পাগলা গণেশ কে?
পাগলা গণেশ কী?
একটা ছবির কথা খুব মনে পড়ে।আমি,আমার মা নীচে বসে আছি,হাসছি।আব্বু বিছানার উপর রুটিটা ঝোল ডুবিয়ে মুখে তুলতে যাচ্ছে।আমি আঠাশ,আম্মা পঞ্চাশ আর আব্বু ষাট।দেখলে সুখী পরিবার মনে হয়।কিন্তু আমি আমার আব্বুকে খুব ঘৃণা করি,প্রাণপণে।আমার আম্মা চির নিপীড়িত বঞ্চিত।আমিও বঞ্চনা করি,কিন্তু আম্মা কিছু বলে না,আমাকেও না,ভাইকেও না,আব্বুকে তো নয়ই।আমার আম্মা ধর্মভীরু মানুষ,খুব আল্লাকে মানে।আব্বুও তাই,তবে সে তার মর্জির মালিক,তার মতের বিরুদ্ধে আল্লা দাঁড়ালে তাকেও রেয়াত করবে না আমি জানি।আমার ভাই এই ছবিতে নেই,সে দিল্লিতে।জরির কাজের নকশা তৈরি করে। কয়েক বছর কেটে গেছে এরপর,আব্বু মরে গেছে,ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক করেছিল,হাসপাতাল যেতে হয়নি।আম্মা অশক্ত,আমি মধ্য তিরিশে।ওই ছবিটা দেখি আর ভাবি,আব্বুর উপর প্রতিশোধ নেওয়া হল ... ...
যেসব নদীর বুকে পিলার গেঁথে দিয়েছ, তারা কী করে সুখী হবে? তোমার নদীর উপর দিয়ে যেতে ভালো লাগে, ভালো লাগে চুম্বনরত বা আলিঙ্গনাবদ্ধ শুকসারি - কিন্তু যার বুকে ক্ষত, টন টন ভার বয়ে সুখী হতে পারে কি সে? তোমার শহরে যেতে কম সময় লাগে, সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে পারো, সেগুলো তোমার লাভ। কিন্তু নদীর তো বুকের রক্ত বাধা পায়, বইতে পারে না, গান গায় না বহুদিন। ওর করোনারি আর্টারি ব্লক হয়ে ... ...
উঠে খুব রাগ, কিছুটা শ্রান্তি, শান্তি, অনিশ্চয়তা আর ভয় -আমি কম্বল চাপা দিয়ে শোয়ার চেষ্টা করি,ঘুম আসে না।পাশের বাড়ির কাকিমা চেঁচামেচি লাগায়, "ও আব্বাসের আব্বা উঠো না, সাপে কামড়েছে মনে হয় রোমানাকে।"আমার ইচ্ছে হয় উঠে যাই, দেখি কী ব্যাপার!কিন্তু আমি গত এক সপ্তাহ ঘুমাইনি,আমার বাপের মাথার কাছে ঠাই জেগে বসেছিলাম।আজ সন্ধ্যায় তাকে কবর দিয়ে এলাম,এবার একটু বিশ্রাম দরকার।নিজের অপরাধবোধ হয়,কিন্তু আমার আর উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই,আমি কি অপরাধী?আমি তো কিছু করতে পারতাম,পরিচিত ছিল অনেক, যারা সাহায্য করতে পারত,হাসপাতাল আমার চেনা জায়গা,মেয়েটা হয়তো বেঁচে যেত।কিংবা যেত না।সবাই কি বাঁচে?যাদের আমি নেই!জানি এসব নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য,কিন্তু বিশ্বাস করো,আমার ঘুমটা খুব ... ...
সেবছরও ফুল ফুটেছিল - কিন্তু চারিদিকে এত ধোঁয়া ছিল, সব ফুল ঝরে গিয়েছিল। মৌমাছি, পিঁপড়ে, শামুক বা টুনটুনি কেউ আসেনি, আসতে পারেনি। কেউ পথ হারিয়ে ফেলেছিল, বাকিরা গিয়েছিল মরে। সেবছর মানুষ, কুকুরের মতো মরে পড়েছিল পথে, মধ্যযুগের মতো সেবারেও যারা বেঁচেছিল, নাকে রুমাল চাপা দিয়ে হেঁটেছিল অনেকদিন। হিল তোলা জুতো বিক্রি বেড়েছিল খুব। চারিদিকে ব্যাঙের ছাতার মতো জুতোর কারখানা গজিয়ে উঠেছিল। শুধু মানুষ ছিল না। এই যে সব ঘাস ... ...
বিস্কুটের ডিবেটা খুলতেই ভেতর থেকে পিলপিল করে পিঁপড়েগুলো বেরিয়ে এল। গলগল করেও বলা যায়, কিন্তু তা ঠিক পদার্থবিদ্যার নিয়ম মানে না, প্রতিটি এককের নিজস্ব সত্ত্বা আছে তো! ওরা কেউ জানে না, আমি এখন একটা কি দুটো বিস্কুট খাব। যতই ঝাড়ি না কেন, ওদের কয়েকশত পরিজন খাবই খাব। না চাইলেও। ওরা কি আমার উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইবে? করেনি তো কোনোদিন। ওরা যদি বিশ্বাস করে ঈশ্বর ওদের ... ...
এই লেখাটা আমার জন্য খুব স্পেশাল।কারণ গত দুমাস ধরে আমি একটাও লেখা (কবিতা,গল্প) লিখতে পারিনি।এই জিনিসটা আমি খেয়াল করেছিলাম বেশ আগেই,তবে তেমন পরোয়া করিনি। গত একমাস ধরে চেষ্টা করছিলাম কিছু লেখার,কিন্তু দুএক লাইনের বেশি কিছুতেই এগোতে পারছিলাম না।তবে গত কয়েকদিনে খুব প্রাণপণ চেষ্টায় আজকে কয়েকটা লাইন মাথায় এল।তারপর আস্তে আস্তে লিখতে এটা দাঁড়াল।তবে এটা যে খুব ভালো লেখা হয়েছে তা নয়,তবে খরা কাটল ... ...
আমি অনেকের মধ্যে তোমাকে দেখতে পাই।কিন্তু তারা কেউ তুমি নয়।তারা কেউ চেনা,কেউ একেবারে অচেনা -কাউকে আমি চিনি,কিন্তু সে আমায় চেনে না।প্রতিদিন সকাল,সন্ধ্যা,দুপুর, রাত -যতক্ষণ জেগে থাকি,ঘুমিয়েও কখনো -তোমার মূর্তিধারী, স্বভাবধারীদের দেখতে পাই।তুমি আবার মনে পড়ো।কেমন আছো তুমি?মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় জিজ্ঞেস করি,কিন্তু এতদিন কেটে গেছে মাঝে,সময়ের গাদ জমে গেছে অনেক,এখন মস্ত প্রাচীরে অনেক পাখি বাসা বেঁধেছে।তোমাকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে খুব;কিন্তু তাদের বাসা ভেঙে দিতে পারি না,পাঁচিল ভাঙ্গতে পারি না।জানি,একদিন দেখা হবে।সব রাগ,অভিমান,দম্ভ সব ফিকে হয়ে যাবে অনেক।আমরা অনেক বড়ো হয়ে যাব।সেদিন আজকের এসব;তুচ্ছ মনে হবে।অন্তত কথা বলতে পারব,জিজ্ঞেস করতে পারব,"কেমন আছো।"একথার কোনো উত্তর হয় না,তবুও - বলার আর কিচ্ছু ... ...
বিজ্ঞাপণ হয়তো আর কয়েক দশক বাদে,চারিদিক ছেয়ে যাবে বিজ্ঞাপনে,এখনের থেকেও বেশি,অনেক অনেক বেশি,প্রতিটা ঘরের দেওয়াল, রাস্তার পিচ,কংক্রিট বা মাটি কেউ বাদ যাবে না,বইয়ের পাতায় ফাঁকা অংশ,টাঁকলার টাঁক, লোমহীন বুক হাত পা,জামার কাপড় বিজ্ঞাপনে ভর্তি হবে,সাদা জামার দাম হবে বেশি,আর বিক্রির জিনিস,সে তো ইজ্জত থেকে শুরু করে আলপিন-চিনির দানা,সওওব বিক্রি হবে,মানুষের বিবেক,দয়া, মায়া এসবের দাম সবচেয়ে কম হবে,মরার পরে লাশও বিক্রি করবে আত্মীয়,দুটো টাকা বেশি পেলে,না কেনা গ্যাজেটটা কিনে নেবে হয়তো,লাশ তো সেই পচেই যাবে! বীর জাতির প্রতিনিধি আমার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়ে যাওয়ার পরেও,যখন আমি ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম প্রকাশ্য রাজপথে,ওদের কয়েকজন আমায় চিনতে পেরেছিল,কিন্তু বিশ্বাস করতে পারেনি।কি করে এমন দুর্বল জাতির এত বড়ো বুকের ... ...
একটা রাজহাঁস পুষেছি আমি।খুব সুন্দর।আমার জীবনে সুন্দরের খুব অভাব,তাই তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাই।সে আপত্তি করে,আমি ছেড়ে দিতে চাই -পারি না।আমি সুন্দর ভালোবাসি।তবে ভেবেছি,যদি কেউ সুন্দর আসে,যদি ভালোবাসে -ওকে সমাধি দেব আমি।আমাকে নিষ্ঠুর ভাবতে পারো তুমি।কিন্তু ভাবো -যে এতদিন ভালোবাসা পেয়ে এসেছে,সে যদি আজ অবহেলিত হয়,সহ্য করতে পারবে কি?তার সামনে অন্যজন অধীশ্বর বা অধীশ্বরী হয়ে উঠবে,পারবে চোখ চেয়ে দেখতে?তার চেয়ে ভালো,ও ফিরে যাক,মরে যাক।যতদিন বেঁচে ছিল,ভালোবেসেছিলাম ওকে আমি,ও আমায় ভালবেসেছিল। ... ...
After the hour hand struck four,I woke to an afternoon of drizzle.It fell like it would never end.The sky had lightened,but my faith in the weather was fading.I stood still beneath those drops,my vanity bruised.How could such tiny thingsmake me feel so obsolete?My sense of superioritywas buried beneath their unity.I was losing-according to me.They didn't care.The fire inside mewas now consuming me,smoke rising from my mortal shell.A glitch in my software-that’s what I called it.It made me fragile.But I wasn't ready to admit that.It was nothing-just the rain outside. ... ...