এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • উইকিলিক্স! উইকিলিক্স!

    অচিন্ত্যরূপ রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২০ ডিসেম্বর ২০১০ | ৬৪৩ বার পঠিত
  • শেখ হাসান দাহির আওয়েস-এর কথা নিশ্‌চয়ই মনে আছে আপনাদের। মনে নেই? সেই সোমালি নেতা যিনি তাঁর দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিসারদের খুন করার জন্য এত্তেলা সই করেছিলেন? অথবা চার্চ অব সিয়েণ্টোলজির সেই সব গোপন নথিপত্তরগুলির কথা? এও মনে নেই? বেশিদিন আগেকার কথা নয় কিন্তু। মাত্র দু-চার বছর। ঠিক আছে, তাহলে একটা সাম্প্রতিক উদাহরণ দেওয়া যাক। মার্কিন কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস। হ্যাঁ। ধরেছেন ঠিক। এই গত ক'দিন আগে যেটা হল। আজ্ঞে হ্যাঁ, উইকিলিকস। এই নভেম্বর মাসের আঠাশ তারিখ থেকে উইকিলিকস লিক করতে শুরু করেছে ইউ এস স্টেট ডিপার্টমেণ্টের লক্ষ লক্ষ "গোপন' তথ্য। এবং তারপর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা দুনিয়া। মার্কিন দেশ বলে কথা।

    আর হ্যাঁ, ঐ দাহির আওয়েস এবং চার্চ অব সিয়েণ্টোলজির পর্দাফাসও কিন্তু উইকিলিক্সের-ই কাণ্ড। একটি ২০০৬ সালে (উইকিলিক্সের প্রথম ভেঞ্চার), অন্যটি ২০০৮-এ। তবে কিনা ঐ চার্চ বা আওয়েস তত পাওয়ারফুল নয় কিনা, তাই পৃথিবী মনেই রাখেনি তাদের কথা। কিন্তু যেই মার্কিন দেশের গুপ্তকথার ঝুলি নিয়ে টানাটানি পড়েছে, বিশ্বজুড়ে হৈচৈ। গেল গেল বোধ হয়, উন্নত দেশগুলির সব হাতে হারিকেন। এদিকে অর্থনীতির অবসাদের পালা মিটেও মিটছে না, তার মধ্যে একি গ্যাঁড়াকল! এক নয়, দুই নয়, এক্কেবারে আড়াই লক্ষ গোপন "তারবার্তা' ফাঁস করে দিচ্ছে! এই বুঝি সব ধ্বসে পড়ল। এই বুঝি শুরু হয়ে গেল পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম তথ্যযুদ্ধ। সৌজন্যে জুলিয়ান পল অ্যাসেঞ্জ এবং তাঁর ছোট্ট (?) টিম -- উইকিলিক্স।

    মোটামুটি বছর চারেক আগে লোকচক্ষুর সামনে আসে অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক অ্যাসেঞ্জের এই অন্তর্জাল সংস্থা। মোট কতজন লোক মিলে চালায় এই উইকিলিক্স? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। অ্যাসেঞ্জ ছাড়া এই "সংস্থায়' আর আছেন মাত্র নাকি সাতজন। ঘোষিত উদ্দেশ্য: দুনিয়ায় যেখানে যত অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে, সব ফাঁস করে দেওয়া। ২০০৬ সালে এক বিবৃতিতে অ্যাসেঞ্জ বলেছিলেন তাঁদের মূল লক্ষ্য চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার অত্যাচারী শাসনতন্ত্রের মুখোশ খুলে দেওয়া। তবে পশ্‌চিমী দেশগুলোর শাসকরাও যদি কোনো অনৈতিক কাজ করে, সে খবরও পৃথিবীর সামনে তাঁরা তুলে ধরতে আগ্রহী বলে জানিয়েছিলেন উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা।

    সে কথা রেখেছেন অ্যাসেঞ্জ। গত চার বছরে বেশ কিছু অবিচার-অত্যাচারের গোপন ছবি প্রকাশ করেছে উইকিলিক্স। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: গুয়ানতানামো বে ক্যাম্পে মার্কিন সেনারা বন্দীদের কিভাবে রাখে তার বিবরণ, মার্কিন সেনারা ইরাকে নিরীহ মানুষ এবং সাংবাদিকদের ঠাণ্ডা মাথায় অকারণে গুলি চালিয়ে খুন করছে সেই ঘটনার ভিডিও, ইরাক এবং আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট আরো কিছু খবর। তবে এ সব কয়টির থেকেই বেশি পাব্লিসিটি পেল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তারবার্তা ফাঁস। কেন? কী আছে এই আড়াই লক্ষ "তারবার্তায়'? এমন কিছু নয় যাতে সাংঘাতিক বিপজ্জনক সব তথ্য চলে যেতে পারে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে, এমন কিছু নয় যাতে শত সহস্র প্রাণহানি ঘটতে পারে (যা ঘটেছে এবং ঘটছে ইরাক আর আফগানিস্তানে, থ্যাঙ্কস টু আমেরিকা)। তাহলে? এগুলি মূলত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন কূটনীতিকদের ভেতরকার খোলাখুলি আলোচনা। তাঁরা আশা করেছিলেন এই সব বার্তাবিনিময় কখনো মার্কিন কূটনৈতিক মহলের বাইরে যাবে না, আর ফলত, অনেক দেশের অনেক নেতার সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা সেই সব দেশের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আমেরিকার পক্ষে অস্বস্তিকর শেষ যে তিনটি তথ্যভাণ্ডার প্রকাশ করেছে উইকিলিকস, তার প্রতিটি প্রকাশ হওয়ার পর পরই মার্কিন কর্তারা হৈ চৈ করে উঠে বলেছেন এর ফলে "আমেরিকান সোর্সেস অ্যাণ্ড পার্সোনেল' খুবই বিপদে পড়বে। মজার ব্যাপার হল, আফগান যুদ্ধ সংক্রান্ত লিকটির হপ্তাখানেক পর পেণ্টাগনের একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জানিয়েছে উইকিলিক্স যা ফাঁস করেছে তার মধ্যে (আমেরিকার পক্ষে) সত্যিকারের "সেন্সিটিভ' কোনো তথ্য নেই।

    তা হয়ত নেই। কারণ, ১০ই নভেম্বর যে তথ্যভাণ্ডার ফাঁস করা শুরু হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া গেছে মার্কিন শাসনযন্ত্রেরই তৈরি করা এক আর্কাইভ থেকে। বিশাল সেই বৈদ্যুতিন আর্কাইভের নাম সিপডিস (SIPDIS>), যার পুরো কথাটি হল সিক্রেট ইণ্টারনেট প্রোটোকল রুটার নেটওয়ার্ক ডিস্ট্রিবিউশন। তথ্যের এই ভাঁড়ার তৈরিই করা হয়েছিল যাতে (আমেরিকান) সরকারি এজেন্সিগুলি জানতে পারে পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে এবং সে সব বিষয়ে কি ভাবছেন দেশের কূটনীতিকরা। এমনকি ইরাকের ময়দানে বসে আছে যে কমবয়সী কর্পোরাল, সেও ঘেঁটে দেখতে পারে সে সব তথ্য। (এবং সেই রকম এক সূত্র থেকেই উইকিলিকসের হাতে চলে এসেছে এই আড়াই লক্ষ তারবার্তা। কমবয়সী যে মার্কিন সৈন্যের হাত থেকে এসব তারবার্তা এসেছে বলে বলা হচ্ছে, তার নাম ব্র্যাডলি ম্যানিং। সে বেচারি ধরা পড়ে এখন মার্কিন জেলের ভয়ানক সলিটারি সেলে দিন কাটাচ্ছে। কোর্ট মার্শালের পর ৫২ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে তার।)

    ঠিক কী ধরণের ছিল এই তারবার্তাগুলি? এখনও সবটুকু জানা যায়নি, কারণ আড়াই লক্ষের থেকে মাত্র কয়েকশ তারবার্তা এ পর্যন্ত জন সমক্ষে এসেছে। অ্যাসেঞ্জ আন্দাজ করতে পেরেছিলেন যে ঐ তারবার্তার খবর বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিপদে পড়তে পারেন তিনি, তাই যা তথ্য তিনি পেয়েছিলেন তা নিজের কাছে রাখা ছাড়াও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের পাঁচটি খবরের কাগজের অফিসে। ফলে ঐ পুরো তথ্য এখন যাদের কাছে আছে, তারা হল ফ্রান্সের Le Monde , জার্মানির Der Spiegel , স্পেনের El Pais , ইংল্যাণ্ডের The Guardian এবং আমেরিকার The New York Times । এই পাঁচটি সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, খুব ভাল করে প্রতিটি তারবার্তা যাচাই করে, তার থেকে বাছা বাছা কিছু নিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।

    শেষ দফায় ফাঁস হওয়া তারবার্তাগুলির সবকটিকেই মার্কিনিরা "সিকিউরিটি রিস্ক' মনে করছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ক'দিন আগের এক অন্তর্জাল আলোচনায় গার্ডিয়ান পত্রিকার সম্পাদক অ্যালান রুসব্রিজার বলেছিলেন, আমেরিকান সরকারের মতে ঐ আড়াই লক্ষ তারবার্তার মধ্যে ৯৭০০০ হল "confidential" (i.e. "not very secret"), ৭৬০০০ "unclassified' এবং ৫৯০০০ "unclassified for official use only' । তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে এসবেরই মধ্যে কিছু বার্তায় দেখা যাচ্ছে স্টেট ডিপার্টমেণ্ট থেকে ইউনাইটেড নেশনস এবং ওয়ার্লড হেল্‌থ অর্গানাইজেশনের মত আন্তর্জাতিক মঞ্চ বা সংস্থায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের বলা হচ্ছে ঐ সমস্ত জায়গায় অন্যান্য দেশের যে কূটনীতিকরা কাজ করেন তাঁদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে। কী ধরণের তথ্য? তাঁদের বায়োমেট্রিক ইনফর্মেশন, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ড, ভি পি এন নেটওয়ার্ক, এন্‌ক্রিপশন কি ইত্যাদি ইত্যাদি। এর পরেও বলবেন অ্যাসেঞ্জ অন্যায় করেন নি এই সব ফাঁস করে দিয়ে? কটা মাথা আপনার ঘাড়ে?

    মজার ব্যাপার হল, ইরাক এবং আফগান যুদ্ধের ফুটেজগুলো (যেগুলোর তুলনায় বেশি হৈচৈ হয়েছে কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস নিয়ে) কিন্তু এতটা নিরীহ নয়। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৯-এর মধ্যে শত শত বেসামরিক নিরীহ আফগান মারা গেছেন মার্কিন সেনাদের হাতে। ইরাকে বেসামরিক নাগরিক হত্যার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৬৬০০০! সে সব খবর এর আগে কখনো প্রকাশ পায় নি। ইরাকে ঐ সময়ে "এনিমি ডেথ্‌স'-এর যে সংখ্যা আমেরিকা এ যাবৎ দিয়ে এসেছে তা এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (২৩৯৮৪)। হেলিকপ্টার থেকে বোমা মেরে বা নির্বিচারে গুলি করে শিশু-সহ সাধারণ নাগরিকদের এবং কর্মরত সাংবাদিকদের খুন করার ভিডিও ফুটেজ-ও প্রকাশ করে দিয়েছে উইকিলিক্স। এ সবের থেকে বড় অন্যায় আর কী হতে পারে?

    ওবামা মুখে যতই স্বচ্ছতার কথা বলুন না কেন, গোপনীয়তাই তাঁর সরকারেরও প্রধান অস্ত্র। সে গোপনীয়তার বেড়া যারা ভাঙ্গে, তাদের ক্ষমা নেই। লৌহ যবনিকা শুধু লাল ছাপ-মারা দেশগুলিরই একচেটিয়া সম্পত্তি নয়।

    সুতরাং জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ শত্রুপক্ষের লোক, এবং / অথবা স্পাই। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেণ্টের প্রাক্তন আফিসার ক্রিশ্‌চিয়ান হুইটনের মতে উইকিলিক্সের পুরো টিমটাকেই "শত্রু সৈন্য' হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। তাদের বিরুদ্ধে "নন-জুডিসিয়াল অ্যাক্‌শন' নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। ওবামা প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে অ্যাসেঞ্জের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির অভিযোগ আনার কথা ভাবা হচ্ছে। সেনেটর ডায়েন ফেইনস্টাইন বলেছেন ১৯১৭ সালের এসপিওনেজ অ্যাক্টে বিচার হওয়া উচিত অ্যাসেঞ্জের। (উল্লেখ করা যেতে পারে, উড্রো উইলসনের সময় এই আইন চালু করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য। ১৯১৮ সালে সোশ্যালিস্ট কর্মী ইউজিন ডেব্‌সকে এই আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ, যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন ডেব্‌স।) প্রতিটি "লিক'-এর জন্য অ্যাসেঞ্জকে দশ বছরের জেল দেওয়া হোক, বলেছেন ফেইনস্টাইন। অর্থাৎ ২৫০০০০ তথ্য ফাঁসের জন্য ২৫ লক্ষ বছর জেল খাটতে হতে পারে উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতাকে!

    তাহলে এ "যুদ্ধ'কে তথ্যযুদ্ধই বলছে মার্কিনরাও? সন্দেহের অবকাশ কম। এবং যথেষ্ট ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে এ পর্যন্ত। উইকিলিক্সের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সম্পর্ক ছেদ করেছে আমাজন এবং পে পল, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা, মাস্টারকার্ড এবং ভিসার মত আর্থিক সংস্থাগুলিও ফ্রিজ করে দিয়েছে উইকিলিক্সের অ্যাকাউণ্ট। সব শেষে সুইডেনের এক আইনে যৌন কেলেঙ্কারি ঘটিত এক মামলায় লণ্ডনে গ্রেফতারও করা হয়েছে জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জকে। আপাতত জামিনে ছাড়া পেলেও ঝামেলা যে সহজে মিটবে না তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।

    মাঝখানে ভারতীয় উপমহাদেশের কথা একটু বলে রাখি। উইকিলিক্সের তথ্য ফাঁস ভারত এবং পাকিস্তানকেও একটু মুশকিলে ফেলে দিয়েছে। একদিকে যেমন বেশ কয়েকটি বার্তায় মার্কিন কূটনীতিকরা ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রতি পাকিস্তানি সমর্থন এবং সহায়তার কথা বলেছেন, অন্যদিকে তেমনি এক বার্তায় কাশ্মীরি বন্দীদের ওপর অত্যাচার এবং দুর্ব্যবহারের উল্লেখ থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছে ভারত। ইণ্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেড ক্রসের আনা ঐ অভিযোগ ভারত সরকার উড়িয়ে দিতে পারেনি। সরকারের তরফ থেকে শুধু বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক দেশ ভারত আইনের শাসন মেনে চলে। কখনো কোনো বিচ্যুতি যদি ঘটে, আইনের পথে কড়া হাতে তার মোকাবিলা করা হয়ে থাকে এখানে।

    ডিসেম্বরের সতের তারিখে প্রকাশিত আরেকটি তারবার্তা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে ভারতের প্রধান শাসক দল কংগ্রেসকেও। ওয়াশিংটনকে পাঠানো আমেরিকান রাষ্ট্রদূত টিমথি রোয়েমারের সেই বার্তা অনুযায়ী, গত বছর এক ভোজসভায় রাহুল গান্ধী রোয়েমারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে মুসলিম জঙ্গিদের তুলনায় হিন্দু সন্ত্রাসবাদ ভারতের পক্ষে অনেক বেশি মারত্মক হতে পারে। এ খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গেরুয়া দলগুলি ঝাঁপিয়ে পড়েছে কংগ্রেসের ওপর। রাহুল পরে এক বিবৃতিতে বলেছেন সব ধরণের সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতাই ভারতের পক্ষে বিপজ্জনক।

    একই দিনে প্রকাশ পাওয়া অন্য দুটি তারবার্তায় সিপিএম দলের নেতা প্রকাশ কারাত সাহেবকে "তোলাবাজ' বলা হয়েছে এবং সোনিয়া গান্ধী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে নৈতিকতা মেনে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না কংগ্রেস প্রেসিডেণ্ট। খবরগুলি ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলির কানে যে সুধাবর্ষণ করেনি সে কথা বলা বাহুল্য।

    এখন প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য, তৈরি হচ্ছে খবর। একদিকে যখন অ্যাসেঞ্জকে ভিলেন হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে, তাঁকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে বিচার করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ বাকস্বাধীনতাপ্রেমী এসে দাঁড়াচ্ছেন তাঁর পাশে। অ্যাসেঞ্জের হয়ে ২০০০০০ পাউণ্ডের জামিনের টাকা দিয়ে দিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক ফিলিপ নাইটলি,খ্যাতনামা প্রকাশক ফেলিক্স ডেনিস, মেডিসিনে নোবেলজয়ী স্যর সাল্‌সটন, প্রাক্তন ব্রিটিশ লেবার নেতা ম্যাথ্যু ইভান্স এবং শিক্ষাবিদ প্যাট্রিশিয়া ডেভিডের মত মানুষেরা। জয়ের মালা কোন পক্ষের গলায় যায় সেটাই দেখার অপেক্ষায় এখন পৃথিবী।
  • আলোচনা | ২০ ডিসেম্বর ২০১০ | ৬৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন