এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  নাটক

  • আই এস আই - কত যে মধুর স্বপ্ন ছিল

    dukhe
    নাটক | ১৭ অক্টোবর ২০১১ | ৪৪৯৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Abhyu | ২২ নভেম্বর ২০১১ ১৯:০০493761
  • সিমলা ট্যুরে অভ্যুদয় হিন্দীতে সোয়েট শার্টের দর করেছিল - ইয়ে ক্যাপওয়ালা ফোর ফিফটি হ্যায়, উয়ো ক্যাপবিহীন ভি ফোর-ফিফটি হ্যায়? আর মৃদুল মাল খেয়ে এমন অবস্থা করেছিল যে পরের দিন সকালে দীপাঞ্জন বলল - হি ইস নট এবল তো গেট ডাউন ফ্রম দ্য বেড। ওকে বলা হল, গেট ডাউন না রে, ওটা গেট আপ ফ্রম দ্য বেড হবে। দীপাঞ্জন বলল - গেট আপের তো প্রশ্নই নেই, গেট ডাউনও সম্ভব নয়।
  • dukhe | ২২ নভেম্বর ২০১১ ১৯:০৪493762
  • কোরাস গানের দল বেঁধেছিল তীর্থদা। কলেজ ফেস্ট। তাতে গ্রুপ সঙ আছে। হোম টিম নামবে না - তাও কি হয় ?
    তীর্থদা যেমন ভালো গায়, তেমনি ভালো ছেলে। কিন্তু সঙ্গে গাবে কে ? ছেলেমেয়ে মিলিয়ে কুল্লে হয়তো চারজন গাইতে-টাইতে পারে। কিন্তু স্‌ৎ কাজে লোকের অভাব হয় না। উদারচিত্ত তীর্থদা কাউকে বাথরুমে গুনগুন করতে দেখলেই "তোর তো বেশ সুরেলা গলা" বলে ডেকে নিচ্ছে। কেউ কেউ ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশনে ভালো বলেও দলে ঢুকে গেছে। এই করে করে ফুলেফেঁপে জনা চল্লিশের ব্যবস্থা হয়েছে। এত জনকে সামলাতে গিয়ে চেঁচামেচি করে তীর্থদার গলা ভেঙে গেছে। কোরাসের হালও তথৈবচ। জিওলজি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠান। এক এক করে এই বিশাল টিম যখন স্টেজ উপছে দাঁড়াল, বিচারকদের চক্ষুস্থির। তারপর গান। তার কথা না বলাই ভালো। দু-চারজনের সুরেলা গলা মেজরিটির দাপটে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার একা পাগল তার বাজখাঁই গলায় হার্মোনাইজ করে চলেছে !

    এই পাগল একবার হেপাটাইটিস বি বাধিয়ে নীলরতন সরকারে ভর্তি হল। হস্টেল থেকে নিয়মিত খাবার পৌঁছনো হত। কিন্তু দিনের পর দিন হাসপাতালে শুয়ে থাকাও তো বিরক্তিকর। অগত্যা এক বিকেলবেলা বেরিয়ে বেচারা প্রাচীতে সিনেমা দেখতে গেল। ফেরার সময় দারোয়ান পথ আটকে বলে ভিজিটিং আওয়ার শেষ। পাগল হাতজোড় করে জানাল - আমিই পেশেন্ট !
  • Bratin | ২২ নভেম্বর ২০১১ ২২:৩০493763
  • টু মাচ। ইন ফ্যাক্ট থ্রি মাচ।
  • Bratin | ২২ নভেম্বর ২০১১ ২২:৩৪493764
  • মৃদুল র সাথে দেখা হল বিয়ে বাড়ি তে। কিন্তু গোঁফের অভাবে তাকে চিনতে পারি নি প্রথমে।

    মৃনাল এখন বারসাত ইউনি তে পড়ায়।
  • dukhe | ২৮ নভেম্বর ২০১১ ১৪:০১493765
  • ভালো ছেলে বলতে যা বোঝায়, শান্তনুদা হল তাই। পড়াশোনায় খুব ভালো। খেলাধুলো করে না, কিন্তু ক্রিকেটের যাবতীয় ইতিহাস ভূগোল কণ্ঠস্থ। দোতলার লাউঞ্জে বসে দূরদর্শনে রোববার বিকেলের বাংলা সিনেমাটা রিলিজিয়াসলি দেখত। একদিন কী কারণে আসতে দেরী হয়েছে। মাঝখান থেকে সিনেমা দেখতে বসলে যা হয়। এক দৃশ্যে কয়েকজন মিলে একজনকে মারছে, শান্তনুদা কৌতূহলী হয়ে উঠল - ওরা ওকে মারছে কেন ? দিব্যেন্দু লাউঞ্জেই এতক্ষণ মন দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিল, মুখের সামনে থেকে কাগজ সরিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে নির্বিকারভাবে জানাল - ওরা মারতই, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।

    এইভাবে, একটি নতুন প্রবাদের জন্ম হয়। উত্তরকালে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই 'সুযোগের অপেক্ষায় ছিল' তঙ্কÄ খাপে খাপে বসে যেতে থাকে।

    এই টইয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন একটা সাম্প্রতিক উদাহরণ দিই। সকালে ঘুম থেকে উঠে ইস্কুল যেতে শিশুর ঘোর আপত্তি। "আজও কেন ইস্কুল যেতে হবে" বলে নৈমিত্তিক ক্রন্দন এবং ঘ্যানঘ্যানানি বাবদ পনেরো-কুড়ি মিনিট হিসেবে ধরাই আছে। শনি-রবি ছুটি - এট্টু আরাম করে ঘুমোক বলে ঘাঁটানো হয় না। শনিবার সাড়ে নটা নাগাদ ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। শিশুর প্রশ্ন - ইস্কুল আছে ?
    - না বাবা, আজ ছুটি।
    - কেনূঊ? আজ কেন ইস্কুল নেই ? (ক্রন্দন)
    কী বলবেন ? "কাঁদতই, সুযোগের অপেক্ষায় ছিল" ছাড়া ?
  • Paramita | ২৮ নভেম্বর ২০১১ ১৪:১৭493766
  • এটা আমি নিলাম। শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকবো কখন, কোথায় লাগানো যায়।
  • pi | ২৯ নভেম্বর ২০১১ ০৩:৪০493767
  • :))
  • dukhe | ২৯ নভেম্বর ২০১১ ১৪:১১493768
  • ওয়ান ডে চলছে। ইন্ডিয়া-শ্রীলঙ্কা। রাজেশ চৌহানের বল। রণতুঙ্গা পিটিয়ে পাট করে দিচ্ছে। প্রান্তিক ধারাবিবরণী শুরু করল -
    - রাজেশ চৌহান দলের নিয়মিত অফস্পিনার। অন্যদিকে ক্রিজে রয়েছেন বাঁহাতি রণতুঙ্গা। অধিনায়ক এক্ষেত্রে উচিত কাজটিই করছেন। আমরা সবাই জানি ডানহাতি অফস্পিনারকে খেলতে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সমস্যায় পড়ার কথা। কারণ তাঁর ক্ষেত্রে ওটি লেগস্পিন হয়ে যাচ্ছে। এটি ক্রিকেটের - পরিভাষায় যাকে বলে - অতি প্রাথমিক জ্ঞান। অথচ এই মুহূর্তে দেখাই যাচ্ছে রণতুঙ্গার কোন অসুবিধাই হচ্ছে না। এ থেকে প্রমাণ হয় -
    - কী ? - সবাই উদগ্রীব।
    প্রান্তিক মুচকি হেসে ধারাভাষ্য শেষ করল - রণতুঙ্গা ক্রিকেটের কিছুই বোঝেন না।
  • dukhe | ২৯ নভেম্বর ২০১১ ১৭:৩৬493769
  • অসম্ভব পোকাভীতু মৌলিনাথ। তার জন্য মঞ্চ তৈরি করা হল। একটা জাম্বো জেট পোকা ধরে 555 সিগারেটের বাক্সে ভরা হয়েছে গভীর অধ্যবসায়ে। বগার জামার পকেটে সেই বাক্স।
    তখন শুক্রবার রাত নটায় বচ্চনের সিনেমা দেখাত। লাউঞ্জে প্রচুর ভিড়। সিনেমায় মগ্ন জনতা। বগা পকেট থেকে আস্তে আস্তে প্যাকেট বের করল। এরপর ঘোষণা - জনগণ, আর একটাই আছে - কে পাওনি বল - এই বলে প্যাকেটখানা তুলে ধরল। প্ল্যানম্ফিক ভক্কু লাফিয়ে উঠল - এদিকে দে। বগা চোখ পাকিয়ে ধমকাল - চুপ কর, তুই দুটো নিয়েছিস শুয়ার। আরো দু-একজন বায়না ধরল, বগা দাবড়ে দিল। এবার মৌলিনাথ - বগাদা, ফাইভ ফিফটি ফাইভ ? আমাকে দাওনি তো !
    বগা ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ সন্দিগ্‌ধভাবে মাপল। তোকে দিইনি ? ঠিক বলছিস ? আচ্ছা, একটাই আছে - প্যাকেটসুদ্ধ রাখ।
    মৌলিনাথ কিন্তু নিয়েই সিগারেট ধরাতে গেল না, যত্ন করে পকেটে রাখল। সিনেমা চুলোয় গেছে, সবার রুদ্ধশ্বাস নজর মৌলির পকেটে।
    একটু পরে আস্তে আস্তে পকেট থেকে বের করল। টিভির দিকে তাকিয়েই আলগোছে আঙুলে করে সিগারেট বের করতে যাবে, প্রত্যাশামাফিক তিন-চারজনের ঘাড়ের ওপর দিয়ে চেয়ার-টেয়ার উলটে লাউঞ্জের বাইরে গিয়ে পড়ল। পোকাটা বারদুয়েক চক্কর দিয়ে টা টা বাই বাই করে গাছপালার দিকে।
    সমবেত উল্লাস প্রশমিত হলে ক্ষুব্ধ মৌলির প্রশ্ন - ওটা যদি বিষাক্ত হত ? যদি আমাকে কামড়াত ?
    প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল - আমরা কি সে কপাল করে এসেছি ?
  • dukhe | ০২ ডিসেম্বর ২০১১ ১৭:২৬493771
  • প্রেমের ব্যাপারে আমাদের এক বন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মৌলিক। বলত - প্রোপোজ তো করাই যায়, কিন্তু হ্যাঁ বললেই তুই গেছিস ভায়া !
    তার অঞ্চলের একটি মেয়ে এ হেন রত্নের পশ্চাদ্ধাবন শুরু করায় হস্টেলে অফার দিয়েছিল - একটা স্পেডের বিবি আছে, কেউ নিবি ? দু একজন আগ্রহ প্রকাশ করলেও যখন শুনল বিবি জোটাতে টেঙিয়ে বালি যেতে হবে, পিছিয়ে গেল। মেসের খাবার খেয়ে অত দৌড়ঝাঁপ পোষায় না।
  • maximin | ০২ ডিসেম্বর ২০১১ ১৮:৪৬493772
  • ফাইভ ফিফটি ফাইভের গল্পটাতে অ্যান্টিক্লাইম্যাকসের পোটেনশিয়াল ছিল। সেটা হল না।
  • maximin | ০২ ডিসেম্বর ২০১১ ১৮:৪৯493773
  • শিশুর গল্পটা ভালো লাগল।
  • dukhe | ০২ ডিসেম্বর ২০১১ ১৯:০৩493774
  • ম্যাক্সিমিন তবে এইটা শুনুন - হস্টেলেই একজন বলত।

    এক রাজা ছিল। রাজা আর রাণীর এক মেয়ে। রাজ্যে সুখশান্তি উপছে পড়ছে। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ। রাজার হাতীশালে হাতী, ঘোড়াশালে ঘোড়া। পড়শি রাজাদের সঙ্গেও সম্পর্ক খুব ভালো। চুরি ডাকাতি জালিয়াতি কিছুই নেই।
    সবই ভালো, কিন্তু রাজারাণীর মনে শান্তি নেই। কারণ মেয়ে নয়নমণি দিনে দিনে বড় হয়ে উঠল। যেমন সে সুন্দরী, তেমনি মিষ্টিস্বভাব। রাগ হিংসে কাকে বলে জানে না। বিয়ে দিতে হবে এবার। অথচ পছন্দসই পাত্র পাওয়া যায় না। রাজা দেশে দেশে লোক পাঠান, তারা সব নতশিরে ফিরে আসে। না:, যোগ্য পাত্রের সন্ধান নেই। এদিকে বয়স বাড়ছে। অপেক্ষায় অপেক্ষায় রাণীমার উদ্বেগ। চোখের কোণে কালি। রাজার মুখ দিনে দিনে গম্ভীর। প্রজারাও বিষণ্ন। (এইখানে বিরতি)

    - তারপর? - শ্রোতা উৎসুক।

    - তারপর আর কী ? পাত্র পাওয়া গেল, বিয়ে হল। তোর জন্যে বসে থাকবে নাকি ?
  • agantuk | ০২ ডিসেম্বর ২০১১ ২২:৩৫493775
  • নিধান আমাদের গল্প শোনতো। একদিন গুছিয়ে বসে শুরু করেছে, 'সিঁয়ালদার রাঁস্তায় দুঁটো বেঁস্যা মাগি...', অমিতেশ বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠলো 'নিধানটা সবসময় বড় অশ্লীল কথা বলে, এইসব একদম শুনব না।'

    নিধান খুব দু:খ পেয়ে উদাসমুখে জিভটাকে গালের ভেতর নিয়ে গিয়ে (আমরা বলতাম নিধান টাং-ইন-চীক হয়ে গেছে) বলল, 'আঁচ্ছা, তোঁদের সঁবার যঁখন এঁত আঁপত্তি, তাঁহলে এঁখন থেঁকে বেঁস্যা ভঁদ্রমহিলাই বঁলব'।
  • dukhe | ০৩ ডিসেম্বর ২০১১ ১৩:০৭493776
  • বেশ কিছু ছাত্রের ক্ষেত্রে হাস্টেলই ছিলা বাড়ি। পারত:পক্ষে বাড়িটাড়ি যেতা না। দিব্যেন্দুর বাড়ি এমন কিছু রাজস্থান কি পণ্ডিচেরি না, নেহাতই শিবপুর। সেটুকুও গিয়ে উঠতে পারত না। হঠাৎ এক শনিবার দেখা গেল দিব্যেন্দুর ঘরে তালা। আবার পরের দিন হাজির।
    - কী ব্যাপার ? গেছলি কোথায় ?
    - বাড়ি।
    - হঠাৎ ?
    - এই, দিদির বিয়ে ছিল।

    বছরে একটা ট্যুর। শোনা গেল ডলি (ইনি কোন নারী নন, এক ছাত্রের ডাকনাম ) যাবে না।
    - যাবে না কেন ?
    - না:, বাড়িতে কাজ আছে।
    মধ্যে একদিন ডলির বাবা হস্টেলে এসে শুনলেন ছেলে ট্যুরে যাচ্ছে না।
    - কী রে, যাবি না কেন ?
    - না:, বাড়িতে কাজ আছে।
  • Abhyu | ০৩ ডিসেম্বর ২০১১ ১৯:৪৯493777
  • জাস্টিন থোলাথ। ট্যুরে যাবে না। কেউ বুঝিয়ে উঠতে পারল না। ডীন তখন পি এস এস, ভারি কড়া লোক। বললেন এটা তো এডুকেশনাল ট্যুর, যেতেই হবে। শুনে জাস্টিন বলল, সিমলায় খুব ঠাণ্ডা, আমার গরম জামা নেই। যখন ইনস্টিটিউট চায় যে আমি যাই, তখন এটা ইনস্টিটিউটেরই দায়িত্ব আমার জামা কিনে দেওয়া।

    ডীন বললেন, থাক বাবা, তোমাকে আর যেতে হবে না।
  • Update | ০৪ ডিসেম্বর ২০১১ ১১:৫৩493778
  • Name:AbhyuMail:Country:

    IPAddress:97.81.89.90Date:04Dec2011 -- 09:25AM

  • dukhe | ২০ ডিসেম্বর ২০১১ ২১:২২493779
  • অমিয় মুখার্জীর অ্যানালিসিস ক্লাসে শরৎ একটা প্রশ্ন করেছিল। ক্লাস প্রায় শেষ, অমিয়বাবু বললেন পরের দিন হবে। পরদিন ক্লাসে এসে ওনার কালজয়ী উক্তি - "শরৎ গেভ মি আ প্রবলেম। বাট ইট ওয়াজ ভেরি ডিফিকাল্ট। সো আই হ্যাভ সলভড অ্যানাদার ওয়ান। "
    প্রত্যাশামতই, এই অ্যানাদার ওয়ান তঙ্কÄও প্রবাদ হয়ে দাঁড়ায়।
  • agantuk | ২০ ডিসেম্বর ২০১১ ২৩:১৬493780
  • নিধানের মোজায় ভয়ানক দুর্গন্ধ। তার থেকে চালু হোলো, সান্টা ক্লজ কেন আইএসাআইতে আসে না? কারন নিধান নাকি একবার ক্রিসমাসে মোজা ঝুলিয়েছিল।
  • dukhe | ০১ জানুয়ারি ২০১২ ২০:৫০493782
  • ছুটি পড়েছে। কিন্তু গুটিকয় পাপী তখনও হস্টেলে। মেস বন্ধ। অগত্যা ঘোষ কেবিন। কিন্তু সেখানেই বা যেতে হবে কেন ? ভক্কুর ঘরেই যখন হিটার আছে। রান্না জানা নেই বলে স্বপাক চলবে না - এটা কোন কথা হল ? তাছাড়া একেবারে না জানাও নয়। কদু ডিম ভাজতে পারে, আর চিরু জল গরম করতে।
    কিন্তু কী খাওয়া যায় ? ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত - দিব্বি মেঘলা দিন, হাওয়া চলছে - রাত্রে খিচুড়ি না করার মানে কী ? পদটা শোনা যায় রাঁধাও শক্ত না। সর্বোপরি, ডাল তরকারি কিছুই রাঁধতে হবে না, চাট্টি ডিম ভেজে নিলেই হল।
    তখন কোথায় গুগল, কোথায় অনলাইন রেসিপি। রেসিপির সন্ধানে চারমূর্তি চটিপায়ে বেরোল। কালিকা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে গিয়ে মুখ থেকে "ইয়ে, দাদা, খিচুড়ি কেমন করে রাঁধে?" বেরিয়েছে কি বেরোয়নি, তিনজন উৎসাহী লোক রেসিপি নিয়ে ঘিরে ধরল। বেগতিক দেখে সিংহহৃদয় নিতাইকে এগিয়ে দেওয়া হল তিন ধারার রেসিপির শাঁসটুকু উদ্ধার করে আনতে। মিনিট পনেরো ধ্বস্তাধ্বস্তির পর নিতাই ফিরে এল। মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি। "সব বুঝে গেছি বস, শুধু নাড়তে হবে, নইলে তলা ধরে যাবে। "
    যথাসময়ে রান্না চাপল। নাড়ার গুরুদায়িত্ব নিষ্ঠাভরে পালা করে পালন করা হল। ঢাকনা খোলার শুভলগ্ন। খুলে একটা কেমন কেমন লাগল।
    "নিতাই, তোর খিচুড়ি সাদা কেন রে ?"
    "সাদা ? অ্যাঁ ? ঐ যা:, হলুদ দিতে ভুলে গেছি। " - দমে না গিয়ে নিতাই অভয় দেয় - "রঙ হয়নি তো কী হয়েছে, খেতে ভালো হলেই হল। "
    যুক্তিতে ভুল নেই। মহাপুরুষেরাও বলেছেন - রঙে কী বা এসে যায়। বেড়াল যে রঙেরই হোক, ইঁদুর ধরা নিয়ে কথা।
    সবাই পাত পেড়ে বসল। নিতাই হাতায় করে যত্নে বেড়ে দিল। প্রথম গ্রাস মুখে তুলল কদু। সবাই উদগ্রীব। গ্রাস শেষ করে মুখ খুলল কদু - "শুধু রঙ হয়নি তাই নয় রে নিতাই, স্বাদও কিছু - "

    সেই নি:স্বাদ খিচুড়ি অবশ্য ফেলা যায়নি। যদিও ডলি আর নিধানের অভিজ্ঞতা আরও করুণ। একদিন এসে বলল - "বল তো আজ আমরা কী রেঁধে খেলাম ?"
    "কী ? অমলেট ?"
    নিধান শুধরে দিল - "না না, ডলি তো ডিম খায় না। "
    "সে তো আমি পোড়াভাতও খাই না। " - ডলি বেজারমুখে নিধানের খয়েরি সোয়েটার দেখাল - "এইরকম রঙ হয়েছিল। "
  • Tirthang | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ০৯:০৮493783
  • কালিকা মিষ্টান্ন ভান্ডারে একদিনের কথোপকথন:

    কল্পতরু: একশো গ্রাম মিষ্টি দই দিন তো।
    দোকানদার: খাবেন?
    কল্প: না, মুখে মাখবো।
    দোকানদার (খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে গম্ভীর হয়ে): এখন খাবেন কিনা জানতে চাইছিলাম।

    দইটা অবিশ্যি বিশেষ সুবিধের ছিল না। পরেরদিন কল্পতরু ঐ দোকানে গিয়ে ভারী বিনয়ের সঙ্গে শুধিয়েছিল: "আপনাদের ওই আটা দেওয়া দইটা একশো গ্রাম দেবেন তো!'
  • Bratin | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ০৯:১৪493784
  • :-))

    তীর্থ দা আরো হোক।
  • Paramita | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ২২:১৩493785
  • পুরানো সেই দিনের কথা.. তীর্থং, ফিরতে দেখে খুব ভালো লাগলো।

    কিন্তু কল্পতরুদা বেশ একটু মিচকে ছিল তো? মুখ দেখে বোঝাই যায়না।
  • Paramita | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ২২:১৫493786
  • পুরানো সেই দিনের কথা.. তীর্থং, ফিরতে দেখে খুব ভালো লাগলো।

    কিন্তু কল্পতরুদা বেশ একটু মিচকে ছিল তো? মুখ দেখে বোঝাই যায়না।
  • pi | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ২২:৩২493787
  • আই এস আই র জনতার ফেভারীত কোনটা ছিল ? কালিকা না কৃষ্‌ণচন্দ্র ?
  • I | ০৯ জানুয়ারি ২০১২ ২৩:৩১493788
  • তীর্থং, জ্জিও ! ফিরে এসেছো দেখে প্রবল আমোদিত হয়েছি।
  • Tirthang | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০০:৫৯493789
  • সক্কলকে ধন্যবাদ আর নতুন বছরের শুভেচ্ছা। গত দু বছর জীবনের অন্ধকারাচ্ছান্ন সময়ে গুরু'র যে সব সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়েছে ও সাহস যুগিয়ে গেছে তাদের কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা নেই।
  • hu | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০১:০২493790
  • তীর্থদা, খুব খুশী হলাম তোমাকে দেখে।
  • Tirthang | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০১:১৮493791
  • দুখে'র 22 Nov 2011 -- 07:04 PM -এ করা কোরাস গান সম্পর্কিত পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে দু চার কথা ও কিছু সংযোজন।

    গানের একটা ছিল "কুটিলের বাধা যত ঘৃণার নিষ্ঠুরাঘাতে বাঁধিরে'। এমনিতেই বিশটা গলা গোলার মত দিগ্বিদিকে ছুটছে, তার মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত এরকম টাং টুইস্টার! হারমোনিয়াম বাজাতে বাজাতে শেষে তিতিবিরক্ত হয়ে অমিতেশ বলল, "এই সমস্ত - দুর্যোধন জর্দা খেয়ে দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল' - মার্কা লাইনগুলো বাদ দিয়ে দাও তো!

    প্রতিযোগিতার শেষে মুখ চূণ ক'রে বসে থাকা তীর্থ অসংখ্য আই এস আই জনতার কাছ থেকে অভিনন্দন পেয়ে তাকে প্যাঁক ভেবে বেজায় ব্যোমকে গেল। পরে জানা গেল অভিনন্দনগুলো খুবই আন্তরিক ছিল। আই এস আই নাকি অনেক বছরের লাস্ট হবার ট্র্যাডিশন ভেঙ্গে সেবার আটটি দলের মধ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করেছিল।
  • pi | ১০ জানুয়ারি ২০১২ ০১:৪৩493793
  • :))
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন