বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5


           বিষয় : মজুররত্নঃ তন্বী হালদার - একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া
          বিভাগ : বই
          শুরু করেছেন : Rouhin Banerjee
          IP Address : 342323.176.2312.190 (*)          Date:17 Mar 2019 -- 08:15 PM




Name:   Rouhin Banerjee           

IP Address : 342323.176.2312.190 (*)          Date:17 Mar 2019 -- 08:15 PM

বাংলা ছোটগল্পের অনেকগুলি ধারা। সামগ্রিকভাবে দেখলে বিশ্বসাহিত্যে বাংলা ছোটগল্প অবশ্যই প্রথমের দিকেই থাকবে। এবং বৈচিত্র এই সমৃদ্ধির অন্যতম কারণ, একথা বলা বোধ হয় খুব ভুল হবে না। বহুরকমের এক্সপেরিমেন্ট বাংলা ছোটগল্পে আমরা দেখেছি এবং দেখে চলেছি। কিন্তু পাশাপাশি বাংলা ছোটগল্পের একটা ক্লাসিকাল ধারাও সবসময়েই বহমান। তারাশঙ্কর, মাণিক, বিভুতিভূষণ বা সতীনাথ ভাদুড়িদের হাত ধরে তা প্রবাহিত হয়েছে প্রজন্মান্তরে।

তন্বী হালদার মূলতঃ এই ক্লাসিকাল ঘরাণারই লেখক যার কলম বিচরণ করে প্রধানতঃ প্রান্তিক, নিম্নবর্গীয় জীবনের সুখদুঃখের আবর্তে। গুরুচন্ডা৯ থেকে প্রকাশিত তন্বীর ছোটগল্প সঙ্কলন মজুররত্ন মূলতঃ এই প্রান্তিক মানুষদেরই উপাখ্যান - এবং তা আমাদের এই কলকাতাকেন্দ্রীক শহুরে আকজ্যান থেকে দূরে, প্রধানতঃ। দু-একটি গল্পে কলকাতার কথা থাকলেও তার মূল কুশীলবেরা সেই কেন্দ্রের বাইরেই থেকে যান, প্রান্তিকই থেকে যান।

কিন্তু এই কেন্দ্রীকতার বাইরে থেকেও কাহিনীগুলি কিন্তু বাইরের দৃষ্টিতে দেখা নয়, লেখকের সাথে এই চরিত্রগুলির যে নিবিড় পরিচয় আছে তা স্পষ্টবোধ্য। মজুররত্নের ঝামিয়া, বাতাসিয়া বা একাদশীর উপাখ্যানের একাদশী, গঙ্গা কেমনে বহিয়া যায় এর গঙ্গারা কেউ সাজানো পুতুল নয়, এরা প্রত্যেকেই জীবন্ত, মূর্ত। এই চরিত্রগুলি কোনটিই সাদা-কালো নয়, এরা এদের বহুবর্ণ বৈচিত্র নিয়েই কাহিনীতে উপস্থিত।

এবং এরা প্রত্যেকেই নারী। সাধারণ, খুব সাধারণ, এবং তার মধ্যেও অসাধারণ সব নারী। যারা অভাবী, প্রায় সব ক্ষেত্রেই তথাকথিত নিরক্ষর, আমার আপনার মতই লোভী, কখনো যৌনকাতর কখনো বা উদাসীন, এবং আমার আপনার চেয়ে কঠিনতর জীবনসংগ্রামে ব্যপ্ত - আর সেই সংগ্রামের মধ্যেই ঝলকে উঁকি মেরে যায় তাদের অসাধারণত্ব।

তন্বী হালদারের মজুররত্ন কোন "আনপুটডাউনেবল" থ্রিলার নয় - কাহিনীগুলো পরার সময়ে হঠাৎ হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হয়, ভাবতে বসতে হয়, পিছনের পাতা উল্টাতে হয়। এরকম লেখা বাংলায় আরো আসুক।

মজুররত্ন - তন্বী হালদার
প্রকাশক - গুরুচন্ডা৯
প্রথম প্রকাশ - বইমেলা ২০১৯
মূল্য - ১৩০/- (ভারত)


Name:   Rouhin Banerjee           

IP Address : 342323.176.2312.190 (*)          Date:17 Mar 2019 -- 08:26 PM

আকজ্যান - আখ্যান


Name:  pi          

IP Address : 7845.29.236712.204 (*)          Date:21 Mar 2019 -- 01:56 PM

যশোধরা রায়চৌধুরী লিখেছেন,

"আমি বেহুলা মন্ডল। চাঁদ সদাগরের পুতের বউ। লখিন্দর আমার সোয়ামী।

পুনর্নির্মাণ এ দেবতারা ইউনিয়ন লিডার। বেহুলা যাবে যে কোন দলের মিছিলে স্বামীকে বাঁচাতেই।

হাবুখেলার সুধাবিন্দু, মজুররত্ন পাবে বলে বদ্ধপরিকর কামিন ঝুমি, ইছামতীর বিভাজন, মোচড় আর মোচড়, ভাবনার বহুস্তরীয় মোচড়ের খেলায় পারদর্শী তন্বী হালদার শুধু জীবন দেখে লেখেন না, জীবন পার করে দেখাকে নিয়ে যান স্ট্রাকচারাল স্তরেও। তাই তাঁ র লেখা জাগিয়ে তোলে। চনমনিয়ে দেয়। গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশন। "



Name:  i          

IP Address : 452312.149.342312.74 (*)          Date:24 Mar 2019 -- 04:08 PM

বাংলা ছোটো গল্পের তিন বিখ্যাত ত -তৃপ্তি, তৃষ্ণা, তন্বী। তন্বীর খুব কম লেখাই আগে পড়েছি-তাও খুব বিচ্ছিন্নভাবে। তন্বী হালদারের আঠেরোটি গল্প পরপর পড়লাম এই প্রথম।
তন্বীর বইটির চরিত্রদের আমি দেখেছি- সংবাদপত্রে, টিভির খবরে, হয়ত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে- কাউকে কাউকে অবশ্য লোকাল ট্রেনে দেখে থাকব- তবে কথা হয় নি কোনদিন, অতি ব্যস্ত ভঙ্গিতে ট্রেনের সময় বা প্লাটফর্মের নম্বর বলেছি বড়জোর। আমার নাগরিক জীবন থেকে অনেক অনেক দূরের অন্য জগৎ, অন্য ভাষা, অন্য সুর-যে জগতের কথা আমি লিখলে নিতান্ত সৌখীন মজদুরি হবে।
এই দুনিয়ায় তন্বীর অতীব সাবলীল বিচরণ -চরিত্রসৃষ্টি, ভাষা, শব্দের ব্যবহার প্রতিটি গল্পে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছে -বইয়ের পাতা ফুঁড়ে বেরিয়ে এসে আমার সামনে রুটি তরকা খেয়েছে সুখেন, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় দ আকৃতির শিবুকে আমিও দেখেছি, মণিরুলের রক্তের আঁশটে গন্ধ পেয়েছি, বেহুলাকে আমার সামনেই পকেটমার তারক হাতছানি দিল-
এ যে কেবল দুঃখের গল্প, বঞ্চনার কাহিনী, শোকগাথা তা নয়-প্রতিটি গল্প নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে উপস্থিত-বহতা জীবন থেকে আঁজলাভরা জল। ভাষাও সেই মত বাঁক নিয়েছে। ,কখনও টিউবলাইটের আলোয় কালো পিচের রাস্তাকে নদী মনে হচ্ছে, থালার ভাত একরাশ জুইঁফুল, আবার অন্য এক কাহিনীতে গলুইতে মানুষের রক্ত মেখে পড়ে আছে ইলিশ-তন্বী চরম শ্লেষে লিখছেন লাঞ্চ একেবারেই সিম্পল-গরম গরম ভাত আর ইলিশ মাছ ভাজা; আবার মাইন বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন কেন্দু সোরেনের হাঁ মুখে এক খন্ড মাংস- তন্বী ফালা ফালা করে পাদটীকা লেখেন ঃ 'পুনশ্চ-টিভির লাইভ অনুষ্ঠানে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে-প্রথম বিষয়.... দ্বিতীয় বিষয়-কেন্দুর মুখে যে মাংসের টুকরো, সে কি কেন্দু চুরি করে খাচ্ছিল? না কি বিস্ফোরণে পাত্র থেকে একটা টুকরো তার হাঁ মুখে ঢুকে গেছে? '
আবার , ভাসান গল্পের শেষে সরস্বতী মূর্তির বদলে মৃত নারী শরীর হাতে ঠেকছে আর সেই মুহূর্তে ধবধবে সাদা পরিযায়ী পাখিরা ডানা ঝাপটে উড়ে যাচ্ছে।

পড়তে পড়তে বারে বারে মনে হচ্ছে, এই চরিত্রগুলি, এই জগৎ- ছোটো গল্পের খন্ড খন্ড যাপন না হয়ে উপন্যাস হ'ত যদি?

সংকলনটির জন্য গুরুচন্ডালিকে ধন্যবাদ।


Name:  দ          

IP Address : 2345.107.6778.131 (*)          Date:25 Mar 2019 -- 10:03 PM

এঁর লেখা আমি গুরুতেই দুই একটা যা বেরিয়েছে তাই পড়েছিলাম। এখন এই বইটা পড়তে শুরু করে মনে হচ্ছে
একেবারে অন্যরকম। এইরকম আর্থসামাজিক পরিবেশের মানুষদের নিয়ে লেখা আজকাল খুউউবই কম পাই। মাহবুব লীলেনও এরকমই সব মানুষদের গল্প লেখেন। লেখার স্টাইল ভাষা সবই তাঁর অন্য যদিও, তবুও সমাজের এক্কেবারে কিনারায় কোনমতে ঝুলে থাকা মানুষদের চেনেন এঁরা দুজনেই।


এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--5