এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • লজ্জা ও ঘৃণার কালো ইতিহাস

    ঝিনুক চক্রবর্তী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৭৪৬ বার পঠিত
  •  কোলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড এর মুখপত্র ‘পুস্তক মেলা’য় প্রকাশিত এই লেখাটিকে লোপাট করা হয়েছিল।পৃষ্ঠা কেটে সেখানে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্য বইয়ের সমালোচনা।‘পুস্তক মেলা’য় একই সংখ্যার (ষষ্ঠ বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, বৈশাখ – আষাঢ় ১৪০৯ ) দুটি কপিই আমাদের হাতে আছে ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসাবে। – তুষার ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘অপ্রকাশিত মরিচঝাঁপি’ থেকে। 


     ------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------


    ‘এই উদ্বাস্তরা অন্য রাজ্য থেকে আসা অবাঙ্গালি অধিবাসীদের মতো কলকাতার রেলস্টেশন বা ফুটপাথ দখল করতে চান নি, তারা সত্যি সত্যিই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েই সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসনাবাদে না যেতে দিয়ে, বর্ধমানের কাশীপুরে গুলি চালিয়ে ৬ জনকে মেরে, জোর করে অনেক উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্যে ফেরত পাঠান। বামফ্রন্ট নেতারা ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, মাদার টেরেসা, লুথারিয়ান চার্চ – কাউকে সেবাকাজ করতে দেয় নি। এমন কী শিশুদের বৃদ্ধদের দুধ দিতে দেয় নি। ফলে হাসনাবাদে প্রায় দেড় হাজার শিশু ও বৃদ্ধ বিনা চিকিৎসায় মারা যান।’– শক্তি সরকার (সুন্দরবনের প্রাক্তন সাংসদ)। সূত্রঃ নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি’,পৃষ্ঠা ৫২-৫৩।


    ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বাস্তুদের থামানো হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকে বেশ সফল ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইরকম একটি দলকে আমি হাসনাবাদ স্টেশনে দেখি, যারা ফেরত ট্রেনে ওঠার জন্য সরকারি অফিসে লাইন দিয়েছে স্বেচ্ছায়। তারা প্রায় প্রত্যেকেই তিন-চার দিন খায়নি। তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়া গেছে স্রেফ ক্ষুধার অস্ত্রে। তারা গোটা পশ্চিমবাংলাকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ফিরে গেল।’– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রঃ ‘মরিচঝাঁপি সম্পর্কে জরুরি কথা – আনন্দবাজার পত্রিকা, ১১.৯.১৯৭৮।


    ‘যে সমস্ত পরিবার আজ ওখানে (দণ্ডকারণ্যে) ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রায় সকল পরিবার থেকে শিশু অথবা বৃদ্ধ অথবা দুই-ই তাঁরা পথে পথে চিরদিনের মতো হারিয়ে এসেছেন। তাঁদের শোক, দুঃখবোধও এই প্রচণ্ড আঘাতে ও প্রতারণায় বিফল। ফেরতগামী ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ২-৩ জন করে অফিসার পাঠানো হচ্ছে শরণার্থীদের তদারকি করার জন্য। তাঁদের মুখেই শুনলাম, ফিরবার পথে মৃত শিশুদের তাঁরা ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। পরবর্তী কোনো স্টেশনে তাদের সদগতির জন্য অপেক্ষা করেনি।’ পান্নালাল দাশগুপ্ত। সূত্র যুগান্তর, ২৫ শে জুলাই, ১৯৭৮।


    ইতিহাস দাগ রেখে যায়। সে-দাগ মোছে না কখনও। একদিন না একদিন তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। করেই। আপাতভাবে আড়াল করে রাখলেও সময়ই তাকে টেনে খুঁড়ে বের করে আনে। মানুষই ইতিহাস সৃষ্টি করে, আঁচড় কাটে। চাপা পড়ে থাকা ক্ষত উঠে আসে যখন, শিউরে উঠতে হয়। এমনও হয় তাহলে। অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই। হয়েছে তো এমনই।


    সময়ের পরিবর্তনে মানুষ হয়তো অবস্থান বদলায়, কিন্তু ইতিহাস বদলায় না। মানুষ লজ্জিত হয়। ইতিহাসই মানুষকে ধিক্কার দেয় কখনও কখনও। একটি করে পৃষ্ঠা উল্টেছি আর লজ্জায় ধিক্কারে ঘৃণায় ক্ষোভে শোকে অবনত করেছি মুখ। প্রগতিশীল বামপন্থার আড়ালে তবে এত অন্ধকার।


    ‘সমস্ত সরকারি বাধা অতিক্রম করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ৩০ হাজারের মতো নরনারী, শিশু, বৃদ্ধ মরিচঝাঁপি দ্বীপে পৌঁছান। নিজেদের শ্রম ও সামর্থ্যে তারা ১৯৭৯ সালের মে মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে যে-ভাবে বন্দীদের না খেতে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল, সেইভাবে মরিচঝাঁপির মানুষদের মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঝড় বন্যার মধ্যেও ৬, ৭, ৮ সেপ্টেম্বর জ্যোতি বসুর সরকার পুলিশ লঞ্চের সাহায্যে উদ্বাস্তুদের নৌকাগুলি ডুবিয়ে দেয়। … ১৯৭৯ সালের ২৪ শে জানুয়ারি ব্লকেড করে পাশের দ্বীপ থেকে আসা খাদ্য ও পানীয় জল আনা বন্ধ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট রাজত্বে ৩১শে জানুয়ারী (১৯৭৯) প্রথম গুলি চলে। মরিচঝাঁপির লোকদের ছাপানো এই অক্ষরমালাকে ‘মিথ্যে বানানো পরিকল্পিত কুৎসা’ বুলে উড়িয়ে দিতে পারলে কোনো কষ্ট হত না। কিন্তু ওই যে ইতিহাস। অমোঘ শক্তি তার। নির্মম সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সে। গায়ের জোরে অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও মনে মনে সত্যের কাছে মাথা নোয়াতেই হয়।


    আমরা তাহলে পেরেছিলাম।


    আবাল্য স্বপ্নভূমি-বীজভূমি নিজস্ব উঠোনটুকু কেড়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘উদ্বাস্তু করেছিল’ যে স্বাধীনতা, তার সব দায় তাহলে ঐ হতভাগ্য মানুষগুলোর। সাতজন্মের পাপের ফল, নাকি দুর্ভাগ্য ওঁদের। আমরা যারা স্বাধীনতার ক্ষীরটুকু চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, স্বাধীন গদিতে আপ্লুত হলাম, তাদের কাছে ওই সবহারানো নেই – মানুষগুলো রাতারাতি শরণার্থী হয়ে গেল।


    দাঙ্গা-কাটাকাটি সে না হয় হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তো পুনর্বাসনের চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য। সুজলা-সুফলা-সবুজ নদীমাতৃক ভূমিপুত্রদের খুলনা যশোর ফরিদপুর জেলার নমঃশূদ্র-পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় কৃষকদের পুনর্বাসন দেওয়া তো হল পাথর-কাঁকর-টিলা-অধ্যুষিত দণ্ডকারণ্যে।


    অহো, সরকার যে করেনি তা-তো নয়।


    কিন্তু দণ্ডকারণ্যের এই পুনর্বাসন বাঙালি কৃষক উদ্বাস্তুদের কাছে হয়ে উঠেছিল ‘নির্বাসন’। পশ্চিমবঙ্গের শিবিরবাসী এইসব উদ্বাস্তুদের ১৯৬১ সালে দণ্ডকারণ্যে পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ডোল বন্ধ করে দিলে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসনের দাবিতে অনশন করে। ১৯৬১ সালের ১৩ই জুলাই উদ্বাস্তুদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে জ্যোতি বসু অনিচ্ছুক উদ্বাস্তুদের দণ্ডকারণ্যে পাঠানো বন্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন রাজ্য পুনর্বাসন মন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেনঃ “…although it was stated by the Government the West Bengal has reached a saturation point. I feel, therefore, that the rest may be found rehabilitation here provided there is willingness on the part of the Govt.”(যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার বলছেন যে, এই রাজ্যে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের জন্য একতিল জমি নেই, তথাপি মনে করি সরকারের অভিপ্রায় থাকলে অবশিষ্ট উদ্বাস্তুরা এ রাজ্যে পুনর্বাসন পেতে পারে।)


    সে সময় পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু শিবিরগুলি বন্ধ করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বদ্ধপরিকর। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনঃ ‘যদি মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে এবং কলকাতার পথে পথে দাঙ্গাও শুরু হয়, তাহা হইলেও আমরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পগুলি বন্ধ করে দিব বলিয়া স্থির করিয়াছি।’ (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২২.১০.১৯৫৯)।


    কেন্দ্রীয় সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেদিন জ্যোতি বসু উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ২১ শে জুন কলকাতায় জ্যোতি বসুর সভাপতিত্বে বামপন্থী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলঃ ‘তাদের (উদ্বাস্তুদের) পুনর্বাসনের সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিতে হবে।’ (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি – নিরঞ্জন হালদার, পৃ-৩৩)।


    জ্যোতি বসুর এই দরদ(!)এর কথা মাথায় রেখেই বোধহয় ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭৮ সালের প্রথমদিকে দণ্ডকারণ্যে নির্বাসিত উদ্বাস্তু মানুষজন পুনর্বাসিত হওয়ার আকাঙ্খায় পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দিকে রওনা দেন।


    হায় রে আশা! গদিতে বসলে নেতাকে যে রাজার মতোই আচরণ করতে হয়। এই বুঝি গণতন্ত্রের নিয়ম।


    ১৯৭৮ সালের ১৮ই এপ্রিল দশ হাজার উদ্বাস্তু পরিবার সুন্দরবনের কুমিরমারি পার হয়ে মরিচঝাঁপিতে আশ্রয় নেন। তাঁরা পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে কোনো সাহায্য চান নি। তাঁদের দাবি ছিল ‘আমাদের শুধু মরিচঝাঁপিতে ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে থাকতে দাও।’ তাঁদের ভরসা ছিল, এখানে পাঁচ ফুটের বেশি উঁচু জোয়ার আসে না। এখানকার কাছাকাছি গ্রামের লোকজন যদি পাঁচ ফুট বাঁধ দিয়ে নোনাজল ঠেকিয়ে একশো বছর ধরে চাষ করতে পারেন, তাহলে তাঁরা পারবেন না কেন? তাছাড়া মাছ ধরার সুযোগ তো আছে।


    পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তাঁরা তখন জানতেন না, হায়।


    সিপিআই(এম) এর রাজ্য কমিটি তখন রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ‘দণ্ডকারণ্যের যে-সব উদ্বাস্তু পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, প্রয়োজন হলে,তাদের বল প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দিন।’ কমিটির তিন দিনের অধিবেশনের পর দলের সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছিলেন “এইসব উদ্বাস্তুদের নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে”। (সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২.৭.১৯৭৮)।


    এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেরি হল না। ১৯৭৮ সালের ১৯ অগস্ট বহু পুলিশ ও কুড়িটির লঞ্চের সাহায্যে সামরিক কায়দায় নদীপথ অবরোধ করা হল এবং উদ্বাস্তুরা তাতেও দমে না দেখে ৬ই সেপ্টেম্বর সেইসব লঞ্চ নিয়ে উদ্বাস্তুদের রসদ জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই করা ২০০টি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হল। (সূত্রঃ মরিচঝাঁপি কি মরীচিকা? শৈবাল গুপ্ত। নিরঞ্জন হালদার সম্পাদিত ‘মরিচঝাঁপি, পৃ। ২৬-২৭ )।


    নৃশংসতার ছবি পাওয়া যায় সমসাময়িক সংবাদপত্রেও “উদ্বাস্তুরা যে ঘরগুলি তৈরি করেছিলেন তার সংখ্যা কোনোক্রমে এক হাজারের কম নয়। ঘরগুলির অধিকাংশই দৈর্ঘ্যে ১০০-১৫০ হাত, প্রস্থে ১২-১৪ হাত। ঘরগুলি শুধু ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি, পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অকথ্য অমানুষিক অত্যাচার, লাঠিপেটা, নারীধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজের মাধ্যমে ১০-১৫ দিন ধরে অনবরত সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শন করেও উদ্বাস্তুদের সম্পূর্ণ উৎখাত করতে সক্ষম হয়নি। (যুগান্তর, ২০ ফাল্গুন, ১৩৮৪)।


    ‘যেন যুদ্ধক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হয়েছি।অথবা শত্রুদেশের সীমানায়। মাঠে মাঠে সশস্ত্র পুলিশের ছাউনি, পুলিশ চাইলেই আপনাকে হাত উঁচু করে হাঁটতে হবে। খানাতল্লাসি করবে। ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে আটক করবে। জেরা করবে। অথচ জায়গাটি সরকার ঘোষিত বনাঞ্চল নয়। এই জায়গাটার নাম কুমিরমারি। মরিচঝাঁপির লাগোয়া এক জনবহুল দ্বীপ। বামপন্থী সি পি আই এর মুখপত্র ‘কালান্তর’ পত্রিকায় ‘চার ভাঁটার পথঃ নিষিদ্ধ দ্বীপ’ শিরোনামে দিলীপ চক্রবর্তী ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে যে বর্ণনা দেন তা না পড়লে শিউরে উঠতে হয়।


    “...ওখানকার মানুষরা চৌদ্দ দিন এপারে আসেনি। ভাত খেতে পারেনি। জলও পায়নি। পুলিশ ঘিরে রেখেছে দ্বীপ। প্রথম প্রথম ২-৩ দিন বেশি শব্দ হয় নি।এরূপ কান্না শোনা যেত রোজ।কু মীর আর কামট-ভরা নদী পার হয়ে কিছু লোক লুকিয়ে আসত রাতে-চাল ইত্যাদির খোঁজে। জলের খোঁজে।এরপর তাও বন্ধ হল। জালিপাতা আর যদু পালং খেয়ে থেকেছে ওরা,মরেছেও অনেক। ওদের কান্না এখান থেকে রোজই শুনতে পাই।


    “... ২৪ শে জানুয়ারি থেকে সরকার দ্বীপ অবরোধ করে। ৩১ শে জানুয়ারি গুলি চলে। ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ইনজংশন অনুযায়ী জল-অন্ন আনার উপর থেকে বাধা প্রত্যাহৃত হয়।কিন্তু এর পরেও কড়াকড়ি চলছে। ...একমাত্র ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখেই চাল আনতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন অনন্ত মণ্ডল, অরবিন্দ রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈ, কার্তিক সরকার, রণজিৎ মণ্ডল, কৃষ্ণদুলাল বিশ্বাস। ...২৪ জানুয়ারি সরকারের পক্ষ থেকে দ্বীপ অবরোধ করার পর ওখানে অনাহারে মারা গিয়েছেন ৪৩ জন।‘ (সূত্রঃ কালান্তর,২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯)। 


    ‘ব্লকেডের সময় ওরা তখন কী খেত শুনবে? এক ধরনের ঘাস সেদ্ধ করে তাই দিয়ে সবাই পেট ভরায়।ঘাসের নামটা মনে পড়ছে না – ওখানে ওটা নাকি অপর্যাপ্ত জন্মায়। তখন কাশীকান্ত মৈত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন,তাঁকে ঘাসটা দেখাতে পেরেছিলাম।’ (সূত্রঃ সাংবাদিক নিরঞ্জন হালদারকে লিখিত কমলা বসুর চিঠি)।


    ২৪শে জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মরিচঝাঁপির নেতাজীনগরে অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকায় রয়েছেন ১৩৬ জন।অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত ব্যক্তির তালিকায় ২৩৯ জন।ধর্ষিতা মহিলাদের তালিকায় ২৩ জন।নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ১২৮ জন। ৩১শে জানুয়ারি ১৯৭৯ গ্রেফতার হয়ে বসিরহাট ও আলিপুর জেলে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ৫২ জন। পরবর্তী সময় জেলে আটক ১৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি ১৯৭৯ জল সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক ৩০ জন। ২৪ শে জানুয়ারি থেকে ১১ই ফেব্রুয়ারি (১৯৭৯) পর্যন্ত পুলিশ-কর্তৃক ছিনতাই হওয়া নৌকার সংখ্যা ১৬৩। – এজাতীয় অসংখ্য প্রামাণ্য তথ্য।


    লজ্জায়, অবরুদ্ধ কান্নায় একের পর এক পৃষ্ঠা ওল্টাই, আর কেবলই মনে হয়, কেউ এসে চিৎকার করে বলুক – এ মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে।


    মানুষের অমানবিক প্রবৃত্তিতেই সংঘটিত হয় গণহত্যা। সেই কালো ইতিহাস একদিন উঠে আসে সাদা আলোয়। চব্বিশ বছর পরে এভাবে সমস্ত প্রামাণ্য বিশ্বাস্য নথি-সহ উঠে এল মরিচঝাঁপি।


    এ লজ্জা কোথায় লুকোব! ইস! আমি যে ভারতীয়, এই বাংলারই একজন। আর কী আশ্চর্য, মরিচঝাঁপি এই বাংলাতেই। প্রগতিশীল বাংলায় ‘মরিচঝাঁপি’ নিয়ে একটা ঝড় উঠবে না!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০১৪ | ১৬৭৪৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:০২88513
  • মিথ্যার কোন তথ্য হয়্না। মিথ্যা মিথ্যাই। সেটা স্বীকার করে নেওয়াটাই মঙ্গল। অনেকে আবার গাছ দেখতে গিয়ে জঙ্গল খুঁজে পাননা তাই বিভৎস মিথ্যার নিন্দা না করে সংখ্যা দিয়ে বিভৎসতাকে মাপতে চান।

    তার চাইতেও জরুরী যে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা সেটা হচ্ছে যে যেটুকু অত্যাচারই হয়ে থাকুক না কেন সেটার তদন্ত করতে বাধা দেওয়ার কারণ কি? সেটা ঠিকমত হলেই তো পরিবর্তনকামীদের মিথ্যার সঙ্গে পিটির অতিরঞ্জন তুলনা করে নেওয়া যেতে পারে।
  • dd | 132.172.72.240 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:০২88512
  • "পাশেই হরিপুর সাবডিভিশান। যেটা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য চিহ্নিত। সেখানেও প্রতিবাদ হয়েছে। সেখানকার লোকেরা মূলতঃ মাছ ধরে। তাদের মাছ ধরা এখন বন্ধ করতে হয়েছে দুটো কারণে। এক, খাঁড়ি আর সমুদ্র মৃতদেহে ভরে আছে। দুই, আরও খারাপ যেটা, হাঙর, কুমীর আর ঘড়িয়ালরা তাজা রক্তের লোভে সুন্দরবন থেকে এইদিকে চলে আসছে। এরা মানুষের শরীর তো খাচ্ছেই, সঙ্গে সমস্ত মাছও খেয়ে নেবে এরকম একটা আশঙ্কা। মাছ ধরতে গেলে জালে কুমীর আর হাঙর উঠে আসছে। এরকম চলতে থাকলে হরিপুরের মানুষ আগামী সপ্তাহখানেক কাজ করতে পারবেনা। স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, হরিপুরকে শিক্ষা দেবার জন্য এটা প্রশাসন আর সিপিএমের পূর্বপরিকল্পিত। হরিপুরে কেন্দ্রীয় দল, এমনকি আরও বড়ো পুলিশ বাহিনী ঘুরে গেছে। নন্দীগ্রাম আর হরিপুরকে একসাথে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। "

    এখোনো সবিস্ময়ে পড়ি। এটাকেও ডিফেন্ড করা যায়?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:১৩88515
  • পিটিদা কথা ঘোরাবেন না। 'হাজার হাজার' আর '৫০০' - এদুটো আপনার বানানো, নাকি সত্যিই শাওলি বা অপর্ণা বলেছে - এইটুকুই জানতে চেয়েছিলাম। সেটার স্বপক্ষে কিছু বলার থাকলে বলুন। বাকী আপনি কি মনে করেন বা আমি কি মনে করি তাই নিয়ে তর্ক হচ্ছে না।

    "মিথ্যার কোন তথ্য হয়্না। মিথ্যা মিথ্যাই।" - এইটা হেবি দিলেন। ঃ-)
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:১৩88514
  • শাঁওলীর একদিন বা প্রতিদিন পত্রিকাতে ছাপানো লেখাটি একসময়ে আমার সংগ্রহে ছিল। তবে লেখাটির উল্লেখ আছে CPIM-এর ওয়েব সাইটে।
    ...even “thousand” as claimed by an actress in her column in a Bengali daily....
    ....report by the correspondent of Ekdin, a newly published Bengali daily, ...... paper reported on March 18: “… here true news means the news of their choice. The moment I reached Nandigram, I heard thousands of bodies are floating in Chuniburi canal.
    http://archives.peoplesdemocracy.in/2007/0325/03252007_debranjan.htm
    (আমি কখনই CPIM-এর কোন কাগজ বা সাইট থেকে কোন লিং দিইনা। কিন্তু পিনাকির সন্দেহ নিরসনের জন্য এটা করতে হল।)
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:১৫88517
  • বেশ, বোঝা গেল। এবার ৫০০ টা নিয়ে কিছু বলুন।
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:১৫88516
  • হাজারটা বোধহয় জানাতে পেরেছি। এবারে লিখে দিন যে ঐ অভিনেত্রী মিথ্যে কথা লিখেছিলেন।
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:২০88518
  • না বোঝা গেল না। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে এই ন্যক্কারজনক ব্যভিচারের নিন্দা শুনতে চাই।

    এসব মিথ্যা যখন ছাপা হচ্ছিল, আর তাই নিয়ে বুদ্ধিgb-রা প্রচার চালাচ্ছিল তখন কি ঘুমোচ্ছিলেন নাকি?
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:২৪88519
  • টেকনিকালি সেটা বলা যায় না। কারণ উনি বলেছেন উনি শুনেছেন। নিজে দেখেছেন বা এরকম কিছু বলেন নি। আমাদের কিছু বন্ধু যখন নন্দীগ্রাম যায় (১৪ই মার্চের আগে, জানুয়ারির ঘটনার পর), তখন তাদের যে ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল সে বলে যে সে নিজেই ৪ জন 'বহিরাগত হার্মাদ' এর লাশ নদীতে ভাসিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী অন্ততঃ ১০-১২ জন হার্মাদ মরেছে জানুয়ারির অ্যাটাকের সময়, কিন্তু সিপিএম সে নিয়ে কিছুই বলতে পারছে না কারণ তাদেরকে বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। একই ভাবে লালগড় আন্দোলনের সময় একদিন রাত্তিরে যখন মাওবাদীরা সিপিএমের একটা সশস্ত্র ক্যাম্প ঘিরে ফেলেছিলো, তখন আমাদের কাছে লোকমুখে খবর আসে সিপিএমের ৭৬ জন সশস্ত্র ক্যাডার মারা গেছে সেই অ্যাটাকে। যখন একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি চলে তখন এরকম প্রচুর গুজব বাজারে ছড়ায়। সেটার জন্য বাইরের লোক দায়ী নয়।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:২৬88520
  • লাশ মাটি চাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্ট ফেলে রোলার চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, বা বাচ্চাদের হাত পা টেনে ছিঁড়ে মারা হয়েছে - এগুলো তো আমি নিজেই লোকাল লোকেদের বলতে শুনেছি।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.101.110 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:২৯88521
  • ও কল্লোলদা হীরকের টই পুরো তিনোমুলী অসহিষ্ণুতায় ভর্তি। ঐ সারদার পরে পরেই সঞ্চয়িতা ইত্যাদি প্রভৃতি। যাক পরে কেউ নিরপেক্ষতার ভান করলে বলে দেব কল্লোলদা একে তিনোমুলী অসহিষ্ণুতা বলেন।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৩১88522
  • খেজুরির 'হাজার হাজার' ঘরছাড়ার মিথ্যে যখন ছাপা হছিল বা সিঙ্গুরের অধিকাংশ জমি একফসলী - তখন আপনি ঘুমোচ্ছিলেন কিনা সেটা আগে জানান।

    নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর নিয়ে এত গলা উঁচু করার সময় আসে নি। শাওলি মিত্র বা অপর্ণা মিথ্যে বললেও নয়।
  • সিকি | 132.177.39.14 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৩২88523
  • এই সময়ে গুরুতে ইন্দোরও একটা লেখা ছিল, নন্দীগ্রাম এপিসোডের সময়ে। নামটা মনে আছে কারুর?
  • PT | 213.110.247.221 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৩৯88524
  • মাও-তিনো দখল নেওয়া নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে এটার একটা অন্য ব্যাখ্যাও হয়। গুজব ছড়ানোর জন্য লোক "ফিট" করা ছিল। এর খানিকটা আভাস পাওয়া যায় অনিন্দিতা "হার্মাদ" সর্বাধিকারীর তৈরি তথ্যচিত্রে। আর শহুরে অতিবদ অতিবামেরা এই মিথ্যা প্রচারের কম্মটির সঙ্গে জড়িত ছিল সরাসরি।
    সুজাত ভদ্র নামক নিরপেক্ষ "মানবাধিকার" কর্মীটি প্রায়ই তিনোদের রাজনৈতিক আলোচনাতে উপস্থিত থাকতেন।
    বিশেষতঃ সংহতি নামক একটি ভগবৎগীতায় পাতার পর পাতা উপন্যাস ছাপা হত সেই সময়। এই নিয়ে বহু বাইট খরচ হয়েছে অতীতে গুরুতে। একটু খুঁজে পেতে পড়ে নেবেন।
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৪১88525
  • গুরুতে লেভি দেওয়ার সিস্টেম কীরকম কেউ জানাবেন? সমালোচনা করতে গেলে লেভি দিতে হবে তত্ত্ব কী ভাবে প্র্যাকটিস করা হয় জেনে নিতাম
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৪৩88526
  • এপিডিয়ারের লেভির ব্যাপারটাও বলবেন কিন্তু
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৪৪88527
  • ও, সংহতি কীভাবে লেভি সংগ্রহ করে ?
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.101.110 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৪৯88528
  • গুরু এপিডিআর সংহতি এদের কি করণীয় কেউ বলেছে কি? সিপিএমের কি করণীয় বলতে হলে লেভি দিন।
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১০:৫৪88529
  • সিপিএমের কী করণীয় - এ নিয়ে গুরুর পাতায় বলতে গেলে লেভি দিতে হবে? না যে কোনো ফোরামে?
  • ঊমেশ | 118.171.128.168 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:০২88530
  • পিনাকী'র এখন সাপে ছুঁচো গেলার অবস্থা
    তাই নম্বর গেম খেলে নিজেকে ব্যস্ত রাখছে।
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:০৮88531
  • ডিডিদাকে,

    এ নিয়ে তো আগেও তোমার সাথে তক্কো হয়েছে। আমার কথা যদি বলো, আমি ঐ গোরাঙ্গ বা সুব্রতর বয়ানকে আক্ষরিক অর্থে ধরি নি। ইন ফ্যাক্ট এই ধরনের কোনো বয়ানকেই আমি পুরোপুরি আক্ষরিক অর্থে বিশ্বাস করি না। কিন্তু একই সাথে এগুলোকে আমি বীভৎসতার ইন্ডিকেটর হিসেবে দেখি। অর্থাৎ, যদি কোনো কিছুই না ঘটত, তাহলে ঐ গল্প কোনোভাবেই বানানো সম্ভব হত না। খেজুরিতে যদি কোনো ঘরছাড়াই না থাকতো তাহলে 'হাজার হাজার' ঘরছাড়ার কথা আসতো না। একটা ওয়ার জোন, যেখানে এমনকি সাংবাদিকদেরও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে যে বীভৎস কিছু একটা ঘটছে - এটা বুঝতে তো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। যেখানে লোকের চোখের সামনে ধর্ষণ করা হচ্ছে, যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, স্তনে চপার চালানো হচ্ছে - সেগুলো যদি একজন একজন করে মহিলার সাথেও হয়ে থাকে সেটা লোকমুখে ১০০ হবেই। অব্শ্যই সেটাকে ডিসকাউন্ট দিয়েই বিশ্বাস করতে হবে। কিন্তু আবার এই গুজব রটানোর পিছনে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খোঁজার পক্ষপাতীও আমি নই। এরকম পুরো এলাকা ঘিরে ধরে অত্যাচার চালানো (১৪ আর ১৫ই মার্চ যা হয়েছে) তার সমতুল্য আর কিছু কী সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেছে? একটা অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটলে অবিশ্বাস্য সব গুজবও বাজারে রটবে। এতে আর আশ্চর্য কি? সেগুলোর প্রত্যেকটাকে আলাদা করে কাটাছেঁড়া না করে ঘটনাটার তীব্রতার ইন্ডিকেটর হিসেবে দেখাটাই আমার মতে বাস্তবসম্মত।

    সমস্যা হল পার্সোনাল আড্ডায় হয়তো তোমার সাথে আমিও হাসাহাসি করব হলদি নদীর কামট কুমীর নিয়ে। কিন্তু উল্টো দিকটা দেখো। ঐ গুজবগুলোর বাড়াবাড়িকে কাজে লাগিয়ে একদল লোক কিন্তু বসে আছে 'নন্দীগ্রামে কিছুই ঘটে নি, পুরোটাই চক্রান্ত' - এইটা প্রমাণ করার জন্য। তাদের কে বিনা যুদ্ধে এক ফোঁটা মাটিও ছাড়ার পক্ষপাতী আমি নই। সুযোগ পেলেই এরা ইতিহাস উল্টে দেবে। পাঁচটা অতিরঞ্জিত গুজবকে আমি এই ইতিহাস উল্টে দেওয়ার চেয়ে কম ক্ষতিকারক বলে মনে করি।
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.101.110 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:০৯88532
  • গুরুর পাতায় বলতে গেলে লেভি দিতে হবে কিনা তা গুরুর কতৃপক্ষ বলতে পারবেন। আমার ধারণা কিছুই লাগবেনা তবে তাতে কোন কাজও হবেনা। এই যেমন হেথায় পিটিদা যতই বলুননা কেন সংহতির কানে কি কিছু ঢুকবে?
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:১২88533
  • সিপিএমের করণীয় আলোচনা করতে গেলে লেভি দিতে হবে এটা কি সিপেম কর্তৃপক্ষ বলছেন? উত্তর হ্যা হলে, কর্তৃপক্ষের নাম দেবেন?
  • তাপস | 126.203.180.13 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:১৩88534
  • সিপিএম কর্তৃপক্ষ *
  • pinaki | 90.254.154.105 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:১৩88535
  • ব্যস, এবার পিনাকীর মনস্তত্বের বিশ্লেষকও হাজির। ঃ-)
  • জটাশঙ্কর ওঝা | 99.0.101.110 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২১88536
  • ঠিকই, গুজবেত পেছনে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খোঁজার মানে হয় না যদিনা পরবর্তীকালে দেখা যায় যে অনেকেই(অপর্ণা, অর্পিতা) গুজবের বেনিফিশিয়ারি।
  • Du | 230.225.0.38 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২২88537
  • পিনাকী, একথা বলতে পারি গুরুর পাতায় যারা ছিল, তারা এ লেখাটা দেখে স্তব্ধ হয়ে ছিল। তারা এ পাতাটাকে বিশ্বাস করত।

    যুদ্ধে পক্ষ নিয়েছিলেন, সেটা বোঝা যায়। সেই নিয়ে তো কোন যুক্তি তর্কের প্রয়োজনই নেই।
  • d | 24.97.14.145 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২৪88538
  • কিন্তু ন্যাড়াদার প্রশ্নটা এত্ত কঠিন যে কেউ অ্যাটেম্পটই করল না?
  • PT | 213.110.246.23 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২৬88539
  • "ঐ গুজবগুলোর বাড়াবাড়িকে কাজে লাগিয়ে একদল লোক কিন্তু বসে আছে 'নন্দীগ্রামে কিছুই ঘটে নি, পুরোটাই চক্রান্ত' - এইটা প্রমাণ করার জন্য।"

    এটা যাদের সম্পর্কে লেখা হল তাদের অনেকেই সম্পুর্ণ সততার সঙ্গে দাবী জানাচ্ছে তদন্তের। যে কারণে গুরুর পাতাতেও CBI তদন্তকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকার কেন সেই তদন্ত করে দিল না সেট এক বিস্ময়।
  • - | 208.7.62.204 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:২৬88540
  • আমার পক্ষ গুজব ছড়ালে সেটা স্রেফ অতিরঞ্জিত তাই হাসাহসি করতে হবে। অন্য পক্ষ গুজব ছড়ালে সেটা ইতিহাস উল্টে দেওয়া, তাই যুদ্ধ করতে হবে। বেশ।
  • - | 208.7.62.204 (*) | ৩১ অক্টোবর ২০১৪ ১১:৩০88541
  • ঠিকই, গুজবেত পেছনে ভেস্টেড ইন্টারেস্ট খোঁজার মানে হয় না।

    খুঁজতে গিয়ে যদি মা সারদা দেখা দেয়? কোন ভেস্টেডে কে ইনভেস্ট করেছিল তার কোন ঠিক আছে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন