এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৬৯ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pinaki | 90.254.154.99 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৪88620
  • পিটিদা আবার ইতিহাস বিকৃত করছেন। (এখনো বলছি না কাঁচা ঢপ মাপরছেন, আমার ধৈর্যটা খেয়াল করুন ঃ-)) নন্দীগ্রামের সময় মিডিয়া ও বুজি সিপিএমের পক্ষে কিছু কম ছিল না। ১৪ই মার্চের আগে, মানে জানুয়ারি থেকে মার্চ, এই সময়টায় মিডিয়া ও বুজির হিসেব প্রায় ৮০-২০ (৮০ শতাংশ সিপিএমের পক্ষে লিখছে ও বলছে)। ১৪ই মার্চের ঘটনার পরে এটা উল্টে যায়। মিডিয়ার মধ্যে আবাপ পাল্টি খায়। আর প্রচুর বুজি পাল্টি খান। হিসেবটা তারপর ৫০-৫০ হয়।

    আর শাওলি মিত্র গ্রামে গেছেন প্রচার করতে, বাদশা মিত্র যাননি? অরিন্দম শীল যাননি? সুবোধ সরকার, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় যান নি?

    আজগুবি বলতে বলতে মানুষের যে মাথার ঠিক থাকে না, এগুলো দেখলে বোঝা যায়। কী আর বলি!

    এই জন্য বহুবার বলেছি, এই অর্থহীন আস্ফালন বা আর্তচীৎকার করে কোনো লাভ নেই। এর আগে অনেক কেসে হয়তো পেরেছেন গলার জোরে ইতিহাস পাল্টে দিতে। সেখান থেকেই এই কনফিডেন্স এসেছে, বুঝতে পারি। কিন্তু নন্দীগ্রামের বেলায় পারবেন না। এটা এক্সেপ্ট করুন। নইলে হতাশা আরো বাড়বে। ঃ-)
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৫88621
  • যে কথাটা বহুবার লিখেছি সেটা আবার লিখি। বামেরা আরো আগেই যেত যদিনা বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করত। কেননা বেশীর ভাগ সময়েই বামেরা ৫০%-এর কম ভোট পেয়েছে।
    অহেতুক বক্তব্য বিকৃত করে কি লাভ?
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৬88622
  • জমল না, তো?
    পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়েই কালের গতি। ক্ষোভ কিসের? অদ্ভুত!
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৬88623
  • আরে ভাই বিকল্পের দরকারই ছিল না, গাছ/পাথর/কাকতাড়ুয়া/তাপোস্পাল/মুনমুন্সেন - যে কেউ দাঁড়ালেই ভোটে জিতত, জিতেওছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তখন লোকে সামনের দিকে ঠেলবেই - সামনে নর্দমাই হোক আর সুইমিং পুল - যাই থাকুক, সেখানে ঝাঁপাবে - কি করবে আর। অপশন তো নাই।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৪৮88624
  • আগেই গেলে পিটির ক্ষোভ কিছু কম পড়িত কি?
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৫৩88625
  • পিনাকি এত অবান্তর কথাবার্তা না বলে এবং প্রায় ব্যক্তিগত অক্রমণের মধ্যে না গিয়ে তিনো সরকারকে বলুন নন্দীগ্রাম নিয়ে CBI তদন্ত করার অনুমতি দিতে। শুধু চার্জশীট টুকু পড়লেই বোঝা যায় যে কি পরিমাণ মিথ্যা গপ্প ফাঁদা হয়েছিল। আর আপনি তো নিজেই মেনে নিয়েছেন যে বেশীর ভাগ ঘটনাই reportedly অর্থাৎ অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে লেখা। তার মানে প্রচুর ঘটনাই অপ্রমাণিত এবং এখন বোঝাই যায় যে কাঁচা মিথ্যে।

    তাহলে CBI তদন্তের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়ার কারণটা কি বোঝা যাচ্ছে?
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৫৬88626
  • যাক, পিটি আল্টিমেটলি কথাটা বলল।
    ওসব শাঁওলি-সুমন-সুনন্দ রা কিস্যু না, মিডিয়া-ফিডিয়াও কিস্যু না --- কংগ্রেস/তিনো নিজেদের মধ্যে আঁতাত করে বামেদের ভোটে হারিয়েছে। এটা আগে ঠিকঠাক হলে, আগেও বাম হারতেই পারত।
    দিস্‌ এক্সপ্লানেশন মেক্‌স বেটার সেন্স্‌।
    ব্যস্‌, পিটি একথা মেনে নিয়েছেন। আর তক্কো নয়। এই থ্রেড এমনিই লম্বা হয়ে গেছে।
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:০০88627
  • নিজের মনের মত কথা অন্যের মুখে বসিয়ে দিয়ে তক্কে জেতার কি মরিয়া প্রচেষ্টা!!
  • cb | 124.78.2.113 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:০২88628
  • ক্ষোভ না থাকার কোন কারন নেই। এই ধরুন কেন্দ্রে র এক্সাম্পল। মোদি আসার আগেই বলা হচ্ছিল, বেসরকারীকরন, গভঃ প্রোজেক্টগুলি তে বরাদ্দ কম ইত্যাদি। এবার ক্ষমতায় আসার পর যদি কেউ দেখে ওষুধপত্রের দাম বাড়ছে, এনরেগাতে বরাদ্দ কমার প্রস্তাব ইত্যাদি,এরা তো বলবেই "আই টোল্ড ইউ সো", এবং ক্ষুব্ধ হবে। ক্ষোভ স্বাভাবিক।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:০৯88629
  • কি মুশকিল! "বামেরা আরো আগেই যেত যদিনা বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করত। " ---- এটা তো আমি লিখি নি, আপনিই তো লিখলেন। নিজেই ব্যাখা দিলেন, নিজেই আবার...কখন যে কি বলে।
  • সিকি | 132.177.72.219 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:০৯88630
  • :) এক এবং একমাত্র।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:১৩88631
  • ক্ষোভ নিয়ে তো প্রবলেম নাই। ক্ষোভ স্বাভাবিক।
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:১৫88632
  • এইত এতক্ষণে একটু একট বুঝতে শুরু করেছেন। এবারে বোঝার চেষ্টা করুন যে ২০১১-তে হঠাৎ কি কারণে সেই কামড়া-কামড়ি করা দল গুলো চাণক্যের কৃপায় এক ছাতার তলায় এসে রামধনু জোট বানাল?
    (তিন বছরের মধ্যেই ঐ দলগুলোর ছাড়াছড়ি হয়ে আবার কামড়া-কামড়ি করতে শুরু করেছে!!)

    থ্রেড আরো লম্বা হবে। কেননা রাত অনেক হলেও উত্তর মেলেনা-সেটা বহু আগেই পন্ডিতেরা বলে দিয়েছেন!!
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:২৪88633
  • ও এইবার বুঝেছি।
    শাঁওলি-সুমন-সুনন্দ রা কলকাতা-দিল্লি দৌড়োদৌড়ি করে, সোনিয়া-মমতা কে একসাথে করে রেখেছিল। নইলে যদি আবার ঝগড়া হয়!
    হা হা।
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:৪১88634
  • এ ব্যাপারে আপনার দৌড়নোর ক্ষমতা কতখানি সে আপনিই সব চাইতে ভাল জানেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলছিনে।
  • pinaki | 90.254.154.67 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:৫৩88649
  • হ্যাঁ, মামারবাড়ির আবদার যাকে বলে। ওনার দল চারদিক দিয়ে ঘিয়ে ধরে কোনো সাংবাদিককেও ঢুকতে না দিয়ে হত্যালীলা চালাবে, আর তারপর যখন মানুষ পৌঁছে আতংকগ্রস্ত লোকের থেকে অতিরঞ্জিত বিবরণ শুনবে, তখন ওনাদের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে সেইসব বিবরণ ফিল্টার করে, সত্যি না মিথ্যা যাচাই করে তবে লোককে বলতে হবে, যাতে ওনাদের ইজ্জত না যায়। ইল্লি আর কি! ঃ-)
  • Reshmi | 192.69.104.202 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১০:০২88635
  • স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকান্ডের ঘটনাটা মনে আছে নিশ্চয়ই। অনেকেই আগুনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাঁরা কি জানতেন না, তাতেও মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকেই যায়? তবুও তো ঝাঁপিয়েছিলেন, যদি বাঁচার কিছুমাত্র সম্ভাবনা থাকে এই আশায়। ২০১১ র নির্বাচন কে আমার কেন জানিনা বারবার এই অবস্থার সঙ্গেই তুলনীয় মনে হয়।
    অনেকেরই অবশ্য তা মনে হয়না, কাউ কে "বালখিল্য", কাউকে "ছাগল" এই সব মনে করেন তাঁরা। কি আর করা যাবে!
  • PT | 213.110.246.22 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১০:১৫88636
  • কিন্তু বুজিদের মিথ্যাচার আর বিভৎস রসের কারবার? আর এত বছর বাদেও সেই সব বুজীদের ভুল স্বীকার না করে সরকারের সঙ্গে লেপটে থাকা-এসবের কি ব্যাখ্যা হয়?
  • s | 117.131.42.250 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১০:৩৪88650
  • ফিরে দেখুন। আর একটু কাঁদুন।
  • - | 208.7.62.204 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১১:০৬88637
  • Reshmi দুটো আলাদা ঘটনার যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন। সিপিয়েম নামক আগুন থেকে বাঁচার জন্য অনেকে ঝাঁপ দিয়ে অন্য সরকার বানালেন এটা অনস্বীকার্য্য। কারন ৩৪ বছরে সিপিয়েম বহু ভুল করেছে, ৩৪ বছর একটা দল ক্ষমতায় থাকা মানে গনতন্ত্র থমকে যাওয়া, একটা দলকে কোন না কোন সময়ে তো চলে যেতেই হয় - এগুলো প্রত্যেকটা ঠিক কথা।

    আবার তেমনি সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম কান্ডে নানান মতাদর্শের আর নানান রাজনৈতিক শিবিরের অনেকগুলো লোক একসাথে এসে তুমুল মিথ্যাচার করেছেন এটাও ঠিক কথা। সেই মিথ্যাচারের ফলেই যে একটা অল্টার্নেটিভ খাড়া করা গেছে সেটাও ঠিক কথা। বর্তমান সরকারের নানা কার্যকলাপে সেই মিথ্যেগুলোকে চাপা দেওয়ার চেষ্টাও প্রকট হয়ে উঠছে।

    তবে সিপিয়েম ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া আর ওই সময়কার মিথ্যাচার, এই দুটো আলাদা ঘটনা। একটার জন্য আরেকটা হয়েছে এরকম ভাবারও কারন নেই।
  • Atoz | 161.141.84.164 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১২:০৩88582
  • কথাটা তো শুধু অতিরঞ্জন তো নয়, কথাটা হলো কী নিয়ে অতিরঞ্জন।
    মিছিলে কয়েক হাজার লোক বেশী এলো কি কম এলো, সেটার যতটা ইম্প্যাক্ট, তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশী ইম্প্যাক্ট পড়বে বীভৎস মৃত্যু বা হত্যার কথায়। সেইসব কথা লেখার সময় এইসব বড়ো বড়ো দায়িত্বশীল লোক ---কী আর বলবো---বুঝতেই তো পারছেন।
  • Atoz | 161.141.84.164 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১২:১৬88583
  • শাঁওলি মিত্র সুনন্দ সান্যাল কবীর সুমন অপর্ণা সেন ---এঁরা জনমানসে অনেক অনেক প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখেন। এঁদের প্রভাব মোটেই শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক নয়। রীতিমতন অজপাড়াগাঁয়েও কবীর সুমনের বা অপর্ণা সেনের ফ্যানের অভাব নেই।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 88.34.209.219 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ১২:৩১88584
  • reportedly
    adverb UK /rɪˈpɔː.tɪd.li/ US /-ˈpɔːr.t̬ɪd-/
    according to what many people say:
    New York is reportedly a very exciting place to live.
    (Definition of reportedly from the Cambridge Advanced Learners Dictionary & Thesaurus © Cambridge University Press)
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৫৩88655
  • "তার থেকে ভাবুন এই মরিচঝাঁপির সময় আজকের মত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া হলে কি হত"

    তাহলে অনেক গুজবই হয়ত রটত না। মিডিয়া ছিলনা বলেই নন্দীগ্রাম নিয়ে এত মিথ্যাচার করা সহজ হয়েছে। অন্যদিকে মিডিয়া ছিল বলেই কলকাতায় ১৩ জনের মৃত্যু নিয়ে কোন গপ্প ফাঁদার সুযোগ হয়নি। শুধু সরাসরি সরকারের গুলি চালানোর নিন্দা করেছে বিরোধী ও অন্যান্যরা।
  • - | 208.7.62.204 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০২:০৩88656
  • হায় জনতা যদি সত্যিই দুই বা তিন টার্ম পরে জ্যোতিবাবুর পশ্চাৎদ্দেশে সজোরে ঢুঁসো মারত! মাঝেমাঝে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে পশ্চিমবঙ্গে আজ শ্মশানের রাজনীতির চাষ হতোনা।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০২:১১88657
  • RR
    আপনার অর্থহীন শব্দ নিয়ে খেলা পড়ছি আর ইঙ্গিত পাচ্ছি যে আপনারা তিনোর ওপরে ভরসা হারিয়ে বামেদের পুনরায় আটকানোর জন্য মঙ্গলদীপ নিয়ে পব-তে বিজেপিকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
  • # | 127.194.192.6 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৩৫88658
  • পিটি, পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট আগামী সতেরো বছরের মধ্যে আর ক্ষমতায় ফেরত আসবে না। ঠিক যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশগুলো কোনোদিনই আবার জোড়া লেগে সোভিয়েত হবে না। মন শক্ত করুন। নিজেকে সামলান। কিছু কিছু তিক্ত কঠিন বাস্তব কে স্বীকার করে নিয়েই মানুষকে দৈনন্দিন পথ চলতে হয়। হতাশা কাটিয়ে উঠুন। শুভেচ্ছা জানাই। গেট ওয়েল সুন।
  • potke | 126.202.127.182 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৫২88652
  • চ্যালাবৃন্দ কোনো দিকেই কম পড়ে নাই।
  • PT | 213.110.246.230 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৫৪88659
  • সামলানোর কিছু নেই। দুঃখেরও কিছু নেই। মানুষ যদি মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী আর মোদীকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে সুখে আর আনন্দে থাকে তাহলে আমার কিই বা বলার থাকতে পারে?

    কিন্তু অম্বিকেশ মহাপাত্রর মত আর্থিক ভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা আর শিলাদিত্যের মত আর্থিক দিক থেকে অস্বাচ্ছন্দ্যে থাকা মানুষেরা কেন সুখে নেই কে জানে!! একই সঙ্গে দেখছি সারা ভারতের মানুষ কংগ্রেসকেও প্রত্যাখান করেছে আর প্রায় ৭০% মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে!! আশ্চর্য। সেটা না দেখে আমরা সোভিয়েট ইউনিয়নের ঘটনা নিয়ে আনন্দে থাকব?

    আমার তো মনে হচ্ছে যে এখন যারা অন্ধ তারাই চোখে দেখার দাবী করে বেশী!!
  • PM | 233.223.157.80 (*) | ০২ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:১৬88660
  • "হ্যাঁ, মামারবাড়ির আবদার যাকে বলে। -------তারপর যখন মানুষ পৌঁছে আতংকগ্রস্ত লোকের থেকে অতিরঞ্জিত বিবরণ শুনবে, তখন ওনাদের ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে সেইসব বিবরণ ফিল্টার করে, সত্যি না মিথ্যা যাচাই করে তবে লোককে বলতে হবে, যাতে ওনাদের ইজ্জত না যায়। ইল্লি আর কি! ঃ-)"

    মিথ্যা প্রচারকে ডিফেন্ড এটা একটা ক্ল্যাসিক প্রচেষ্ঠা। ঃ)

    "ওনার দল চারদিক দিয়ে ঘিয়ে ধরে কোনো সাংবাদিককেও ঢুকতে না দিয়ে হত্যালীলা চালাবে "---এটা একটা অভিযোগ। সত্যি-ও হতে পরে। এই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। আপনাদের ( কিশেণজির-ও) প্রিয় নেত্রী ৩ বছরে একটা তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেবার উদ্যোগ নিলেন না কেনো?

    যে সিবিআই তদন্ত হয়েছিলো তাতে লেখা আছে দুপক্ষ-ই গুলি চালিয়েছে। সিবিআই তদন্ত বন্ধ করা হলো কেনো? যদি মনে Kঅরেন দিদি কিছু ফেভার কারছে তাহলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না কেনো? ময় এই ফোরামের কোনো নকু বা নৈরাজ্য বাদীকে এই নিয়ে কোনো বক্তব্য রাখতে দেখি নি।কেনো? (আচ্ছা খাসরাতে কি এরকম দাবী ছিলো? ঃ))

    নাকি মিশন অ্যাকম্প্লিশ বলে আর ঝুলি থেকে বেড়াল বেড়োনোর ঝক্কি নিয়ে আর লাভ কি? ঃ)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন