আপনার মতামত         


নিরালম্বের সংসার
রোহণ কুদ্দুস

¢নরালম্বের বাবা বৃকোদর ইংরেজ জমানার ফাঁসু¤ড়ে। সন্ধ্যেবেলা একশো ওয়াট বালেÄর নীচে …ম হ'য়ে বসে থাকেন। চা-মু¢ড় খান। আর মাঝে মাঝে "হুম' শব্দে আওয়াজ ছাড়েন। হয়তো এই ¢ন¢খল সংসারকে বু¢ঝয়ে দেন -- "আ¢ম আ¢ছ'। আছেন তো বটেই। বদহজম, বদরাগ আর বদন¢সব -- এই ¢তন ¢নয়ে ¢ত¢ন রী¢তমত আছেন।

বদহজমের জন্যে পাড়ার হো¢মওপাথের স®‰ প্রায়ই আলোচনা হয়। "এখনকার স¢ব্জ পর্যন্ত... বুঝলে ডাক্তার। এখনকার স¢ব্জ পর্যন্ত যেন কেমন ¢বষাক্ত হ'য়ে গেছে। তখন ক¥মড়ো খেলে... বুঝলে ডাক্তার ("বুঝলে ডাক্তার'টা তাঁর কথার মাত্রা)।' তখন ক¥মড়ো খেলেও যে অমৃত খাওয়ার প¢রত«¢প্ত আসতো সে কথা ডাক্তার আগেই আন্দাজ করে নেয়। তাই স®‰ স®‰ ঘাড় নাড়াতে থাকে -- "সে তো বটেই। সে তো বটেই।' ডাক্তার বেচারা সদ্য পাশ করা ছেলে। শহরে বোধহয় জমাতে পারে¢ন, তাই আলীনগরের মতো মফ:স্বলে চেম্বার খুলে বসেছে। সে এখন রোগী চায়। ক¥মড়ো সংক্রান্ত যন্ত্রণা কাঁহাতক আর ভালো লাগে। "এই গল্প করতে এলুম' ব'লে এই বুড়ো রোজ ¢বকেলে এসে ¢কছ¥ না ¢কছ¥ ওষুধ ¢নয়ে যান। ¢ফজ্‌ তো দূরের কথা, ওষুধের দামটাও মেলে না সবসময়। তাই যেই ¢ত¢ন বলেন "বুঝলে ডাক্তার', সাথে সাথে ডাক্তার মাথা নাড়ে -- "সে তো বটেই। সে তো বটেই।' সম্ম¢তর থেকে মনোযোগ বে¢শ থাকে আপদ ¢বদায়ের ¢দকেই। সেটা লক্ষ্য ক'রে বুড়োর বদরাগ মাথাচাড়া দেয় আবার -- "থাক। অত জোরে ঘাড় নেড়ো না, মাথা খুলে পড়ে যাবে।'

ডাক্তারের চেম্বার থেকে ফেরার সময় বৃকোদর রাস্তায় দেখলেন একটা ক«ষ্ণচ¨ড়া গাছে নীচে তাঁর না¢ত, মানে ¢নরালম্বের ছেলে নভেম্বর দাঁ¢ড়য়ে আছে। নভেম্বর এখন কলেজ শেষ ক'রে ক¢বতা লেখায় মন ¢দয়েছে। তার প্যান্টের পকেটে …¢ল ক'রে পাকানো থাকে কাগজ। গত পরশু কাপড় কাচার সময় এই ¢নয়ে একটা ভালো ঝামেলা হ'য়ে গেছে। ¢নরালম্বের বউ রোজকার মতো জামা-প্যান্ট ¢নয়ে কাচার জন্যে গামলায় ভেজা¢চ্ছল। হঠাৎ তার ছেলে এসে ¢জজ্ঞাসা করল -- "মা আমার নীল প্যান্টটা কোথায়?' কাপড়ে সাবান মাখাতে মাখাতে মায়ের উত্তর -- "এই তো কাচতে ¢নয়ে¢ছ।' আঁতকে উঠে ছেলে প্রশ্ন করে -- "আর ওর পকেটে যে কাগজ ¢ছল?' আসলে কাগজ নয়, কাগজের …¢ল। কাগজে ক¢বতা ¢লখে ছোট …¢লর মত ক'রে পা¢কয়ে রাখা ¢ছল। এতে একটা পকেটে অনেক ক¢বতা ধরে যায়। তা ¢কছ¥ না হলেও নীল প্যান্টের দু'পকেটে গোটা পাঁচেক ক¢বতার ভ্র¨ণ ¢ছল। সেসব এখন সাবান জলে …লে গেছে।

"ত¥ই পকেটে …¢ল ক'রে ক¢বতা পা¢কয়ে রাখলে আ¢ম কী করব?' এম¢নতে নভেম্বর শান্ত ছেলে। ¢কন্ত¥ ক¢বতা জলে যাওয়ায় এখন তার রব উচ্চা®‰ -- "ত¥¢ম …¢ল…লো বের ক'রে রাখবে না? কাচার আগে প্যান্টের পকেট দেখতে নেই?' তার ¢চৎকার শুনে মঞ্চে অবতীর্ণ হলেন বৃকোদর। এসেই এক চড় লাগালেন না¢তকে। "শয়তান ছেলে! এই বয়সে পকেটে গাঁজা-…¢ল-চরশ ¢নয়ে ঘুরছো?' তারপর পুত্রবধূর ¢দকে তা¢কয়ে শুরু করলেন -- "তোমাদের আশকারাতেই ছেলেটা গোল্লায় গেছে। তখনই বলে¢ছলাম ওরকম অলক্ষ¥ণে নাম না রাখতে। ছেলের নাম কী? না, নভেম্বর। যার নাম অমন সে পকেটে ভাঙ ¢নয়ে ঘুরবে না তো ¢ক গীতা ¢নয়ে ঘুরবে?' অকস্মাৎ ¢বরা¢শ ¢সক্কার চড় খেয়ে নভেম্বর তখন দাদুর ¢দকে গোল গোল চোখে তা¢কয়ে রইলো। আর তার মা নামকরণ সংক্রান্ত এই অ¢ভযোগের উত্তরে কী বলা উ¢চত ¢কছ¥ই বুঝতে না পেরে কাপড়ের গামলাতে মনোযোগ ¢দল।

সেই থেকে দাদু আর না¢ততে কথা নেই। তাই এখন গাছের নীচে নভেম্বরকে দেখে বৃকোদর ¢কছ¥ না বলে অন্য¢দকে মুখ ক'রে বা¢ড়র রাস্তা ধরলেন।

¢নরালম্ব ইলে¢ক্টÊক অ¢ফসে চাক¢র করে। কোথাও ¢ফউজ হ'লে বা তারে ডালপালা পড়ে সাপ্লাই বন্ধ হ'য়ে গেলে লম্বা মইয়ের মাথায় চড়ে সে লাইন সারানোর কাজ করে। হাতে থাকে একটা প্লায়ার্স। আর পায়ে রাবারের স্যান্ডেল।

-- "রাবারের চ¢ট মাস্ট। বুঝলে? ভ¥লেছো ¢ক মরেছো।' ফ¥লশয্যার রাতে আর কোনও ট¢পক না পেয়ে ¢নরালম্ব বউকে শোনাতে থাকে। "এই তো ক'¢দন আগে। চক্কো¢ত্ত ছেলেটাকে কত বললাম। শুনলে আজ আর হাসপাতালে পড়ে থাকতে হত না। তাও তো ভাগ্য ভালো শুধু ঠ্যাং-এ চোট লেগেছে। অত ওপর থেকে পড়ে মাথাতে লাগে ¢ন।'

আসলে এসব কথা পাড়া কারণ একটাই। ¢নরালম্বদের …¢ষ্টশুদ্ধ¥ সবাই ফ¥লশয্যার রাতে ঘু¢ময়ে পড়েছে এযাবৎ। সেজকাকার তো এই ¢নয়ে বউয়ের সাথে ছাড়-কাট্‌ পর্যন্ত হতে যা¢চ্ছল। ¢নরালম্বের বয়স তখন ক¥¢ড়। তখনই সে ধনুর্ভ‰ পণ করে¢ছল। যা-ই ঘট¥ক না কেন, ফ¥লশয্যার রাতে সে ¢কছ¥তেই ঘুমোবে না। নেভার! তাই ঘুম ভাগাতে রাবারের চ¢ট আর চক্কো¢ত্তর ¢বপ¢ত্ত এসব আমদা¢ন করতে হয়েছে।

যেন-তেন-প্রকারেণ ¢নজের প্র¢তজ্ঞা রক্ষা সে করে¢ছল ¢ঠকই। ¢কন্ত¥ তার বউ মেনকা বার দশেক হাই তোলার পরও গপ্পোমান ¢নরালম্বের দৃ¢ষ্ট আকর্ষণ করতে না পেরে ঘু¢ময়ে পড়ল। ¢নরালম্ব তখন রাবারের চ¢ট ¢বষয়ক কথকতা শেষ ক'রে ভাব¢ছল সাম্প্র¢তক মূল্যবৃ¢দ্ধ সম্পর্কে বউ-এর ¢কছ¥ মতামত জানতে চাইবে। ¢কন্ত¥ নত¥ন বউ... এক্ষ¥¢ণ দু¢নয়াদারীর কথা শুরু করা ¢ঠক হবে ¢ক? এরকম সাত-পাঁচ ¢চন্তা করছে, হঠাৎ কানে এল -- ফ¥র্‌র্‌র্‌ - ফ¥র্‌র্‌র্‌। নববধূ সারা¢দনের ধকলের পর সু¤খ¢নদ্রা ¢দচ্ছেন। বেচারা ¢নরালম্ব লং ফ্যানের ¢দকে তা¢কয়ে তা¢কয়ে একফোঁটাও না ঘু¢ময়ে রাতকাবার করে ¢দল। যতই হোক, "মর্দ কী বাত'।

২।।

আলীনগর জায়গাটা ভালোই। হাইস্ক¥ল, হাসপাতাল থেকে শুরু ক'রে কসাইয়ের দোকান, ফজ¥ ময়রার ¢জ¢ল¢পর ঠেক সবই আছে এখানে। ফ¥লবাগ রেলস্টেশন থেকে সাইকেলে লাগে ¢ম¢নট দশেক। ¢নরালম্ব স্টেশনের কাছে একটা দোকানে সাইকেল জমা রেখে ¢তনটে স্টেশন পর মকাইবা¢ড়তে চাক¢র করতে যায়। কাছাকা¢ছ ইলে¢ক্টÊক সাপ্লাই অ¢ফস বলতে এটাই। ¢বশ্বকাপ ফাইনাল হোক বা ভারত-পা¢কস্তান ম্যাচ; গন্ডগোল হবেই। যে পাড়ায় সাপ্লাই বন্ধ থাকে তারা লা¢ঠ-সোঁটা ¢নয়ে চড়াও হয় ¢নরালম্বদের অ¢ফসে। গত ইউরো কাপের ফাইনালের পরের ¢দন সকালে জনা পনেরো লোক এসে বড়বাবুশুদ্ধ সব্বাইকে বেঁধে রেখে¢ছল গাছের সাথে। অ¢ফসের ¢পয়নকে ¢নয়ে তারা মোট ¢ছল আটজন। বাজারের এক¢দকে কোন এক বনমহোৎসবে লাগানো দুটো মোটাসোটা ¢খরীশ গাছে চার জন ক'রে বাঁধা পড়ল ¢নরালম্বরা।

আক্রমণকারীদের রকম-সকম দেখে মনে হ¢চ্ছল গাছের সাথে বেঁধে রেখে তারা প্রথমে গোল ক'রে নাচবে "হু-লা-লা হু-লা-লা' রবে। তারপর রান্না ক'রে খাবে ইলে¢ক্টÊক অ¢ফসের আটজনকে। আটজনের মাংস তো অনেক হবে। একা বড়বাবুরই ষাট-সত্তর ¢কলো হবে হাড় বাদ ¢দলেও। এই বারো-পনেরোজনে খেয়ে ফেলতে পারবে ¢ক? ¢নরালম্বের মনে এইসব ক¥¢টল প্রশ্ন উঁ¢ক ¢দ¢চ্ছল। মজা দেখতে প্রচ¥র লোকও জমা হয়ে¢ছল। তাদের একজন চেঁঁ¢চয়ে বলল -- "এদের চামড়া ছা¢ড়য়ে ¢নয়ে ঢাক বাজানো উ¢চত।' দলের যে পান্ডা, মানে যে এতক্ষণ বাঁধা-ছাঁদার তদার¢ক কর¢ছল, সে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর বাজখাঁই গলায় বলল -- "না-আ-আ! এদের এইভাবেই আজ সারা¢দন বেঁধে রাখা হবে। কেউ গায়ে হাত দেবে না। এরা এইভাবেই পাঁচটা পর্যন্ত থাক¥ক। নো খাওয়া দাওয়া, না¢থং! কাল রাতে খেলা দেখতে না দেওয়ার শা¢স্ত।' বড়বাবু ¢মন¢মন ক'রে কী একটা বলতে যা¢চ্ছলেন। তাঁর মুখের ওপর ধমক পড়ল -- "চো-ও-ও-প! কোনো অজ¥হাত নয়... অজ¥হাত চলবে না। ওসব অনেক শোনা হ'য়ে গেছে।' ¢ভড় ক'রে থাকা জনতার সামনে যেন সঈদ আনোয়ার ¢ক্লন বোল্ড! আনন্দে লা¢ফয়ে উঠল সবাই -- "হো-ও-ও-ও!'

বেলা একটা বাজতে চলল। চড়াও হওয়া দলের চার-পাঁচজন ক'রে মোড়ের অন্নপূর্ণা হোটেলে ¢গয়ে খেয়ে আসতে লাগল। এখন তাদের ইজ্জতই আলাদা। ¢éতে রুই মাছের গাদা পে¢ট পড়তে লাগলো পাতে। এম¢নতেই তারা এই এলাকার ঝামেলাদার মুখ। তারপর এইভাবে ¢দনদুপুরে দাদা¢গ¢র। কে না সম্ভ্রম করবে? ¢ক¿¥¹ ¢নরালম্বদের অবÙÛ¡ কা¢হল। জল পর্যন্ত পেটে পড়ে¢ন কারোর। ¢নরালম্ব বরাবরই মুখচোরা। গলা উঁ¢চয়ে কথা বলা তার ক¥ষ্ঠীতে নেই। তার ওপর এইরকম অত্যাচারে সে আরও নে¢তয়ে পড়েছে। তার ¢বপরীত পক্ষের সবাই এ¢দক-ও¢দক দোকানের রকে ছায়ায় বসে ¢ঝমোচ্ছে। কাছাকা¢ছ বসে থাকা একজন, যাকে সবাই ¢কনু ব'লে ডাক¢ছল, তাকে ¢নরালম্ব আস্তে আস্তে ডাকল -- "এই যে ভাই। শুনছেন?' লোকটা দাঁতে কা¢ঠ ¢দয়ে চোখ বন্ধ করে¢ছল। কোনওরকমে একটা চোখ খুলে তাকাল -- "ক্যা?' মানে "কী?' ¢নরালম্ব এ¢দক-ও¢দক তা¢কয়ে বলল -- "ইয়ে মানে বাথরুম পেয়েছে।' শুনে লোকটা "খ্যা-খ্যা' ক'রে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই সে চ্যাঁচাতে লাগলো -- "বাথরুম পেয়েছে? খোকাবাবুর বাথরুম পেয়েছে!' দলের আরও চার পাঁচজন তার কাছে এ¢গয়ে এসে হায়েনার মত হাসতে লাগলো। আশ্চর্যের ব্যাপার! সবার হা¢সর ধরণ একই। "এই না হ'লে একতা!' -- এই ¢বপদের সময়ও ¢নরালম্ব এদের তা¢রফ না ক'রে পারলো না। সবাই কেমন একসু¤রে খ্যা-খ্যা ক'রে হাসছে।

এবার এ¢গয়ে এল দলের পান্ডা। ¢নরালম্বকে জ¢রপ করল এক¢ম¢নট। তারপর বলল -- "এক নম্বর না দু'নম্বর?' ¢নরালম্ব প্রথমে বলল -- "এক নম্বর।' দলপ¢ত গম্ভীর স্বরে হুক¥ম ¢দল -- "তাহলে চেপে রাখুন।' পাশ থেকে ¢চঁ ¢চঁ ক'রে উঠল ক্যা¢শয়ার ¢দগম্বর -- "আমার দু'নম্বর পেয়েছে।' আবার ধমক এলো -- "আপ¢নও চেপে রাখুন।'

চোখ বন্ধ ক'রে ¢নরালম্ব একটা অলৌ¢কক ¢কছ¥র আশা করতে লাগলো। হয়তো এক্ষ¥¢ণ দলের পান্ডার ম¢ত প¢রবর্তন হবে, হয়তো এক্ষ¥¢ণ তার কাছে এসে বলবে -- "আহা! খুব ভ¥ল হ'য়ে গেছে। এই এদের ছেড়ে দে এবার।' ¢কংবা এক্ষ¥¢ণ হয়তো পু¢লশ এসে পড়বে। তাদের উদ্ধার ক'রে টয়লেট পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।

¢দ্বতীয়টাই হল। হঠাৎ কোত্থেকে একজন ছ¥টতে ছ¥টতে এসে হাঁকড়ে উঠল -- "পু¢লশ'। মূহুর্তে ময়দান ফাঁকা। পু¢লশের একটা ¢জপ ঢকর-ঢকর করতে করতে এসে থামলো ¢ম¢নট পাঁচেক বাদে। তাদের কাছ থেকে জানা গেল খবর পেয়েই তারা রওনা ¢দয়ে¢ছলেন। ¢কন্ত¥ পনেরো ¢কলো¢মটার রাস্তা ¢ক কম? মাঝে দুপুরের খাবার আছে। তার ওপর রাস্তায় একজায়গায় চাকা বদলাতে হয়েছে। তাই ঘন্টা ¢তনেক লেগে গেল পৌঁছাতে।

¢নরালম্ব পরে এই গল্পটা জনে জনে শু¢নয়েছে। অবশ্যই একট¥ যোগ-¢বয়োগ ক'রে। যোগ বলতে তার স®‰ কীভাবে দলের পান্ডার জোর তর্ক হয়ে¢ছল। আর ¢বয়োগ দেওয়ার মধ্যে শুধু তার এক নম্বর পাওয়া। তার এক দূর সম্পর্কের শালা এই গল্পটায় আরও ¢কছ¥ যোগ ক'রে খবরের কাগজে ¢চ¢ঠও পা¢ঠয়ে¢ছল। সরকারী কর্মচারীদের ¢নরাপত্তা ¢বষয়ক বেশ ¢কছ¥ ¢চ¢ঠ চালাচা¢লও হয়ে¢ছল সেই সময়। ¢নরালম্বের বাজারের ¢হসাব লেখা খাতায় সেইসব পেপার কা¢টং এখনও সাজানো আছে।

৩।।

সাধারণত: ¢নরালম্বরা একসাথেই রাতের খাবার খেয়ে থাকে। বৃকোদরের পাশে ¢নরালম্ব বসে। তার পাশে নভেম্বর। মেনকা সবাইকে প¢রবেশন ক'রে ¢নজে বসে নভেম্বরের পাশে। বৃকোদর খাবার প¢রবেশন পর্বেই কথাটা পাড়লেন ছেলের উদ্দেশ্যে -- "ছেলেটার কথা ¢কছ¥ ভেবেছো? আজকাল তো শুন¢ছ নেশা-টেশাও করছে। আজ ¢বকালে দেখলাম রাস্তার ধারে ক«ষ্ণচ¨ড়ার নীচে দাঁ¢ড়য়ে আছে।' কাগজের …¢ল থেকে যে ¢বপ¢ত্তটা ঘটেছে, সেটা ¢নরালম্ব বউয়ের কাছ থেকে আগেই শুনেছে। ¢কন্ত¥ গাছের নীচে দাঁ¢ড়য়ে থাকার ব্যাপারটা ¢ঠক ধরতে পারলো না। অবশ্য তার বাবার খুব কম কথাই সে বুঝতে পারে। ইদানীং না-বোঝার প¢রমাণ বেড়ে গেছে। তাই সে খাওয়ার ¢দকে মন ¢দল। পাশে নভেম্বর ¢নপাট ভালোমানুষের মতো খেয়ে যাচ্ছে। ¢নরালম্বের একট¥ মায়া হয়। আহা! ছেলেটা ক¢ব, তাই দাদুর এমন অন্যায় কথাবার্তায় রাগও করতে পারছে না। ক¢বরা এমন সরল গোবেচারাই হয় বরাবর।

¢নরালম্ব তার বাবাকে ¢ঠকঠাক না বুঝতে পারলেও, এট¥ক¥ বোঝে যে নভেম্বরের নামের কারণেই ছোটবেলা থেকে বাবা একমাত্র না¢তকে দেখতে পারেন না। ছেলের নাম দেওয়ার সময় কত শখ ক'রে নাম রেখে¢ছল নভেম্বর। মেনকা ¢জজ্ঞাসা করে¢ছল -- "এ কেমন নাম? মাসের নামে ছেলের নাম রাখে কেউ?' ¢ঠকই তো। কেউ কবে শুনেছে যে ছেলের নাম রাখা হয়েছে °বশাখ বা °চত্র? ¢নরালম্ব যু¢ক্ত দেয় -- "কেন °বশাখী তো হয়। ¢চত্রা হয়। বাংলা মাসকে বেঁ¢কয়ে চ¥¢রয়ে নাম রাখা যায়; আর ইংরেজী মাসের নামে নাম রাখা যাবে না?' ঐ তো বাবার ঘরে যে একটা হলুদ হ'য়ে যাওয়া ফোটো আছে। বাবা আর সেই সময়ের জেলার সাহেবের। বাবার কাঁধে হাত রেখে ¢ম¢ট¢ম¢ট হাসছেন। সেই সাহেবের নাম ¢ছল কর্ণেল ¢রচার্ড মে। মেয়ের নাম রাখা হয়েছে জ¥ন, এমনও শোনা যায় (তখন জ¥ন মা¢লয়ার নাম অবশ্য খবরের কাগজে আসতো না)। তাহলে ¢নরালম্ব য¢দ ছেলের নাম নভেম্বর রাখে তাহলে আপ¢ত্ত করবে কার বাবা?

অন্য কারো বাবা নয়। ¢নরালম্বের বাবা বৃকোদর খোদ আপ¢ত্ত করে¢ছলেন। সেই আপ¢ত্ত এখনও জারী আছে। মাঝে মাঝেই পরামর্শ দেন -- "সময় আছে। এখনও কোর্টে ¢গয়ে নামটা বদলে দাও।' তাঁর ইচ্ছে ¢ছল না¢তর নাম হবে পাঞ্চজন্য। এই নামটাও অবশ্য মেনকার পছন্দ হয় ¢ন। সে আড়ালে স্বামীকে বলে¢ছল -- "আ¢ম মরে গেলেও এ নাম রাখতে দেব না। পাঞ্চজন্য থেকে কেটেক¥টে ডাকনাম হ'য়ে যাবে পাঁচ¥।' মেনকার বাপের বা¢ড়র গ্রামে ¢তনজন পাঁচ¥ ¢ছল। প্রথমজনের মু¢দর দোকান। মু¢দ পাঁচ¥ খদ্দেরকে পচা মাল গছানোর জন্যে ¢বখ্যাত ¢ছল। তাই তার নাম হয়ে ¢গয়ে¢ছল পচা পাঁচ¥। ¢দ্বতীয়জন ¢ছল চোর। তার নাম ¢ছল চোর পাঁচ¥। আর ত«তীয় জন ¢ববাগী। সে বাপ-মায়ের সাথে ঝগড়া ক'রে কবেই ঘর ছেড়ে গ্রাম ছেড়ে কোথায় চলে ¢গয়ে¢ছল। লোকে বলতো সে না¢ক সন্ন্যাসী হ'য়ে গেছে, প্রয়াগের কাছে একটা …হায় ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে তাকে বছরের ছ'মাস। আর বা¢ক ছ'মাস সে গ‰¡র বুকে আধগলা জলের মধ্যে দাঁ¢ড়য়ে থাকে। তাই এই পাঁচ¥র নাম হয়েছে মেরু পাঁচ¥।

সে যাই হোক, মেনকা ¢কছ¥তেই তার ছেলের ঐ অলক্ষ¥ণে নাম রাখতে দেবে না। তা শেষ পর্যন্ত ¢নরালম্বই জয়ী হল। তার ছেলের নাম হল নভেম্বর। ইস্ক¥লে ভ¢র্ত করাতে ¢গয়ে সে কী ঝামেলা! ফর্মে নভেম্বর লেখা দেখে হেডমাস্টার দীননাথবাবু চশমা উঁ¢চয়ে বলেন -- "নাম। নাম লেখ। ছেলের জনÈমাস নয়। যত্তসব অ¢শ¢ক্ষত! বাংলাও পড়তে পারে না।' ওটা যে ছেলের নামই, জনÈমাস নয়, সেটা বোঝাতেই এক¢ট ঘন্টা লেগে ¢গয়ে¢ছল। সংস্ক«তের প¢ন্ডত মাধব ¢বদ্যালঙ্কার নাক উঁ¢চয়ে ¢জজ্ঞাসা করলেন -- "তোর ছেলের ¢ক ক্যালেন্ডার রা¢শতে জনÈ না¢ক?' যাই হোক, এমন টীকা-¢টপ্প¢ন এখনও তাকে শুনতে হয়। নভেম্বরকেও ¢নশ্চয় ইস্ক¥ল বা কলেজে তার বন্ধ¥রা ছেড়ে দেয় ¢ন। সবাই ¢নশ্চয় তার নাম ¢নয়ে অনেক মজা করেছে। অনেক ¢টপ্প¢ন কেটেছে। ¢কন্ত¥ ¢নরালম্বের কাছে এসে ছেলে কখনও অ¢ভযোগ করে ¢ন এই ¢নয়ে। আজ হঠাৎ এসব মনে পড়ে যাওয়ায় তার মনে হতে লাগলো ছেলের অজানা দুর্ভোগের জন্যে সে ¢নজেই দায়ী।

খাওয়ার পর ¢নরালম্ব গেল ছেলের ঘরে। নভেম্বর তখন জানালার রড ধরে দাঁ¢ড়য়ে দাঁ¢ড়য়ে বাইরের অন্ধকার দেখছে। অন্ধকার দেখা তার একটা শখ। ছোটবেলায় সে বাবাকে প্রায়ই বলতো -- "আ¢ম বন্ধকার খাবো।' নভেম্বর এখন আর অন্ধকারকে বন্ধকার বলে না। ¢কন্ত¥ এখনও অন্ধকার খেতে চায় ¢ক? ¢নরালম্বের জানতে ইচ্ছে হল। ¢কন্ত¥ এখন এটা ¢জজ্ঞাসা করা ¢ঠক হবে না। সে আস্তে আস্তে ডাকল -- "নভেম্বর।' নভেম্বর কোনও সাড়া ¢দল না। বোধহয় তনÈয় হ'য়ে অন্ধকার দেখছে। ক¢ব তো, ওদের বোধহয় এমনটাই স্বভাব। ¢নরালম্ব ভাবে। সে আস্তে আস্তে ছেলের কাঁধে হাত রাখে। মৃদু স্বরে আবার ডাকে -- "নভেম্বর।' এবার অবাক হল ¢নরালম্ব। নভেম্বর কাঁদছে। তার গাল বেয়ে নেমে আসছে জলের ধারা।

নভেম্বরেরও যে দু:খ থাকতে পারে, সেও যে কাঁদতে পারে এমনটা ¢নরালম্বের কাছে অ¢ভনব। তাই সে একট¥ হতচ¢কত হ'য়ে জ¢ড়য়ে ধরলো ছেলেকে। "কী হয়েছে বাবা? আমায় বল। আমায় বল। এই তো... আর কাঁদে না। কী হয়েছে বাবা?' কবে শেষ এভাবে ছেলের কান্না থামাতে হয়েছে সে মনে করতে পারলো না। হয়তো কখনও সে নভেম্বরকে কাঁদতে দেখে¢ন। ¢নরালম্ব ছেলের মাথায় হাত বু¢লয়ে ¢দতে ¢দতে ভাবতে থাকে, ক¢বদেরও তাহলে দু:খ থাকে।

৪।।

মেনকা মশা¢র …ঁজতে …ঁজতে ¢জজ্ঞাসা করল -- "ত¥¢ম ¢জগ্যেস কর¢ন?' ¢নরালম্ব চ¥প ক'রে রইলো। কী-ই বা ¢জজ্ঞাসা করত সে? মেনকা স্বামীর পাশে শুয়ে চাদরটা টেনে ¢নল গায়ে। "¢জগ্যেস কর¢ন ¢কছ¥? কেন কাঁদ¢ছল?' ¢নরালম্ব Ù»£র ¢দকে তাকালো এবার। "নভেম্বর ব্যবসা করতে চায়। ত¥¢ম বল ক¢বরা ¢ক ব্যবসা বা¢ণজ্য করে? না¢ক পারে?' মেনকা তার স্বামীকে ¢বলক্ষণ চেনে। যা একবার মাথায় ঢোকে তা বের করা মুশ¢কল। তাই সে ¢নরালম্বের মাথায় একটা হাত রেখে বলল -- "ক¢বরা শুধু ব্যবসা কেন, যুদ্ধ পর্যন্ত করে।' ¢নরালম্ব বউ-এর কাছ থেকে সমর্থন পাবে আশা করে¢ছল। অন্তত: এত¢দন তো তা-ই পেয়েছে। আজ অন্য কথা শুনে সে একই স®‰ ¢ব¢স্মত ও ক্ষ¥ণ্ন হল। একট¥ অ¢ভমানের গলায় সে বলল -- "ছেলে যখন বলল সে ক¢ব হবে তখন তো আ¢ম বাধা ¢দই ¢ন। সবাইকেই যে আমার মত লাইন সারাতে হবে, তার কী মানে আছে? ¢কন্ত¥ যা করবে মন ¢দয়ে করবে না? ক¢বতা লেখা আর ব্যবসা করা একসাথে হয় কখনও?'

মেনকা এবার একহাতে ভর ¢দয়ে উঠে বসে। তারপর ¢নরালম্বের চোখে চোখ রেখে বোঝায় -- "ক¢বতা লেখার থেকে ব্যবসা করা অনেক সহজ। তাছাড়া কয়েক বছর পর নভেম্বরের ¢নজের সংসার হবে। তখন সেই ভার ও সামলাবে কী করে? ক¢বতা ¢লখে ¢ক পেট ভরে বলো?' ¢নরালম্ব অবাক চোখে তাকায় -- "তাহলে যারা ক¢বতা লেখে, যাদের সবাই ক¢ব বলে, তাদের ঘর চলে কী করে?'

শেষ পর্যন্ত নভেম্বরের ইচ্ছেই রইলো। তার বন্ধ¥ সোমনাথের বাবার একটা দোকানঘর ¢ছল বাজারে। ভদ্রলোক পরে অন্য আরেকটা দোকান ক'রে এটাকে বন্ধ ক'রে রেখে¢ছলেন। ইচ্ছে ¢ছল সোমনাথ আরেকট¥ বড় হলে এটাতে তার ¢নজের ব্যবসা শুরু করবে। তা সোমনাথ এখন কলেজ শেষ ক'রে যথেষ্ট বড়। অতএব তার একমাত্র বন্ধ¥ নভেম্বরকে ¢নয়ে সে পার্টনার¢শপে ব্যবসা শুরু করতে চায়।

"কীসের ব্যবসা?' ¢নরালম্ব আবার ভ¥রু ক¥ঁচকে ¢জজ্ঞাসা করে। নভেম্বর একট¥ থতমত খেয়ে যায় -- "সাইবার কাফে। ইন্টারনেট।' ¢নরালম্ব এই শব্দ…লো যে একেবারেই শোনে ¢ন তা নয়। ¢কন্ত¥ তার কোনও ধারণা-ই নেই এ সম্পর্কে। সে তাই আরেকবার তাকায় ছেলের ¢দকে। "আর কোনও ব্যবসা মাথায় এল না তোদের? এসব ব্যবসা চলবে?' এবার সোমনাথ মুখ খোলে। তার বাবাও একই কথা ¢জজ্ঞাসা করে¢ছলেন। ¢কন্ত¥ সাইবার কাফে এখন লাভজনক ব্যবসা। এম¢ন সময় ছেলেমেয়েরা এসে পয়সা ¢দয়ে ইন্টারনেট তো করবেই। তাছাড়া মাধ্য¢মক, উচ্চমাধ্য¢মক, জয়েন্ট যে কোনও পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোলেও দারুণ ব্যবসা হবে। সব থেকে বড় কথা কাছাকা¢ছ আর কোনও সাইবার কাফেও নেই। এই এলাকায় তারাই প্রথম। ইন্টারনেটের সাথেই ¢ড. ¢ট. ¢প. -র কাজও হবে। সাথে একটা জেরক্সের মে¢শনও ব¢সয়ে নেবে। সোমনাথ আর নভেম্বর দুজনেই ক¢ম্পউটারে একটা ¢ডপ্লোমা করে¢ছল কলেজে পড়তে পড়তে। এখন সেটা দারুণ কাজে আসবে। ব্যবসা চলবে মানে? ¢মলখা ¢সং-এর মতো এক্কেবারে উড়বে।

¢কন্ত¥ পুঁ¢জ? শুরুতে তো একট¥ লাগবেই। ¢কন্ত¥ তারপর খরচ খুব কম। ছেলের ¢দকে তা¢কয়ে ¢নরালম্ব ¢জজ্ঞাসা করে -- "কত লাগবে শুরুতে?' নভেম্বর ভয়ে ভয়ে তাকায় সোমনাথের ¢দকে। সোমনাথই আবার ত্রাতার ভ¨¢মকায়। সব ¢ম¢লয়ে ¢তন লাখ। ¢তন লাখ? ¢নরালম্বের ভ¥রু দৃশ্যত: কপালে উঠে যায়। বাবার অবÙথা দেখে ছেলে আশ্বাস দেয় -- "¢ফফ¢ট-¢ফফ¢ট পার্টনার¢শপ বাবা। একেকজনের দেড় লাখ। ত¥¢ম পঞ্চাশ হাজার ¢দলেই হবে। বা¢কটা সোমনাথের বাবা ব্যাঙ্ক লোনের ব্যবÙÛ¡ ক'রে দেবেন দুজনের জন্যে।'

বা:! সবই তো °তরী। ¢নরালম্ব দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ক¢ব ব্যবসাদার হতে চায়। শুধু তাই নয় একেবারে আটঘাট বেঁধে নেমেছে। ¢কন্ত¥ এর থেকেও বড় ¢চন্তা পঞ্চাশ হাজার কোথা থেকে আসবে। তার সামান্য মাইনের টাকায় সংসার চলে যায় ¢ঠকই। ¢কন্ত¥ সঞ্চয় তো প্রায় শূন্য। ব্যাঙ্কে ঝেড়েঝ¥ড়ে হয়তো হাজার পাঁচেক টাকা বেরোবে তার অ্যাকাউন্ট থেকে। তাহলে? মেনকা সব শুনে-ট¥নে তার অ¢ধকাংশ গয়না বের ক'রে ¢দল। "¢কন্ত¥ এসব বন্ধক ¢দলেও তো অত টাকা আসবে না।' ¢নরালম্ব বউকে ¢জজ্ঞাসা করে। মেনকা ¢স্মতমুখে বলে -- "এসবে আমার আর কী হবে বলো? মেয়েও তো নেই যে দেব। তার থেকে য¢দ ছেলেটার কাজে আসে। এ…লো ত¥¢ম বেচে দাও।'

৫।।

অবশেষে খুললো সোমনাথ আর নভেম্বরের সাইবার কাফে। নাম রাখা হল "¢দ্বপ্রাহ¢রক'। নভেম্বর ক¢ব। তাই এব্যাপারে তার দেওয়া নাম সোমনাথ একবাক্যে মেনে ¢নয়েছে। ¢কন্ত¥ নামের ব্যাপারে এবারেও খু¢শ নন বৃকোদর। "¢দ্বপ্রাহ¢রক! হুঁ:! নাম শুনে মনে হবে শুধু দুপুরবেলার দোকান। যেন ¢সনেমার নুন শো। ছো:!' ¢নরালম্বও একট¥ খুঁতখুঁত কর¢ছল। "আর ¢কছ¥ রাখতে পার¢তস। ¢দ্বপ্রাহ¢রক কেন?' নভেম্বর ¢নজেও জানে না কেন এই নাম তার মাথায় এসেছে। শুনতে অন্যরকম, তাই নাম ¢ঠক করার সময় এই নামটা সোমনাথকে বলে¢ছল। যাই হোক, সাইনবোর্ডের এক কোণে ¢লখে দেওয়া হল "সকাল ন-টা থেকে রাত দশ-টা পর্যন্ত খোলা'।

¢তনটে ছোটো ছোটো খুপ¢রতে ক¢ম্পউটার বসানো হয়েছে। ইন্টারনেট ক¥¢ড় টাকা প্র¢ত ঘন্টা। উদ্বোধন করলেন সোমনাথের বাবা। দুই প¢রবারের সবাই এসেছেন। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে ¢ক্লক করতেই লোড হতে লাগলো একটা বেশ চমকদার পেজ। হে¢ডংটা পড়েই ¢বষম খায় নভেম্বর। "হট বেবস্‌ ডট কম'। তখন সবে বেব-এর কপাল দেখা ¢দয়েছে। ব্যবসার প্রথম ¢দনেই কপাল ফাটলো বলে। পাশ থেকে বু¢দ্ধ ক'রে সোমনাথ ম¢নটরের সু¤ইচ অফ ক'রে ¢দয়ে বলল -- "দোকানের উদ্বোধন। হাততা¢ল।' খুপ¢রর ভেতরে বাইরে চটাচট ক'রে হাততা¢ল পড়ল। ¢ম¢ষ্ট এল, কোল্ড ¢ডÊংস্‌ এলো। সবাই খেয়েদেয়ে বা¢ড়র রাস্তা ধরলেন। যাবার সময় মেনকা ছেলেকে বলে গেল -- "আজ তাড়াতা¢ড় ¢ফ¢রস। প্রথম¢দন বে¢শ দেরী ক¢রস না।'

সবাই চলে যাবার পরেই নভেম্বর সোমনাথকে এই মারে তো সেই মারে। "প্রথম¢দনই তো ব্যবসা লাটে উঠে যা¢চ্ছল। কাক¥ য¢দ বুঝে ফেলতেন?' সোমনাথ কোনওরকমে শান্ত করে তাকে। "আরে বেবস্‌ মানে বাবা জানে না। আ¢ম আসলে একট¥ আগে চেক্‌ কর¢ছলাম সব ¢ঠকঠাক আসছে ¢কনা। আমাদের বে¢শরভাগ কাস্টমার এসবই দেখবে। সবাই ¢ক আর তোর মতো লখ্‌¢খ ছেলে? না পদ্য লেখে?' খ্যা-খ্যা ক'রে সোমনাথ হাসে। "আর পদ্য ¢লখলেই বা কী? বেবস্‌ সবাই ভালোবাসে। কী বল?'

তা বেবস্‌-এর কল্যাণেই হোক বা লক্ষ্মীর ক«পা, ব্যবসা ভালোই চলতে লাগলো। ইন্টারনেট, জেরক্স আর ¢ড.¢ট.¢প. -- এই ¢তনে ক'¢দনেই বেশ জমে গেল "¢দ্বপ্রাহ¢রক'। এখন মাঝে মাঝে বৃকোদরও ¢বকেলের ¢দকে আসেন এখানে। অবশ্য সোমনাথ সামলায় তাঁকে। কারণ ঐ সময় নভেম্বর ¢কছ¥ না ¢কছ¥ বাহানা দে¢খয়ে চম্পট মারে দোকান থেকে। দাদুর সামনা-সাম¢ন পড়তে চায় না সে।

"বুঝলে সোমনাথ। তখন ¢ছল ডাকহরকরা। সারারাত ছ¥টতো ¢চ¢ঠ কাঁধে ¢নয়ে। এক একটা ¢চ¢ঠ পৌঁছতে পনেরো¢দন পে¢রয়ে যেত।' একথা অবশ্য সোমনাথও ভাসা ভাসা জানে। কার ক¢বতা ¢নয়ে একটা গান আছে না -- "রানার। রানার।' ¢কশোরক¥মার গেয়েছে বোধহয়। "আরে ছাড়ো তোমার ¢কশোরক¥মার। যখন ত¥¢ম বললে সে¢দন ইমেল, আমার তো ¢বশ্বাসই হয় ¢ন। ভাবা যায়! অ্যাঁ! কোথাও ¢কছ¥ নেই এই ক¢ম্পউটার থেকে ঐ ক¢ম্পউটারে ¢চ¢ঠ পৌঁছে যাচ্ছে। তাও আবার সেকেন্ডের মধ্যে!' ¢বস্ময় ঝরে পড়ে বৃকোদরের গলায়। ভালোই ব্যবসা ফেঁদেছে এরা। ¢ত¢ন ঘুরে ¢ফরে দেখেন। ¢কন্ত¥ সে ছোঁড়াটা কোথায়? তাঁকে দেখলেই কোথায় যে লুকোয়... একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বা¢ড়র রাস্তা ধরেন বৃকোদর।

নভেম্বর দাদুর অজ¥হাত দে¢খয়ে দোকান থেকে কেটে পড়ে ¢ঠকই। ¢কন্ত¥ ঐ এক-দেড় ঘন্টা সে কী করে? সাধারণত: সে নদীর ¢দকে বেড়াতে যায়। আলীনগরের এই ¢দকে জনবস¢ত ¢কছ¥টা কম। একট¥ ¢ন¢র¢ব¢ল জায়গা। নদী খুব চওড়া নয়। ঐপারে দেখা যায় বাংলাদেশের জ¢ম। নভেম্বর হাঁ ক'রে তা¢কয়ে থাকে। ভারত আর বাংলাদেশের গাছ একই রকম দেখতে। ওদের গরু…লোও এদেশের গরুর মতোই দেখতে। তবু ¢বদেশ শুরু হ'য়ে গেছে নদীর ঐ পার থেকে।

"কখন এসেছো?' মেয়েটা তার পাশে এসে দাঁড়ায়। এক মূহুর্তের জন্যে তার নাম ভ¥লে যায় নভেম্বর। আজ আসমানী সালোয়ার কা¢মজ। তখনই মনে পড়লো মেয়েটার নাম বর্ণা। দুজনে একসাথে দাঁ¢ড়য়ে নদী দেখে। নৌকা দেখে। মাঝে মাঝে ট¥কটাক কথা বলে। এই যেমন প্রথম¢দন নভেম্বর ¢জজ্ঞাসা করে¢ছল -- "ত¥¢ম একাই আমাদের সাইবার কাফেতে আসো।' তারপর শুধরে ¢নয়ে বলে¢ছল -- "মানে আর কোনও মেয়ে আসে না।' বর্ণা ¢খল¢খল ক'রে হেসে উঠে¢ছল। "কেন তোমাদের সাইবার কাফেতে ¢ক মেয়ে আসা বারণ? জানতাম না তো।' বেচারা নভেম্বর। তার বোধহয় এটা বলা ¢ঠক হয় ¢ন। কেন যে ¢প. আচার্য মেয়েদের সাথে কথা বলার মানে বই বের করে না, কে জানে। "আসলে আমরা যখন কোলকাতায় ¢ছলাম, তখন সাইবার কাফেতে যেতাম। অনেক বন্ধ¥ হ'য়ে গেছে ইন্টারনেটে। তাদের সাথে এখানে এসে সম্পর্ক রাখাই মুশ¢কল হয়ে পড়¢ছল। ভা¢গ্য তোমরা কাফেটা খুললে।'

বর্ণার বাবা পু¢লশে চাক¢র করেন। কোলকাতা থেকে বদ¢ল হ'য়ে এখানে এসেছেন। বর্ণা পার্ট ট¥ ¢দয়ে এখন রেজাল্টের জন্যে ওয়েট করছে। "তারপর কী করবে?' বর্ণা মুখ বাঁকায়। "জা¢ন না। হয়তো এম. এ. করবো।' তারপর একট¥ চ¥প ক'রে থেকে ¢জজ্ঞাসা করে -- "ত¥¢ম ¢ক করবে?' নভেম্বর বুঝতে পারে না। "মানে এই ধরো কলেজ শেষ করলে। তারপর ব্যবসা করছো এখন। তারপর কী করবে? ঘর সংসার? ব্যাস?' নভেম্বর এখনও বুঝতে পারে না এই মেয়ে কী বলতে চায়। সবাই তো তাই করে। "তোমার ক¢বতার কী হবে? ক¢বতা ¢লখবে না আর?' লেখে তো সে। সময় পেলেই লেখে। এখনও সাইবার কাফেতে বসে সময় পেলেই লেখে। ¢বশেষত: দুপুর বেলা যখন প্রায় কেউ আসেই না। সোমনাথও বা¢ড় চলে যায় খদ্দের প্রায় থাকে না বলে। তখন ক¢বতা ¢নয়ে বসে নভেম্বর।

এরকমই এক দুপুরবেলা বর্ণা এসে¢ছল। ব্রাউ¢জং ক'রে ঘন্টাদুয়েক পর সে বে¢রয়ে এসে একটা একশো টাকার নোট ¢দল। খুচরো তো নেই। তাই তাকে ওখানেই দাঁড় ক¢রয়ে পাশের দোকান থেকে খুচরো ¢নয়ে এল নভেম্বর। বাকী টাকাটা হাতে ¢নতে ¢নতে বলল -- "ত¥¢ম ক¢বতা লেখো বু¢ঝ?' তারপর একটা কাগজ তার হাতে ¢দয়ে বলল -- "ফ্যানের হাওয়ায় উড়ে যা¢চ্ছল।'

তারপর ¢দ্বতীয়বার তাদের দেখা হয়ে¢ছল এই নদীর পারে। তারপর কখনও সাইবার কাফেতে, কখনও নদীর পারে। কখনও সারা দুপুর কেটে যায়। একটা লাইনও লেখা হয় না নভেম্বরের। বর্ণা এসে ¢জজ্ঞাসা করে না -- "আজ ক¢বতা ¢লখলে?' আবার কখনও একা একাই নৌকা দেখে ¢ফরে যায় বর্ণা। কেউ এসে ¢জজ্ঞাসা করে না -- "ত¥¢ম যাদের কখনও দেখো ¢ন তারা তোমার বন্ধ¥?' স¢ত্যই অবাক হয় নভেম্বর। কত বন্ধ¥ বর্ণার। তাদের কখনও সে দেখেই ¢ন। কেউ থাকে কানাডায়। কেউ বাংলাদেশে। আবার কেউ বা কে¢নয়ায়। "¢কন্ত¥ ত¥¢ম ছাড়া আর কেউ ক¢বতা লেখে না।' বর্ণা অবশ্য কখনও তার লেখা ক¢বতা পড়তে চায় না। শুধু ¢জজ্ঞাসা করাটাই যেন তার কতর্বÉ। "ক¢বতা ¢লখছো তো?'

৬।।

¢নরালম্বের ¢ফরতে আজ দেরী হ'য়ে গেল। একট¥ দূরে যেতে হয়ে¢ছল কাজ সারতে। এখন ঝড়বৃ¢ষ্ট ¢কচ্ছ¥ নেই। তবু যেন কী ক'রে একটা গাছের বড়সড় ডাল ভেঙে পড়ে¢ছল তারের ওপর। সেটা সা¢রয়ে অ¢ফসে ¢ফরতে ¢ফরতে রাত ন'টা বেজে গেল।

টেÊনে অল্প লোক। অন্ধকারের মধ্যে গাছ…লো কেমন সাঁৎ সাঁৎ ক'রে সরে যাচ্ছে ¢নরালম্ব তাই দেখছে জানালা ¢দয়ে। ঠান্ডা হাওয়া আসছে। চোখ বন্ধ ক'রে সে ক্লা¢ন্ত জ¥ড়োতে লাগলো সেই বাতাসে। নভেম্বরের কথা মনে পড়ে গেল। আজ দুজন একসাথে ¢ফরলে কেমন হয়? রোজ ছেলেটা দশটার পর বা¢ড় আসে। আজ সে ওর দোকানে ¢গয়ে নাহয় একসাথে ¢ফরবে বা¢ড়তে। উদ্বোধনের পর ছ'মাস হয়ে গেছে তার যাওয়া হয়¢ন আর ছেলের দোকানে।

টেÊন থেকে নেমে ¢নরালম্ব সেই লোকটাকে দেখতে পেল। তাদের অ¢ফসের সবাইকে যারা বেঁধে রেখে¢ছল গাছের স®‰, তাদের স®‰ ¢ছল এই লোকটা। তার মুখের ওপর খ্যা-খ্যা ক'রে হাস¢ছল। নাম ¢কনু। এখনও মনে আছে।

এই প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে লাইন পে¢রয়ে অন্য প্ল্যাটফর্মে উঠে গেল লোকটা। ¢কনুকে দেখে রাগ নয়, একটা অস্ব¢স্ত হতে থাকলো তার। এ লোকটা এখানে কেন? যাই হোক, যে দোকানে সাইকেল রাখে সেখান থেকে সাইকেল ¢নয়ে সে রওনা হল ¢দ্বপ্রাহ¢রক সাইবার কাফের ¢দকে। কাছাক¢ছ পৌঁছে দেখল সেই লোকটা বে¢রয়ে আসছে সাইবার কাফে থেকে। ¢নরালম্বের বুকটা …ড়…ড় ক'রে উঠল।

কাফেতে নভেম্বর একা বসে। সোমনাথ নেই। ভেতরে একটা খুপ¢রতে কেউ বসে ব্রাউজ করছে। ¢নরালম্বকে দেখে নভেম্বর একট¥ অবাক হল। সে তাড়াতা¢ড় একটা চেয়ার টেনে এনে বাবাকে বসতে ¢দল। "ভাবলাম আজ দু'জন একসাথে বা¢ড় যাব।' ফ্যাকাশে হেসে ¢নরালম্ব অজ¥হাত দেওয়ার গলায় বলে। তারপর গলাটা আর একট¥ না¢ময়ে ¢জজ্ঞাসা করে -- "একট¥ আগে যে লোকটা বে¢রয়ে গেল, তাকে ত¥ই ¢চ¢নস?' না, নভেম্বর তাকে চেনে না। লোকটা সোমনাথ আছে ¢ক না ¢জজ্ঞাসা করল। নেই শুনে চলে গেল। ¢নরালম্ব একট¥ আশ্বস্ত হল। একই সাথে ¢চ¢ন্তত। সোমনাথের স®‰ ঐ লোকটার কী সম্পর্ক?

ভেতরে যে এতক্ষণ ব্রাউজ কর¢ছল সে টাকা ¢ম¢টয়ে বে¢রয়ে গেল। আর কেউ নেই। বাবাও তার জন্যে অপেক্ষা করছে। তাই নভেম্বর দোকান বন্ধ করে বাবার সাথে বা¢ড়র রাস্তা ধরলো। হেঁটেই আসে সে রোজ। আজ ¢নরালম্বের সাইকেল আছে। বাবাকে রডে ব¢সয়ে নভেম্বর বসল ¢সটে। ছোটবেলায় বাবা তাকে এইভাবে রডে ব¢সয়ে বাজারে ¢নয়ে যেত প্রত্যেক র¢ববার। রাস্তার আলো-আঁধা¢রর মধ্যে ¢দয়ে সেইসব স্ম«¢ত ক¥য়াশার মতো ¢ছঁড়ে ¢ছড়েঁ যাচ্ছে দু'¢দকে। হঠাৎ ¢নরালম্ব সাবধানী গলায় প্রায় ¢ফস্‌¢ফস্‌ ক'রে বলল -- "ওরা ভালো লোক নয় বাবা। সাবধানে থা¢কস।' নভেম্বর ¢জজ্ঞাসা করল -- "কারা?' ¢নরালম্ব জানে না সে কেন বহুবচন ব্যবহার করল। একটা লোকই তো ¢ছল। তাই সে বলল -- "যে লোকটা এসে¢ছল। ওর মতো যারা।' নভেম্বর এই লোকটাকে কখনও দেখে¢ন। ¢কন্ত¥ আজ দুপুরে যা ঘটেছে, তাতে সে ¢বলক্ষণ বুঝেছে এরা মোটেই সু¤¢বধের লোক নয়।

দুপুরে নভেম্বর বা¢ড় থেকে খেয়ে আসার পর সোমনাথ বা¢ড় ¢গয়ে¢ছল। এই সময়টা খাওয়ার পর সে ¢কছ¥টা গ¢ড়য়ে ¢নয়ে আসে। খদ্দেরও থাকে না প্রায়। নভেম্বর অভ্যেসমত কাগজ-কলম ¢নয়ে বসে¢ছল। তার মাঝেই একটা খোঁচা-খোঁচা দা¢ড়ওয়ালা ষন্ডামতো লোক এল। তার গায়ে ডোরাকাটা একটা লাল-সাদা ¢টশার্ট। হাতে কালো লেদারের ব্যাগ। অমন ব্যাগ ¢নয়ে অ¢ফসে যায় লোকজন। গায়ের রঙের সাথে ¢টশার্টের রঙ যা মা¢নয়েছে। নভেম্বর হাঁ ক'রে একট¥ তা¢কয়ে থাকে সেই বর্ণবাহারের ¢দকে। লোকটা দরজার কাছে পায়ের চ¢ট খুলে তার টে¢বলের ¢দকে এ¢গয়ে আসে। সাবধানী চোখে এ¢দক-ও¢দক দেখে হাতের ব্যাগটা টে¢বলের ওপর রাখে -- "রতনদা পা¢ঠয়েছে।' তারপর আবার চ¢ট পরে ¢নয়ে দরজা ঠেলে হেলতে-দুলতে বে¢রয়ে গেল।

নভেম্বর হাঁ ক'রেই তা¢কয়ে রইলো। কে রতনদা, কী পা¢ঠয়েছে -- এসব ¢কছ¥ই তার মাথায় ঢ¥কলো না। বাবার এক দূরসম্পর্কের মামার নাম রতন এবং ¢ত¢ন মাঝে মাঝে তাদের বা¢ড়তে গাছের কাঁঠাল পাঠাতেন। সেই রতনদাদুই ¢ক ¢কছ¥ পা¢ঠয়েছেন? ¢কন্ত¥ সামনে রাখা ব্যাগটার স্বাÙÛÉ দেখে মনে তো হয় না এর মধ্যে কাঁঠাল আছে। নভেম্বর আর একট¥ অনুমানশ¢ক্ত লাগায়। কাঁঠালের আমসত্ত্ব ক'রে পাঠায় ¢ন তো রতনদাদু? দেখতে হচ্ছে।

ব্যাগটা টানতে ¢গয়ে অবাক হ'য়ে যায় নভেম্বর। ভেতরে পাথর ঢ¥¢কয়ে রেখেছে যেন কেউ। আর একট¥ জোর লা¢গয়ে টানে সে। তারপর চেন খোলে। ভেতরে একটা সবুজ প¢ল¢থনের প্যাক। হাত বু¢লয়ে দেখতে লাগলো নভেম্বর। প¢ল¢থনের নীচে শক্ত ¢কছ¥ আছে। চৌকো চৌকো। প¢ল¢থন সরাতে ¢গয়ে দেখল বেশ ভালো ক'রে প্যাক করা আছে। নাহ্‌! এ ¢জ¢নস রতনদাদু পাঠায় ¢ন। হয়তো সোমনাথের কেউ হবে। সে টে¢বলের নীচে ঢ¥¢কয়ে রাখলো ব্যাগটা। ওপর থেকে নামাতে ¢গয়ে বেশ প¢রশ্রম হল। কপালে ¢বন্দ¥ ¢বন্দ¥ ঘাম জমে গেল সব ¢ম¢লয়ে।

সবে খাড়া হ'য়ে বসেছে সে, আর একটা রোগা মতো লোক এসে দাঁড়াল কাফের বাইরে। দরজা ঠেলে ঢ¥কতে যাবে। হঠাৎ বাইরে কী একটা দেখে তাড়াতা¢ড় পা চা¢লয়ে কেটে পড়ল। প্রায় সাথে সাথেই বাইরে রাস্তার ওপর এসে দাঁড়ালো একটা পু¢লশ ¢জপ। একজন অ¢ফসার নেমে সোজা এসে ঢ¥কলেন ¢দ্বপ্রাহ¢রকের মধ্যে। নভেম্বরের বুক ¢ঢপ্‌¢ঢপ্‌ করছে। কী হচ্ছে এসব? দুটো অচেনা লোক, এই পু¢লশ অ¢ফসার, কালো লেদারের ভারী ব্যাগ। পু¢লশ দেখেই নভেম্বর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তার নাকের ডগায় ¢বন্দ¥ ¢বন্দ¥ ঘাম জমে গেছে। "বর্ণা এসে¢ছল এখানে?' এমন প্রশ্নে সে আরও ঘাবড়ে গেল। কোনওরকমে ঘাড় নেড়ে "না' জানালো। কাফের মধ্যে একবার নজর বু¢লয়ে অ¢ফসার বললেন -- "¢ঠক আছে। এলে বোলো যেন তাড়াতা¢ড় বা¢ড় ¢ফরে যায়।' তারপর একট¥ থেমে বললেন -- "আমার নাম অশোক মুখার্জী। আ¢ম বর্ণার বাবা। তোমার নাম ¢ক নভেম্বর?' নভেম্বর এবার হ্যাঁ-সূচক ঘাড় নাড়ল। মুচ¢ক হেসে অশোকবাবু বললেন -- "যাক। তোমার সাথে দেখা হ'য়ে গেল শেষ পর্যন্ত। আচ্ছা চ¢ল। বর্ণা এলে বলে ¢দও আ¢ম এসে¢ছলাম।' পু¢লশের ¢জপটা যাওয়ার পর পরই এসে ঢ¥কলো সোমনাথ।

"কী ব্যাপার রে? পু¢লশ এসে¢ছল?' নভেম্বর তার ¢দকে তাকায়। তারপর পায়ের কাছে পড়ে থাকা কালো ব্যাগটার ¢দকে তাকায়। আঙ¥ল ¢দয়ে দেখায় ব্যাগটার ¢দকে। কাফের বাইরে পু¢লশের ¢জপ দেখে সোমনাথ এম¢নতেই ঘাবড়ে ¢ছল। এখন নভেম্বরের অবÙÛ¡ দেখে আরও ঘাবড়ে গেল। "কার ব্যাগ ওটা?' নভেম্বর কোনওরকমে বললো -- "জা¢ন না।' তার মুখের রঙ প্রায় সাদা হ'য়ে গেছে। ব্যাগের মধ্যে কী আছে সে জানে না। ¢কন্ত¥ তার মন বলছে একটা ভালো রকম ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে তারা।

"ঝামেলার আর বা¢ক কী আছে?' গর্জে উঠলো রতন। "আমার এখন মাথার চ¥ল ¢ছঁড়তে ইচ্ছে করছে।' যাদের উদ্দেশ্যে বলা তারা সবাই তার মাথার ¢দকে তাকালো। এভাবেই নানা ঘটনায় চ¥ল ¢ছঁড়ে ¢ছঁড়ে খুব বেশী আর অব¢শষ্ট নেই রতনের মাথায়। আর আজ দুপুরে ভজা যা কান্ড ক'রে এসেছে, তাতে এই কটা চ¥লও আর থাকবে না ¢নশ্চয়। যে মূল আসামী, সে এককোণে আধবোজা চোখে দাঁ¢ড়য়ে আছে। "ইচ্ছে করছে তোর চামড়া ছা¢ড়য়ে ড¥গড¥¢গ বানাই।' অ¢ÙÛর পায়ে রতন পায়চারী করে। "বলে¢ছলাম সাইবার কাফের কাছে থাকবে ¢স¢ড়®‰র লোক। তার হাতে ব্যাগ ¢দতে হবে। ত¥ই কী কর¢ল? সাইবার কাফের মধ্যে ঢ¥কে ব্যাগ রেখে এ¢ল।' ভজা ¢নরুত্তর দাঁ¢ড়য়ে। তার চামড়া ছাড়ালে পাঁচ-ছটা ড¥গড¥¢গ ¢নশ্চয় °তরী হবে। ভজা মনে মনে ¢হসাব কষে। একটা রতনদা ¢নজে নেবে। আর একটা নেবে ল্যাংড়া কালু। ওর ওইসব চামড়ার ¢জ¢নসের খুব শখ। তাই দলের কেউ কেউ ওকে চামার ব'লেও ডাকে।

ভজার হুঁশ ¢ফরলো রতনের একটা চড়ে। সন্ধ্যে থেকে এই ¢নয়ে সাতটা চড় পড়েছে তার গালে। অবশ্য ¢বকেলের দুটো ধরলে ন'টা হ'য়ে যাবে। "মুখ দেখানোর জো নেই। ষাট লাখ টাকার মাল জলে। ¢স¢ড়®‰কে কে ফেরত দেবে টাকা? তোর বাপ?' ভজার বাবা একটা চায়ের দোকান চালাতো। সে পাঁচ-ছ'শো টাকার বেশী ¢দতেও পারতো না বেঁচে থাকলে। পাশ থেকে ¢কনু আসে ভজাকে বাঁচাতে। "জলে যাবে কেন রতনদা? আমরা ¢ঠক মাল বের ক'রে আনব।' তার ¢দকে রক্তচোখে তাকালো রতন। "ছোকরা দুটো য¢দ পু¢লশের কাছে ¢গয়ে থাকে এতক্ষণে?' মাথা নাড়ে ¢কনু। "যায়¢ন। আ¢ম চেক ক'রে এসে¢ছ। আ¢ম ¢গয়ে¢ছলাম একট¥ আগে। পু¢লশে খবর ¢দলে তাড়াতা¢ড় বন্ধ হ'য়ে যেত দোকান। ¢কন্ত¥ দোকান খোলা ¢ছল।' এবার তার গালে এসে পড়ল একটা থাপ্পড়। "এম¢নতে আমার মাথা খারাপ হবার যোগাড়। পু¢লশ য¢দ এসে ধরতো তোকে? সবাই ধরা পড়তো। কে জানে ওটাও একটা টোপ ¢ছল ¢কনা। বু¢দ্ধর ঢেঁ¢ক সব এক-একটা।' রতনের আগ্নেয়¢গ¢র শান্ত করতে ¢কনু আর একটা সু¤খবর দেয়। দোকানে যে বসে¢ছল, সে বা¢ড় যাওয়া পর্যন্ত একট¥ দূরে লু¢কয়ে ¢ছল ¢কনু। ¢কন্ত¥ তার সাথে কোনও ব্যাগ ¢ছল না। তাহলে ব্যাগ আছে অন্য ছোঁড়াটার কাছে।

"আর নাহলে দোকানের মধ্যে।' রতন এবার একট¥ শান্ত মাথায় ¢চন্তা করে। ছেলে দুটো ব্যাগ খুলে দেখেছে, এটা ¢ন¢শ্চত। ¢কনুর কথা মতো পু¢লশে য¢দ খবর নাই ¢দয়ে থাকে, তাহলে দোকানে ফেলে রাখবে না ওই ব্যাগ। কোনও না কোনও ভাবে একজন সেটা বের ক'রে ¢নয়ে গেছে দোকান থেকে। ¢কন্ত¥ ¢স¢ড়®‰র লোক যাওয়ার আগেই ওখানে পু¢লশের ¢জপ এসে ¢গয়ে¢ছল। পু¢লশে য¢দ খবর হ'য়ে থাকে, তাহলে বাইরে বেরোনো খুব ঝামেলার কাজ এখন। ¢কন্ত¥ ষাট লাখ টাকা! ¢রস্ক ¢নতেই হবে। অতএব আরও ¢নখুঁত প্ল্যান চায়।

৭।।

নভেম্বরের ঘুম আসছে না। ¢বছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছে সে। সাইবার কাফের একটা খুপ¢রর মধ্যে ঢ¥কে তারা দু'জনে খুলে দেখেছে ব্যাগটা। তারপরই সে বারবার সোমনাথকে বলেছে -- "চল। থানায় ¢গয়ে জমা ¢দয়ে আ¢স ব্যাগটা।' ¢কন্ত¥ থানা কী এখান থেকে কম রাস্তা? যাদের ব্যাগ তারা ¢নশ্চয় নজর রাখছে তাদের গ¢ত¢ব¢ধর ওপর। ব্যাগ তো কেড়ে ¢নয়ে যাবেই। হয়তো প্রাণেও মেরে দেবে তাদের দুজনকে। "চল তাহলে বর্ণার বাবার কাছে যাই। ওনাকে ¢গয়ে ব¢ল। উ¢ন ¢নশ্চয় এখনও বা¢ড়তে।' তার একথাও উ¢ড়য়ে ¢দয়েছে সোমনাথ। "তোর মাথা খারাপ হ'য়ে গেছে। ত¥ই ¢গয়ে বল¢ব কাক¥ আ¢ম ¢কছ¥ জা¢ন না। একজন লোক এসে আমাকে ব্যাগটা ¢দয়ে গেছে। আর ওম¢ন উ¢ন বলবেন, ও বাবা। তাই না¢ক? কই দে¢খ, দে¢খ। তারপর দুজনকেই ধরে জেলে পুরে দেবে। যখন ছাড়া পা¢ব, তখন দেখ¢ব তোর ছেলেমেয়েরা গাঁদা ফ¥লের মালা হাতে দাঁ¢ড়য়ে আছে জেলের গেটের বাইরে।' সোমনাথের যু¢ক্ত খারাপ নয়। ¢কন্ত¥ ফাঁক আছে। ছেলে মেয়ে আসবে কোত্থেকে? ¢বয়ে ¢ক জেলের ভেতরেই হবে? যাই হোক, ¢বয়ে ¢নয়ে পরে ভাবলেও চলবে। ¢কন্ত¥ এখন উপায়?

সোমনাথ ভরসা ¢দল। "শোন। ত¥ই টেনশান ¢নস না। আ¢ম যা করার কর¢ছ।' টেনশান ¢নস না বললেই হল? ঐ লোক…লো য¢দ এসে তার ওপর এক্ষ¥¢ণ চড়াও হয়? "ধূর! মামার বা¢ড়র আব্দার না¢ক? চার¢দকে এত লোকজন ওরা এসে চড়াও হ'লেই হল? আর এলেই বা। ততক্ষণে আসল মাল তো হা¢পস হ'য়ে যাবে। ওরা ¢কচ্ছ¥ করতে পারবে না।' নভেম্বর সোমনাথের হাত জ¢ড়য়ে ধরে "আমার খুব ভয় করছে। ত¥ই পু¢লশে খবর দে। থানায় ফোন কর।' সোমনাথ এবার রী¢তমতো ¢বরক্ত হয়। "মেয়েদের মতো ক¢রস না তো। আমায় ভাবতে দে।' ভাবার নাম ক'রে সোমনাথ সেই যে হাওয়া হল সন্ধ্যের পর, তার আর ¢ট¢কর খোঁজ নেই। ভয়ে এ¢দকে নভেম্বরের হাত-পা পেটের মধ্যে সেঁ¢ধয়ে যা¢চ্ছল। যখন ¢মচকে মতো একটা লোক এসে সোমনাথের খোঁজ কর¢ছল, তখন সে ¢ন¢শ্চত হ'য়ে ¢গয়ে¢ছল এ ওই দলেরই লোক। ব্যাগ খুঁজতে এসেছে।

বাবা আসার পর সে একট¥ ভরসা পেয়ে¢ছল ¢ঠকই। ¢কন্ত¥ সাইকেলে ক'রে বা¢ড় ফেরার সময় নভেম্বর বুঝতে পেরে¢ছল কারা যেন পেছনে পেছনে আসছে। এখন ¢বছানায় শুয়ে তার ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে কর¢ছল। কার যে মুখ দেখে উঠে¢ছল আজ সকালে। মনে করার চেষ্টা করল সে। দাদুর ¢ক? তা-ই হবে। সকালে সে যখন ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় ¢গয়ে দাঁ¢ড়য়ে ¢ছল, তখন বারান্দার বেঞ্চটাতে বসে দাদু হেঁড়ে গলায় শ্যামাস‰£ত গাই¢ছল। কী গান মনে করতে পারলো না। তবে এট¥ক¥ স্পষ্ট মনে আছে দাদুর মুখের একটা পাশ সে আড়চোখে দেখে¢ছল। যা হবার তখনই হ'য়ে গেছে।

সোমনাথ ব্যাগ ¢নয়ে কোথায় গেল, কী করল কে জানে। হঠাৎ ¢চন্তাটা থমকে গেল। সোমনাথকে ব্যাগ ¢নয়ে তো সে বেরোতে দেখে¢ন দোকান থেকে। ব্যাগটা ¢ক তাহলে দোকানেই আছে? তাহলে তো আরও কেলো। ব্যাগওয়ালারা রাত দুপুরেই হানা দেবে ¢দ্বপ্রাহ¢রকে। তারপর ব্যাগ উদ্ধার ক'রে সাইবার কাফেতে আ…ন ধ¢রয়ে দেবে। ব্যবসা লাটে উঠে যাবে। এটা মনে করতেই ¢শউরে উঠলো সে। দারুণ কষ্ট হতে লাগলো বুকের ভেতর।

সোমনাথ কালো ব্যাগ গলায় ¢নয়ে সাঁতার কেটে নদী পেরোচ্ছে। এপার থেকে সেই ষন্ডা লোকটা হাততা¢ল ¢দচ্ছে। "আরও জোরে। আরও জোরে।' নদীর অন্য পাড়েও অনেক লোক। হঠাৎ মাঝনদীতে পৌঁছে চেঁচাতে লাগলো সোমনাথ। "বাঁচাও। নভেম্বর আমায় বাঁচা। আ¢ম ড¥বে যা¢চ্ছ।' অত ভারী ব্যাগ। ড¥ববেই তো। ¢কন্ত¥ নভেম্বর তীরে দাঁ¢ড়য়ে কী করবে? "পু¢লশে ফোন কর। বর্ণার বাবাকে জা¢নয়ে দে।' হঠাৎ কোত্থেকে বর্ণা ছ¥টে এসে তাকে বলতে লাগলো -- "আমার বাবার অম্বল করেছে। তোমাদের ত¥লসী গাছ আছে?' নভেম্বর হাঁ ক'রে তা¢কয়ে থাকে তার ¢দকে। কারণ বর্ণার কাঁধে হুবহু একই রকম একটা কালো ব্যাগ। তার গায়ে সাদা চক ¢দয়ে লেখা আছে "রতনদা'।

আচমকা ঘুম ভেঙে গেল তার। এমন ¢বদ্‌ঘুটে স্বপ্ন মানুষ তখনই দেখে যখন মায়ের ব্যাগ থেকে না বলে ক¥¢ড় টাকা স¢রয়ে পুরো টাকায় ফ¥চকা খেয়ে ফেলে। বা রা¢ত্রবেলা পান্ত¥য়া ভেবে é£জ থেকে লেবুর জারক পেটে চলে যায় গোটা চারেক। বলা বাহুল্য, দুটো অ¢ভজ্ঞতাই এর আগে হয়েছে নভেম্বরের। এখন ঘুমটা ভেঙে যেতেই আবার রাজ্যের ভয় চেপে ধরল তাকে। সবথেকে বড় ভয় সোমনাথকে ¢নয়ে। কোথায় গেল সে?

৮।।

রাত তখন প্রায় এগারোটা। এইসময় সোমনাথের বাবা গোক¥ল ¢ম¢ত্তর রাতের খাবার শেষ ক'রে রে¢ডও চা¢লয়ে টে¢লফোনটা কাছে ¢নয়ে বসেন। এফ. এম. -এ ফোন করা তাঁর একটা নেশা। অসীম °ধর্যÉ ¢নয়ে ¢ত¢ন নাম্বার ডায়াল করতেই থাকেন। যতক্ষণ না অনুষ্ঠান শেষ হয়। এ পর্যন্ত দু'বার লাইন পেয়েছেন ¢ত¢ন। প্রথমবার আলোচনা হ¢চ্ছল ¢কন্ডারগার্টেন স্ক¥ল ¢নয়ে। সাড়ম্বরে ¢নজের প¢রচয় ¢দয়ে শুরু করলেন -- "পাখীসব করে রব রা¢ত পোহাইলে। খাঁচা গা¢ড়…লোকে দেখে ক¢ব…রুর এই লাইন আজও অক্ষয় হ'য়ে আছে। বা সেই যে একবার ¢বদায় দে মা ঘুরে আ¢স। গান্ধীজীর ¢প্রয় গান। এটাও তো বন্দী ¢শশুদের ¢নয়েই র¢চত।' বলাই বাহুল্য, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বহু চেষ্টা করেও দশ ¢ম¢নটের আগে থামাতে পারেন ¢ন তাঁকে। নেহাতই অন¢ভজ্ঞ কেউ ¢ছল হয়তো।

¢কন্ত¥ মানুষ ঠেকে শেখে। মাস দেড়েক পর ¢দ্বতীয়বার যখন আবার ¢ত¢ন লাইন পেলেন, তখন সঞ্চালকের যথেষ্ট অ¢ভজ্ঞতা হয়ে গেছে ¢নশ্চয়। যেই ¢ত¢ন বলেছেন "আ¢ম আলীনগর থেকে গোক¥ল ¢মত্র...' ওম¢ন সঞ্চালক সু¤ন্দর ক'রে বললেন -- "আমাদের সাথে আছেন আলীনগরের এক বন্ধ¥। ¢কন্ত¥ তাঁর কথা শোনার আগে আমরা শুনবো এই সু¤ন্দর গান¢ট।' গান চা¢লয়ে সঞ্চালক তাঁকে বললেন -- "স্যার আপনার গলা শুনেই বুঝতে পেরে¢ছ আপ¢ন কে। প্লীজ আর ফোন করবেন না। সে¢দন এয়ারের দশ ¢ম¢নট খেয়ে আপ¢ন আমার চাকরী খেতে বসে¢ছলেন। আজ আবার আপ¢ন এয়ারে এলে আমার চাকরী যাবেই।' এই ব'লেই দুম ক'রে লাইন কেটে ¢দল সে।

তবু গোক¥লবাবু হাল ছাড়েন ¢ন। রোজ চেষ্টা চা¢লয়ে যান। য¢দ আবার বলার সু¤যোগ জোটে। আজ সবে ¢দ্বতীয়বার ডায়াল করেছেন। বাইরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। "কে?' রে¢ডওটা আস্তে করলেন ¢ত¢ন। "দরজা খুলুন। পু¢লশ।' পু¢লশের নাম শুনলে যে কেউ দরজা খুলে দেয়। তার ওপর গোক¥লবাবু আবার ¢ঘয়ের সাথে ডালডা মেশান। ¢ত¢ন ত¢ড়ঘ¢ড় দরজা খুলে ¢দলেন। বাইরে দুটো লোক দাঁ¢ড়য়ে। একজন মোটামতো। তার গায়ে লাল-সাদা ¢টশার্ট। আর তার পাশে একটা রোগা লোক। প্রায় টেকো, নাকটা ¢টয়াপা¢খর ঠোঁটের মতো বাঁকা। এই লোকটাকে ¢নশ্চয় ইস্ক¥ল সবাই ¢টয়া ব'লে রাগাতো। গোক¥লবাবুর সাথেও এমন একজন ভয়ানক ডান¢পটে ছেলে পড়ত। তার আসল নাম ¢ছল রতন, ¢কন্ত¥ ছেলেরা তার নাম ¢দয়ে¢ছল ¢টয়া। রতনকে ¢টয়া ব'লে ডাকলেই সে ¢ঢল ¢নয়ে তাড়া করতো ছেলেদের।

তা সেই ¢টয়াপা¢খ লোকটাই মুখ খুললো -- "সোমনাথ বা¢ড়তে আছে?' এতরাতে এরা তাঁর ছেলের খোঁজ করছে কেন? "আপনারা কারা?' গোক¥লবাবু কাঁপা গলায় প্রশ্ন করলেন। পাশ থেকে হোঁতকা লোকটা জবাব ¢দল -- "পু¢লশ।' তার মুখ থেকে কথা কেড়ে ¢নয়ে ¢টয়াপা¢খ লোকটা বললো -- "আমরা ¢স.¢ব.আই. থেকে। আমাদের কাছে খবর আছে আপনার ছেলে চোরাচালানের সাথে যুক্ত। সোমনাথকে বের ক'রে আনুন। ওর নামে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে। আর আপনার বা¢ড় সার্চ করার জন্যে এই হচ্ছে সার্চ ওয়ারেন্ট।' দুটো টাইপ করা কাগজ এ¢গয়ে দেয় লোকটা। "এবার আপনার ছেলেকে বাইরে ডাক¥ন।' গোক¥লবাবু কোনও রকমে তোতলাতে তোতলাতে বললেন -- "¢কন্ত¥ সে তো এখানে নেই। আজ সন্ধ্যেবেলা ও মা¢সর বা¢ড় গেছে। ওর মা¢স পু¢ল¢পঠে বা¢নয়েছে অনেক¢দন পর। তাই ফোন ক'রে ডেকে¢ছল। ও তো নেই।' কথোপকথনের শব্দে ভেতরের ঘরে আলো জÆলে উঠেছে। ¢টয়াপা¢খ লোকটা দাঁত ¢কড়¢মড় ক'রে ধমক ¢দল -- "¢মথ্যে বলবেন না। এক্ষ¥¢ণ ডাক¥ন আপনার ছেলেকে।'

গোক¥লবাবু হঠাৎ ধড়াস ক'রে ¢চৎপাত হ'য়ে পড়ে গেলেন দরজার সামনে। এতবড় শক্‌ বোধহয় ¢নতে পারেন ¢ন। ভেতরের ঘর থেকে আওয়াজ এল -- "দাদা। দাদা।' পুরো বা¢ড় জেগে উঠছে আস্তে আস্তে। বেগ¢তক দেখে লোক দুটো অন্ধকারে গা ঢাকা ¢দল। পুরো প্ল্যান কেঁচে গেছে। একটা অন্ধকার গ¢লতে ঢ¥কে রতন একটা ¢ব¢ড় ধরালো। এবার প্ল্যান ¢ব কাজে লাগাতে হবে। সোমনাথ ছোঁড়াটা য¢দ স¢ত্যই বা¢ড় না থাকে, তাহলে গেল কোথায়? ব্যাগটাই বা কোথায় রাখলো? এইসব সাতপাঁচ ¢চন্তা করছে, পাশ থেকে জগা বলে উঠলো -- "রতনদা, একটা ¢ব¢ড় দাও না। সারা¢দন ¢কছ¥ খাই¢ন।' ¢খঁ¢চয়ে ওঠে রতন -- "ব্যাগ না পেলে তোর হাওয়া খাওয়াও বন্ধ হ'য়ে যাবে।' হঠাৎ ওপর থেকে কে যেন জল ঢেলে ¢দল রতনের মাথায়। ¢ব¢ড়ও গেল ¢নভে। গা আর মাথা থেকে জল ঝাড়তে ঝাড়তে রতন তাকালো ওপর ¢দকে। একটা বা¢ড়র বারান্দার নীচে তারা দাঁ¢ড়য়ে ¢ছল। ওপর থেকে এক ম¢হলার গলা ভেসে এল -- "এই রা¢ত্রবেলাতেও প¢ট। আর পা¢র না বাবা।' একটা বাচ্চা ছেলের কান্না ভেসে এল তারপর।

নভেম্বরের জানালা থেকে একট¥ দূরে অন্ধকারে কালু আর লক্কা দাঁ¢ড়য়ে পাহারা ¢দচ্ছে। চটাস্‌ ক'রে একটা মশা মেরে কালু বললো -- "লক্কা। একটা কথা বল। এই যে ব্যাগটা হা¢রয়ে গেছে। না পেলে কী হবে?' পেছন থেকে চাপা গলায় কে যেন বললো -- "তোর বাবার শ্রাদ্ধ হবে।' রতন কখন এসে দাঁ¢ড়য়েছে কেউ টের পায়¢ন। ওরা ঘুরে দাঁড়াতেই একটা বোঁটকা গন্ধ ঝাপ্‌টা মারলো নাকে। কালু আর লক্কা দুজনেই নাকে হাত চাপা ¢দল। "¢কঁসেঁর গঁন্ধঁ?' রতন একট¥ সরে দাঁড়ালো। "তোঁমাঁর গাঁ থেঁকেঁই আঁসছেঁ রঁতঁনদাঁ। কীঁ মেঁখেঁছোঁ?' পাশ থেকে খু¢শ খু¢শ গলায় জগা বললো -- "প¢ট।' রতন চাপা গলায় ধমক ¢দল -- "চো-ও-ও-প!' এখন কাজের কথা।

বাইরে কারা যেন ¢ফস্‌¢ফস্‌ ক'রে কথা বলছে। নভেম্বর আস্তে আস্তে ¢বছানা ছেড়ে উঠে এল জানালার কাছে। আজ সে ভয়ে জানালা বন্ধ ক'রে রেখেছে। আস্তে ক'রে জানালাটা একট¥ খুললো সে। একট¥ দূরে ছায়ার মতো ¢তন-চারজন লোক দাঁ¢ড়য়ে। তার জানালার ¢দকে মুখ ক'রেই কী যেন বলাব¢ল করছে। আর রক্ষে নেই। ওরা বা¢ড় পর্যন্ত চলে এসেছে। এবার কী হবে? এর মধ্যেই হঠাৎ কোত্থেকে একটা ¢ম¢ষ্ট গন্ধ ভেসে আসছে নাকে। জানালার নীচেই বসে পড়লো নভেম্বর। মাথাটা কেমন ¢ঝম্‌¢ঝম্‌ করছে। কাছেই কারা যেন ¢ফস্‌¢ফস্‌ ক'রে কথা বলছে। সে ¢কচ্ছ¥ শুনতে পাচ্ছে না আর।

৯।।

রাতে কেমন একটা অস্ব¢স্ততে ঘুম ভেঙে গেল বৃকোদরের। এই সময় ঘুম ভাঙলে ¢ত¢ন তাঁদের একতলা বা¢ড়টার এক¢চলতে ছাদে ওঠেন। পায়চারী ক'রে বেড়ান ভোর না হওয়া পর্যন্ত। আর ক'টা ¢দন বাকী। কত ¢কছ¥ করা হল না। যৌবন অন্যের দাসতেÆ চলে গেল। যখন স্বাধীন জ¢ম এল, তখন সামর্থÉ রইলো না ¢কছ¥ করার। …ন…ন ক'রে ¢ত¢ন গেয়ে ওঠেন "চরণ ধ¢রতে ¢দও গো আমারে...' কে জানে কেন এটা তাঁর ¢প্রয় গান।

হঠাৎ একটা ধাতব আওয়াজে তাঁর গানের সু¤র কেটে গেল। ট¥ং-টাং ক'রে একটা আওয়াজ এল। তারপর কে যেন চাপা গলায় বলল -- "সাবধানে।' তাঁদের বা¢ড়র ছাদটা ইংরেজী "এল'-এর মতো। ¢ত¢ন যে¢দকে দাঁ¢ড়য়ে আছেন, তার সাথে সমকোণে নভেম্বরের জানালা। সেটার ¢গ্রল খুলে নামানো আছে একপাশে। আর নভেম্বরকে ভেতর থেকে ধরাধ¢র ক'রে বের ক'রে আনছে দু'জন লোক। বোঝাই যাচ্ছে সে অ°চতন্য। এসব কী দেখছেন ¢ত¢ন? বুক কেঁপে উঠলো তাঁর। বাইরে যতই তড়পান না কেন, ¢ত¢ন জানেন তাঁর না¢ত নেহাতই গোবেচারা। শুধু নামটাই যা বদখত।

সামনের এই দৃশ্যে ¢ত¢ন অনুভব করলেন তাঁর সÀ¡য়ু উত্তে¢জত হ'য়ে পড়ছে। রক্তচাপও বাড়ছে। ¢নজেই ¢নজেকে বোঝালেন, এই ¢বপদে ¢ÙÛর থাকতে হবে। এত¢দন পর ¢কছ¥ একটা করার সু¤যোগ এসেছে। অকম্প থাকতে হবে। লম্বা দুটো শ্বাস ¢নলেন ¢ত¢ন। শান্ত করলেন শরীরটাকে। ওরা নভেম্বরের দেহটা ধরাধ¢র ক'রে গ¢লর মধ্যে ¢নয়ে যাচ্ছে। বৃকোদর দ্র¥ত নীচে নেমে এলেন। নভেম্বরের ঘরের পাশেই বাইরে যাওয়ার দরজা। সেটা খুলে বে¢রয়ে এলেন রাস্তায়। আলো বড়ো কম এ¢দকে। আলো আঁধা¢রতে ¢নজেকে যতটা সম্ভব আড়াল ক'রে ¢ত¢ন ¢পছ¥ ¢নলেন দলটার। এ গ¢ল ও গ¢ল ক'রে ওরা কোথায় যাচ্ছে বোঝা মুশ¢কল। ¢কছ¥ক্ষণ পর আরও ¢তনজন এসে যোগ ¢দল ওদের সাথে। সাতজনের দলটা পালা ক'রে নভেম্বরের দেহটা বয়ে ¢নয়ে যাচ্ছে। ও ¢ঠক আছে তো? মনে মনে প্রার্থনা করলেন বৃকোদর -- "ওর যেন ¢কছ¥ না হয় ঠাক¥র। আ¢ম আর কক্ষণও ওর নাম ¢নয়ে খোঁটা দেব না।'

একটা মোড়ে এসে ওরা দাঁড়ালো। দম ¢নচ্ছে বোধহয়। তফাৎ রেখে একট¥ দূরে দাঁ¢ড়য়ে পড়লেন বৃকোদর। এটা বাজার এলাকার শেষ। জনবস¢ত নেই। সা¢র সা¢র বন্ধ দোকান। রাস্তার একপ্রান্তে ¢টম-¢টম ক'রে জÆলছে একটা বালÄ। সেই আলোতেই দেখা গেল হঠাৎ কোত্থেকে সাত-আটজনের আর একটা দল এসে চড়াও হল এই দলটার ওপর। বৃকোদর কান খাড়া করলেন।

"¢নজেকে খুব চালাক ভেবে¢ছলে রতন? ছোকরাকে ¢নয়ে পালাচ্ছো? মাল কই? টাকা কই? সব একাই নেবে?' আর একটা উত্তে¢জত গলা শোনা গেল। "কেন ত¥¢মও তো অন্য ছোঁড়াটাকে বগলদাবা করেছো। আ¢ম তো তোমার মাল খুঁজতেই এসে¢ছ। ¢কন্ত¥ ত¥¢ম কী করছো? ত¥¢ম দুটো ¢নয়েই গা ঢাকা দেবে ¢ঠক করেছো। তোমায় ¢চনতে আমার বাকী নেই ¢স¢ড়®‰।' বৃকোদর একটা দোকানে আড়ালে গা ঢাকা ¢দয়ে ¢ছলেন। মুখ বা¢ড়য়ে দেখলেন। একটা লোক আর একটা লোকের ¢দকে তেড়ে যেতে ¢গয়েও থমকে দাঁড়ালো। "ছ্যা:! গায়ে কী মেখে¢ছস? ডেÊনে পড়ে গেছ¢ল?' পাশ থেকে আর একটা গলা আনন্দের সু¤রে বললো -- "প¢ট।' অন্য গলাটা তাকে ধমক ¢দল -- "চো-ও-ও-প!' তারপর শান্ত স্বরে বললো -- "দ্যাখো ¢স¢ড়®‰। ¢নজেদের মধ্যে ঝগড়া ক'রে লাভ নেই। দুটো ছোঁড়াকেই পাওয়া গেছে। এদের হুঁশ ¢ফরলেই জানা যাবে মাল কোথায় আছে। ততক্ষণ চল আমাদের আস্তানায় ¢গয়ে বসা যাক। তারপর আমার টাকা তোমার মাল। যে যার ¢জ¢নস ¢নয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজড্‌।' এই কথাটা বোধহয় মনে ধরলো ¢স¢ড়®‰র। সে বললো -- "রতন, এবার ¢কন্ত¥ বেচাল করলেই ক¥ঁ¢চয়ে ফেলব তোদের।' ¢বগ¢লত গলায় রতন বলে -- "¢ছ:! কী যে বলো। ¢কন্ত¥ কাজ শেষ হ'লে এদের কী হবে?' কোনও উত্তর না ¢দয়ে ¢স¢ড়®‰ হ্যা-হ্যা ক'রে হেসে উঠলো। তার সাথে বা¢করাও যোগ ¢দল।

বৃকোদর ¢শউরে উঠলেন। নভেম্বর আর সোমনাথ এই …ন্ডা…লোর খপ্পরে। ¢কন্ত¥ কেন? ওরা কী করেছে? সেসব অবশ্য পরে জানলেও হবে। ¢কন্ত¥ আগের কাজ ওদের উদ্ধার করা। দ্র¥ত ভাবতে লাগলেন ¢ত¢ন। কী করা যায়? এত…লো লোকের স®‰ একা লড়াই করতে যাওয়া বোকামী। লোক যোগাড় ক'রে আনার সময় নেই। আর আনবেনই বা কাকে? এই …ন্ডাদের সাথে কে-ই বা লড়তে আসবে? বাকী রইলো পু¢লশ। ¢কন্ত¥ এই মূহুর্তে থানায় য¢দ বা ফোন করা হয়, পু¢লশ আসতে আসতে যা হওয়ার হ'য়ে যাবে।

বৃকোদর এইসব সাতপাঁচ ভাবছেন। হঠাৎ দেখলেন অন্ধকারে …ঁ¢ড় ¢দয়ে জনা ক¥¢ড় লোক এ¢গয়ে যাচ্ছে শয়তান…লোর ¢দকে। এরা আবার কারা? এ যে চোরের চোরের চোর। না¢সরু¢দ্দনের সেই গল্পের মতো। বন্ধ¥র বন্ধ¥র বন্ধ¥। যা হয় হবে। বৃকোদর আড়াল থেকে বে¢রয়ে এসে ঘাপ¢ট মেরে সামনের ¢দকে এ¢গয়ে গেলেন। এদের মধ্যে একটা ঝামেলা হবে। সেই ফাঁকে য¢দ ছেলে দুটোকে স¢রয়ে ফেলা যায়।

অশোকবাবু দলটার কাছে ¢গয়ে চেঁ¢চয়ে উঠলেন -- "পু¢লশ। নড়লেই মরবে।' কে একজন যেন অন্ধকারের ¢দকে পালাতে গেল। একটা ছায়ামূ¢র্ত তাকে বন্দ¥কের ক¥ঁদো ¢দয়ে এক ঘা ¢দল। "বাবারে' শব্দে ধপ্‌ আওয়াজ এল। পু¢লশ দেখে সবার হাত মাথার ওপর আপনা আপ¢ন। বৃকোদরের আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করছে। পু¢লশ সবার হাতে হাতকড়া পরাচ্ছে। এক¢দকে ¢রভলবার হাতে দাঁ¢ড়য়ে অশোকবাবু। হঠাৎ কী যেন একটা নড়ে উঠলো তাঁর থেকে ফ¥ট দশেক দূরে। বৃকোদর বোঝার চেষ্টা করলেন। একটা লোক এ¢গয়ে আসছে অশোকবাবুর ¢দকে। "সাবধান' -- রণহুঙ্কার ¢দয়ে বৃকোদর ছ¥টে ¢গয়ে ধাক্কা ¢দলেন লোকটাকে। এক ধাক্কায় ধরাশায়ী লোকটা। অন্ধকারে ¢ছটকে গেল তার হাতের ছোরাটা। তার বুকের ওপর বসে গলা ¢টপে ধরলেন বৃকোদর। "শয়তান আমার না¢তকে চ¥¢র ক¢রস? আজ মেরেই ফেলবো তোকে।' ¢নরুপায় লোকটা তখন ফ্যাঁসফ্যাঁস ক'রে চেঁচাচ্ছে -- "বাঁচাও! পু¢লশ! পু¢লশ!'

১০।।

বারোজন …ন্ডার দলটাকে ¢নয়ে পু¢লশ যখন থানায় পৌঁছালো তখন ভোর হ'য়ে গেছে। সাথে আছে নভেম্বর আর সোমনাথ। একট¥ আগে তাদের জ্ঞান ¢ফরেছে। আর বৃকোদর তো আছেনই। খবর পেয়ে এসেছে ¢নরালম্ব, মেনকা আর সোমনাথের বা¢ড়র লোকজন। আছে বর্ণাও। রাতে দরজার কাছে পড়ে ¢গয়ে গোক¥লবাবুর মাথার পেছনে একটা আলু গ¢জয়েছে।

অশোকবাবু প্রথমেই এক ধমক ¢দলেন নভেম্বর আর সোমনাথকে। "পু¢লশের কাছে লোকানোর ফল দেখেছো? কী করবে ভেবে¢ছলে ব্যাগটা ¢নয়ে।' নভেম্বর এবার সোমনাথকে বাঁচায় -- "আমরা ভয় পেয়ে¢ছলাম কাক¥। আর হবে না।' একট¥ নরম হ'য়ে বললেন অশোকবাবু -- "আর এরকম ভ¥ল হ'লে লক আপে তোমরাও ঢ¥কবে। মাথায় রেখো।' তারপর সবার ¢দকে তা¢কয়ে বললেন -- "এই এলাকায় ¢কছ¥ গড়বড় হচ্ছে এখবর আমাদের কাছে আগেই ¢ছল। তাই কোলকাতা থেকে আমাকে পাঠানো হয় আলীনগরে। কাল এই দলের এক মাথামোটা …ন্ডা আমাদের কাজ সহজ ক'রে ¢দল। সাইবার কাফেতে ঢ¥কে প্রথমে ব্যাগ রেখে এল। তারপর আর একজন খোঁজ ¢নতে গেল সোমনাথের। এই একের পর এক ভ¥ল ক'রে ওরা আমাদের কাজ সহজ ক'রে ¢দল। সারাক্ষণ আমাদের লোক নজর রেখে¢ছল সাইবার কাফের ওপর।' সোমনাথের ¢দকে তা¢কয়ে বলেন অশোকবাবু -- "এমন¢ক ত¥¢ম ব্যাগটা লু¢কয়ে রাখার সময়ও। সোমনাথ ব্যাগটা লু¢কয়ে রেখে¢ছল ¢ড. ¢ট. ¢প.-র জন্যে গাদা ক'রে রাখা কাগজের পে¢টর একটাকে। ভালো বু¢দ্ধ। …ন্ডারা সন্দেহও করবে না অমন মূল্যবান ¢জ¢নস ওভাবে রাখা হতে পারে। তারা ভাববে এদেরই কারোর কাছে আছে ব্যাগটা। তাই আক্রমণ হতে পারে এই ছেলেদুটোর ওপরই। সেই ভয়ে বন্ধ¥কে ছেড়ে সোমনাথ পালালো মাসীর বা¢ড়। অবশ্য রাস্তায় ধরা পড়লো আর একটা দলের হাতে। আর নভেম্বরকে চ¥¢র ক'রে আনলো অন্য দল। মাঝখান থেকে এসে জাল ফেললো পু¢লশ। ¢কন্ত¥ ওখানে পু¢লশ না থাকলে আজ এদের দুজনেরই প্রাণ ¢নয়ে টানাটা¢ন হত।'

¢কন্ত¥ ব্যাগের মধ্যে কী আছে? ব্যাগটা খুলে টে¢বলের ওপর তোলা হল সবুজ প¢ল¢থনের প্যাক। তার মধ্যে থেকে বে¢রয়ে এলো চৌকো চৌকো ¢বস্ক¥টের মতো গোটা পঞ্চাশ... সবাই হাঁ ক'রে দেখছে... এই তাহলে সোনার ¢বস্ক¥ট। জানালা থেকে লা¢ফয়ে পড়া রোদে ¢চক্‌¢চক্‌ করছে শীতল সোনা।

এবার অশোকবাবু এ¢গয়ে এসে বৃকোদরের দুটো হাত ধরলেন -- "¢কন্ত¥ আপ¢ন স্যার এ কা¢হনীর নায়ক। আপ¢ন যে ¢ছলেন ঘটনাÙÛলে তা ¢কন্ত¥ পু¢লশও টের পায়¢ন। আপ¢ন না থাকলে এতক্ষণে আমার কী হত বলা মুশ¢কল। ধন্যবাদ ¢দয়ে আপনাকে ছোট করবো না।' ¢নরালম্ব এসে বাবার পাশে দাঁড়ালো। ইস্ক¥লে ছেলেরা তাকে দুয়ো ¢দত। বলতো -- "তোর বাবা ¢বপ্লবীদের ফাঁ¢স ¢দত। তোর বাবা ইংরেজদের চাকর।' খুব কষ্ট হত তখন। দু:খ হত প্রচন্ড। এখন চোখে জল এসে গেল সেই বৃদ্ধের ¢দকে তা¢কয়ে। আজ প্রথমবার বাবার জন্যে তার গর্ব হচ্ছে। ইস্ক¥লের বন্ধ¥দের ডেকে শোনাতে ইচ্ছে করছে তার সাহসী বাবার কথা।

ছেলের হাতটা ধরে বৃকোদর নভেম্বরের ¢দকে ভস্ম ক'রে দেওয়ার দৃ¢ষ্টতে তাকালেন -- "সারাক্ষণ অজ্ঞানই তো হ'য়ে রইলে। ছো:! যে ছেলের নাম নভেম্বর সে চোর-পু¢লশ ¢নয়ে এমন ঘোঁট পাকাবে না তো আর কে পাকাবে?'