• বুলবুলভাজা  আলোচনা  অর্থনীতি

  • যারে তুমি নিচে ফেল …

    সফি মল্লিক
    আলোচনা | অর্থনীতি | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬৭৬ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করে? প্রক্রিয়াটি আমাদের অজানা, তাই সেই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি থাকে এক ঐশ্বরিক সম্ভ্রম। ঈশ্বরের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা থাকে না, থাকে এক ভয় মিশ্রিত সম্ভ্রম। তাই আম আদমির ভাষায়--- ‘যে যাই সিদ্ধান্তই নিক না কেন, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা যখন পরিকল্পনা নিয়েছেন নিশ্চয় ভাবনা চিন্তা করে নিয়েছেন’ এক্ষেত্রে রাজনীতি আসবেই। ফলে উপরের চিন্তা সরকারি দলের সমর্থকের। আর বিরোধী দলের সমর্থকদের ভাবনায়, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, নানা অভিযোগ চলে আসবেই।

    যেমন ধরা যাক, করোনা পরিস্থিতি। ভাইরাসে জর্জরিত দেশ আমাদের, এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা খুঁজতে যারা বিন্দু মাত্রা চেষ্টা করেছেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। গত তিন দশকে ‘পরিকল্পিত অর্থনীতি’কে নন্দ ঘোষ সাজিয়ে দেশে দেশে ভাড়া করা বিদ্বজ্জন ও কলমচিরা আমাদের বোকা বানিয়েছে। আর এখন আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিকল্পনার অভাব টের পাচ্ছি। শুধু পরিকল্পনার অভাব বোধ করছি তাই নয়, সেই পরিকল্পনার প্রক্রিয়ায় আম আদমির অংশগ্রহণের অভাবও। যদিও আজকাল মাঝে মধ্যে আইনে শিলমোহর লাগানোর আগে তা জনগণের জন্য নেট দুনিয়ায় খুলে দেওয়া হয়, জনগণের মতামতও চাওয়া হয়। কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয় না, সেটি একটি একমুখী প্রক্রিয়া। দেশের সংসদ বা বিধানসভায় নেওয়া পরিকল্পনা, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে নেওয়া পরিকল্পনা, আমাদের বিচার ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা, সবগুলিই যেন আমাদের মত সাধারণ মানুষকে পরিহাস করে। অসহায় দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারি না।

    জনতার ভোটে জিতে আসা সরকারগুলি কোভিড সংক্রমণের আপতকালীন পরিস্থিতিতে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তার কতটা সফল হয়েছে আর কতটা ব্যর্থ হয়েছে তার কোনও মূল্যায়ন করার কথা আমরা ভাবতে পারি না। কারণ বুঝি যে ভেবেই বা কী লাভ, এক্ষুণি তো আর সরকারকে সরানো যাবে না, ভোট আসতে অনেক দেরি। তাই মূল্যায়নের কাজ বিরোধী পক্ষ যাই করুক না কেন, আমরা শুনতে থাকি বটে কিন্তু সমাজের কোথাও সেইভাবে গুরুত্ব পায় না। Right to recall, ১৮৭১ সালে প্যারীতে ৭১ দিনের সরকার, এমন একটা নিয়ম চালু করেছিল। আজ আমাদের সেই অধিকারটির ভীষণ প্রয়োজন।

    ভারতের লক-ডাউন ঘোষণা থেকে লক ডাউন তুলে দেওয়া পর্যন্ত সংক্রমণ যেভাবে হয়েছে তার সঙ্গে অন্যান্য সফল কিছু দেশের গ্রাফপ্লটের তুলনা করলেই আমাদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়। এই ব্যর্থতার দায় কার সেই প্রসঙ্গ এখন আমেরিকাতে সবচেয়ে বেশি উঠছে, সামনে ভোট থাকায়। আর আমাদের মত দুর্ভাগা দেশে সেসব প্রশ্ন ওঠেই না। সামাজিক ও রাষ্ট্রগত সকল বিষয় যেখানে রাজনীতির অঙ্গ, সেখানে এরকম একটি বহুবিধ ক্ষেত্রের সাফল্য ও ব্যর্থতা প্রাথমিক ভাবে রাজনীতির উপরে আসার কথা। আবার রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করে সেই রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর। যেমন, আমলাতন্ত্র, বিচার ব্যবস্থা, পুলিশি ব্যবস্থা, শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা দক্ষতার সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা আছে তার উপর। এবিষয়ে আমাদের দেশের কী অবস্থা সেটা বিচার করতে গেলে হতাশা ছাড়া কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। গত দশ বছরে একটি সুপরিকল্পিত মতবাদ জনমানসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের সেবা মানে একমাত্র দেশের সীমানায় অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, আর মাঝে মধ্যে অস্ত্র শস্ত্র কেনা, অথবা দেশের ব্যবসায়ীদের অস্ত্র বানাতে অনুমোদন দেওয়া। আর ক্ষেত্র বিশেষে কিছু কিছু পেশার মানুষকে নিয়ে কুমিরের রোদন। যেমন এখন সাফাই কর্মী, ডাক্তার বাবুদের শিকে ছিঁড়েছে। এক এক সময় এক এক বোড়েকে মঞ্চপ্রদীপের তলায় আনা, আর বাকিদের অন্ধকারেই রেখে দেওয়া, কাঠামোর সামগ্রিক যোগসূত্রগুলিকেই বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত ছাড়া আর কী ! অবশ্য যোগসূত্র এই কাঠামোর দর্শন নয়। যে স্ক্রু উৎপাদন করে, সে জানে না ওই স্ক্রুটি কোন মেশিনের কোন অংগে লাগানো হবে। যে গবেষণা করে, সে জানে না এই গবেষণা কোন সামগ্রিক গবেষণা পরিকল্পনার অংশ। তাই বর্ডারের কর্মীদের যদি আলোচনার বাইরেও রাখি, বাকি সর্বত্র প্রতিটি কর্মীদের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রয়োজন আছে সে্টি উপেক্ষিতই থাকে। আমাদের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-দার্শনিক পরিবেশ এটাই শেখায়। প্রশাসনিক পিরামিডিয় কাঠামো নেহাতই একটি নির্দিষ্ট কাজের হাতিয়ার, সেটিই চিরন্তন নয়, সে শিক্ষা রাজনীতি আমাদের দেয় না। তাই একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই বিভিন্ন স্তর থাকে বিচ্ছিন্ন, যেটুকু যোগাযোগ তা কৃত্রিম, ছড়ি ঘুরিয়ে সেই যোগসূত্র স্থাপন করতে হয়। ফলে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আলোচনা করার প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টা নিয়ে কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া গেলে হয়তো ছবিটা আরেকটু পরিষ্কার হবে।

    আমাদের দেশের রাজনীতিকরা যেমন ‘দেশ সেবা’ করার জন্য রাজনীতিতে যোগ দেন, আমাদের শিক্ষক চিকিৎসক ইত্যাদি পেশাগুলিও মানুষের কাছে যথেষ্ট ‘সম্মানের’। দুঃখ হল দেশ সেবাটা যেমন শিশুপাঠ্যের মধ্যেই বন্দী থাকে। বাস্তবে শিক্ষকদের সম্পর্কে জনমানসের মনোভাব রাস্তাঘাটে কান পাতলেই বুঝতে পারবেন। আমি শিক্ষক বলতে প্রাথমিক শিক্ষক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক সকলকেই রেখেছি। কেউ কেউ বলতেই পারেন, না গবেষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এখনো অটুট আছে। একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন গবেষকদের প্রতিও শ্রদ্ধা আর অবশিষ্ট নেই। তাঁরা শুধু অর্থের অপচয় করেন বা স্বজন পোষণ করেন এরকম অভিযোগ সর্বত্র শুনতে পাবেন। মোদ্দা কথা পেশা হিসাবে শ্রদ্ধা আর অবশিষ্ট নেই। তাই চলচ্চিত্রের নায়ক বা নায়িকা, ক্রিকেট খেলোয়ার বা রিয়েলিটি শো-র গায়ক, এরাই কিশোর-তরুণদের চোখে আইডল, মডেল, আদর্শ। যারা এখনো ডাক্তার-উকিল-পুলিশ-দের প্রতি বা এই সব কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাদের অজ্ঞ হিসেবেই দেখা হয়। সাধারণ মানসিকতা হল, পুলিশ ঘুষ খায়, ডাক্তার অর্থ পিশাচ কসাই, উকিল মামলাবাজির সুযোগে মানুষকে লুঠ করে ইত্যাদি। এরকম অশ্রদ্ধার যুক্তি ভিন্ন ভিন্ন থাকতে পারে, মোদ্দা কথা সবরকম পেশার প্রতি অশ্রদ্ধার জন্য শুধু একটা অজুহাত দরকার, এবং সেটা সমাজ ঠিক জুটিয়েই দেয়। কেউ কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করলেও সেটি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা, সেটা পেশাগত শ্রদ্ধা নয়। এ তো গেল পেশাগত পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, এরপর আবার ফিরে আসি একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে মনোভাব। আগেই বলেছি ঊর্ধ্বস্থ বা অধস্তন কর্মী একটি বিশেষ সমাজের বিশেষ ব্যবস্থা, এটা শ্বাশ্বত নয়। করোনা পরিস্থিতিতে শহরের সুইপার যদি না আসে সমাজ জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাবে এটুকু বোধ সবার হয়েছে। সেখানে বর্তমান সময়ে একটি সর্বভারতীয় পত্রিকার খেলা বিভাগের সম্পাদক সাম্প্রতিক সময়ে দেখিয়েছেন তিনি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই বিভাগের মাথা ঠিকই, তার মানে অন্য কোনও স্তরের কর্মী কোনও অংশে কম যোগ্য নন। তাই আরও ঊর্ধ্বতন স্তর থেকে যখন কর্মী ছাঁটাই এর জন্য বলির পাঁঠা চাওয়া হয় তখন নিজের নামটাই লিখে দেন। সেই সংবাদ মাধ্যমের ব্যতিক্রমী বিভাগীয় প্রধান প্রতীক ব্যানার্জীকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না। তাঁর এই কাজ একটাই বার্তা দেয় যে তিনি তাঁর সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কার্যক্ষেত্রের পিরামিড স্ট্রাকচারকে তিনি অবজ্ঞা করেন। এর সাথে এই করোনার সময়ে কাজ হারানো লক্ষ লক্ষ মানুষ ও তাঁদের তথাকথিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা ভাবুন। এই সব দুর্যোগের দিনগুলিতে এক বিচিত্র মানসিকতার প্রকাশ ঘটাই আমরা। যখন সুবিধা পাওয়ার ব্যাপার থাকে তখন যেন তেন প্রকারে নিজেদের বা নিজের লোকের মাথা এগিয়ে দিই আর দায়ভার নেওয়ার সময় অন্যের মাথা খুঁজি। এই মানসিকতার প্রকশ ঘটে যখন লকডাউন করার দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় সরকার আর তোলার দায়িত্ব রাজ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়!! এই অশ্রদ্ধা ও বিচ্ছিন্নতাকে সুচারু রূপে কাজে লাগিয়ে কর্মী ছাঁটাই, সুযোগ সুবিধা অধিকার ছাঁটাই করেন দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা।

    আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই ছিল না, সে যুদ্ধ ছিল রাজতন্ত্র আর জমিদারতন্ত্রের বিরুদ্ধ্বেও। আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধ্বে ঘৃণা তৈরি হয়েছিল সমাজে। রাষ্ট্র দর্শনে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা কমানোর একটা প্রচেষ্টা স্বল্পকালীন সময়ে দেখা গেলেও তা সফল হয় নি। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কর্মীদের মধ্যে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার কিছুদিন পর্যন্ত স্বীকৃত হয়। শিক্ষক মানেই ছেঁড়া ধুতি আর ছেঁড়া ছাতা নিয়ে কয়েক ক্রোশ পথ পায়ে হেঁটে ক্লাসে আসবেন, মাস গেলে মাত্র কয়েক টাকা বেতন পাবেন আর জমিদারের ডেঁপো ছেলের বা গ্রাম্য ঘুঘুদের আদরের দুলালদের টোন টিটকিরি শুনবেন, সেই যুগ শেষ হয়েছিল। জাত-বর্ণ-জমির পরিমাণ দিয়ে সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ওঠা যাবে না, হয়ে উঠতে হবে শিক্ষিত, এই ভাবনা জোরদার হচ্ছিল। কয়েকটি প্রজন্ম পেরিয়ে যা আজ আমাদের কাছে স্বাভাবিকও বটে। মেথর হয়েছিলেন গ্রুপ ডি স্টাফ, যিনি প্রোমোশন পেয়ে গ্রুপ বি স্টাফও হয়ে উঠতে পারেন। অর্থাৎ উর্ধতন ও অধস্তন কর্মীদের মধ্যে মর্যাদার একটা পার্থক্য থাকলেও সর্বনিম্ন কর্মীদের জন্য একটা ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা একটা ন্যূনতম নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিলই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আমাদের রাষ্ট্র চরিত্র বদলেছে তাতে এই নিরাপত্তাবোধকে শাসকবর্গ অপরাধী ঠাউরেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও একধরণের সামাজিক সন্ত্রাসকেই বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসাবে দেখা শুরু হয়েছে। ব্যবস্থার সুযোগ সুবিধা বা ঘি মাখনের ভাগ দেওয়া নেওয়া যদি সমাজের উপর তলা থেকে শুরু হয়, নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাস কায়েম করতে চাইলে তা সমাজের নিচুতলাতে কার্যকর করা হয়। অথচ আমাদের সমাজের ব্যবস্থায় নিচুতলার থেকে উপর তলার কর্মীদের মাইনের ব্যাপক বৈষম্য থাকে এই কারণে যে উপর তলার কর্মীদের জবাবদিহি করার তাত্ত্বিক দায় থাকে, উপর তলার কর্মীরাই পরিকল্পনা নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন। কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কার্যকর না হলে, যথেষ্ট আশাপ্রদ ফলাফল না দিলে সেক্ষেত্রে তার দায়ভার উপর তলার কর্মীদেরই নেওয়ার কথা। একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা কার্যকরী হতে কতটা সফল বা ব্যর্থ হচ্ছে তার মূল্যায়ন করে পুরানো পরিকল্পনার পরিবর্তন বা নতুন পরিকল্পনার সন্ধান করা সেক্ষেত্রে উপর তলার কর্মীদেরই হওয়া উচিত। ঠিক যেমন, রাষ্ট্র গঠন ও দেশ নির্মাণের দায়িত্ব আসলে রাজনীতিকদের। সকল পেশার মানুষেরা রাজনীতির ময়দানে মিলিত হয়ে দেশের জন্য সার্বিক পরিকল্পনা নেবেন এটাই রাজনীতির ক্ষেত্রে পাঠ্যবই অনুযায়ী ন্যূনতম চাহিদা। কিন্তু এই পরিকল্পনা ও তার সাফল্য ও ব্যর্থতার খতিয়ান আমাদের আলোচনায় থাকে না। যেহেতু রাজনীতিতে এই ভাবে ভাবা হয় না, তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোটামুটি নিরাপত্তাহীনতা ও এক শ্বেতসন্ত্রাসের বাতাবরণ ছড়ানো খুব সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যেখানে একটি সিস্টেম কাজ না করার দায় মূলত উপরতলার হওয়ার কথা, সেখানে দায়ভার এসে পড়ে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে। এইনিয়ে একটি চোখে দেখা অভিজ্ঞতাীই বিষয়ে ভাল কেসস্টাডি হতে পারে। সেই গল্পই বলি এবার।

    বছর দশ হবে, একটি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে তখন গবেষক ছাত্র ছিলাম। তখন গ্রুপ ডি তে রিক্রুটমেন্ট বন্ধ হচ্ছে, সুইপার, মালি, গার্ডেনিং ও অন্য এই ধরণের পদে নিয়োগ বন্ধ করে কন্ট্রাকচুয়াল এর দিকে যাচ্ছে কন্ট্রাক্টর হিসাবে ন্যূনতম যোগ্যতা বছরে এক কোটি টাকার টার্ন ওভার। এই প্রক্রিয়া আসলে সেই সময়ের সরকারি ব্যবস্থার ন্যুনতম সুযোগ সুবিধা থেকে কিছু মানুষকে বার করে দেওয়ারই নামান্তর। নিচু লেভেলে একরকম সন্ত্রাস সৃষ্টি করলে ভালো কাজ হবে এই মানসিকতার জয় জয়কার। এই সন্ত্রাস আর সন্ত্রাসবাদী সংগঠনদের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কাজ উদ্ধার করার প্রচেষ্টার মধ্যে মৌলিক বৌদ্ধিক চিন্তার মধ্যে কেন পার্থক্য করবো তার ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাই না। যাই হোক সেই প্রতিষ্ঠানে তার আগে এই ধরণের কাজগুলি করার জন্য যারা ছিলেন তাঁরা প্রায় নামমাত্র টাকায় কেউ ৫ বছর, কেউ ১০ বছর ধরে কাজ করে আসছিলেন এই আশায়, যে কোনো না কোনদিন তাঁদের পদ পাকা হবে ও একসময় চাকরি সরকারি হবে। এই কর্মীদের নিয়োগ তার অনেক আগেই বন্ধ থাকলেও তখনো একটা আশা ছিল যে কোনও দিন না কোনও দিন হয়তো তাঁরা নিযুক্ত হবেন। এদিকে একদিন এক ধাক্কায় তাঁরা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী থেকে কন্ট্রাক্টরের লোক হয়ে গেলেন। যার ফলে গায়ে একটা চকচকে পোষাক উঠল বটে কিন্তু যুক্ত হল এক অপমানজনক বৈষম্যমূলক শর্ত, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাসে চেপে কর্মস্থানে আসার অধিকারটি গেল। ও হ্যাঁ, মাইনেও বাড়েনি। ফলত, আগের একই কাজ যতজন আত্মসম্মানসহ জীবন জীবিকা চালানোর ব্যবস্থা করতে পারত সেটি আর এখন হলনা। ছাত্ররা তখনো একটু কম ডরাত, তাই এই অধম কিছু ছাত্রকে নিয়ে নির্দেশকের কাছে সেইসব কর্মীদের অধিকার রক্ষার আর্জি জানিয়ে একটা চিঠি ধরিয়ে আসি। চিঠির বয়ানে নির্দেশক ক্ষুব্ধ হয়ে জিগ্যেস করেন কে লিখেছে এই চিঠি। দৃষ্টি আমার দিকে থাকলেও, বলেছিলাম সকল রিসার্চ স্কলার যৌথভাবে লিখেছে। সেই লড়াইয়ে আমরা হেরে গিয়েছিলাম কারণ স্থায়ী কর্মীদের কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াননি কারণ ঐ অস্থায়ীদের দেখতে গেলে বাসটাই তুলে দিতে হবে। তা, পরবর্তীতে সেই বাসগুলি কিন্তু উঠেই গেছিল। প্রথমে স্থায়ী কর্মীরা ভাবলেন তাঁদের নিজের জায়গা বাঁচলেই হবে। অধ্যাপকরা ভাবলেন তাঁদের এসব নিয়ে ভেবে কী লাভ। আর আমাদের মত স্কলাররা বেশিরভাগই ভাবল, আমরা তো গবেষক বা অধ্যাপক চাকরি ঠিক জুটিয়ে নেব বরং এইসব উটকো লোকদের জন্য বড় বড় বিজ্ঞানী বা অধ্যাপকদের কাছে খারাপ হওয়ার কোনও মানে নেই। আজ অবশ্য সময়ের স্রোত বেয়ে হিসেব নিলে দেখা যাবে, সেসব গুটিকয় গবেষক ছাত্ররা কোথাও কোনও আঁচড় কাটতে পারেনি।

    এখানে বরং অন্য একটি উদাহরণে চলে যাই। কিছুদিন আগে লক্ষ্য করেছিলাম অধ্যাপকদের কাজের সুবিধার্থে ডেস্কটপ কম্পিউটার বা পুরানো কনফিগারেশনের ল্যাপটপের পরিবর্তে প্রত্যেকের জন্য আরও আধুনিক কম্পিউটার প্রদান করা হয়। বলাই বাহুল্য তাঁরা প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন এবং যেহেতু নিজেরাই পলিসিমেকার, তাই এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকরীও করে ফেলেন। ধরে নিলাম, প্রয়োজনের নিরিখে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আরও কিছুদিন পরে যখন মোবাইল প্রযুক্তির চূড়ান্ত বিকাশ হতে থাকল তখনও ঊর্ধ্বতন কর্মীদের সরকারি খরচে মোবাইল দেওয়া হল, টেলিফোন বিল তো দেওয়া হতই। ধরে নেওয়া যেতে পারে, এগুলিও সবই খুবই প্রয়োজনীয়। এবার তাহলে আরেকটি বিষয়ের দিকেও তাকানো যাক। সেটি কি কিছু কম প্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে ? গবেষণাগারের জন্য যাঁরা সুইপার ছিলেন, পাইপ লাইনের কাজকর্ম করতেন, তাঁরা কাজের সুবাদে কখন প্রতিষ্ঠানের কোথায় আছেন এটা জানতে পারলে সুবিধা হত অনেক বেশি। হঠাৎ ল্যাবের কোথাও জলে ভর্তি হয়ে গেলে, জল বা পাইপ লাইনের কোথাও লিক হলে দ্রুত মেরামতির জন্য এই কর্মচারীদের দরকার হত। তখনও মোবাইল সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সহজলভ্য ছিল না। মোবাইল যদি সরকারি খরচে দেওয়ার পরিকল্পনা নিতেই হয় তাহলে সবার আগে এই ধরণের কর্মচারীদের আগে দেওয়া উচিত ছিল। গবেষক অধ্যাপকদের সেইভাবে ফোন করে কোনও দরকার মেটানো হত না। মোবাইল একটা উদাহরণ মাত্র, আসল কথা হল সুযোগ সুবিধা দেওয়া নেওয়ার ব্যাপার হলে উপর তলায় আর কোপ মারার ব্যাপার হলে নিচুতলায়, এই যে ব্যবস্থা, এটাকে দেখা। অন্য দিকে গ্রুপ ডি দিয়ে যা শুরু হয়, সব জায়গায় কর্মী সংকোচন হতে হতে কর্মসংস্থান ব্যাপারটাই মুছে যেতে বসেছে।ঙ্গেই সংকোচন করতে করতে প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম কাজেও দক্ষতা হারাচ্ছে। অথচ নির্দেশকরা প্রথমেই যদি রুখে দাঁড়াতেন, যে এই এই পরিমাণ কর্মী না থাকলে বা এই পরিমাণ কর্মী সংকোচন করলে আমার প্রতিষ্ঠান চলবে না, এই সংখ্যক কর্মী বাদ দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠান চলবে না, যে প্রতিষ্ঠান প্রধান এরকম দৃঢ পদক্ষেপ নেবেন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে অন্য কাউকে নিয়ে এলেও তিনিও একই পথ নিলে ব্যবস্থাটা অন্য দিকে যেত, কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় একজন সরে গেলে দশজন সেই ন্যাক্কারজনক পরিকল্পনা রূপায়ণে তৈরি আছে। এই ব্যবস্থার ব্যাগেজসমূহ আমরা মোটের উপর দশকের পর দশক বহন করে নিয়ে এসে এখন বেকার সমস্যা নিয়ে কাঁদতে বসেছি। শিক্ষক, অধ্যাপক, রাজনীতিকরা নিজেদের সন্তানদের জন্য এখনও ভাবছেন খুঁটির জোরে কিছু না কিছু ব্যবস্থা করে ফেলবেন। অথচ ভাবছেন না একটা সময়ে সামান্য একজন পঞ্চায়েত সদস্য চাকরি দেওয়ার নেপোটিজম করতে পারতেন, একজন প্রাথমিক স্কুলের প্রধানশিক্ষকের হাতেও কিছু না কিছু ক্ষমতা ছিল। এখন সেই ক্ষমতাবান হাত গুলো ক্রমাগত দূর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার বদল না হলে নেপোটিজমটাও ঠিকঠাকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

    এখানেই সাংবাদিক প্রতীকবাবু অধস্তনের চাকরি ছাঁটাই সুপারিশ না করে নিজের নাম এগিয়ে দিয়ে ব্যতিক্রমী ও বিরল ব্যক্তিত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠা করলেন। আমাদের সমাজে যারা পরিকল্পনা নেওয়ার হত্তা কত্তা হয়ে আছেন তাঁদের এখান থেকে কিছু শিক্ষা দেওয়া সম্ভব করতে হলে আমাদের নিজেদেরই প্রাথমিকভাবে ভাবনা চিন্তার বদল আনতে হবে।
    প্রাসঙ্গিকভাবেই এই প্রশ্নটিও চলে আসে, পরিকল্পনার জন্য কেন্দ্রীভবন সুবিধাজনক নাকি বিকেন্দ্রীভবন? অনেকেই হয়তো বলবেন যে একসঙ্গে পরিকল্পনাও চাইছো আবার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, এই দুটির সহাবস্থান সোনা পাথরবাটি নয় কি? পরিকল্পিত অর্থনীতি মানেই একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা, যা আমলাতান্ত্রিকতার নিগড়ে বাঁধা। সেই আমলাতান্ত্রিকতাই ক্রমে কোটারি সৃষ্টি করে। ফিনান্স পুঁজির এই কোটারি ভারি প্রয়োজন। যেখানে টেন্ডার ডেকে ব্যবসা আসলে প্রহসন। এই কোটারিকে কিনে নিলেই বরাত পাওয়া যায়। আমলা-হামলা-সামলা-মন্ত্রী সম্বলিত এই কোটারি। এই ব্যবস্থা অনেকটা জলের মত, সব ওপর থেকে নিচে নামে, নিচ থেকে ওপরে কিছুই ওঠে না। ওপর তলা নিচের তলার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। ফলে সেখানে অধস্তন কর্মচারী উপরের জনকে শ্রদ্ধা করেন বা বলা ভালো ভয় করেন, কিন্তু বিপরীতটা সত্য নয়।

    যে বা যাঁরা পরিকল্পিত অর্থনীতির বিরুদ্ধে তারা এই আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিকে দেখিয়েই ঢালাও নৈরাজ্যের পক্ষে দাঁড়া্ন। প্ল্যানিং কমিশন তুলে দিয়ে আরও ক্ষুদ্র পরিসরে সব নীতি নির্ধারণকে বেঁধে ফেলেন তাঁরা। ১০০ জনের কোটারিটি ২০ জনের কোটারিতে নেমে আসে। যা আবার টাকার থলিওয়ালাদের কাছে আরও সুবিধাজনক। ১০০ জনকে ঘুষ দেওয়ার চেয়ে ২০ জনকে দেওয়ার যা যা সুবিধা থাকে। এখানে প্রাথমিকভাবে একটা গণতন্ত্রের খোলা হাওয়া বইছে বলে ভ্রম হয়। কারণ ওই ১০০ জনের মধ্যে ৮০ জনের যখন পদচ্যুতি ঘটে, তাঁরাও যখন আম জনতাতে পর্যবসিত হন, তখন এতকালের আম জনতার আনন্দ আর ধরে না, হাতিকে কাদায় পড়তে দেখে যে আনন্দ হয় আর কি। কিন্তু ক্রমেই সেই স্বল্পস্থায়ী পরিতৃপ্তির ঘোর কাটে যখন টের পাওয়া যায় যে গোটা সমাজটাই অশ্রদ্ধার বিষে ঢেকে গেছে। শ্রদ্ধা করার লোকের সংখ্যাটাই যে কমে গেছে!! এক কৃত্রিম প্রফেশানালিজম ছেঁকে ধরে আমাদের। ফেলো কড়ি মাখ তেল, বা ফেলো কড়ি শিক্ষা পাও, ফলে শিক্ষক আমার কর্মচারী। ফেলো কড়ি পাও চিকিৎসা, ফলে ডাক্তার নার্স আমার কর্মচারী। টাকা দিয়ে যাদের সেবা কিনেছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নাও থাকতে পারে। তাহলে উপায়? পরিকল্পনাও থাকবে আবার আমলাতান্ত্রিকতাও থাকবে না, এহেন স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা। কীভাবে সেই স্বর্গরাজ্য গড়া যায়? অন্য কোনদিন হতে পারে সেই আলোচনা। পাঠকও যোগাতে পারেন, নতুন ভাবনার রসদ।

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬৭৬ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আরও পড়ুন
কাঠাম - Rumela Saha
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:০৯96956
  • অত্যন্ত সুলিখিত। সত্যিই প্রফেশনালিজম সম্পর্কের সর্বনাশ ঘটিয়েছে। অথচ কী আশ্চর্য সেই মন্ত্রশক্তির জোরেই তো পরিকল্পনার হালহকিকত ফিরে যাবার কথা ছিল। আমাদের হাতে পড়লে তাহলে কি সকলই নষ্ট !          

  • শক্তি | 2401:4900:110e:527c:0:6e:d672:4e01 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৫৫96957
  • দক্ষ লেখনীর জোরে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং কঠিন প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন 

  • Saikat Mistry | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৩১96963
  • খুব দরকারী লেখা। পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আসি অজিত নারায়ণ বসু পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সেন্ট্রালিজমের বিপরিতে হাঁটতে বলেছিলেন। সেদিকে আমরা চলছি না। গ্রামে বসে গ্রামপরিকল্পনা হোক। সকলে অংশ নিক। তাহলে যথাযথ পরিকল্পনা হতে পারে।      

  • Saikat Mistry | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০১:০৪96965
  • আবার চোখ বোলালাম। কতগুলো প্রশ্ন মনে এল। পরিকল্পনা ও পেশাগত জীবনের পারস্পরিক সম্মান দূর হয়েছে। সত্য। আসলে সমাজ যখন সবকিছু পণ্য ও উৎপাদন, ওয়েজেস ও প্রফিটের দৃষ্টিতে দেখা শুরুকরল তখন থেকে ভাঙতে শুরু করল সম্পর্কগুলো।   শিক্ষকতা হল চাকরি। দায় রইল না শিক্ষকের। সমাজের। এমন কিছু পেশা বাদ দিলে শ্রেণিবিভাজিত সমাজে সাফাইকর্মী বরাবর নীচের তলায়।সমাজ থাকবন্দী। উচুবর্গের লোক চেয়ারে বসবে, পরিকল্পনা করবে। নীচু বর্গ বসবে মাটিতে। এটা ভাঙল দেশভাগ, অর্থনীতির জাতীয়তাকরণের পর। এমন হাজারো কমপ্লেক্স ও প্রশ্নের ইঙ্গিত  লেখাটায়    আছে। 

  • Manjish Ray | 47.15.44.36 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:৫০96971
  • এই কথাগুলো এত সত্যি, বিশেষ করে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে l লেখাটা ভাবতে বাধ্য করে l 

  • জয়ন্ত ভট্টাচার্য | 59.93.170.241 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:০০96972
  • গভীরে গিয়ে লেখা, স্তরে স্তরে লেখা। দু তিনটি জায়গা গুরুত্বপূ্ণ। (১) Right to recall - এটা বলশেভিক বিপ্লবের পরেও অন্তত লেনিনের জীবিতকাল অবধি সংবিধানে ছিল। এই একটি ইনক্লুশন ইংল্যান্ড আমেরিকা বা ফ্রান্সের মতো বহুচর্চিত, বহুল প্রচারিত "অভিজাত" গণতন্ত্রের কাপড় খুলে দেবার জন্য যথেষ্ট ছিল। (২) এদেশে যে আধুনিকতা এবং তার বাহক যে ইনস্টিটিউশনগুলো দেখি সেগুলো unlike European ones, "engrafted modernity"। ওখানে যেটা দু'শ বছর ধরে হয়েছে এখানে কয়েক দশকে হয়েছে। ফলে এটা ভিন্নতর democracy. (3) The hitherto existing civil space is fast receding, encroached by the Super State (NOT fascist, I emphasize).

    Only a few avenues exist before us. One of them is incesant social dialogue, not reactive but proactive position. That is to kindle our neurons and cognition.

  • Paramesh Goswami | 42.110.166.24 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৩১97025
  • প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি ঐশ্বরিক সম্ভ্রম!

    চমৎকার লেখা।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত