বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

[40710]  [40709]  [40708]  [40707]  [40706]  [40705]  [40704]  [40703]  [40702]  [40701]  [40700]  [40699]  [40698]  [40697]  [40696]  [40695]  [40694]  [40693]  [40692]  [40691]  [40690]  [40689]  [40688]  [40687]  [40686]  [40685]  [40684]  [40683]  [40682]  [40681]  [40680] 

name:  de               mail:                 country:                

IP Address : 90056.185.673423.53 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 11:06 AM

এতোজ - না হয়নি, দোলের সময় হবে -


name:  de               mail:                 country:                

IP Address : 90056.185.673423.53 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 11:05 AM

ডিডিদা - অনেক দিন পরে দেখলাম - ভালো লাগলো।

অনেকদিন লেখেন না, যুদ্ধের সিরিজগুলো শেষ হয়নি কিন্তু -


name:  T               mail:                 country:                

IP Address : 561212.112.4578.134 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 09:41 AM

ডিডিদা ভালো করে খোঁজেন নি, এ তো দেখাই যাচ্চে ঃ)

https://www.thecitizen.in/index.php/en/NewsDetail/index/4/5466/30000-F
armer-Suicides-In-Cotton-Belt-When-Will-Govt-Protect-The-Farmers-And-N
ot-Mansanto


https://www.thehindu.com/news/national/other-states/where-over-1000-fa
rmers-have-died-of-toxic-pesticides/article19896992.ece


https://www.globalresearch.ca/the-seeds-of-suicide-how-monsanto-destro
ys-farming/5329947


https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5427059/

https://allianceforscience.cornell.edu/blog/2018/08/complicated-truth-
behind-gmo-cotton-india/


https://www.bloombergquint.com/global-economics/2018/07/21/as-a-geneti
c-revolution-collapses-vidarbhas-cotton-farmers-dread-coming-season


সবকটাই গত পাঁচ বছরের মধ্যে। শুধু একতরফা জুজুবাজী হয়েচে অ্যামনও নয় কিন্তু। ঃ)




name:  Du               mail:                 country:                

IP Address : 7845.184.4556.246 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 08:54 AM

সম্ভাব্যদের সংসদেই পাঠিয়ে ছাড়বে এবিপি।


name:  Atoz               mail:                 country:                

IP Address : 125612.141.5689.8 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 07:35 AM

দে দি, তোমাদের সেই কবিতাপাঠের অনুষ্ঠান হয়ে গেল?


name:  Atoz               mail:                 country:                

IP Address : 125612.141.5689.8 (*)          Date:20 Mar 2019 -- 07:22 AM

ডিডি, ঐ কাহিনির সিকোয়েল লিখুন। ওই যারা আড়াল থেকে করছিল ওই মারাত্মক এক্সপেরিমেন্ট, তারা নামল। তাদের মুখ দেখা গেল। নানা ঘটনা শুরু হল। ঃ-)


name:  I               mail:                 country:                

IP Address : 7845.15.9000123.177 (*)          Date:19 Mar 2019 -- 11:42 PM

টাইপো হল বেশ কিছু।


name:  I               mail:                 country:                

IP Address : 7845.15.9000123.177 (*)          Date:19 Mar 2019 -- 11:41 PM

দ্যুতি, টইপত্তর বলে একটি বিভাগ আছে। আপনার বড় লেখাগুলি সেখানে একটি টই খুলে পোস্ট করতে পারেন।এই বিভাগটি ভাটিয়ালি নামক আড্ডাখানা।এখানে মূলতঃ টুকটাক গালগপ্পো হয়।
আপনাকে গুরুচণ্ডালীতে স্বাগত, যদিও আমি নিজ্রি অত্যন্ত আমি নিজেই খুব অনিয়মিত।পারলে নিজের একটি খেরোর খাতা(ব্লগ) খুলে নিন।সেখানে আপ্নার লেখাগুলি সব এক জায়গায় রাখতে পারবেন।


name:  Dyuti Mustafi               mail:                 country:                

IP Address : 785612.42.4545.116 (*)          Date:19 Mar 2019 -- 10:45 PM

সিনেমা নিয়ে

আজকাল তো সিনেমা দেখা প্রায় হয় ই না, আগে যে টা আমাদের অন্যতম বিনোদন ছিল। তা এই একাল সেকাল সিনেমা দেখা নিয়ে একটু গপ্প করতে এলাম। আমার ছোটবেলা হাওড়া রামকৃষ্ণপুরে কাটে। বাড়িটা এমন এক জায়গায় মোটামুটি সব হলেই চাইলে আধ ঘন্টায় পৌঁছে যাবে। সে সময় হলগুলোর একটা স্ট্যান্ডার্ড ছিল। ভালো হল, মাঝারি ভালো, খারাপ, ছারপোকা হল, এ মার্কাদের হল ইত্যাদি।একদম ছোটতে অত বুঝতে শিখিনি। আমাদের বাড়িতে অনেক সদস্য। পালা করে এক সিনেমা এ একবার সে একবার দেখে আসতো। সবাই একসাথে খুব কমই যেত। মা, ছোটপিসি দুপুরে ম্যাটিনি শোতে, ওরা ফিরতে ঠাকুমা, তারাদি, বড়পিসির শাশুড়ি এই টাইপ গ্রুপ যেত ইভনিং এ, রাতে ওই সিনেমাই কোনোদিন মা আর বাবা, কাকারা নিজেদের ফুরসৎ করে যে যখন পারতো দেখে আসতো। কাকাদের মধ্যে ছোটকা অনেকদিন বেকার ছিল, সেই বিখ্যাত সাহেবের ভূমিকায়। তাই সব টিকিট ছোটকাই কাটতো প্রায়। আমরা যেতাম ঠাকুমাদের সাথে। ওই ছোটকা কমন। সিনেমা যাওয়া টা একটা দারুণ মজার ব্যাপার আমাদের কাছে। পাড়ার দু তিন টে রিক্সাওলা, বুদো দা আর পাগলার রিক্সা কমন। বুদো দা মানে আমাদের বুদো জ্যেঠু বাড়ির সামনেই থাকতেন। এদের নিয়েও বিস্তর বলা যায়। বুদো দা ছাপোষা পরিবার, অনেক ছেলে মেয়ে, বৌ এ বাড়ি সে বাড়ি কাজ করতেন কিন্তু কি সুন্দর দেখতে তাঁকে, সিঁদুর শাঁখা, ছাপা শাড়ি পরে এদিক সেদিক নানা কাজ করতেন, সকাল বিকেল লোকের বাড়ি, সন্ধ্যের দিকে সামনের গুল কারখানায় এইসব খুব কাছ থেকে দেখেছি। বুদো জ্যেঠুর ছেলেদের কথাও মনে আছে। এসব নিয়ে না হয় আরেকদিন হবে, যা হোক এই হল বুদো দা। আমাদের জ্যেঠু। ওনার রিক্সা খালি পেলে উঠতাম। বুদো জ্যেঠুর শরীরে কিছু নেই, রাতে একটু বাংলাও চড়াতেন হবে, কিন্তু আমাদের খুব যত্ন করে নিয়ে যেতেন। সেই আশির দশকে পাড়ার রাস্তায় এক একটা খানাখন্দ মারাত্মক টাইপ থাকবেই। সেই খন্দগুলো নেমে টেনে পার করতেন। পাশে সাইকেলে ছোট কা। নাতি নাতনির দল বেশি হলে এক আধটা ছোটকার সাইকেলের রডে চড়তাম। ওই খন্দের জায়গাটা ছোটকা নেমে পেছন থেকে ঠেলবে, রিক্সাটা একবার এদিকে একবার ওদিকে হেলে দুলে খন্দের ও পারে যেত। এক আধবার ছিটকে পড়েওছি, ওদিক থেকে সাইকেল এরকম কত কি। যা আজ শুধুই স্মৃতি, শুধুই মজা দেয়। বুকে একটা সেই পড়ে যাবার ভয় ওদিকে সিনেমা শুরু হবার দামামা বাজছে বুকে, খন্দ পেরিয়ে বুদো কে আদেশ ঠাকুমার, 'চলো বাবা, তাড়াতাড়ি চলো।' বুদো দা সারা শরীরের জোড় দিয়ে রিক্সা টানতেন। পরনে লুঙ্গি আর চিটে গেঞ্জি। ভিজে বাতাসে ঘামের গন্ধ এসে ঠেকতো প্রায় ই। ঘড়ি আর বুকের লাবডাব লম্ফঝম্প করতো। আমরা প্রায়ই যেতাম শ্যামাশ্রী হলে। ওই সময় সব থেকে ভালো পরিপাটি হলগুলোর একটি। শ্যামাশ্রী আমাদের সব থেকে কাছের হল। এছাড়া ওদিকে আরেকটু এগিয়ে ছিল পার্বতী আর যোগমায়া হল। ওই দুটো যেতে হলে বেশ খানিকটা করে বাস রাস্তা দিয়ে রিক্সা চালাতে হত। একটু রিস্ক ফ্যাক্টর। তবে ভালো সিনেমা হলে কি ছাড়া যায়! বেশিরভাগ ঠাকুর দেবতার বই ওই যোগমায়াতে হত। ছোটতে এরকম দেখা সিনেমাগুলোর নাম সাবিত্রি সত্যবান, হরিশচন্দ্র শৈব্যা, দক্ষযজ্ঞ, সিংহদুয়ার, বাবা তারকনাথ। সিনেমা হল মানেই অন্ধকার বড় ঘর, দূর থেকে অন্ধকার ভেদ করে দূরে ইংলিশে লেখা এক্সিট চোখে ঠিকড়ে লাগে, এক দুজন থাকতেন টর্চ হাতে টিকিট অনুযায়ী বসাতেন দর্শকদের। ছোটকা সাইকেল রাখতে যেত, আর বুদো দা কে ভুলে যেতাম, ছুট দিতাম হলে। সেই খোসা সুদ্ধ বাদামের গন্ধ ভেসে আসতো নাকে। খুব ছোটবেলার স্মৃতি। সিংহদুয়ার এ খুব কেঁদে ভাসিয়েছিলাম সেই চাবুক পেটার দৃশ্যে। এই সিনেমার ই গান মনে হয় 'টুকটুকে বৌ আনবে আমার ভাই'।একটু সামনে সীট পেয়েছিলাম সেবার। তাই চাবুকের ঘা বেশি লেগেছিল হবে। আর দক্ষযজ্ঞ তে সেই শিবের নাচ ওটাও খুব মনে চাপ ফেলেছিল। সিনেমার গল্পের সাথে এভাবে মিশে যেতাম। সাবিত্রী সত্যবান, হরিশচন্দ্র শৈব্যা কিম্বা বাবা তারকনাথে সেই দুখ ভরি কাহানি, আর আমার ভেউ ভেউ কান্না সব মিলেমিশে একাকার। কান্নার নোনা জল চাটছি অন্ধকারে হঠাত সেই ক্রিং আওয়াজ। ইন্টারভ্যাল পরে জেনেছি সে সময় জানতাম হাফ টাইম। বাংলায় বিরতি। সেই বাদামওয়ালা, সবুজ পুদিনার চাটনি দেওয়া নুন সাথে। ঠাকুমারা পান, চা যে যেমন পারে খেলো। আবার অন্ধকার।আবার ক্রিং শব্দ হল জুড়ে, আবার সেই কিছু সরকারি তথ্যচিত্র, তখন টিবি নিয়ে বেশি বলা হত, সেই চেনা চেনা গলা, এক রীল দু রীল মানে এটা সিনেমা নয়। ততক্ষণে ওই যারা টয়লেট ফিরতি তাদের ঢোকা বেরোনোর তাড়া। আরেকটু পর সিনেমার বাকিটুকু। শুরুতে সুখ এবার দুখ কিম্বা ঝাড়পিট কিম্বা স্ট্রাগলের প্যানপ্যানানি। আমাদের বাদাম চিবিয়ে এসব কচকচানি আর পোষায় না। এত চাপ ছোটতে নেওয়া যায় না। তাই ঘুমিয়ে যেতাম। হঠাত আলো জ্বলে উঠতো,ঘুমন্ত চোখ দুটো খুলতো, কেমন সেই জ্বালা জ্বালা করতো, হল ভর্তি লোক বেরিয়ে যাচ্ছে, ঠাকুমা,তারাদিরাও উঠেছে। অন্ধকার থেকে বাইরে এলে কেমন লাগে, কখনো দেখতাম এক পশলা হয়ে গেছে, সব ভিজে ভিজে, ছোটকা আগে বেরিয়ে সাইকেল নিতে গেছে, টিকিটঘরের দিকে সাইকেল স্ট্যান্ড, সেই বিচ্ছিরি পেচ্ছাবের গন্ধ, যাইহোক ফিরতি পথে পাড়ার পাগলাকে বলা আছে। বুদো জ্যেঠুর সন্ধ্যেতে অসুবিধা হয়। পাগলার কথাও একটু হোক, পাগলা আর ওর রিক্সা মারকাটারি ব্যাপার। পাগলার রিক্সা পুরো ঢরঢরে। উঠতে নামতে মচ মচ, ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজ। হাতল ধরে উঠতে গেলে হাতল হায়ে এসে গেল টাইপ। পাগলাকে দেখতে কেমন ছিলো? একটু ট্যাঁড়া ছিলো। সামনের বড় এবড়োখেবড়ো দাঁত, কালো মুখে হাসি লেগেই আছে। বেশি হাসলে নাল পড়বে টাইপ। বেশি কথা বললে থুতু ছিটকাবে। পাগলা বাঙালী নয়। ওর কি যেন নাম ছিল একটা। ঠাকুমা মোটেও পাগলা বলতো না। ওর সেই বাপ মায়ের দেওয়া নামেই ডাকতো। পাগলাকে যে কেন পাগলা বলতো ঠিক জানা হয় নি। ওই সরল হাসি, পয়সার হিসেব জানতো না, জানলেও কষতো না, আর এমন সব হলেই তো পাড়ার লোকের পোয়া বারো। উতসবের দিনে পাগলাকে একটু বাংলা চুমুক দেওয়ালে বাংলা নিজের ভোজপুরি গান নাচ সব ই দেখাতো। এসব আরো যা যা করানোর ওকে দিয়ে করতো পাড়ার রকবাজরা। এসব আমি বড় হতে হতে বুঝেছি। এই পাড়া আমায় কত কি শিখিয়েছে, বুঝিয়েছে। যা হোক, কিন্তু পাগলার রিক্সাতেই বহু মায়েরা ছোটদের স্কুলে পাঠাতেন। এক হলো ও ওদের ঠিক দেখভাল করবে এই ভরসা ছিল, আর ওই সস্তার ব্যাপারটা তো ফেলে দেবার নয়। ওর রিক্সা এই পাড়ার ছেলেরাই ভাংচুর করতো, তাই ওমন দশা। যা হোক পাগলার এই দুখ ভরি কাহানি আমি পড়তে পেরেছিলাম। পাগলাই ছোটপিসিকে এদিক সেদিক নিয়ে যেত, পাগলাই অনেক রাতে বাস স্ট্যান্ড থেকে নামলে একটি বড় বেলায় আমায় ঘর পৌঁছে দিত। আমি হাঁটবো বললেও পাগলা জোড় করতো কারণ সেই রাত ওই রাস্তা কে কেমন এসব পাগলা জানতো। আমি পাগলাকে পড়তাম, পাগলাও আমাকে পড়তো বৈ কি। যা হোক, সেই পাগলার রিক্সায় টপাটপ আমরা চড়তাম। ফিরতি পথে ঠাকুমার কখনো ফুচকা, আলুকাবলির সাধ জাগতো। সেসব সাঁটিয়ে, কোনো মন্দিরে আরতি ফারতি দেখে বাড়ি ঢুকতাম। আর সেই খন্দ, তায় পাগলার রিক্সা। পাগলা ঠেলে ঠুলে পার করে সেই হাসি দিত, 'মাজি কো কুছ হোনে নাহি দুংগা'। ছোটকা ওই খন্দের কাছে আমাদের ত্রাতা বিধাতা হয়ে দাঁড়াতো। ওটা পেরোলে আবার এগিয়ে যেত। এই ছিল ছোটবেলার সিনেমা দেখা পর্ব। বাড়ি এসে তার রেশ থাকতো, আলাপ আলোচনা চলতো। ভালো হলে আবার একদল মাততো যাবার জন্য।

এরপর একটু বড় হয়েছি, একটু দুনিয়াও বেড়েছে। মা কলকাতার মেয়ে। বাড়িতে নাকি রেনেসাঁ এনেছিল। তাই মা এবার এটা ওটা সিনেমা দেখানো শুরু করে। মা বাবার সাথে আমি ভাই কতবার বর্ন ফ্রি দেখেছি বলা যাবেনা। এসব সিনেমা দেখতে কলকাতা যেতে হত। গ্লোব, নিউ এম্পেয়ার, এলিট এসব তখন হাই ফাই হল ধর্মতলার। হাওড়াটা যত চিনতাম এই জায়গাগুলো যেন একটু অচেনা। বাবা মায়ের হাত ধরে যেতে হয়। বেশ ভিড় চারদিকে, কত মানুষ কত পসরা। কি আনন্দ হত এই রকম আউটিং এ। বর্ন ফ্রি যতবার দেখেছি কেমন দলা পাকিয়ে থাকতো গলায়, খুব যেন চেনা হয়ে গেছিল সব দৃশ্য। সেই ছোট ছোট শাবক,এলসা সেই দুধের বোতল, সাথে মা মায়ের মত করে বোঝাতো। বুঁদ হয়ে যেতাম। আরেকটা সিনেমা মা অনেক খোঁজ নিয়ে শেষে দেখাতে পেরেছিল, সেটা হল বেন হূর। কতদিন মায়ের কাছে সেই ঘোড়া দৌড়ানোর গল্প শুনেছি। আজ একসাথে সেসব দেখায় যে কি সুখ। মা তৃপ্ত মানেই আমরা খুশ। ফিরতি পথে অনাদির মোগলাই, নয় ইন্দ্রমহলের কুল্ফি, আর নইলে সাবিরের তন্দুরি রুটি আর রেজালা বাঁধা। এসব দিন বড় লোভের ছিল। এরপর টিভির প্রকোপ ঘরে ঘরে। রবিবারের ছায়াছবি, আমাদের টিভি আসেনি, দাদুর সাথে মহেশ্বর দাদুর বাড়ি গিয়ে সেই লালু ভুলু, দুষ্টু মিষ্টি এসব দেখে আসতাম। সেই সময়ে বাজার মাতালো তেজাব। মা আমাকে ভাইকে দেখাতে নিয়ে গেল ওই শ্যামাশ্রীতে। নিজে দেখে এসে এই সিনেমা মা দেখিয়েছিল। এর আগে সেই হিন্দী সিনেমা গান এসবে আগল ছিলো। বাবা একটু সেকেলে, যাই হোক, এমন কি মা তাড়াতাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছিল যাতে মাধুরীর ওই শুরুর নাচটা মিস না করি। হলের পর্দা জুড়ে মাধুরীর সেই ছোট স্কার্ট টাইপ ড্রেস পরে নমস্কার চোখ মারা সব কেমন তালগোল পাকিয়ে গেছিল। যে মা এত দাপুটে এত রাগী সেই মা এই সিনেমা এসব মেলানোর ক্ষমতা ছিলো না। ডুবে গেছিলাম একের পর এক গানে। 'ক্যায় দো গে তুম ', 'শো গায়া' সব গান সারা শরীরে মেখে বিভোর হয়ে ফিরেছিলাম। তেজাব মানে কি? অনিল কাপুর কি করে, মাধুরী ডাক্তারি ছেড়ে সিনেমায় এলো ছ্যা ছ্যা এসব চর্চা চারদিকে। সে সময় ভিডিও, সিডি এসবের চল শুরু হয়। ভাই কোথা থেকে তেরী মেহেরবানিয়া দেখে এসেছিল। তারপর খুব কুকুর প্রেমী হয়ে উঠলো আর আমি ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক। আমায় পায় কে। আমি আমীর কে পেয়েছি। ওই মেয়েটা ওর আসল বৌ কিন্তু সিনেমায় অন্য নায়িকা নিয়ে এক্টিং করছে এসব হজম করছি, গান গুলো টেপ রেকর্ডারে রাত দিন শুনে শুনে পচিয়ে ফেলার জোগাড়। আর ভাই বেসুরে তেরি মেহেরবানিয়া গাইতো। রাস্তার নেড়িদের ঠ্যাং জুড়তো, ঘরে আনতো। আর আমি আমীরের ছবি কাটছি, কিনছি, ঠিক করে ফেলেছি এর সব সিনেমা আমায় দেখতেই হবে। আমার বয়ফ্রেন্ড যেন এমন দেখতে হয় আরো কত কি। ওদিকে বাংলা সিনেমায় তাপস পাল, প্রসেঞ্জিতের জামানা, মহুয়া, স্মিতা পাটিল দের মৃত্যু রহস্য নিয়ে আনন্দলোক মাতোয়ারা। সাহেব,দাদার কীর্তি হিট এসব পেরোচ্ছে, দু একটা ওই ফেলুদা সিরিজ, ফটিকচাঁদ এই টাইপ সিনেমা এলে হলে নিয়ে যেত বড়রা। আমীরের পরের সিনেমা সব ফ্লপ, খুব রাগ, আমার আমীর তোমার এমন পড়তি বাজার অসহ্য বলে প্রেম পত্তর নামাবো এই সময় এলো 'ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া'। সেও মা দেখে এসে নিয়ে গেছিল কলকাতার হলে, নিউ এম্পেয়ারে মনে হয়। সেই ডলবি সাউন্ড, কানের পাশ দিয়ে আই লাভ ইউ, উউউফফ আমার পুরো বেহোশ দশা। তার আগে ভাগ্যশ্রীর টিভি সিরিয়াল গিলেছি, কচ্চি ধূপ। এই বয়সটাই ফ্যান হয়ে ঝোলার। আমি আমীর থেকে ভাগ্যশ্রীর তে সিফট করলাম। নিজেকে ওর মত সাজাতাম। পায়রা দেখলে আর পায়রা মনে হত না, কবুতর লাগতো। চূড়ান্ত পাগল হয়ে গেছিলাম। দিন রাত আতে যাতে গুন গুন করতাম আর বাবা সামনে এসে যেত..

জি টি রোডের উপর অনেক সিনেমা হল ছিল। ময়দানে বংগবাসী, দুটো স্টপেজ পর নবভারত। এই দুটো পেরোলে আমার গন্তব্য ফজির বাজার। এই দুটো হলের অন্য রকম গল্প। আমি ফাইভ থেকে কলকাতার স্কুলে পড়েছি। তাই এই বংগবাসী নবভারত টপকে যাতায়াত করতে হত। তাই সব বুঝতাম। এই দুটোতেই হিন্দী সিনেমা চলতো। আগে বংগবাসীতে তাও কিছু ঠিকঠাক সিনেমা দিতো কিন্তু পরের দিকে একদম রদ্দি সিনেমাই লাগতো। আর রদ্দি সব পোস্টার। সিনেমা মানেই এসব গল্প আসবেই। আর তাই এ হলগুলোতে ভিড়টাও এক টাইপ লোকের ছিল। আমাদের এসব হলে কেউ দেখলে বিপদ ছিল। তবু আবছা মনে পড়ে নবভারতে একবার কিছু একটা দেখতে গেছি কিন্তু বংগবাসীতে যাওয়া হয়নি। আর এই হলগুলোই ওই ছারপোকা মার্কা। বংগবাসীর সামনে সারাক্ষণ ভিড়। আর বাস পার হলেই একদল লোক জানলা দরজা দিয়ে হুমড়ি খেত ওই পোস্টার দেখার জন্য। যারা সোজা দেখতে পেত না তারা আড়চোখে দেখতো। জামানাটা আশির দশক, এখনকার মত হাতে মোবাইলের নয়। অনেক কষ্টে কেষ্ট মিলতো। আর নবভারত নিয়েও অনেক গল্প ছিল। সেখানে ড্রাগখোরদের আড্ডা, রিক্সাওয়ালাদের হল ইত্যাদি ইত্যাদি। জ্যাম ট্যাম থাকলে ওখান দিয়ে হাঁটতেও কেমন লাগতো আর সেই অদৃশ্য নিষেধ যেন ছড়ি ঘোরাতো। এরপর কিছুটা গেলে ছিল শিবপুর বাজারের কাছে অলকা। এটাও সে সময়ে খুব স্ট্যান্ডার্ড হল ছিল, সীট ভালো, পরিস্কার টাইপ। অনেক পারিবারিক সিনেমা দেখতে আসা হত। আর পরের দিকে প্রেম করার সময় এক আধবার গেছি। এরপর আরো এগিয়ে দীবনবন্ধু কলেজের দিকে মায়াপুরী, আরো গেলে বি ই কলেজের দিকে দুটো হল লিপি আর ঝর্ণা। লিপি এককালে খুব হাই ফাই হলের মধ্যে পড়তো, খুব ভালো সিনেমা চলতো, অনেকদিন ধরে, সেসব এক আধটা দেখতে আসা হত আমাদের। তবে আমরা উঠতি বয়সে বুঝেছি কলেজের সামনে হল থাকা জরুরি, তাই এসব হল মোটামুটি ওই কলেজ পড়ুয়াদের জন্যই ছিল। তাই সাধারণ বাড়ির কেউ চট করে যেত না। আর ঝর্ণা মানেই এ মার্কা ছবি বা বি গ্রেড কিছু, আমরা তখন এসব কালচার অত করতাম না, এ মার্কা শুনলেই কানে হাত দিলে ছ্যাঁকা লাগতো। হলগুলোর নামও বেশ মজার, সব যেন বাড়ির মা বৌমাদের নাম। এসব নিয়েও প্রচুর ইতিহাস আছে হবে, অত জানা নেই। যা হোক, এ ছাড়া ছিল কদমতলা, শালকের দিকের হল। আমাদের ওদিকে তেমন যাওয়া হত না। তবে সারা হাওড়ায় কদমতলার পুষ্পশ্রীতে মনে হয় এসি ছিল। আমার হবু কত্তার ঘাড় ভেঙে বিয়ের আগে আমার সব বান্ধবীদের নিয়ে ওই পুষ্পশ্রীতে একবার গেছিলাম। মণিরত্নমের বম্বে দেখতে। পুরো একটা লাইন শুধু আমার মেয়ে বন্ধুরা আর উনি মাঝে পাশে আমি। এসব দিন এক একটা ইতিহাস।
এক মজার দিনের গল্প বলি। সে সময় ওই গুরুদক্ষিণা চলছে চুটিয়ে। আমরা বাড়ির ছেলে মেয়েরা বড় হয়েছি আর ঠাকুমা ফাকুমা পোষায় না। হুজুগ হল ভাই বোনেরা সিনেমা যাবো। আমার জ্যেঠুর ছেলে পিসির ছেলেদের সাথে আমার খুব ভাব। তো দাদাদের পটিয়ে সবাই মিলে বাড়িতে বলেই দুপুরের শোতে বেড়িয়েছি। ভেবেছিলাম গুরুদক্ষিণা দেখবো। কিন্তু কিছু কারণবশত গিয়ে দেখি অন্য একটা সিনেমা চলছে। দোলনচাঁপা। যে দাদা গার্জেন গিরি করে নিয়ে এসেছে সে কিছুতেই টিকিট কাটবে না। কারণগুলো খুব সাধাসিধে। লিখে বোঝানো মুস্কিল। তাই বিস্তারে যেতেই হবে। এই দাদাদের সাথে আমার বন্ধুদের বাড়া মেশামিশি ছিল কিন্তু ওদের নিজের বোন আমার দিদির সাথে ওদের সেই স্বচ্ছতা ছিল না। আমার ওই দিদি একটু চিরকাল এ বাবা এটা দেখছিস টাইপ ছিল। আর নিজের দাদা বোন আর তুতো দাদা বোনে কোথাও এসব ফারাক থাকতো। আমরা যেগুলোতে পাপ বোধ করতাম না, দিদি ভালোমানুষ তাই সেসবে পাপ পুণ্য বুঝতো আর গিয়ে সোজা, 'ও মা, জানোতো ' টাইপ বালখিল্যপনা করতো। তাই দিদিকে একটু দলছুট করাও হত। দাদারা ষোলো তো আমরা বারো ফারাক তো এটুকুই। যা হোক, সেই দোলনচাঁপা শেষ মেস টিকিট কেটে ঢোকা হল। আমি তখন পোস্টার পড়তে শিখেছি। আর এসব অভিযান পন্ড হতে দিতে নেই। তাই দাদাকে প্রায় নাছোড়বান্দা করে হলে ঢোকাই। পাতি বাংলা সিনেমা, কিছু দর্শক টানতে ধর্ষক আছে ছবিতে। শুরুতে ননীগোপাল পুজোপাট দেখিয়ে মা মাসিদের খুশ করা, তারপর প্রেম হিরো হিরোইন তারপর জীবনের ঘোরঘটা, এই ভিলেন টিনেন সাবার করতে হবে আর কি তবেই একটা সুন্দরী টাইপ মেয়েকে তুলতে পারবে। হ্যাঁ, তখন এই ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের লক্ষ্য। যাইহোক সিনেমাটা আমরা ভাইবোন মিলে পাশে বসে সেই যুগে হজম করতে পারছিলাম না। দাদার ওই দাদাসুলভ বীরত্বে খুব টান পড়ছিলো। তাই হাফ টাইমে আর আমার কথার আবদারের তোয়াক্কা করেনি দাদা। সোজা বাড়ির পথে হাঁটা দিয়েছিল। অগত্যা আমাদেরো পিছু নিতে হল। বাড়ি অসময়ে এসে যাওয়াতে সে এক বিপদ। কোথায় গেছিলি, কি হল, কেন হল বাড়ির জনে জনে ইন্টার্ভিউ নিতে থাকলো। সেই দোলন চাঁপা সিনেমার কথা জীবনে ভুলবো না। এরকম সিনেমা নিয়ে আরো সব মজার গল্প, একবার ম্যাথ টিউশন থেকে টুয়েলভ এ সবাই প্ল্যান হল বেসিক ইন্সটিনক্ট দেখবো। এই ব্যাচে হায়ার সেকেন্ডারিতে যে প্রথম হয়েছিল সেই ছেলেটিও ছিল। আর আমিও ছিলাম কি কম্বো, যা হোক, আমরা সব নন্দনে সেই সিনেমা দেখে অনেক বোদ্ধা হয়ে ফিরলাম। আমি খুব বেশি কলেজ কেটে সিনেমায় যাই নি। অথচ কলেজ ছিল পুরো হাটের মাঝে, মৌলানা আজাদ, থার্ড ইয়ারে সবাই ছেড়ে যাবার আগে ওই কলেজের সামনের হলটায় আমীর খানের আকেলে হাম আকেলে তুম দেখলাম। তবে কলেজ লাইফ প্রেম পর্বে প্রচুর সিনেমা দেখতাম। ওর এক অদ্ভুত কিছু চয়েস ছিলো, তাতে সেই অমিতাভের পুরানো সিনেমাগুলো দেখতে ঢোকা হত। গানগুলো সব জানতাম,কিছু ভালো লাগত কিছুতে ঘুম পেতো, সাথে প্রায় ই দু এক বন্ধু থাকতো। এরকম প্রচুর ভালো খারাপ ওং বং সিনেমা দেখেছি ওই সময়, সে সময় ফিল্ম উতসব শুরু হলো কলকাতায় সে সময় কিছু সিনেমা দেখতাম এদিকে সেদিকে গিয়ে, সেই সময়ের দু একটা মজার গল্পের কথা না বললেই নয়। তখন সব জায়গাতেই ওই ভালো হল খারাপ দাগা থাকতো, এরকম দুটো অগা হল ছিল ওই মেট্রো সিনেমার উলটো পারে, এখন নাম ভুলছি, ওগুলোর একটায় একদিন ঢুকেছিলাম নিরুপায় হয়ে। সেদিন হঠাত খুব বৃষ্টি, সেই বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ভেজার থেকে হলে ঢোকা শ্রেয় ছিল। তাই আমরা হাম সে হ্যায় মোকাবলা দেখতে গেলাম প্রভু দেবার। আজ ওই গান গুলো আমার হেব্বি লাগে, কিন্তু সে সময় হলে বসে ওই সিনেমা দেখতে পারিনি, আর যত দূর মনে হয় সিনেমাটা মাঝপথেই ঢুকেছিলাম মাঝেই বেরিয়েছিলাম, তবে নাগমা আর প্রভু দেবার নাচ গান, সেই প্রভু দেবার আবার ফিরে আসা এসব সত্যি একটা জার্নি। আরেকটা ঘটনা হল, তখন ও চাকরি পেয়েছে, ধানবাদে থাকে, আসলে দেখা হত, আমি ফ্রি বার্ড হয়ে ঘুরতাম, সেই সময় আমি ব্ল্যাকে ১০০ টাকা দিয়ে মনে হয় ডিডিএলজে র টিকিট কেটে রেখেছিলাম। এটা জীবনের বেশ এচিভমেন্ট লাগে, মেট্রোর মত হলে ব্ল্যাকে টিকিট কাটা, বাবা শুনলে সে সময় কেস খেতাম। যাক, সে সময় কোনো ভালো সিনেমা বাদ দিতাম না।শেষের দিকে নন্দনে মোটামুটি পরেই থাকতাম। কিন্তু এ জীবনে বড় ছেদ পরলো বিয়ের পর। আরেকটা মজার দিনের কথা বলি, আমার আরেক ঠেক ছিল মামার বাড়ি। মাইমা প্রায় বন্ধু ছিল। মাইমার সাথে গেছিলাম এক দুপুরে আশিকী দেখতে ওই ফরিয়াপুকুরের হলটায়। আমার অবস্থা খুব খারাপ, এগুলোর নাম কেন ভুলে যাচ্ছি কে জানে। মাইমাতে আমাতে ব্যালকনির একদম উপরে বসেছি। দুজনে পা তুলে বাবু হয়ে বসে পুরো সিনেমা দেখেছিলাম বাদাম চিবোতে চিবোতে।

এই জীবন মোটামুটি পুরো বন্ধ হয়ে গেল। বিয়ের পর মেয়ের মামার বাড়ির ভাতে মানে প্রায় দু বছর পর সবাই মিলে চাচি ৪২০ দেখেছিলাম। আর তারপর আবার ক্রিশ দেখেছিলাম। তাও একটা তাপ্পি মারা হলে আমাদের কোলিয়ারি এলাকার। এরপর ধানবাদে শপিং মল, ফেম হল। ফেমে আসতে হলে ২২ কিমি আসতে হত, তবে আবার শুরু হল সিনেমা দেখা। এখন যেখানে থাকি সেখান থেকে আধ ঘন্টার পথ, মাঝে মাঝেই যাই বা বলা ভালো চাইলেই যেতে পারি। আর শুরুর জীবনে বাবা ফারাক্কা, আমতলায় থাকতো, ওসব জায়গায় সাদা কাপড় ঝুলিয়ে মাঠের মাঝে সিনেমা হত সে সময়। আমার মা পিসি খুব উত্তম সুচিত্রার ফ্যান, আর পিছন দিকেই রাত দিন পথে হল দেরী, হারানো সুর,সপ্তপদীর ডায়লগ শুনে শুনে ওদের সব মুখস্থ ছিল।

যাক, রূপোলী পর্দা এভাবে আমাদের সবার জীবনে জড়িয়ে, কত আবেগ কত কি জড়িয়ে, আরো গল্প হবে, হলের নামগুলো কেন যে ভুললাম, এই হলগুলোর বেশির ভাগ আর নেই, পোড়ো বাড়ির মত অবস্থা, এসব নিয়েই আজকের সিনেমাওয়ালা সিনেমাটা। একটা যুগ তো বটেই।

দ্যুতি


name:  Dyuti Mustafi               mail:                 country:                

IP Address : 785612.42.4545.116 (*)          Date:19 Mar 2019 -- 10:34 PM

আমি দ্যুতি আনাড়ি নারী। কেউ পথ দেখাবে? কোথায় কি করে লেখা পোস্টাবো?




    পরের পাতা         আগের পাতা
**এই বিভাগের কোনো মন্তব্যের জন্যই এই সাইট দায়ী নয়৷ যে যা মন্তব্য করছেন, তা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত৷ গুরুচন্ডালি সাইটের বক্তব্য নয়৷