আপনার মতামত         



কৌশিক চক্রবর্তী



সিনেমা, সাবান ও বৌদির পাজামা

শৌখিন ও লাজবাব
সারাগায়ে দৈনিক সিনেমাপত্রের জামা পরে
ভোরবেলা ঘুম ভাঙে সাবানবালক...
ভাষা তার কোনোদিনই বেস্ট ফ্রেন্ড নয়,
ল্যাদাড়ুস টাইপ, পাড়াতে বৌদি বলে ডাকে,
ক্লিন ফেস, রোজরাতে মোজাখুলে বাতাসা দেয়
টিভি দেবতাকে। সেও বাড়ে -- যেমন কমপ্ল্যানবয়
তাবলে লেডিসকাট!
ছ্যাছ্যা! তবে যে কাননে কুসুমকলি বলে যায় ফোট?

কেতাবী কিস্যায় তার চুকুচুকু নেই,ওই
এট্টু আট্টু ধরাধরি খেলা, আর তাছাড়া সে তো জানেই
চুড়িদার মানে শুধু মেয়েলি গার্মেন্ট নাকি?
তাছাড়া ঝন্টুদা তো কয় নিজেকে ক্যারি করলে
তোর মতো স্যাম্পেলেরেও এক আধটা অ্যাওয়ার্ড ট্যাওয়ার্ড
রুপুলি ওয়ার্ল্ডে -- কোনো ব্যাপারই নয় রে!


ক্যাকোফনি

বেজায় ওস্তাদি কিংবা চুলবুলি পার্টি, যেভাবেই
গাছেদের ডিফাইন করা যাক, ডাল থেকে চিরকাল
কাগের উজবুক দেশ পথিকের মাথাতেই হাগে...
তবুও যে কেন পাবলিক বৃক্ষ বা তরুছায়াতল ইত্যাদি
ঢপের চচ্চড়ি ভাজে, কেন যে ইত্যাদি করে
মোটাসোটা নোটগ্রন্থ ছাপে সে ই জানে ...
যদিও মূল সমস্যা গাছ, নাকি অসভ্য পাখি
সেও স্পষ্ট নয়,
তবে বঙ্গভাষা ""হারামির বটগাছ'' নামক শব্দে
অনেক অপ্রিয় সত্য নিত্যদিন লেখাপড়া করে:
পথিকও ল্যাংবোট কাট, খানিকটা সাদাকালো
ফর্টিজের বাংলা সিনেমার টাইপ, কাঁধের গামছায়
চাড্ডি মুড়ি বেঁধে গাড়িভাড়া বাঁচায়, যাত্রাপথে
তবু সেই গাছতলা খোঁজে; দিনশেষে হাভাতের মতন
বাড়ি ফিরে জল খেতে খেতে ঘেমো জামা খুলে
বউকে কেবলই বলে: কপাল! কপাল!



রাত্রিযাপন ও অস্থিরতার গল্প

সার্কাসমালিকের কাছে যেসব গল্পের নাম ""অমৃতসমান''
অ্যাপারেন্টলি সেও এক কিসিমের দু:খকথা
তাছাড়া ফাগুনমাস
এবং অস্থিরতা ও বেদনার উৎসমূলে হেমন্তসংগীত ও
কিছু লোকাল ট্রেনের মলম হলদেটে এককোট
জায়গাটাকে মসৃণ ও ঝিংকুলুকুলু করে...
""সর্বদা জানিবে সত্য নেতৃবৃন্দের বৃক্ষে ডাব হয়ে ঝোলে''
অতএব কেয়সতত্ত্ব এবং আনন্দগান মিক্সচার
দুটাকায় ভাঁড়ভর্তি ""চা-য়'' --
সার্কাসমালিক তার সন্ধেবেলা এবং খিল্লির ঘোর
গায়ে মেখে গুনে নেয় খেতে না পাওয়া ট্রাপিজিয়ানির
সুতোগুছি; সে কিছুটা উদাসীন,
সে কারণে মনটি তরতাজা হলেও রাত্তিরে
বয়স বাড়ার কথা, বেয়াড়া ধকল,
কিন্তু একবারও ভাবতে বসেনা...



তারুণ্যজনিত হ্যাচারিশাস্ত্র

অ্যান্ডোগ্যান্ডোর দল প্রাথমিক হুল্লাপার্টি সামলেসুমলে
কিছুটা সামাজিকতা কিছুটা প্রাসঙ্গিক থিয়োরি আউড়ে
রোজ সন্ধে সাতটা নাগাদ বড়জেঠুদের বাড়ি
পড়াশোনা এবং পদ্য মকশো করতে লংমার্চ করে...
এভাবেই ডগা বাড়ে, যেমত কমপ্ল্যানবয়
কিছুটা মস্তির দোষে, অত্যধিক মিয়োনো প্রকৃতি
এছাড়া যেটুকু বাকি, আহামরি কোনো কিছু নহে
একি সত্য একি সত্য হে আমার চির ল্যাং বোট হে --
ভাষাশিল্পের আড় ভাঙতে ভাঙতে তার দিনকাল
তৎকাল এবং বসন্তকাল জ্যাবড়াজেবড়ি করে
খুলে খুলে পড়ে --
এও অপরাধ নয়, অন্তত আইন তা-ই বলে;
তাছাড়া এসব বস্তু চিরকালই জলজদেশীয়; কিছুটা
রঙিন মাল চটপট হজম করে ফেলে -- বাকি যা পড়িয়া
থাকে, তাহা এই পাঠ্যভাট, আজকাল মাগ্গিমার্কেটে
এর চেয়ে বৃহত্তর অশ্বডিম্ব কোনো কবি প্রসব করেনা...