এটা মানুষের নেচার যে নিজেরা যেরকম হয় যা যা করে বিশেষ করে বদমায়েশী কান্ডকারখানা অন্যেও যদি সেরকম করে, এই নিয়ে তাদের ইনসিকিওরিটি সবচেয়ে বেশী থাকে।আন্না আন্দোলন পুরোপুরি একটা ছক ছিল, ওই ইস্যুতে এত বড় আন্দোলন হওয়ার কথা নয়। এসব ছাড়াও হয়ত ইউ পি এ সেবারে হারত কিন্ত এদের দরকার ছিল এমনভাবে আসা যাতে অ্যাবসলিউট মেজরিটি নিয়ে আসে।
শুধু আন্নাতে হয়ত এটা হত না। ঠিক পরে পরে একাধিক স্ক্যাম চলে এল, পরবর্তী দু তিন বছরে একটার পর একটা স্ক্যাম আসতে লাগল যাতে ২০১৪ অবধি মানুষের মনে সবসময় এই ধারণা থেকে যায়।
আমাদের সেক্টরে কয়লা স্ক্যাম নিয়ে কথাবার্তা অনেকদিন শোনা যাচ্ছিল। ছত্তিশগড় তখন বিজেপির, ওরা বিভিন্ন অফিশিয়ালস দের কাছ থেকে রাজ্য সরকারি পাওয়ার দেখিয়ে ইনসাইডার ডকুমেন্ট দিতে বাধ্য করেছিল, এভিডেন্স হিসেবে।
কিন্তু কয়লা স্ক্যাম সামনে আনে অনেক পরে সময় বুঝে, হাতে রেখে রেখে। ট্যু জি টা তো পুরো ভুলভাল। কিছু গন্ডগোল তো হয়েই থাকে সরকারি বিলি ব্যবস্থায়, রাজা তো বেকসুর খালাসও হয়ে গেছে। টু জি তে সব বেরোলে দেখা যেত সম্ভবত বিজেপির প্রমোদ মহাজনের সময় থেকে শুরু, তাই সব সামনে আনতে পারেনি।
এখন কথা হচ্ছে ওরা ভয় পাচ্ছে যে এবার ওদের দেখানো রাস্তায় গিয়েই বিরোধী রা বা কংগ্রেস এদের মাত দেয়। স্ক্যাম তো এদের হাজার একটা, যত বেশী সময় সরকারে থাকবে তত স্ক্যাম, খুঁজলে অভাব হবে না। এই আন্দোলন, ইথানল, ল্যান্ড স্ক্যাম তো হাতে গরম আছেই। ভোট চুরি পুরোটা সামলাতে পারবেনা।
আন্দোলন কাল পরশু তে শেষ হয়ে যাবে কিন্ত দরজাটা খুলে দিল, প্রশ্ন করার, বিরোধিতা করার স্পেস টা যে নিজেরা চাইলেই ফিরে পাওয়া যায় সেটা বুঝিয়ে দিল। সেটা এই ভাজপাই আর তাদের অন্ধভক্ত দের সেট ন্যারেটিভ টাতে একটা প্রচন্ড ধাক্কা।
সৈকত অনেক লিখছে, গুরুতে একটা পয়েন্ট ধরে সো মি তে চাড্ডি দের কে কাউন্টার করার জন্যে কিছু কাউন্টার ন্যারেটিভ লিখলে ভালো হয়। এই আন্দোলন এবং এমনি সাধারণ ইস্যু নিয়ে। খুব কঠিন হবেনা, ওদের তো সবেতে সেই একই, পাকিস্তান জর্জ সরোস চীন, হিন্দু খতরে মে, জহরলাল নেহরু। সাধারণ লোকজন এগুলো হলে সো মি তে এদের কাউন্টার করতে হবে।
এরকম একটা সো মি আন্দোলন খুব জরুরী। সবাইকে যে দিল্লি গিয়ে যন্তর মন্তরে বসতে হবে তা তো না। আন্দোলন প্রতিবাদ গণতন্ত্রে অনেক ভাবে হয়।
আর এখানে তো প্রচুর বিদেশে থাকা লোকজন, খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনাদের দেশে বা কাছাকাছি কোথাও প্রদর্শন হচ্ছে কিনা, চাইলে যেতে পারে, অনেক দেশে হয়েছে বা হচ্ছে কুড়ি তারিখে আন্দোলনকারী বাচ্চাদের ওপর নির্মমতার জন্য। পেলেট গান, পেরেক বসানো লাঠি, এক্সপায়ার্ড টিয়ার গ্যাসের শেল, ভাবুন একবার। রাগ হচ্ছেনা? হোয়াটএবাউটারির পোকাটা মাথা থেকে বার করে, অতীতের চর্বিতচর্বনে সাময়িক ক্ষান্তি দিয়ে, এই বর্তমান, নিজের দেশের এই ছেলেমেয়েগুলোর কথা শুনলে হয় না?
অভিজিত দিপকে হতেই পারে সেদিনের অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেদিনের আর এস এস ফান্ডিং জানেন বলেই হয়ত আজকের এটা ফান্ডেড নয় বলে বিশ্বাস করা শক্ত হচ্ছে। হতেই পারে, তাতে এই আন্দোলনের ইস্যু গুলো মিথ্যে হয়ে যায় না।
আর এত নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সোশ্যাল মিডিয়া কভারেজ সত্বেও যারা এই আন্দোলনের কী হচ্ছে জানেনা, এখানে এসে জানতে চায়, আজকের যুগে তারা আমার মনে হয় নির্ঘাত গোদী মিডিয়াই শুধু দ্যাখে।
তবুও যদি শুধু মজার জন্যেই জানতে চান কেউ, তারা টই দেখে সৈকতের লেখাগুলো পড়ে নিন, ও সব জায়গা থেকে খবর নিয়েই লিখছে।