এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৭৫৬ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৭৫৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২৭88458
  • আরে বাবা ৪০০ একর নিয়ে আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। অরুণাভ ঘোষের কাছে সব ডকু আছে।
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩১88460
  • আমি কেন দেখাবো? মলয় ঘটককে জিগান।
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩২88391
  • নিজেকে আবার জাবালি ভেবে ফেলবেন না যেন!
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩৫88461
  • কেন, যাঁরা আপনার কথা মতন এতদিন ধরে বলে এসেছেন , তাঁদের নয় কেন ?

    আর মলয়বাবু তো শুনছি এই কথাগুলো বলেছেনঃ
    Chatterjee said Ghatak told him that the news appearing in the press was "far from truth".

    Ghatak told him that the Singur case cannot be compared to other projects where landowners were assured of higher rates of compensation, Chatterjee said.

    In the matter of Singur, it was different because it was fertile land and the landlosers who have not taken the compensation cheques were asking for return of the land and not asking for higher compensation, Chatterjee said quoting Ghata ..

    Read more at:
    http://economictimes.indiatimes.com/articleshow/44981068.cms?utm_source=contentofinterest&utm_medium=text&utm_campaign=cppst
  • PT | 213.110.243.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩৫88392
  • একটু অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল না?
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৩৮88393
  • কই না তো!
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪০88462
  • আপনি পার্থকে মলয়ের চাইতে বেশী বিশ্বাস করেন কিনা সেটা আপনার ব্যাপার। তবে পার্থর মুখে ঝাল না খেয়ে আমার দেওয়া ইউটিউবের লিং থেকে নিজের কানে শুনে নিন যে মলয় ঘটক কি বলেছিলেন।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪১88463
  • শেষ আশ্রয় অরুণাভ ঘোষ। গুড। ঃ-)
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪৪88465
  • তাহলে অরুণাভ ঘোষ ভালো বুজী। এতদিনে একজন নন-সিপিএম ভালো বুজী পাওয়া গেছে। দেখবেন, আবার কোনদিন গণেশ না উল্টোয়। সুবোধ সরকারের মত সেমসাইড হলে কিন্তু লজ্জার একশেষ হবে। ঃ-)
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪৪88464
  • পুরোটা তো শোনাই গেলোনা। সিঙ্গুরেও অনেকে টাকা নেয়নি র পরেই কেটে গেছে।
  • সিকি | 132.177.217.50 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:৪৯88466
  • গোটা জিনিসটাকে হী রা ভ টইতে নিয়ে গেলে হয় না? খুব জমেছে কিন্তু।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.146.90 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:০৩88467
  • একটা লেকচারে গেছি তার মধ্যে এত!
  • Atoz | 161.141.84.164 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:১৩88468
  • রীতিমতন একটা ইয়ে হয়ে গ্যাছে। ঃ-)
  • | 183.17.193.253 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৩০88394
  • পিটি বাবুর একচোখামি দেখে যা দুঃখ পেলাম না! ন্যাড়াকে একবারের জন্যেও পড়তে বসতে বল্লেন নাঃ(
  • PM | 193.89.97.182 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৩৪88469
  • এই দেকুন পিনাকীবাউ গুলিয়ে ফেলতাসেন।

    অরুনাভ ঘোষ হলো একজন A গ্রেড হাইকোর্ট আইনজীবী, বুজি নয়। আইনসংক্রান্ত ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য বোধ হয় শুভাপ্রসন্নের সিঙ্গুরে ঠিক কত জমিতে লাগার কথা মোটোর গাড়ী বানানোর জন্য বক্তব্যের থেকে একটু বেশী গ্রহণ যোগ্য। তাই নয় কি?

    অবশ্য আমি এরকম দাবী করছি না যে আইন বিষয়ে ওনার ব্যাখ্যা কোরানের বানী
  • কল্লোল | 125.242.65.213 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৫৫88470
  • তুমি নির্দিষ্ট করে আমার সম্পর্কে অভিযোগ করেছো -
    Comment from PT on 29 October 2014 22:09:03 IST 213.110.246.25 (*) #
    ১) "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"
    - আমার চাকরী কি মমতা করে দিয়েছে? আমি টাকা-কড়ি, সম্মাননা কতো ও কি কি পেয়েছি? এটার জবাব দাও নি
    ২) "যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।"
    আমি সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছি - কবে কোথায়? প্রমান দাও নি।
    ৩) "মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।"
    আমি কোথায় কখন মমতাকে কৃষক নেত্রী বলেছি, তার কোন প্রমাণ দাও নি।

    অসাধু, মিথ্যা ও কুৎসার চাষ (ও হ্যাঁ, চাষ করা তো আবার পিছিয়ে পরা) না, চাষ নয় বেসাতি করছো তুমি। বারবার তোমার "জানলা দিয়ে মমতাকে কালো পতাকা" দেখানোর উল্লেখই সেটা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। পিএম পর্যন্ত সেই কুৎসার প্রতিবাদ করেছে।

    কাজেই তোমাকে কেন অসাধু পিটি বলা হবে না বলতে পারো?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৪:৫৮88471
  • তাহলে কল্যান ব্যানার্জীকেই বা ফেলবেন কেন? ওনার কথা, ওনার তথ্যও সমগুরুত্ব দিয়ে শুনুন। পার্থসারথি (পদবী মনে নেই) নামের একজন অত্যন্ত নামকরা আইনজীবিও সিঙ্গুর আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন। মালিক শ্রমিক ডিসপিউটে কলকাতায় তিনি মোটামুটি একনম্বর। এঁদের কথাও শুনুন। উকিল তো দুপক্ষেই থাকে - তাই না? আপনার কেন এমন ধারণা হল যে সিঙ্গুর আন্দোলন কেবল শুভাপ্রসন্নের বক্তব্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে?
  • সিকি | 132.177.15.223 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:১২88395
  • ন্যাড়াদা আমায় দেখেও শেখে না। সবাইকে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া যায় না। প্রশ্নেরা টইয়ের ভিড়ে হারিয়ে যায়। বদলে প্রতিপ্রশ্ন আসে। কিন্তু উত্তর মেলে না।
  • ranjan roy | 132.176.221.35 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:১৩88472
  • পিটি,
    আপনি সিপিএম এর কোন অন্যায়ের দায় নিতে রাজী নন। অথচ সিপিএম এর রাজনীতির বিরুদ্ধে কেউ কিছু এই আড্ডায় বল্লেই ঝাঁ-ঝাঁ করে ওঠেন।
    সেসব নিয়ে কথা উঠলে সোজা কোর্টে যেতে বলেন।
    আমি কল্লোলের বক্তব্য থেকে সরে সোজাসুজি জিগ্যেস করছি-- এই গুরুর পাতায় কে বা কারা আছেন যারা আপনার কথামত--
    ১) "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"
    ২) "যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।"
    ৩) "মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।"

    কথা না ঘুরিয়ে সোজাসুজি বলুন গুরুর পাতায় এমন কে কে আছেন যাঁরা আপনার জ্ঞানতঃ ওপরের কাজগুলি করেছে? ভন্ডদের মুখোশ খুলে দিন পিটি!! ভয় কিসের? সঙ্গে আছি।
  • PM | 193.89.97.182 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:২২88473
  • কল্যানকে শুনেছিলাম তো, অরুনাভকেও শুনেছিলাম। তারপর নিজের বিচার বুদ্ধি অনুযায়ী অরুনাভর ব্যাখ্যাকেই গ্রহণ করেছিলাম। আপনারা আপনাদের বিচার বুদ্ধি অনুযায়ী কল্যাননের ব্যাখ্যা শুনেছিলেন।

    এখন মলয় বাবুর বক্তব্য আর সুপ্রীম কোর্টের মামলার গতিবিধি থেকে মনে হচ্ছে আমাদের বিচার্বুদ্ধি-ই ঠিক ছিলো।

    এখন আপনাদের বিচার বুদ্ধিতে অয়েলিং/গ্রিসিং করার দরকার আছে কিনা সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আপনাদের ওপোর-ই ছেড়ে দিলাম ঃ)

    কল্যানবাবুর ওপোর ভরসা না করার আরেক কারন হলো উনি সরকার পক্ষের (তখন তিনো পক্ষের) আইনজীবী । সরকার পক্ষের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করাই ওনার কাজ ঃ)
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:২৮88474
  • ২০০৬ সালে কল্যানবাবু বিরোধী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন। আপনারা ২০০৬ আর ২০১৪ র মধ্যে এমন অবাধে যাতায়ত করছেন যে কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে টাইম মেশিনে বসে আছেন।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩১88475
  • ওদিকে অরুণাভবাবু আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ তিনোমূলের বিজয়ী এম এল এ ছিলেন।
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩২88476
  • "তাহলে অরুণাভ ঘোষ ভালো বুজী"
    গোলাবেন না, গোলাবেন না। অরুনাভ ঘোষ রাজনীতি করেন আর একজন আইনজীবি। উনি ঘোর সিপিএম বিরোধী কিন্তু বা বা ধা কোন বুজিই নন। আর সম্ভব্তঃ উনি মেধার চাইতে আইন বেশী ভাল বোঝেন।

    "কাজেই তোমাকে কেন অসাধু পিটি বলা হবে না বলতে পারো?"
    তুমি চাইলে বলতেই পার। কিন্তু তাতে তুমি যে অসাধু রাজনীতিকে মদত দাওনি সেটা প্রমাণিত হয়না। তোমার কাছ থেকে এখনো শুনিনি যে নন্দীগ্রাম নিয়ে যত প্রচার হয়েছে তার অনেকটাই এখন প্রমাণিত মিথ্যা। অর্থাৎ চুপ করে থেকে নন্দীগ্রামের মিথ্যা প্রচারকে এখনো জিইয়ে রেখেছ তুমি। তবে আবার বলি, আমার লক্ষ্য তুমি নও-গাদা গুচ্ছের বাঙ্গালী বুজী যারা একই রকম ভাবে নিশ্চুপ থেকে অতীতের মিথ্যেকে জিইয়ে রেখেছে। এমনকি ঐ ৪০০ একরের মিথ্যেটাকেও ঢাক বাজিয়ে প্রচার করে চলেছে অনেকেই এখনো।

    আর দেনা-পাওনার হিসেবে যদি বিচার কর তাহলে বলতে হয় যে জয় গোস্বামীর চাকরীও তিনোরা করে দেয়নি। কিন্তু তাতে কি জয়কে অসাধু রাজনীতির মদতকারী বলা যাবেনা নাকি?

    আর তোমার ঐ কালো পতাকা দেখানোটা খানিকটা প্যারাসিটামল দিয়ে ক্যান্সারের জ্বর সারানোর চেষ্টা করার মত। তুমি তাতে আত্মশ্লাঘা বোধ করতেই পার। ও দিয়ে পব-র রাজনীতিতে কোন প্রভাব পড়ব ফেলা যাবে না। এর মধ্যে কুৎসা খুঁজোনা-এটি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।

    তবে এটা বলি যে PM তাঁর মতামত জানাতেই পারেন সেটা আমার বিরুদ্ধেও যেতেই পারে। আমি PM-এর সমর্থন পাব এমনকিছু ভেবে তক্ক করছিনা।
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৫88478
  • একদল লুম্পেন গিয়ে আরেকদল এসেছে। আপনি স্বয়ং গতাসু লুম্পেন না হলে বা তাদের ক্ষীরে ভাগ না বসালে সেই লুম্পেনদের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন কেন?

    গুরু, শালা, হাহাকারময় লুম্পেন-সমর্থক-উইথ-চ্যালাজে ভরে গেল।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৫88477
  • সিঙ্গুরের সব জমি একফসলী - এই মিথ্যে যারা বলেছিল তাদের মিথ্যেগুলোকে নিশ্চুপ থেকে ইন্ধন যোগানোর দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন কি? নইলে অন্যের দিকে আঙুল তোলেন কোন অধিকারে?
  • কল্লোল | 125.242.65.213 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৭88479
  • তুমি তোমার অভিযোগের প্রমাণ দাওনি। আজ থেকে তুমি অসাধু পিটি।
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৯88481
  • RR
    যারাই প্রতক্ষ বা পরোক্ষে তিনোদের ক্ষমতারোহনে সাহায্য করেছে তারা সকলেই ঐ তিন্টি উল্লেখিত এবং অনেকগুলো অনুল্লেখিত অসাধুতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
  • PM | 193.89.97.182 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৩৯88480
  • আমি পিটির বিতর্কিত পোস্ট ফিরে পড়লাম।

    পিটি বলেছেন "যারা" "এই এই " কাজগুলো করেছেন তাঁরা অসধু। কাল্লোলদা এরকম অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যট বাড়াচ্ছেন কেনো বুঝলাম না।ঃ)

    পিটি যে কটা পয়েন্ট বলেছে তার প্রথম পয়েন্টটা হলো-

    "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"

    কল্লোলদা কেনো গুরুর কেউ-ই এই পয়েন্ট এর আওতায় টেকনিক্যালি পড়বেন না কোনোভাবেই। তিনোর জয়ধ্বনী প্রতক্ষ বা পরোক্ষে কেউ দিলেও ( অন্যায় নয় মোটেই), "টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে " এই পয়েন্ট-এ ডিস্কোয়ালিফাই হয়ে যাবেন ঃ)

    সুতরাং এই পয়েন্টটা কোনো ভাবেই কল্লোলদাকে উদ্দেশ্য করে লেখা নয় বলেই মনে হয়।

    অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ব্যাট তুলে ছেড়ে দেয়াই বুদ্ধি মানের কাজ ঃ)
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৯88483
  • pinaki
    আমি একফসলী বা চারফসলীর তক্কে ছিলাম না। আমি সিঙ্গুরে কারখানা চেয়েছিলাম। জমি আট ফসলী হলেও চাইতাম। এখনো চাই। নন্দীগ্রামেও চাই।
    সমস্যা অন্য ছিল। ফসলীর তক্ক কোন প্রকৃত কৃষক দরদী রাজনীতিবিদ করছিল না। করছিল এক ময়ূরপুচ্ছধারী কাক যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যেন তেন ভাবে ক্ষমতারোহন। আর তাকে তোল্লাই দিচ্ছিল অসংখ্য পথহারা, নৈরাজ্যবাদী, অতিবদ অতিবাম। কারা সেই গোলমালে ছিল কাকের সঙ্গে তার লিং দিয়েছি বহুবার। দেখে নেবেন।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৫:৪৯88482
  • যারা সিপিএমের যাবতীয় বদমাইশির সময়টায় চোখ-কান-মুখ বন্ধ করে ছিল বা ইনিয়ে বিনিয়ে সেগুলোকে অস্বীকার বা জাস্টিফাই করে গেছে তারা সকলেই অসাধুতার সাথে জড়িয়ে ছিল এবং আছে।

    ব্যাস। খেলা ড্র। এবার যাও সব নিজ নিজ কাজে। ঃ-)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন