• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • আমার সিনেমা বেলা

    কল্লোল
    বিভাগ : বুলবুলভাজা | ২৫ মে ২০২০ | ৯২৭ বার পঠিত
  • এই লকডাউনের কালে ঘরে বসে টিভিতে, ইউটিউবে নানান পুরোনো হিন্দি সিনেমা দেখলাম। তাতেই এই লেখাটা মনে বুড়বুড়ি কাটছিলো। বন্ধু বিষাণের প্ররোচনায় সেই সব বুড়বুড়ি সকল সোডার মতো ভসভসিয়ে গেলাস উপচে এলো।



    আমাদের নাগালে চারটি হল ছিলো - প্রদীপ, দীপ্তি, ভবানী আর মেনকা। দীপ্তি ছিল বাঙালী মালিকের। ওদের মূল ব্যবসা লন্ঠনের – 'দীপ্তি লন্ঠন'। প্রদীপের মালিকও বাঙালী, সেটা পরে জেনেছি। মেনকা বা ভবানীর মালিকের খোঁজ রাখিনি। প্রদীপের বিজনেস মডেল, পুরোনো হিট হিন্দি সিনেমা। এই মডেলে চলতো ভবানীপুরের কালিকা আর রূপালী (দুটোই উঠে গেছে)। দীপ্তি আনতো কারেন্ট "সি" গ্রেড সিনেমা। 'হিরো দারা সিং', 'রনধাওয়া', 'হিরোয়িনি' - হেলেন, নিশি, মুমতাজ(ইয়েসস আমাদের মুমুজান)। তার একটা বিশাল ক্লায়েন্টাল ছিলো। আমার নিজের মামা 'দারা সিং'-এর ফ্যান ছিলো। দীপ্তিতে প্রথমবার "এ" গ্রেড কারেন্ট সিনেমা এলো ১৯৬৯এর পূজোয় 'নানহা ফরিস্তা'। এই সময় দীপ্তিও প্রদীপের বিজনেস মডেল শুরু করলো। ভবানী প্রথম দিকে, মানে ১৯৬৮/৬৯ পর্যন্ত "বি" গ্রেড হিন্দি ছবি আনতো। ঠাকুর দেবতার সিনেমা, ঐতিহাসিক থিমে সিনেমা ইত্যাদি। চেতলার 'রূপায়ণ' ঐ মডেলে চলতো। ধীরে ধীরে সকলেই 'প্রদীপ' মডেলে চলে আসে। দীপ্তি আর ভবানীর ফ্রন্ট স্টল ছিলো ১৯৬৫ অবধি ৫০পঃ, পরে বেড়ে ৬৫পঃ হয়। সেই টিকিট কাটার লাইনও ছিল এক রোমহর্ষক বিষয়। তুমি যত আগেই লাইন দাও, ঠিক টিকিট দেওয়া শুরু হবার আগেই সে লাইন ভেঙ্গে যেতো। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত যে সাদা পোষাকের খোচোরেরা ডান্ডা চালিয়ে লাইন ঠিক করতো, তারা সেই সময়টা ফুসমন্তর হয়ে যেতো এবং ব্ল্যাকাররা লাইনের দখল নিতো। তাদের সাথে হাত পা চালিয়ে টিকিট পেয়ে হলে ঢোকার আগে শার্ট বা গেঞ্জি অবধারিত ছিঁড়তো। সেসব নিয়ে বাড়িতে নানান গপ্পো বানাতে হতো। সেই তো আমাদের সৃজনশীল রচনায় হাতেখড়ি। মেনকা ছিলো ভদ্দরলোকের হল। ওদিকে খুব একটা যেতাম না। মেনকায় আমার দেখা প্রথম সিনেমা 'আরাধনা'। সে যাকগে।
    আর ছিলো নানান আওয়াজ নানা সিচুয়েশনে ওফ! সেগুলোও আমাদের সিনেমা দেখার জরুরী অংশ ছিলো। শেষ দিকে হিরো মার খাচ্ছে মাটিতে পড়ে, ভিলেন তার কোমরের দুপাশে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে "খুন পী জাউঙ্গা" বলছে - পাশে বসা সহদর্শক ক্ষেপে গিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে - "মার শালার টমটমে।" কিমাশ্চর্য হিরো তাই করলো ! সেই সহদর্শক চেয়ারের উপর উঠে ক্রমাগত নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে এবং তা সাথে সাথে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে পর্দায় !! সকলে মিলে তাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে – "লিঃ লি-ই-ই-ইঃ পুরপুরি………" কিন্তু কোশ্ন কোংকোয়ে হলো ? পর্দার হিরো কোন যাদুবলে সেই সহদর্শকের 'আদেশ' পালন করে গেলো ? আসলে, ওনার এটি চতুর্থ কি পঞ্চম শো!! হ্যাঁ, তখন অনেকেই এক সিনেমা ৫ বার ৬ বার এমনকি ১২-১৩ বারও দেখতো। নইলে কি আর এমনি এমনি ৫টা হলে একই সিনেমা ২৫ সপ্তাহ চলতো !!! অন্য এক আওয়াজের কিস্যা বয়াঁ করি। অনেক পরে 'নিশান্ত', হ্যাঁ শ্যাম বেনেগালের, দেখতে গেছি বসুশ্রীতে, ঐ ৬৫পঃতেই। শাবানা ধর্ষিতা হয়ে পড়ে আছেন অমরেশ পুরীদের গোয়ালে - খুব ছিন্নভিন্ন কাপড় থাই ছাড়িয়ে উঠে গেছে। স্যাঁৎ করে সিটি পড়তেই কে যেন চ্যাঁচালো - তোর মা বে !! আমার শোনা সবচেয়ে দুর্ধষ মন্তুব্য।



    হ্যাঁ, পয়সা পড়তো প্রদীপে। যারা কলকাতায় ৬০-৭০এর দশক থেকে আছেন, তাদের কাছে প্রদীপ নামটাই যথেষ্ট। অন্যদের জন্য - প্রদীপের ভৌগলিক অবস্থান টালিগঞ্জ ব্রিজের তলায়। টালিগঞ্জ ব্রিজ মানে, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে নিউ-আলিপুরগামী রাস্তায় আদি গঙ্গার উপর যে সেতুটি আজও বিরাজ করে, সেটি। প্রদীপ হল (হ্যাঁ হল) আদি গঙ্গার পাড়ে। ফলতঃ প্রদীপের ছাদ ও ব্রিজের রাস্তা একই লেভেলে। রাস্তার ওপর টিকিট ঘর। টিকিট কেটে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে হতো। প্রদীপে টিকিট ছিলো ৫০ ও ৬৫ পঃ। ব্যালকনি নাই। কারণ থাকা সম্ভব নয়। থাকলে টিকিটের দাম হতো ১টাকা। ও কেউ কিনতো না। ১টাকা দিয়ে সিনেমা দেখার বিলাসিতা ঐ অঞ্চলে কারুর ছিলোনা। সামাজিক অবস্থান। কে পি রায় লেন, ইউ কে মন্ডল লেন সংলগ্ন অঞ্চল। কলকাতার বেশ পুরোনো লালবাতি এলাকা ও বাংলার ঠেক। একটি সরকারী গাঁজা-চরস-আফিমের আবগারী দোকানও ছিলো। সে সত্যযুগে সরকার এসবও বেচতেন। হাজার হলেও জনকল্যানমূলক রাষ্ট্র। ফলে প্রদীপে সিনেমা দেখতে যাওয়ার নিষিদ্ধ যাত্রা কদাপি বড়দের কানে গেলে কান কামস্কাটকায় চালান অবধারিত। কিন্তু আমরা তবে কেন যেতাম ? নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার অদম্য আদমীয় ইচ্ছে, তার উপর কম করে ৪ থেকে ৬ বছর আগেকার হিট ছবি ওখানে আসতো। আমি ওখানেই জিতেন্দ্রর প্রথম ছবি 'গীত গায়া পাত্থরোঁনে' দেখেছি। তাছাড়া 'গুনাহো কা দেবতা', 'ফর্জ' (কু ক্কু - মস্ত বাহারঁ কা ম্যায় আশিক), এগুলোও। ওখানেই শাম্মির 'তিসরী মঞ্জিল', 'অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস', 'ব্রহ্মচারী', মনোজ কুমারের 'পত্থর কে সনম', দেবের 'গাইড', 'জুয়েন থিফ' (যে ফিল্ম থেকে দেবের মাথার সিঙ্গারাটি হাওয়া হয়ে পেতে আঁচড়ানো চুল আর জুয়েল থিফ টুপি আর বোতামওয়ালা স্টিফ কলার), 'দুনিয়া', শশীর 'হাসিনা মান জায়েগী' (শশীর নাচ দেখতে চান তো এই ফিল্মের দিলবর দিলবর গানটি দেখুন), 'যব যব ফুল খিলেঁ', ধর্মেন্দ্রর 'ফুল ঔর পাত্থর', 'ইয়কিন', ধর্মেন্দ্র একই সাথে হিরো ও ভিলেন। ভিলেন ধর্মেন্দ্রর চোখের মনি নীল। সে, হিরো ধর্মেন্দ্র সাজতে গিয়ে, কালো কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে। সেই প্রথম আমরা কন্ট্যাক্ট লেন্স শুনি। ভিলেন ধর্মেন্দ্র ধরা পড়ে এক চোখে কন্টাক্ট লেন্স পড়তে ভুলে যাওয়ায়। সে এক বিভীষিকা। ক্লোজ আপে ধর্মেন্দ্র এক চোখ কালো এক চোখ নীল। ওফ। হ্যাঁ, যা বলছিলাম, পয়সা ছোঁড়া। "ইন্তেকামে আ জানে জাঁ" গানটি আর তিসরী মঞ্জিলে "আজা আজা" - আমি ৫বার চলতে দেখেছি। পয়সা পড়ছে - আওয়াজ উঠছে - ফিন সে - ফিন সে। হলের এক কর্মী এসে পর্দার সামনে থেকে পয়সা কুড়িয়ে হাত নাড়লে গান আবার চলছে। হামজোলীর "টিক টিক টিক মেরা দিল বোলে" - মমতাজ-জিতেন্দ্রর নাচ ৩/৪বার চলেছিলো। আমরা কমেডিয়ানদের জন্যও ফিল্ম দেখতে যেতাম। মেহমুদ, জনি ওয়াকর, জুনিয়ার মেহমুদ, রাজেন্দ্রনাথ, মোহন চোট্টি......। আর হ্যাঁ, প্রদীপে সিনেমা দেখার একটি ঝকমারী ছিলো আদি গঙ্গার জোয়ার। তখন জোয়ার আসতো। সে সময়ের আদি গঙ্গায় নৌকো করে বিচালী, মাটির হাঁড়ি-কলসী মায় কালীঘাটে বিয়ে সেরে বর-বউ যেতেও দেখা যেতো। সিনেমা চলতে চলতে ১০ সেকেন্ডের জন্য নোটিস ফুটে উঠতো – জোয়ার আসিতেছে পা তুলিয়া বসুন। চট করে চটি দুটি কোলে তুলে সিটে পা তুলে দিতে হতো। কুলকুল করে মা গঙ্গা সিটের তলায় বয়ে যেতেন। সময় মতন চটি না সামলালে ও চটি আর ইহ জনমে পাওয়া যেতো না। সিনেমা শেষে খেয়াল করে পা নামাতে হতো। গোড়ালী পর্যন্ত পলি পড়ে থাকতো মেঝেতে। সাবধানে না হাঁটলেই পপাত চ।
    আহা সেসব দিন ছিলো অন্য। বিপ্লব-টিপ্লব এসে কি যে মাথায় অপসংস্কৃতি ঢোকালো! ধ্যুস!
    প্রদীপে এখন মালায়ালী সফট পর্ন দেখানো হয়। এখন আর জোয়ারের জল ঢোকে না, জোয়ারই আসে না আদি গঙ্গায়। ফিনসে…… হয় কিনা জানি না। যাহোক, হলটি বিদ্যমান।



    'জঞ্জীর' থেকে অমিতাবচন (অমিতাভ বচ্চন - অতো বড় নাম বলতে বহু সময় ব্যয়) বোম্বে সিনেমাকে নষ্ট করে দিলে। তা না হলে 'আওয়ারা'-'ওয়ক্ত'-'আদমী'-'গাইড'-'ব্রহ্মচারী'-'অভিনেত্রী'-'নীলকমল' ইত্যাকার সিনেমাই আমার কাছে বোম্বে সিনেমা। অসম্ভব রোমান্টিক। ঝাড়পিট এট্টু থাকতো শেষের দিকে, যখন ঝাড় খেয়ে হয় ভিলেন শুধরে যেতো বা "না" হয়ে যেতো। এই সব "হিংস্রতা" আমাদের কাছে রান্নায় শুকনো লঙ্কা ফোড়নের মত স্বাদ বদল করতো মাত্র। নইলে প্যার হি প্যার বেশুমার। আমরা মানে যারা ৬০এর দশকে বড় হচ্ছি, প্রেম কত্তে শিখেছি, রাজ কাপুর-দেবানন্দ-শাম্মি-রাজকুমার(জানি)-শশী-দিলীপকুমারের থেকে। না, রাজেশকে বাদ রাখলাম। আমরা খুব একটা নম্বর দেই না ওকে। হ্যাঁ, এদের ক্ষমতা ছিলো দুনিয়ার সবচে অবাস্তব গল্প/সিচুয়েশনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার। আর গানে নায়কদের নাচ/ভঙ্গী (নায়িকাদের নয় - কারণ নায়িকারা মুখ ও চুল বাঁধার কায়দা ছাড়া সবাই একই ছাঁচের) - প্রত্যকের আলাদা। পাড়ার মোড়ে মাইকে বাজা গানের সাথে ঐ ভঙ্গী দেখেই বোঝা যেতো বুলুদা কাকে দেখাচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু লোকে শাম্মির গান দেবানন্দের ভঙ্গীতেও করে দেখাতে পারতো। সেগুলোর ফরমাশ হতো - এবার জিতুর গান দেবের মতো, এবার মনোজের গান শশীর মতো ইঃ ইঃ। আর তাতেই পাড়ার ওয়াহিদা-বৈজন্তী-আশা-সাধনা-ববিতা লাট্টু। আগাম কোন মানসিক প্রস্তুতি ছাড়াই হিন্দি সিনেমা দেখতে বসেছি , আজও তাইই। কালই আবার, এই লকডাউনকালে (সম্ভবতঃ ১৬ কি ১৮তম বার) তিসরী মঞ্জিল দেখলাম টিভিতে। তবে হ্যাঁ, সিনেমা হলে ছাড়া দেখে মজা নেই। সিটি পড়ে না - কেউ মন্তব্য করে না - ধ্যুস। ওই জন্যই তো উত্তম-সুচিত্রা-সুপ্রিয়া পোষাতো না। শুধু গুরু গুরু করে - কেমং দাদু টাইপ।



    হ্যাঁ। নিউ এম্পায়ারে সিনেমা দেখা না বললে কথকতা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এটি একমাত্র হল যার ফ্রন্ট স্টলটি (মানে, দামের হিসাবে) সর্বোচ্চ তলে অবস্থিত। ৬৫পঃ-র টিকিট কাউন্টারের থেকে প্রায় ৫০ জনের মতো খাঁচা। খাঁচায় ঢুকে লাইন দিলে টিকিট পাওয়া ৫০০% নিশ্চিত। টিকিট কেটে সিঁড়ি দিয়ে চার তলায় উঠে বসার জায়গা। সিট নম্বর নাই, ফলে আসারও নাই। আরামসে প্যাসেজের ধাপেও বসা যায় এবং ইহাই একমাত্র হল যাহার ৬৫পঃ স্টলে ধূমপান অনুমোদিত। কেসটা বুইলেন ? সোফিয়া লোরেন, উরসুলা এন্ড্রোজ, মার্চেলো মাস্ত্রোয়ানি, পিটার ওটুল, ওমর শরীফ, মার্লন ব্রান্ডো..... ভিসকন্তি, ডি সিকা, ফেলিনি, ত্রুফো দেখছি, চারমিনার ধরিয়ে - ওফ। ততোদিনে আঁতে চে দাড়ি গজিয়েছে। ফলে মস্তির লেভেলটা ভাবুন মহয়। ঋত্বিক নেই। মৃণাল ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো - বিপ্লবী পরাকাষ্ঠার চূড়ান্ত। অনেক পরে, ঐ নিউ এম্পায়ারেই ঋত্বিকের নাগরিক ১৯৭৭এ। ব্যাকগ্রাউন্ডে আন্তর্জাতিক ঝমঝম করে বেজে উঠছে। সে এক বিশুদ্ধ ফাটাফাটি। ছিলো গ্লোব, লাইট হাউস (আছে কি?) , মেট্রো(নেই), এলিট ও মিনার্ভা (এখন চ্যাপলিন - আছে কি?) । মিনার্ভায় দেখেছিলাম জাব্রাস্কি পয়েন্ট। শেষ দৃশ্যে এস্টাব্লিশমেন্ট বিস্ফোরণে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে, দারিয়ার কল্পনায়। সে আর এক যাচ্ছেতাই ক্যাডাভ্যারাস। গ্লোবে দেখেছিলাম সোফিয়া-পিটার ওটুলের ম্যান অফ লা মাঞ্চা - পিটার ওটুল ডন কিহাতো - কথার জায়গাই নেই। এ সবই ৬৫পঃর লাইনে। তখন হপ্তায় ৭টাকা পেতুম। ১৯৭৩-৭৫ দিনে ১টাকার হিসাব - (১০+১০) ২০ পয়সার বাস ভাড়া গোলপার্ক(সাউথ সিটি - না মল নয় কলেজ) থেকে এস্প্ল্যানেড অ্যান্ড ব্যাক। বাকি ৮০পয়সা। ৬৫পয়সার টিকিট। বাকি ১৫ পয়সা। একটা চা ৫পয়সা। বাকি ১০পয়সা। দুটো চারমিনার। খেল খত্তম।

  • বিভাগ : বুলবুলভাজা | ২৫ মে ২০২০ | ৯২৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • উড়ুক্কু | 185.51.76.135 | ২৫ মে ২০২০ ২০:২২93662
  • জম্পেশ নস্টালজিয়ার নষ্টামি 
    শশী র গানটি অবশ্য দিলবর দিলবর নয় 
    ও দিলবর জানিয়ে .... তেরে হায় হাম তেরে 
     

    দিলবর দিলবর অনেক পরে  আমাদের বাঙালি মেয়ে আতি নেহি স্বরূপ প্রেমিকের কোলে উঠে হিল্লোল তুলে গাইলেন সির্ফ তুম ছবি তে 
     

    পার্ট 2 আসবে নাকি এ লেখার ?

  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ মে ২০২০ ২১:৩৩93667
  • ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ে গেল ঃ-)

    কলেজ কেটে প্রদীপে পানু দেখতে যেতাম। সিনেমা চলতে চলতে আচমকা দু তিন মিনিট ইংরেজি পানু জুড়ে দিত, আর হলশুদ্ধু লোক হই হই করে উঠত। প্রদীপে জোয়ার দেখিনি, তবে শুনেছি। গড়িয়াহাটেও এরকম একটা হল ছিলো, নাম ভুলে গেছি (হলটাও বন্ধ হয়ে গেছে)। ধর্মতলার সোসাইটি সিনেমা হলেও এরকম পানু গুঁজে দিত। বন্ধুরা মিলে ওপাড়ায় সিনেমা দেখতে গেলে পুরনো বইএর দোকান থেকে ডেবোনেয়ার বা পানু বই কিনেও আনতাম। সেসব খুব আনন্দের দিন ছিল।

    আর হিন্দি সিনেমায় বলতে আমি শুধুই অমিতাভের সিনেমা দেখতাম। ডন, মুকাদ্দার কা সিকান্দার, শক্তি, নমকহালাল, লাওয়ারিস যে কতোবার করে দেখেছি! আমরা বন্ধুরা প্রথমেই খোঁজ করতাম সিনেমাটায় কতোটা ঝারপিট আছে। অমিতাভের বেশীরভাগ সিনেমায় গ্যারান্টি ঝারপিট থাকতো (তবে দুয়েকটা আঁতেল মার্কা সিনেমাও থাকতো, যেমন সওদাগর, সেসব দেখতাম না)। অমিতাভের সিনেমাগুলো অনেক হলে চলতো - মেনকা, নবীনা (এটায় মাঝে মাঝে ইংরেজি সিনেমাও আসতো, যেমন সোয়ার্জেনেগারের কম্যান্ডো), মহুয়া (গড়িয়া) ইত্যাদি।
  • ~ | 2405:201:8805:37e9:2831:3f35:2508:e3bf | ২৫ মে ২০২০ ২২:২৬93671
  • নবীনা ভালো হল ছিল ঐ এলাকায়। মহুয়া তো গড়িয়ার মোড়ে? জমজমাট হল ছিল। ওর ঠিক পাশেই আবার একটা লালবাতি এলাকা ছিল, দেহপসারিনীরা মোড়া নিয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকতো (আমি মিনিট খানেক থাকতো না থাকতেন লিখবো ঐ ভেবে কিবোর্ড নাড়াচাড়া করলাম, তারপর মনে হলো এখানে একটু মুখোশ খুলে রাখা যাক) - সেই দৃশ্যটা খুব অস্বস্তিকর, ডিস্টার্বিং ছিল। মানে, খুব স্পষ্ট একটা জমজমাট শহরের প্রান্ত, সবাই নিজের কাজে কর্মে যাচ্ছে, পাশেই কলেজ সিনেমাহল, আবার তার গায়েই এমন একটা ব্যাপার যেটা ভয়ানক ট্যাবু, আদিম, নিষ্ঠুর। তারপর ব্রিজ চওড়া করার সময় ওদের তুলে দেওয়া হলো, মাঝে মাঝেই ভাবি, কী হলো ঐ জায়গার লোকজনের, ব্যাপারটা তো একটা ইকো সিস্টেম, অনেক পুরনো ও নিশ্চয়।

    সে যাগ্গে। আর মধুবনে মাঝে মাঝে হিন্দিতে ডাব করা ইংরেজি সিনেমা আসতো, চার্লিজ এঞ্জেলসের হিন্দিটার নাম ছিল ত্রিশক্তি - ধামাকা হাসিনো কি। মহুয়ার কাছেই এন্ড্রুজ কলেজ, মধুবনের কাছে নেতাজীনগর, বিজয়গড়ও হাঁটা পথ। তবে সেটা বলতে গিয়ে মনে গলো ঐ সময় গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জ বা যাদবপুরকেও মোটামুটি হাঁটাপথ হিসেবেই গন্য করতাম।
    গড়িয়া থেকে নাকতলা অঞ্চলে এক সময় বান্টি বলেও একটা হল ছিল।

    নিউ এম্পায়ারের খাঁচায় আমরাও সিনেমা দেখেছি, টিকিট কেটেই পড়িমড়ি করে দৌড়তো সবাই। যদ্দুর মনে পড়ে নব্বইএর শেষেও ওখানে সিটে বসে সিগারেট খেতেও বাধা ছিল না।
  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ মে ২০২০ ২৩:৩৯93675
  • হ্যাঁ, মহুয়া ছিল গড়িয়াতে। হলটার আশেপাশে কয়েকটা ফুচকার দোকান বসতো, অসাধারন বানাতো। সাধারনত সিনেমা দেখে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফিরতাম। য্দ্দুর মনে পড়ছে ক্লাস নাইন বা টেনে অমিতাভের শাহেনশাহ দেখতে গেছিলাম, বাড়িতে বলে, বেশ কয়েকজন বন্ধুর সাথে। বান্টিতেও কিছু সিনেমা দেখেছি, তবে সেগুলো বেশীর ভাগ বাংলা। পোসেনদার কি একটা সিনেমা যেন দেখেছিলাম, কিছুতেই মনে পড়ছে না, সারাক্ষন হলে সিটি পড়ছিল মনে আছে। আর ছিলো পদ্মশ্রী।

    আমরা ছোটবেলায় যাদবপুরে থাকতাম। সেখান থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে অনেক সময়েই হেঁটে হেঁটে শক্তিগড় দিয়ে বিজয়গড়ে ঢুকে লায়েলকার মাঠ হয়ে নাকতলা অবধি চলে যেতাম।
  • / | 2405:201:c802:ff81:f0a1:e4bc:564c:bb8a | ২৫ মে ২০২০ ২৩:৪৬93676
  • গড়িহাটের সিনেমাহলটা কি আলেয়া?
  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ মে ২০২০ ২৩:৫৮93677
  • হ্যাঁ, আলেয়াই যেন মনে হচ্ছে!
  • সম্বিৎ | 71.202.35.85 | ২৬ মে ২০২০ ০২:০৩93687
  • আরও হোক। 

  • বিপ্লব রহমান | 37.111.201.86 | ২৬ মে ২০২০ ০৬:৪৩93695
  • বাপ্রে! কী দুর্দান্ত কিশোর কাল,  কল্লোল দা! 

    অনেকদিন পর কল্লোল দার লেখা পরে পুরনো সিনেমা ও হলগুলো দেখার  ইচ্ছে জাগলো।  সময় করে কিছু দেখে ফেলবো নিশ্চয়ই, অবশ্য অনেক হলই তো আর নেই।   

    ফ্রন্ট স্টলে মারামারি করে টিকিট যোগাড়, ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি,  একই সিনেমা পাঁচ-ছয়,  এমনকি ১০-১৫ বার দেখা,  সিনেমা হলে গংগার জোয়ারের পানি,  ঝুল বারান্দায় চারমিনার ফুকে সোফিয়া লরেন --- পুরো প্যাকেজটি এখনকার হোম ভিডিওর যুগে খুব অবিশ্বাস্য মনে হয়। 

    আর শৈশবে মামা-চাচাদের মুখে শোনা গল্পে এপারে সিরাজগঞ্জের মফস্বলে ঠিক তেমন না হলেও অল্প-বিস্তর আরেক সিনেমা বেলার সংগে সামান্য যেন মিল খুঁজে পাচ্ছি।                       

    অনেক শুভ কামনা  

  • গবু | 2401:4900:3143:ccbc:5c36:bb09:c3d6:5bfc | ২৬ মে ২০২০ ০৯:০৩93698
  • ভালো লাগলো। আমরা ৯০ দশকের, কাজেই ফিল্ম বদলেছে, কিন্তু মোটের ওপর খুব বেশি বদল হয়নি মনে হলো।

    মিনারভা সরকার নিয়ে চ্যাপলিন বানিয়েছিলেন, এখন মাঠ করে ফেলেছেন, মল হবে।
  • গবু | 2401:4900:3143:ccbc:5c36:bb09:c3d6:5bfc | ২৬ মে ২০২০ ০৯:০৩93699
  • ভালো লাগলো। আমরা ৯০ দশকের, কাজেই ফিল্ম বদলেছে, কিন্তু মোটের ওপর খুব বেশি বদল হয়নি মনে হলো।

    মিনারভা সরকার নিয়ে চ্যাপলিন বানিয়েছিলেন, এখন মাঠ করে ফেলেছেন, মল হবে।
  • dc | 103.195.203.233 | ২৬ মে ২০২০ ০৯:২৫93700
  • নিউ মার্কেটের সিনেমা হল বলতে প্রথমেই মনে পড়ে গ্লোব, লাইট হাউস, আর নিউ এম্পায়ারের কথা। কতো সিনেমাই যে দেখেছি এগুলোতে আর কাছাকাছি রিগ্যাল, এলিট, আর রক্সিতে! এদের মধ্যে নিউ এম্পায়ার আমাদের সবচেয়ে পছন্দের ছিল, কারন কল্লোলদা বললেন, সবচেয়ে কম দামের টিকিটে সবচেয়ে ভালো দেখার বন্দোবস্ত ছিল। খাঁচায় লাইন দিয়ে টিকিট কেটেই এক দৌড়ে কার্পেট মোড়া সিঁড়ি দিয়ে উঠে সোজা তিনতলায় (নাকি চারতলা?) চলে যেতাম, তারপর বন্ধুরা মিলে এক জায়গায় বসে পড়তাম।

    নিউ এম্পায়ারে দেখা সিনেমাগুলোর মধ্যে মনে পড়ছে প্রেডেটর। দুর্দান্ত সিনেমা ছিল, হলশুদ্ধু লোক স্তব্ধ হয়ে দেখেছিল। আর যদ্দুর মনে পড়ে লাইট হাউসে দেখেছিলাম লাস্ট অফ দ্য মহিকানস। সে যে কি সিনেম্যাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, আর সেট পিস মুভমেন্ট, কি বলবো! ম্যাডেলিন স্টো কে সেই প্রথমবার দেখেছিলাম, চোখ ঝলসানো সুন্দরী। কলেজের ক্লাস কেটে গেছিলাম আরেকটা বন্ধুর সাথে, এখনও মনে আছে দুজন মিলে চুপচাপ মেট্রো স্টেশান অবধি হেঁটে ফিরে এসেছিলাম, একটাও কথা বলিনি। আর মেট্রো করে যখন বাড়ি ফিরছি তখনও কানে বাজছে সেই অসাধারন মিউজিক স্কোর, আর চোখ বুঁজলেই ব্লু রিজ মাউন্টেনের সেই অবিশ্বাস্য প্যানোরামিক শট।

    আর গ্লোবে দেখেছিলাম স্টার ওয়ারস আর রিটার্ন অফ দ্য জেডাই। তখনও জানতাম না স্টার ওয়ার্স নামের কালচারাল ফেনোমেননটা, আমাদের জেনারেশানের ডিফাইনিং মুভিগুলোর মধ্যে একটা। তবে সেই প্রথম দেখাতেই যে প্রিন্সেস লেয়ার প্রেমে পড়ে গেছিলাম, আজও তার থেকে বেরোতে পারিনি। আর ছিলো আরটুডিটু আর সিথ্রিপিও, আর অবশ্যই হান সোলো। গ্লোবেই বোধায় দেখেছিলাম ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড।

    রিগাল আর এলিটেও অনেক দুর্দান্ত সিনেমা দেখেছি, র‌্যাম্বো আর হান্ট ফর রেড অক্টোবার তো এখনই মনে পড়ছে। পিটার ও টুলের নাইট অফ দ্য জেনারালস কোন একটা হলে যেন দেখেছিলাম। কতো বছর হলো পার্ক স্ট্রিট-্নিউ মার্কেট-্চাঁদনি যাওয়া হয়নি। অনেক কিছু নিশ্চয়ই পাল্টে গেছে। আবার যদি কলকাতা যাই তো ওপাড়ায় আবার যাওয়ার ইচ্ছে আছে।
  • কল্লোল | 2409:4060:2188:783a:4932:9c21:6e31:514f | ২৬ মে ২০২০ ০৯:৫৭93704
  • ভাই উড়ুক্ক। কিছুতেই ক্ক-এর তলায় উ-কার এলো না। যাগগে। চ্যালেঞ্জ নি.........লা। ওটা - দিলবর জানিয়ে - নয়। দিলবর জানিয়ে ওই সিনেমার প্রথম গান। দুষ্ট শশীর লিপে। নাচ আছে, তবে তারচে বেশী লাফানো। দিলবর দিলবর কহতে কহতে হুয়া দিওয়ানা - আমি এই গানটির কথা কয়েছি। সুবোধ-দুষ্ট দুই শশী ও ববিতা তিনজনের গান। দ্যাখো হে - হ্যারে কয় নাচ -

    আমি আজও মিঠুন-গোবিন্দা প্রভৃতি নাচ পারদর্শীদের সময়কার পাখাদের এই গানটি ইউটইউবে দেখাইয়া থাকি।
  • শিবাংশু | 103.87.142.36 | ২৬ মে ২০২০ ১৪:৪২93717
  • @কল্লোলদা,
    অল্প হৈলো, ফির সে চলাও নয়া রীল ...
  • সৈয়দ ফাইজুল হাসান | 103.102.123.0 | ২৬ মে ২০২০ ১৪:৪৪93718
  • মুগ্ধ, অনুভূতির স্ফুরণ

  • কল্লোল | 2409:4060:400:85d7:fcc1:7df7:f811:f1d8 | ২৬ মে ২০২০ ১৮:১৩93724
  • @শিবাংশু। ধুর ধুর!! শ্যাষের পর্ব্টা পইড়্যা বুzলা না!! ক্রমশঃ আঁতেল হওয়ার দিগে এগুচ্ছি। এরপরই বিপ্লব - অপসংস্কৃতি ইত্যাকার ভূতের তাড়ায় সব গেলো। সেসবের কি আর গপ্পো হয়। ওসব নিয়া লোকে স্মৃতি না কি সব চারণ করে।
  • উড়ুক্কু | 103.216.221.5 | ২৬ মে ২০২০ ১৯:৫২93731
  • ঠিক 

    এই গান টা ভুলে মেরে দিয়েছিলাম 

    গড়িয়াহাট এই হল টা বোধ হয় আলেয়া নয় . আমার কৈশোর কেটেছে গড়িয়াহাট এ , মনে আছে আলেয়া তে নতুন বাংলা আর পুরোনো কিন্তু  এ গ্রেড মুভি আনতো এত লিস্ট ৮৮ -95

    আলেয়া তে বা গ্রেড লাগতে দেখিনি 

    আলেয়া ১৯৯৮ এ উঠে যায় 

    আমার আলেয়া তে দেখা যা মনে আছে 

    তিনমূর্তি  ৩ বার

    জুগনু ধরম সাব  ২ বার

    স্বর্গসুখ  জয় ব্যানার্জী আলপনা 

    প্রতিশোধ  মহানায়ক সুখেন বোধ হয় বার  চারেক 

    আরেকটা আকর্ষণ ছিল পাশের ফ্যান্টাসি রেস্তোরাঁ র মোগলাই , সেটাও উঠে গ্যাছে 

  • উড়ুক্কু | 103.216.221.5 | ২৬ মে ২০২০ ১৯:৫৩93732
  • বি গ্রেড হবে 

  • শঙ্খ | 103.242.189.84 | ২৬ মে ২০২০ ২০:৪০93733
  • এসপ্ল্যানেড চত্বরের প্রায় সবকটা সিনেমা হলেই গেছি, তখন খুব একটা বাছ বিচার করতুম না, শুধু শারুখ খান হলে কিছুতেই দেখবো না, এই নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ বাদ দিয়ে। শনিবার শনিবার করে যেতুম, নিউ এম্পায়ারের খাঁচার লাইন যেখান থেকে পড়ে ঠিক সেখানেই একটা রোলের দোকান ছিল, কুসুম রোল না কি যেন, অনেক সময় সেখান থেকে আগুন গরম রোল কিনে দাঁড়িয়ে পড়তুম লাইনে, পরে অবশ্য সেটা ওরা বন্ধ করে দেয়, রোলের কাগজ ফেলে লোকে নোংরা করত। এসপ্ল্যানেডে গিয়ে সিনেমা দেখার দু একটা বিশেষ কারণ ছিলো, ওখান থেকে তারপর অলি বা এমব্যাসিতে গিয়ে বসা যেত। সস্তায় সস্তায় দু পেগ মারার জন্য এমব্যাসি সবচেয়ে ভালো, প্লাস ওখানে নোনতা আদাকুচি দিত ঝুরিভাজার সঙ্গে যেটা আমাদের খুব পছন্দের ছিল আর সেটা অলিতে পাওয়া যেত না, কিন্তু সমস্যা হল লাইভ লতা কন্ঠী, কিশোর কন্ঠীদের অত্যাচার সইতে হত, নিজেদের মত দুদন্ড গল্প করার উপায় ছিলো না।

    তারপরে বেশ কিছুদিন নবীনাতে গেছি, তার মুখ্য কারণ ছিলো ওদের সিলেকশান আমাদের সঙ্গে মিলে যেত। ওর উল্টোদিকে এক কাকুর দোকানে ভালো মশলা কোক পাওয়া যেত।

    পরে পরে আমাদের পছন্দের হল ছিলো প্রিয়া। ইনক্রেডিবলস দেখেছি মনে আছে, আর একবার ব্যোমকেশের কোন একটা সিনেমায় ইন্টারভ্যালে অরিজিত দত্ত পুরো টিম ব্যোমকেশ কে স্টেজে নিয়ে হাজির। কি কান্ড, লোকে বাধ্য হয়ে কুম্ভক করে চেপে বসে থাকলো পুরো ইন্টারভ্যাল।

    প্রিয়া বললেই মনে আসে মেনকা, ওখানে ধুম দেখেছিলুম, প্রথমটা, হল থেকে বেরিয়ে শুধু তিনটে জিনিস মনে ছিলো, লম্বা চুলের জন, সুজুকি হায়াবুসা আর রিমি সেনের সিক্ধুম। তখন সেক্সি নটি বিচি-র সুবাদে টাটা ইয়ং কে অনেকেই জানতো, সেও উড়ে গেছিলো রিমির টাওয়েলের ঝাপটায়। কুলাঙ্গার পুত্রের রাস্তার মুখে এলে পীপ-ইনের রোল ছিল অ্যাডেড ইনসেন্টিভ।

    ঐ চত্বরে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রোর উল্টোদিকে ভবানীতে গেছি লোকের মুখে শুনে বার খেয়ে। কিছু একটা হাস্যকর টু এক্স সিনেমা ছিলো, কিন্তু তখন আমাদের হাতে প্রচুর অপশন এবং টু এক্স থ্রি এক্স জলভাত হয়ে গেছে, সেখানে ঐসব আলতু ফালতু দেশি জিনিস একদমই পোষায়নি, ফলতঃ আর কোনদিন যাবার ইচ্ছে হয়নি।

    গড়িয়াতে থাকার সুবাদে মহুয়াতে গেছি, মালঞ্চ গেছি, মধুবন গেছি। আমাদের এক বন্ধু নরেন্দ্রপুরে পড়তো, ওরা পালিয়ে সিনেমা দেখতে এলে, অজুহাত হিসেবে বলতো, কলকাতায় দিদির বাড়ি গেছলাম, স্যারেরা নাকি স্নেহভরে জানতে চাইতেন মহুয়া দিদি নাকি? সোর্ডফিশ মহুয়াতেই দেখা।

    তারপরে যখন গাঙ্গুলীবাগানের বাসিন্দে হলুম, তখন থেকে পদ্মশ্রীই আমাদের পাড়ার হল। বাকি সব হল উঠে গেছে, পদ্মশ্রী এখনো টিম টিম করে হলেও খেলে যাচ্ছে। আগে শুধু বাংলা 'বই' আনতো, আর বাইরেও স্থানীয় অটো এবং রিকশা চালক ভাইদের আনাগোনা ছিল। পর্দায় নায়িকার কোমরটুকু ফোকাসে এলেই তাঁরা সিটি সহ নানাবিধ সরস মন্তব্য পেশ করতেন, বাকি বরাঙ্গ ছেড়েই দিলুম।
    পরে পরে যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পদ্মশ্রী নিজেকে পাল্টেছে, এখন প্রায় সব রকমের সিনেমা আসে, এখানেই আমরা অক্টোবর দেখেছি, আবার রাজকাহিনীও দেখেছি। অটো ও রিকশা চালক ভাইদের দাপট এখন অনেক স্তিমিত, লাস্ট কয়েক বছরে অন্ততঃ আমরা যে কটা সিনেমায় গেছি, সিটি বা মন্তব্যের মজা লোটার সুযোগ হয়নি।

    বিসর্জন আসিয়া প্রতিষ্ঠাকে লইয়া গিয়াছে।
  • সে | 2001:1711:fa4c:9b91:81d5:71d5:ae34:b713 | ২৬ মে ২০২০ ২০:৪৯93734
  • এনকোর! এনকোর!!

    ফিন সে...

  • একলহমা | 2600:1700:3690:6070:bc82:18ae:3871:8fca | ২৭ মে ২০২০ ০১:৩৭93744
  • দারুণ! আরো আসুক, আসতে থাকুক। 

    নিউ এম্পায়ারের খাঁচা - সত্যি, সে এক কান্দি ছিল বটে। 

    আজ আর মনে নেই কোথায় - ফ্রেন্ডস দেখেছিলাম। কাউকে আর ওটার নাম করতে শুনিনি। পরে আর কোথাও পাইওনি।  

  • উড়ুক্কু | 103.216.221.5 | ২৭ মে ২০২০ ০২:১১93745
  •  হ্যাঁ সেই দিলবর নাচ দেখলুম বটে , তবে প্রচুর বিভঙ্গ আর কঠিন ঝঁআকুনি থাকলেও ইস্টাইল হিসাবে ওনার দাদার পুওর ম্যান্স এডিসন ছাড়া আর কিছু নয় 
    মনে হচ্ছে বাড়িতে দাদা বেত হাতে নিয়ে প্রাকটিস করিয়েছেন 

    ইনোভেটিভ স্টেপ কিছু নেই 

    innovative  এটায় দেখুন

    তো আলেয়ার কথা হচ্ছিলো যে ওখানে কি ১৯৮৫ এর আগে বি  গ্রেড ছবি আস্ত নাকি ? কেউ জানেন ?

  • টাইগার | 98.114.105.164 | ২৭ মে ২০২০ ০৪:১৮93746
  • ই কি রে দাদা - ইনারা এসপ্ল্যানেডে য়্যাতো য়্যাতো হলে মুভি দেখলেন, কেউ টাইগার হল এ গেলেন না?
  • \ | 2405:201:c802:ff81:94d0:ca3c:2bca:24fb | ২৭ মে ২০২০ ০৮:৫৩93747
  • পূর্বাশা তো বালিগন্জ
  • dc | 103.195.203.247 | ২৭ মে ২০২০ ০৯:০৪93748
  • হ্যাঁ হ্যাঁ টাইগার! যেতাম তো!

    আসলে টাইগার, আলেয়া, প্রাচী, জ্যোতি, ভবানী, এসব অনেক ছোটবেলার কথা। নামগুলোও ভুলে গেছি, এমনকি হলগুলো যে কোথায় ছিলো সেও খানিক ভুলে গেছি। নানান শহরের নানান হল, মাল্টিপ্লেক্স সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে ঃ-)
  • উড়ুক্কু | 103.216.221.5 | ২৭ মে ২০২০ ১৪:৩৮93769
  •  টাইগার ছিল আলু র গুদাম কনভার্টেড টু সিনেমা হল 
    বি গ্রেড ইংলিশ লাগতো আর ওখানেও মাঝখানে হঠাৎ দু মিনিট ঐসব সিন কাঁচি মেরে ঢুকিয়ে দিতো 
     

    কসবা বাজার এ ছিল পূর্বাশা 
    গুরু র আখরি রাস্তা  1 st ডে শো তে লোকে কাট আউট এ 100 টাকার মালা ঝুলিয়ে ছিল মনে আছে 

    আরেকটা ছিল কালিকা কালীঘাট এর কাছে আর জগু বাজার এ রুপালি 

    প্রদীপ , কালিকা আর রুপালি তে সস্তার টিকেট এ চেয়ার থাকতোনা , বেঞ্চ এ বসে দেখেছি . এই বেঞ্চ জোন এ বিড়ি র অবাধ স্বাধীনতা ছিল আর ফ্লোর এ খৈনির থুথু তে ভর্তি 

    তো মেনোকায় একবার নুন শো এ লোনলি লেডি এলো , আমরা স্কুল কেটে যথারীতি হাজির , কর্তৃপক্ষ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলো স্কুল ড্রেস এলাও নয় . লাইট ম্যান ঢুকে টর্চ মেরে সব ইউনিফর্ম দের বার করে দিলো 

    কি  কেলো , তো আমাদের বন্ধু কিভাবে জানি চারু মার্কেট থেকে সস্তা টি শার্ট ধার করে নিয়ে এলো তার বন্ধুর ফুটপাথ এর দোকান থেকে 

    তো আধ ঘন্টা পর তো স্কুল ড্রেস এর ওপর ওই টি শার্ট পরে ঢুকলাম . এদিকে হয়েছে কি এক 18/19 গোছের দেখতে কলেজ কাট ছোকরা তার ইস্কুল ড্রেস পরা বান্ধবী কে নিয়ে এসেছিলো দেখে মনে হয়েছিল কেলাস এইট ফেইট হবে 

    ছেলেটি র সাধারণ ড্রেস থাকায় শুধু কচি মেয়েটিকে বার করে দিয়েছে , আমরা দ্বিতীয়বার  ঢোকার সময় দেখি তিনি একা একা দাঁড়িয়ে ফুচকা সাঁটাচ্ছেন . অদ্ভুত ভাবে বয়ফ্রেইন্ড টি পুরো মুভি দেখে আমাদের সঙ্গে বেরিয়ে দাঁত কেলাতে কেলাতে সঙ্গিনী নিয়ে লেক অভিমুখে যাত্রা করলেন 

    ওমেন্স রাইট এর একশো আট 


     

  • শিবাংশু | 103.87.142.4 | ২৭ মে ২০২০ ১৭:২৭93775
  • @কল্লোলদা,
    এর উত্তরে মহানায়কের একটা গানই বলা যায়,
    'এক ভলে মানুষ কো অমানুষ বনাকে ছোড়া' :-(
  • b | 14.139.196.11 | ২৭ মে ২০২০ ১৮:৫২93776
  • কল্লোলদার পোস্ট করা ইয়ুটিউব ভিডিও দেখলাম। নাচটা ভালো করে দেখবো বলে সাউন্ড অফ করে দিলাম। একটা উত্তাল সুররিয়ালিস্ট ব্যাপার হল।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত