এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৬৭ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৩৬৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৩৫88542
  • দুদিকে,

    যদি ধরুন ঐ সৌমিত্র বসুর লেখাটার বদলে আমি উপরে যে ট্রাইবুনালের রিপোর্টের লিংক দিলাম সেইটা বেরোতো, তাহলে কি হতবাক হতেন না? সত্যিই যা ঘটেছে নন্দীগ্রামে সেটা কি হতবাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৩৯88543
  • ড্যাশ, ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খুঁজতে থাকুন। সাথে কদিন পরে সিপিএমকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কিনা খেয়াল রাখবেন। ঃ-)
  • pinaki | 90.254.154.67 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৪১88581
  • Atoz

    আপনি যদি ওখানে গিয়ে শুনতেন আপনি এসে কি লিখতেন না কী শুনেছেন? ১৬-১৭ই মার্চ নাগাদ যাঁরা তমলুক হাসপাতালে বা নন্দীগ্রাম হাসপাতালে গ্যাছেন, আহতদের সাথে কথা বলেছেন, ঐ বীভৎসতা দেখে এই গুজবগুলোর অনেক কিছুই সত্যি ভেবেছেন। কলকাতা থেকে যাঁরা খেজুরির ঘরছাড়া সিপিএম সমর্থকদের ক্যাম্পে গেছেন তাঁরাও ফিরে এসে দুহাজার ঘরছাড়ার গল্প বলে বেড়িয়েছেন বাস্তবে শখানেক ঘরছাড়াকে নিজের চোখে দেখার পর। এঁদের সবাই কি ধান্দাবাজ বলে মনে হয় আপনার? স্থানীয় মানুষ এগুলো বলছে - এটা তো একটা ইন্ডিকেটর যে কতটা বীভৎসতা হয়েছে। আপনি যা দেখলেন, যা শুনলেন - এসে বলবেন না? যেখানে কোনো সাংবাদিক, বাইরের লোক কাউকে ঢুকতে না দিয়ে সন্ত্রাস চালানো হল, সেখানে তো এই লোকমুখে শোনা কথা ছাড়া সত্যি জানার আর কোনো উপায়ই নেই। পরে যখন ডকুমেন্টরি হয়েছে তখন সেখানে তো কেউ এগুলো বলে নি। হ্যাঁ, আপনি মিথ্যেবাদী তখনই হবেন যদি আপনি নিজে এই কথাগুলো বানান।

    আর আপনাদের এটা নিতান্তই ভুল ধারণা যে লোকে শাওলি মিত্রের লেখা পড়ে আর সুনন্দ সান্যালের লেখা পড়ে নন্দীগ্রাম নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। নিতান্ত কলকাতা কেন্দ্রিক রীতিমত খোঁজখবর রাখা লোক ছাড়া সুনন্দ সান্যালের নামও কেউ শোনে নি। শাওলি মিত্রকে কজন চেনে? তার চেয়ে অনেক বেশী লোক বাদশা মিত্রকে চেনে, অরিন্দম শীলকে চেনে, বাংলা সিরিয়ালের দৌলতে। যাঁরা দিনের পর দিন টিভিতে খেজুরির ঘরছাড়া নিয়ে ঢপ দিয়ে গ্যাছেন। তো কিছু ঘটনা সত্যিই ঘটলে যে ঢপে কাজ হয় না, বাদশা মিত্র, অরিন্দম শীল, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, রূপংকর, সৌমিত্র, সুনীলদের মত পপুলার ফিগাররাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এই প্রশ্নটা একবার নিজেদের করুন না - কেন লোকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মত পপুলার অভিনেতা, বা সৌরভ গাংগুলির মত পপুলার ক্রিকেটারের বুদ্ধবাবুর উপর আস্থাসূচক বিবৃতিকে পাত্তা না দিয়ে কবীর সুমনের মত আধপাগলার ছড়ানো গুজবে বেশী ভরসা রাখল?

    অতিরঞ্জন এই ধরণের ঘটনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাতে গরম উদাহরণ নিন। হোককলরবের মিছিল। কত লোক হয়েছিল যদি জিজ্ঞেস করেন ৩০০০০ থেকে ১,২০০০০ অব্দি বিভিন্ন ফিগার পাবেন। এর মধ্যে আমার আপনার মত স্কেপটিক ৩০০০০ টায় বিশ্বাস করবে। আর যে ছেলেটি বা মেয়েটি মিছিলে ছিল, তার স্পিরিটের জায়্গা থেকেই সে ১,২০০০০ এর ফিগারে ভরসা রাখবে। আপনি কি তাকে এজন্য মিথ্যেবাদী বলবেন? আপনি কি তার সামনে ৩০০০০ সংখ্যাটা তুলে ধরে প্রমাণ করতে চাইবেন যে আসলে তেমন কোনো ব্যাপারই ঘটে নি? এটা আর পাঁচটা মিছিলের মতই একটা সাধারণ মিছিল ছিল? তাহলে সেইটা মিথ্যাচার হবে। ঐ মিছিলে থাকা ছাত্রের অতিরঞ্জিত সংখ্যা বলাটা নয়। কারণ তার সংখ্যাটা এখানে প্রতীকী। সে একটা বিশেষ ঘটনাকে বিশেষ বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একটা ঘটনার রেকগনিশন চাইছে। যে ঘটনাকে শাসক চাপা দিতে চায়। নন্দীগ্রামের অতিরঞ্জনকে আমি এই স্পিরিটে দেখি।

    সুনন্দ সান্যাল বা শাওলি মিত্রদের সিপিএম বিদ্বেষের কারনেই হয়তো তাঁরা গুজবের ৯০% বিশ্বাস করেছেন। সে নিয়ে কপাল চাপড়ে লাভ আছে কি? ঘটনা ঘটেছে বলেই গুজব রটেছে। আর ঘটনাটা সুনন্দ সান্যাল বা শাওলি মিত্ররা ঘটান নি। যাঁরা ঘটিয়েছেন সমালোচনার তীরটা তাঁদের দিকে ঘোরান। প্রাইমারি কালপ্রিটদের দিকে। গুজবে বিশ্বাসকারীদের অপরাধ সে তুলনায় নগণ্য। মানে তুলনাতেই আসে না, যদি না আপনার চক্রান্ত তত্ব প্রমাণ করার স্পেশাল এজেন্ডা থাকে। পিটিদার যেমন আছে। ;-)

    আর ২০০৬-০৭ সালে সিপিএম বিরোধিতা করার মধ্যে কোনো মধু ছিল না। অনেক রিস্ক ছিল। কাজেই যে ভেস্টেড ইন্টারেস্টের তত্ত্ব আজকে দাঁড়িয়ে খাটে, ২০০৬-০৭ এ সেটাকে এক্সট্রাপোলেট কোন যুক্তিতে করা যায় আমার মাথায় ঢুকছে না।
  • Du | 230.225.0.38 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৪৫88544
  • তাহলে সেটার ওপর ভরসা করলেন না কেন?
  • কল্লোল | 125.240.11.63 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৫০88545
  • Comment from জটাশঙ্কর ওঝা on 31 October 2014 15:59:03 IST 99.0.101.110 (*) #
    ও কল্লোলদা হীরকের টই পুরো তিনোমুলী অসহিষ্ণুতায় ভর্তি। ঐ সারদার পরে পরেই সঞ্চয়িতা ইত্যাদি প্রভৃতি। যাক পরে কেউ নিরপেক্ষতার ভান করলে বলে দেব কল্লোলদা একে তিনোমুলী অসহিষ্ণুতা বলেন।
    - কাকে বলবেন ভাই? তৃণমূলীদের? তা বেশ তা বেশ। বলুন। ভালো করে বলুন, যে একটা অন্যায় কে মান্যতা দিতে অন্য একটা অন্যায়কে দেখিয়ে দেওয়া হলো, তৃণমূলসূলভ অসহিষ্ণুতা।
    বলুন বার বার বলুন। লিখুন, বার বার লিখুন।
    আমার তো কাজ কমে যাবে।

    পিপলস ডেমোক্রেসির লেখাটা পড়লাম। বেশ তথ্যপূর্ণ লেখা। প্রায় প্রতিটি তথ্যের সোর্স দেওয়া আছে -
    ১) Now, how the lies are being manufactured has been provided by another interesting piece of report by the correspondent of Ekdin, a newly published Bengali daily, claiming to be ‘the only opposition’. This virulent anti-Left paper reported on March 18: “… here true news means the news of their choice. The moment I reached Nandigram, I heard thousands of bodies are floating in Chuniburi canal. Another story is police has entered in a school and killed children by piercing them. Some were telling police has carried the beautiful ladies in lorries. I asked where they were taken. One replied ‘towards Kolkata’. I asked ‘have you seen anything?’ He said, ‘No, the other people had seen’….Wherever I was talking with people there were some who were prompting people to tell that the police has cut down women’s chests’. I was forced to stop them.”
    ২) “It is apprehended that at least six outsiders are killed by the firing from agitators” (Bartaman daily, March 10)
    ৩) “The armed residents are on the streets for stiff resistance. The women are with sticks and sharp weapons. Many of the men are carrying fire arms” (Pratidin daily, March 14)
    ৪) “The leader of the Bhumi Ucched Protirodh Committee S K Sufiyan said, we also fired to resist” (Ekdin, March 10).

    কিন্তু কিন্তু কিন্তু
    “thousand” as claimed by an actress in her column in a Bengali daily. ইহার কোন তথ্যসূত্র নাই।
    কি যেন বলে একে? অসাধু রাজনীতির চর্চা?
    ঈশেন তোর কলে মোটা হরফ আর তলদাগ নাই কেন?
  • b | 135.20.82.164 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৫৪88546
  • নন্দীগ্রামের ঐ কোট টা পড়লে দিল্লির সেই মাংকি ম্যানের কথা মনে পড়ে যায়। তার চোখ থেকে নাকি লাল রশ্মি বেরোতো। কত লোক দেখেছে, শুনেছে।

    গুরু তো ইম্পার্সোনাল আড্ডার জায়গা, তাই না হেসে গম্ভীরভাবে বললাম ।
  • PT | 213.110.246.23 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:০১88547
  • কল্লোলদা সম্পুর্ণ উল্টোব্যাটে অব্স্টাম্পের বাইরের বলে আবার খোঁচা মেরে লোপ্পাই ক্যাচ তুলল। শাঁওলীর ঐ লেখাটি বহু পঠিত ও বহু চর্চিত। আর লেখাটি আমি নিজে পড়েছি-কাজেই এক্ষেত্রে সন্দেহের কোনই অবকাশ নেই। শুধু বেশ কয়েক বছরের পুরনো হওয়ায় সন-তারিখ মনে নেই।

    তাহলে এবার সুমনের শিশুবধ পালা নিয়ে দুএক পয়সা শুনি।
  • কল্লোল | 125.240.11.63 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:০৫88548
  • তাই তো, তাই তো। তা পিপলস ডেমোর লোকজন এতো তথ্যসূত্র দিতে পারলো, আর এটার পরলো না। ভারি - না না, ভারী কৌতুহলোদ্দীপক।
  • - | 208.7.62.204 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:১৮88550
  • পিনাকি, সিপিয়েম কে খুঁজে পেলেই বা কি আর না পেলেই বা কি। সংগ্রামের ইতিহাসে সিপিয়েম তো ফুটনোট মাত্র। তবে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খুঁজে বার করার কাজ চলছে, চলবে। সিপিয়েমের অস্তিত্ত্ব খোঁজার থেকে কোন ভেস্টেড ইন্টারেস্টে কে ইনভেস্টেড সেটা খোঁজা অনেক বেশী জরুরি।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:৩৫88551
  • আসলে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খুঁজে বেড়ানোকে 'সংগ্রাম' এর ইকুইভ্যালেন্ট ভাবলে একটু ব্যথা আছে বলে মনে হয়। সেইজন্যেই বল্লাম।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:৩৭88552
  • পিটিদা ওটা সত্তর একরের ঢপ যারা মারছিল তাদের বিরুদ্ধেও একই ভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ;-)
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:৪৭88553
  • দুদিকে,

    সৌমিত্র বসুর লেখাটার উপর 'ভরসা' করা হয়েছে বলতে? যেসময় ঐ লেখাটা মার্কেটে আসে সেসময় আর কোনো ভার্শানই তো এভেইলেবল ছিল না। ঐদিনের ঘটনা বলতে গৌরাঙ্গ আর সুব্রতর বয়ান। আর সুকুমার মিত্রর বয়ান। এছাড়া আর কোনো সাংবাদিকই ঐ এলাকার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারেন নি। সুকুমার মিত্র প্রাণে বেঁচেছেন। গৌরাঙ্গ মার খেয়েছে। এ বাদে আর কে জানাবে কী ঘটেছিল? আইসার একটা ৫ জনের টীম যেতে গিয়ে অ্যারেস্টেড হয়। ১৬ই মার্চ যখন বিশাল মানুষের মিছিল সোনাচূড়ায় ফেরৎ আসে তখন দখলকারীরা পিছু হঠে। তারপরে বাইরে থেকে লোকজন যা যাওয়ার গেছে। তারা ডকুমেন্টরি বানিয়েছে, পিপলস ট্রাইবুনাল বানিয়েছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। সেগুলোতে কোথাও হাঙর কুমীরের কথা বা ৫০০ জনের স্তনবৃন্ত কেটে নেওয়ার কথা বলা হয় নি। কিন্তু এটাও খুবই সত্যি যে ১৬ই মার্চের পরে যারাই ওখানে গেছে তারা ওখানলার লোকালদের কাছ থেকে এরকম প্রচুর অতিরঞ্জিত বয়ান শুনেছে। কাজেই গৌরাঙ্গ বা সুব্রতকে আমি খুব দোষ দিই না।
  • কল্লোল | 125.242.151.57 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১২:৫৬88498
  • পিএম। ফুটওয়ার্ক ভলো থাকলে (শচীন) বা রিফ্লেক্স ভালো থাকলে (শেহবাগ) অফ স্টাম্পের বাইরের বল মাঠের বাইরে থেকে কুঋয়ে আনতে হয়।
    পিটির সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় সামান্য। পরিচিতদের (পিটির পুরোনো পাড়ার) মুখে শুনেছি খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু গুরুতে সিপিএম বিরোধী প্রশ্নে যে রকম লাগামছাড়া অসহিষ্ণু হয়ে যায়, সেটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক। এমন নয় অসহিষ্ণুতা একা পিটিই দেখাচ্ছে। আমিও কতো সময় অসহিষ্ণুতা দেখিয়েছি। কিন্তু সে প্রসঙ্গে অন্যের তিরষ্কার মাথা পেতে নিয়েছি।
    পিটি আমাকে সোজাসুজি টোকেনিজম-এর দায়ে অভিযুক্ত করেছে।
    টোকেনিজম মানে ওয়েবস্টার বলছে the practice of doing something only to prevent criticism and give the appearance that people are being treated fairly। সোজা বাংলায় অসততা বা লোকদেখানো। আমি যে প্রতিবাদ্গুলোর সাথে যুক্ত থাকি সেই যুক্ত থাকার প্রয়াসকে অসততা বা লোকদেখানো বলাটা ব্যক্তিগত আক্রমণ, এনিয়ে কোন সন্দেহ আছে?
    তাতেই সাধু-অসাধু প্রসঙ্গ এনেছিলো রঞ্জন। আর সেই প্রেক্ষিতে পিটি ঐ তিনটে পয়েন্ট লিখলো।
    ১) "যারা তিনোর জয়ধ্বনি দিয়ে টাকা-কড়ি, সম্মাননা, মোটা মাইনের চাকরী গুছিয়ে নিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির সম্প্রসারণে সাহায্য করেছে।"
    ২) "যারা সিঙ্গুরের চাষীদের মিথ্যে কথা বলে ভুল বুঝিয়েছিল তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করে।"
    ৩) "মমতাকে যারা কৃষক নেত্রী বলে তোল্লাই দিয়েছে তারা অবশ্যই অসাধু রাজনীতির চর্চা করেছে।"
    এই "যারা" শব্দটি বহুবচন নয়, এটি "অগৌরবে বহুবচন", অর্থাৎ আসলে একবচন।
    পুরোনো আড্ডাগুলো ফিরে পড়লাম অনেকটাই। আমি কোথাও কখনো মমতাকে কৃষক নেত্রী বলে "তোল্লাই" দেওয়াতো দূরস্থান "উল্লেখ"ই করিনি। সিঙ্গুর নিয়ে আমার অবস্থান ছিলো তিনফসলী জমি না নিয়ে সরকারের উচিৎ ছিলো টাটাদের সাথে কথা চালানো। আর জমি ফেরৎ দেবার বিষয়ে আমার মত - ঐ জমিতে কংক্রিট ঢেলে যা করা হয়েছে, তাতে ও আর চাষযোগ্য নেই। কিন্তু তবু ফেরৎ দেওয়া হোক। ঐ জমি চাষযোগ্য করতে যা খরচ হয় তার জন্য কন্ট্রিবিউট করুক সবাই। রাজ্যের উপার্জনকারী মানুষ তো বটেই সারা দেশ থেকে চাওয়া হোক। সেই টাকা দিয়ে সিঙ্গুরের জমি চাষযোগ্য করে তোলা হোক। বাকি থাকে চাকরী-টাকা-সম্মাননা। সেগুলো মারাত্মক অভিযোগ। প্রমাণ ছাড়া কেউ এরকম অভিযোগ করতে পারে, নেহাৎ আড্ডাতেও, এটা বিঞ্চিত বেশীই কৌতুহালোদ্দীপক।
    আজও আমার পিটির উপর ব্যক্তিগত কোন উষ্মা নেই। এই পাতায় একবারই ওকে অসাধু বলেছি - "আজ থেকে তুমি অসাধু পিটি"। এই লেখায় দুবার পিটির নাম আছে। তাতে আমি বিশেষনটি ব্যবহার করিনি।
    আশা করি পিটির মতি ফিরুক। বিরোধীতা মানে যা-মুখে-আসে-তাই নয়। এটা বুঝুক। আর বিরোধীতা সত্ত্বেও পারষ্পারিক সম্মান বজায় রাখা, অন্যের মতকে না মেনেও শ্রদ্ধা করতে শেখা, এগুলো তো নিজেদের হাতে। তাই না?
  • . | 59.207.253.113 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০১:০৬88638
  • ও ছাগলের মত কাজ করলে তাকে ছাগল বলা যাবে না?
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.92.95 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০২:০১88639
  • তা কেন, বিজেপিকে ভোট দেওয়াকে গাধামো বলা যাবে।
  • aranya | 154.160.226.93 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:০৮88640
  • পঃ বঙ্গ সরকার না চাইলেও সারদা নিয়ে সিবিআই তদন্ত চলছে।
    নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না কেন?
    এই সিবিআই তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন কি, কেউ জানেন?
  • ranjan roy | 132.176.143.102 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:১৩88641
  • বেশ, বেশ!
    তিনোকে ভোট দিলে ছাগল বলতে হবে।
    বিজেপিকে ভোট দিলে গাধামো।
    আর সিপিএমকে ভোট দিলে? বলেই ফেলুন!!

    পিটিবাউর দুটো থিওরি নিজেদের মধ্যে কমপিট করছেঃ
    ১) "বামেরা আরো আগেই যেত যদিনা বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করত। "
    ২) বুজি ও মিডিয়া মিলে জনমতকে সিপিএম বিরোধী করায় তিনো জিতল।
    আচ্ছা, তখন ২৪ ঘন্টা ও আকাশ বাংলা কার পক্ষে প্রচার করছিল? আর আজকাল ও গনশক্তি?
    ৩) শংখ ঘোষ, কৌশিক সেন ও সুমন মুখোর মত বুজিদের কি বলা হবে?
    মমতার ছত্রছায়ায় চাকরি-বাড়ি-গাড়ি করা বুজি?

    ৪) অরিন্দম-সুবোধ-রুদ্রনীলের মত বুজিদের কী বলা হবে? যাঁরা নন্দীগ্রামের সময় সিপিএম এর হয়ে গলা ফাটিয়ে এখন দিদির মধ্যে নিও-কমুনিজম দেখছেন?
    ৫) সিপিএম বিধায়ক ছায়া বেরা ও শিশির বাজোরিয়ার মত দলের সম্পদ দের কী বলা হবে?
    একজন তিনো, একজন বিজেপি?
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.92.95 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৩৬88642
  • আজ্ঞে আমি গুরু পড়েই শিখেছি বিজেপিকে ভোট দেওয়া গাধামো বলা যায় কেউ আপত্তি করেনা, আপনিও না।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.92.95 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৪২88643
  • কিন্তু তিনোকে ভোট দিলে তা সুগভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বলতে হবে। সিপিএম কে ভোট দিলে কি বলতে হবে তা হেথায় এখনো কেউ শেখায় নি।
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:০৯88585
  • পিনকি ঠিক কথাই বলেছেন। সব ঘটনাই reportedly। আর সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একটা সরকারকে উৎখাত করার জন্য এমনকি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র গুলো-ও তাদের সাংবাদিকতার মান কোথাও নামিয়ে এনে ছিল। এটা সেই রামধনু জোটের একটা অংশ মাত্র যেটার কথা আমি বার বার বলেছি। আর "সংহতি" জাতীয় পত্রিকাগুলোর মিথ্যাচারের কোন সীমা-পরিসীমা নেই। এদের কাউকে চেপে ধরলেই ঐ reportedly শব্দটির আড়ালে আশ্রয় নেয়।

    আর এই পাপাচারের জন্য প্রথমদিকে তারা বেছেছিল এমন সব বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত মানুষদের যাদের ব্যক্তিগত সিপিএম-বিদ্বেষ প্রায় ভারত বিখ্যাত কিন্তু কেউই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। শাঁওলী তাঁর পিতার কারণে কমুনিস্টদের ঘৃণা করেন, আধা নকশাল আধা পাগল সুমনের সঙ্গে SFI-এর খটাখটি সুবিদিত আর সুনন্দ সিপিএম আমলে পবিত্র সরকারের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় সাফল্য পাননি। এর সঙ্গে তালিকায় রাখুন নকশাল থেকে ভোল পাল্টে "মানবাধিকার" কর্মীতে পরিণত হওয়া বহুরূপীদের। বহুদিন বাদে এদের কাছে সুযোগ এল "সংশোধনবাদী" সিপিএম-কে টাইট দেওয়ার। এদের "নিরপেক্ষ" মিথ্যাচার নিয়ে বেশ কয়েকটি থিসিস নামিয়ে দেওয়া যাবে।

    এঁরা শুরুর দিকের মিথ্যার বেসাতি করেছেন। আর একই মিথ্যা কথা বার বার বললে যা হওয়ার তাই হয়েছে। reportedly শব্দটি ফিকে হতে হতে এক সময় বিলীন হয়েছে আর শহুরে বুজীরা -যারা পরে এই রামধনু জোটে যোগ দিয়েছে-তারা ঐ reportedly শব্দটি বাদ দিয়েই প্রচারে নেমেছে।

    আর শুধু লেখা নয়। ২০০৯ আর ২০১১-র ভোটের আগে সমীর-সুনন্দ ইত্যাদিরা প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তিনোর হয়ে প্রচার করেছেন। তখন reportedly শব্দ কতবার ব্যবহৃত হত তা নিয়ে আমার ব্যাপক সন্দেহ আছে।

    কাজেই ধনেপাতা দিয়ে পচা চিংড়ির স্তুপ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই। গোয়েবেলের মিথ্যা প্রচার-ও হিটলারকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেনি। তবে ঘন কালো মেঘের মধ্যে দুএকটা রুপোলী রেখা এটাই যে এই সব একদা পাপাচারী ও মিথ্যেবাদী কাকা চাটুজ্জে, সুনন্দ, সমীর, পেন্ডুলাম সুমন ইত্যাদি প্রভৃতিরা আপাততঃ তিনোর সঙ্গ ছেড়েছেন।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:১৯88645
  • তাইলে "এখনও চান্স আছে", বলছেন?
    জানেন নিশ্চয়ই গাছতলায় মেয়েটি আর তার প্রেমিকের কথোপকথনের গপ্পটা। ঃ-)

    সেই যে, সেইইই যে, একটা গাছে অনেক বাঁদর থাকত। একদিন একটি মেয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে গাছের নীচে বসে কপট ঝগড়া করছিল। ঝগড়ার সময় মেয়েটি হঠাৎ ...
  • sm | 233.223.153.24 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:১৯88644
  • তিনো রা ভারী অসব্য , খালি মিথ্যা কথা বলে আর বুদ্ধিজীবী গুলো যে মিথ্যাজীবী, এটা কে না জানে?
    জনগণ ছাগল তাই এই মিথ্যে গুলো ধরতে পারে না।
    তাই বলে সত্যবাদী কি নেই?, আছে।
    অতীতে সত্যবাদী বুজি ছিল, এখন গোত্র চেঞ্জ করে মিথ্যাবাদী বুজি হয়ে গেছে ।
    শুদ্ধি করণ দরকার হে, গঙ্গা জলের ব্যবস্থা কর, বিপিন ।
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:১৯88586
  • দুঃখিতঃ নামটি পিনাকি-পিনকি নয়। এটা ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার নয়।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৩৮88587
  • আর বলবেন্না পিটি বাবু, আপনার এই ছত্রটির সঙ্গে এক্কেবারে ক-য়ে-ক, ক্ক! এই যে এইটি "আর সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একটা সরকারকে উৎখাত করার জন্য এমনকি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র গুলো-ও তাদের সাংবাদিকতার মান কোথাও নামিয়ে এনে ছিল।"
    শুধু লাস দুটো শব্দ কম্বাইন করতে হবে "এনেছে"। দিদি আমাদের বলে বলে হয়রান হয়ে গেলেন, শুধু এই সরকারকে উৎখাত করার জন্যি এরা সাজানো ঘটনা লিখছে!
    আজ আপনিও একই কথা বললেন। সাম্বাদিকগুলাকে আর বিশ্বেস করছি না মশাই! উফফফ!
  • PM | 190.183.126.52 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৪২88588
  • অরন্যবাবু একজন অতি শিক্ষিত আর বিবেবেকবান মানুষ। উনি কি ভাবএ ভাবেন তার উদাহরন এই পাতাতেই আছে-

    "এই তথ্যগুলো যদি কিছুটাও সত্য হয়-------"

    "যুগান্তর, কালান্তর - এইসব পত্রিকার পরিচালক মন্ডলী, যে সাংবাদিক-রা প্রতিবেদন গুলো লিখেছিলেন , সবাই কি মিথ্যাবাদী?"

    শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে মানুষ এই ভাবেই ভাবে। এইখানেই বুদ্ধিজীবি আর মিডিয়ার ভুমিকা জনমত গঠনে।

    যখন নন্দীগ্রামে মাওরা একছত্র, বামেরা ধুকতেই পারছে না , তখন স্তার আনন্দ দেখিয়েছিলো আধা অন্ধকারে রিভলভার হাতে বাম হার্মাদরা নন্দীগ্রামে দৌড়দৌড়ি করছে। এটাও ঐ জনমত গঠনের-ই অংশ।
  • lcm | 118.91.116.131 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৪৯88590
  • ওহ্‌, এদ্দিনে বোঝা গেল কেন তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পরে সিপিএম হারল এবং তিনোমুল ক্ষমতায় এল। নইলে ভাবো, কোচবিহারে শিতলকুচি কেন্দ্রে তিনোমুল প্রার্থী ভোট জেতে। শাঁওলি/সুমন/সনন্দ-দের ম্যাজিক ছাড়া এমন কি করে সম্ভব !!
  • nepo | 33.95.43.72 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৪৯88589
  • অ্যাই ধনে পাতা কে দিয়েছে? মিথ্যাচারী গোয়েবলস জ্যোতি বোস বুদ্ধভট মৃণাল সুনীল পাপাচারীদের ন্যাংটো করে দিন।
  • - | 109.133.152.163 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৫২88646
  • বলে রাখা ভালো, বাঁদরের চান্স পাবার গপ্পটি স্মরণ কল্লুম জটাশঙ্কর ওঝার on 01 November 2014 21:12:31-এর প্রেক্ষিতে। ঃ-)
  • - | 208.7.62.204 (*) | ০১ নভেম্বর ২০১৪ ০৪:৫৪88592
  • যারা বলছেন সংবাদপত্রে আর মিডিয়ায় তথাকথিত বুজি বা "স্টার" দের জনমত গঠনে কোন ভূমিকা ছিল না তাদের জিগিয়ে দেখুন ২০১৪র মোদি ঝড় বানানোয় কর্পোরেট মিডিয়ার আর অপ-এড লেখকদের ভূমিকা কি ছিল। চমকপ্রদ ডিগবাজি দেখতে পাবেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন