এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • নভেম্বর ২০১৭

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৫ বার পঠিত
  • ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না মাথায় দেয় তা নিয়ে কারো বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা। সত্তরের দশকে সোভিয়েতকে সাম্রাজ্যবাদী বলা হয়েছিল, তাও কারো অজানা ছিলনা, কিন্তু সেসব খুব জোরেসোরে বলার লোকটোক ছিলনা। তখন বিশ্বশান্তির চ্যাম্পিয়ন ব্রেজনেভের যুগ। 'সোভিয়েত দেশ' আর 'সোভিয়েত নারী' দেখ উচ্ছ্বসিত হবার সময়। তখন স্পষ্টতই আফগানিস্তান পর্যন্ত সমাজতন্ত্র এসে গেছে। মুজতবা বর্ণিত সেই পিছিয়ে পড়া কাবুলের রমনীরা পর্দা ছুঁড়ে ফেলে মিনিস্কার্ট পরে শহর দাপায়। লাদেন বা মুজাহিদিনদের নামও কেউ শোনেনি। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে সোভিয়েত সেনা দেশে ফিরে যাবে,আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন চালু হবে, নাজিবুল্লার লাশ ট্রাকের পিছনে বেঁধে ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে শহরের চৌমাথায়, তখন কেউ এসব বললে লোকে নির্ঘাত পাগল ভাবত। তখন আমাদের তৃতীয় দুনিয়ায় দ্বিমেরু বিশ্ব ছিল চিরসত্য, বামপন্থীরা ছিলেন কট্টর, স্রেফ অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। সব্বাই। সিপিএম মনে করত, বিপ্লব না করলে কিসুই হবেনা, একটা অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় কিছু করা যায়না। লোকে টিপ্পনি কাটত, সেই জন্য সিপিএম কিছুই করেনা। ইতস্তত গম্ভীর নকশালরা সমালোচনা করত, তাহলে ক্ষমতায় আছ কেন, কেনই বা বামফ্রন্টকে চোখের মনির মতো রক্ষা করতে হবে? এসবই তখন বিতর্ক ছিল। এর বাইরে একটু আধটু লিঙ্গ, জাতপাত। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৯ সালে, তার আগে পর্যন্ত মন্ডল কমিশন নিয়ে বিশেষ কেউ মাথা ঘামাতনা। টুকটাক তর্কাতর্কি হত। যেমন, কোন গ্রুপ নাকি বিহারে বলেছে কাস্ট স্ট্রাগলই আসলে ক্লাস স্ট্রাগল, এই নিয়ে কথাবার্তা। সেও নির্দোষ ব্যাপার। অর্থাৎ শ্রেণীই আসল, এই নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই, কিন্তু জাতই কি আসলে ভারতে ক্লাস? এই নিয়ে ছুটকো মতপার্থক্য। এছাড়াও ছিলেন মহিলা সমিতিরা, কিন্তু শ্রেণীর লেজুড় হয়ে। অর্থাৎ শ্রেণী সংগ্রাম মিটে গেলে অসাম্য টসাম্য এমনিই উবে যাবে। আর সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ছিল নীরবতা। কিন্তু ঘরোয়া ফিসফাস আলোচনায় শোনা যেত ওগুলো "বিকৃতি"।

    নব্বইয়ে গপ্পোটা বদলাল। মুক্তিকামীদের অচঞ্চল পূর্ব ইউরোপ, সোভিয়েত ভেঙে পড়ল। যাঁরা সোভিয়েতকে স্বর্গরাজ্য মনে করতেন, তাঁদের তো স্বর্গ হইতে পতন হলই, যাঁরা "সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ" মনে করতেন, তাঁরাও বুঝভুম্বুল হয়ে গেলেন। হবারই কথা। কারণ গল্পেও এরকম হয়না। পরশু দিন পর্যন্ত যিনি পার্টির মহাশক্তিধর সর্বেসর্বা ছিলেন, একদিন সাতসকালে তিনি সদর দপ্তরে নিজেই তালা মেরে ঘোষণা করলেন, আজ হইতে দোকান বন্ধ, এ নেহাৎই ইয়ার্কি হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস সমাজতন্ত্র বা সিরিয়াস সাম্রাজ্যবাদ, কারো পক্ষেই এই জিনিস ঘটানো, অ্যাবসার্ড। কিন্তু অলীক হলেও ঘটনাটা ঘটল। আমরা যারা একটু আধটু বাম চিন্তাভাবনা করতাম, তারা অনাথ হলাম ঠিকই, কিন্তু তাতে আরেকটা প্রবণতা তৈরি হল, আমরা প্রশ্ন করতে শিখলাম। যেকোনো ফর্মের ঈশ্বরে অবিশ্বাসী হলাম। আপ্তবাক্য অমান্য করা শুরু হল। "সোভিয়েত একটি স্বর্গরাজ্য" জাতীয় ঈশ্বরবিশ্বাস প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ল। "শ্রেণীই মূল" -- ধারণাটা চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ল। 'অপর'এর মতো পত্রিকা বেরোতে শুরু করল। সুমনের গান এল মার্কেটে, আর সেই ষাট থেকে তুলে আনা হল আলথুসার ইত্যাদিদের। সিপিএম তখনও দেয়ালে দেয়ালে "মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা সত্য" লিখে চলেছে ঠিকই, কিন্তু ভিত নড়ে গেছে, লিনিয়ারিটিকে প্রশ্ন করা শুরু হয়ে গেছে। জেন্ডার, কাস্ট, সমকামিতা, এরা কেন চিন্তার জগতে প্রান্তিক হয়ে থাকবে, কেন শ্রেণীই একমাত্র মূল হবে, এসব প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুরোনো বুজুর্গরা কড়া ভাবে সেসব সামলাচ্ছেন, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা বদল আসবেই। আমরা ঘেঁটে গেছি, রাজনীতির স্লোগানের বদলে লেখালিখি চিন্তাভাবনাই বেশি হচ্ছে। বস্তুত, আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসময়টাতেই লিখতে শুরু করি। আমাদের অনেকেই।

    এইভাবেই নব্বই গেল। ২০০০ এ এসে বোঝা গেল, নব্বইয়ে শুধু সোভিয়েত ভাঙেনি, শুরুতে নরসিংহ রাও আর শেষে অটলবিহারি বাজপেয়িও ছিলেন। শুরু হয়ে গেছে শাইনিং জমানা। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা ইতিহাসের শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন। দেশেও তাই। শুরু হয়ে গেছে এক নতুন যুগ, যাকে চিন্তার ভুবনীকরণের যুগ বলা যায়। ভারতীয় আইটি কোম্পানিরা হই হই করে আমেরিকার কাজ ধরছে। ওয়াই-টুকে নামটা মুখে মুখে ঘুরছে। কলকাতাতেও ঝপাঝপ খুলে যাচ্ছে মল। সল্টলেক সিটি সেন্টার চালু হল ২০০০ এর পরে। তার আগে থেকেই শাইনিং দের জয়জয়কার। এমনকি বামপন্থী মহলেও। সরকারি বামপন্থীদের মধ্যে জ্যোতি বসু অস্ত যাচ্ছেন, বুদ্ধদেববাবু ক্ষমতায় আসছেন। খবরের কাগজে শোনা যাচ্ছে অশ্রুতপূর্ব এক শব্দবন্ধঃ ব্র‌্যান্ড বুদ্ধ। মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন তৈরি হচ্ছে, সেটাই ক্রমশ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পুরো ব্যাপারটাই বেশ অদ্ভুত। একদিকে আমরা রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তত্ত্বচিন্তা-লেখালিখি করছি, অন্যদিকে রিয়েল পলিটিকে জায়গা করে নিচ্ছে মধ্যবিত্ত শাইনিং আকাঙ্খা। দুটো কিরকম হাতে হাত ধরে চলছে। একদিকে আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে। কার অ্যাজেন্ডা কে সমর্থন করছে করছে বলা খুব মুশকিল।

    এই চলল ২০০৬ অবধি। তারপরই সেই কান্ড, যার নাম সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম। ২০০৬ থেকে ২০১১। মধ্যবিত্ত শাইনিংপনার বিরুদ্ধে ব্যাকল্যাশ। চিন্তার ভুবনীকরণ, আপাতদৃষ্টিতে কিছুদিনের জন্য স্থগিত। রাজনীতি থেকে এতদিন যারা দূরে ছিল, সবাই পক্ষ নিয়ে ফেলল। সিপিএম বিরোধিদের আক্ষরিক অর্থেই রামধনু জোট। এমনকি বামপন্থীদেরও। কেউ মমতাকে মুক্তিসূর্য বলছেন, কেউ মমতা-বিরোধী কেউ মাওপন্থী, কেউ মাও বিরোধী, কেউ লিবারেটারিয়ান, সব মিলিয়ে একটা ছাতা। উল্টোদিকে সিপিএমের ছাতাটাও ছিল রামধনু। যদিও পার্টি একটাই, কিন্তু তার দুখানা প্রান্ত। একদিকে কেউ শাইনিং , অন্যপ্রান্তে কেউ একেবারে আজিজুল হকের মতো বিপ্লবী। মাঝামাঝি সব রকমের শেডের চিন্তাভাবনাও, সেই ছাতার নিচে। এই গপ্পো চলল ২০০৯ পর্যন্ত, যখন লোকসভা ভোটে সিপিএম হারল পশ্চিমবঙ্গে। তখনই দেয়ালের লিখন দেখা যাচ্ছিল। তারপর ২০১১ অবধি ঘোলা জলের গতিজাড্য। যে ভোটে বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যখন হারল। সে তো খুব সাম্প্রতিক ইতিহাস, বিশদে লেখার কিছু নেই।

    কিন্তু সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে আমরা যেটা দেখিনি, সেটা হল, ২০০৬ এর আগে যে প্রবণতার কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ, চিন্তার ভুবনীকরণ, সেটা একেবারেই থেমে ছিলনা। আমরা "শ্রেণী" নামক বিষয়টার একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করছি, গোঁড়ামি নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করছি, আর শাইনিং রা ক্লাস বস্তুটাকেই বাতিল করে দিচ্ছে, এই যে প্রবণতা, এটা এই বিবাদের মধ্যেও গতি পেয়েছে। এবং সেটা আর ঠিক স্থানীয় নয়। গপ্পোটা আন্তর্জাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেফট শব্দটা আর তেমন শোনা যাচ্ছেনা, শোনা যাচ্ছে লেফট লিবারাল। সেটা বস্তুত "লিবারাল" এর সমার্থক, লেফট আর কোথাও নেই। ১৯৯০ এ আমরা যারা প্রশ্ন তুলছিলাম, শ্রেণীর একাধিপত্য নিয়ে, কেন লিঙ্গ, জাত এরা জায়গা পাবেনা আলোচনায়, তারা অবাক হয়ে দেখলাম, মূলস্তরের আলোচনা থেকে শ্রেণী ব্যাপারটাই ক্রমশ হাওয়া হয়ে গেছে। পড়ে আছে জেন্ডার, কাস্ট আর রেস।
    ভারতবর্ষে এটা স্পষ্ট করে দেখা গেল ২০১০ সালের পরে। ২০১২ সালে দিল্লিতে ঘটে গেল জঘন্যতম এক গণধর্ষণের ঘটনা, যার মিডিয়া প্রচারিত নাম নির্ভয়া কান্ড। দিল্লিতে সে ঘটনার পর সঙ্গত কারণেই ব্যাপক বিক্ষোভ হল। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করলেন রোহিত ভেমুলা। সে নিয়েও দেশব্যাপী তুমুল আলোড়ন হল। সেটাও সঙ্গত কারণেই। কিন্তু এই দুটি ঘটনার পর দেখা গেল মূল ধারার অ্যাকটিভিজম ক্রমশ কেবলমাত্র জাত এবং লিঙ্গ নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে অ্যাকটিভিজমও ব্যাপকার্থে জেন্ডার এবং কাস্ট আপরাইজিং কিছু না। মিডিয়া এবং সোশাল মিডিয়ায় একটি করে শত্রু খুঁজে বার করে নেমিং এবং শেমিং -- বড়ো কাজ বলতে এটা। শ্রেণী-টেনি তো হাওয়া বটেই, লিংগ এবং জাত নিয়েও দীর্ঘমেয়াদী কোনো চিন্তা নেই, শুধুই চটক। মজা হচ্ছে, এই অ্যাকটিভিটিস্টদের অনেককেই উত্তাল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে, পস্কো আন্দোলনে, এমনকি আদিবাসী উচ্ছেদ নিয়েও কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি। সেটা অপরাধ না, কিন্তু প্রবণতা হিসেবে এটা ইন্টারেস্টিং। এই অ্যাটিভিজমটা এক অর্থে বিশুদ্ধ শাইনিং, সেটা খানিক হয়তো এর থেকে বোঝা যায়।

    আন্তর্জাতিক স্তরেও দেখলাম একই গপ্পো। ওই ২০১১ র পরেই। এরকম সমাপতনের নিশ্চয়ই কোনো গভীর কারণ আছে, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। যা দেখলাম, সেটাই বলি। ২০১১ র পশ্চিমবঙ্গ যেমন সশরীরে দেখেছি, তার পরের আমেরিকাটাও চোখে দেখলাম। সেখানেও লেফট-লিবারাল ডিসকোর্স থেকে ক্লাস উবে গেল। তবে কাস্ট নয়, এখানে জায়গা নিয়ে রেস আর জেন্ডার। টিম হান্ট পর্ব (সে অবশ্য আমেরিকা নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক তো) দেখলাম। একই গপ্পো। শাইনিং রা লেফট লিবারালদের ঠিকা নিয়ে নিয়েছেন। সেখানেও ব্যাকল্যাশ হল। বার্নি স্যান্ডার্স হারলেন, এবং ট্রাম্প জিতলেন। ক্লাস বিবর্জিত, শরৎচন্দ্রের মেজদার মতো কড়া ও পলিটিকালি কারেক্ট, রেস - জেন্ডার সর্বস্ব ক্লিন্টন ক্যাম্প প্লেটে করে সাজিয়ে দিলেন জয়। "উনি মহিলা তাই ফেমিনিস্ট"। "ওবামা ওনার পক্ষে তাই উনি কালো লোকেদেরও পক্ষে"। এই রকম যুক্তি সাজানো হল। কিছু সজোরে কিছু ফিসফিসিয়ে। এবং বলাবাহুল্য ক্লাস ব্যাপারটা হাওয়া। শুরু হয়েছিল নব্বইয়ে, এই বলে, যে, ক্লাস বা অর্থনীতি কেন একা রাজার পার্ট নেবে। শেষ হল, ক্লাসকে বিসর্জন দিয়ে। অর্থনীতিকে চুলোর দোরে পাঠিয়ে। বার্নি স্যান্ডার্সের প্রাইমারিতে লড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এরকম শেষ ঘটেছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ববি কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধপক্ষীয়দের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। পিছনে ছিল বামঘরানার গোটা বেবি বুমার প্রজন্ম। সেবার কেনেডিকে থামিয়েছিল আততায়ীর গুলি। এবার আর তার প্রয়োজন হলনা। লিবারালরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে থামিয়ে দিলেন বার্নিকে। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
    এদেশ হোক, আর ওদেশ, লিবারালদের অ্যাকটিভিটির মধ্যে শাইনিংত্ব দুটো ব্যাপারে প্রবল। এক, শ্রেণী বা অর্থনীতির অনুপস্থিতি। দুই, অসহিষ্ণুতা। দীর্ঘ দীর্ঘদিন ধরে, অন্যান্য ঘরানার থেকে বামপন্থার একটা পার্থক্য ছিল (সোভিয়েত বা চিনের কথা বলছিনা, ওগুলো দেখিনি), সেটা হল প্রশ্ন চিহ্ন। অর্থনীতি কেন চরম? প্রশ্ন করা যেত। কেন জেন্ডার বা রেসকে হিসেবে ধরবনা? প্রশ্ন করা যেত। কেন সিঙ্গুরে শিল্পায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন করা যেত। উত্তপ্ত বাদানুবাদ হত, হবেই, কিন্তু প্রশ্ন করা যেত। মানে এমন কোনো হেজিমনি ছিলনা, যাতে প্রশ্ন করা যাবেনা। কিন্তু এখন এরকম একটা মতাদর্শগত আধিপত্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে প্রশ্ন করা যায়না। "কেন হিলারি ফেমিনিস্ট? মেয়ে হলেই কি ফেমিনিস্ট হয় নাকি?" প্রশ্ন করতে লোকে ভয় পাচ্ছে, কারণ, "আপনি বাবা ততটা লিবারাল না" স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। "কেন কালো মানুষ বা মেয়ে হলেই নিপীড়িত ধরব?" খুব ভ্যালিড প্রশ্ন। কিন্তু করা যাবেনা। এর সঙ্গে দুটো ইয়ার্কি যোগ করলে তো, ওরে বাবা টিম হান্ট কান্ড হবে। ছহি লিবারালপনা একেবারে ধর্মপালনের সমগোত্রীয় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর আদর্শ রোলমডেল হিসেবে সামনে আসছেন হিলারি ক্লিন্টনের মতো মানুষরা, যাঁরা যুদ্ধবাজ হোন, আমেরিকান 'মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স' এর পোস্টার গার্ল হোন, স্রেফ লিঙ্গচিহ্ন এবং লিবারাল বুলির জন্যই 'আদর্শ'।

    ২০১৭ সালে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে "মিটু" নামক একটি ক্যাম্পেন শুরু হল আমেরিকা থেকেই। সেটাকে আরও "র‌্যাডিকাল" পথে "হিম টু"তে নিয়ে চলে যাওয়া হল। এই র‌্যাডিকাল পরিবর্তনের পিছনে রয়েছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার, যিনি একদা আমেরিকার ইরাক এবং মূলত আফগানিস্তানে ড্রোনযুদ্ধ চালানোর প্রবল পক্ষপাতদুষ্ট ভিলেন (অসত্য ভাষণের দায়েও অভিযুক্ত) হিসেবে তৎকালীন "র‌্যাডিকাল" মহলের কাছে ভীষণ ভাবে সমালোচিত ছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অনাবাসী "দলিত" অ্যাকটিভিস্ট প্রকাশ করে ফেললেন সেই বহুল প্রচারিত তালিকা। সেখানে প্রায় সমস্ত "অভিযুক্ত" ব্যক্তিই বাম ঘরানার। এই ঘটনা একেবরেই আপতিক নয়, বরং প্রায় প্রতীকিই, কারণ, লিবারাল গোষ্ঠীরা অবিকল একই জিনিস ঘটিয়ে চলেছেন দেশ এবং পৃথিবী জুড়ে। তাঁরা "পলিটিকালি কারেক্ট" হবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মুখোশধারী বিভীষণ খুঁজে বেড়ানোর কাজে সময় ব্যয় করে চলেছেন। এটাকেই তাঁরা অ্যাকটিভিজম বলছেন। তাঁরা বার্নি স্যান্ডার্সের শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতিকে সরাসরি আক্রমণ করছেন লিঙ্গ এবং জাতির ভিত্তিতে (বার্নি ব্রো - এই কয়েনেজ থেকেই যেটা পরিষ্কার)। এবং কারেক্টনেসের যুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন করছেন ক্রিস্টিন ফেয়ার বা হিলারি ক্লিন্টনকে। যাঁদের উপস্থাপনা খুবই "কারেক্ট" হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। লেনিনের সঙ্গে রোজা লুক্সেমবার্গের তুলনা শোনা যাচ্ছে, একদম লিঙ্গচিহ্নের প্রশ্নেই। নভেম্বর বিপ্লব আসলে একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র, এরকম থিয়োরাইজেশনও শোনা যাচ্ছে। যেমন শোনা যাচ্ছে "সাবল্টার্নরা আসলে কথা বলিতে পারেনা" আসলে একটি ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্ত। কারেক্টনেসের চক্করে মোহাবিষ্টরা এর বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারছেননা। যেহেতু "সেনসেশন" তৈরিও নাকি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আর ফাঁকতালে ছিপ নিয়ে যাচ্ছে চিলে। এই ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে আমেরিকার পঞ্চাশ শতাংশ মতো মানুষ বিশ্বাস করেন "লিবারাল মিডিয়া" ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিয়ে কথা বলে।

    লেফট লিবারালদের অজস্র বিভাগ, টুকরো, চুলোচুলির পরেও লোকে একটি কারণেই সমঝে চলত। তা হল, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা। নভেম্বর বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্রশ্ন এই, যে, সেটুকুও আর থাকবে কী?
  • ব্লগ | ১২ নভেম্বর ২০১৭ | ৭০৪৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:০৯60217
  • ঈশানদা, আসলে আমরা যেটা দেখাতে চাইছি সেটা হলো যে আম্রিগায় আইটিতেও তো কম হচ্ছে না।

    ইন্ডিয়াতে এসব জিনিস কমই হয়। কারণ ইন্ডিয়াতে কালচারটাই অন্যরকম। নিজের গার্লফ্রেন্ড (সেও হাতে গোনা কয়েকজনেরই থাকে) ছাড়া এদিক সেদিক কিছু হওয়ার ঘটনা কম। বুঝতেই পারছেন। কন্টাক্ট কম। ২৪-২৬ বয়সে বেশিরভাগ মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। ইত্যাদি। সিনিয়র লেভেলের সব পুরুষ কর্মী বিবাহিত। ইত্যাদি।
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:১০60195
  • দ্যাখেন, শুধু আইটি ইনডাস্ট্রিতে আমিও ফোকাস করতে চাইনি। আলোচনাটা ওদিকে গড়িয়ে গেছে বলে, আর কিছুটা অ্যানেকডোটাল হয়ে যাচ্ছিল বলে, কিছু স্ট্যাট দিয়েছি। এবার উইপ্রো বা ইনফি তে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট সত্যিই নেগলিজিবল, নাকি আন্ডার রিপোর্টিং হয়, নাকি ফণীশ মূর্তি কেস এখনও ইন্ডিয়ান আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক আছে, সেসব সার্ভে বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং এর ব্যাপার। ইন জেনারাল আজকাল অনেক কোম্পানিতেই সেন্সিটাইজেশান ট্রেনিং হয়, সেসব নিয়ে সিএসআর রিপোর্টও হয়, কিন্তু তাতে সত্যিই ওয়ার্কপ্লেসে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট কমেছে কিনা সেটা বেশ ডিবেটেবল। তবে আমার মনে হয় এই জেন্ডার হ্যারাসমেন্টটা ক্লাস নিউট্রাল, মানে আইটি টু ইটভাটা সর্বত্রই মেয়েরা এর শিকার হয়। এমনকি কোনদিন ক্লাস ডিসপ্যারিটি কমানো গেলেও তার সাথে অটোমেটিকালি সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টও কমে যাবে, তাও মনে হয়না। জেন্ডার স্ট্রাগল চলতেই থাকবে, উইথ অর উইদাউট ক্লাস স্ট্রাগল।
  • sm | 52.110.203.201 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:১৯60218
  • বিবাহিত হলে লোকজন ভালো হয়ে যায় বলছেন!
    উল্টো টা না!
    তখন তো দুস্টুমি টা বাড়ে।
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২১60196
  • এই টইয়ের প্রথম দিকে রৌহিনের একটা মন্তব্য পড়েছিলাম, "আমার কেমন জানি মনে পড়ে ছোটবেলায় বুঝেছিলাম, জেন্ডার বা কাস্ট ডায়ালেক্ট (পরবর্তীকালে রেস ডায়ালেক্টও) খুব প্রবলভাবেই এক্সিস্ট করে, কিন্তু এরা সকলেই একটা প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্টে বিলং করে - সেটা ক্লাস ডায়ালেক্ট"

    আমি এর সাথে একমত নই। আমার মনে হয় ক্লাস কোনভাবেই জেন্ডার এর সুপারসেট নয়, এরা দুটো আলাদা সেট যাদের কিছু কিছু ইন্টারসেকশান পয়েন্ট আছে। ক্লাসকে প্রিন্সিপাল ডায়ালেক্ট হিসেবে দেখিয়ে জেন্ডার সমস্যার সমাধান সম্ভব না।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২৩60219
  • হা হা হা হা। ঃ)

    আইটির অত ইনকাম ছেড়ে ছেলেপিলেদের কাছে কলন্কিত হয়ে অ্যালিমনির খরচ করার সামর্থ্য বা দম অনেকের নাও থাকতে পারে।

    তাই বোধয় ঐসব খুচরামো করে থাকে। সেগুলো প্রমাণ করা খুব মুশকিলের হয়ে দাড়ায়। আর ভারতে মহিলারাও ওসব খুচরামো নিয়ে চেঁচায় না - ফালতু ঝামেলা এড়ানোর দায়ে।
  • xxx | 93.250.170.158 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:২৮60197
  • এস, আমি কোনোই জাজমেন্টাল রিমার্ক করি নি। লাস্ট পোস্টের আগে পর্যন্ত। আপনি প্রথম থেকেই করছেন। ‘স্ট্যাটাস ক্যুয়ো রক্ষা করতে চাই’ তাই ইচ্ছে করে ঘেঁটে দিতে চাইছি সবকিছু - এরকম একটা থিওরি দিতে চাইছেন। এই যে অন্যের মতামতের পিছনে প্রথমেই একটা ইনটেনশন আছে ধরে নেওয়া - এটা কেন? এই আশাটাই বা কেন যে মেয়েদের সমস্যা নিয়ে কোনো আলোচনায় কোনো বিরোধী মতামত রাখা যাবে না? এখানে তো এমনকি বিরোধী মতামতও নয়, একটা অ্যানেকডোটাল অবজার্ভেশন রাখা হয়েছে, যেটা খবরের কাগজের কটা লিংক এবং এখানে লিখছেন এমন দুতিনজনের একটি খুব নির্দিষ্ট বিষয়ে ধারণার বিপরীত। তো এরকম সামান্য কিছু বিরোধী মত লিখলেই সেটাকে ‘স্ট্যাটাস ক্যুয়োর সমর্থক’ বলে ভিলেন প্রতিপন্ন করে দিতে হবে? এত সহজে? লিবারাল ‘প্রোগ্রেসিভ’ ডিসকোর্সে এই উদীয়মান প্রবণতাটাকেই তো লেখাটায় দেখানো হয়েছে। আপনি জ্বলজ্ব্যান্ত সেটাকে প্রমাণ করলেন।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৩৩60198
  • সর্বত্রই শিকার হয়, তো কোন ক্লাসে ৫% হলে আর কোন ক্লাসে ৫০% হলে সেটা ক্লাস নিউট্রাল কীকরে হয় !!
  • xxx | 93.250.170.158 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪১60199
  • ডিসি আমি কিন্তু অন্ততঃ এরকম দাবী করিনি যে ক্লাস সমস্যার অধীনে জেন্ডার সমস্যাকে দেখতে হবে, বা এটা আগে ওটা পরে, বা এটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ ওটা কম, ইত্যাদি। কোন সমস্যাটা কোথায় কীভাবে কতটা আছে সেটাকে অবজেক্টিভলি দেখতে হবে - এটুকুই দাবী করা হয়েছে। কোথায় সমস্যাটা ক্লাসের সাথে জড়িয়ে, কোথায় পাওয়ারের সাথে, আর কোথায় স্থানীয় ‘সংস্কৃতি’র সাথে - এগুলো না বুঝলে সমাধানের রাস্তাটাও ভুল দিকে এগোবে বলে মনে হয়।
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪৭60200
  • কিন্তু পাই ম্যাডাম, যে "সার্ভে"র লিংক দুবার দেওয়া হয়েছে, সেটায় তো বলছে যে সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরতা ৬০% মহিলাদের unwanted sexual advances এর খপ্পরে পড়তে হয়েছে। মানছি ওটায় হয়তো র‌্যান্দম স্যাম্পলিং হয়নি, স্ট্র্যাটিফিকেশান স্যাম্পলিং হয়েছে বা এমনকি কনভিনিয়েন্স স্যাম্পলিংও করা হয়ে থাকতে পারে, এফেক্ট সাইজ ইত্যাদি কিছুই দেওয়া নেই। তবুও, খোদ সিলিকন ভ্যালিতে ৬০% কি বেশ বেশী নয়? ইটভাটায় যে মহিলারা কাজ করেন, বা যাঁরা গৃহশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, তাঁরাও অত্যধিক বেশী হারে এই হ্যারাসমেন্টের মধ্যে দিয়ে যান। আর অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা কাজ করেন, আইটি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে টেক্সটাইল, তাঁদের মধ্যেও কি হ্যারাসমেন্টের পার্সেন্টেজ একেবারেই নগন্য?
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৪৭60201
  • পাই, আপনার কথাটা যদি মেনেও নিই, তাহলেও একটা প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে।

    ধরুন ইন্ডিয়ার ইঁটভাটায় ৫০%, আর আইটিতে ৫%। সেক্ষেত্রে তো আম্রিগায় আরো কম হওয়া উচিৎ। কিন্তু সেরকম তো মনে হচ্ছে না।
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৫১60202
  • xxx নানা, আপনি ওরকম বলেন নি। আগেই লিখেছি, ওটা রৌহিন লিখেছেন আর ঐ মন্তব্যের সাথে আমি একমত নই। ইন ফ্যাক্ট আমারও মনে হয় জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশান শুধু ক্লাসের সাথে জড়িয়ে না, এর অন্য ডাইমেনশানও আছে। সেজন্যই রৌহিনের লেখার প্রসঙ্গে বললাম যে জেন্ডার সমস্যা ক্লাস সমস্যার সাবসেট না, বা ক্লাস ডায়ালেক্ট এখানে প্রিন্সিপাল না।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৫১60203
  • আরো একটা কথা আছে। ডিসি যেটার কিছুটা লিখেছেন। আইটি বলতে এখানে লোকে বড় আইটি কোম্পানির কথাই লিখেছেন। সেখানে হবার সম্ভাবনা কম। একটা কারণ বোধয় অর্গ স্ট্রাকচার বা লার্জ পপুলেশন। ছোটো আইটি কোম্পানিতে কেরকম বলে মনে হয় আপনার?
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৬:৫৮60204
  • কয়েকটা ছোট আইটি কোম্পানি সম্পর্কে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে। তবে সেটা একেবারেই অ্যানেকডোটাল আর আনডকুমেন্টেড বলে সেনিয়ে কিছু লিখিনি। চেন্নাইতে দুটো আলাদা কোম্পানিতে দুজন মহিলাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছে, এরকম কয়েক বছর আগে শুনেছিলাম। তবে আবারও, এটা অ্যানেকডোটাল, আর এক পক্ষেরই কথা শুনেছি, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁদের সাথে কথা হয়নি।
  • sm | 52.110.204.171 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:২৩60205
  • ইন্ডিয়ার কথা ছেড়ে দিন।এখানে একজন এমপি এক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার রেকো করতে পারে।
    কিন্তু সিলিকন ভ্যালি!এখানে ৬০ শতাংশ শিক্ষিত গ্র্যাড বা পোস্ট গ্র্যাড মহিলা -যৌন হেনস্থার শিকার কিভাবে হন!
    কেনই বা তারা থানায় অভিযোগ করেন না?
    তাদের রিভেঞ্জ নিয়ে চাকরি খেলে তো বস দের পুলিশ হাতে দড়ি পরাবে। কিসের এতো ভয়?
    কিছুদিন আগে তো একজন লিখলেন উনি আম্রিগাতে নিজেকে ভারতের চাইতে বহুগুন নিরাপদ বোধ করেন।
    নিশ্চয় করেন। কিন্তু স্ট্যাট তো তা বলছেনা!
    আবার এটাও দেখতে হবে এই যৌন হেনস্থার গভীরতা কত টা।ডিসি যে উদাহরণ গুলো দিয়েছেন সেগুলো এক্সট্রিম।
    ওখানে কাজ কন্টিনিউ করা যায় না।
    প্রকৃত চিত্র টা ঠিক মিলছেনা।
  • xxx | 47.2.37.11 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৪৯60206
  • ছোটো কোম্পানিতে এরকম হওয়ার সম্ভবনা বেশী। যেখানে সবচেয়ে ওপরতলার বসের সাথে সবচেয়ে নিচুতলার কর্মীর দৈনন্দিন ইন্টারসেকশন হয়। বড় আইটি এবং হাইটেক কোম্পানিতে ফুড চেনে অনেক ওপরে থাকা বস ইনভলভড থাকলে এরকম হতেও পারে। সাধারণ এম্প্লয়ী এবং নিচের দিককার ম্যানেজার লেভেলে এগুলো বদলেছে বলেই মনে হয়। (এসবই আমার মেল প্রিভিলেজড পার্সেপশন যদিও)।

    যেটা কম বদলেছে বলে মনে হয়, সেটা হল ছেলেদের নিজেদের ‘লকার রুম’ আলোচনায় বিপুল পরিমাণে সেক্সিজমএর চর্চা। ছেলেদের জীবনে সেক্স একটা আল্টিমেট মোক্ষবস্তু এবং যেকোনো ছেলেদের নিজস্ব প্রাইভেট গ্রুপে, যেখানে পলিটিকাল কারেক্টনেসের পীয়ার প্রেসার নেই, সেখানে মেয়েদেরকে বাছবিচারহীনভাবে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে ট্রীট করা হবে - এটার চরিত্র ১০ বছর আগে যা ছিল এখনও প্রায় তাইই আছে।

    তবে আমি মেয়েদের নিজস্ব স্পেসগুলোর চরিত্র জানি না। আমার এক বান্ধবী অবশ্য একবার বলেছিল যে তাদের গার্লস স্কুলের বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এত পানু চর্চা আর সেক্সিস্ট জোকের চর্চা হত যে সে বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল গ্রুপ ছেড়ে। এটাকে অবশ্য জেনারালাইজ করা যায় কিনা জানি না।
  • Ishan | 202.189.128.15 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৭:৫২60220
  • আর আমেরিকার ওয়েজ গ্যাপ নিয়ে যেটা লিখছিলাম। রিপোর্টটা ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ লেবারের। বাদবাকি ইন্টারনেটে যা ছড়াচ্ছে ওয়েজ গ্যাপ নিয়ে, সবেরই সোর্স ওটাই। আমার মেশিন বদলেছে, বুকমার্ক করা নেই, ওদের সাইটে গিয়ে সার্চ মারলেই পাবেন। দেখতে বললাম দুটো কারণে। ১। ডিটেলটা দেখতে পাবেন। ২। দেখবেন, এটা একটিমাত্র রিপোর্ট নয়, ওয়েজ গ্যাপ নিয়ে একটা কনটিনিউয়াস কাজকর্ম চলে আসছে বহুদিন ধরে।

    এই কন্টিনিউইটিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।সেটায় পরে আসব। তার আগে এই ওয়েজ গ্যাপ ইন্ডিকেটরটা কী বস্তু একটু বুঝে নিই। এটাতে বস্তুত ওয়ার্ক ফোর্সের মধ্যে যারা 'ফুল টাইম' কাজ করেন (পার্ট টাইমদের নিয়েও আলাদা ডেটা আছে), তাঁদের বিভিন্ন সেকশনের মিডিয়ান রোজগারের তুলনা করা হয়। সেটা খুব ইন্টারেস্টিং ইন্ডিকেটার। ওয়ার্কফোর্সের বিভিন্ন সেকশন কতটা উপার্জন করে, তার খানিক আইডিয়া এর থেকে পাওয়া যায়। যদিও ব্যাপারটার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।
    ১। যাঁরা কাজ করছেন না, হিসেবে তাঁদের ধরা হয়না।
    ২। কাজের ঘন্টা মাপা হয়না। মাপা হয়, কিন্তু মূল ইন্ডিকেটারে সেটাকে আনা হয়না।
    ৩। কাজের ধরণ দেখা হয়না। মানে, সেই ডেটাও থাকে, কিন্তু মূল ইন্ডিকেটারে আসেনা।
    ৪। ভৌগোলিক তফাত হিসেবে আনা হয়না।

    এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন, উদাহরণ দিয়ে বলি। ধরুন আপনার কোম্পানিতে দুজন পুং কর্মী দুজন নারী। সকলেই একই মাইনে পান। এবার ধরুন পুংরা ওভারটাইম করে বেশি পয়সা রোজগার করেন। এই ইন্ডিকেটারে যদি ফেলেন সেই রোজগাত, দেখবেন, পুংদের উপার্জন মহিলাদের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে।

    আবার ধরুন, একজন মহিলা একটা কোম্পানির হেড। তিনি কোম্পানিতে একটিও নারীকে নিয়োগ করেননি। সেক্ষেত্রে মহিলাদের উপার্জন পুং দের থেকে বেশি দেখাবে এই ইন্ডিকেটারে।

    এগুলো ঠিক বানিয়ে বলা নয়। এই নিয়ে গুচ্ছের আলোচনা হয়েছে। একজন ওবামার আমলের হোয়াইট হাউসের ডেটা নিয়ে দেখিয়েছিলেন, মহিলাদের মিডিয়ান ইনকাম খোদ হোয়াইট হাউসেই কম। আরেকটা মজার স্টাডি হয়েছিল আরব আমীরশাহী নিয়ে। সেখানে অল্প কিছু মেয়েই কাজ করেন, কিন্তু যাঁরা করেন, তাঁরা উচ্চপদে। ফলে আমীর আরব আমীরশাহীতে মহিলাদের মিডিয়ান উপার্জন পুরুষদের থেকে বেশি বেরিয়েছিল। এই স্টাডিগুলো অবশ্য আমি চেক করে দেখিনি, ভুলভ্রান্তিও থাকতে পারে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। শুধু মডেলটার সীমাবদ্ধতা বোঝানোর জন্য বলা। তাতে কোনো দোষ নেই, যেকোনো ইন্ডিকেটারে সীমাবদ্ধতা থাকবেই। এটাতেও আছে, জানা কথা।

    তা, এগুলো সকলের জানা ছিল। বছর ধরে নানা রিপোর্টও ছিল। অর্থাৎ কন্টিনিউটি একটা ছিলই, যে কন্টিনিউটির কথাটা আগে স্কিপ করেছি। তা, কয়েক বছর আগে হল কী ওবামার হোয়াইট হাউস হঠাৎই ওয়েজ গ্যাপটাকে পাবলিসাইজ করে। তাতেও কোনো সমস্যা ছিলনা, যদিনা সীমাবদ্ধতার কথাটা চেপে যাওয়া হত। এ নয়, যে ডিপার্টমেন্ট অফ লেবার সীমাবদ্ধতাগুলো জানতনা। অবশ্যই জানত। বস্তুত তারা, সম্ভবত ২০০৯ সালে কাজের ঘন্টা, ভূগোল, কাজের ধরণ, এইসব ভ্যারিয়েবলগুলো দিয়ে ডেটাটাকে নিউট্রালাজ করে আরেকটা রিপোর্ট দেয়। সেখানে দেখা যায়, এই নিউট্রালাইজড, ওয়েজ গ্যাপটা নমিনাল। ৫% মতো সম্ভবত। ওবামার প্রশাসন এই স্টাডিটাকে চেপে যায় এবং গুগলপ্রিয় অ্যাকটিভিস্টরা হঠাৎ করে ১ টাকা বনাম ৭০ পয়সা বিতর্কে রেরে করে ঝাঁপিএ পড়েন। সত্য নাদেলার ঘটনা ঘটে। ইত্যাতি প্রভৃতি।

    এটা ঠিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছিল, বলা মুশকিল। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, কালো ওবামা - নারী ক্লিন্টন কোয়ালিশনের অ্যাজেন্ডার সঙ্গে বস্তুটা মিলে যায়। এবং নারীদের কম মজুরির বিরুদ্ধে একটা সামাজিক আওয়াজ জোরদার হয়। যদিও নিউট্রালাইজড স্টাডি মোটেই সেরকম দেখায়না। খুব সোজা বাংলায়, পুংদের বেশি উপার্জনের কারণ, মূলত ভূগোল, কাজের ধরণ এবং ঘন্টা। মজুরির বৈষম্য নয়। মজুরির বৈষম্য ওই স্টাডি দিয়ে পাওয়াই যায়না। ওয়ার্কফোর্সে নারী-পুরুষের অনুপাত তো যায়ইনা। এস যে নার্সদের উদাহরণ দিয়েছেন, সেটা এই আলোকেই পড়তে হবে। অর্থাৎ, কাজের ঘন্টা ইত্যাদি এখানে একটি ভ্যারিয়েবল। সেটা হিসেবে আনতে হবে।

    এবার, এর মানে এই নয়, যে স্টাডিটা কিছুই দেখায়না। এই ইন্ডিকেটরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওভার অল মজুরিতে বৈষম্য না থাকলেও মেয়েরা কম উপার্জন করছে এটা তো ঘটনা। এই স্টাডি তার কারণগুলোও দেখায়। মূলত তিনটে কারণ তিনটে।
    ১। মেয়েরা যে হোয়াইট কলার প্রফেশনে যাচ্ছেন, তাতে টাকা নেই। যেমন ইশকুল মাস্টারি। চাইল্ড কেয়ার।
    ২। মেয়েরা যে লো স্কিলের কাজে যাচ্ছেন, সেখানেও পয়সা নেই। যেমন ওয়ালমার্টের ক্যাশ কাউন্টার বা অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট।
    ৩। মেয়েরা কিছু হাই আর্নিং প্রফেশনে যাচ্ছেননা। যেমন হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং।

    এছাড়াও আরেকটা খুচরো সমস্যা আছে। মেয়েরা কাজে ঘন্টা কম দিচ্ছেন, এটাও সম্ভব। এটা আলাদা করে লিখলাম না, কারণ কোনো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।

    এবার এগুলো যদি সমস্যা হয়, তো তার সমাধান কী? পলিসিগতভাবে?
    ১। ইশকুল মাস্টারি বা চাইল্ড কেয়ার জাতীয় সরকারি কাজে মাইনে বাড়ানো দরকার। এগুলো জরুরি।
    ২। মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানো দরকার।
    ৩। সবাইকে কলেজে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা দরকার। সঙ্গে মেয়েদের মধ্যে সামাজিকভাবেই কিছু স্টিরিওটাইপ আছে (যেমন মেয়েরা অঙ্ক পারেনা), এগুলো ভাঙা দরকার।

    রিসেন্ট ইলেকশনে, যিনি ঠিক ততটা ফেমিনিস্ট নন বলে প্রচারিত, সেই বার্নি স্যান্ডার্সের অ্যাজেন্ডায়, এক থেকে তিন সবকটাই ছিল। স্টিরিওটাইপ ভাঙাটা ছিলনা, সম্ভবত ইলেকশন অ্যাজেন্ডায় ওটা ঢোকানো মুশকিল বলে। উল্টোদিকে মহিলাদের মসীহা এবং ফেমিনিস্ট বলে প্র্চারিত হিলারি ক্লিন্টনের অ্যাজেন্ডায় ছিল জেন্ডার পে-গ্যাপ নিয়ে তীব্র ঘোষণা। পনেরো ডলার মিনিমাম ওয়েজ এবং ফ্রি কলেজ এডুকেশন কোনোটাই ছিলনা, পরবর্তীতে বার্নির উত্থানের ফলে এই দুটো, বলা যায় উপরোধে ঢেঁকি গেলার মতো ঢোকাতে বাধ্য হন। দুটো নিয়েই নানা যদি কিন্তু ইত্যাদি ছিলল।

    পয়েন্টটা হল এই, যে, এই "৭০ পয়সা আন্দোলন", এটা মূলত মূল সমস্যাগুলো থেকে চোখ সরানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। লক্ষ্য করে দেখবেন, কর্পোরেটের এসব ব্যাপারে প্রচন্ড আগ্রহ, কারণ বস্তুত এই পে-গ্যাপটা এক্সিট করেনা। উল্টোদিকে মিনিমাম ওয়েজ বাড়ানোর ব্যাপারে তাদের প্রচন্ড অসুবিধে। যদিও সেটাতে মেয়েদের অবস্থা, কালোদের অবস্থা, সবকটাই উন্নত হত। আর মেয়েদের নিয়ে সামাজিক স্টিরিওটাইপ ভাঙার ব্যাপারটা তো আর উচ্চারিতই হয়না। ওটা এখন মহাপাপ। মেয়েরা যদি অঙ্ক না করে, নির্ঘাত মাস্টাররা ভিলেন, ইত্যাদি। কালোদের মধ্যেও এই একই কিছু স্টিরিওটাইপ আছে, সেগুলোও কখনও আলোচিত হয়না, কিন্তু সেটা এখানে আলোচ্য না। এখানে মোদ্দা কথাটা হল, এই পে-গ্যাপ নিয়ে হইচইটা মেনলি কর্পোরেটদের আড়াল করার এবং জেন্ডারগত মূল সমস্যাটা থেকে নজর এড়ানোর তাল। যাতে সমস্যাটা কখনই অ্যাড্রেসডই না হয়। মিনিমাম ওয়েজ, ওয়েজ ইন-ইকুয়ালিটি, এইসব আলোচনাগুলো কমপ্লিটলি ভোগে চলে গেছে, এখন পড়ে আছে শুধু নন-এক্সিস্টেন্ট ওয়েজ গ্যাপ।
  • Ishan | 202.189.128.15 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:০৫60221
  • আর এই নিয়ে তৃতীয়বার বলছি। আমেরিকার আইটি নিয়ে আপনারা যে লিংকগুলি দিচ্ছেন, সেগুলো কোনো 'স্টাডি' হিসেবে কোয়ালিফাই করার একশ হাত দূর দিয়ে যায়। ওগুলি মূলত সেনসেশন তৈরির উদ্দেশ্যে সংগৃহীত কিছু অ্যানেকডোটের সমাহার। উদ্দেশ্যটা ওই হেনস্থায় ২৬% বৃদ্ধির হেডলাইন বানানোর মতো। যদি সত্যিই কোনো স্টাডি পান তো দেবেন। আমি লিঙ্গবৈষম্য বিষয়টা অনেকদিন ধরে ফলো করছি, যেকোনো ইন্টারেস্টিং এবং আলোচিত স্টাডি পেলেই আমি পড়ি। ওপিনিয়ন আমি তিনটি গুগল সার্চ করে তৈরি করিনা।
  • sm | 52.110.203.201 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:২৭60207
  • লকার রুম টকে কি নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবছেন?কিন্তু সে তো মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী।
    টিভিতে নিউজ চ্যানেল দেখলেও কি একটা কন্ডোম কোম্পানির কুৎসিত এড দিনরাত দেখিয়ে চলেছে।
    কিছু বলতে গেলেই কিছু আঁতেল মিডিয়া ছুটে আসবে।
    কিন্তু বাড়ির বাচ্চা দের কথা কে ভাববে?
  • xxx | 47.2.37.11 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৩৬60208
  • না না, নিষেধাজ্ঞা বা ভিলেন চিহ্নিতকরণ দিয়ে এগুলো সলভ করা যাবে না বলেই তো মনে করি। এগুলো খুব ফান্ডামেন্টাল চরিত্রের সমস্যা বলে মনে হয়।
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৪০60222
  • দেখুন আপনি অনেকদিন ধরেই কিছু দেখলেই পড়ে ফেলেন মানেই এই নয় যে বাকিরা মুখ্যু।

    লোকে গুগল সার্চ করে দেয় এইকারণেই কারণ ওসব বুকমার্কে রাখা থাকেনা। যেমন একটা রিপোর্ট পড়েছিলাম যে হায়ার এডুকেশন মানে রিসার্চ ইউনিভার্সিটিতেও ওয়েজ গ্যাপ রয়েছে। আপনি নিস্চই আমার মতন মুখ্যুর মুখের কথা বিশ্বাস করবেন না। এখন সেই লিন্ক দিতে গেলে গুগল সার্চ করেই দিতে হবে। হয়তো সার্চ করে দেওয়া যায়, সেইজন্যই আর্কাইভ করে রাখা থাকেনা।

    আর এখানে যেসব লিন্কগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো দেওয়া হয়েছে অনেকে জিগিয়েছেন যে কিছু উদাহরণ, সেই জন্যই।

    আর ডিওএলের সব রিপোর্ট পড়ে তো দেখা যায়্না। হয়তো পড়েওছি, কিন্তু মনেই নেই। আমি সারাদিন ধরে এইসবই করি। তাই মনে থাকেনা। ওদের ডেটা নিয়ে অবশ্য আমি অনেকবার কাজ করেছি - কিন্তু সেসব প্রজেক্টের জন্য। তার থেকে যেটা লাভ হয় সেটা হলো কেউ যদি সেই রিপোর্টটাকে অ্যানালাইজ করে দেয়।
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৫৬60209
  • ক্লাস কোন ফ্যাক্টর নয় বইকি !
  • pi | 24.139.221.129 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৫৮60210
  • While sexual harassment at work has shown itself to be all-pervasive, starting from the highest echelons of Hollywood, women like Swarna and Deepa, who are contract workers, and those in the unorganised sector are possibly the most vulnerable. “If you look at the form of employment, there is absolutely no job security. If they raise any question, they stand to lose their employment, something they are extremely scared of. The labour department is ineffectual, the owners wash their hands off it — ..

    Read more at:
    //economictimes.indiatimes.com/articleshow/61313168.cms?utm_source=contentofinterest&utm_medium=text&utm_campaign=cppst
  • de | 69.185.236.52 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:২৫60211
  • ক্লাস স্ট্রাগলের সেট আর জেন্ডার স্ট্রাগলের সেট দুটো ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেট নয়, ভালো মতো ইন্টার্সেকশন আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন মিলেমিশে ঘেঁটে থাকে যে আলাদা করে ডিফাইন করা মুশকিল!
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১০:০৭60212
  • http://variety.com/2017/digital/features/sexual-harassment-new-media-silicon-valley-1202589890/

    Sexual harassment exists in Hollywood and many other industries, but the problem is particularly toxic in digital-media circles. About one-third of professional women say they’ve experienced some form of sexual harassment in the past five years, according to surveys conducted by the Center for Talent Innovation, a think tank dedicated to workforce issues — and that goes up to 52% for women working in Silicon Valley.
  • S | 184.45.155.75 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১০:০৯60213
  • http://hrlibrary.umn.edu/svaw/harassment/explore/3causes.htm

    Catherine MacKinnon, author of Sexual Harassment of Working Women, was the first legal scholar to draw attention to the connection between sex discrimination and sexual harassment:

    ... [W]omen tend to be in low-ranking positions, dependant upon the approval and goodwill of male [superiors] for hiring, retention and advancement. Being at the mercy of male superiors adds direct economic clout to male secual demands.... It also deprives women of material security and independence which could help make resistance to unreasonable job pressures practical ...
    ... [S]exual harassment of women can occur largely because women occupy inferior job positions and job roles; at the same time, sexual harassment works to keep women in such positions.
  • S | 202.156.215.1 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১২:১০60180
  • আইটি বা হাইটেক ইন্ডাস্ট্র্রির জেন্ডার সমস্যার চরিত্র ইঁটভাটার সাথে একরকম - এরকম কেউ দাবী করেছে বলেও তো দেখিনি। পৃথিবীর সর্বত্র শ্রেণী নির্বিশেষে মেয়েদের সমস্যাটা এক - এরকম একটা সরল গোলগাল ধারণাও কেউ এখানে করেছে বলে তো মনে হয়্না।

    তবে যারা কোনো সমস্যারই সমাধান করতে চায়্না, স্টেটাস কুও মেইনটেইন করতে চায় তারা এইধরনের একটা ধারনাকে ছড়িয়ে দিয়ে আসল সমস্যার সমাধান না করার ছক চালায়।
  • xxx | 93.250.170.158 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১২:১৪60181
  • আসল সমস্যাটা কী? ওয়ার্কপ্লেসে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট? আর সমাধান কী? হ্যাশট্যাগ হিমটু? ঃ-)
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩৫60182
  • xxx যে নিজের ভারতীয় অভিজ্ঞতার কথা লিখলেন তার সাথে এখানে শেয়ার করা লিংকগুলোর কনফ্লিক্ট কিন্তু নাও থাকতে পারে। ইন্ডিয়ান আইটি সেক্টরে সেক্সুয়াল হ্যারসমেন্ট নিয়ে এটা পড়তে পারেন, গত বছরের হিসেবঃ

    https://economictimes.indiatimes.com/news/company/corporate-trends/sexual-harassment-cases-rise-by-26-in-nifty-50-companies-wipro-icici-infosys-top-list/articleshow/54573926.cms

    এখানে লিখছে যে ২০১৬র মার্চ অবধি উইপ্রোতে ১১১টি কেস রিপোর্টেড হয়েছে, ইনফিতে ৬২টি। এবং এই ব্যাপারে আইন করার ফলে আইটি সেক্টরের বড়ো কোম্পানিগুলোতে কিছু রিড্রেসাল মেকানিসম বানানো হয়েছে (যদিও মিড লেভেল বা ছোট আইটি কোম্পানিগুলো এরকম কিছু করেছে কিনা সে নিয়ে কোন উল্লেখ নেই)।

    এবার এটা দেখুনঃ

    http://www.livemint.com/Companies/uEdsvjkByBHdMvJav957gO/Nearly-350-sexual-harassment-complaints-emerge-from-Indian-c.html

    Disclosing details of the complaints received under this law, Infosys said the total number of cases filed in the fiscal 2016-17 was 88 (up from 62 in the previous year). While five cases were disposed of by conciliation (as against one in previous fiscal), 72 were disposed of by disciplinary actions (up from 61). Infosys further said 11 cases evaluated by the internal committee were reported in March 2017 and the investigation process was underway as on 31 March.

    অর্থাত আপনি যেমন বললেন, যে রিপোর্টেড হলে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আছে, অন্তত লিডিং আইটি কোম্পানিগুলোতে, সেটাও যেমন ঠিক, তেমনি এই কোম্পানিগুলোতে যে এরকম ঘটনা ঘটছে এটাও ঠিক। পরিস্থিতি আগের তুলনায় অল্প একটু পাল্টেছে, আগের তুলনায় এরকম কেস বেশী করে রিপোর্টেড হচ্ছে, এটুকু আশা করা যায়। তবে আইটি সেক্টরে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট হয়না, বা অন্য সেক্টরের তুঅনায় কম হয়, এরকম ভাবলে ভুল হবে।
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৪২60183
  • আর "রিপোর্ট হলে বেশির ভাগ সময়েই যে মহিলা রিপোর্ট করছেন তার চাকরি যায়", এটা তো ঠিক স্ট্যাটিসটিক্স দিয়ে বোঝা যাবেনা, কারন এরকম স্ট্যাসটিক্স যোগাড় কারাই মুশকিল। এটা কিছুটা অ্যানেকডোটাল, যেমন সিএনএন এর লিংকটা। এবার ইন্ডিয়ায় আইটি সেক্টরে এরকম হয় কিনা সেটা হয়তো এখান থেকে কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারেঃ

    http://www.livelaw.in/sexual-harassment-women-workplace-india-reflections-private-sector-part-ii/

    Recent cases reported from a web production house (TNN, 2017), internet media company (Scroll, 2017), financial services company (Vyas and Babar 2015) and a Delhi based publishing house (Mantri, 2016) reveal that whenever the complaint is against a man at a senior position invariably there is failure to protect career interest of the complainant leading to her termination or resignation from service
  • dc | 132.164.231.81 (*) | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৪৮60184
  • আসল সমস্যাটা কী?

    আমার মনে হয় প্রাথমিকভাবে আসল সমস্যাটা আমাদের মাইন্ডসেটের। সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট যে ক্লাস অ্যাগনস্টিক, সেটা বুঝতে না চাওয়াটা আসল সমস্যা। একটি মেয়ে, অন অ্যাভারেজ, তার ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক না কেন, যে ক্লাস থেকেই আসুক না কেন, সে চাকরিক্ষেত্রে সেক্সুয়াল হ্যারসমেন্টের শিকার হতে পারে, এই সম্ভাবনা খুব বেশী, এটা না মানতে চাওয়াটা বোধায় আসল সমস্যা। এই ঘটনা আইটি সেক্টরেও ঘটতে পারে, ইন্ডিয়ার আইটি কোম্পানিগুলোতেও ঘটে চলেছে, সেটা না মানতে চাওয়া এই সমস্যার একটা দিক।

    সমাধান হয়তো দীর্ঘমেয়াদি অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেন, নানান ভাবে সমস্যাটা অ্যাড্রেস করা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন