এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৭২ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৭২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৩৬88436
  • ভাল কথা, মেধা পাটেকরের এই বক্তব্য নিয়ে মেধাকে তো মিথ্যেবাদী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

    '"The Act says if the land owner has not received compensation in the last five years or if the possession of land is not taken over by the buyer, then the owner can get the land back. This clause can also be applied in Singur by Mamata Banerjee," Patkar told reporters here.

    Appealing the Chief Minister to resort to the Act, she said her party Trinamool Congress had taken the lead in getting the Land Acquisition, Rehabilitation and Resettlement Act-2013, passed in the Parliament and now they must use it to ensure justice to farmers.

    "There are around 400 farmers in Singur who have not got any compensation. Now they can get back their land. Mamata came to power after fighting in Singur for land rights," the activist said, adding she has herself been using the Act in the Narmada valley.

    http://www.dnaindia.com/india/report-return-land-in-singur-to-farmers-medha-patkar-to-mamata-banerjee-2014695

    আজ ল্যাণ্ড অ্যাক্ট ২০১৩ টা দেখেই ফেললাম।
    http://indiacode.nic.in/acts-in-pdf/302013.pdf

    এর ১৫ নং পাতায় ২৪ এর (২) নং ক্লজটা একটু দেখতে পারেন। যা লেখা আছে, মেধা তার থেকে আলাদা কিছু বলেছেন কি ?

    এবং মেধা এই দাবিটা নর্মদা নিয়েও করেছেন। মিথ্যা মনে হলে নিজেই ভেরিফাই করে নিতে পারেনঃ http://zeenews.india.com/news/madhya-pradesh/medha-patkar-protests-in-bhopal-against-raising-narmada-dam-height_1486086.html

    যাহোক, সরকার অধিগ্রহণ করলে আর ফেরত দেওয়া যাবেনা, এবার এই কথাটা মিথ্যাচার মনে হচ্ছেনা ?

    একটু ভাল করে দেখে জানাবেন কি ? সবাইকেই বললাম।
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৩৯88437
  • আমি বলেছিলাম কিনা সেটা হাজার কয়েক পোস্টিং ঘেঁটে দেখতে হবে। তবে সিঙ্গুর নিয়ে আমার সত্য-মিথ্যা কিছুরই প্রমাণ করার দরকার নেই। বিপ্লবীরা বিপ্লব করে ল্যাজ গুটিয়ে সটকে পড়ার পরে সিঙ্গুরের চাষীরা সেট হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

    তাহলে ঐ "৪০০ একর" জমির মত অখন্ড সত্যি নিয়ে কি এখন থেকেই আলোচন শুরু করব নাকি রায় বেরোন পর্যন্ত অপেক্ষা করব?
  • PT | 213.110.243.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪০88384
  • "আর যারা জরুরী অব্স্থার আসল খলনায়ক সেই কংগ্রেসের সঙ্গে হাতমেলানোর রণকৌশল নেয় শুধু ক্ষমতায় আসার জন্যে-- তারা কোন রাজনীতির চর্চা করে?"
    RR উল্টো ব্যাটে খেলে ফেলেছেন!
    প্রথমতঃ এই "খলনায়কদের" সঙ্গে হাত মেলানো হয়েছিল এদের চাইতেও বেশী খারাপ খলনায়ক বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য। অবিশ্যি RR-এর যদি বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা বেশী পছন্দের হয় তো সেটা RR-এর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু সেটা সততার সঙ্গে পোষ্কার করে বললেই হয়।
    অন্ততঃ পব-র কংগ্রেস থেকে জরুরী অবস্থার খলনায়কেরা অদৃশ্য হয়েছে। এমনকি সিদ্ধার্থের মৃত্যুর পরে কংগ্রেস নয়, তিনোরাই তাঁর অন্ত্যেষ্টির দায়িত্ব নিয়েছিল।
    আশ্চর্যের কথাঃ সেই সিদ্ধার্থের উত্তরসুরী, যিনি কংগ্রেসের ফেলে দেওয়া জঞ্জালের স্তুপের ওপরে বসে আছেন তাকে কেন্দ্র করে RR ও কল্লোলদার মত বিদগ্ধ মানুষেরা পব-তে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখলেন?

    "আমার এট্টা কোশ্ন ছিলো। আমি এর মধ্যে কোনটা?"
    এই রেঃ!
    এর পরে শুনতে হবে যে "যে আসে আসুক সিপিএম যাক" আবার কবে বল্লাম?
    সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-রিজানুর ইত্যাদি নিয়ে বিপুল পরিমাণ মিথ্যে কথার যে চাষ হয়েছিল তার কোনটারই প্রতিবাদ (ঘেউ, ঘেউ তো দুরস্থান) এখনো কল্লোলদাকে করতে শুনিনি।
    যাদের তাত্বিক সমর্থনে এবং/অথবা চক্ষু মুইদ্যা থাকার কারণে তিনো আর তিনোর হাতা-চামচাদের এই বাড়-বাড়ন্ত তারা পব-র বর্তমান দুরব্স্থার কোন দায়িত্ব নেবেনা?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৪88439
  • অ্যাক্ট টা দিয়ে দিলাম তো। ঃ)
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৪88438
  • "There are around 400 farmers in Singur who have not got any compensation."

    আরে এটা একটা আশ্চর্য সংখ্য! এদ্দিন জানতাম যে ৪০০ একর জমি আর চেক না নেওয়া চাষীদের সংখ্যা আড়াই হাজারের মত। এখানে দেখছি ৪০০ চাষী? কেসতো গুবলেট মনে হচ্ছে!!
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৬88385
  • পিটিবাবু, তাহলে কী দাঁড়াল? মারীচঝাঁপিতে সিপিয়েমের কার্যকলাপ কেমন ছিল? একটু খোলসা করে বলবেন?
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৮88441
  • অ্যাক্টে গুলি আপাতত।
    আগে ঠিক করুন যে ৪০০ একর জমি না ৪০০ অনিচ্ছুক কৃষক?
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৪৮88440
  • 'সিঙ্গুর নিয়ে আমার সত্য-মিথ্যা কিছুরই প্রমাণ করার দরকার নেই'

    এই পোস্টটা গতকাল থেকে বোধহয় n তম বার পড়ে গেছেঃ)
    'আবার সিঙ্গুরের চাষীকে যারা টাকা না নিয়ে জমি ফেরতের জন্য আন্দোলন করার জন্য তাতিয়েছিল তারা অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে কেননা তারা চাষীদের বলেনি যে সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না। '
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫১88442
  • অ্যাক্টে গুলি আপাতত মানে ?
    'আবার সিঙ্গুরের চাষীকে যারা টাকা না নিয়ে জমি ফেরতের জন্য আন্দোলন করার জন্য তাতিয়েছিল তারা অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে কেননা তারা চাষীদের বলেনি যে সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না। '

    এই সংক্রান্ত পোস্টের বন্যা বইয়ে দেবার যখন দেখা গেল অ্যাক্টে বলা আছে ফেরত দেওয়া যাবে, তখন তাতে গুলি মারতে হবে ? :D

    ভাল কথা, আপনি তাহলে বলছেন, ''সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না'' একথা আপনার হাজার পোস্ট ঘাঁটলে দেখা যাবে আপনিও বলেছেন।
    বেশ।

    মানে, আপনিও তাহলে মিথ্যাচার করেছেন।
    তাই তো ? ঃ)
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৫88444
  • সিঙ্গুরের চাষীরা যদি কাউকে অভিশাপ দিয়ে থাকে তার তালিকায় প্রথম থাকবে আপনাদের মতন 'উন্নয়ন' এর ধ্বজাধারীদের। কারণ আপনাদের 'উন্নয়ন' এর ধারণার গুঁতোতেই তাদের উচ্ছেদ হতে হয়েছিল। এবং সেই 'উন্নয়ন' এর ধারণাকে জাস্টিফাই করার জন্য উচ্ছেদের আগে প্রচুর মিথ্যে বলা হয়েছিল - যেমন ওখানকার অধিকাংশ জমি একফসলী, ৯৯৭ একর জমির মালিক সম্মতি দিয়ে দিয়েছেন, তাই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে - ইত্যাদি। আগে সেই মিথ্যেগুলোর আর ঐ লোকগুলোকে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভিটে মাটি ছাড়া করে ভাতে মারার পাপের বোঝা ঘাড় থেকে নামান, তারপর অন্যদের মিথ্যে ইত্যাদি নিয়ে ভাববেন।
  • গুলি | 126.202.198.207 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৫88443
  • 'অমিতাভ লালা/বাংলা ছেড়ে পালা' - কোর্টের রায়ের পর -

    মনে কি পড়ে প্রিয়?
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৬88445
  • আরেঃ আমি বলছি যে আগে ঠিক করুন ৪০০ একর জমি না ৪০০ অনিচ্ছুক কৃষক? ৪০০ কৃষক হলে সমস্যার ডাইমেনশনটাই বদলে যায়। তদুপরি এটাও জানা দরকার যে শেষ পর্যন্ত মেধা ঠিক সংখ্যাটা বলে ফেলেছেন কিনা।
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৮88446
  • আড়াই হাজার থেকে চাষীর সংখ্যা কমে ৪০০-তে দাঁড়ালে আমার অভিশাপের ভারটাও যে কমে। তাড়াতাড়ি সত্যি সংখ্যাটা বাতলান।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০১88447
  • অ্যাক্ট টা পড়লেন ? ঃ)
  • PT | 213.110.243.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০১88386
  • সত্যিটা জানা নেই। আপনি গবেষণা করে জানানোর দায়িত্বটা নিয়ে আমাদের আলোকিত করুন নাহয়!
    তবে তার সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রামটাও ঘেঁটে দেখবেন-সত্যিটা বের করা সহজতর হতে পারে।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৪88448
  • এনিয়ে তো আগে বহুবার কথা হয়েছে। ২০০৬ সালে ওটা ৪০০ একর জমিই ছিল। এখন নিশ্চয়ই কমেছে। জমি ফেরানোর ব্যাপারটা অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর অনেকে ক্ষতিপূরণ নিয়েছে। মানুষকে তো খেয়ে পরে বাঁচতে হবে। ২০০৬ আর ২০১৪ সালের দুটো আলাদা সময়ের আলাদা বাস্তবতার দুটো সংখ্যা দেখিয়ে তর্কে জেতার অমানবিক চেষ্টা নাই বা করলেন। পাপের বোঝা এতে বাড়ছে বই কমছে না।
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৪88387
  • কিছুই জানেন না তো এত বাজে বকেন কেন?
  • PM | 193.89.97.182 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৭88449
  • পিনাকী যত কঠিন কঠিন কাজের বর্নণা দিলো অতো কিছু করতে হবে না। এই পাতাতেই নীচের দুটো কাজ করলেই আপাততঃ হবেঃ

    ১। সিঙ্গুরে জমি ফেরত দেবার আন্দোলন একটা বিশাল মিথ্যার ওপোর আধারিত ছিলো। আন্দোলনের বেসিস ক্ষতিপূরণের ওপোর না হয়ে জমী ফেরতের ওপোর হওয়াটা ভুল ছিলো। যারা গুরুতে জমি ফেরত দেওয়ার দাবীকে সমর্থন করেছিলেন তাঁরা ঠিক করেননি, বরং রাজ্যের ক্ষতি করেছেন (অজান্তে হলেও)
    ২। " যে আসে আসুক" সেটটা থেকে তিনো আর দিদিকে বাদ দেওয়া উচিত ছিলো।

    এই ছোট্ট দুটো পয়েন্টে একমত হলেই আপাততঃ হ্যন্ড শেক করে ফেলতে পারবো দুপক্ষ ঃ) অন্তত কিছু দিনের জন্য LOC তে গুলি গোলা চলবে না, অখন্ড শান্তি বিরাজ করবে ঃ)
  • PT | 213.110.243.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৮88388
  • আপনি এত জেনেও এ পর্যন্ত কোনটা কাজের কথা বলেছেন? লোম বাছতে তো কম্বল উধাও হয়ে যাবে!!
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:০৯88450
  • সময় নেই এখন - আর আমি বোধয় মেধাকে মিথ্যেবাদী বলিনি। শুধু দিদি কেন মেধার প্রস্তাবকে পাত্তা দিলেন না সেটা জানতে চেয়েছিলাম।

    তবে চাষীর সংখ্যা সত্যি সত্যি ৪০০ হলে জানিয়ে রাখি যে ৭০-একরের মত জমি বুদ্ধবাবু ছেড়ে দিতে রাজী ছিলেন। তাতে এই ৪০০ চাষীর সমস্যা মেটানো যেত।

    বলি কি মেধাকে ছাড়ুন। পব-তে গোলমাল পাকানো ছাড়া মেধার পব নিয়ে বিশেষ উৎসাহ নেই। উনি যা যা বিরোধীতা করেন, মহারাষ্ট্র সেই সব করেই "উন্নয়ন" করছে। আর আমরা বুড়ো আঙুল চুষেই চলেছি।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১০88451
  • প্রথম লাইনটা আগে চেঞ্জ করুন। 'সিঙ্গুরের উচ্ছেদটা একটা বিশাল মিথ্যের উপর আধারিত ছিল' - এইটা করুন। একমত হওয়ার দিকে দশ পা এগিয়ে যাবো। মাক্কালি। ঃ-)
  • ন্যাড়া | 172.233.205.42 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১০88389
  • আমার সব কথাই মণিমুক্তো। ঋষিবাক্য। মেনে নিন।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১২88452
  • 'আবার সিঙ্গুরের চাষীকে যারা টাকা না নিয়ে জমি ফেরতের জন্য আন্দোলন করার জন্য তাতিয়েছিল তারা অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে কেননা তারা চাষীদের বলেনি যে সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না। '

    এটা হলে তো মেধার কথা মিথ্যাই হয় !
  • PT | 213.110.243.22 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১২88390
  • বালখিল্যরাও ঋষিই ছিল!!!!
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৩88453
  • পিনাকি
    ৪০০ একর কোনকালেই ছিল না। যারা ঐ মিথ্যা আকঁড়ে রাজনীতি করেছে আর যারা সেই রাজনীতিকে তাত্বিক তোল্লাই দিয়েছে তারাই অতি অমানবিক কম্মটি করেছে। আর যারা বিপ্লব সেরে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে তাদের অমানবিকতার কোন সীমা-পরিসীমা নেই।
  • PM | 193.89.97.182 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৫88454
  • কেনো সিঙ্গুরের অধিগ্রহনটাতো জনস্বার্থে ছিলো। আপনারা সুপ্রিম কোর্ট পর্য্যন্ত গেছিলেন। কোর্ট ওটাকে "জনস্বার্থে অধিগ্রহণ" বলে রায় দিয়েছে তো। তাহলে আবার এ দাবী কেনো? ঃ)
  • a | 208.7.62.204 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:১৭88455
  • যাক সমাধানসূত্র বেরিয়ে গেল।

    সিঙ্গুরের উচ্ছেদটা একটা বিশাল মিথ্যের উপর আধারিত ছিল আর সিঙ্গুরে জমি ফেরত দেবার আন্দোলন একটা বিশাল মিথ্যার ওপোর আধারিত ছিলো।

    ফুটবলে লাথি এই দলও মেরেছে, ওই দলও মেরেছে। আমরা অর ওরা মিলে সুন্দর খেলেছে।

    ন্যান এবার হ্যান্ডশেক করে ফেলুন।
  • PT | 213.110.243.21 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২০88457
  • মেধার দুটো বক্তব্যই ২০১৪-র। আর এক্টটা ২০১৩-র। তাহলে সিঙ্গুরের আন্দোলনের সময়ে সত্যিটা কি এটাই নয় যে "সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না"?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২০88456
  • হুম্ম। আজকের ফুড ফর থট।

    ১) সত্তর একরে সব সমস্যা মিতে যেত। কিন্তু তিনোমূল তা না মেনে আন্দোলন জারি রাখল। আর যাদের সমস্যা, তারা সব ছাগল। সত্তর একরে সমস্যা মিটবে কিনা সেই ক্যালকুলেশনটুকুও তাদের করার বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। তাই তারা দিদির কথায় নেচে সেই সত্তর একর ফেরৎ না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গেল।

    ২) ২০১৪ তে কেউ একটা বলল যে এই মুহুর্তে অনিচ্ছুকের সংখ্যা ৪০০। অতএব হাঁটু খাটিয়ে আমাদের বুঝে ফেলতে হবে ২০০৬ সালে উচ্ছেদের আগেও অনিচ্ছুকের সংখ্যা ছিল ৪০০।

    ২) এই তত্ত্ব যাঁরা দিচ্ছেন তাঁরা বাখি বা ধাবা নন।

    বোঝা গেছে। জলের মত ক্লীয়ার। ঃ-)
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০৩:২৭88459
  • 'সরকার একবার জমি অধিগ্রহণ করলে তা ফেরত দেওয়া যায়না'

    এটা কোথায় লেখা ছিল দেখাবেন একটু ? আর আবারো জিগালাম, এটা জানাই ছিল যখন এতদিন বলেননি কেন ?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন