• টইপত্তর  বাকিসব   নেট-ঠেক-কড়চা

  • কিছু বিস্ময় ও কয়েকটি প্রস্তাব

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
    বাকিসব | নেট-ঠেক-কড়চা | ১০ আগস্ট ২০২০ | ৬৩৮ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন
  • গতকাল ৯ ই অগাস্ট আমার কাছে একটা স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। বিভিন্ন কারণে, কিছুটা অতি ব্যক্তি গত এবং বই পত্তরের সংগে সম্পর্কহীন। কিন্তু বাকিটা র জন্যেই এই টই টির অবতারণা।

    কাল খুব ই খুশি হয়েছি, প্রবাদ প্রতিম কবি, অনুবাদক, মাষ্টারমশাই মানবেন্দ্র বাবু স্যার স্মরণে বিশেষ যত্ন করে অবিচুয়ারি , স্মৃতির টুকরো গুলি ছাপা হয়েছে বলে। যাঁরা এই কাজের পরিকল্পনা করেছেন, গুরুচন্ডালির সম্পাদক দের সংগে সহযোগিতা করেছেন সবাই কেই পাঠক হিসেবে কৃতজ্ঞতা জানাই।
    এবার খুশি মিশ্রিত বিস্ময়ের কথা কয়েকটি জানাই, কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাবে যাওয়ার আগে।
    গুরুচন্ডালি এ বিদেশী বা দেশী অনুবাদ সাহিত্য আলোচনা করার কিছু অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে, হয়তো আরো কিছু লোকজনের রয়েছে। প্রথম দিকের 'ওমা তাই তো গোবলু হোলে কি হোবে দেকোচো কত্ত খবর রাখে' গোছের নেকুপুশু ছাড়া এই আলোচনার অভিজ্ঞতা বেশিটাই নানা ধরণের হোস্টাইল প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে। পড়াশুনো কে যারা লজ্জার বিষয় বস্তু ভাবেন, যারা প্রতিযোগিতার বিষয় বস্তু ভাবেন, অচেনা বই য়ের নাম শুনলে যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে পাল্টা সম্পূর্ণ রহিত বৈয়ের কথা আলোচনায় আনেন, বা জয়েসের নাম শুনলে যাঁরা আশি নব্বই এর দশকে যাঁরা বাংলা প্রকাশনার মূলধারায় কাজ করেছেন, তাঁদের লেখার নাম করে সেগুলি স্ট্রীম অফ কনশাসনেস কিনা সেই নিয়ে আলোচনায় মাতেন, তাঁরা ব্যক্তি তো বটেই, কিন্তু একটা মতামতের প্রতিনিধি একটা সময়ের প্রতিনিধি, যে সময় সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বিলবোর্ড দেয়, ইন্দোনেশিয়ায় বোমবিং এর পরের দিন ই দেয়, 'বালিতে বেল পাকলে বালিগঞ্জের কি' অথচ এক ই সঙ্গে সুদুর আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া থেকে কেউ পূজোয় রবীন্দ্রনাথের কোন গানটি করবে সেই নিয়ে দেশের মানুষের মতামত চাইলে সেটা কে খবর করে। সেই ইনসুলার পাঠক কমিউনিটির বিচরণ ক্ষেত্রে মূলতঃ অনুবাদক হিসেবে খ্যাত, এবং তৃতীয় বিশ্বের সাহিত্য কে বাংআলির কাছে পরিচয় দেওয়ার জন্য বিখ্যাত এক মাষ্টারমশাই জীবনের কাজের সেলিব্রেশন দেখেও সুখ ঃ-)))) কিংবা সাম্প্রতিক একটি প্রবন্ধে যখন পার্শ্ববর্তী রাজ্য গুলির কাজ সম্পর্কে গড়্পড়তা বাংআলি পড়ুয়ার আগ্রহ কম শুধুই সুদূর স্প্যানিশে আগ্রহ বলে অনুযোগ করে যে প্রবন্ধ লেখা হয় সেটাও সবার ভালো লাগে আবার মানবেন্দ্র বাবু স্যার এর কাজ সম্পর্কে স্মৃতিমেদুরতাও একই সংগে ভালো লাগে যে পাঠক কমিউনিটির তাঁরা ঠিক কি চান কি চর্চায় কেন আগ্রহ পাবেন, সেটা আবিষ্কারের আদি পর্যায়ে রয়েছেন এটুকু বলেই থামা যায় ঃ-))))
    যে পড়ার সংগে মাইনে বাড়ার সরাসরি সম্পর্কে নেই, যে পড়া বিবাহযোগ্য হতে ঝট করে কাজে লাগে না, যে পড়ায় মদ বা কাবাবের দাম কমে না, সেরকম যে কোনো মানুষ যে কোনো সময়ে আগ্রহ পেলেই ভালো।

    শেষ বিস্ময়টি প্রাতিষ্ঠানিক। সৈকতের 'ল্যাল্যা' থিসিস শুধু না, মূলতঃ আকাদেমিয়ার বাইরের লেখা পড়া বৌদ্ধিক চর্চার (আরো অন্য অনেক কিছুর সংগে) একটা জায়গা হয়ে ওঠার একটা সচেতন প্রয়াস গুরুচন্ডালির ছিল। তাতে আমরা মূলতঃ বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির ছাত্র ছাত্রী দের দেশ, কাল, সমাজ, সাহিত্য, সুর, শিল্পকলা নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখেহ্হি, আবার আলোচনায় ডিটারমিনিজম, প্রিসিশন এর অভাবে অসহিষ্ঞু হতেও দেখেছি। কিন্তু তার ই মোধ্যে একটা দীর্ঘ সময়ের একটা নিরীক্ষামূলক বিষয়ের সবচেয়ে প্রখ্যাত আকাদেমিক দের এক জায়্গায় জড়ো করে আরেক সমসাময়িক বিস্ময়্কর প্রতিভার অভিকারী আকাদেমিক স্মৃতিচারণ করানোর কথা যে গুরুচন্ডালির পরিচালক বর্গ ভেবেছেন এটা বিস্ময়কর এবোঙ্গ ভালো লেগেছে। বিজ্ঞান বিষয়ে , বিশেষতঃ সআস্থ্য বিষয়ে এটা কিছুটা শুরু হয়েছিল, বাট দিস ওয়াজ ডেফিনিটলি আ বিট অফ আ বিগ ব্যাং। বিদ্যাচর্চায় কোন প্রকোষ্ঠিকরণ ই কাজের কথা না, এটা যে হয়েছে সেটা ভালো কথা। মেডিয়া মোনোপোলি ছাড়া সমস্ত উদ্দেশ্য ই সদুদ্দেশ্য। ডঃ দেব রা শুধু মানব বাবুর বন্ধু নন, নিজেরাও প্রবাদ প্রতিম এবং আরো ইন্টারেস্টিংঅলি এমন একটা প্রজন্ম, যখন পাব্লিক সেক্টর পড়াশুনো গবেষণা গড়ে উঠছে। পঞ্চাশ কেন বিশ বছর পরের এক কবির মৃত্যুতে আর পাবলিক সেক্টরের কর্মরত কবি-অধ্যাপক বন্ধু পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। তো এই যে ভারতীয় গণতন্ত্রের পিরিয়ড টা, যেটা তার সমস্ত ফ্ল সত্তএও পাবলিক্ক সেকটা লিবেরল আর্ট্স করার কিছু জায়গা কে রেখেছিল, সেই পরিসর থেকেই হয়তো তুলনামূলক সাহিত্য বা নতুন ধরণের ইতিহাস চর্চা গড়ে উঠেছিল, তার একটা প্রত্নতাতইক প্রমাণ গুরুতে রয়ে গেল, এতে আমি খুশি। বিজ্পি র জমনায় এসব থাকবে কিনা বলা মুশকিল।
    সোশাল নেটওয়ার্কিং এ যেখানে আত্মজীবনী ছাড়া আর কিছুই কারো মন ছোঁয় না, সেখানে লোকে একটা রাজনৈতিক অবস্থানের সংগে সাযুজ্য রেখে পড়াশুনো করতে পারে, এবং একই সংগে দল মত নির্বিশেষে কনিষ্ঠদের প্রিয় মাষ্টার মশাই , দিদিমনি হয়ে উঠতে পারেন, এমনকি মৃদু অন্যায় আবদারের জায়্গাও হোয়ে উঠতে পারেন তার প্রমাণ একটা রইলো। তার একটা ছাপ রইলো এটাও আনন্দের।
    এই আনন্দের দিনে গুরুচন্ডালি এবং অন্যান্য বাংআলি প্রকাশনা, আকাদেমিয়ার উৎসাহী অংশের সংগে কোলাবোরেট করে বাংলা লেখা লিখির একদম দশক ভিত্তি প্রজন্ম ধরে ইংরেজি বা অন্য ভারতীয় বা বিদেষী ভাষায় অনুবাদ এর উদ্যোগ নিলে পড়াশুনোর একটা নতুন যুথবদ্ধতা তৈরী হয়। মানব বাবু কে শুধু না, আমাদের অনেক মাষ্টার মশাই, দিদিমনি, অনেক অচেনা অজানা পত্রিকা সম্পাদক সম্পাদিকা, অনেক অচেনা অযানা বিদ্যালয় শিক্ষক বা সৃজনশীল সংস্কৃতি বা পত্রিকা গোষ্ঠী কে শ্রদ্ধা জানানোর এইটে একট উপায় হোতে পারে। খুব সরকারী বা পিপিপি-মার্কা কমিটি বা এন্জিও মার্কা অ্যাকশন গ্রুপ কোনোটা কমিটি করে বিশেষ লাভ হয় না। বা হলেও আরেকটা বিরক্তিকর বুরোক্রাসি তৈরী হয়, বাংলা ভাষার, পশ্চিম বংগে বসে লেখা অন্যান্য ভাষার কাজ কর্মের ব্যাপক অনুবাদ ও প্রচার মানবেন্দ্র বাবু স্যার দের ঐতিহ্য কে প্রকৃত সম্মান দেবে। দেশী বিদেশী ভাষা শিক্ষাও আশা করি এই প্রজন্ম কমাবে না। হতেই পারে, এইটেই তাঁদের বিভাগের, তাঁদের নিজেদের কিছুটা অসম্পূর্ণ কাজ।
    আরেকটা বিষয়েও আগ্রহ আছে, তুলনামূলক সাহিত্যের খুব বেশি বিভাগ সারা পৃথিবী তেই কম। যেখানে আছে সেখানে কি ভাবে বিষয়, সিলেবাস নির্বাচন করা হচ্ছে জানতে আগ্রহী। পর পর তিনটে রাজ্য রাজ্য সরকার, স্কুল বা কলেজের ভাষা বা মাষ্টার মশাই দিদি মনি দের নিয়োগ কোরার সময় তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্যের ডিগ্রীধারী দের গুরুত্তঅ দেন কিনা দিলে কি ভাবে দেন, লোকের অধ্যাপনা বা অন্য চাকুরি (ডিপ্লোমাসী, বিজনেস ট্রান্সলেশন, প্রকাশনা) তে কি ভাবে এই ডিগ্রী কাজে লাগছে সেটা নিয়েও সার্ভে ভিত্তিক লেখা পেলে খুশি হব।
    আমরা ওয়েব জিন ক্যাম্পের লোকেরা নিজেদের কে একটা নতুন চলতি হাওয়ার পন্থী বোলে দেখতে ভালো বাসি, প্রকাশনার জগতেই চার্নিং কম নেই, এবং সেটা ওয়েব আসার পোরে নতুন কোরে বেড়েছে, সমস্ত কিছুর নিরীখেই বলা যেতে পারে, শুধু 'খাদবপুর' না , নানা উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র গুলির সঙ্গেই যেন নতুন প্রকাশনা গুলির সম্পর্ক সজীব থাকে, সৃজনশীল ও মুক্তভাবনার উপরে আক্রমণের চরিত্র ও সূত্র কারো অজানা না।

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
  • বিভাগ : বাকিসব | ১০ আগস্ট ২০২০ | ৬৩৮ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 45.123.161.82 | ১০ আগস্ট ২০২০ ১৪:৫৪732492
  • ****একটা নিরীক্ষামূলক বিষয়ের সবচেয়ে প্রখ্যাত আকাদেমিক দের, যাঁরা কিনা এক ই সংগে আকাদেমিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রাজনৈতিক আমলের স্তম্ভ, তাঁদের কে শুধু স্যার এর প্রতি ভালোবাসার , শ্রদ্ধার কারণে একটি অপেক্ষাকৃত নতুন পত্রিকায় লেখানো গেছে সেটা আনন্দের।

    বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
  • কৃতজ্ঞতা | 151.197.225.87 | ১০ আগস্ট ২০২০ ২১:৪৬732493
  • সত্যি, এরকম চমত্কৃত আমিও হয়েছি, অনুভবটাও অনেকটা একরকম!
  • Tim | 2607:fcc8:ec45:b800:f4da:34a:419:f21a | ১১ আগস্ট ২০২০ ০১:০৯732494
  • এই সংকলনটা যে কী ভালো লেগেছে, লেখাগুলো প্রত্যেকটাই ব্যক্তিগতভাবে খুবই ইনট্রিগিং লেগেছে, এবং সেটা এই কারণে যে সমস্ত লেখাতেই কয়েকটা করে নতুন পাঠ অভিজ্ঞতার কথা আছে। গোটা পৃথিবীতেই এখন শিক্ষকদের নানাভাবে ভাবতে হচ্ছে, বিশেষ করে মাইনে বাড়েনা এমন পড়ালেখায়। সেটা যে কতটা ডিসিপ্লিন নিরপেক্ষ, এই স্মৃতিচারণগুলো তার দলিল।
  • ইয়ে মানে, | 182.76.110.171 | ১১ আগস্ট ২০২০ ০২:১৪732495
  • "বাংলা লেখা লিখির একদম দশক ভিত্তিক প্রজন্ম ধরে ইংরেজি বা অন্য ভারতীয় বা বিদেশী ভাষায় অনুবাদ এর উদ্যোগ নিলে" - এটা কেন দরকার বুঝছি না। 'অনুবাদ পত্রিকা' বলে একটা দীর্ঘ সময়ব্যপী চলা পত্রিকা আছে, যারা শুধু অনুবাদ নিয়েই কাজ করে চলেছে। সেই বিতস্তা ঘোষাল এর সাথে বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত যোগাযোগ করতে পারেন, র‍্যাদার, করবেন নাই বা কেন বোঝা দায়। সেখানে এরকম বহু অনুবাদকের সাথে পরিচিত হতে পারবেন বলেই মনে হয়।

    মিথ্যে কথা না কথা বলতে কি, এই প্রজন্ম,  "মূলতঃ বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির ছাত্র ছাত্রী"রা এত ডিগ্রি, পরীক্ষা, চাকরি, পিপিটি, এসওপি, প্রসিডিওর, পেপার, রিভিউ - দৈনন্দিন ইংরিজিতে উদ্ধার করে বিশ্ব সাহিত্যের অনুবাদ বাংলায় কেন পড়তে পারছি না বলে বিলাপ করলে আরেকটু মুশকিল হয়। বোধিসত্ত্ব নিজে বিশ্ব সাহিত্যের কজন দিকপালের লেখা বাংলায় পড়েছেন জানতে সাধ হয়, এবং, সুতরাং বাকি পাঠককে সেগুলি বাংলায় পড়ানোর জন্যে এমন আকুল প্রস্তাবের ভিত্তি বুঝতেও মুঞ্চায়।  মানবেন্দ্র বাবু সারাজীবন অসাধারণ কাজ করে গিয়েছেন, কিন্তু সে কাজ মূলত বাংলা সাহিত্যপাঠী মানুষদের বিশ্বসাহিত্যের স্বাদ দেওয়ার তাড়নায় যেমন, সঠিক জানা নেই, তার মধ্যে নিজের প্রতি নিজের নেওয়া কোনো চ্যালেঞ্জও রয়ে গিয়েছিল কিনা, যে, এঁদের বাংলা ভাষায় নিয়ে আসতে আমি নিজে কতটা কমপিটেন্ট তার একটা হাতে কলমে পরীক্ষা দেওয়া যাক। থাকতেই পারে, আমরা তাঁর মনের মধ্যে ঢুকে দেখতে যাইনি। কিন্তু চল্লিশোর্ধ টেকনোক্র্যাটরা বরং মানবেন্দ্রবাবুর সংগ্রহ বা আবিষ্কার করা লেখকদের যেভাবে হোক, ইংরিজিতে পারলে ইংরিজিতেই, পড়ে ফেলার মরিয়া চেষ্টা না করে, বা সেই সমস্ত সাহিত্য, নাহয় ইংরেজিতেই, সকলের হাতের নাগালে এনে দেওয়ার চেষ্টাটাও না করে, শুধুমাত্র বাংলায় অনুবাদের ওকালতি করছেন, এটা বরং বিস্ময়ের।

    তুলনামূলক সাহিত্যের বিভাগ যেখানে আছে সেখানে কি ভাবে বিষয়, সিলেবাস নির্বাচন করা হচ্ছে জানতে সেসমস্ত জায়গায় নিজে ফোন বা মেল করে খবর নেবেন না কেন, বোঝা মুশকিল। 

    সরকার, স্কুল বা কলেজের ভাষা নির্বাচন বা মাষ্টারমশাই/দিদিমনি নিয়োগ করার সময় তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্যের ডিগ্রীধারী দের গুরুত্ব দেন কিনা, দিলে কি ভাবে দেন, লোকের অধ্যাপনা বা অন্য চাকুরি (ডিপ্লোমাসী, বিজনেস ট্রান্সলেশন, প্রকাশনা) তে কি ভাবে এই ডিগ্রী কাজে লাগছে সেটা নিয়ে জানতেও - সরাসরি কলেজে, প্রফেসরদের, ফাইনাল ইয়ার/পাস আউট স্টুডেন্ট বা প্লেসমেন্ট সেল এর লোকেদের ফোন কেন করবেন না বোঝা দুষ্কর।

    বলার কথা একটাই যে সব প্রশ্ন বোধিসত্ত্ব জানতে চেয়েছেন, সেগুলো তিনি নিজেই জেনে নিতে পারেন ন্যূনতম পরিশ্রমে এবং চাইলে আর কজনকে জানাতে নিজেই লিখে ফেলতে পারেন। যে সব সার্ভে ভিত্তিক লেখা তিনি পড়তে চেয়েছেন, সেগুলো নিজেই গড়ে নিতে পারেন, যেসব বিদেশী লেখককে যুথবদ্ধতায় পড়তে চেয়েছেন, নিজেই তাঁদের পড়ে , চাইলে পাঠপ্রতিক্রিয়া, বিশ্লেষনাত্মকভাবে জানাতেও পারেন। যূথবদ্ধতাটি সেক্ষেত্রে ইনিশিয়েশনের দায়িত্বও তিনি নিলেন। বেশ কয়েকটি কাজ অডিও মাধ্যমে করে তিনি নিজেই ইতিমধ্যে আশাকরি অবগত যে, সে-সমস্ত, লোককে জানাবার জন্য লিখে না ফেলে, শুধু রেকর্ড করে শেয়ার করলেও যথেষ্ট। হাঁ করে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না পড়ে কানে হেডফোন গুঁজে অন্য কিছু করার ফাঁকে বা নিতান্ত চোখকে আরাম দিতে দিতেও আমরা সেগুলি শুনে নিতে পারি, সবাই।

    আরেকটা কথাও বলার, গুরুচন্ডালিতে বিদেশী বা দেশী অনুবাদ সাহিত্য আলোচনা করার তার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের হোস্টাইল প্রতিক্রিয়া পেয়েছে বলে বোধিসত্ত্বের আক্ষেপের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে একটা এক্সপেক্টেশন জড়িত, যে - আকাদেমিয়ার বাইরের লেখা পড়া বৌদ্ধিক চর্চার একটা জায়গা হয়ে ওঠার একটা সচেতন প্রয়াস গুরুচন্ডালির ছিল। না। এইখানে একটু কারেকশন দরকার। প্রথম এখানে ঘুরতে আসার সময় সে ইমপ্রেশন থাকলেও, বা কেউ এমনটা বলে থাকলেও - যে - ওখানে লোকে খুব পড়াশুনা করে, সমমনস্ক পাঠক প্রচুর পাবে -  আসলে গুরু চিরকাল ই খানিক ক্যাওড়া খানিক পাঠকরত্ন এবং সখের / ভালোলাগার পড়াশোনাকে বরং ইন্সটিটিউশনাইজড বৌদ্ধিক চর্চার একটা জায়গা হয়ে উঠতে না দেওয়ারই একটা সচেতন প্রয়াসে মগ্ন থেকেছে। সেখানে সাধারণ পোঁয়াপাকামির ছ্যাবলামোর মধ্যে সেই ব্যক্তিগত নিবিড় পাঠাভ্যাসের অমোঘ বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠছাপ নজর এড়াবার না হলেও, পড়াটুকুকেই, এমনকি সিরিয়াসপড়াশোনাটুকুকেই শুধু ফোকাস ও আলোচনার একমাত্র কেন্দ্র করে, তার চারদিকে নিজেই উপগ্রহসুলভ ঘূর্ণনচক্রে বাঁধা পড়ে যাওয়ায় গুরুচন্ডাল সবারই আপত্তি ছিল বলেই অনুভব করেছি। সোজা বাঁকা  নানাভাবেই হয়তো সেটা জানাবার চেষ্টা হয়েছে, যার ডাকনাম 'হোস্টাইল প্রতিক্রিয়া' হলেও ভালোনাম হতেই পারে 'বুঝিয়ে বলা'।

  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 45.123.161.82 | ১১ আগস্ট ২০২০ ০৮:৩৫732496
  • অনুবাদক হিসেবে মানবেন্দ্র বাবুর কাজে র এই মোটিভেশন টি খুঁজে পেলে, এবং এই উদযাপনের পরের দীন খুঁজে পেলে , আর বিশেষ কিছু বলার থাকেনা।

    মানবেন্দ্র বাবু সারাজীবন অসাধারণ কাজ করে গিয়েছেন, কিন্তু সে কাজ মূলত বাংলা সাহিত্যপাঠী মানুষদের বিশ্বসাহিত্যের স্বাদ দেওয়ার তাড়নায় যেমন, সঠিক জানা নেই, তার মধ্যে নিজের প্রতি নিজের নেওয়া কোনো চ্যালেঞ্জও রয়ে গিয়েছিল কিনা, যে, এঁদের বাংলা ভাষায় নিয়ে আসতে আমি নিজে কতটা কমপিটেন্ট তার একটা হাতে কলমে পরীক্ষা দেওয়া যাক। "
    :--))))))) সত্যি ই হাস্যকর। এতগুলো স্মৃতিচারণা য় একথাটি কোথায় খুঁজে পাবা গেল? বরঞ্চ পাওয়া যাচ্ছে সাউথ-সাউথ কম্পারিজনের ভাবনার কথা। কলোনীর নিজস্ব সাহিত্য ও ভাষার কথা,
    একটা বিষয় হিসেবে তুলনামূলক সাহিত্য এর, ঐতিহাসিক বিবর্তন সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করলে , সে সম্পর্কে ভবিষ্যতে নানা জায়গায় লেখালিখির, বিষদ চর্চা র আশা করলে সেটার সমাধান একটি ফোন বা একটি ইমেল এই দাবি আরো হাস্যকর।:---)) আর এই নিকধারন টাও হাস্যকর। এটা যদি কোন সাইট পরিচালক এর বা অতি উত্তেজিত শুভাকাঙ্ক্ষী র নিক‌ হয়, তাহলে বলতে হয় তিনি ক্রোধান্ধ, উদ্যোগটি প্রশংসা করে , কয়েকটি সম্ভাবনা র কথা বলা হয়েছে মাত্র। আর যদি কেবল এক ব্যক্তি পাঠকের হয়, যিনি গয়ং গচ্ছে সুখী, তাহলে বলতে হয় তাঁর বিষয়টি সম্পর্কে ঔতসুক্যে ঘাটতি রয়েছে।
    আমি কোথায় কিসের জন্য আকুলতা প্রকাশ করেছি এই থ্রেডে , সেটা নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে অন্তত স্মৃতিচারণ গুলি আর আমার লেখা আরেকবার চোখ বোলাতে হবে, হয়ত দেখা যাবে অজানা র আনন্দ ভেসে এলো, কারণ একবার ও উল্টে দেখি হয়ে ছে বলে মনে হচ্ছে না, তে আকুলতার কথা বলা হয়েছে সে আকূলতা আমি অন্তত প্রকাশ করিনি। যাই হোক , সকাল সকাল রসবোধে পরিপূর্ণ পোস্ট টির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ:----)))))))))))
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 45.123.161.82 | ১১ আগস্ট ২০২০ ১৪:৩০732497
  • আমার খোলা এই টই এ কোন একজন এসে খামোখা চেঁচামেচি করে গেলেন। ভাবখানা এমন, অনুবাদ সাহিত্যের সাধারণ সমস্যা গুলির কথা ন্যুনতম চিন্তা না করে, তার ঘটে চলা কাজ কর্মের কথা সম্পর্কে একটা ন্যুনতম ধারণা না নিয়ে, আমি মানবেন্দ্র বাবুর স্মৃতি উদযাপন সম্পর্কে, মানবেন্দ্র বাবুদের বিভাগ ও কাজ ও তুলনামূলক সাহিত্য বিষয়টার মূল কয়েকেটি সমস্যা সম্পর্কে সময়ের কারণে তৈরী হওয়া সমস্যা গুলি নিয়ে চিন্তা না করে, বিষয়টির নিজসঅ সমস্যা গুলি সম্পর্কে না ভেবে কথা গুলি বলেছি। শান্তিনিকেতন এ থাকায় সুবিধে হল, বাড়ির অনুবাদ পত্রিকা র সংখ্যা গুলি ঘেটে দেখা গেল। যেহেতু কোন বিষয়েই, উদ্যোগ বা সাবজেক্ট ম্যাটার , কোনো বিষয়েই অতিরিক্ত উত্তেজিত অথবা গদ গদ হওয়া পছন্দ করি না, তাই প্রবাদ প্রতিম পরম শ্রদ্ধেয় মানবেন্দ্র বাবু স্যার দের সময়ের কাজের একটা সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছি নজ্জার মাথা খেয়েঃ-)) তো নুয়ান্স নর্মালি গেত্স মার্ডার্ড ইন দিস প্লেস, অ্যান্ড সোশাল নেটওয়ার্কিং ইন জেনেরাল, এমনি এমনি "বাক্শ্রমিক" (শিবাজী বাবু স্যার ব্যবহার করেছেন শব্দটি, মানবেন্দ্র বাব্য স্যার সম্পর্কে, এই সময়ে প্রকাশিত অবিচুয়ারি তে) মাষ্টারমশাই রা শতহস্ত দূরে থাকেন না ঃ-)))।

    বিষয়টার ঐতিহাসিক চলন টা মোটামুটি এরকম আমাদের দেশে। বুদ্ধদেব বসু মহাশয় কেন তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ এর গোড়াপত্তন করে ফেললেন, সে সম্পর্কে অনেক কথা পাবলিক ডোমেইনে বেরিয়েছে। প্রচুর লেখা লিখি আছে। যেটা বাংলা বিষয়, সেটা হল, শুধু ইংরেজি পড়ায় বোর হয়ে গিয়ে, আধুনিকতা জিনিসটা শুধু কলোনি মালিক ইংরেজ দের কাছে না বোঝার ইচ্ছে থেকে। বুদ্ধদেব বাবু প্রচন্ড ফ্যাশনেবল ও ছিলেন, তাই তিরিশ চল্লিশের দশকের আধুনিকতার উৎস সন্ধানে সারা পৃথিবীর চক্কর কাটছিলেন, এবং এটা আরো অনেকেই করছিএন। তাই বলে এই নয় ইংরেজি পড়ছিলেন না। সকলেই ইউরোপীয় সাহিত্য পড়ছিল , তাঁরাও পড়ছিল, সুদু ফরাসী রা ফরাসী ছাড়া কিসু পড়ছিলেন কিনা বলা মুশকিল ঃ-))))))) হব্সবমের একটা কথা আছে, প্যারাফ্রেজ করলে দাঁড়ায়.... দেয়ার ইজ আ স্ট্রেন্য প্রভিন্শিয়ালিজম ইন ফ্রান্স (অর অ্যাবাউট দ্যা ফ্রেন্চ)।
    তো তিরিশ চল্লিশ পঞ্চাশ সময়্টা ঠিক কি রকম।
    আমাদের দেশে কল্লোল ঘটে গেছে, প্রগতি সাহিত্যের চল শুরু হয়েছে, মানুষ রবীন্দ্রনাথে আটকে থাকছে না অনেক দিন থেকেই, সমর সেন, জীবনানন্দ নামক দুটি উল্কা পাত ঘটেছে তারা কোত্থেকে যেন সারা বিশএর লেখাপড়া মাথায় করে ঘুরছেন , বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ঞু দে রা এই শহরে কাজ করম করছেন। যুদ্ধ হচ্ছে আন্দোলন হছে, সুভাষ উন্মাদনা জাগাচ্ছেন। গদ্যে বাংড়ুজ্যে গণ। ফকির মোহন একটু আগের, মূলক রাজ আনন্দ, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় কাজ করছেন। সারা পৃথিবীর আর্টিস্ট রা, লেখক রা, প্যারিসে যাছেন যুদ্ধের পরে পরে। যুদ্ধের আগে? যুদ্ধের সময়ে? পল এলুয়ার , লুই আরাগঁ রা কাজ করছেন, রোমা রোলাঁ এবং আন্দ্রে গিদের হস্তক্ষেপে, ১৯৩৬-১৯৩৭ নাগাদ ভিক্তোর সার্জে কে ছেড়ে দিয়েছেন স্টালিন, যদিও রাশিয়ায় আর থাকতে দেন নি, তিনি ১৯৩৯-১৯৪৬ মেক্সিকো তে থাকছেন, এবং আস্তে করে কমিউনিস্ট স্টেটের নানা ক্রিটিক নামাছেন। ট্রটস্কি খুন হচ্ছেন, তার আগে রাশিয়াতেই মান্ডেলস্টাম খুন্ন হয়েছেন, আবার বুল্গাকোভ শস্তাকোভিচ বেঁচেও থাকছেন। তার আগে ১৯৩৬ এ স্পেন থেকে কয়েকশো, মতান্তরে হাজার ইন্টেলেকচুয়াল কে চিলি পালাতে সাহায্য করেহ্চেন, নেরুদা। ১৯৩৬ এই গের্নিকা আঁকা হচ্ছে, বার্কবেক কলেজের এমব্লেমে পায়রা এঁকে দিছেন পিকাসো, বন্ধু জে ডি বার্নাল এর জন্য। কোটনিশ চীনে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারে, আন্তর্জাতিক ব্রিগেড তৈরী হচ্ছে, জোর্জ অরওয়েল, ক্রিস্তোফার কডওয়েল রা যুদ্ধ করতে লেখা লিখি করছেন, না লেখা লিখি করবেন বলে যুদ্ধ করছেন পরিষ্কার না, পার্টিজান দের সংগে লড়তে ব্রিটিশ মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিক ইউরোপ জাচ্ছেন। জনযুদ্ধ প্রসংগে সোশালিস্ট কমিউনিস্ট ডিভাইড হচ্ছে, কিন্তু আন্দোলন ও হচ্ছে, ফ্যাসীবাদ ইত্যাদি ঘটছে, হত্যা যুদ্ধ হচ্ছে, কিন্তু তার সংগে শান্তি প্রশ্নে, শিল্প প্রশ্নে একটা আন্তর্জাতিকতা তৈরী হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ সভ্যতার সংকট লিক্খছেন, শোনা যায় ক্ষিতীষ রায় অনুবাদের ড্রাফ্ট করছেন, আমেরিকার চির কিশোর গন জীবনে প্রথম রাস্তায় বেরোছেন, বিট সাহিত্য তৈরী হচ্ছে, যদিও তার আগে, নেলসন আলগ্রেন শিকাগো তে ঘটে গেছেন, উইলিয়াম এস বারোজ এর নেকেড লাঞ্চ লেখা হয়ে গেছে, কেরুয়াক আইডিয়া আর শৈলী খানিকট আনুপ্রেরনা পাছেন।

    এই পিরিয়ড টা, বোঝা দরকার, এই ১৯৩৬ থেকে চীন সোভিয়েত ফল আউট, ১৯৬০-৬১, ইচ্ছে করেই ঘটনা গুলো সিকোয়েন্সে লিখলাম না, বোঝা দরকার এই সময়ে একটা আন্তর্জাতিকতার হদ্দমুদ্দ হচ্ছে। এম্পায়ার ভাঙা শুরু হচ্ছে কিন্তু মানুষ আন্তর্জাতিক সলিডারিটি র একটা অর্থ বুজছে। এই সময়ে তুলনামূলক সাহিত্য জিনিসটা স্রেফ পাঠ্য ইউরোপীয় সাহিত্য র পরিধি বাড়ানোর জন্যই হছে, না হয়ে উপায় থাকছে না।
    এর পরের পর্যায়ে, চীনের সআধীনতার এক্সপেরিয়েন্সের পরে, আমাদের সআধীনতা দেশ গড়ার নানা চ্যালেঞ্জ ছোন্ড়ার পরে, ষাঠের দশকে আরো কয়েক্টি সআধীনতা আন্দোলন দেখছে পৃথিবী, ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের শেশের দিন গোণা হচ্ছে, এবং ফ্রান্জ ফ্যানো , এইমে সিজারে, উসমানে সেম্বেনে ইত্যাদি দের লেখা পাওয়া যাছে, অবশ্য বলতে ভুলে গেছি সলতে পাকানো টা হয়েছে, মিহুয়েল আস্তুরিয়াস এর ফেবল্স অফ গুয়াতেমালা , সিরিয়ালাইজ করে ১৯৩৬-৩৭ নাগাদ ই প্যারিসে বেরোনোর সময় থেকে। যাই হোক ফ্যানোন এর লেখা বেরোনোর পরের সময়্টা মানবেন্দ্র বাবু স্যার এর কর্মজীবনে একটা প্রভাব আসছে, তিনি বুদ্ধদেবের প্রিয়তম ছাত্র হওয়া সত্তএও, অন্য ভাবে তুলনামূলক সাহিত্য দেখছেন। হিমানী ম্যাডামের লেখার মধ্যেই , এই স্মৃতি চারণেই তার ইংগিত আছে। একই পিরিয়ডে, হাইতির সআধীনতা আন্দোলন নিয়ে সি এল আর জেম্স লিখেছেন, ত্রিনিদাদের সআধীনতা আন্দোলনে রয়েছেন, ফ্র‌্যাংক ওরেল ক্যাপ্টেন হচ্ছেন, এবং সি এল আর জেম্স এর সেই অসাধারণ কথা, যদিও একটু আগে বলা, প্রথম বার বিলেতে আসার সময়, দ্য ব্রিটিশ ইনটেলেকচুয়াল ওয়াজ কামিং টু ব্রিটেন ফর দ্য ফার্সট টাইম, ফ্রাংকোফিল্ল দের যেমন ফ্যানন, তেমনি ইংরেজ সাম্রাজ্যের ভগ্নাবশেষ এ বস করা লোক জন দের জন্য আমরা বলতে পারি, সি এল আর এই লাইন্টাই পোস্ট কলোনিয়াল এক্স পেরিয়েন্স এর শুরু।
    তো মানবেন্দ্র বাবু স্যার লিখছেন। অনুবাদ করছেন। যখন এসব করছেন, তখন থেকে এক টানা যে একই কাজ করে চলেছেন তা না, অন্য ধরণের কাজ ও শুরু করে দিছেন, আমাদের এখানে রাম জনমভূমি ইত্যাদি শুরু হবার পর। তো আমার পোস্ট টির বক্তব্য ছিল, জল তো আরো গড়িয়েছে, সবাই কে বদলাতে হবে, রেজিস্টান্সে থাকতে চাইলে, অনুবাদ সাহিত্য তার কার্যপদ্ধতি ও বদলাবে, বদলাছে।
    এই প্রসংগেই কথা গুলি বলা। এবং তার সেলিব্রেশন হওয়াতে , ভোকাল এবং ইনসুলার পাঠকগোষ্ঠীর আঙিনাতে হওয়াতে খুশি প্রকাশ করা হয়েছে। ইত্যাদি।

    ফাইনালি দেখা গেল, পড়ার সময় তো আর কেউ গোনে না, গোটা দশেক অনুবাদ পত্রিকার সংখ্যাতে, ওল্ড ম্যান অ্যান্ড হিস ওয়াইফের করা ঐ গোটা দশেক অনুবাদ ই রয়েছে। সব্কটি ই নানা ভাষ থেকে বাংলা। ও এনারা, একে বাপ-মা তায় বয়সে বড় প্লাস প্রতি প্রভাতে প্রণম্য মানবেন্দ্র বাবু স্যার দের প্রজন্ম বলে কি এক্টু সমালোচনা করা যাবে না নাকি? হোয়ার ইজ দ্য উল্টো অনুবাদ। এন আর সি র আবহে এ কেন সইবো? ঃ-))))
    আবাপ কৃত রুচি প্রেস্ক্রিপশ্নের মুখে, সাহিত্যালোচনার পরিসর বড় করার জন্য তো সব রকম অনুবাদ ই জরুরী হবার কথা আর ইতিহাসের গতি প্রকৃতির সংগে তুলনা মূলক সাহিত্য বিষয় টির আকাদেমিক মতাদর্শ র ও বদলানোর কথা।

    তো ঐ আর কি, অনুবাদ পত্রিকা সত্যি ই ভালো পত্রিকা, কিন্তু সময় ও বিষয় জিনিষ গুলোর তো নানা সীমাবদ্ধতা সহ বৈশিষ্ট থাকবে। বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত , এসব অবশ্য মাথায় রাখতে গেলে, ক্রোধের পরেও একটা সময় লাগবে।
    রাষ্ট্র নিয়ে যাঁরা ভাবেন, তার গঠন নিয়ে যাঁরা ভাবেন, মানব ভবিষ্যত নিয়ে যে সব তরুন প্রকাশনা ভাবেন , তাদের প্রতিটি আকাদেমিক বিষয়ের কারেন্ট আর হিস্টোরিকাল চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে লেখা উচিত। সিলেবাসে ফস করে কি এসে গেল, বা এসে গেলে আর যায় না কেন, তার তো একটা কার্যকারণ আছে।
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | 45.123.161.82 | ১১ আগস্ট ২০২০ ১৫:০৫732498
  • ও আরেকটা কথা, আমার এই উদাযাপনের যে পার্ট টা ভালো লাগে নি, সেটার সংগে গুরুচন্ডালি পাঠক দের বা গুরুচন্ডালির পরিচালক বর্গের কোনো সম্পর্কে নেই। আরেকটি পত্রিকার সম্পাদক দের ও কোন দায় হয়তো নেই।

    এই সময় পত্রিকায় এবং এখানেও একটা লেখা দেখা যাচ্ছে , একটি ২০১৮ তে বেরোনো ফেলিসিটেশন ভলুম এর লেখার পুনর্মুদ্রন হয়েছে। এটা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে, যেখানে শয়ে শয়ে ছাত্র ছাত্রী সর্বত্র মোন খারাপ উজাড় করে দিচ্ছেন, তখন এই পুনর্মুদ্রন একটু শকিং। আমার স্যার কেউ মারা গেলে, তার সম্পর্কে পুরোনো লেখা অবিচুয়ারি বা স্মৃতিচারণের সংগে দিতে পারতাম না, যতই মূল্যবান হোক না কেন একটু পরে দিতাম। তবে যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরা কষ্টে আছেন, তাঁরাও স্যারের অনেক ঘনিষ্ঠ কাছের লোক, তাঁরা দিলে পত্রিকা সম্পাদক দের পক্ষে রিফিউজ করা মুশকিল শুধু না সম্ভব ও না, সবার মন খারাপ। কিন্তু এইটে আমার একটু বুকে বেজেছে। যদিও আঙুল কাটা একলব্য হবার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারিনি। বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত