এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৭৩ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৭৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৫২88484
  • সে তো মমতাকে কৃষকনেত্রীও এখানে কেউ বলে নি। তাতে কি তাদের পাপ লঘু হচ্ছে? কাজেই 'আমি ও তক্কে ছিলাম না' বলে কেটে পড়লে তো হবে না। ঃ-)
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.146.90 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৫৭88485
  • সিপিএমের বদমাইশির শাস্তি দিলেই হয়। নন্দীগ্রাম দিয়েই শুরু হোক, সময় নষ্ট হচ্ছে।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৫৮88487
  • সিপিএমের বদমাইশির শাস্তি কি তারা পায়নি বলে মনে হয় চান্দুবাবুর? নাকি আরো চাইছেন? ঃ-)
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৫৮88486
  • কিন্তু যারা বারংবার বলে যাচ্ছে যে আইনের প্রয়োগ করে সিপিএমের বদমাশদের শাস্তি দাও তারা সাধু না অসাধু?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:১০88488
  • আর শুধু আইনের প্রয়োগ করে অপরাধীর শাস্তি হোক বললেই যদি ল্যাঠা চুকে যায়, তাহলে আর তিনোদের বিরুদ্ধেই বা এত কথা কেন? তিনোদের কোন অপরাধটা কোর্টে প্রমাণিত হয়েছে? কোন আদালতে প্রমাণ হয়েছে যে তিনোরা সিপিএমের চেয়ে খারাপ?
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:১২88489
  • না পায়নি।
    যারা হাজার হাজার লাশ হলদি নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল, ৫০০ মায়ের স্তনবৃন্ত কেটে দিয়েছিল আর শয়ে শয়ে বাচ্চাকে টুকরো করে কেটে রাস্তায় পুঁতে দিয়েছিল তাদের কি শাস্তি হয়েছে?
  • ranjan roy | 132.176.221.35 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:২৬88490
  • "ঐ তিন্টি উল্লেখিত এবং অনেকগুলো অনুল্লেখিত অসাধুতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।"
    -- মাইরি পিটি! ভাগ্যিস সিপিএম আপনার কথা কে পাত্তা দেয় নি। এত বালখিল্য কমেন্ট যে কারাতবাবুদেরও --!
  • ranjan roy | 132.176.221.35 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:২৮88491
  • পিটি,
    গুরুতে কে তিনোর জোরে চাকরি বাগিয়েছে? নাম বলুন।
    একটা কথার দায়িত্ব নিতে ভয় পান? আর অন্যদের মহা মহা দায়িত্ব নিতে বলেন!
  • কল্লোল | 125.242.74.181 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৩০88396
  • পি টি উবাচ - "এই রেঃ!
    এর পরে শুনতে হবে যে "যে আসে আসুক সিপিএম যাক" আবার কবে বল্লাম?"
    বহুবার বলেছি, যে আসে আসুক সিপিএম যাক। অস্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না।

    কিন্তু,
    "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"

    "যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।"

    "মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।"

    আমার এট্টা কোশ্ন ছিলো। আমি এর মধ্যে কোনটা?

    কোন জবাব নেই।

    এর মধ্যে কোনটা আমি করেছি বা বলেছি, তার প্রমাণ না দিলে - কি বলবো? এমনিতে পিটি খুব ভালো ছেলে, তবে পিলেটা......ঐ আর কি........এট্টু সিপুয়েমঃ-)))))
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৩৩88492
  • হাজার হাজার লাশ হলদি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে আর ৫০০ মায়ের স্তনবৃন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে - এই দুটো কথার লিং পাওয়া যাবে? মানে আমার ভেরিফাই করার ইচ্ছে 'হাজার হাজার' আর '৫০০' এই দুটো সংখ্যা সত্যিই বলা হয়েছিল কিনা। আমি শুনি নি কোথাও। পিটিদা কোথায় জেনেছেন একটু জানালে ভালো হয়। সিরিয়াসলি বল্লাম।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.146.90 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৩৫88493
  • নির্বাচনে হারা শাস্তি মনে হলে চিন্তাজনক কথা। ট্যাব থেকে কার বক্তব্য বোঝা যায় না।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.99.66 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৩৬88397
  • যে আসে আসুক সিপিএম যাক থেকে বর্তমান নোটাপন্থায় শিফ্ট ও এক পরিবর্তন বটে।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৩৬88494
  • শুধু নির্বাচনে হারা? ঃ-)
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.146.90 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৪০88495
  • ওকে বোধহয় শাস্তি বলেনা। আপনার কোন আত্মীয়ের সাথে ওরকম হলে কি শাস্তি চাইতেন? যাকগে এ তর্কের মানে নেই। ২০১৬য় এ কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। মুখ্যমন্ত্রীও সদর্থক প্রচারের কথাই বলেছেন।
  • ranjan roy | 132.176.221.35 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৪২88496
  • পিএম,
    ভুল বুঝেছেন। পিটির ওই তিনটে লাইন আকাশ থেকে পড়ে নি। প্রেক্ষিত দেখুন।
    আমি বললামঃ
    রাজনৈতিক অবস্থান, তাও গুরুতে আড্ডা মারতে গিয়ে! তাতেও "সাধু-অসাধু"?
    আরে মোয়াই, এই অব্স্থান আ, ওর কোন একটা হতে পারে। আপনার আমার সঙ্গে মতে না মিলতে পারে, গা জ্বালানো গোছের হতে পারে,-- কিন্তু "অসাধু"?
    এতবড় ভ্যালু জাজমেন্ট? একটু ভেবে দেখুন ভাই।

    জবাবে পিটি বললেনঃ

    "তাতেও "সাধু-অসাধু"?"
    অবশ্যই। এটা শুধুমাত্র অন্য মত পোষণের ব্যাপার নয়।
    মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।
    যারা জরুরী অবস্থার অন্যতম স্থানীয় পুরুত সুব্রত মুখার্জীর সঙ্গে একাসনে বসে এক সুরে বামেদের নিন্দে-মন্দ করেছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।
    যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।
    যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।

    এর থেকে স্পষ্ট যে আমি এবং পিটি দুজনেই গুরুর আড্ডায় সাধু বা অসাধু রাজনীতির কে বা কারা করে তা নিয়ে বলছি-- কোন জেনেরিক আলোচনা নয়।
    আবার দেখুন, পিটি নিজে বলেছেন--কল্লোলকে অসাধু বলিনি, কিন্তু অসাধু রাজনীতির চর্চা করে বলেছি।
    তারপর যখন অসাধু রাজনীতি কে ডিফাইন করতে বলা হল তখন উনি আমার প্রশ্নের উত্তরে ওই তিনটি সূত্রবাক্য দিলেন।
    কাজেই অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলা নয় , আপনি বিমার কে ওয়াইড কল করছেন।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৫৩88398
  • সাধু রাজনীতির চর্চাটা কি জিনিস - সিপিএম টাইপের কিছু নাকি
  • কল্লোল | 125.242.74.181 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৬:৫৪88399
  • জশ। তখন নোটা ছিলো না। একটু ভেবে চিন্তে মন্তব্য করুন। নয়তো কেমন করুণ লাগে।
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:১৬88400
  • "আমার এট্টা কোশ্ন ছিলো। আমি এর মধ্যে কোনটা?
    কোন জবাব নেই।"

    PT on 30 October 2014 08:10:12 IST
    "যাদের তাত্বিক সমর্থনে এবং/অথবা চক্ষু মুইদ্যা থাকার কারণে তিনো আর তিনোর হাতা-চামচাদের এই বাড়-বাড়ন্ত তারা পব-র বর্তমান দুরব্স্থার কোন দায়িত্ব নেবেনা?"

    এর থেকেই যে অসাধু রাজনীতির বিষবৃক্ষের উত্থান সেটা বুঝতে না চাইলে আর কি করা যাবে!!
  • কল্লোল | 125.242.74.181 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:২৭88401
  • পিটি, কথা ঘুরাইয়ো না। সোজা সাপ্টা উত্তর দাও।

    Comment from PT on 29 October 2014 22:09:03 IST 213.110.246.25 (*) #
    "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"

    "যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।"

    "মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।"

    আমি এর মধ্যে কোনটা?

    এর মধ্যে কোনটা আমি করেছি বা বলেছি, তার প্রমাণ না দিলে - কি বলবো? এমনিতে পিটি খুব ভালো ছেলে, তবে পিলেটা......ঐ আর কি........এট্টু সিপুয়েমঃ-)))))
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৩৪88402
  • "এর মধ্যে কোনটা আমি করেছি বা বলেছি,"
    কল্লোলদা এবং কল্লোলদার মত রাজনীতিতে বিশ্বাসী (অবিশ্বাসী) মানুষদের "তাত্বিক সমর্থনে এবং/অথবা চক্ষু মুইদ্যা থাকার কারণে " এই অসাধু রাজনীতির বিষবৃক্ষ রোপিত হইয়াছে এবং এখন একটি চারাগাছে পরিণত হইয়াছে।
  • dd | 132.172.76.234 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৩৬88403
  • একচুআলি আমি সবটাই জানি।

    এইত্তো কিসুদুন আগেই পিটিস্যার পুরো অংকো কষে দেখিয়েছিলেন সিপুমের কবজী ডুবিয়ে হেরে যাওয়ার মূলে অংকো। যা' পার্মুটেশন কম্বিনেশনের খ্যালা (যারা হায়েস্ট ম্যাথ পড়েন্নি, তারা বুঝবেন্না। তো ক্ষি করবো?)

    আমি ত্তো শুনেই আটখানা। কল্লোল তাইলে বেকসুর খালাস। কল্লোল তো শুনে উদোম মুচ্ছো গ্যালো। অনেক পরে - নাঃ , সেন্স তো কোনো দিনই ছিলো না তো ফিরবে কি করে - ঐ একটা জাগরণ গোছের হোলো।

    কল্লোল নিমিত্তো মাত্রো। আসোল দোষী এরিথমেটিক (বা প্রকাশ কারাত)। কল্লোল সামান্য অসাধু । তো সবাই কি আর ১০০% নিষ্কালংকো হয়?
  • বুড়ো মালী | 233.29.204.178 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৩৯88404
  • চারা গাছ তুলে ফেলে দেবেন গ বাবুরা ! সেই যে থেকে হাত ধরাধরি করে ২ জায়গা থেকে কত্ত গুলো জায়গায় বিষগাছ ফলিয়েছেল ত্যাকনকার লাল সরকারের দল ! সে তো এখন দেশে মোইরুও হয়ে গেল !
    -------------------------------------------------
    কাজে মন দিন
    গাছে জল দিন
  • সিকি | 132.177.154.219 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৪৬88405
  • যাক, তাইলে বোঝা গেল অসাধু রাজনীতির বিষবৃক্ষ ২০১১ সালে রোপিত হয়, তার আগে অবধি বঙ্গদেশে সাধু রাজনীতির মহীরূহের তলায় বসে চাষীভাই আর রাখালছেলে গলা জর্জাজড়ি করে বাঁশি বাজাতেন, মাঠে গরু চরত, গাছে কোকিল ডাকত, বেলেঘাটায় বোমা পড়ত না।
  • বুড়ো মালী | 233.29.204.178 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৪৯88406
  • আর ভোটাররা ছাগল ছেল নে ! সেইটা বড় কথা বটে !
  • সিকি | 132.177.154.219 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৫৪88407
  • তাও বটে। ২০১১ সালে এক এই কুচক্রী অসাধু রাজনীতির বেসাতি কল্লোলের পাল্লায় পড়ে সব ভোটার ছাগল হয়ে গেল। এ যে বাংলার কত বড় ক্ষেতি ... কেবল একজনই ল্যাম্পপোস্ট রয়ে গেলেন।

    বালখিল্য ল্যাম্পপোস্ট।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.99.66 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০০88409
  • তখন ভোট বয়কটের ডাক দিতে পারতেন। নাকি তখন সংসদীয় রাজনীতিতে আস্থা ছিল? নৈরাজ্য বুঝি নোটার হাত ধরে এলো। স্ববিরোধিতাটুকু না দেখলে কষ্ট হয়।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০০88408
  • পিটি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের (যারা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন) ছাগল বলেছেন, আর, কল্লোলকে অসাধু বলেছেন।
    কিন্তু এগুলো ব্যক্তি আক্রমণ নয়। এগুলি হল বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত একটি আলোচনা।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.99.66 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:০২88410
  • উন্মাদ বলা কি ব্যক্তিআক্রমণ বলে গ্রাহ্য হবে?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৮:১৩88411
  • বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত জরুরি প্রশ্ন ছিল। ছাগলে কি চারাগাছ খাবে না ? অথচ দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালে রোপিত বিষবৃক্ষের চারাগাছকে কোনো ছাগলেই খায়নি। তাহলে এর থেকে আমরা কী ধারণা করবো? ছাগলে সবকিছু খায় ইহা অসত্য নাকি এইসব বিবৃ এর চারাগাছ কোন ছাগরিপেলিং ফ্যাক্টর উৎপন্ন করে ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন