( ৫ ) কুলচা একটা মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানিতে চাকরিতে ঢুকেছে। মুম্বইয়ে পোস্টিং। আট দিন পরে জয়েনিং। গোছগাছ শুরু করে দিয়েছে এখন থেকে। বেশ উত্তেজিত অবস্থায় আছে। সকালের দিকে কলতানকে ফোন করে বলল, --- ' তানমামা ... খবরটা শুনেছ তো ? ' --- ' চাকরির খবরটা তো ? ' --- ' হ্যাঁ .... ' --- ' হ্যাঁ ... দিদি বলেছে কাল। সত্যিই সুখবর। কনগ্র্যাচুলেশান কুলচা ... ' --- ' মোস্ট ওয়েলকাম তানমামা... ' --- ' তবে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। কথাটা অন্যভাবে নিস না ... ' --- ' মানে ? ' --- ' আমার আর কোন ওয়াটসন থাকল না ... ' --- ' ও এই কথা ? তোমার আবার কোন ওয়াটসন লাগে নাকি ? তুমি আমাকে স্নেহ ... ...
( ৪ )উকিলবাবু বিক্রমজিৎ নিয়োগীর চেহারা ফর্সা, বেশ গোলগাল নাদুস নুদুস ধরণের। উচ্চতা মাঝারি। মাথায় টাক পড়ে গেছে। গোঁফ দাড়ি কামানো মাখনের মতো মসৃন মুখমন্ডল। চোখ দুটো উজ্জ্বল বুদ্ধিতে চিকচিক করছে। মিটি মিটি হাসি ভরা মুখ। আইনের নানা বইয়ে ঠাসা ঘরের তিনদিক ঘিরে কাঁচের আলমারি।বিক্রমজিৎবাবু চেয়ারের হাতলে ডান কনুই রেখে গালে হাত দিয়ে মিটিমিটি হাসি ভরা মুখে কলতানের মুখের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন চিকচিকে চোখে।কলতান বলল, ' বডির ভিসেরা টেস্ট হয়েছিল ? জানেন কিছু ? '--- ' স্টম্যাকে পয়জন ডিটেক্টেড হয়েছে যখন ভিসেরা টেস্ট নিশ্চয়ই হয়েছে ... '--- ' মানে, আপনি পি এম রিপোর্ট দেখেননি ? '--- ' হাতে পাইনি ... ... ...
( ৩ ) সল্টলেকের দেবপ্রভ রাহা। কলতানের ফোন ধরে বললেন, ' হ্যালো ... প্লিজ হোল্ড অন ... ' বলে কার সঙ্গে যেন কথা বলতে লাগল। বেলা সাড়ে বারোটা বাজে। নিশ্চয়ই দেবপ্রভ এখন অফিসে আছে। যেটুকু আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে কাউকে কোন কাজের ব্যাপারে কিছু নির্দেশ দিচ্ছে। যাকে বলছে তারও গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সে মনে হচ্ছে, দেবপ্রভর সঙ্গে কোন একটা ব্যাপার নিয়ে তর্কাতর্কি করছে। কলতান ফোন ছাড়ল না। ফোন ধরে রইল। প্রায় চার মিনিট পরে ওদিক থেকে আওয়াজ এল ... ...
( ২ )শুদ্ধসত্ত্ববাবু ফোন তুলেই বললেন, ' ইয়েস কলতান, তোমার ফোনের অপেক্ষাতেই ছিলাম। তারপর বল, ম্যাডামের সঙ্গে কথা হল ? '--- ' হ্যাঁ উনি এসেছিলেন। একটু আগে বেরিয়ে গেলেন ... '--- ' কথাবার্তা হয়েছে নিশ্চয়ই ... '--- ' হ্যাঁ, কথা বলেছি। কাল কাজ শুরু করব ... '--- ' ওয়েল ওয়েল ... কোন হেল্প লাগলে ব'ল।--- ' শিওর শিওর। আপনার হেল্প ছাড়া তো এগোতে পারব না। আচ্ছা স্যার, আপনি ইলিনা স্নাইডারকে কতদিন চেনেন, কিভাবেই বা চিনলেন ? মানে, ইলিনা সম্পর্কে আপনার ইম্প্রেশানটা জানতে চাইছি ... '--- ' সত্যি কথা বলতে কি ইলিনার হোয়্যারঅ্যাবাউটস সম্পর্কে আমার তেমন আইডিয়াই নেই। আমরা একই হাউজিং ... ...
( ১ ) পৌনে দশটা নাগাদ ফোনটা এল। অজানা নম্বর। আজকাল অজানা নম্বরের ফোন ধরাটা খুব ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে কোন তথ্য না দিলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাফ করা যায় না। কলতানেরও সেটাই যুক্তিযুক্ত মনে হয়। কিছু ইনপুট না পেলে জালিয়াতরা ঢোকার রাস্তা পাবে কি করে। তবে এসব ভাবলে তো কলতানের চলবে না। অজানা নম্বর থেকে তো তার কাছে ফোন আসবেই। সেগুলো এড়িয়ে গেলে ... ...
( ৫ ) দিন তো আর বসে থাকে না। মানুষের জীবনের ঘটনাগুলো চাকায় বেঁধে সে অবিরাম গড়িয়ে চলে। কৌশিক দত্ত আর মনোময় মৈত্র একদিন দুপুরবেলার দিকে শংকরকে আই এফ এ অফিসে নিয়ে গিয়ে সইসাবুদ করিয়ে আনল।নিয়মকানুন না মেনে উপায় নেই। মেঘলা দিন, বাদুলে হাওয়া বইছে থেকে থেকে। সারা ময়দান জুড়ে পড়েছে মেঘের ছায়া। ধর্মতলা আর ময়দানের আশেপাশে এলেই নানা সুরভিত স্মৃতির হাওয়ায় দোল খায় শংকরের মন। নীল রঙা কাঠের পাঁচিলে ঘেরা তিনটে মাঠের মায়া..... লম্বা অ্যাঁকাব্যাঁকা টিকিট ... ...
( ৪ ) সৌভাগ্যক্রমে এম আর আই রিপোর্টে তেমন গন্ডগোলের কিছু পাওয়া গেল না। ডান হাঁটুর পাশের দিকে লিগামেন্টে কিছুটা স্ফীতি আছে। ডক্টর মিত্র তিন চার রকম ওষুধ দিয়েছেন। অন্তত তিনমাস খেতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হাঁটুর ব্যায়াম। সেটা নিয়মিত করে যেতে হবে। সিজন শুরুর আগে অন্তত একমাস বল পায়ে মাঠে না নামাই ভাল।সেটা অবশ্য কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। অপারেশনের কোন প্রয়োজন নেই এই মুহুর্তে। পরে সুবিধেমতো লিগামেন্টের একটা ছোট সার্জারি করে নিতে পারলে ভাল হয়। কিছুটা ফ্লুইড জমে আছে হাঁটুর সামনের দিকে। যদিও ওষুধ খেয়ে সেটা ... ...
( ৩ )সবুজের সঙ্গে বাড়ি ফিরে শংকর দেখল কৌশিক দত্ত এবং আর এক ভদ্রলোক বসে আছে। দ্বিতীয় ভদ্রলোককে শংকর চেনে না।কৌশিকবাবু বললেন, ‘ আরে ....এই তো এসে গেছে। এই দেখ কেমন ঘাঁটি গেড়ে বসে আছি। মাঠ থেকে সোজা এখানে আসছি। গরজ বড় বালাই ....’শংকর বলল, ‘ হ্যাঁ ... ভাল করেছেন। মাঠে দেখেছি আপনাদের।’— ‘ হ্যাঁ ওখানে আর ডিস্টার্ব করিনি তোমায়। ‘কৌশিক দত্ত আপনি থেকে তুমিতে চলে গেলেন।তার সঙ্গের ভদ্রলোকের দিকে শংকর তাকিয়ে আছে দেখে কৌশিকবাবু বললেন, ‘ ইনি হলেন ডক্টর দেবাশিস মিত্র। অর্থোপেডিক সার্জেন। আমার মাসতুতো ভাই। ফেরবার সময় একেবারে জোর জবরদস্তি চেম্বার থেকে তুলে নিয়ে এলাম। গরজ বড় বালাই ... ...
( ২ ) মাঠে মেডিক্যাল টিম বলতে তেমন কিছু নেই। এই ধরণের ম্যাচে থাকেও না। দলের অবৈতনিক ফিজিক্যাল ট্রেনার এবং দুজন রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ার মাঠে ঢুকে যতটা সম্ভব শুশ্রূষা করার চেষ্টা করতে লাগল। উৎকন্ঠায় অস্থির হয়ে ক্লাব সভাপতি প্রদীপ ঘোষ মাঠে ঢুকে গেলেন। কিন্তু রেফারির নির্দেশ মেনে তাকে আবার বাইরে চলে যেতে হল।একটানা ঠান্ডা পেন কিলার স্প্রে করতে লাগল ট্রেনার প্রত্যুষ সাহা। একটা পেন কিলার ট্যাবলেটও খাওয়াল শংকরকে। বরফ ঠান্ডা স্প্রের প্রভাবে শংকরের ব্যথা অনেকটা নরম হয়ে আসল। বরানগর ইউনাইটেড অপ্রত্যাশিত অগ্রগমনের উৎফুল্লতা হারিয়ে ফেলতে চাইছে না। জানে শংকর মাঠ ছাড়লে তাদের ডিফেন্সের কি হাল হবে। তারা ওকে খেলাতে মরীয়া। ... ...
( ১ ) কৌশিক দত্ত মনোময় মৈত্রকে কনুইয়ের হাল্কা ঠেলা মেরে বললেন, ‘ প্লেয়ারটার স্পট জাম্প দেখেছ ? মনে হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্টপারে খেলছে। এয়ারে এখন পর্যন্ত একবারও বিট হয়নি।’— ‘ হ্যাঁ সেটাই দেখছি ..... গ্রাউন্ডেও দারুণ স্ট্রং। দুর্দান্ত অ্যান্টিসিপেশান .... একটাও ট্যাকল মিস হচ্ছে না.... ‘ গাল চুলকোতে চুলকোতে আনমনে বললেন মনোময়বাবু। কৌশিক দত্ত মাঠের খেলা থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন, ‘ এরকম একটা পেলে হত .... ‘— ‘ তাই তো .... ‘ মাঠটা লম্বায় বড় হলেও চওড়ায় একটু কম। এখন পর্যন্ত এদের গোলকিপারকে ... ...