এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • কী দেখতে যাও দিল্লি-লাহোর...

    I লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৯ নভেম্বর ২০১৪ | ৯৩২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • NH 31 C থেকে রাস্তাটা ডানদিকে বেঁকে যায়। সরু, ছোট্ট রাস্তা। ধুলো-ওড়ানো । শুকনো হলং নদীর ওপরে একটা কাঠের ব্রীজ আছে। সেই ব্রীজ পেরিয়ে মাদারিহাট ট্যুরিস্ট বাংলো। কাঠের ব্রীজ চোখে এলেই-আর ঐ লাল-নীল পতাকাগুলো,- ঘরে ফেরার শান্তি হয়। অথচ এর আগে একবারই তো এসেছি। মাত্রই একবার। আসলে জঙ্গল। ডুয়ার্স। তবে বাংলোটাকেও বড় ভালো লেগে গেছিল।
    এবার এসেছি কড়া দুপুরের মধ্যে। প্রথমবার, মনে পড়ে, সকাল তখনও নরম ছিল। এবার পাহাড় থেকে নেমে আসা। কোলাখাম থেকে লাভা এসে একপ্রস্থ দাঁড়িয়ে থাকা। পাহাড়ী ড্রাইভাররা কেউই সমতলে নামতে রাজী নয়। বলে, ইলেকশন ডিউটি দিয়ে দেবে। কোথায় না কোথায় ঘুরে মরব। পয়সা যোগাড় করতে জান কয়লা। পয়সা তো দেয় এই ক'টা। প্লেইনস-এর গাড়ি পেলেই তুলে দেব, স্যর! কিছু চিন্তা করতে হবে না।
    দিলও তাই। এই করে করে দফায় দফায় দেরী। মাঝখানে ভাত খেতে হল। সেসব পথের খাবারে মাছি ঘোরে। মানুষ তাই খায়। তাই খেয়েই বাঁচে। যত দূর দূর বাংলার পথে-ঘাটে -হাইওয়েতে- ধাবায়- ঝুপড়িতে-বাঙালী রেস্তোরাঁ- হিন্দু হোটেলে, -বাঁকড়ো-বীরভূম-মানভূম-আলিপুরদুয়ারে। কলকাতাতেই তো,বাড়ির পাশেই। সেসব নিয়ে আজকাল ঘেন্নায় বাঁচি না। ছোটবেলায় এত ঘেন্নাটেন্না ছিল না। এখন রাতে প্রায়ই স্বপ্ন দেখি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি অচেনা সব লোকের সামনে। জামা খুঁজে পাই না। লজ্জা করে, বড় লজ্জা করে। স্বপ্নের বাথরুমে যাই, সেসব কেবল ইঁট-পাতা কাঁচা বাথরুম। অসম্ভব নোংরা! ইঁটের খাঁজে খাঁজে মল জমে আছে। পা কোথায় রাখবো !
    ট্যুরিস্ট লজ, একই রকম আছে। সরকার বদলে গেছে। কিন্তু আর এস পি-র কুমারী কুজুর এখনো এমিলিয়া। আগের দু বারেও তিনিই ছিলেন। ১৯৬২ থেকেই আর এস পি-র সিট (একবার কেবল কংগ্রেসের হাতে গেছিল)। এবারের ঐ প্রবল দিদি-হাওয়াতেও বদলায় নি। এবার শুধু বিজেপি দু নম্বরে উঠে এসেছে। কাছাকাছি বিধানসভা কালচিনিতে উইলসন চম্প্রমারি গোজমুমো-র সাপোর্টে জিতে এসেছিলেন। এবার ডিগবাজি খেয়ে দিদি'র দলে। রাস্তায় আসতে আসতে মুখ দেখি, বাঙালী, মঙ্গোলয়েড, আধা-মঙ্গোলয়েড, কালোকোলো নিগ্রয়েড... বাঙালী-নেপালী-বিহারী আন্দাজে চিনি-কে কোচ -রাভা-মেচ-টোটো-সাঁওতাল-মদেশীয় চিনিনা। কারোর মুখের ভাঁজে-হাসিতে, গালিগালাজের বহরে কিছু বোঝবার উপায় নেই, কোথায় কোন বদল।আদৌ কোনো বদল কিনা। হঠাৎ তেষ্টা পাওয়ার মত মনে পড়ে যায়, গতবার ফিরবার সময় কোন এক বড়রাস্তার মোড়ে ড্রাইভারকে পাওনা -গণ্ডা বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম; টাকা একটু বেশী চাইছিল মনে হচ্ছিল। আর বাঁশ-বাখাড়ির ঝোপড়ির বাইরে রাস্তার সামনেই একটা তেজী কুঁকড়ো গলার শির ফুলিয়ে চীৎকার করে যাচ্ছিলো তো যাচ্ছিলোই, তার সময়জ্ঞান বলে কিসু নেই। ওভারকাস্ট আকাশ। রাস্তা দিয়ে অবিশ্রান্ত গাড়ি যাচ্ছে। বড় বড় ট্যুরিস্ট বাস- দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের কান-ফাটানো হর্ণের প্যাঁ পোঁ আওয়াজ। ধুলো উড়ছে। ধুলো মিশে যাচ্ছে তেলেভাজার দোকানের ধোঁয়ার সঙ্গে, কড়াইয়ের ফুটন্ত তেলেভাজার সঙ্গে। একটু পরেই আমরা ডায়না নদীর ব্রীজ পার হবো। দূর থেকে শান্ত ভোঁ বাজিয়ে ট্রেন যাবে ঝুকঝুক। ঐ ট্রেনের চাকায় হয়তো হাতির রক্ত লেগে আছে, আর একটুখানি আইভরির গুঁড়ো, এইটুকু। অনেক নীচে নদীর পাড়ে ছোট্ট একটা আগুন জ্বলছে। আর রিভারবেডে সার সার ট্রাক পাথর তুলবে বলে দাঁড়িয়ে আছে। সন্ধ্যা নামবে। কেন এখন মনে পড়ল এসব কথা, কে জানে!

    -----

    খুব ভোরবেলা পালমশায়ের জিপে করে হলং বাংলোর সামনে এসেছি। ভোরের দু নম্বর হাতি-সাফারিতে আমাদের জায়গা হয়েছে। আগের দিন দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা অবধি সাফারি বুকিংয়ের লাইনে দফায় দফায় দাঁড়িয়ে , অনেক মশার কামড় ও মাথাপিছু এক কাপ করে চায়ের শরবৎ খেয়ে তবে টিকিট মিলেছে। আজকাল আর মাদারিহাটে থাকিলে টিকিট গ্যারান্টেড -এই ব্যবস্থা নেই। মাদারিহাট বাংলোর লোকেদেরও অন্যদের সাথে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। তবে হলং ব্যতিক্রম। সে ঈশ্বরের পবিত্রপুত্র। আগে হলংয়ের কোটা ভরবে, তারপরে বাকিসব। জজ-ম্যাজিস্টর-মন্ত্রীরা কি যার-তার সঙ্গে লাইনে দাঁড়াবেন? গণতন্ত্রের একটা ইয়ে নেই?

    হলংয়ের ভেতর প্রতিবার ঢুকতে তিনশো টাকা। পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও। হাত উপুড় করলে তবে নোয়ানো বাঁশ ওপরে উঠবে, রাধা নাচবে। এখান থেকে জঙ্গল শুরু হয়ে গেল। জঙ্গলে রাধা কোথায় পাবেন, ময়ূর নাচ দেখুন বরং। নাচছে না অবশ্য, বিশাল বড় পেখম নিয়ে হেঁটে-চলে বেড়াচ্ছে, গাছের ডালে ঘুরছে, দৌড়ে গিয়ে বাঁদর তাড়াচ্ছে। বাঁদরদের নিশ্চয় আলাপ আছে ময়ূরের ঐ শক্ত ঠোঁটের সঙ্গে; বেশ ভয় পায় দেখলাম।

    একটা হাতিতে জায়গা হয় নি। দুটো আলাদা আলাদা হাতিতে আমরা ছ-জনা জায়গা পেয়েছি। সকালের সাড়ে সাতটার ট্রিপ বেলা গড়িয়ে ন'টায় ছাড়ল। আমাদের মাহুত, নাম বলল পরিমল (নাম বদলানো)। অনর্গল কথা বলে সে। এত বকবক শুনে আর কি জানোয়ার কাছে ঘেঁষবে? আমরা হতাশ।

    পরিমল বলে-আমি বাংলা ভাষা জানিনা আজ্ঞা। আমি মূর্খ, আমার হাতিও মূর্খ। হাতির ভাষা জানি। পরিমল হাতিকে বলে- মেৎ ! মেৎ! হাতি দাঁড়িয়ে পড়ে। পরিমল বলে-হ্যাত্তেরি! হাতি দৌড়তে শুরু করে।

    পরিমল বলে -পার্মেন্ট চাকরি নাই। বনবিভাগের ভাড়া খাটি। এই ফির কাল চলে যাবো বাঁকুড়ার জঙ্গলে। এই করে খুদকুঁড়া জোটে। জন্তু দেখাইতে পারতাম, ঐ দূরে ভুটানের জঙ্গলে হাতি নিয়া গেলে। বনবিভাগ যাইতে দিবে না। আমার কি, আমি যেখানে যাইতে বলবে..... বাবা আসামে ছিল.....তাড়ির ঝোঁকে তার সব কথা সংলগ্ন থাকেনা। এই সাত সকালেই সে তাড়ি গিলে বসে আছে।

    চলতে চলতে হাতি ফোঁস ফোঁস করে নিশ্বাঃস ছাড়ে। কান দোলায় ঘন ঘন। প্রবল জোরে বাতকম্ম করে । মল ছাড়ে আওয়াজ করে। মাটি থেকে মড়মড়িয়ে বিশাল লম্বা লম্বা ঘাস তুলে শুঁড় দিয়ে গোড়ার মাটিটুকু ঝেড়ে ফেলে মুখে পুরে দেয়। হাতির নাম ফুলকুমারী। না কি মণিমালা? শঙ্খ ঘোষ বেতলায় যে হাতিতে চেপেছিলেন, তার নাম ছিল জুহি চাওলা। কী বিপদ! পিঠে চেপে বসেছেন, তখন তো আর নামাও যায় না!

    পরিমল বলে-আজকের দিনটা তো কোনোমতে ভুলব না ! ঐ শঙ্খচুড়া সাপ, আগের ট্রিপে ডাল থেক্যে ঝুলছিল। আমি বুঝি নাই, আগাছা ভাবছি; কাছে যাইতেই আমারে কাটতে আসল। শিরে সপ্পাঘাত হয়া যেত আজই। সাপটাকে দেখালোও; একটা গাছের তলায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে বিড়ে পাকিয়ে শুয়ে আছে। দিব্যি শান্ত, মুখটুখ অবধি বের করছে না। পরিমল নিশ্চয়ই অনেক মিথ্যে কথা বলে। আগের ট্রিপের লোকেদের কাছে শুনেছি-তারাও সাপটাকে ঐভাবেই শুয়ে থাকতে দেখেছে। গাছ থেকে ঝোলার কোনো গল্পটল্পই ছিল না। তাড়ির ঝোঁকে সত্যি বা কি, মিথ্যেই বা কি !

    সুমন জিগ্গেস করল- এত তাড়ি খান কেন? পরিমল বলল-যেই দিন বিহা করব, সেই দিন ছেড়ে দিব। আমরা ডাক্তার শুনে সে সুমনকে বলে-তুমাকে তো চিনি। আমাদের সদর হাসপাতালে কাম করতে না? আমার বাবার অসুখ সারায়ে দিছ না? তুমিই তো ! তার এমন "তাড়িয়াল" আত্মবিশ্বাসের সামনে সুমন কোনমতেই মুখ খুলতে পারে না। জানাতে পারে না, সে বেচারা জন্মে কোনোদিন বড় শহরের বাইরে যায় নি। কলকাতা-মুম্বাই-দুবাই-টরেন্টো এই তার দৌড়।
    ফিরে এসে হাতি থেকে নামার সময় বলল-হাতিরে কিছু দিয়া যান আজ্ঞা! আমরা এমনিতেই দিতাম। কিন্তু দেড়শো টাকা হাতি কিছুতেই নিল না, শুঁড় ফিরিয়ে নিল। পরিমল তাকে এমন মন্ত্র শিখিয়ে দিয়েছে। তিনশো না পাঁচশো কত যেন দিয়ে তবে নিষ্কৃতি মিলল।

    দুপুরবেলা বনবিভাগের জিপসি ড্রাইভারদের জিগ্গেস করেছিলাম। তারা বলল- ও, ঐ সাঁওতালটা? বহুত মিছা কথা বলে। বিয়ে হয় নি বলেছে? ওর ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে দাদা। সকালবেলায় উঠেই বনবস্তিতে চলে যায়। সারাক্ষণ গিলে থাকে।

    পরিমলের সঙ্গে আর দেখা হবে না। জানা হবে না, তার আর বিহা হল কিনা। মদশরাব সে ছাড়ল কিনা।
    ------

    হাতিসাফারির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর উদ্যোগ করছি মাত্র। দলের সবাই যে যার মত ছড়ানো ছিটোনো। সুমন দেখি কাউন্টারের দিক থেকে ফিরে আসছে। তার সঙ্গে একজন বেঁটে মত মাঝবয়সী মানুষ ঘ্যানঘ্যান করতে করতে আসছে। সুমন লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে আসছে। বেঁটে প্রায়ই পিছিয়ে যাচ্ছে, আবার দৌড়ে এসে সুমনকে ধরছে। কথা বলছে সে অনর্গল, সুমন উত্তরে হুঁ হাঁ ছাড়া কিছু বলছে না। এ কে? এ কি বনবিভাগের কর্মী নাকি? দালাল? সুমন কাকে যোগাড় করলো? নাকি এ-ই পাকড়াও করেছে সুমনকে?

    কাছে এসে সুমন বলে -ইনি কালা পাল। এঁর জিপে করে কাল আমরা এলিফ্যান্ট সাফারির জন্য হলং বাংলো অবধি যাবো। ফিরেও আসবো এঁর জিপে।

    সে কী? বনবিভাগ দিয়ে আসা-নিয়ে আসাটুকুও করবে না? তার জন্যও প্রাইভেট জিপ ভাড়া করতে হবে?

    সুমন মুখ খুলতে যাচ্ছিল, কালা পাল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন-বনবিভাগ তো করে না আজ্ঞে। কখনো করে না। আপনারা আমার জিপে যাবেন। কোনো অসুবিধা হবে না। আমি তো শুধু ড্রাইভার না! আমি একজন অভিজ্ঞ গাইড। এই বনজঙ্গল, এই যে হলং নদী-অদূরে হাত দেখিয়ে তিনি বলেন-এখন শুকায়ে গেছে, এই জঙ্গলের জন্তুজানোয়ার, এইখানকার মানুষজন-সব আমার হাতের তালুর মত চিনা। বনদপ্তরে চাকরি করতাম।নিয়া যাবো, নিয়া আসবো। সব বলতে বলতে যাবো। ম্যাডামদেরও ভালো লাগবে। বাচ্চাদেরও। এইখানে সবাই আমারে একডাকে চিনে..... কালা পালের কথাস্রোত বন্ধ হতে চায় না।

    হাতের মুদ্রায় তিনি আমাকে আর সুমনকে একটু দূরের দিকে ডাকেন। কেন রে বাবা! আবার কী দুরভিসন্ধি! গাইড বলে আরো কি পয়সা চাইবে নাকি? এমনিতেই জলদাপাড়া বেড়ানো বেশ খরচাসাপেক্ষ হয়ে যাচ্ছে।

    কয়েক পা গিয়ে দেখি ভদ্রলোক পকেট থেকে কার্ড বের করছেন। ট্যুরিস্ট গাইড কালা পাল। সগর্বে বলেন-উত্তরবঙ্গের উপরে একখান বই লিখতেছি। ছাপা হইলে পড়বেন। আমার আরো দুইখান বই আছে.... বলতে বলতে তিনি ঝোলা থেকে দুটি চটি বই বের করেন। সস্তা , জ্যালজেলে ছাপা। বাজে কভার। কালা পাল বলেন- আমারে যেইবার দূরদর্শনে দেখাইল, আমি বলছিলাম.....

    তাঁকে থামিয়ে দিয়ে আমি বলি-কালাবাবু , আমি একটু আসছি। বাচ্চারা ডাকছে। বলে জোরে পা চালিয়ে ট্যুরিস্ট লজের দিকে এগিয়ে যাই।
    বেচারা সুমন দাঁড়িয়ে থাকে। কালা পাল তাকে নিজের গৌরবগাথা শোনাতে থাকেন। সুমন দাঁড়িয়ে থাকে।
    জলদাপাড়ায় বিকেল নামে।
    -------

    না, কালা পাল বাড়তি পয়সা চান না। লোকের কাছে নিজের কথা বলে বেড়াতেই তাঁর আগ্রহ। এই জঙ্গলদেশকে তিনি কবে থেকে চেনেন! এর কিনারা-ঘুপচি চেনেন। লোকে ভুলে যায়। হাতি-গণ্ডার-বুনো মোষ দেখে, বীয়ার-কাবাব খায়, জঙ্গল কাঁপিয়ে হ্যাঃ হ্যাঃ হিঃ হিঃ হাসে। গোলাপি রংয়ের টি-শার্ট, বেগুনী রংয়ের বারমুডা পরে জিপের পেটে, হাতির পিঠে চেপে ঘুরতে বেরোয়। চেঁচিয়ে বলে, এই মামণি, ঐ মন্টু -ঐ দেখ গন্ডার বাঁড়া ! বলে- আমার হাতিটা কী পাঁদলো মাইরি! কিম্বা বলে-দূর বাঁড়া, একটা কোনো জানোয়ার নেই, বালের জঙ্গল। এর চেয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানা ভালো। তারপর গাড়ির ধুলো উড়িয়ে চলে যায়। ভুলে যায়।জঙ্গলতরাইয়ের উত্তরবাংলা পড়ে থাকে। কালা পাল পড়ে থাকেন।

    তাই কালা পালকে বলতে হয়। জঙ্গলের কথা। নদীর কথা। মানুষজনের কথা। নিজের কথাও। উত্তরবঙ্গ নিয়ে অনেক তথ্য কালা পালার মুখস্ত। কত রকমের মানুষ থাকেন এখানে। কত জাতি-সম্প্রদায়।বাঙ্গালী-নেপালী-বিহারী-কোচ-মেচ-রাভা-টোটো-সাঁওতাল-মদেশিয়া।জঙ্গলের কতগুলি ডিভিশন। কোন এলাকায় কবে হাতির পাল হানা দিয়েছিল। মানুষ আর জঙ্গলের জন্তুতে কিরকম ভজকট পাকিয়ে উঠেছে। মানুষ জঙ্গল সাফ করে, হাতির পাল সাফ করে ধানক্ষেত। চা-বাগানে গুঁড়ি মেরে বসে থাকে লেপার্ড। তার নাগালে গেলে সে আঁচড়ে-কামড়ে-ছিঁড়ে দেয়। মানুষ তাকে নাগালে পেলে পিটিয়ে মারে; চামড়া খিঁচে নেয়। টুকরো টুকরো করে কেটে খায় তাকে।
    আর এইসবের মাঝখানের জমিনে থাকেন বনকর্মীরা। কালা পাল একদা বনদপ্তরে কাজ করতেন। একবার হাতির হামলায় গ্রামের মানুষ মারা যায়, ধানক্ষেত তছনছ হয়। বনদপ্তরের কর্মীরা এলে তাঁদের বেঁধে রাখেন গ্রামের মানুষ। খুব পেটাই হয়। "এই দেখেন চিহ্ন"-বলে কালা পাল শার্ট তুলে পিঠ দেখান। "আমারে সেইসময় টিভিতেও দেখাইছিল"-নিস্পৃহভাবে বলেন তিনি। মার খাওয়ার জন্য তাঁর কোনো আক্ষেপ, কোনো পুষে রাখা রাগ আছে বলে মনে হয় না। গণপিটুনিকে খুব স্বাভাবিক বলে বোধ হয় মনে করেন তিনি। বনের হাতি এসে মানুষের ধান নষ্ট করবে,বাড়িঘর নষ্ট করবে, আর বনকর্মীদের মানুষ মারবে না? হাতে পেলে ছেড়ে দেবে? এইরকম বোধ হয় মনের ভাব তাঁর। বরং টিভিতে মুখ দেখানোর সুযোগ পাওয়া হল বলে চাপা গর্ব কাজ করে তাঁর মধ্যে।

    "আমারে এইখানকার সকলেই চিনে। আমি সব সরকারী দপ্তর শেষ কইরা দিছি"-কালা পাল বলেন।

    সব সরকারী দপ্তর "শেষ" করে দিয়েছেন? কিছুই বাদ রাখেন নি? সঙ্গীতা জিগ্গেস করে। তার গলায় ফচকেমির হাসি।

    "হ্যাঁ, সব!" গর্বের সঙ্গে বলেন আমাদের স্বনিযুক্ত গাইড । কোথাও কিছু ভুল বলা হল ? সে সব ভাবেনই না তিনি।

    "এই যে দেখছেন হলং নদী"- ছোট্ট ব্রিজের ওপর দিয়ে যেতে যেতে শুকনো সোঁতাটির দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেন-" এ বেশীর ভাগ সময় শুকনা থাকে। বৎসরের একটি বিশেষ দিনে এই নদীতে জল আসে। "
    প্রত্যেক বছর একই দিনে?অবিশ্বাসী আমি জিগ্গেস করি।
    "একই দিনে। " প্রত্যয়ী কালা বাবু উত্তর দেন।

    তারপর তিনি আমাদের নিয়ে যাবেন সাউথ খয়েরবাড়ির জঙ্গলের দিকে। দেখাবেন হলং নদীর উৎসস্থল। লোকে ভাবে বুঝি সব নদীই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়। তা যে নয়, তাই দেখাতে চান কালা বাবু। সমতল থেকে কিভাবে নদীর জন্ম হয়, কিভাবে গুম গুম ধ্বনিতে জল ঢোকে শুকনো সোঁতায় সে সবই হাত-পা নাড়িয়ে অভিনয় করে দেখাবেন কালাবাবু। একদল সন্দিগ্ধ কিন্তু শিষ্ট ও মনোযোগী কলকাত্তাইয়া বাবুবিবির সামনে। জিপ থামিয়ে তাদের নিয়ে হেঁটে যাবেন শাল-সেগুন-বহেরা-খয়ের গাছের মধ্য দিয়ে নিচের উপত্যকার দিকে। নদীর জন্মজরায়ুর কাছে। হায়, অসহায় আমি নামতে পারবো না, হাঁটতে পারবো না, ভাঙা পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ জড়ানো বসে থাকবো জিপের মধ্যে। কড়া হয়ে ওঠা মার্চ-দুপুরের রোদ্দুরের মধ্যে। বনস্পতিদের মাথা থেকে ঘুর্ণির মত ঘুরঘুর করে নেমে আসবে শুকনো পাতা। দুটি সাঁওতাল ছেলে সাইকেল চড়ে বনের মধ্য দিয়ে, আমাদের জিপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে। আমাকে দেখে তারা হাসবে, ঝকঝকে মুক্তোর মত হাসি।

    সপারিষদ রাজার মত ফিরে আসেন কালা পাল। বেশ অনেকটা সময় বাদে। চিন্তা হয়, সময়ে পৌঁছতে পারবো কিনা এন জে পি। কালাবাবু আগেই বলে রেখেছিলেন, সোজা পথে যাবেন না। কিছুটা ঘুরপথ হবে। কেননা উত্তরবঙ্গের জঙ্গল-মানুষ বৃত্তান্ত বলতে হবে অনেক। দেখাতে হবে, বোঝাতে হবে। আক্ষেপ, সময় বড় কম। নইলে অনেক কিছুই জানানো যেত। তবে পৌঁছে দেবেন তিনি ঠিকই । যথাসময়ে।

    কিন্তু সে ভরসা কমে আসছে ক্রমে। সময় আমাদের মত গোপাল ও সুবোধ নয়, কালা পালের প্রতি তার বিশ্বাস অত দৃঢ় নয়। সে পিছলে বেরিয়ে যাচ্ছে ক্রমেই। এদিকে কালা পাল বোঝাচ্ছেন, বুঝিয়েই যাচ্ছেন। আবার আলিপুরদুয়ারের সীমানায় আমাদের গাড়ি এক্সচেঞ্জ হবে, কালা পালের গাড়ি থেকে নেমে আমরা উঠব অন্য গাড়িতে। এই গাড়ির আলিপুরদুয়ারের বাইরে যাওয়ার পারমিট নেই, ধরা পড়লে অনেক টাকা ফাইন। কালা পাল ও তাঁর মালিক তাই নিয়ে যাত্রা শুরুতেই আক্ষেপ করেছেন খুব। সরকার ট্যুরিজমের উন্নতির জন্য এই করছে, সেই করছে। কিন্তু ড্রাইভারদের কথা, গাড়ির মালিকের কথা ভাবে না। পুলিশ টাকা নেয়, হেনস্থা করে।ফলে তাঁদেরও অনেক বেশী ভাড়া চাইতে হয় ট্যুরিস্টদের কাছে। এইভাবে কি আর ট্যুরিজম বাড়ে? কালাবাবুর মালিকও নেহাত স্বল্পভাষী নন।

    গাড়ি চলেছে খয়েরবাড়ির জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। গাছগাছড়া চেনাচ্ছেন আমাদের ড্রাইভার কাম গাইড। এই যে খয়ের গাছ, এর পাতা অনেকটা লজ্জাবতী লতার মত; কিন্তু আকারে অনেক বড়। খয়ের তৈরীর কায়দাকানুন শেখান আমাদের কালা পাল। এই যে দেখেন রুদ্রাক্ষ গাছ-বলেন তিনি। অনর্গল বকে যান । জানলা দিয়ে দেখি,কচুরিপানা আর টাকাপানায় ভরা জলের ধারে ছোট হাতজাল নিয়ে বসে আছে মাছমারা মানুষ। বসে আছে মাছরাঙা। পানকৌড়ি। বুড়ি তোর্সা নদী খয়েরবাড়ির জঙ্গলকে পাক খেয়ে ঘুরে যায়।আকাশ দিয়ে উড়ে যায় স্টর্কের মত কি এক পাখি। কালা পাল পশুপাখি তেমন চেনেন না। চিনতে পারেন না পাখিটিকে। ময়ুর দেখিয়ে আগেরদিনই এক আজব তথ্য পরিবেশন করেছেন তিনি। এই যে দেখছেন মেয়ে ময়ুর, মাটিতে খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে, এরা আসলে পুরুষ ময়ুরের বীর্য খায়। এইভাবে ময়ুরের গর্ভ হয়। ওদের তো মিলন হয় না! প্রত্যয়ে ভরপুর তিনি।
    দুপুর গাঢ় হয়ে আসে। সময় আর বেশী নেই। দেরীতে হলেও ড্রাইভার সাহেব বুঝতে পারেন সে কথা। শর্ট কাট দিয়ে চলে তাঁর গাড়ি। ছোট একটি অগভীর নদীস্রোত পেরোতে হয় আমাদের। নদী না বলে খাল বলাই ভালো। গাড়ির চাকায় জল ছলকে ওঠে। তাই দেখে দূরে দাঁড়ানো বাচ্চারা হাততালি দেয়। বন ছাড়িয়ে আমরা গঞ্জের মধ্যে ঢুকে পড়ি। কঁক কঁক আওয়াজ করে উড়ন্ত মুরগীরা রাস্তা ছেড়ে পালায়। ফেজ টুপি পরা মানুষরা, স্কুল ফেরার ছেলেমেয়েরা আমাদের পাশ দিয়ে সরে সরে যায়। হাটের জটলা সরে যায়। পাতের ফেঁসো, ডোবাপুকুর, সদ্য চুনকাম করা মসজিদ সরে যায়। বিকেলের ঠিক আগে আমরা কালা পালের পৃথিবীর সীমান্তে এসে পৌঁছই।এর বাইরের কেউ তাঁকে চেনে না। তিনিও কাউকে চেনেন কি?

    ----

    বসে আছি গাড়ির মধ্যে । একটি পাহাড়ী রেস্তোরাঁর সামনে। পাহাড় বেয়ে সূর্যাস্ত নামছে। আমাদের নতুন ড্রাইভার বয়সে তরুণ; কথা বলেন না বেশী। বেশ দ্রুত গাড়ি চালান ।সময়ে পৌঁছে যাবো মনে হচ্ছে। আর বেশী দূর নয়। সাথীরা গেছে চা-কফি-মোমো খেতে। আমার জন্যেও আনবে তারা। আমার ও ড্রাইভারসাহেবের জন্য।

    সূর্য ডুবলে মন খারাপ লাগে। পুরনো পৃথিবীর জন্য। সেখানে সকাল হয় ময়ুরের কিঁও কিঁও ডাকে। মাদারিহাট লজের সামনের গাছতলায় সিমেন্টের ময়ুরপঙ্খী নৌকোয় মাসির চায়ের দোকানে টগবগিয়ে জল ফোটে। প্রচুর মানুষজন-প্রাকৃত ও শহুরেজনের হাঁকেডাকে গাছতলা সরগরম। ঘুঘু-কাঠশালিক-কেশরাজ-ভীমরাজ পাখীরা , কাঠবেড়ালীরা এগাছ-ওগাছ করে। লালমুখো বাঁদরেরা কাচ্চাবাচ্চা সমেত শুকনো হলং নদীর সোঁতা পারাপার করে। কবে এই নদীতে জল আসবে। কবে কালা পাল ট্যুরিস্ট পাবেন। ধৈর্যশীল ট্যুরিস্ট। তিনি তো শুধু ড্রাইভার নন। তিনি গাইড। এই পৃথিবীকে তিনি হাতের তালুর মত চেনেন। এই খয়ের-রুদ্রাক্ষ-শাল-বহেরার জঙ্গল, হলং-বুড়ী তোর্সার , উৎসমুখ, কালো কালো মানুষজন....

    পৃথিবী ক্রমে কুঁচকে যাচ্ছে। শুকনো আর গরম হয়ে উঠছে। নদীর জল শুকিয়ে আসছে। তেষ্টায় পরিমলের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। পরিমল বেরিয়ে পড়েছে,টলমল পায়ে সে হেঁটে যাচ্ছে বনবস্তির দিকে।হাতিরা জঙ্গল থেকে অস্থির বেরিয়ে পড়ছে অনিশ্চিত জীবনে। রেলের চাকায় লেগে যাচ্ছে রক্ত আর আইভরির গুঁড়ো। রিভারবেড থেকে রাশি রাশি পাথর উঠছে ট্রাকে। দূরে কোথাও ছোট্ট একটুকরো আগুন জ্বলছে।

    তবু কালা পাল দাঁড়িয়ে আছেন। পয়সার জন্য নয়। গাড়ি চালানোর জন্য নয়। কথা বলবার জন্য। প্রাগৈতিহাসিক আগুনের ধারে বসে বুড়ো সর্দারের মত কথা বলে যাবেন তিনি। সত্যি-মিথ্যা -জানা-অজানায় ভরা কথাক'টি বলে যেতে হবে তাঁকে। আগামীদিনের মানুষদের জন্য। কেন না, একদিন না একদিন তো হলং নদীতে জল আসবে। ভোররাতে হাতির বৃংহণ শোনা যাবে। ভুটানঘাট পেরিয়ে হাতির দল ঢুকছে জলদাপাড়ায়। ঘুমে তাদের চোখ জড়ানো। স্বপ্ন দেখছে তারা। জলের স্বপ্ন।

    সে সব হবে একদিন।।
  • ব্লগ | ০৯ নভেম্বর ২০১৪ | ৯৩২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • b | 135.20.82.164 (*) | ১০ নভেম্বর ২০১৪ ০৭:৩১73263
  • পুনর্ফাটাফাটি। আগে ভাবতাম, আই এত কম লেখেন কেন? এখন বুঝি, ভালো জিনিস একটু রয়ে সয়ে, একটু কম হলেই ভালো।
  • Biplob Rahman | 212.164.212.20 (*) | ১১ নভেম্বর ২০১৪ ০২:০৪73266
  • "মানুষ আর জঙ্গলের জন্তুতে কিরকম ভজকট পাকিয়ে উঠেছে। মানুষ জঙ্গল সাফ করে, হাতির পাল সাফ করে ধানক্ষেত। চা-বাগানে গুঁড়ি মেরে বসে থাকে লেপার্ড। তার নাগালে গেলে সে আঁচড়ে-কামড়ে-ছিঁড়ে দেয়। মানুষ তাকে নাগালে পেলে পিটিয়ে মারে; চামড়া খিঁচে নেয়। টুকরো টুকরো করে কেটে খায় তাকে।
    আর এইসবের মাঝখানের জমিনে থাকেন বনকর্মীরা। কালা পাল একদা বনদপ্তরে কাজ করতেন। একবার হাতির হামলায় গ্রামের মানুষ মারা যায়, ধানক্ষেত তছনছ হয়। বনদপ্তরের কর্মীরা এলে তাঁদের বেঁধে রাখেন গ্রামের মানুষ। খুব পেটাই হয়।" ...

    আদিবাসী, বন, জঙ্গল, জলা ও জানোয়ারের সব নিপীড়ন দৃশ্য এপারে-ওপারে বুঝি একই।...সিনেমাটিক বর্ণনায় সব চিত্রপট খুব চেনা মনে হয়। ...এমনকি তাড়িখোড় পরিমল থেকে শুরু করে বাচাল কালা পাল পর্যন্ত। ...

    যদিও লেখাটি খুব ভালো এবং দরকারি; কিন্তু আজকাল বিপর্যস্ত প্রকৃতি, আদিবাসী, জানোয়ার ও পর্যটনের এইসব কথনে খুব ক্লান্ত লাগে। বিষন্নতা...
  • Ishan | 183.17.193.253 (*) | ১১ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪৫73264
  • বাঃ এইটা আগে পড়িনি কেন। কত কিছু মিস করি আজকাল।
  • ranjan roy | 132.176.235.84 (*) | ১১ নভেম্বর ২০১৪ ০৮:৪৪73265
  • বি ও ঈশানকে ক।
    পড়েই মনে হল ডুয়ার্স যাব, ফেব্রুয়ারিতে। ইন্দোর সঙ্গে দেখা করে কালা পালের সুলুক-সন্ধান নিতে হবে।
  • de | 69.185.236.51 (*) | ১২ নভেম্বর ২০১৪ ১১:০৯73267
  • আহা! স্বপ্নের মতো লেখা! আরো গপ্পো হোক ---
  • sumeru | 132.163.77.54 (*) | ০৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ১১:২৭73268
  • সিনেমার আছে এইখানে। ডাক্তারের সিনেমা হবে।
  • Samir Bhattacharyya | ২৭ জুন ২০২১ ১৪:০৯495356
  • বেশ ভালো লাগলো

  • Arindam Dhar | 115.187.42.83 | ২৭ জুন ২০২১ ১৮:৩৭495368
  • সুন্দর 

  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন