ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • দু | 127.194.195.154 | ০২ মে ২০১২ ১২:৩৮542307
  • গল্পটা তো ভালো লাগলোই, বিশেষ করে সেই সময়ের ঢাকুরিয়া থেকে গড়িয়া কেমন দেখতে পেলাম, প্রায়ই যাতায়াত করা সেই রাস্তাটা, এজন্য আরও ভালো লাগলো।
  • প্পন | 212.91.136.71 | ০২ মে ২০১২ ১২:৫৭542308
  • ঘনাদার গল্পটা বেশ লাগল। বিশেষ এক সরস্বতী পুজোর দিনের স্মৃতি ফিরে এল এই বুড়ো বয়সে আবার। ঃ)
  • π | 138.231.237.4 | ০৪ মে ২০১২ ০৮:৪৫542309
  • কিছু বাস কিন্তু ছিল আদতে আড়াইতলা।
  • Tim | 108.249.6.161 | ০৪ মে ২০১২ ১০:১৬542310
  • অপুদার শোনা গল্পটা সত্যি। আমিই একজনকে বলেছিলাম হাজরার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে, দূর থেকে আসা একটি বাস দেখিয়ে।
  • suhasinee | 69.144.10.250 | ০৪ মে ২০১২ ১৬:১৩542311
  • খুব ভালো লাগলো - কষ্টের মোড়কে মোড় ভিজে ভিজে ভালো লাগা। অনেকদিন মনে থাকবে।
  • kiki | 69.93.207.14 | ০৪ মে ২০১২ ১৭:০৩542312
  • সত্যি এই কষ্ট পাওয়ার ব্যাপার্টার জন্য ভালো লেগেছে বলতেও থমকে যাচ্ছিলুম। তবে আমি অবিশ্যি রামকেষ্ট দাদার লেখা পড়তে খুব পছুন্দ করি।

    ডিঃ জ্যোতিষ টই পড়ি নাই।ওটা বাদ্দিয়ে।
  • রাম | 233.223.140.249 | ০৪ মে ২০১২ ১৯:৫৮542313
  • জ্যোতিষ আমার হবি! সেটা আর কারও নাও হতে পারে! নো পবলেম!
    কান্তিদা এবং আর সবাইকে:- প্রচুর ধন্য+!
    এই বাস্তবটা মনে মধ্যেই ছিল অনেকদিন ধরে। কুরে কুরে খেত/খায়। লিখলাম, একটাই কারণে।
    ইদানীং আবার কোলকাতায় দোতালা বাস চলবে বলে শোনা যাচ্ছে।
    তো শুনলাম- এই প্রজন্মের অনেকেরই দোতালা বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা নেই। তাই এই লেখাটার সাথে ফাঁকতালে ওদের দোতালা বাসে ঘুরিয়ে নিয়ে এলাম।
    তবে, সেসব দিনের আপাত নিস্তরঙ্গ জীবনে কৈশোর প্রেম নিস্কন্টক ছিল না। আমার টা হটাৎ ই হয়েছিল।
    লিখে, ফেসবুকের গ্রুপে দেই।
    ঈপ্সিতার অনুরোধে এখানেও ভয়ে ভয়ে দিয়েছিলাম। ভয়টা একটাই ছিল! মূলত আমি লেখক নই! তাই লেখাটা যে ভাবে ঘটেছিল, সেইভাবেই লিখেছি।
    লিখে সব জায়গা থেকে যে ধরণের প্রতিক্রিয়া পেলাম, তাতে মনে হল- সোজাসুজি অনুভূতিগুলো লিখলে, পাঠক নিজের সাথে লেখার বিষয়ে একাত্ম বোধ করে, ।
    এটাই আমার শিক্ষা, ভবিষ্যতের গল্প লেখার!
    আবার আপনাদের ধন্যযোগ!
  • Nina | 78.34.167.250 | ০৫ মে ২০১২ ০৩:৪০542314
  • ghanaadaa
    aaj parJyant Jekhaane Jaa parhechhi tomaar--sab khub bhaal legechhe---bhaal laagabe naa eman lekhaa--lekhaa tomaar kushhThite nei---:-) dekhechh aammo jyotishh jaani
  • Nina | 78.34.167.250 | ০৫ মে ২০১২ ০৩:৪১542315
  • যাহ্বব্বাঃ এতা কি হইল? দেখাল বাংলা ছপল ইনজিরি--ধ্যুস
  • siki | 132.177.16.128 | ০৫ মে ২০১২ ১০:৩৮542317
  • ঘনাদা,

    মূলত যারা "লেখক' নয়, তাদের লেখা পড়বার জন্যেই তো এখানে আসি। সেটাই তো মুখ্য আকর্ষণ!
  • Tim | 108.249.6.161 | ০৫ মে ২০১২ ১০:৪৯542318
  • ঘনাদা খুব ভালো গল্প বলেন, সাবলীল কলম। গল্প লেখা তো আসলেই গল্প বলা, বা না-বলা।

    কিছু কিছু লেখার পরে ভালো লেগেছে বলা যায়না। শুধু দাগ কেটেছে এইটুকু অবধি বলতে পারতাম। জীবন থেকে নেওয়া, তার অভিঘাতই আলাদা হয়।

    দোতলা বাসে আমি ছোটবেলায় অনেক চড়েছি। ৫ , ৬ আর টুবি, এল সেভেন বি (?) এইগুলো খুবই মনে পড়ে। একেবারে সামনের ঐযে সিটটা, দোতলায় ওটায় বসতে পেলে মন ভালো হয়ে যেত। এদিকে আমার আবার বাসে চড়লে বমি করার ব্যামো ছিলো, ধেড়ে বয়স অবধি। সে কেচ্ছা নাহয় অন্যত্র বলা যাবে। তো, সেই টুকুর টুকুর করতে করতে দোতলা বাসে চড়ে চলাফেরা, ধোঁয়ার গন্ধে গা গুলোনো, আবার হঠাৎ একটু হাওয়া খেলে গেলে চমৎকার লাগা সবকিছু- এইগুলো মনে আছে বেশ। ঘনাদার লেখায় আর সব ফিরে দেখলাম যেন।
  • Lama | 127.194.226.188 | ১৭ জুন ২০১২ ১১:২১542319
  • ছোটবেলায় যখনই কলকাতায় আসতাম, দোতলা বাসগুলো খুব টানত। কিন্তু সত্যি সত্যি চড়তে পেরেছি ইহজীবনে একবারই। থার্ড ইয়ারে পড়াকালীন হাওড়া থেকে বাঘাযতীনে বন্ধুর বাড়ি যাচ্ছিলাম। হাওড়া ব্রিজের ওপর বাসটা একটা গাঁদাফুলে ফুলাক্কার ট্রামগাড়িকে ওভারটেক করল। পরদিন খবরের কাগজ পড়ে জানতে পারলাম হাওড়া ব্রিজের ওপর দিয়ে চলা শেষ ট্রামগাড়ি ছিল সেটা।
  • Debashis | 99.147.0.175 | ১৭ জুন ২০১২ ১২:৫৪542320
  • তাই ফুলে সাজিয়ে ট্রামটাকে শেষ যাত্রায় নিয়ে যাচ্ছিল ঃ)।

    ঘণা দার গল্প (হলেও সত্যি) খুব ভালো লাগল। আজ জানিয়ে গেলাম, আমি আপনার লেখার (ইনক্লু, জ্যোতীষ টই) ভক্ত। কিন্তু শুধু কেন যে ফেসবুক গ্রুপেই বেশী লেখেন আপনি জানি না। একটু বেশী করে এ পাতায় আপনাকে দেখতে পেলে ভালো লাগবে।
  • paTal | 24.99.141.29 | ১৭ জুন ২০১২ ১৩:২৫542321
  • দেবাশিসের সাথে গলা মেলাচ্ছি, আরো চাই।
  • কান্তি | 212.90.109.178 | ১৭ জুন ২০১২ ১৩:৫০542322
  • আমিও গলা মেলাচ্ছি। দাবী জানাচ্ছি, চাই, চাই। অনেক বেশী কোরে
    চাই।।
  • ঘনাদা | 233.223.143.21 | ১৭ জুন ২০১২ ২০:১০542323
  • চেম্বারে রুগি নেই। সাধারণত, সন্ধে ৭ টার পর আর রোগী দেখে না চন্দন। আড্ডার জন্য প্রস্তুতি নেয় মানসিক ভাবে। কিছুক্ষণ পরেই সব আড্ডানোর লোকেরা এসে পড়বে। সত্য কম্পু মানে সত্য কম্পাউণ্ডারও যাব যাব করছে!
    এই সময়ে এক পৃথুলা মহিলা এসে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন!!!!!
    - আমারে একডু দেইখ্যা দেন ডাক্তার বাবু!!!!
    চন্দন জিজ্ঞেস করল : - কি হয়েছে আপনার?
    - দ্যাহেন না, রিস্কা থিক্যা পইড়া গেসি। কুমোরে দু:খু পাইসি আর কনুই ছইড়া একাক্কার। মনে হইত্যাসে, আর উঠতে পারুম না। মহিলা কঁকিয়ে কঁকিয়ে কথাগুলো বললেন।
    - ও কম্পুদা, দিদিকে একটা ভোভেরান এস আরের ষ্ট্রীপ, একটা টিটি , ছড়ে যাওয়া জায়গাটা মার্কিউরোক্রোম দিয়ে ড্রেসিং করে দিন। যান ওখানে- সত্যদা দিয়ে দেবে। ভয় নেই ব্যাথা সেরে যাবে। চন্দন বলল।
    - ও ডাক্তার বাবু আমি টিটি দিয়া কি করুম? হেয়া তো আমার পোলায় খ্যালে। হেইডা টেবিল টেনিস তো? আর শাড়ী তো পইরাই আচি। ড্রেসিং এর দরকার কিডা?
    - ওফ! এই টিটি সেই টিটি না! এটা টিটেনাস টক্সয়েড। ধনুষ্টঙ্কার বোঝেন? সেটা যাতে না হয়, তাই এই ইনজেক্‌শান। ড্রেসিং মানে ,ঐ ছড়ে যাওয়া জায়গাটা ব্যাণ্ডেজ করে দেবে। বুঝলেন তো? আর হ্যাঁ! ব্যাথা না কমলে, কালকে একটা কোমোরের এক্স- রে করিয়ে আনবেন। প্রেসক্রিপশানে লিখে দিলাম।
    মহিলা, মাথা হেলিয়ে খুব কষ্ট করে গেলেন সত্য কম্পুর কাছে। সত্যদার ইংরেজী বলার অভ্যাসের জন্য, চন্দন একটু ভয়ে ভয়ে থাকে। সত্যদার ইংরেজী শুনে সবাই থরথর করে কাঁপতে শুরু করে বলেই, নাম- সত্য কম্পু! এই মহিলাকে আবার সত্যদা ইংরেজীতে কিছু বলে না বসে!!!!!!
    ইনজেক্‌শানটা মহিলা কোমোরেই নেবেন। ওনার ধারণা, যেখানে ব্যাথা লেগেছে, সেখানে টিটি ইনজেক্‌শান নিলে তাড়াতাড়ি ব্যাথা সারবে।
    চন্দনের আশঙ্কা সত্যি করে শুনতে পেল, সত্যদা ইংরেজীতে মহিলাকে বলছে : - হাতে ইনজেক্‌শান is better than কোমোরে ইনজেক্‌শান!!!!!
    মহিলা, কি বুঝলেন, কে জানে! ইনজেক্‌শান নিয়ে ভিজিট আর ওষুধের পয়সা দিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে গেলেন।
    উনি বেরিয়ে যেতেই কবি বদরী সান্যালের কবিতার খাতা হাতে প্রবেশ। সত্য কম্পু বলল : - চন্দন, আমি Exit মারছি। লোকজনের Entrance হচ্চে, আমি cut মারি।
    কাট করে আবার পেষ্ট করবেন না- চন্দনের উত্তর।
    মুচকী হেসে, সত্য কম্পু বেরিয়ে গেলেন।
    চন্দনকে একা পেয়ে বদরী বললেন- একটা অনু কবিতা শুনবে? অন্যরা এসে গেলে আর চান্স পাবো না!
    শোনান, ব্যাজার মুখে উত্তর দিল, চন্দন।
    বদরীবাবু গলা ঝেড়ে শুরু করলেন : -

    হিটলার জাঁদরেল
    খায় বসে ক্‌ৎবেল
    ঝালনুন, লঙ্কায় ভিজিয়ে
    যুদ্ধের বাজারে
    মাছি মেরে হাজারে
    রেখে দেয় টেবিলেতে সাজিয়ে

    কিন্তু, বদরীদা, এটা আমার শোনা শোনা মনে হচ্ছে! ফেসবুকে আমার কোনো এক বন্ধু , এটা বোধহয় ষ্টেটাস মেসেজ দিয়েছিল ।
    - তোমার তো সবই শোনা মনে হয়! এটা আমি নিজে লিখেছি!
    - কি জানি, হবে হয়তো- চন্দনের উত্তর!
    হতে পারে চন্দন! অনেক জিনিসই অজানা থাকে!
    ক্ষেতুদা কখন যে ঢুকে পড়েছেন, সেটা দুজনে খেয়াল করে নি। বদরীবাবু কেমন যেন সিঁটিয়ে গেলেন। ক্ষেতুদা আজ কেমন যেন অন্যমনস্ক।
    - তোমার কবিতাটা শুনে আজ অনেক পুরোনো কথা মনে পড়ে গেল হে বদরী!!!!!!!
    চন্দন আশ্চর্য্য হয়ে প্রস্তরীভূত হয়ে গেল। ক্ষেতুদা, বদরীবাবুর কবিতা শুনে খচিতং হলেন না, এটা পৃথিবীর দশম আশ্চর্য্য।
    তারক কোথায় হে? ক্ষেতুদার প্রশ্ন।
    - তারকদা রেশন আনতে গেছেন-বদরীবাবু বললেন।
    - এই রাত সাড়ে আটটার সময় রেশন? সব দোকান তো বন্ধ!!!!!!!!
    - আহা! ঐ হুইস্কি আনতে গেছেন। রেশন টার্মটা কোড নেম।
    - হুম! ক্রিপ্টোগ্রাফি! ক্ষেতুদার গম্ভীর জবাব।
    - ওটা আবার কি?
    - তথ্যগুপ্তিবিদ্যা, বুঝলে হে! বদরীর কবিতা শুনে মনে পড়ল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এর ব্যবহার। তবে ব্যপারটাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছিল হিটলার। জার্মান লোরেন্‌ৎস সাইফার মেশিন দিয়ে ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জেনারেল ষ্টাফেদের বার্তা গোপন করার জন্য ব্যবহার করা হতো। ক্ষেতুদা সিগারেট বের করলেন।

    তারক মোত্তিরও ঢুকে পড়েছেন, বগলে বোতল নিয়ে। কিঞ্চিৎ চড়িয়েও এসেছেন।
    -কি যেন বলছিলেন, ক্ষেতুদা! ঐ কি গাফি!
    - বলছি, তবে তুমি তো দেশী খাও! আজ যে হুইস্কি?
    - পরিবর্তনের জমানা, ক্ষেতুদা! সবাই বদল চাইছে! বদলাও নিচ্ছে। আমিই বা পিছিয়ে থাকি কেন?
    হুম! বদলা তো হিটলারও নিয়েছিল, তার মৃত্যুর খবর রটিয়ে দিয়ে!
    - আরি ব্যাস, বলেন কি! হিটলার তালে, ১৯৪৫ সালের ৩০ শে এপ্রিল আত্মহত্যা করে নি? চন্দন উত্তেজিত।
    - না হে! আমি নিজে সাক্ষী!
    - এ:! ক্ষেতুদা! আপনি কিন্তু, ঘনাদা মানে ঘনশ্যাম দাসকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। তারক মোত্তির মিউ মিউ করে বললেন।
    - হোয়াট ননসেন্স! ক্ষেতুদা হুংকার দিলেন!!!!!! ঘনাদা কি মিথ্যে বলতেন নাকি! ইন ফ্যাক্ট, ঘনাদা, আই মীন মি: ঘনশ্যাম দাসই তো এই অ্যাসাইনমেন্টটা আমাকে, ভায়া আয়মেরিকান গভমেন্ট দিয়েছিলেন। আর তুমি যে নিজেকে স্বদেশী বলো, তার বেলা!!!!!! এদিকে তো মাত্রো ২০০৩ সালে রিটায়ার করেছ। গ্যাঁজা মারো, খবর রাখি না নাকি? ক্ষেতুদা ভিসুভিয়াস!!!!!!
    আড্ডার মেজাজ নষ্ট হচ্ছে দেখে চন্দন বলল- আরে ক্ষেতুদা! আপনার কথা চালিয়ে যান তো! আপনার ব্যাকগ্রাউণ্ড আমি জানি! এরা তো হালে আড্ডায় এসেছে! আরে “ বল হরি ” , চা দিয়ে যা!!!!!!!!!!!
    জানো? হিটলারকে ক্‌ৎবেল খাওয়া কে শিখিয়েছিল?- ক্ষেতুদার প্রশ্ন!
    - কে?
    - কে আবার!!!!!! স্বয়ং মি: ঘনশ্যাম দাস! হিটলার টক খেতে ভালবাসতো তো!!!!! তাই ঘনাদা এই নুন লংকা আর ক্‌ৎবেলের রেসিপিটা “ এভা ” কে দিয়েছিলেন। হিটলার শেষ পাতে খেতে খেতে ইহুদি মারার ছক করতো! ঘনাদা তো সেই দু:খেই বাহাত্তর নম্বর বনমালী নস্কর লেনের মেসে টঙ্গের ঘরে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়ে নিয়েছিলেন।
    - উরি ব্বাস! আমার কবিতা লেখা সার্থক! বদরীবাবুও উত্তেজিত।
    - সার্থক কিনা জানি না, তবে কবিতার মধ্যে সত্যিটা লুকিয়ে আছে।
    - কিরকম, কি রকম?
    -ঐ যে, মাছি মেরে হাজারে। হাজারে হাজারে ইহুদি মেরেছিল তো।
    - সত্যি, মানুষ কত নৃশংস হতে পারে, তাই না?
    - জানো? ১৯৩৩ সালে, নাগরিকদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছিল- হিটলারের জার্মানীতে।
    তখন আধুনিক কম্পিউটার যুগ শুরু হয় নি ঠিকই, তবে আদি কম্পিউটারের সাহায্য নিয়ে ইহুদিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করার জন্য এগিয়ে এসেছিল, ইনটারন্যাশনাল বিজনেস মেসিন বা পৃথিবী খ্যাত আই বি এম কোম্পানী।
    কিভাবে তারা প্রতিটি ইহুদি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করত, তা এখন বহু আলোচিত।
    হিটলারের শাসন কালে, সমস্ত ইহুদিরা হয়ে উঠেছিল এক একটি নম্বর। তার পাশে লেখা থাকত নাম ঠিকানা।
    দেখা গেছে, যে অঞ্চলে, এই কাজটা ভালো ভাবে করা হয়েছিল, সেখানেই ইহুদি নিধন বেশী হয়েছিল। বলি বুঝলে কিছু????????
    - উরি ত্তারা! আয়মেরিকার কোম্পানী সাহায্য করেছিল, হিটলারকে?
    - তবে আর বলছি কি!! আর এই আয়মেরিকান সরকারই তো সাহায্য করে হিটলারকে পালিয়ে যেতে। সেখানে আমাকেই বেছে নেয় আয়মেরিকা।
    - একটু খুলে বলবেন? ঘনাদাই বা কেন আপনাকে বাছলেন ঐ কাজের জন্য? চন্দন বিনীত ভাবে প্রশ্ন করল, ক্ষেতুদাকে।
    - বলছি, বলছি! আগে চা খাই! জিভ শুকিয়ে গেছে। বনমালী নস্কর লেনে গেলে ফাউল কাটলেট খাওয়াতেন ঘনাদা! সঙ্গে কফি! কোথায় যে গেল, সেই সব দিন!!!!!!!!!!!!
    - আপনি চিকেন রোল খাবেন? আনিয়ে দিচ্ছি!
    - দাও! তবে আমার জন্য দুটো আনিও।
    কৃপা করে বললেন ক্ষেতুদা।
    খাওয়া হয়ে গেলে, ক্ষেতুদা শুরু করলেন : -
    বেশ কয়েক বছর আগে, সাংবাদিক জেরার উইলিয়ামস এসেছিল ভারতে। সঙ্গে, সমর ঐতিহাসিক সাইমন ডানস্টান।
    - কেন?
    - মূর্খের মত প্রশ্ন করো না তো তারক! কেন আবার? আমার সঙ্গে দেখা করতে!!!!
    - তাই!!!!!!! তা কি বললেন ওদের?
    - কি আর বলব? একটা সাক্ষাৎকার নিল। তারপর একটা বই ছেড়েছে মার্কেটে এদানীর! ওরা অবশ্য, আমার নামটা দেয় নি, আমারই অনুরোধে। বেশী নাম টাম পছন্দ হয় না আমার।
    - বইয়ের নাম কি?
    - গ্রে উলফ, দি এসকেপ অফ আডলফ হিটলার,বা ধূসর নেকড়ে- আডলফ হিটলারের নির্গমন ।
    - ওটা নয় পরে, পড়ে নেব আমরা, এখন একটু গপ্পোটা সংক্ষেপে বলবেন আমাদের!!!
    - গপ্পো কি হে! সত্যি ঘটনা! একেবারে জ্বলন্ত ইতিহাস। এটা কোনো ভাবেই আনেকডোটাল নয়। অনেক রিসার্চ আর আমার কাছ থেকে শুনে, কষ্ট করে লিখেছে ওরা।
    - আনেকডোটাল????????
    - হ্যাঁ! আনেকডোটাল মানে অলিখিত ইতিহাস। যেটা গাঁজাখুরি বলে মনে হতে পারে অনেকের।
    - বলুন ! বলুন! শুনছি! সমস্বরে চিৎকার করল সবাই।
    - বলবো, তবে বাধা দেবে না কিন্তু!
    - আমরা পাগোল নাকি! বলে যান!
    ক্ষেতুদা শুরু করলেন : - প্রথমেই বলি, ঘনাদাকে তখন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটা গোপন কাজে ফিরে যেতে হয়েছিল। হিটলারকে অনেক বুঝিয়েছিলেন ঘনাদা, যাতে ঐ সব জঘন্য কাজ না করে। হিটলারও কথা দিয়েছিল। আমার তখন কম বয়েস। ঘনাদা ভরসা করে, আমাকে রেখে গিয়েছিলেন হিটলারের কাছে। বয়েস কম হলেও,আমার বুদ্ধির ওপর ভরসা ছিল ঘনাদার। সাগরেদি করছি তখন ওনার।
    তখন কি আর জানি, আয়মেরিকার অত ষড়যন্ত্র! ১৯৪৫ সাল! দিনটা খুব ভাল করে মনে আছে আমার। সাতাশে এপ্রিল। একজন গেষ্টাপো এসে আমাকে একটা গোপন খবর দিল। হিটলারের দোস্ত, মুসোলীনি তার উপপত্নি ক্লারা পেত্তাচিকে সঙ্গে নিয়ে ইতালীর ছেড়ে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে গিয়েছে। মিলানের বিদ্রোহী দল ঐ দুজনকে খতম করে দিয়েছে। তাদের দুজনকে পায়ে পায়ে বেঁধে মাথা নীচু করে ঝুলিয়ে রেখেছে, প্রকাশ্য স্থানে। উন্মত্ত জনতা মৃতদেহ দুটির ওপর যথেচ্ছ থুতু ছেটাচ্ছে, লাঠি মারছে, পাথর ছুঁড়ে মারছে। সে এক বীব্‌হ্‌ৎস অবস্থা।
    খবরটা হিটলারের কানে তুলে দিলাম। এই প্রথম, ওকে ভয় পেতে দেখলাম। বলল : - কেতুউউ! কি হবে আমার?
    আমি সোজা বললাম : - তোমার পাপের ঘড়া ভরে গেছে। এবার নিজে মরার জন্য তৈরী হও।
    -একটা উপায় বলো না!
    - দেখ তালে, মরা কি ভয়ংকর জিনিস।
    বলে, মনে কষ্টও হচ্ছিল। সাংঘাতিক প্রতিভা ছিল লোকটার। একজন রাজনৈতিক নেতার সমর নায়ক হওয়ার ঘটনা ইওরোপে প্রথম। আমাদের নেতাজীও অবশ্য তাই ছিলেন, তবে তিনি একদম অন্যরকমের একজন মহাপুরুষ।

    আমি বুঝতে পারছি, লাল ফৌজ প্রায় পুরোটা ঘিরে ফেলেছে হিটলারকে। মায়া হল। বুদ্ধি দিলাম- তুমি প্রথমে একটা ষ্টেটমেন্ট দাও।
    - কি রকম?
    - বলো, আমি বুলেট দিয়ে আত্মহত্যা করছি, বলবে, এভাও পটাশিয়াম সাইনাইড ক্যাপসুল খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমার অনুগামীদের বলছি, আমাদের মৃতদেহটা পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দিতে। এভাকেও বিয়ে করে নাও।
    - ঠিক আছে, জবাব দিল হিটলার।
    তার আগে, ও একটা মন্তব্য করেছিল। দিনটা ছিল- ২৭ শে এপ্রিল। সাল ১৯৪৫। বলেছিল : - ‘ গোটা দুনিয়া যদি আমাকে মৃত বলে ভাবে, তবেই ভবিষ্যতের আশা করতে পারে জার্মানি। ” তাই বুদ্ধিটা আমার মাথায় এসেছিল।
    লোরেন্‌ৎস সাইফার মেশিন দিয়ে খবর পাঠান হল, আমেরিকার গভমেন্টকে। পিটার বমগার্ট নামে, একজন ধুরন্ধর আর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পাইলটকে আমার জানা ছিল। তাকেই পাঠাতে বললাম। ছেলেটা আমারই বয়েসী বা একটু বেশী হবে। গোপনীয়তা রাখতে জানত।
    প্লেন নিয়ে হাজির হল, পিটার বমগার্ট। চুপিসারে বেরিয়ে পড়লাম হিটলার আর এভাকে নিয়ে। পিটার তো হিটলার আর এভাকে দেখে থ। চোখ আর ফেরাতে পারছে না। আমি জোর ধমক দিলাম। সম্বিৎ ফিরে পেয়ে প্লেন উড়িয়ে দিল পিটার।
    ও ও! একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। তখন হিটলারের একান্ত সচিব ছিল- মার্টিন বরমান। ১৯৪৩ সাল থেকেই এই ছকটা ওর সাথে আমার করা ছিল। হিটলারকে ইচ্ছে করেই বলিনি। ভেবেছিলাম, ও আর ইহুদিদের মারবে না। বিধির বিধান, খণ্ডাবে কে?
    যাক।
    আকাশে উড়ে ডেনমার্কের টনডরে নামলাম আমরা। তারপর ফের ফিরে গেলাম জার্মানির ট্রাভেমুণ্ডার বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, লুফ্‌ৎওয়াফে। এই ঘোরাটা ইচ্ছে করেই প্ল্যান করেছিলাম আমি।
    পিটারকে ছেড়ে দিলাম। এবারে আর একটা প্লেনে ছদ্মবেশে উঠলাম আমরা। গিয়ে নামলাম বার্সেলোনার দক্ষিণে সামরিক ঘাঁটি রিয়সে। জেনারেল ফ্রাঙ্কোকে লোরেন্‌ৎস সাইফার মেশিন দিয়ে খবর পাঠান ছিল। ফ্রাঙ্কো আগে থেকেই আর একটা প্লেন রেডি করে রেখেছিল। আমরা গিয়ে নামলাম, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ফুয়েরতেবেনতুরায়। ওখান থেকে ইউ বোটে চড়ে সবাই ঢুকে পড়লাম অতলান্তিক মহাসাগরের গভীরে। ইউ বোটের খাঁচাতে শুরু হল দীর্ঘ যাত্রা।
    ওদিকে, লাল ফৌজ বাঙ্কারে পৌঁছে গেলেও পাখী ফুরুৎ।
    স্পেন ছেড়ে ৫৩ দিন বাদে পৌঁছলাম, আর্জেন্তিনার উপকূলে মার ডেল প্লাতার দক্ষিণে নিকোচিয়ায়।
    - ক্ষেতুদা, একটা প্রশ্ন।
    - বল!
    - ইউ বোট কি?
    - তোমরা তো দেখছি কিস্‌সু জানো না! ওটা হলো সাবমেরিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে খুব ব্যবহার হয়েছিল। ‘
    - ঠিক আছে। আপনি বলে যান।
    - তারপর আর কি! আমি তো ভারতে চলে এলাম, ঘনাদার ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিতে।
    - পরে আর কোনো খবর পান নি?
    - হুঁ! পেয়েছিলাম।
    - কি? কি?
    - ঐ আনডেসের পাদদেশে এক গণ্ডগ্রামে কেটেছিল হিটলারের শেষ জীবন। দুটো মেয়েও হয়েছিল। তবে এভার সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায় ১৯৫৩ তে। শেষমেষ হিটলার মারা যায়, ১৯৬২ র ১৩ ই ফেব্রুয়ারী, বেলা ৩টের সময়। এরপর আর কি হয়েছে, আমার জানা নেই।
    ক্ষেতুদা আর একটা সিগারেট ধরালেন।
    তারক মোত্তির বললেন- একটা শেষ প্রশ্ন ক্ষেতুদা!
    - বল হে বল!
    - আপনার মনে আছে? মাসখানেক আগে, আপনি সেল ফোনের সিম কার্ডের জন্য একটা ফর্ম ভরে আমাকে দিয়েছিলেন জমা করতে!
    - হ্যাঁ! তো?
    - না! মানে ঐ ফর্মের সাথে আপনার ভোটার কার্ডের সেল্ফ আয়টেষ্টেড ফোটো কপি ছিল। ওটাতে আপনার জন্ম তারিখ ছিল, ১৯৪৫ সালের ৮ ই নভেম্বর।
    ক্ষেতুদা আগুন ঝরা চোখে তারক মোত্তিরের দিকে তাকিয়ে হনহন করে বেরিয়ে গেলেন চন্দনের চেম্বার থেকে।

    ____ সমাপ্ত _______
  • ranjan roy | 24.99.38.153 | ১৭ জুন ২০১২ ২০:৩৫542324
  • ঘনাদার সঙ্গে কাল টেলিফোনে আড্ডা হচ্ছিল। ঘনশ্যাম দাস না, আমাদের ঘনাদা।
    বলছিলাম - দোতলা বাস মিস করেছি।
    উনি বল্লেন- অনুসন্ধানে যাও।
    আজ দেখি লামা তুলে দিয়েছে।
    ১৯৬৬ সালে আমিও বিজয়গড় লায়েলকার মাঠ থেকে বাসে উঠতাম বা হেঁটে বাঘাযতীন ও পদ্মশ্রীতে সিনেমা দেখতে যেতাম। গড়িয়া বাস স্ট্যান্ড, এন্ড্রুজ কলেজ, লালবাতি পাড়া, সাঁকোটি। রামগড়ে সিপিএম নেতা জুকভদা বা এল সি এস বুদ্ধদার সঙ্গে আড্ডা-বৈঠক। আই ব্লক দিয়ে আমার পাড়া জোড়াবাগানে যাওয়া। তখনকার সরস্বতী পূজোর দিন যেন রোব্বারের চার্চে যাওয়া,-- একদিন সাহসী হওয়া, বেহিসেবি হওয়া।
    তবু গল্পটি ঘনাদার জীবনের সত্যি ঘটনা হয়েও চিরন্তন। হয় মৃত্যু নয় অন্য কোন বাধা। এই বয়সেও চোখ ভিজে ওঠে।
    আপনার সঙ্গে আছি ঘনাদা, পথে পা মেলাতে রাজি।
  • একক | 24.99.223.188 | ১৭ জুন ২০১২ ২০:৩৯542325
  • দোতলা বাসের মাথায় চড়ি নি কোনদিন . একতলা বাস ,লর্রী র মাথায় চরেছি অনেক. দোতলা টা মিস্ . কোনদিন আর হবেও না.
  • কল্লোল | 129.226.79.139 | ১৮ জুন ২০১২ ১০:০৬542326
  • নাহ। আর হবে না। কলকাতায় তো শুনেছিলাম মদন নাকি দোতলা চালাবে বলেছিলো। তার কি হলো?
    ব্যাঙ্গালোরে একখান চলতো। সেটা কর্ণাটক স্টেট ট্যুরিজমের, ছাদখোলা। কিন্তু সেটিও বন্ধ।
    আহা। শুখা ভালো করে চাপিয়ে, চাট্টি বন্ধু-বান্ধব নিয়ে, দোতলার সামনের সিটে বসে বালিগঞ্জ থেকে টালা - সে যে কি সুখ লিখে বোঝাতে পারলে নোবেল পেতুম।
  • pi | 82.83.85.246 | ১৮ জুন ২০১২ ১০:১৯542328
  • বাসের মাথা, বহুকালের শখ।
  • কোয়ার্ক | 24.139.199.1 | ১৮ জুন ২০১২ ১২:৩৯542329
  • বাসের মাথা শুনে একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। খড়্গপুর স্টেশন থেকে আইআইটি যাব (তার আগে কখনো যাই নি)। বাসে উঠে একটা সিটে দেখলাম একটা ছেলে একটা জানালার ধারের সিটে বসে আছে, সাথে একটা মোটামুটি বড়ো ব্যাগ। জামাকাপড় আর ব্যাগ দেখে মনে হ'ল আইআইটি যাবে। তো তার পাশেই গিয়ে বসলাম, চিনি না শুনি না, হেল্প পাওয়া যেতে পারে ভেবে। একটু পর থেকে বাস ভর্তি হ'তে শুরু করল। খানিকক্ষণ পরে দেখি ছ্লেটা উসখুস করছে।ততক্ষণে ভাসে বেশ ভিড়। হঠাৎ দেখি জানাল দিয়ে ব্যাগ বাইরে বের ক'রে "দাদা একটু ধরুন তো" ব'লে চেঁচাচ্ছে। ব্যাগ বেরোল, তারপর তিনিও বেরিয়ে সুড়ুৎ ক'রে ছাদে।
  • ঘনাদা | 233.223.142.164 | ১৮ জুন ২০১২ ১৩:১৮542330
  • পাই
    বাসের মাথার মুড়িঘন্ট হয় না!
    কল্লোল
    সুখানুভূতি সততই সুখের
    কোয়ার্ক
    মেদনীপুরে বাসের মাথায় চড়ে ভ্রমণ এখন শিল্পের পর্য্যায়ে!
  • ঘনাদা | 233.223.142.164 | ১৮ জুন ২০১২ ১৩:২১542331
  • বুজলি কল্লোল
    শুনেছিস কিনা জানি না, তবুও বলি
    মদন শব্দের সন্ধি - বিচ্ছেদ হলো = মদ + অন

    সন্ধ্যে বেলার পর তাই মদন যা বলে, কেউ ধর্তব্যের মধ্যে আনে না!
  • কল্লোল | 129.226.79.139 | ১৮ জুন ২০১২ ১৫:৩৪542332
  • ওরে ঘনা।
    ধন্য আশা কূহকিনী...........ইত্যাদি ইত্যাদি
    সংসার চক্র ঘুরে যাচ্ছে, এ তো দোতলা বাসের চাক্কা।
    কে জানে কথাটা মদ অনে বলেছিলো না মদ অফে ;-))
  • ঘনাদা | 233.223.129.54 | ১৮ জুন ২০১২ ১৭:২৬542333
  • যাই বল কল্লোল :))
    মদনের কথা তো! ভরসা নেই! :((
    হিটলারের ব্যাপারে একটা তথ্য পেয়ে লিখেছি।
    পড়ে দেখিস তো কেমন হয়েছে! রেফারেন্স দেওয়াই আছে।
  • একক | 24.96.81.195 | ১৮ জুন ২০১২ ১৯:৩১542334
  • বাসের ছাদে সবচে বেশি চড়েছি মুর্শিদাবাদ আর অখন্ড বিহার এ . ন্যাশনাল হাইওয়ে র ওপর মাঝে মাঝে গাছ এর ডাল বেশ নীচু থাকতো . খেয়াল করে না বসলে মাথায় পাতার চাঁটি অনিবার্য্য . সবচেয়ে স্মরনীয় হলো
    চাইবাসা -বরাজামদা রুট টা . ওখানে বাসের ভেতরে কোনদিন চড়িনি. মানে ভেতরেও যে বসা যায় এটা মনেই হয়নি . বাসের মাথায় মুরগির ঝাঁকা , আতা-র ঝুড়ি আর দেহাতি মানুষজনে ঠাসা . চারপাশে মেঘাতাবুরু -কিরিবুরু রেঞ্জ-এর সৌন্দর্য আর আলাদা করে ব্যাখ্যানার দক্কার নেই .
  • কল্লোল | 129.226.79.139 | ১৯ জুন ২০১২ ০৯:৩০542335
  • বাসের ছাদে চড়ে যাবার চাইতে ভালো কিছুই হয় না। বিশেষ করে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-বীরভূমের রুটগুলোতে।
    নিয়মিত যেতাম দূর্গাপুর-বাঁকুড়া, দূর্গাপুর-সিউড়ি, দূর্গাপুর-আদ্রা। এইসব রুটে ছাদে চড়ে ভ্রমণের প্রকৃষ্ট সময়, জানুয়ারীর শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি।
  • b | 135.20.82.164 | ১৯ জুন ২০১২ ১৩:০২542336
  • ৮ নম্বর বাস (চুঁচুড়া কোর্ট-কালনা) চিনবেন কি করে?
    যে বাসের ভিতরে ফাঁকা থাকলেও ছাদে ভীড়, সেটাই ৮ নম্বর।
  • রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য | 125.187.33.16 | ২১ মার্চ ২০১৩ ১০:০০542337
  • ***স্কুল
    #####

    সেল ফোনটার রিংটোন বেজে উঠল । কেয়ার এই ফোনটা নতুন । আগের ফোনটা চুরি হয়ে যাওয়াতে এই ফোনটা কিনেছে । বেশীর ভাগ ফোন নাম্বার আর নেই । কেয়া অত খুঁটিনাটি জানত না। ডিভাইস মেমোরিতে নামের সঙ্গে নাম্বার গুলো সেভ করে রাখা ছিল বলে এই বিপত্তি । নাম্বারটা একই , সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই পাওয়া গেছে ।

    কলিং নাম্বারটা তাই অচেনা । ওদিকে স্কুলের সময় হয়ে যাচ্ছে ! এখন, ফোন তুলে কথা বলতে গেলে, খানিকটা সময় নষ্ট । দোনোমনা হয়ে ফোনের আনসার বাটনে চাপ দিল কেয়া ।

    - হ্যালো!
    - নমস্কার ম্যাডাম । আমায় আপনি চিনবেন না । সামান্য কথা ছিল দু- একটা ।

    - নমস্কার, কি বলবেন সংক্ষেপে বলুন । একটু তাড়া আছে । আমার নাম্বারটা কোত্থেকে পেলেন?

    - নাম্বার আমরা পেয়ে যাই । এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বলছিলাম কি, দুদিন পরে যে বন্ধ্ ডাকা হয়েছে, সেই দুদিন স্কুলে যাবেন নাকি?

    - না ! প্রথম দিন বন্ধ্ ! তাই যাবো না । দ্বিতীয় দিন স্কুলে যাবো ।

    - আপনি লালকমল?

    - মানে ?

    - কিছুই না! ওই লালকমলরা বন্ধ্ ডেকেছে । আমি নীলকমলের লোক । প্রথম দিনও আপনি স্কুলে যাবেন , কেমন ? রাখি ।

    কেয়া একটু ঘাবড়ালো ! এসব ওর ভালো লাগে না । গতকাল টিচারদের একটা মিটিংয়ে ঠিক হয়েছে, ওরা কেউ আসবে না স্কুলে প্রথম দিন । সুমন্ত বেরিয়ে গেছে । বুবাই ওর সাথেই বেরুবে । এই সময় হঠাৎ উটকো ঝামেলা ভালো লাগে না ।

    শহরতলীর এই আধা সরকারী স্কুলে গণ্ডগোল লেগেই আছে। কেয়ার দুই বন্ধু বড় বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ায় । সেখানে, এই সব বন্ধের দিনগুলোতে, একটা অলিখিত নিয়মই আছে, বন্ধ , তা যে পার্টিই ডাকুক, আসতে হবে না স্কুলে ।
    সাড়ে তিন লক্ষ টাকার ডোনেশান আর মাসে সাড়ে বাইশ হাজার টাকা ফি দিয়ে যে সব অভিভাবকরা ভর্তি করান নামী স্কুলে, সেই সব স্কুলে কে আর ঝামেলা বাধাতে চায় । অবশ্য কিছুই বলা যায় না, অতি বাঁদর ছাত্র- ছাত্রীদের । বাঁদরামি করলেও আস্তে করে বলে, কি সুইট বাচ্চাটা ! ঠিক যেন বাচ্চা শুয়োর- বলে ঝাল মেটায় বন্ধু টিচাররা । অভিভাবকরাও খুশী আর ছাত্র- ছাত্রীরাও ওসব নিয়ে মাথা ঘামায় না । এসব কথা রেক্টরের কানে গেলে বিপদ । দুধেল গাইকে কে আর খোঁচাতে চায় !!!!
    গত একমাস ধরে স্কুলে খুব গণ্ডগোল । টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে অভিভাবকরা বেশ ঝামেলা করছে । এইসব মার্কস নিয়ে যে আসল পরীক্ষায় পাশ করা যাবে না, সেটা কিছুতেই ওদের বোঝানো যাচ্ছে না । বাইরের লোকজন নিয়ে হামলা করেছে বড় দিদিমণির ওপর । উনি অনড় । কিছুতেই অ্যালাউ করবেন না ফেল-করা ছাত্রীদের।

    এর কিছুদিন আগে একজন ফোর্থ গ্রেড স্টাফের নিয়োগ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটিতে একটা গণ্ডগোল হয়েছিল । তিনজন টিচার রিপ্রেজেনটেটিভের মধ্যে একজন ছিল কেয়া ।
    বড় দিদিমণির কিছুই করার ছিল না । এই ফোর্থ গ্রেড স্টাফের পোষ্টটা ডিআই থেকে এসএসসির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল । এস সি/ এস টি কোটা থেকে জেনারেল কোটা করেই পাঠানো । তাও নীলকমলরা এন্তার ঝামেলা করেই যাচ্ছে । একদিন তো সাজিয়ে গুছিয়ে একটা দলকেও আনা হয়েছিল, স্কুলের গেটের সামনে, বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ।

    অনেকেই ব্যক্তিগত কুৎসা শুরু করেছিল, অন্যতম টিচার রিপ্রেজেনটেটিভ তুলিকার বিরুদ্ধে । ওর নিজস্ব জীবনে ডিভোর্সের কারণ নিয়ে নানা আজে বাজে মন্তব্য মিটিংয়ে তো বটেই, অভিভাবকদের প্রতিনিধিদের সামনে বীভৎস খারাপ ভাবে তুলে ধরে, তুলিকা যে কতখানি বদ চরিত্রের সেটাও বোঝানো হয়েছিল । এটা করেছিল পুরুষরাই বেশী ভাবে । চিৎকার করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল কেয়া । তুলিকার স্বামী যে রোজ মদ খেয়ে এসে পেটাত, সেটা আর বলতে পারলো না। তবে অন্যভাবে যতটা পারা যায়, সেটা করাতে অন্যদের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা বুঝতে পারে । কেয়ার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে । মোকাবিলা করার শক্ত শপথ নিয়ে বুবাইকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে স্কুলের জন্য । বুবাইকে ওর স্কুলের সামনে নামিয়ে দিয়ে, রিক্সাটা ঘুরিয়ে নেয় নিজের স্কুলের সামনে ।

    ভাড়াটা চুকিয়ে দিয়ে, নামতেই একটা ছেলে বলল- দিদিমণির বুকের সাইজটা বেশ ডবকা তো ! একবারে আয়েশা টাকিয়া !!!! দিদিমণির ব্রার সাইজ কত ? আশেপাশের কয়েকজন হো হো করে হেসে ওঠে । অপমানে মুখ লাল হয়ে হয়ে আসে কেয়ার । থাপ্পড় কষাতে ইচ্ছে করলেও, জবাব না দিয়ে, স্টাফ রুমে ঢকঢক করে এক গ্লাস জল খায় । ছেলেটাকে মনে হয়, সেদিনের সাজানো জমায়েতে দেখেছিল । প্রতিমা আর অহনা ট্যারা চোখে তাকায় কেয়ার দিকে ।

    - কি রে, কেয়া!
    -আরে দ্যাখ না ! বাইরে কয়েকটা ছেলে অসভ্য কথা বলছিল আমার শরীর নিয়ে । মাথাটা গরম হয়ে গেছে ।
    -কি বলেছে ?
    -আমাকে আয়েশা টাকিয়ার সঙ্গে তুলনা করে খারাপ কথাগুলো বলেছে ।

    সালওয়ার কামিজ পরে আসিস কেন ?

    -বেশ করি !
    -তোর ভালো ভালো শাড়ী গুলো বিক্রি করার জন্য ওএলএক্স ডট. ইনে বিজ্ঞাপন দে । আমি কিনে নেবো । আমার তো বাবা, আবার শাড়ী ছাড়া ভালোই লাগে না ! আমি তো তোর মত হিন্দি সিনেমার অনন্ত যৌবনা নায়িকা নই ।
    অহনা একটা বিছুটি মার্কা হাসি হেসে বলল ।

    রাগে ফেটে পড়লেও বেশী কথা বাড়াল না কেয়া । প্রতিমা আর অহনা হল জলের চরিত্র । যে পাত্রে যখন, তখন সেই রূপ ধারণ করে । এখন এখানকার কাউন্সিলরের খোচর। স্কুলের দৈনন্দিন খবর পাচার করে ম্যানেজিং কমিটির ওই স্থানীয় কাউন্সিলরকে । তুলিকা, একদিন তার ডিভোর্সের ব্যাপারটা খুব আবেগের বশে বলে ফেলেছিল প্রতিমাকে । ঠিক তারপরেই চারদিকে রাষ্ট্র হয়ে যায়। ব্যাপারটা কুলের আচারের মত, অনেকেই তারিয়ে উপভোগ করে ।

    আর উত্তর না দিয়ে, ক্লাসে যাবার জন্য তৈরি হল কেয়া । কোনো রকমে পঁয়তাল্লিশ মিনিট কাটিয়ে ফিরে এলো স্টাফ রুমে ।

    সেল ফোনটা অন করতেই দেখল, সুমন্তর একটা মিসড কল অ্যালার্ট। রিং ব্যাক করতেই সুমন্ত উত্তেজিত হয়ে বলল:-

    - শোনো, অজিতকে মনে আছে ? অজিত সরকার- আমার কলেজের ক্লাসমেট ?

    - মনে থাকবে না কেন? পুলিশে চাকরী করে তো ?
    - হ্যাঁ! সেই অজিত আমাদের থানায় ওসি হয়ে এসেছে । আজ দেখা হল । সন্ধেবেলায় বৌকে নিয়ে ফ্ল্যাটে আসতে পারে, সময় পেলে । জলখাবারের জন্য কিছু একটা বানিয়ে রেখ ।

    - ঠিক আছে ।

    সেল ফোনটা বন্ধ করল কেয়া । মনমেজাজ ভাল নেই । সুযোগ পেলে সুমন্তর সামনেই অজিতকেও বলবে আজকের অনামা কলের কথা । এখন আর সুমন্তকে বলবে না । টেনশনে থাকবে ।

    চারটের সময়ে বেরিয়ে পড়ল কেয়া । বুবাইকে নিয়েই বাড়ী ফিরে যাবে । সুবিধে একটাই- বুবাইয়ের স্কুলের সময়টা ম্যাচ করে নিজের স্কুলের সাথে । ছেলেটার ক্লাস নাইন হয়ে গেছে, তাও একটু সাবধানেই থাকে কেয়া । স্কুলে একা ছাড়তে চায় না । বুবাই একটু গাঁইগুঁই করে, তবে ওর বেশী কিছু বলে না । গীটার শেখার বায়না করেছিল । সুমন্তর চেনা সিনে মিউজিসান আ্যসোসিয়েশানের একজনকে ঠিক করে দিয়েছে, শেখানর জন্য । বাড়ীতেই এসে শিখিয়ে যান উনি । ভালই শেখান । বুবাইও মনের আনন্দে আছে বলে আর বেশী কথা বলে না ।

    সন্ধে সাতটা নাগাদ এল, অজিত মৌমিতাকে নিয়ে ।ওদের চার বছরের মেয়েটাও দারুণ ফুটফুটে । বুবাইয়ের সাথে জমে গেল টুনটুনি । আধঘন্টার মত পুরোনো দিনের চর্বিত চর্বণ হলো । গল্প- গুজবে কেয়া ভুলেই গেছিল সকালের টেনশানের কথা ।

    বেসফোনে ফোনের বাজনা । সুমন্তই ধরল ফোনটা ।
    - বাঃ ! বাঃ ! থানার নতুন ওসির সঙ্গে দেখি ভালই পীরিত আপনাদের । তাতে তো লাভ হবে না দাদা ! আপনার মিসেসকে বলবেন, উনি যেন স্কুলে যান বন্ধের প্রথম দিন । আর আপনি তো আপিস যাবেনই । সরকারি চাকুরে তো ! তাই আর বেশী কিছু বললাম না ।

    - কে আপনি ?

    - জেনে কি লাভ ? আর হ্যাঁ ! ওই ওসি আমাদের নজরে আছে । বলে দেবেন । আগের থানায় থাকতে, মালটা সোজা ব্যাটে খেলতে গেছিল। কী লাভ হল? বরফিকে অ্যারেস্ট করেও তো ধরে রাখতে পারলি না ! উল্টে এই থানায় বদলী । এখানে বেশী তেড়িবেড়ী করলে দুঃখ আছে ওর কপালে । বলে দেবেন ! রাখি !

    কুঁউউউউউউউউউ শব্দটা হতেই লাগল ফোনে । সুমন্তর মাথাতেও ওই শব্দটা ঘুরপাক খাচ্ছে সংক্রমণের মত।

    অজিতই প্রথম নৈঃশব্দ ভাঙল ।

    - কে করেছিল ফোনটা ? আর তুই ওরকম ধিনিকেষ্টর মত দাঁড়িয়ে কেন সুমন্ত ?

    - না, মানে !

    - আরে, কি হয়েছে বলবি তো !

    - একজন ফোন করে বন্ধের প্রথম দিন কেয়াকে স্কুলে যেতে বলল । আর তুই যে আমার বাড়ী এসেছিস সেটাও জানে । বরফিকে অ্যারেস্ট করার জন্য তোকে এই থানায় বদলি করেছে সেটাও বলল । কেয়া আর তোর প্রতি হামদর্দী দেখিয়ে তোদের বলল, সাবধানে থাকতে ।

    হা হা করে প্রত্যুত্তরে হাসল অজিত । মৌমিতা বলল:-
    - আপনার বন্ধুকে নিয়ে আর পারি না! জ্বলে পুড়ে গেলাম। সব সময় টেনশানে থাকতে হয় । ওই জমানাতেও একই কেস করত আর এই জমানাতেও সেই জেদ । এটা ক্যালকাটা পুলিসের অ্যাডেড এরিয়া হওয়াতে এখানে নিয়ে এসেছে । জানি না, কপালে কি আছে । আর কেয়া বৌদি, তোমাকেও বলি- এইসব গণ্ডগোলের মধ্যে যাও কেন বাপু ! বুঝতে পেরেছি, তুমি ওই দিন স্কুলে যাবে না ! তাই এই থ্রেট ! পুলিশের ঘর করছি তো, একটু একটু বুঝি ।
    অজিত জিজ্ঞেস করল- তোর বেস ফোনে কলার আই ডি আছে সুমন্ত ?

    - না নেই ! এটা তো জাষ্ট সেল ফোন অফ করে রাখলে রাতে ব্যবহার করি আমরা । তাছাড়া, ফিনান্স কোম্পানীর লোনের জন্য একটা প্রুফ অফ অ্যাড্রেসও বটে । তাই রাখা।
    - হুম !

    কেয়া হতভম্ব হয়েছিল এতক্ষণ । আস্তে আস্তে সম্বিত ফিরে পেয়ে সকালের ঘটনাটা বলল সবাইকে ।
    অজিত মুচকি হেসে বলল- সেদিন স্কুলে যাবে কি যাবে না, সেটা তোমার ব্যাপার কেয়া । আমার কিছু বক্তব্য নেই । তবে, তোমার সেল ফোনে ওই নাম্বরটা উঠেছে, ঐটে দাও আর সঙ্গে তোমার নাম্বার । দেখি, ট্রেস করতে পারি কিনা !

    সুমন্ত বলল:- আমাকে তো যেতেই হবে । সরকারি চাকরি। না হলে একগাদা হুজ্জতি ! আমি বলি কি কেয়া, তুমি সেদিন স্কুলে যাও । বুবাইকে যেতে হবে না । পাশের ফ্ল্যাটে মাসীমার কাছেই থাকবে । বেকার ঝামেলা বাড়িয়ে কি লাভ? কি বল, অজিত?

    - আমার কিছু বলার নেই, যেতে পারো, তবে ওদের অত সাহস হবে না মনে হয়। শান্ত স্বরে উত্তর দিল অজিত ।
    - হ্যাঁ হ্যাঁ ! কেয়া যাবে ! রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায় ! মৌমিতা ঝাঁঝিয়ে উঠল ।

    তালটা কেটে সেদিনের মত আড্ডা শেষ ।

    বন্ধের আগের দিন সুমন্ত একটা ব্যাকপ্যাকে পাজামা,ফোলানো বালিশ, পাতলা একটা চাদর, টুথব্রাশ, টুথপেষ্ট, তোয়ালে আর এক প্যাকেট তাস নিয়ে চলে গেল অফিসে । একদম বন্ধের শেষে ফিরবে বাড়ীতে, তার পরের দিন ! টেবিল জোড়া দিয়ে রাত কাটাবে অফিসে।
    বুবাইকে সব বুঝিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে মাসীমার জিম্মায় রেখে বেরিয়ে পড়ল । একটা অপরাধ বোধ কাজ করছে মনে । জানে, প্রতিমা দেখেই হাড় জ্বালানো হাসি হাসবে । অহনা ফুট কাটবে , সব সংগ্রামীদের জানা আছে !

    একটু এগিয়েই দেখল- বন্ধ দোকানগুলোতে শাবল দিয়ে পেটান চলছে শাটার গুলোতে । একপাল ছেলে দৌড়াদৌড়ি করছে লাঠি নিয়ে । স্কুলের গেটে ভীষণ ভীড় ।

    ঢুকতে পারবে কিনা স্কুলে, এই চিন্তা কেয়ার মনে । অজিতকে দেখল, পুলিশ নিয়ে খেদানোর চেষ্টা করছে ওই সব ছেলেদের । স্থানীয় কাউন্সিলর চড় উঁচিয়ে হঠাৎ তেড়ে গেল অজিতের দিকে। অজিত প্রাণপণে বোঝাবার চেষ্টা করছে তাকে ।
    অজিতের সহযোগী কন্সটেবলরা ধীরে ধীরে অধৈর্য হয়ে উঠছেন। সহকারী এস আই ছেলেটি এসে অজিতের কানে কানে কিছু বললে সে একটু সরে এল। অজিত মোবাইল বের করে পকেট থেকে। কাউন্সিলার ভদ্রলোক তান্ডব শুরু করেছেন। সঙ্গে বহু ছেলে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে যে কোন মুহূর্তে। এক্ষুণি কিছু করা দরকার। শূন্যে ফায়ার করতে পারলে ভালো হত, কিন্তু প্রয়োজনীয় পারমিশান পাবে না, অজিত জানে। কাউন্সিলার অজিতের দিকে দু’হাত দিয়ে কদর্য ঈঙ্গিত করছে। কেয়া দেখল অজিত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে লাঠি। সামান্য পাঁচ-সাত জনের পুলিশবাহিনী লাঠিচার্জ করতে উদ্যত হতেই কাউন্সিলার পেছিয়ে এসে দাঁড়াল একটা বাসের পেছনে। ফ্লিপ-টপ মোবাইল খুলে চাপাগলায় কাউকে নির্দেশ দিলেন, “টপকা দে শালে কো!” ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে হতভম্ব কেয়ার তখন নড়ার ক্ষমতা নেই।

    হঠাৎই একটা চকরা-বকরা সার্ট পরা ছেলে পেছন দিক থেকে তীরবেগে দৌড়ে গেল অজিতের দিকে। পাতলা হিলহিলে চেহারা। বয়েস বড়জোর কুড়ি। এস আই শান্তনু সাবধান করার আগেই ছেলেটা রিভলবার বের করে গুলি ছুঁড়ল। অজিতের পিঠ ভেদ করে ঢুকে গেল সেই বুলেট। সকলের সামনে অজিতের সুঠাম দেহ লুটিয়ে পড়ল রাস্তায় । কেয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধরাধরি করে অজিতকে নিয়ে গেল কনষ্টেবলরা । এবার আর কেয়া এগুলো না স্কুলের গেটের দিকে । প্রায় দৌড়ে এসে সামনের মোড় থেকে একটা ট্যাক্সি পেয়ে গেল কেয়া। পথে প্রায় চল্লিশ মিনিট সময় তার সমস্ত স্বত্ত্বা জুড়ে আতঙ্কের ছায়াছবি। মাসীমার ফ্ল্যাটের দরজা ঠেলে ঢুকলো কেয়া ।
    বুবাই ওকে দেখেই লাফিয়ে উঠে কেঁদে বলল :- মা, অজিতকাকুকে গুলি করে মেরে ফেলেছে ওরা! মাসীমাকে দেখল- আঁচল দিয়ে চোখ মুছছেন । মৌমিতা আর টুনটুনির মুখটা ভেসে উঠতেই বুবাইকে জড়িয়ে ধরে কেয়া কেঁদে ফেলল ঝরঝর করে ।
    চোখের জলের নোনতা স্বাদ পেতে পেতে কেয়া টের পেল তার কান গরম হয়ে উঠছে। বুকের ভেতর এক অসহ্য জ্বালা। কিসের জন্য বুঝে উঠতে পারল না কেয়া। তার গলা দিয়ে কান্নার বদলে এক তীব্র চিৎকার উঠে আসতে চাইছে। সারা শরীরে পাক খাচ্ছে,একটা প্রচন্ড ঘেন্না । কেয়া বুঝতে পারল সে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে আজ।

    তখন টিভিতে বারবার,বিরক্তিকর ব্রেকিং নিউজ :- সমাজ বিরোধীদের গুলিতে পুলিশ আধিকারিকের মৃত্যু !
    কেয়া জানে এ দৃশ্যও উপভোগ করার দর্শক আছে...
    ################সমাপ্ত#########

    “গল্পগুচ্ছ” ই- পত্রিকার ২০ শে মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত ।
  • ranjan roy | 24.96.80.173 | ২১ মার্চ ২০১৩ ২০:৩০542339
  • ঘনাদাকে নমস্কার!
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন