এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৫ অক্টোবর ২০১৪ ০৭:৩৯72530
  • সৈকতদার লেখাটা এখানেও থাক।

    'পৃথিবী গোলাকার, তাই কলরবের কোনো কিনারা নেই। সমুদ্রগর্জনের মতো কলরবেরও কোনো কপিরাইট নেই। যাদবপুরে পুলিশি হামলার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কলরব ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেটে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে শুরু হয় কাউন্টার অ্যাটাক যাদবপুর। কয়েক দিনের মধ্যে রাজাবাজার থেকে বর্ধমান হয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্বভারতী, মেদিনীপুর, বাঁকুড়ায় শোনা যায় ঢেউএর শব্দ। এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যায় আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সপ্তাহ। বিশ্বব্যাপী শোনা যায় কলরবের ক্যাকোফনি।

    পৃথিবী গোল, তাই কলরবের কোনো পরিসীমা নেই। বৃষ্টির শব্দের মতো কলরবেরও কোনো কপিরাইট নেই। দিল্লীর কলরবে চলে আসেন মারুতির শ্রমিক, লাবণিতে প্রেসিডেন্সির ছেলেমেরা। উত্তরপাড়ায় বন্ধ হওয়া হিন্দমোটরের শ্রইকরা গলা মেলান। আইওয়া সিটিতে এলজিবিটি অ্যাকটিভিস্টরা নামছেন কলরবে। কলকাতার মহামিছিলে যাঁরা এসেছিলেন, তত ছাত্র যাদপুরে পড়েন না। দিল্লী ব্যাঙ্গালোর মুম্বাই আর বিশ্বজুড়ে যাঁরা রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদের অনেকেই কস্মিনকালেই যাদবপুরে পড়েননি।

    কেন এত লোক রাস্তায়? কেন এত মানুষ দুনিয়া জুড়ে পোস্টার লিখছেন? কেন বিশ্বভারতীর ছাত্রী লিখেছেন "হোক কলরব"এর পর এই আন্দোলনের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগানটি? কেন এলজিবিটি, পরিবেশ, শ্রমিক আন্দোলনের মানুষরা, কেন ঘোষিত অরাজনৈতিক মানুষরা কোনো সংগঠন ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগে বলে যাচ্ছেন "হোক কলরব"? শুধু যাদবপুরের সঙ্গে সহমর্মিতায়? শুধু সেটুকুই কারণ নয়। প্রতিটি মানুষ, নিজের অভিজ্ঞতায় যাদবপুরের সঙ্গে নিজেকে রিলেট করছেন, একাত্মবোধ করছেন। শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং তার বিচারে গড়িমসির ঘটনা শুধু যাদবপুরের না, কামদুনিরও, যার জেরে মার খেয়েছেন আমাদের বন্ধুরা। দলদাস প্রশানের মাথা শুধু যাদবপুরের সমস্যা নয়, মহামিছিল যখন কলকাতা কাঁপাচ্ছে, শিক্ষক থেকে সর্বস্তরের মানুষ একযোগে নিন্দায় মুখর, সাতজন উপাচার্য তখন যাদবপুরের প্রশাসনিক কর্তার পক্ষে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন, দলতন্ত্রের শিকড় কতদূরে চারিয়েছে বোধগম্য না হবার কিছু নেই। রাতের অন্ধকারে পুলিশি হিংস্রতা শুধু যাদবপুরে না, সন্ত্রাসের বলি হচ্ছেন রাজাবাজারের ছাত্রছাত্রীরা, সন্ত্রাসের শিকার বর্ধমান। যাদবপুরের পক্ষে বলতে গিয়ে মার খাচ্ছেন, মাথা ফাটাচ্ছেন, পায়ের উপর দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্কটিশের ছাত্রদের। উঠে আসছে আরও কত টুকতো-টাকরা। পুলিশ ক্যাম্পাসে এই প্রথম ঢুকলো তা নয়, শিবপুর বেসুর ছাত্রদের একটি ক্লাসরুমে আটকে রেখে বাইরে অপেক্ষায় ছিল পুলিশ, ক্লাসরুমে নাকি বিপজ্জনক মাওবাদীরা বসে আছে। আমরা আজ সেকথা জেনে শিহরিত হচ্ছি, কিন্তু এসব চলছিল, চলছে, নতুন কিছু নয়। কলরব শুধু একটি বিন্দু, যেখানে এগুলোর বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বেরিয়ে এসেছে। সেই নবারুণের উপন্যাসে যেমন, তোশকের নিচে জমিয়ে রাখা গ্রেনেড ফেটে যায় চিতার আগুনে।

    পৃথিবীর আকার গোল, তাই কলরবের কোনো সীমারেখা নেই, কলরবে কোনো বহিরাগত নেই। লাবণিতে পুলিশের সামনে দাঁড়ান শুধু যাদবপুর না, প্রেসেডিন্সির ছেলেমেয়েরা, প্রাক্তনীরা। বিশ্বভারতী-বর্ধমান-স্কটিশ-হিন্দমোটর, মুম্বাই-দিল্লী-বেঙ্গালুরু, লড়ে যায় শুধু যাদবপুরের জন্য না। "ইউরোপ ও আমেরিকার গহন অঞ্চল থেকে বুকে পোস্টার বেঁধে সংহতির ছবি ইন্টারনেটে তুলে দিচ্ছেন মুষ্টিমেয় মানুষরা, সেও শুধুই যাদবপুরের জন্য নয়।এঁরা হাত বাড়াচ্ছেন অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে একটি জেহাদের অংশীদার হবার জন্য। অজস্র কণ্ঠের গুঞ্জন এভাবেই হয়ে উঠছে কলরব। কলরব তো কোনো স্লোগান নয়, অনেক গলা, হয়তো অনবধানেই, যখন নীরবতা ভেঙে কথা বলে ওঠে, তাকেই তো কলরব বলে। এই কলরবের কোনো সীমারেখা হয়না। কলরবেও তাই কোনো বহিরাগত নেই।

    এটা আমাদের অনুভব। আমরা যারা বাইরে দাঁড়িয়ে দেখেছি, সাধ্যমতো গলা তুলেছি। ছাত্রদের অনুভূতি ঠিক কী তার তোয়াক্কা না করেই আমরা হোক কলরবকে নিজেদের মতো ভালোবেসেছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছি গলার আওয়াজ। আমাদের আওয়াজ দাদাগিরির বিরুদ্ধে। আমাদের আওয়াজ বিশ্ববিদ্যালয়কে পুলিশি খাঁচা বানানোর বিরুদ্ধে। আমাদের আওয়াজ নেতা ও দাদাদের লুটে-পুটে খাবার বিরুদ্ধে, আমাদের আওয়াজ "আচ্ছে দিন" এর খোয়াবের বিরুদ্ধে। সে আওয়াজ একরকম করে তোলা হয়েছে। এই আওয়াজ স্বতঃস্ফূর্ত। কেন্দ্রহীন। কলরবে কোনো বহিরাগত নেই, হয়না।

    এই জায়গা থেকেই আমি আমরা, কলরবকে নিজেদের কলরব ভাবতে শিখেছি। আর এই জায়গা থেকেই মনে হচ্ছে, যে, কলরবকে স্থায়ী করতে গেলে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো দরকার। যারা শুধু যাদবপুরে নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও এই স্ফুলিঙ্গকে ধরে রাখতে সক্ষম। গণতন্ত্র রক্ষার দাবীতে, দাদাগিরির বিরুদ্ধে, দলতন্ত্রের বিরুদ্ধে, অন্যায় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে, লুটে-পুটে খাবার বিরুদ্ধে, মানুষের ন্যূনতম অধিকার রক্ষার দাবীতে, প্রতিটি জায়গায় যে নড়াচড়া, আলোড়ন, তাকে নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ছাত্ররা এই নেতৃত্ব দিতে পারেন, যাদবপুরের ছাত্ররা এই মুহূর্তে নেতৃত্বের যোগ্যতম দাবীদার। যেহেতু কলরবকে নিজের বলে ভেবেছি, সেই দাবীতেই তাঁদের কাছে আবেদন, যে, এগিয়ে আসুন, নেতৃত্ব দিন, বহু মানুষ হাত বাড়ানোর জন্য তৈরি।

    গোটা ছাত্রসমাজ, এবং সুনির্দিষ্টভাবে যাদবপুরের ছাত্রদের জিবির কাছে, এই বহিরাগতদের আবেদন এইঃ
    ১। একটি সামগ্রিক সংগঠন তৈরি করুন, যারা এই কলরব আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে।
    ২। শুধু ছাত্র না, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ এই মঞ্চে সুনিশ্চিত করুন।
    ৩। ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই নানা রাজনৈতিক ভাবাদর্শে দীক্ষিত, অনেকে একেবারেই অরাজনৈতিক। মতভেদ এড়াতে শুধু ন্যূনতম সাধারণ অ্যাজেন্ডাগুলিকেই সামনে রাখুন, যেখানে কোথাও কোনো দ্বিমত থাকা সম্ভব নয়। যেমন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা (শ্রমিক, কৃষক, নারী, এলজিবিটি, সকলের), দলতন্ত্রের বিরুদ্ধতা, গোটা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাব দলদাসে পরিণত হবার বিরুদ্ধতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধতা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধতা।
    ৪। মঞ্চটিকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিন। আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, শুধু নেতৃত্বকে যেন হাতের কাছে পাওয়া যায়।

    কলরবে কোনো বহিরাগত নেই, এই ভরসায় এই আবেদনটি আমি, এবং আমরা রাখলাম কলরবের অগ্রণী অংশের কাছে। আপনাদের সাধারণ সভায় এই নিয়ে আলোচনা হোক। তর্কবিতর্ক হোক। হোক কলরব।'
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন