• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • 'অমন মানুষ হয় না'

    শিবাংশু দে ফলো করুন
    আলোচনা : বিবিধ | ১৭ জুন ২০২০ | ১৯৮২ বার পঠিত

  • ভেবেছিলুম, কিছু লিখবো না আজ। পিতৃপুরুষদের নিয়ে বারবার মুগ্ধতা জানানো একধরনের প্রগলভতা। এক ধরনের অহমও। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো, দেখো আমাদের পূর্বপুরুষদের গরিমা। তাঁদের আলোর বিচ্ছুরণ চুরি নিজেদের অন্ধকার লুকোনোর ছেলেমানুষি। তাঁর গান নিয়ে লিখেছি অনেকবার। আবার লিখবো। যতোদিন লিখতে পারবো। যতোদিন মাথা কাজ করবে। কিন্তু সচেতনভাবে ‘মানুষ’টিকে নিয়ে লেখালেখি করিনি। সেই মানুষ ও তাঁর জীবন আর শিল্প পুরো জড়াজড়ি করে থাকে। একটা জানলেই অন্যটা জানা হয়ে যায়।

    আজ দেখছি বন্ধুদের লেখায় তিনি বারবার আসছেন। প্রলুদ্ধ হচ্ছি কি? নাহ, আজ তাঁর গানের কথা থাক। মানুষটিকে কেন্দ্রে রেখে যেসব গল্পসল্প জেনে এসেছি সেকালের নানা গুণী জনের কলমে, তার কিছু আজ স্মরণ করতেই পারি।

    '... বরং আমার মন আনন্দে নেচে ওঠে, যখন চেতলায় যেতে-আসতে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের দক্ষিণের ফুটপাথে গাছের তলায় পাড়ার লোকের চাঁদায় তৈরি হেমন্তের আবক্ষ মূর্তিটা আমার চোখে স্মিত হাসিতে ভেসে ওঠে। সাধারণ মানুষের ভালবাসার কাছে ক্ষমতান্ধ রাজানুগ্রহ নিতান্তই খোলামকুচি বলে মনে হয়।'
    (সুভাষ মুখোপাধ্যায় -২৯।১২।১৯৯৫)

    'গান অনেকেই গায়। নামও অনেকের। কিন্তু সবাই অজাতশত্রু হয় না। হেমন্ত সেদিক থেকে সত্যিই ভাগ্যবান। যেখানেই যাই শুনি- হেমন্তের মতন মানুষ হয় না। শুনে আমরা যারা তার ছেলেবেলার বন্ধু-আমাদের বুক দশ হাত হয়। নাম অনেকেই করে, কিন্তু সর্বজনীন ভালবাসা ক'জন পায়? বোম্বাইতে বেশ কয়েকবার আমি এর সাক্ষী। একবার এক ট্যাক্সিতে উঠে বলেছিলাম- ফোর্টিন্থ রোড যাব। তারপর একটু বাজিয়ে দেখার জন্যই বলেছিলাম হেমন্তকুমারের নাম। শোনা মাত্র ট্যাক্সি ড্রাইভারের সে কী উচ্ছ্বাস। তারও সেই এক কথা - অমন মানুষ হয় না।'
    (হেমন্তর কী মন্তর-সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

    'বাঙালিয়ানা' বলতে কী বোঝায়, একালের ছেলেমেয়েরা প্রশ্ন করে। তারা মুক্ত বাজারের মানুষ। মানুষের 'বাজারে' 'বাঙালিয়ানা' নামে কোনও স্পেকস হয় না। ভাষণ দিয়ে বোঝানো যায় না। বরং বলি, বাঙালিয়ানা মানে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তাঁর থেকে বেশ খানিকটা তফাতে থাকলেও আরেকটা নাম আসবে বোধ হয়। উত্তম কুমার। তারা খুব সহজে বুঝে যায়। রবীন্দ্রনাথের নাম অপব্যবহার না করেও, অথবা স্বামীজি বা নেতাজি ধরনের স্টারেদের ছেড়ে দিলেও, নতুন প্রজন্মকে 'বাঙালিয়ানা' বোঝানো যায়। এই গরিমায় পৌঁছোনো কঠিন। এ হলো মধ্যবিত্তের এক্সেলেন্স। তার উপরের বা নিচের স্তরে প্রতিবিম্বটি ধরা যাবে না। আয়নাটিতে অতোটাই ধরে। না হয় 'মধ্যবিত্ত'ই হলো। শব্দটা তো গালাগালি নয়। নয়, কোনও অপরাধের নাম। একটা মনোজগত মাত্র। তাই নিয়েই জন্মেছি। সেভাবেই চলে যাবো। পূর্ণ হবে না কখনও, কিন্তু 'আপওয়র্ড মোবিলিটি'র অসীম তৃষ্ণাটি রয়ে যাবে। 'অপরাধ' বলতে ঐটুকুই।

    হেমন্তকে কপি করা কতো সহজ। হাত গোটানো শাদা শার্ট। ধুতি, ব্যাকব্রাশ, কালো ফ্রেমের চশমা। আমাদের সময়ে একজন গান গাইতেন। চিত্তপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। গান গাওয়ার ধরন, কণ্ঠস্বর, উচ্চারণ, সাজপোশাক, ভাবভঙ্গি সব কিছুই স্বয়ং হেমন্তের থেকেও 'হৈমন্তিক' ছিলো। একবার কোনও এক অনুষ্ঠানে পকেটে কোঁচা গুঁজে, কোমরে হাত দিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। যেন অবিকল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে দেখে বন্ধু গীতিকার মিল্টু ঘোষ বলে ওঠেন 'এই চিত্ত, হাত নামা কোমর থেকে। তুই কি হেমন্তদা হয়েছিস?' সুবীর সেনের এক উদীয়মান গায়ক বন্ধু খুব গোপনে জানিয়েছিলেন কী করে হেমন্তদার মতো গলা বার করা যাবে? সুবীর চমৎকৃত। অমন 'ঈশ্বরে'র গলা কীভাবে পাওয়া যায়? বন্ধু চুপি চুপি খুব সিরিয়সভাবে জানান, গানের আগে একটা বিড়ি টেনে নিলেই অমন গলা বেরোবে।

    'তিনি যেন বাংলা সঙ্গীত পরিবরের একজন সংবেদনশীল অভিভাবক'। বলেছিলেন বিখ্যাত কম্পোজার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সারা জীবন হেমন্তের থেকে অকৃপণ ভালোবাসা, দাক্ষিণ্য পাবার ভাগ্য করেছিলেন। হেমন্তের কাছে গান গাওয়া কোনও জীবিকা ছিলো না। ছিলো 'জীবনসাধনা'। বাইরে অনুষ্ঠান করতে গেছেন। সঙ্গে অনুজ গায়িকারা আছেন। রাতের বেলা তাঁদের ঘরের দিকে চটির শব্দ এগিয়ে আসে। হ্যাঁরে, তোদের সব খাওয়াদাওয়া হয়েছে? হ্যাঁ দাদা। তবে এবার শুয়ে পড়। কালকে তো আবার গান আছে। চটির শব্দ দূরগামী হয়ে যায়। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার অনেকেই দেখেছেন। ছোটো বোনের প্রতি বড়ো দাদার স্নেহ অনুচ্য অনুভব হয়ে মুগ্ধ করে। দর্শকরা সবাই জানেন। 'বাঙালিয়ানা' বোধ হয় সেরকমই কিছু।

    হেমন্তকুমার তখন বম্বেতে সুপার সফল শিল্পী। সেখানকার বিখ্যাত গায়করা তাঁকে ধরে পড়েন তাঁরা হেমন্তের সুরে পুজোর গান করতে চান। হেমন্ত ভাবেন, সে তো ভালো কথা। এতো জন বিখ্যাত গায়ক যদি বাংলা গান করেন তবে সারা দেশে বাংলা গানের একটা প্রতিষ্ঠা হবে। গ্রামোফোন কোম্পানির কর্তা পি কে সেনও এ প্রস্তাবে খুশি। কিন্তু কোম্পানির মেজ কর্তা পবিত্র মিত্র পড়লেন বিপদে। তিনি হেমন্তকে জনান্তিকে জানালেন, 'ভাইব্যা দেখেন, বম্বের শিল্পীর তো সারা বসর কত কাম আসে। তারা প্রচুর অর্থ পায় বসর ধইর‌্যা। কিন্তু কইলকাতার শিল্পীগো তো একমাত্র ভরসা ঐ পুজার গান। হের সাফল্যের উপর তাগো সারা বসর প্যাট চলে। এখানের শিল্পী সব বাদ যাইবো। আপনি চিন্তা করেন, কী করবেন?' হেমন্ত বুঝতে পারেন কী ভুল হচ্ছিলো। তৎক্ষণাৎ বলেন, ' সরি, ভাববেন না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আমি একজনেরও গান করবো না। আমি আপনাকে কথা দিলাম।' উদ্যোগটির সঙ্গে হেমন্তের কী পরিমাণ উপার্জন জড়িয়ে ছিলো সে কথার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। অভিজিৎ বলেছিলেন 'হেমন্তদা জাত Humanist, জাত বাঙালি'। বাঙালিয়ানা, কী এরকমই কিছু?

    তাঁর জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। ধুলোমুঠি সোনা। বাংলা ছবির এক অকালপ্রয়াত কলাকুশলীর পরিবারের সাহায্যের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। তাঁরা হেমন্তকে অনুরোধ করলেন। তিনি এলেই আশাতিরিক্ত অর্থসংগ্রহ করা যাবে। সব শুনে তিনি রাজি হলেন। তবে বললেন তাঁর পুরো পারিশ্রমিক ও বম্বে-কলকাতা বিমানভাড়া তাঁকে অগ্রিম পাঠাতে হবে। তবেই তিনি গান করবেন। সংগঠকদের রাজি না হয়ে উপায় ছিলো না। তিনি ছাড়া টিকিট বিক্রি হবে না। কিন্তু আড়ালে গালাগালি দেওয়া শুরু হলো। হেমন্ত সবই জানতে পারছেন। কিন্তু কোনও মন্তব্য করছেন না।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রয়াত সজ্জনের সহধর্মিণীকে ডেকে নিলেন তিনি। বলতে শুরু করলেন, 'হেমন্ত মুখোপাধ্যায় অমুক হয়ে গেছেন, তমুক হয়ে গেছেন। এত টাকা নিয়েছে, প্লেন ফেয়ার নিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি সবই আমার কানে এসেছে। সবই সত্যি।' তিনি স্বীকার করলেন, অনেক টাকা নিয়েছেন। কেন? 'সাধারণত এই সব Charity Programme-এ যাঁর জন্য Charity তিনি কিছুই পান না। তাই আমি আমার সব পাওনা নিয়েছি আর সেই সব অর্থটাই আমি বৌদির হাতে তুলে দিচ্ছি, যাঁর সাহায্যার্থে এই অনুষ্ঠান।' প্রেক্ষাগৃহের মানুষ , তাঁদের মুগ্ধতা বন্ধহীন হয়ে ফেটে পড়ে করতালিতে। 'জাত বাঙালি'?

    যখন রোগে কণ্ঠ অবসন্ন হয়ে পড়েছে, তখনও তিনি কেন গাইছেন এ প্রশ্ন উঠতো বার বার। তাও যদি কেউ বলতো, ভালো লেগেছে। তিনি বলতেন, অনেক দিন তো ভালো শুনেছো। এবার একটু খারাপ শোনো। সহধর্মিণী বেলা একদিন বলতে যান, গান ভালো হয়েছে। হেমন্ত উত্তরে বলেন, 'কাকে কী বোঝাচ্ছো?'

    একজন তাঁকে বহুদিন ধরে অনুরোধ করছিলেন একটি ক্যাসেটে যদি হেমন্ত দুটি গান গেয়ে দেন, তবে পাঁচ হাজার টাকা দেবেন। তিনি সময় পাচ্ছিলেন না। হঠাৎ তিনি একদিন নিজেই ফোন করে সেই মানুষটিকে ডেকে পাঠান। বলেন, 'যদি কালকের মধ্যে দশ হাজার টাকা দাও, তবে চারটে গান গেয়ে দেবো। চাও তো পুরো ক্যাসেটটা গেয়ে দেবো।' শেষে কুড়ি হাজার টাকা নিয়ে পুরো ক্যাসেটটাই তিনি গেয়ে দিলেন। তার পর তিনি বললেন, 'তুমি আমায় বাঁচালে- আমার একটা টাকা আসতে দেরি আছে। কিন্তু মাসটা কাবার হলেই বাড়ি বাড়ি খাম পাঠাতে হবে-না হলে তাদের সংসারে অসুবিধে হবে।‘ 'বাঙালিয়ানা'?

    একবার পুজোর সময় ঠিক, হেমন্ত অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে গান গাইবেন। সবাই তাই জানে। হঠাৎ হেমন্ত জানালেন কোনও অনিবার্য কারণে মুকুল দত্তের গান তাঁকে নিজের সুরে গাইতেই হবে। তাই অভিজিতের গান এবার গাইতে পারবেন না। অভিজিৎ হেমন্তকে জানালেন এমন হলে তাঁর জীবিকায় সমস্যা হবে। তখন হেমন্ত বলেন, বেশ তিনি মুকুল দত্তের একটি গান গাইবেন। অন্যটি অভিজিতের হবে। তবে একটি শর্ত আছে। মুকুল দত্তের যে গানে তিনি সুর দেবেন সেটিও অভিজিতের নামেই বিজ্ঞাপিত হবে। সেই গান দুটি 'আমিও পথের মতো হারিয়ে যাবো' আর 'অনেক অরণ্য পার হয়ে'। বাঙালির সাইকির গভীরে রয়েছে তারা। অভিজিৎ দুটি গানের জন্যই রয়্যালটি পেলেন। আমাদের সমাজে অনুজের অভিভাবক হ'ন তাঁর বড়ো ভাই। 'বাঙালিয়ানা' তারে কয়?

    শেষ জীবনে অমিতাভ চৌধুরির বাড়ির রবিবারের আড্ডা হেমন্ত নিয়মিত আসতেন। তিন তলায় উঠতে কষ্ট হতো, তবু। সেই আড্ডায় আসতেন, সুচিত্রা সেন, বসন্ত চৌধুরি, নির্মলেন্দু চৌধুরি, বিকাশ রায়, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়, সুরজিৎ দাশগুপ্ত, বিজয় চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। কখনও বা সুনীল-শক্তি। সস্ত্রীক সুধীন দাশগুপ্ত। হেমন্ত আড্ডা উপভোগ করেন। কথা কম বলেন। একদিন বলেন, ‘তোমরা ভাবো আমি ব্যস্ত, কাজের মানুষ, আসি কী করে? কিন্তু এখন আর আমি ব্যস্ত নই। বাড়ি থেকে কদাচিৎ বেরোই । একাই থাকি। স্ত্রী বেলা গানটান ছেড়ে শুধু তাস খেলেন। অনেক কাজের লোক আছে। তাই সেরকম অসুবিধে নেই।‘ বাংলা সাহিত্যের সব খবরাখবর রাখেন। বম্বে যাননা আর। তাঁর চিন্তা চারজন বন্ধুকে নিয়ে। তাঁর যৌবনকালের বন্ধু। সমরেশ রায়, অজিত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। তাঁদের পারিবারিক খরচ তিনি বহন করেন। 'তাদের তো ফেলে দিতে পারিনা। ওরাও সুখে থাকুক'।

    অন্তিম অসুস্থতার সময় হাসপাতালে যাবার আগে নিজে 'খাম' গুলো সাজিয়ে রেখে গিয়েছিলেন। বলে গিয়েছিলেন নিয়ম মতো তাদের যেন পৌঁছে দেওয়া হয়। যথাসময়ে, নয়তো বন্ধুদের অসুবিধে হয়ে যাবে। সম্পন্ন 'মধ্যবিত্তে'র 'বাঙালিয়ানা'। একটি মানুষ যখন কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন, তাঁকে ঘিরে গল্পেরা গড়ে ওঠে। উঠতেই থাকে। হেমন্তকে ঘিরে গল্পের শেষ নেই। কতো আর লিখি? মানুষ সেই সব গল্প শুনতে ভালোবাসে। যে যাই বলুক, মানুষ তো শেষ পর্যন্ত 'তিমিরবিনাশী'ই হতে চায়। হেমন্ত ছিলেন বাঙালি মূল্যবোধের সময়প্রহরী। গুরু রবীন্দ্রনাথের থেকে ব্যক্তিসত্ত্বা আর শিল্পসত্ত্বাকে মিলিয়ে জীবনে যাত্রাপথের যে কম্পাস তিনি পেয়েছিলেন, তার দিক কখনও ভুল হয়নি। এমনি এমনি একটা মানুষ হাত বাড়ালেই আকাশ ছুঁতে পারে না।

    অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলতেন 'দেবশিল্পী'। সলিল চৌধুরী বলতেন, 'হেমন্তদা বা লতা যখন আমার গানের শিল্পী, তখন কল্পনা আমার দিগন্ত ছাড়িয়ে যায়। Sky is my limit.'
    আকাশই তাঁর সীমা হতে পারে। আকাশ পেরিয়ে ঐ পারেও রয়েছে তাঁর রাজপাট। বাঙালি হয়ে জন্মাবার সুবাদে যেসব ওয়রিশন ফাঁকতালে পেয়ে গেছি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে একটি সেরা অহংকার। নীল ধ্রুবতারা। সব প্রশ্ন থেমে যায় সেদিকে তাকিয়ে। তাকিয়ে থাকাটাই আমাদের প্রাপ্তি । অমলিন উজ্জ্বল উদ্ধার।

    ছবি: বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত
  • বিভাগ : আলোচনা | ১৭ জুন ২০২০ | ১৯৮২ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • . | 188.148.43.169 | ১৬ জুন ২০২০ ২৩:৪০94370
  • .

  • কুশান | 2401:4900:3149:567:58df:a47d:f59c:2e72 | ১৭ জুন ২০২০ ০১:২৫94372
  • শিবাংশু, আপনার লিখন-মুন্সিয়ানা ও মজলিসের ধরণ মুগধ করে। আপনার এই লেখার কেন্দ্রীয় অংশের সঙ্গে আমি সহমত। কোথাও পড়েছিলাম, তাঁর একটি কোনো পত্রিকার সাক্ষাৎকারে, তিনি, হেমন্ত, নিজেকে মধ্যবিত্ত বলতে ভালোবাসেন এবং মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ তাঁর নিহিত শক্তি, এই তার আত্মপরিচয়।

    কিন্তু, লক্ষ্যণীয় একটি বিরোধাভাস। আপনি একটি উদাহরণ দিয়েছেন, তবুও তাকে আমি ব্যতিক্রমী বলব। আপনার অংশটি আগে তুলি:

    "উদ্যোগটির সঙ্গে হেমন্তের কী পরিমাণ উপার্জন জড়িয়ে ছিলো সে কথার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। অভিজিৎ বলেছিলেন 'হেমন্তদা জাত Humanist, জাত বাঙালি'। বাঙালিয়ানা, কী এরকমই কিছু?"

    এটি সত্যিই হেমন্ত অনন্য ছিলেন। এইসব বহু ঘটনা শোনা যায়, এই ওই আড্ডায় আরো কিছু শুনেছি। কিন্তু, এখানে প্রশ্ন, হেমন্ত কি বাঙালি শিল্পীর জায়গায় বরং বম্বে-আগত লতা এবং আশাকে, নিরন্তর প্রমোট করে যাননি বাংলা গানের জগতে? লতা নিয়ে তিনি উচ্ছাস গোপন করতে পারতেন না। আশা নিয়েও তাঁর দুর্বলতা ছিল। একটি ইন্টারভিউ সাক্ষ্য দেয়( তিরিশ বছর আগের পড়া ম্যাগাজিন, প্রমাণ দিতে পারব না, লিংক তো নয়ই) তিনি বলেছেন, লতা এবং আশা যুগের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের বদলাতে পেরেছে। সন্ধ্যা পারে নি। আর তিনি প্রতিমা সম্পর্কে সস্নেহে বলেছেন, প্রেমের গান গাইবে কি, ও তো প্রেম ব্যাপারটাই কি বোঝে না।

    হেমন্ত উদার ছিলেন, জগজিৎ ও ভূপিন্দর সিং তাঁর কাছে আসতেন। 'দুটি কমবয়সী ছেলে', ওরা আসে। একথা বলেছেন।

    হেমন্ত স্পষ্টবক্তা ছিলেন। ' সলিল আমায় বাংলায় নীল ধ্রুবতারা গাওয়াল, কিন্তু, হিন্দি গাওয়ার সময় তো দেখলাম মুকেশ কেই নিলো'― এই গোছের কথাও সেই দীর্ঘ ইন্টারভিউতে পড়া।

    আপনি যে উদাহরণ টি দিয়েছেন সেটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী, কেননা, তিনি অবিরল লতা এবং আশাকে বাংলা গানে প্রমোট করেছেন। এখানে কিছুটা বাঙালিয়ানা ক্ষুণ্ন হয়, (যদি বাঙালি শিল্পীর রুটি রুজির সচেতন রক্ষাই বাঙালিয়ানা হয়।) যেসব ছবির তিনি সুরকার সেখানে লতা আছেন, আশাও আছেন, বাঙ্গালি শিল্পী তুলনায় কম বা নগণ্য। এগুলি ঘটেছে ষাটের দশকে মূলত। শেষের দিকের ছবিতে বরং তাঁর পরিচালনায় অরুন্ধতী হোম চৌধুরীর মত নবীন শিল্পী স্থান পেয়েছেন।

    আপনার লেখায় বাঙালিয়ানা নিয়ে অন্যান্য সমস্ত পয়েন্ট নিয়ে আমার দ্বিধা নেই। বরং এগুলি বিস্ময় উদ্রেককারী ও মানবিক। কিন্তু এই মানবিকতা কি মধ্যবিত্ত বাঙালির একান্ত? এই প্রশ্ন এসে যায়।

    আপনার কাছে আরেকটি অন্য প্রসঙ্গের প্রশ্ন, সলিলের ও সুধীন দাশগুপ্তের সুরের চলন ও সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আপনার কোনো লেখা আছে? আমার আশু প্রয়োজন।

    আরো লিখুন। ভাল থাকুন।
  • aranya | 162.115.44.102 | ১৭ জুন ২০২০ ০৩:০৮94374
  • 'যে যাই বলুক, মানুষ তো শেষ পর্যন্ত 'তিমিরবিনাশী'ই হতে চায়' - সার কথা

    ভাল লাগল হেমন্তের গল্প
  • সুকি | 49.207.201.243 | ১৭ জুন ২০২০ ০৪:০৪94375
  • লেখা যথারীতি দারুণ লাগলো। 

    কিন্তু আমার ক্ষুদ্র বিচারে এই লেখায় বেশ কিছু জায়গায় হেমন্তের আচরণকে যে 'বাঙালিয়ানা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা মনে হয় ঠিক বাঙালিয়ানার থেকেও এক বড় মনের মানুষের লক্ষণ 

  • b | 14.139.196.11 | ১৭ জুন ২০২০ ০৯:৪১94383
  • হেমন্তর এই টাকা পাঠানোর কথা সুধীরবাবুর লেখাতেও পড়েছি।
    এদিকে চরমতম পেশাদার, ১ ঘন্টার প্রোগ্রামে ঠিক ১ ঘন্টাই গাইবেন (কম নয়, বেশি নয়), কোনো গানই চার- পাঁচ মিনিটের বেশি নয়। গড়ে ১২টা থেকে ১৫ টা গান।
  • Tim | 174.102.66.127 | ১৭ জুন ২০২০ ১০:২৯94384
  • ভারি ভালো লাগলো। অনেক পুরোনো কথা মনে পড়লো।

    মিত্র ইন্সটিটিউশনে আমি যখন প্রাথমিক স্তরে, প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সরস্বতী পুজোয় আসতেন। আন্দাজ করছি সাতাশি সালের কথা। আমার স্মৃতিতে খুব অস্পষ্ট সেই ঘটনা। সরস্বতী পুজোয় ভিড় তো এমনিতেই খুব হত, তার ওপর হেমন্তবাবু আসায় আরো ভিড়। চাপা গুঞ্জন, "হেমন্ত এসেছেন হেমন্ত এসেছেন"। মা বলে, এর মধ্যেই আমার জনৈক সহপাঠী নাকি সামান্য অসহিষ্ঞু হয়ে "হেমন্ত কই? কোথায় হেমন্ত?" বলে একটু চেঁচিয়ে ওঠে। তার তেমন দোষ নেই, ঐ হাইট থেকে, ভিড় ছাপিয়ে, পাশ দিয়েই হেঁটে যাওয়া হেমন্তবাবুকে দেখা তার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা। অতঃপর দীর্ঘকায় হেমন্তবাবু নাকি এক ঝটকায় শিশুটিকে কোলে নিয়ে, "এই যে বাবা আমিই হেমন্ত" বলে তাকে শান্ত করেন।

  • Tim | 174.102.66.127 | ১৭ জুন ২০২০ ১০:৩০94385
  • ফেসবুকে তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতিচারণ পড়ে এই মজার গল্পটা মনে পড়ে গেল। তাই টুকে রাখলাম এখানেও।
  • r2h | 49.37.12.111 | ১৭ জুন ২০২০ ১০:৫১94386
  • যথারীতি দারুন।
    "...তিনি প্রতিমা সম্পর্কে সস্নেহে বলেছেন, প্রেমের গান গাইবে কি, ও তো প্রেম ব্যাপারটাই কি বোঝে না..." - এটা পড়ে হেমন্ত'র সঞ্চালিত প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের ভিডিও (ইউটিউবে আছে) মনে পড়লো, মজার জিনিস।
    বম্বের মত ঝলমলে তারকাখচিত শহরে ধুতি শার্ট পরা লোক ঠোঁটে সিগারেট ঝুলিয়ে ঝড়ের বেগে মার্সিডিজ গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছে আর লোকজনের চোখ ট্যারা হয়ে যাচ্ছে - কল্পনা করতেই শিহরন হয়।

    যদিও পেশাদারের অবলিগেশন থাকে, কত কী হয়। এক প্রবীণার কাছে গল্প শুনেছিলাম, সত্তরের দশকে কখনো, লন্ডনে হেমন্ত গেছেন গান গাইতে, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশি ছাত্র ছাত্রীরা সব মহা উত্তেজনায় গেছে, কোন ভারতীয় গোষ্ঠী আয়োজন করেছে অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠান এগোয়, হেমন্ত আর কোন বাংলা গান গান না, খালি হিন্দি। একটু হৈচৈ করাতে নাকি হেমন্ত বলেন একটু মানিয়ে নিন। শেষে ওঁরা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে আসেন। ঐ অনুষ্ঠানে হেমন্ত নাকি আদৌ কোন বাংলা গান গাননি, স্পনসরদের অন্য দাবী ছিল। তা থাকতেই পারে, এতে কিছু প্রমানও হয় না, সত্যি মিথ্যেও জানিনা। পেশাদারীত্বের দিক দিয়ে আমি বরং বলবো উনি টিপিক্যাল বাঙালী ইমেজের বাইরে বেরুতে পেরেছিলেন।
  • r2h | 49.37.12.111 | ১৭ জুন ২০২০ ১০:৫৩94387
  • প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্রান্ত কথা মন্তব্যে কুশানদার পোস্ট প্রসঙ্গে।
  • r2h | 49.37.12.111 | ১৭ জুন ২০২০ ১১:০২94389
  • উফ পুনশ্চ দিতে দিতে পাগল, একবারে গুছিয়ে কথা বলতে কী হয়। প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইন্টারভিউ শিবাংশুদা যেটা উল্লেখ করেছেন অলরেডি সেটার কথাই বললাম।
  • বিশ্বনাথ দাশগুপ্ত | 116.193.143.32 | ১৭ জুন ২০২০ ১১:২১94390
  • আমার ছোড়দা Shib Chaudhury লিখছেনঃ
    আমার বন্ধুভাগ্য বরাবরই ভালো। এক এক বন্ধুুর মধ্যবর্তিতায় বিভিন্ন জগতের বহু মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। তদ্ধেতু অভিজ্ঞতার ঝুলিও সমৃদ্ধ হয়েছে।
    এদেরই একজন পিন্টুদা, পিন্টু ভট্টাচার্য। আমার থেকে প্রায় ছ'বছরের বড়। ফলে বন্ধুতার সঙ্গে সঙ্গে স্নেহ আর পক্ষপাতিত্ব পেয়েছি অফুরান। তৎসত্ত্বেও বয়েসের কারণে কোনো আলোচনাতেই অস্বস্তি হয়নি কোনোদিন।
    পিন্টুদার সবথেকে প্রিয় বন্ধু এবং তবলায় সহযোগী ছিলেন বুল্টুদা অর্থাৎ সুব্রত বসু। আজও তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই গভীর। এই দুজনের জন্য সেই সময়ের আধুনিক সংগীত জগতের প্রায় সমস্ত ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই পরিচয়ের সুযোগ ঘটেছে।
    হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে প্রণাম করার সুযোগ পেয়েছি কয়েকবার। পর্বতপ্রমাণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে স্নেহমধুর ব্যবহারের মিশ্রণ বিস্ময়কর।
    কিন্তু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ছোটভাই অমলদার সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে মেশার সুযোগ হয়েছে। উনি একবার আমাদের নিমন্ত্রণ করলেন ওনার বাড়িতে। পিন্টুদা বুল্টুদা আমি আর আরো দুজন। দু-তিনজন গায়ক গায়িকা আর বুল্টুদা মানেই প্রচুর গান বাজনা। শেষ বিকেলে অমলদার বাড়ি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল গান বাজনা। অমলদার এক বিশেষ গুণ ছিল যেকোনো লেখা এমনকি খবরের কাগজও হাতে ধরিয়ে দিলে মুহূর্তমাত্র সময় না নিয়ে সুর তৈরি করে হারমোনিয়ম সহযোগে গেয়ে দিতেন। আমি একবার পিন্টুদার ভাইঝির বিজ্ঞানের বই ধরিয়ে ছিলাম। উনি নির্দ্ধিধায় গান তৈরি করেছিলেন। 
    যেহেতু খুব ঘনিষ্টদের  উপস্থিতি ছিল তাই হারমোনিয়ম তবলার সমভিব্যাহারে ফিশফ্রাই আর হুইস্কি এসে গেল। গান-আড্ডার আসর বেশ জমে উঠেছে। বোম্বাই-এর এক নায়কের দান ধ্যান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অমলদা উঠে বাড়ির ভিতরে গেলেন। ভাবলাম টয়লেট অথবা ডিনারের তত্ত্বাবধানে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এলেন। হাতে এক বাঁধানো খাতা। খাতাটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, দ্যাখো।  খুলে দেখলাম রুলটানা খাতা, তার প্রতি পৃষ্ঠায় একটা করে নাম আর ঠিকানা লেখা। নিচে পেন্সিলে খোপ কাটা। তাতে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর লেখা, তার পাশে পাশে টাকার অঙ্ক তারিখ আর স্বাক্ষর। 128পৃষ্ঠার খাতার প্রায় 115-16 পৃষ্ঠাতেই বিভিন্ন ব্যক্তির নাম লেখা। টাকার অঙ্ক দেখলাম এক এক জনের এক এক রকম। 150 টাকা থেকে 1200 টাকা। যা তখনকার দিনে বেশ বড় অঙ্ক। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মাসের প্রথমেই টাকা পাঠিয়ে দেন। আর অমলদার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে গোপনে সাহাজ্য পৌঁছে দেওয়া।
    অমলদার সঙ্গে বহুদিনের সম্পর্ক। সেদিন ভাগ্যিস অমলদার পানের মাত্রা একটু বেশি হয়েছিল !

  • r2h | 49.37.12.111 | ১৭ জুন ২০২০ ১১:২৬94391
  • আরেকটা পুনশ্চ, এই শেষ, গ্যারান্টি।

    ছবিটা দারুন, এই ছবিটার জন্যে পুরো পাতাটার চেহারাই পাল্টে গেল, এমনকি গুরুর ল্যান্ডিং পেজটার আলাদারকম ভালো লাগছে। এই মানের ছবি গুরুতে মাঝেমধ্যে এলে সেটা আলাদা বড় প্রাপ্তি।
  • শিবাংশু | 103.87.142.195 | ১৭ জুন ২০২০ ১৩:২৭94400
  • @কুশান,
    প্রথমে 'লতা-আশা-রফি' প্রসঙ্গ।
    বিষয়টি নিয়ে বাঙালিদের অভিযোগ অনেক শোনা যায়। বম্বে ছবির সঙ্গীত জগতের রীতিপ্রকৃতির সঙ্গে কলকাতার অনেক ফারাক। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম ব্যাপারটি নিয়ে লিখেছিলেন। বম্বেতে একটাই শর্ত আছে। গুণমানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। বাংলাগানের সঙ্গে যুক্ত সেরা কম্পোজাররা অনেকেই বম্বে গিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিবেচনার মাত্রাগুলিকে সেখানকার নিয়মে বদলে নিয়েছিলেন। অনিল বিশ্বাস, শচীনকত্তা, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, পঞ্চম বা বাপী লাহিড়ি, কেউই ব্যতিক্রম নন। এঁরা সবাই 'ঘোর' বাঙালি। এ প্রসঙ্গে শচীনকত্তার বক্তব্যটি খুব স্পষ্ট লেগেছে আমার। কোনও 'সেন্টিমেন্টে'র ধোঁয়াসা নেই তার মধ্যে। তাঁর মতে প্রযোজক যখন পুঁজি নিবেশ করেন, তখন তাঁকে সেরা বস্তুটি দেওয়া কর্তব্য। খগেশ দেব বর্মণের সঙ্গে এক আড্ডায় তিনি বলেছিলেন শচীনকত্তা ত্রিপুরার শিল্পীদের প্রতি পক্ষপাত দেখাতেন না বলে সেখানকার মানুষদের বেশ ক্ষোভ ছিলো। স্থানীয় শিল্পী দূরে থাকুন, স্বয়ং মান্না দে'ই উপেক্ষিত থাকতেন। ভাবা যায়? মান্না দের লেখায় পাই, একই গান বড়োকত্তা রফিসাব, তলাতসাব ও মান্না দে'কে দিয়ে গাইয়ে রেকর্ড করে রাখতেন। যাঁর গান কত্তার মতে সব দিক দিয়ে উপযুক্ত মনে হতো, সেটিই ছবিতে ব্যবহার করতেন।

    রইলো 'লতা-আশা' প্রসঙ্গ। দেখুন ভাই, ওঁদের প্রসঙ্গে আলোচনা করার সময় আমি ভুলে যাই আমি 'বাঙালি' না অন্য কিছু। ওঁরা নৈসর্গিক শক্তির অধিকারী। ঠিক 'তুলনা'র মধ্যে আসেন না।

    @সুকি, কুশান,
    'বাঙালিয়ানা' ব্যাপারটা ঠিক বঙ্গভাষীর 'স্বার্থরক্ষা' নয়। একটা উদাহরণ দিই। আমাদের দেশের বৈশিষ্ট্য হলো, এর ভূগোলটা 'এক' হলেও সংস্কৃতিগুলি ভিন্ন। উত্তরভারতে যে ব্যাপারটা আমরা পঞ্জাবিয়ৎ বা কশ্মিরিয়ৎ বলে জানি, সেটা হাল আমলের গুজরাতি 'অস্মিতা'র থেকে আলাদা। পঞ্জাবিয়ৎ ব্যাপারটা যেমন দুই পঞ্জাবেই আছে, কশ্মিরিয়ৎ ব্যাপারটাও তাই। আমাদের 'বাঙালিয়ানা'ও পূর্ব-পশ্চিমের সীমা মানে না। তবে 'বাঙালিয়ানা'র বয়সটা অপেক্ষাকৃত কম। পল্লীবাংলার নানা পরম্পরা আমাদের ইংরেজিশিক্ষা ও ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে মিলেমিশে আমাদের 'বাঙালিয়ানা' তৈরি করেছে। আমাদের বাঙালিয়ানায় পরিশীলিত গ্রামীণ ও নাগরিক রুচি, ফিউড্যাল প্রবণতা থেকে অগ্রাধিকার পায়। বাংলা রেনেশাঁস কতোটা সত্য, কতোটা কিংবদন্তি তা পণ্ডিতরা বিচার করবেন। কিন্তু ঐ একশো বছরে বাঙালির মূল্যবোধের জগৎ আমূল পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলো। আমি 'বাঙালিয়ানা' বলতে মূল্যবোধের ঐ উৎকর্ষের কথাই বলতে চেয়েছি। অনেক কিছুর মতো 'বদান্যতা'ও তার একটি অঙ্গ। বিশ্বনাথবাবুর পোস্টে তার কিছু বিশদ পাচ্ছি আমরা।

    @b,
    নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাঙালিদের মধ্যে 'পেশাদারিত্ব' শব্দটির সঙ্গে কিছু নেতিবাচী ব্যঞ্জনা লেগে থাকে। 'পেশাদার' মানেই অর্থগৃধ্নু' বা চশমখোর নয়। বম্বেতে শব্দটি সাহেবদের পরিভাষা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। 'পেশাদারিত্ব' মানে দক্ষতা ও নিবেদনের শীর্ষ অবস্থান। সঙ্গে ন্যায্য পারিশ্রমিক। বাংলায় এই সংস্কৃতিটি ছিলো না। একটা আলাভোলা গোছের ব্যাপার ছিলো। বাংলা থেকে যেসব শিল্পীরা আদিযুগে বম্বে জয় করতে গিয়েছিলেন, হেমন্ত তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। আরও অনেকের মতো তাঁর মাধ্যমেও বম্বের ইতিবাচক পেশাদারিত্বের সংস্কৃতিটি আমরা বাংলায় পেয়েছিলুম। হুতোও সেই কথাই বলতে চেয়েছে।
  • b | 14.139.196.11 | ১৭ জুন ২০২০ ১৩:৫১94401
  • আমি পেশাদার কথাটা ইতিবাচক হিসেবেই বলতে চেয়েছি। ঐ ইংরিজি মানেই।
  • b | 14.139.196.11 | ১৭ জুন ২০২০ ১৩:৫৭94402
  • হেমন্ত চলে যান ১৯৮৯, ২৬ সেপ্টেম্বর। সেদিনের না কি পরের দিনের সান্ধ্য আজকালের হেডিং এখনো মনে আছে "শরতে হেমন্ত নেই"।
  • শিবাংশু | 103.87.142.195 | ১৭ জুন ২০২০ ১৪:০৩94403
  • @ b | 14.139.196.11 | ১৭ জুন ২০২০ ১৩:

    জানি, একশোবার ঃ-)
  • i | 110.174.240.222 | ১৭ জুন ২০২০ ১৪:১৯94404
  • একটু অপ্রাসঙ্গিক-
    বিশ্বনাথবাবু যখন অমল মুখোপাধ্যায়ের কথা তুললেনই, দুটো গান মনে পড়ে গেল; আমার ছোট্টোবেলায় মা গেয়ে শোনাত ঃ তার নধ্যে দুটি গানঃ চুপ চুপ লক্ষ্মীটি শুনবে যদি গপ্পটি এক যে আছে তোমার মত ছোট্টো রাজকুমার আর টগবগ টগবগ ঘোড়া ছুটিয়ে ঝিলমিল ঝিলমিল নিশান উড়িয়ে-
    আরো গান ছিল , কিন্তু এই দুটি গানের প্রতিটি লাইন পরিস্কার মনে আছে।
  • স্বাতী রায় | 117.194.42.198 | ১৭ জুন ২০২০ ১৫:২১94406
  • লেখা নিয়ে কিচু তো বলার নেই, ছবিখানা মনোহরা। সাধু সাধু।

  • AS | 103.56.239.84 | ১৭ জুন ২০২০ ১৭:১৬94408
  • অমিতাভ চৌধুরীর বাড়ির রবিবারের আড্ডার প্রসঙ্গে সুচিত্রা সেনের উল্লেখ দেখে একটু খট্কা লাগল উনি নাকি সুচিত্রা মিত্র ।।
  • / | 103.124.124.150 | ১৭ জুন ২০২০ ১৯:১৩94409
  • b ওটা সেদিনের সান্ধ্য আজকাল, আমার এখনও ঐ হেড্লাইনটা মনে আছে।হেমন্ত খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন।
  • শিবাংশু | 223.191.39.202 | ১৭ জুন ২০২০ ২০:৪০94410
  • @AS
    আমারও খটকা লেগেছিল। সেনের চাইতে মিত্রের সম্ভাবনা অনেক বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু অমিতাভ স্পষ্ট সেনই লিখেছেন। ছাপাখানার ভূত কি না সেটা জানার জন্য সাক্ষীরা কেউ আর বর্তমান নেই।
  • Tim | 174.102.66.127 | ১৭ জুন ২০২০ ২১:৪০94411
  • ছোটাইদির পোস্ট প্রসঙ্গে, দ্বিতীয় গানটি আমার শোনা। এমনিতেই হয়ত এতদিন পরে ভুলেই যেতাম, তবে আমার এক কাকু এই গানটা ছোটদের গাওয়ানোর চেষ্টা করতেন তাই মনে আছে।
  • কুশান | 103.87.141.149 | ১৭ জুন ২০২০ ২১:৪৮94412
  • হেমন্তের জায়গা থেকে একটা অপ্রাসঙ্গিক দিকে আলোচনা চলে যাচ্ছে হয়ত। তবুও বলি। সুচিত্রা সংক্রান্ত সন্দেহ আমার খুব একটা হচ্ছে না। অমিতাভ চৌধুরীর একটা লেখার অংশ মনে পড়ছে। ঘটনাটি বলি। একদিন সুচিত্রা সেন সবাইকে লিচু দিচ্ছিলেন। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতেও তুলে দিলেন। শ্যামল অবিলম্বে লিচুটি নিয়ে নিজের পকেটে ভরে নিলেন। তখন সুচিত্রা সেন অবাক হয়ে বলেন, কী হলো, আপনি লিচু পকেটে ভরলেন কেন? তখন শ্যামল সহাস্যে বলেন, বন্ধুদের দেখিয়ে বলতে পারব, এই লিচুটি আমাকে সুচিত্রা সেন দিয়েছেন।শুনে সবাই হেসে ওঠেন।

    তবে এটা কোন লেখায়, আর কবে পড়েছি সেটা একদম মনে পড়ছে না। ঘটনাস্থলই বা কোথায় তাও না।
  • সম্বিৎ | 71.202.35.85 | ১৭ জুন ২০২০ ২১:৫৮94413
  • আজকালের হেডলাইন - "শরতে হেমন্তপতন"।

  • lcm | 2600:1700:4540:5210:4b9:2d49:e2e4:b2a4 | ১৮ জুন ২০২০ ০০:০২94414
  • জেনারেলি শিবাংশুর সঙ্গীত/সঙ্গীতশিল্পী সম্বন্ধীয় লেখায়, অনেক খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ থাকে গান নিয়ে, একটি একটি করে গান ধরে ধরে, গান তৈরি হওয়ার তেপথ্যে কি থাকে তাই নিয়ে - যেগুলি হয়ে ওঠে লেখাটির মূল আকর্ষণ।

    এই লেখাটি স্মৃতিতর্পন, একটি গানেরও উল্লেখ নেই, কিন্তু গান ঘিরে আছে সর্বত্র - স্রেফ শিবাংশুর লেখনীর গুণে, কলমের জোড়ে - এটি পড়তে খুব ভালো লাগল।

    আর, হুতোর সঙ্গে একমত, সঙ্গের ছবিটি লেখাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

    জয়্গুরু
  • lcm | 2600:1700:4540:5210:4b9:2d49:e2e4:b2a4 | ১৮ জুন ২০২০ ০০:০৩94415
  • *নেপথ্যে
    *স্মৃতিতর্পণ
  • রঞ্জন | 122.162.121.154 | ১৮ জুন ২০২০ ০০:০৪94416
  • আচ্ছা, এই গানটা --" এমন একটা ঝড় উঠুক, পৃথিবীতে কোন ফুল যেন ফুটতে না পারে" কি হেমন্তকুমারের গাওয়া? কথাগুলো স্মৃতিতে একটু এদিক ওদিক, হয়তো। আসলে সত্তরের শেষের দিকে কোলকাতায় এসে ছন্নছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছি। চারদিকে যুব কংগ্রেসের নেত্য! সেই মনখারাপের দিনে মাইকে বাজতে থাকা ওই গানটা আমাকে আপ্লুত করেছিল।

    কেউ যদি বলতে পারেন তো ভাল লাগবে।কথা সলিলের বলেই মনে হচ্ছিল --তাই।

  • কুহক | 80.211.249.57 | ১৮ জুন ২০২০ ০০:৩৯94418
  • Haa

     খোদ সলিলের লেখা গণ নাট্য মঞ্চের গান 
    শিল্পী - ভাইও অউর বাহেনো , আপ সব কি মনপসন্দ  হেমান্থ কুমার 

  • কুশান | 2401:4900:314a:c6a8:9be6:fd92:403:8a39 | ১৮ জুন ২০২০ ০২:৪৮94419
  • @রঞ্জনবাবু

    হ্যাঁ 'এমন একটি ঝড় উঠুক' হেমন্তবাবুর গাওয়া। এই রেকর্ডের উল্টো পিঠে 'সবাই চলে গেছে' গানটি ছিলো। দুটিই শৈশবে শুনেছি, খুব প্রিয়।

    মজার ব্যাপার হলো, এই গানটি যখন শুনতাম শৈশবে খুব কনফিউজড লাগতো, ঈষৎ ক্ষোভও হতো। মনে হতো, এ কী রে বাবা, সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে, কোনো ফুল আর ফুটবে না, এ কী অলুক্ষুনে ব্যাপার! আর উল্টো দিকের গানটা শুনে মনে হতো লোকটা কী দুঃখী, সবাই চলে গেছে।

    আসলে তখন বিপ্লব ও প্রেম দুটি অনুভূতি সম্পর্কে কোনো ধারণা তৈরি হয় নি।

    কিন্তু দুটোই শুনতে ভালো লাগতো। মনে আছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতার বই, সম্ভবত একটু পা চালিয়ে ভাই, তাতে উৎসর্গ ছিলো এই ভাষায়: গানের কিন্নরকন্ঠ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে। এই কন্ঠের মায়া আজও রয়ে গেছে। এমন আশ্চর্য কারুর কন্ঠ ও উচ্চারণ হয়?
  • সম্বিৎ | 71.202.35.85 | ১৮ জুন ২০২০ ০৫:০২94420
  • রঞ্জনদা ও কুশানবাবু, দুটো গানই সলিল-চ্যালা অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা।  প্রথমটার কথায় সলিলের ছায়া খুঁজলে পাওয়া যেতেও পারে, কিন্তু আমার কানে দুটোই অসলিলিয় কিন্তু অসাধারণ সৃষ্টি। অভিজিতের সলিল ছায়া পাই খুব স্পষ্টভাবে আশা ভোঁসলের "ও পাখি উড়ে আয়" আর মান্নাবাবুর "কে তুমি কে তুমি শুধুই ডাকো"-র সুরে। দুটোই ছবির গান। 

  • রঞ্জন | 122.162.121.154 | ১৮ জুন ২০২০ ০৮:১১94423
  • সম্বিৎ (ন্যাড়া?) কুহক এবং কুশানবাবু,

    অশেষ ধন্যবাদ। কেন যেন এই সময়ে গুরুগাঁওয়ে ঘরে বন্দী অবস্থায় ওই  গানটার কথা খুব মনে পড়ছে।

     এবং হেমন্তের কন্ঠে ওই রিফ্রেন , নীচু গলায় " ঝড় উঠুক, ঝড় উঠুক"!

  • lcm | 99.0.80.158 | ১৮ জুন ২০২০ ০৯:৩৯94426
  • আর মান্না দে? কী বলেছিলেন তিনি? যে কোনও অনুষ্ঠানে তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে গান গাইতে যাওয়ার আগে সম্বোধন করতেন ‘মিষ্টি সুরকার মিষ্টি গায়ক মিষ্টি মানুষ’ এই বলে। বলতেন, ‘‘হেমন্তবাবু মানুষ খুব বড়। অমন যাঁর গলা তিনি সব গান তো নিজেই গাইতে পারতেন। কী দরকার আমাদের সুযোগ দেওয়ার। আমাদের খেটে গাইতে হয়, উনি কথা বললেই গান হয়ে যায়।’’
  • শিবাংশু | 103.87.142.176 | ১৮ জুন ২০২০ ১২:১৮94429
  • @ রঞ্জন,
    ১৯৬৯ সালের প্রথম দিক। সম্ভবত বসন্তকালে বাংলা আধুনিক গানের এক গুচ্ছ রেকর্ড প্রকাশিত হতো। কোনও এক রবিবার 'অনুরোধের আসরে'র শেষ গান 'এমন একটা ঝড় উঠুক'। আমার হেমন্ত- নিবেদিত পিতৃদেব সেদিনই বিকেলে সাকচি বাজারে মুখার্জিবাবুর দোকানে। হ্যাঁ, আছে। কালো গালার রেকর্ডে নীল লেবেল। অন্যপিঠে 'সবাই চলে গেছে'। গান শুনে বাবা বলেন এই সুর তো সলিলদা ছাড়া আর কারো হতেই পারে না। খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনও আমরা তাঁর নামও শুনিনি এবং গুগলও ছিলোনা। খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেখলুম আরও চার-পাঁচ বছর আগে থেকেই তিনি রীতিমতো সক্রিয়। দুরন্ত সব সুর করে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই। আমি তখন থেকেই অভিজিৎবাবুর গানের অনুগত। পরে জেনেছি তিনি ১৯৫১ সাল থেকেই সুর করছেন।

    গানটি প্রকাশিত হবার দিন পনেরো পরে অভিজিৎ গেছেন হেমন্তের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঘুম ভেঙে এসে অভিজিৎবাবুকে দেখেই বললেন, 'ও তুমি এসেছো? তোমার গান খুব ভালো। দশ বছর।' অভিজিৎ চমৎকৃত। পনেরো দিনও হয়নি গানটি প্রকাশিত হয়েছে। তাতেই তিনি বলে দিলেন 'দশ বছর'? সেই 'দশ বছর' পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। এখনও ঐ গান রিমেক হয়। একজন অনুজ শিল্পীকে কীভাবে উৎসাহিত করতে হয়, গভীর সঙ্গীতবোধ থেকে হেমন্তর সেই উপলব্ধি ছিলো। তাঁর মূল্যায়ণকে সার্থক করে দুটি গানই চিরকালীন বাংলা গানের মাইলফলক হয়ে রয়ে গেছে।

    উল্লেখ্য, ঐ বছরই পুজোর সময় সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে হেমন্ত গেয়েছিলেন, 'শোনো কোনো এক দিন' এবং 'আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা'।
  • Du | 47.184.21.53 | ১৯ জুন ২০২০ ০০:৩৮94448
  • এখানে এক ভদ্রলোক সাউথ এশিয়ান রেডিওতে গান এর অনুষ্ঠান করেন বোম্বের মানুষ, নাম এ জি চিনি। ঊনি হেমন্তকে নিয়ে একটা শোতে বলেছিলেন -ঐশ্বরিক বিশেষণ তো ইউজ করেইছিলেন আরো বলেছিলেন লোকে যদি বাড়িতে গান চালিয়ে গল্পগুজব করে আর তার মধ্যে হেমন্তর গলায় গান শুরু হয় সবাই চুপ করে যায়, ওনার গানের মধ্যে কথা বলা যায় না।
  • anandaB | 50.35.122.121 | ১৯ জুন ২০২০ ০১:৪৬94449
  • "বম্বেতে একটাই শর্ত আছে। গুণমানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।"

    শিবাংশু এই কথাটি কি কোনো নিদির্ষ্ট সময়কালের সাপেক্ষে বল্লেন (ধরা যাক ষাটের দশক, উদাহরণ স্বরূপ)? যদি তা না হয় তাহলে দ্বিমত আছে "গুণমানের শ্রেষ্ঠত্ব" অংশটি নিয়ে

    গুরুত্বপূর্ণ শর্ত? মানতে রাজি... এমনকি অন্যতম প্রধান শর্ত? তাতেও (নিম)রাজি.... কিন্তু "একটাই শর্ত?" মানা গেল না
  • শিবাংশু | 103.87.142.172 | ১৯ জুন ২০২০ ১৬:৩২94457
  • @ anandaB,
    এই লেখাটিতে যেসব প্রসঙ্গ এসেছে, সবই সময়সাপেক্ষ। গত শতকের পাঁচের দশক থেকে এই শতক পৌঁছোনো পর্যন্ত। শূন্য দশক পৌঁছোবার অনেক আগেই বম্বের ফিলম সঙ্গীতে যান্ত্রিক কারিকুরির প্রভাব সাঙ্ঘাতিক বেড়ে যায়। গায়কের কণ্ঠ একটি অন্যতম 'বাদ্যযন্ত্র' হয়ে দাঁড়ায়। ঐ সময়ের একটা সেরা কণ্ঠ সোনু নিগমও টিকে থাকতে পারেননি। টিউন ব্যাংক বা ট্র্যাক রেকর্ডিং ব্যাপারটা পঞ্চমের সময়েও ছিলো। কিন্তু পরের দিকে সেটা একটা 'হাস্যকর' অবস্থায় পৌঁছে যায়। আসরানির গানও কিশোরকুমারের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা শুরু হয়ে যায়। বাজার ব্যাপারটা চিরকালই আছে। কিন্তু ঐ সময়টায় সঙ্গীতের প্রাথমিকতাটি প্রশ্নহীন ছিলো। বাজারের 'চাহিদা'য় শিল্প ও শিল্পীর সমগ্রতা ব্যাপারটা চুলোয় গেছে। পঞ্চাশ-নব্বই দশকের গানের সঙ্গে এই মুহূর্তের গান কি কোনও ভাবে তুলনা করা যায়?
  • anandaB | 50.35.122.121 | ১৯ জুন ২০২০ ২০:৩৩94467
  • শিবাংশু, সময় করে উত্তর দেবার জন্য ধন্যবাদ
    "কিন্তু ঐ সময়টায় সঙ্গীতের প্রাথমিকতাটি প্রশ্নহীন ছিলো" - এর পরে আর কোন কথা হয় না বা দ্বিমত থাকে না :)
  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত