে রবিবাবুর গান বলা হয়, পরের গুলো রবীন্দ্রসংগীত। 


    রবীন্দ্রসংগীতের কপিরাইট নিয়ে বিশ্বভারতীর বহুদিন একটা বজ্র আঁটুনি মনোভাব ছিল - তার কিছুটা মূল কারণ ছিল যে রবীন্দ্রনাথকে এ নিয়ে অনেক হ্যাপা পোহাতে হয়েছিল, কোর্ট-কাছারি ইত্যাদি।  


    (* তথ্য গুলো সিডি কালেকশনে দেবদত্ত গুপ্ত-র লেখা ভূমিকা এবং অন্য খবরের কাগজের সাইট থেকে )

  • বিভাগ : আলোচনা | ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ২৬৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
আরও পড়ুন
দুটি গান -- - lcm
আরও পড়ুন
ভগীরথ - Vikram Pakrashi
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০১ নভেম্বর ২০২০ ০২:২৭99476
  • এই লেখাটা মিস করে গিয়েছিলাম। এবার বুঝলাম ল্যাদোশদার ভাটে করা ঐ কমেন্টটার মানে। যাই হোক, আনন্দ পেলাম লেখাটা পড়ে। এই গানের সিডির সেটটা নিয়ে পরে কখনো লিখব'খন, বেশ একটা ইন্টারেস্টিং গল্প আছে।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন