বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2


           বিষয় : রবিদাদুর জন্মদিন
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :Jhumjhumi
          IP Address : 59.36.1.233 (*)          Date:09 May 2018 -- 05:09 PM




Name:  Jhumjhumi          

IP Address : 59.36.1.233 (*)          Date:09 May 2018 -- 05:10 PM

পঁচিশে বৈশাখ আবার এলো, দিকে দিকে রবিপুজো শুরু হয়ে গেছে | কতদিকে, কতভাবে কত উপাচারে পুজোর আয়োজন | তা একসময় তারাও রবিপুজো মানে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিল | নিশ্চয় ভাবছেন, সে আর এমন কি,সবাই করে ! সরস্বতী পুজোর সময় দেখেছেন কখনো ছোট ছোট কুচোকাঁচারা বড়দের কাছে পাত্তা না পেয়ে কেমন নিজেরাই যোগাড়জাতি করে পুজো পুজো খেলে? ঠিক তেমনি করে তারাও রবিপুজো করেছিল খেলার ছলে |
সে তখন ক্লাস সিক্স, একদিন তার মনে হলো আচ্ছা এত জায়গায় রবীন্দ্রজয়ন্তী হয়, কই,তাদের এখানে তো হয় না! এখানে করলে কেমন হয়? বিকেলবেলায় খেলতে নেমে সেকথা বললো মণি কে , মণি তাদের পাশের বাড়িতেই থাকে, এক ক্লাস উঁচুতে হলেও তাদের খুব বন্ধুত্ব | মণি শুনে বললো “কে করাবে? কাকে বলবি ?”
তাই তো, কাকে বলবে তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করাতে ? বড়োরা যে এসব পাত্তা দেবে না তা তো জানা কথা , উল্টে বকাও জুটতে পারে পাকামি বলে | খানিক ভেবে সে উত্তর দেয়, “কাউকে বলার দরকার নেই, নিজেরাই করবো |”
“নিজেরা?”
“হ্যাঁ, নিজেরাই | দেখ কি কি হয় আমরা জানি, গান নাচ কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি | তুই আমি দুজনেই গান গাইতে পারবো, ছড়া বা কবিতা যা বইএ আছে তাই মুখস্ত করে বললেই হবে | সময় আছে এখনো অনেক, বাপ্পা ,বুবু , পাপু এদের বলবো মুখস্ত করতে | বাকি থাকে নাচ, সেটা তুলতে হবে, ওটা আমি তুলে নেবো ঠিক |”
“কিন্তু কোথায় করবি?, স্টেজ হবে কোথায়?”
“কেন, কমিউনিটি হলের সামনে বা আমাদের বাড়ির বারান্দায় , হয়ে যাবে কোথাও একটা | আগে সবাইকে ডেকে বলি তো, দেখি রাজি হয় কি না |”
সবাই বলতে তার ভাই, মণির বোন, আর বিডিও কাকুর দুই ছেলে তাপি আর পাপু , আর চৌকিদার হরিজেঠুর দুই ছেলেমেয়ে রবি আর দুরি | বলা হলো, সবাই রাজিও হয়ে গেল, এ এক নতুন মজা ! সুতরাং সর্বসম্মত ভাবে ঠিক হলো তারা রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান করবে এবং সেটা বড়োদের সাহায্য ছাড়াই |
এবার বসা হলো কে কি করবে তাই নিয়ে | প্রথমেই তাপি আর রবি বলে দিলো তারা কবিতা বলতে পারবে না | বাকিদের নিয়ে মোটামুটি একটা অনুষ্ঠানসূচী বানানো হলো, কিন্তু দেখা গেলে মোটেও সেটা দাঁড়াচ্ছে না | আবার ভাবনা শুরু হলো কি করা যায়, হঠাৎ ই তার মনে হলো, আরে নাটক করা যায় তো ! আগের ক্লাসেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পেটে ও পিঠে’ পড়েছে, সেটাই তো হতে পারে | নাটকের চরিত্র গুণে দেখা গেল মোট সাতজন | বাপ্পা আর বুবু বেশ ছোট, ওদের বাদ দিলে হয় ছ’জন | বাকি একজন কাকে করা যায়, ভাবতে ভাবতে মাথায় আসে দীপুদাদা তো আছে, তাপি ,পাপুর দাদা ! বলা হলো, সেও রাজি হলো, শুরু হলো চরিত্র নির্বাচন কে কোন চরিত্র করবে | অনেক আলোচনার পর ঠিক হলো পাপু বনমালী ওরফে ভুতু, দীপুদাদা তিনকড়ি, তাপি বাবা, মণি পিসি, রবি পিসেমশাই, দুরি দিদিমা আর সে নিজে মা | কারণ সেই তো ডিরেক্টর, তার বেশি ডায়লগ থাকলে মুশকিল , আর তিনকড়ির সবচেয়ে বেশি ডায়ালগ, তাই সেটা সবথেকে বড়োজন করবে, মুখস্ত করতে পারবে বলে দীপুদাদা | সবকিছুই কিন্তু হচ্ছিলো চুপি চুপি, বড়োদের কিচ্ছুটি বলা হয়নি |
রিহার্সাল তো শুরু হলো, কিন্তু বড়োদের নজর বাঁচিয়ে এসব করতে হলে মাঠে করা যাবে না, সুতরাং কোয়ার্টারের পিছনে, কখনো পোড়া গোডাউনের দিকে ফাঁকা জায়গা দেখে করতে হতো | দুদিন পরেই বোঝা গেল না,এভাবে হবে না, অন্য জায়গা দেখতে হবে | তাছাড়া রোজ বিকেলে রিহার্সাল করতে গিয়ে খেলাটা হচ্ছে না | দুরিই বললো কমিউনিটি হলে করার কথা, চাবিটা তো ওদের ঘরেই থাকে ,এমনি অসুবিধা নেই, কিন্তু পারমিশন চাই বিডিও কাকুর | এদিকে পারমিশন নিতে গেলেই বলতে হবে, তাহলেই তো সব জানাজানি হয়ে যাবে, আবার না নিলেও কোথায়ই বা করবে ! শেষে ঠিক হলো জানানোই হোক, দুদিন পরে তো বলতেই হবে, নইলে দেখবেটা কে? তাপিদের বলা হলো ,তারা তাদের বাবার কাছে থেকে অনুমতি আদায় করবে | সে রাতটা একটু টেনশনে কাটলো, পরের দিন জানা গেল অনুমতি পাওয়া গেছে ,তবে জিনিসপত্র যেন সব ঠিক থাকে, ভাঙাভাঙি না হয় এই শর্তে | ব্যস, তাদের আর পায় কে! এবার থেকে ঠিক হলো সকালে স্কুল থেকে ফিরে স্নান সেরে সবাই হাজির হয়ে যাবে কমিউনিটি হলে, সাড়ে বারোটা পর্যন্ত রিহার্সাল করে তারপর বাড়ি ফিরবে | এটা সবার বেশ মনোমত হলো, বিকেলের খেলাটাও হবে, তাছাড়া কমিউনিটি হলে আলো পাখা আছে, চারদিক বন্ধ করে দিব্যি ঠাণ্ডায় রিহার্সাল করা যাবে |
কিন্তু সমস্যা হলো অন্যদিকে | বাপ্পা আর বুবু কদিন ধরেই গুম হয়ে গিয়েছিলো | একদিন তারা বেশ জোরেই জানালো তাদের নাটক করতে না দিলে তারা অন্য কিছুই করবে না | কি মুশকিল! ওরা দুজন না করলে তো তিনটে আইটেম বাদ ! তাছাড়া বাড়িতে গিয়ে এই নিয়ে কান্নাকাটি জুড়লে হয়ে গেল! সব অনুষ্ঠান চৌপট |
আবারো ভাবনা শুরু হলো, অবশেষে সমাধান ও মিললো , এক অদ্ভুত উপায়ে |
দিন যত এগিয়ে আসতে লাগলো শুরু হলো বাকি সব কিছু ঠিক করা | নাচের ড্রেস, নাটকের কস্টিউম কি হবে, তাছাড়া পিঠে, হাঁড়ি, থালা, এক কথায় যাকে বলে প্রপস, সেসব যোগাড় করা ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা ভাবনা চললো | কাগজ কেটে কেটে মালা বানানো হলো নাচের জন্য |
দেখতে দেখতে দিন চলে এলো | সকাল থেকে সে কি উত্তেজনা ! নিজেদেরকে বেশ বড়ো মনে হচ্ছে সবার ! বিকেল বেলায় অনুষ্ঠান, কমিউনিটি হলের সব চেয়ার গুলো বাইরে এনে সামনে সাজানো হলো, একটা টেবিল বের করে ,সেখানে তাদের বাড়ি থেকে আনা রবিঠাকুরের বড়ো ছবিটা রাখা হলো | দুরি আগেই বেলফুল তুলে মালা গেঁথে রেখেছিলো, সেটা পরানো হলো | রজনীগন্ধার মালা তারা কোথায় পাবে? গ্রামের বাজারে ও বোধ হয় পাওয়া যেত না, আর বাজারে যাবেই বা কে? পয়সাই বা কোথায় তাদের ! অগত্যা হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, সেই বেলফুলের মালা | কিন্তু টেবিলটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো তার | টিভিতে দেখেছে সামনে ফুলদানিতে ফুল সাজানো থাকে, তাদের তো ফুলদানিও নেই, ফুলও নেই ! একটু পরেই মনে হলো,ফুল তো আছে, নাই বা হলো রজনীগন্ধা, অন্য আরো কত কি রয়েছে চারপাশে, তাই দিয়েই তোড়া বানাবে | চটপট সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে কয়েকটা ফুল, পাতা তুলে নিলো, টিলার গায়ে হয়ে থাকা সাদায় লালে মেশানো বুনো ভাটফুল কিছু আনলো, তারপর লাল, সাদা ফুল ,সবুজ পাতা মিশিয়ে বানিয়ে ফেললো একটা তোড়া | বাড়ি থেকে স্টিলের গ্লাস এনে জল ভরে তার মধ্যে রেখে দিলো সেই ফুলের তোড়া |
সবাই এলে অনুষ্ঠান শুরু হলো রীতি মেনেই, সভাপতি বরণ করা পর্যন্ত | আসলে ‘ঈশান কোণের ন’টা বেড়াল’ তো করতেই হবে | ‘এসো হে বৈশাখ’ উদ্বোধনী সঙ্গীত, যদিও তখন বৈশাখ শেষ, কিন্তু ‘হে নূতন’ জানা নেই , অতএব ওটাই গাওয়া হলো | তারপর একে একে বুবুর ‘হাতির হাঁচি’ বলা, মণির গান ‘আলো আমার আলো’, বাপ্পা বুবুর নাচ ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা’ব বেশ চলতে লাগলো | সে আর মণি মিলে ‘ওরে গৃহবাসী’ নাচলো, যদিও দোল মাসদুয়েক আগেই হয়ে গেছে, তবে ইয়ে, এটুকু করাই যায় ! তা এসবের পর একটা চায়ের ব্রেক দেওয়া হল দর্শকদের | সেই সময় তারা নাটকের জন্য তৈরি হয়ে নিল ড্রেস চেঞ্জ করে |
নাটক শুরু হলো , বেশ চললো ভালোই, কিন্তু দর্শকেরা ধাক্কা খেলো দ্বিতীয় পর্বে এসে, যখন তিনকড়ি পেটের অসুখে শয্যাশায়ী | আরে, তিনকড়ি আর বনমালী বিলকুল বদলে গেছে যে ! প্রথম পর্বে বাপ্পা আর দীপুদাদা, দ্বিতীয় পর্বে বুবু আর পাপু যথাক্রমে বনমালী আর তিনকড়ি | এই অদ্ভুত সমাধানেই সে সবাইকে শান্ত করেছিল |
অনুষ্ঠান শেষ হলো, সবাই খুশি,তার ও মনে বেশ শান্তি | এতদিনের পরিশ্রম সার্থক ! সবাই ভালো হয়েছে বলেছে , অবশ্য না বলেই বা উপায় কি? নিজেদেরই ছেলেমেয়ে সব ! সকলেই ফুর্তিতে বাড়ি ফিরলো |

ওদিকে রবি ঠাকুর ও অলক্ষ্যে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন !



Name:  Jhumjhumi          

IP Address : 59.36.1.233 (*)          Date:09 May 2018 -- 05:12 PM

পাই দিদির কথায় সুতো খুলে দিলাম | এবার অন্যেরা মন খুলে,প্রাণভরে লিখে ফেলুন |

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2