আপনার মতামত         


সমাজতন্ত্র নিয়ে কিছ¥ ভাবনা
কল্লোল দাশ…প্ত

সমাজতন্ত্র সংকটে । আজ আর এই নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই । একদিন ছিলো । কিন্ত¥ অন্য একটা বিতর্ক আছে - আবার নেইও বটে । সংকটের শুরু কোথায় ? বির্পযস্ত সমাজতন্ত্রের তলায় চাপা থাকা এই বিতর্ক খঁ¥ড়ে আনা যাক । পুরোনো কাসু¤ন্দি নেহাৎ খারাপ কিছ¥ নয় ।
প্রশ্ন ত¥ললেন রোজা লাক্সেমবার্গ, সর্বহারার একনায়কতন্ত্র নিয়ে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর স্বরূপ নিয়ে ।
কিন্ত¥, তখন সময় ছিলো আ…ন জÆ¡লার । তাই রোজার প্রশ্ন হারিয়ে গেলো । অসাফল্যের মতো অসফল রোজার প্রশ্নাবলী উড়ে গেলো, পুড়ে গেলো, লেনিনিয় সাফল্যের ঝড়ে আর আ…নে ।
রোজার অবহেলিত প্রশ্নাবলীর আড়াল থেকে উঠে এলেন ক্র¥শ্চভ, তার শন্তিপূর্ণ সহাবÙÛ¡নের তত্ত্ব নিয়ে । কেউ কেউ বললেন বুর্জোয়া রাস্তায় হাঁটছে লেনিনের পার্টি - লড়াই জারী আছে । সংকট রুশ এবং তার তাঁবেদারদের । সমাজতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক ।
হা®‰রী ক্ষতবিক্ষত হলো রুশ ট্যাঙ্কের ধাতব বেল্টের তলায় । গোটা পূর্ব ইউরোপ জ¥ড়ে রুশ ছায়া গাঢ়তর । কেউ কেউ বললেন - লেনিনের রাশিয়া, স্তালিনের রাশিয়া - সামাজিক সাম্রাজ্যবাদে পরিনত । কিন্ত¥ লড়াই জারী আছে । সমাজতন্ত্রের পতাকা উড়ছে - চীন, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েৎনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, আলবানীয়া, কিউবা ................ । বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক ।
পৃথিবী জ¥ড়ে লড়াই তখন ঢেউ-এর মতো আছড়ে পড়ছে - এশিয়া, আÏéকা, লাতিন আমেরিকা ।
নক্সালবাড়ির ক«ষক বিদ্রোহ থেকে সরর্বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যারিকেডে । নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধবিরোধী মিছিল থেকে রোডেশিয়ার গেরিলা হানায় । চ¨ড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা খেমার রুজ আর ভিয়েৎকং বাহিনী থেকে চিলির নির্বাচনে সালভাদোর আয়েন্দে । আর চীনের সাংস্ক«তিক বিপ্লবের পৃথিবী কাঁপানো বজÊনির্ঘোষ - সদর দপ্তরে কামান দাগো ।
তবু স্ফ¥লি‰ সমূহ দাবানলে পরিনত হলো না । শুরু হলো পিছ¥ হাটার দিন । রোজার অবহেলিত প্রশ্নাবলীর আড়াল থেকে এবার উঠে এলেন তেং শিয়াও পিং তার ইঁদুর ধরা বেড়ালের তত্ত্ব নিয়ে অনেকে বললেন - বুর্জোয়া রাস্তায় হাঁটছে মাও-এর পার্টি - তবু লড়াই .........
ভিয়েৎনাম, আমার নাম তোমার নাম, সেই ভিয়েৎনামের হাতে আক্রান্ত কম্বোডিয়া । আনন্দবাজারে পাতা জোড়া বিজ্ঞাপনে গণপ্রজাতন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার কিম ইল সু¤ং উত্তরাধিকারী হিসাবে ঘোষনা করলেন তার ছেলেকে । চীন এবং ভিয়েৎনাম রাইফেল উঁচিয়ে ধরলো একে অন্যের বিরুদ্ধে । প্রায় সকলেই বলে উঠলেন - হচ্ছেটা কি !!!
হঠাৎ উঠলো ঝড় অমাবস্যার রাতে, উত্তাল সমুদ্দ¥র । গ্লাসনস্ত, পেরেÙ»ইকা .......... । সোভিয়েৎ রাশিয়া, রুমানীয়া, য়ুগোশ্লোভিয়া, হা®‰রী, চেকোশ্লোভাকিয়া, পূর্ব জর্মানী, পোল্যান্ড, বার্লিন দেওয়াল এবং শেষ পর্যন্ত আলবানীয়া ............. সবই আচমকা অতীত ।
যে কোনো কারনেই হোক কিউবাকে কেউ …নতির মধ্যে রাখলেন না । যদিও আজও কিউবাই ......

সংকটে সমাজতন্ত্র । সংকটের বহি:প্রকাশ বড় বিচিত্র । পশ্চিমের পূব - পূর্ব ইউরোপ আর রাশিয়ায় এর বহি:প্রকাশ বেশ ঘটনাবহুল । বহুকাল ধরে, ষাঠের দশকের গোড়া থেকেই, আলবানীয়া, রুমানীয়া আর য়ুগোশ্লোভিয়া ছাড়া, গোটা পূর্ব ইউরোপই ওয়ারশ চ¥ক্তির বকলমে রাশিয়ার ছায়ায় ঢাকা । সেই ছায়াচ্ছন্ন পূর্ব ইউরোপ আর রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের নামে চলেছে পার্টি এবং সরকারী আমলা পঁ¨জির শাসন - রাষ্টÊ£য় পঁ¨জি যার বিমূর্ত রূপ । আলবানীয়া, রুমানীয়া আর য়ুগোশ্লোভিয়ায় যা চলছিলো - তা এরই রকমফের মাত্র । সবখানেই সাধারনের রাজ°নতিক, অর্থ°নতিক এবং সাংস্ক«তিক অস্তিতÆ সংকটে । সংখ্যালঘু জাতির ওপর সংখ্যা…রু জাতির ভাষা, সংস্ক«তি এমনকি জাতি পরিচয়ও আধিপত্য কায়েম করছে । যদিও রাষ্টÊ£য় পঁ¨জির এই শাসনকে বুর্জোয়া দুনিয়া সমাজতন্ত্র বলেই চিহ্নিত করতো । তাই যখন রাশিয়া সহ পূর্ব ইউরোপের মানুষ কমিউনিষ্ট পার্টির শাসনকে অস্বীকার করলো - তখন নানান জাতি স্বত্ত্বায় ভাগ হয়ে গেলো প্রতিটি ""সমাজতান্ত্রিক'' দেশ । গড়ে উঠলো নত¥ন সব জাতিরাষ্টÊ - যারা জনÈলগ্ন থেকেই একে অপরের ঘোষিত শত্র¥ । যুদ্ধ, অনাহার আর মাৎসন্যায়ে ভেসে গেলো পশ্চিমের পূর্ব । বুর্জোয়া দুনিয়া পরম বিশ্বাসে বললো - সমাজতন্ত্র মৃত ।

সমাজতন্ত্রের সংকট তার চেহারা পাল্টে নিলো এশিয়ায় । চীন, উত্তর কোরিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েৎনাম, লাওসে ক্ষমতায় রয়ে গেলো কমিউনিষ্ট পার্টি । দেশভাগ বা ওই জাতীয় কিছ¥ ঘটলো না । যা ঘটলো - চীন-ভিয়েৎনাম, ভিয়েৎনাম-কম্বোডিয়া স্বল্পÙÛ¡য়ী যুদ্ধ । কিন্ত¥ প্রায় অঘটনের মতো করে ঘটে গেলো - রাষ্টÊ£য় পঁ¨জির পাশাপাশি ব্যক্তি পূঁজির, বিশেষত: বিদেশী ব্যক্তি এবং লগ্নী পূঁজির অনুপ্রবেশ । এখানেও সাধারনের ওপর দমন নেমে এসেছে অতীতে এবং পরিবর্তিত পরিÏÙÛতিতেও । তবে সাধারনের সমস্যা এখানে যতটা না অর্থ°নতিক তার চেয়ে অনেক বেশী রাজ°নতিক ও সাংস্ক«তিক । বুর্জোয়া দুনিয়া পরম বিশ্বাসে বললো - বাজারেই মুক্তি ।

বুর্জোয়া দুনিয়া যাই বলুক - সমাজতন্ত্র সংকটে তার জনÈলগ্ন থেকেই ।

এ®‰লস তাঁর ""ওরিজিন অফ দ্য ফ্যামিলি, প্রাইভেট প্রপারটি এÉ¡ন্ড দ্য স্টেট'' - এ বলেছেন - ""রাষ্টÊ কখনোই সমাজের বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো শক্তি নয় । হেগেলের মতে রাষ্টÊ "°নতিক বোধের বাস্তব রূপ' বা "যুক্তির প্রতিমূর্তি ও বাস্তব রূপ' । কিন্ত¥ রাষ্টÊ এ সব কিছ¥ই নয় । বরং সমাজবিকাশের এক বিশেষ স্তরে রাষ্টেÊর উদ্ভব । রাষ্টেÊর উদ্ভব মানেই, সমাধানের অতীত এক দ্ব®¾দ্ব জড়িয়েছে সমাজ । মীমাংসার সম্ভাবনাহীন এক দ্ব®¾দ্ব দীর্ণ সমাজ, যে দ্ব¾দ্ব নিরাকরনে সে অক্ষম । পর×পর বিরোধী অর্থ°নতিক স্বার্থের প্রতিভ¨ বিভিন্ন শ্রেণী এই দ্ব®¾দ্ব লিপ্ত । এই দ্ব¾দ্বরত শ্রেণীসমূহ যাতে নিজেদের মধ্যে নিস্ফল সংগ্রামে নিজেদের এবং গোটা সমাজটাকেই ধÆংস করে না ফেলে, তার জন্য এমন একটা শক্তির প্রয়োজন ঘটে যাকে আপাতভাবে সমাজের ঊর্দ্ধে মনে হয় । এই সব শ্রেণীদ্ব¾দ্বকে প্রশমিত করে একটা "শৃঙ্খলা'র গন্ডীর মধ্যে আটকে রাখাই যার কাজ । এই শক্তি সমাজ থেকে উঠে এলেও নিজেকে তা সমাজের ঊর্দ্ধে ÙÛ¡পন করে এবং ক্রমশ: নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয় । এই শক্তিই রাষ্টÊ ।'' (নজরটান আমার)

এ®‰লসের এই মত প্রস®‰ নানান ব্যাখ্যা রয়েছে । এ®‰লসের বক্তব্য অনুযায়ী অন্তত: দুই ধরনের শ্রেণীদ্ব¾দ্ব আছে - ""নিস্ফল'' এবং তাহলে অন্যটা নিশ্চই ""ফলবতী'' । মজাটা হলো, এই ""নিস্ফল'' শ্রেণীদ্ব¾দ্ব, দ্ব®¾দ্ব লিপ্ত শ্রেণীসমূহকে এমনকি গোটা সমাজকেও ধÆংস করে দিতে পারে । আর তাই হয়তো তাকে ""প্রশমিত'' করে রাখাই রাষ্টের কাজ ।

লেনিন অবশ্য এই ধরনের ব্যাখ্যাকে পেতি বুর্জোয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন । তাঁর ""রাষ্টÊ ও বিপ্লব''- এ লেনিন বলেছেন - ""মার্কসের মতে রাষ্টÊ হলো শ্রেণীগত শাসনের যন্ত্র । এক শ্রেণীর দ্বারা অন্য শ্রেণীকে পীড়ন করার য¾ত্র । যে "শৃঙ্খলা' শ্রেণী সংগ্রামকে প্রশমিত করে এই পীড়নকে বিধিবদ্ধ করে, সেই কায়েমী "শৃঙ্খলা' প্রবর্তন করাই রাষ্টেÊর উদ্দেশ্য ।'' (নজরটান আমার)

লেনিন তাঁর ব্যাখ্যায় একটা নত¥ন উপাদান যোগ করেছেন - পীড়ন । কিন্ত¥ পেতি বুর্জোয়া বা সর্বহারা উভয় ব্যাখ্যাতেই কিছ¥ সত্যতা আছে । শ্রেণীদ্ব¾দ্ব প্রশমিত করাই যদি রাষ্টেÊর কাজ হয়, তবে সেটা আপোষ-মীমাংসা বা পীড়ন যে কোনো উপায়েই হতে পারে । তবে সে বিতর্কে না গিয়ে ধরে নিচ্ছি লেনিনের ব্যাখ্যাই বেশী গ্রহনযোগ্য । কারন শ্রেণীদ্ব¾দ্ব প্রশমিত করার কাজে রাষ্টেÊর পক্ষে পীড়নের পথ গ্রহন করার সম্ভাবনাই বেশী ।

লেনিন তাঁর ""রাষ্টÊ ও বিপ্লব''- এ অন্য এক জায়গায় খুব স্পষ্টভাবেই বলেছেন - ""রাষ্টÊ হলো বিশেষ দমনকারী শক্তি । শ্রমিক শ্রেণীকে দাবিয়ে রাখার জন্য বুর্জোয়া শ্রেণীর বিশেষ দমন যন্ত্র । সেই দমন যন্ত্রকে উৎপাটিত করে তার জায়গায় বুর্জোয়া শ্রেণীকে দমন করার জন্য শ্রমিক শ্রেণীর নিজস্ব বিশেষ দমন যন্ত্র (শ্রমিক শ্রেণীর একাধিপত্য) প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।'' (নজরটান আমার)

অর্থাৎ একটা ব্যাপার খুব পরিষ্কার, বুর্জোয়া বা সমাজতান্ত্রিক, যে ধরনের রাষ্টÊই হোক না কেনো, তার কাজ একই থাকে - যে শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহ রাষ্টÊক্ষমতায় নেই, তাকে দমন করা ।

""কমিউনিষ্ট ম্যানিফেষ্টো''- তে মার্কস-এ®‰লস বলেছেন - ""শ্রমিক শ্রেণী তার রাজ°নতিক আধিপত্য প্রয়োগ করে, বুর্জোয়া শ্রেণীর কবল থেকে যাবতীয় পঁ¨জি ক্রমে ক্রমে ছিনিয়ে নেবে । রাষ্টÊ অর্থাৎ শাসকশ্রেণী রূপে সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণীর হাতে উৎপাদনের সমস্ত উপকরণ কেন্দÊ£ভ¨ত করবে, এবং যথাসম্ভব দ্র¥ত উৎপাদিকা শক্তির পরিমান বাড়িয়ে ত¥লবে ।'' (নজরটান আমার)

অর্থাৎ আরও একটা ব্যাপার খুব পরিষ্কার, পূঁজির মালিকানা বদল হলেও তার চরিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটছে না । সে আগের মতো শাসকশ্রেণীর মালিকানাধীনই থাকবে - শুধু শাসকশ্রেণী পাল্টে যাবে । তফাৎ ঘটছে অন্যত্র - ব্যক্তি মালিকানার জায়গা নিচ্ছে শাসকশ্রেণীর ক্ষমতার বিমূর্ত রূপ - রাষ্টÊ ।

কারুর মতে শ্রমিকশ্রেণী বুর্জোয়াদের থেকে পুঁজি ছিনিয়ে নেবার পর সেটা আর পুঁজি থাকে না । বিষয়টা একট¥ খতিয়ে দেখা যাক ।

পুঁজি যখন বুর্জোয়াদের হাতে থাকে তখন তার কাজ কি ? শ্রমের সাহায্যে পণ্য উৎপাদন । সেই পণ্য বাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন । সেই মুনাফার একটি অংশ দিয়ে পঁ¥জির বৃদ্ধি । সেই বর্ধিত পঁ¥জি বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে উৎপাদন, উৎপাদিকা শক্তি এবং পঁ¥জির ক্রমাগত বৃদ্ধি । এই প্রক্রিয়ায় যেমন শ্রমিকশ্রেণী সংখ্যায় বাড়তে থাকে, তাদের দুর্দশাও বাড়তে থাকে সমান ভাবে । তবু পঁ¥জির দ্র¥ত বৃদ্ধিই শ্রমিকশ্রেণীর দিক থেকে সবচেয়ে বেশী কাম্য (১)। ফলে যখন মার্কস বলেন যে বুর্জোয়াদের হাত থেকে পুঁজি ছিনিয়ে নেবার পর সমস্ত উৎপাদনের উপকরণকে রাষ্টেÊর হাতে কেন্দÊ£ভ¥ত করে, যথাসম্ভব দ্র¥ত উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে (২), তখন প্রশ্ন ওঠে পুঁজি যখন বুর্জোয়াদের হাতে থাকে তখনও তো সে এই একই কাজ করে । সেই কাজের (উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ) একটাই পদ্ধতি, পঁ¥জি-শ্রম-পণ্য-মুনাফা - বর্ধিত পঁ¥জি - বর্ধিত শ্রম - বর্ধিত পণ্য - বর্ধিত মুনাফা । পঁ¥জির বিকাশ ছাড়া উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ঘটবে কি ভাবে ?

মার্কস "পঁ¥জি' শব্দটি খুব ভেবেচিন্তে ব্যবহার করেছেন । বলেছেন যে পঁ¥জি হলো সঞ্চিত শ্রম - জীবন্ত শ্রম যার সেবা করে । উল্টোটা হলে সেই সম্পদ আর যাই হোক, পঁ¥জি নয় (৩) । ফলে কোথাও যদি মার্কস "পঁ¥জি' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা নেহাৎ অন্যমনস্ক শব্দ ব্যবহার নয় । তাই মার্কস যখন সমাজতন্ত্রে অবশ্য করণীয় দশটি কার্যক্রমের মধ্যে বলেন যে, সমস্ত ব্যাঙ্কের সম্পদ (ক্রেডিট) একটি রাষ্টÊ¡য়ত্ত ব্যাঙ্কে একচেটিয়া রাষ্টÊ£য় পঁ¥জি হিসাবে কেন্দÊ£ভ¥ত করতে হবে (৪), তখন কোনো সন্দেহই থাকে না যে সমাজতন্ত্রেও "পঁ¥জি' পঁ¥জি হিসাবেই থাকে - ব্যক্তিগত থেকে রাষ্টÊ£য় হয় মাত্র ।

সেই রাষ্টÊ£য় পঁ¥জি মুনাফাও অর্জন করে । অর্থাৎ সে সমাজতন্ত্রেও উদ্বৃত্ত মূল্য °তরী করে । প্রত¥ল মুখোপাধ্যায়ের গানের কথা ধার করে বলা যায় "কম মজ¥রীর গোপন চ¥রি' সমাজতন্ত্রেও থেকেই যায় । তার থেকেই আসে পরমানু বোমা , মহাকাশ অভিযানের খরচ । এই প্রস®‰ উল্লেখ্য তাই দিয়ে শ্রমিক আবাসনও °তরী হয় (৫)। বৃহৎ রাষ্টÊ¡য়ত্ত শিল্পে মুনাফা ১৯২৪-২৫ এ ৫২১,০০০,০০০ রুবল থেকে বেড়ে ১৯২৬-২৭ এ দাঁড়ায় ৬৮০,০০০,০০০ রুবলে (৬)। সমাজতন্ত্রেও সঞ্চিত শ্রম, জীবন্ত শ্রমের সেবা করে না । বরং জীবন্ত শ্রম সঞ্চিত শ্রমের সেবা করেই যেতে থাকে ।

মার্কস "গোথা কর্মসূচীর সমালোচনা'-য় শ্রমের ফসল বন্টনের সমস্যা নিয়ে লিখেছেন :
From this must now be deducted: First, cover for replacement of the means of production used up. Second, additional portion for expansion of production. Third, reserve or insurance funds to provide against accidents, dislocations caused by natural calamities, etc.
These deductions from the "undiminished" proceeds of labor are an economic necessity, and their magnitude is to be determined according to available means and forces, and partly by computation of probabilities, but they are in no way calculable by equity.
There remains the other part of the total product, intended to serve as means of consumption.
Before this is divided among the individuals, there has to be deducted again, from it: First, the general costs of administration not belonging to production. This part will, from the outset, be very considerably restricted in comparison with present-day society, and it diminishes in proportion as the new society develops. Second, that which is intended for the common satisfaction of needs, such as schools, health services, etc. From the outset, this part grows considerably in comparison with present-day society, and it grows in proportion as the new society develops. Third, funds for those unable to work, etc., in short, for what is included under so-called official poor relief today. - Karl Marx , Critique of the Gotha Programme 1875

…রুতÆ আরোপের ঝোঁক থেকেই বিষয়টি বেশ স্পর্ষ্ট । প্রথম : উৎপাদনের উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ , দ্বিতীয় : উৎপাদন বাড়ানো , ত«তীয় : দুর্ঘটনা ও প্রাক«তিক বিপয®Ñয়র থেকে প্রথম ও দ্বিতীয়-কে রক্ষা করা । এসবের পরেও যা থাকলো তার থেকেও প্রথম : অনুৎপাদক কাজে ব্যয়িত প্রশাসনিক খরচ আলাদা করে রেখে তারপর যা থাকলো , তা সামাজিক পরিকাঠামো , কর্মক্ষম নন এমন মানুষের জন্য ব্যয়িত হবে ।

এই যে প্রথম, দ্বিতীয়, ত«তীয় বিষয়ের জন্য যে পরিমাণ শ্রমের ফসল সরিয়ে রাখতে হবে তা আসবে কোথা থেকে ?
Accordingly, the individual producer receives back from society -- after the deductions have been made -- exactly what he gives to it. What he has given to it is his individual quantum of labor. For example, the social working day consists of the sum of the individual hours of work; the individual labor time of the individual producer is the part of the social working day contributed by him, his share in it. He receives a certificate from society that he has furnished such-and-such an amount of labor (after deducting his labor for the common funds); and with this certificate, he draws from the social stock of means of consumption as much as the same amount of labor cost. The same amount of labor which he has given to society in one form, he receives back in another. Karl Marx , Critique of the Gotha Programme 1875 (নজরটান আমার)

শ্রমের যে অংশটি সাধারণ তহবিলের জন্য শ্রমিক দিয়েছে - তার থেকে । সাধারণ তহবিলের অর্থ (…রুতেÆর ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী) : ১) উৎপাদনের উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের খরচ । ২) উৎপাদন বাড়ানোর খরচ, ৩) দুর্ঘটনা ও প্রাক«তিক বিপয®Ñয়র থেকে উৎপাদনের উপকরণের কে রক্ষা করার খরচ । ৪) অনুৎপাদক কাজে ব্যয়িত প্রশাসনিক খরচ । ৫) সামাজিক পরিকাঠামো ও সু¤রক্ষার খরচ । অর্থাৎ শ্রমিক তার শ্রমের পূর্ণ মূল্য পেলো না ।

এবার নীচের উদ্ধ«তিটি লক্ষ্য করুন :
Transfer to Reserve: No dividend can be declared by a company for any financial year except after transfer to reserve of the company of such percentage of its profits for that year, not exceeding 10 per cent as may be prescribed. On exercise of their power under this sub-section the Central Government have promulgated the Companies (Transfer of Profits to Reserves) Rules, 1975 prescribing the percentages of profits to be transferred to reserve before declaring dividend. The following percentages of profit will have to be transferred before a dividend is declared: -
(a) If the proposed dividend exceeds = not less than 2.5% of the current 10% but does not exceed 12.5% of = profits the paid-up capital
(b) If the proposed dividend exceeds = not less than 5% of the current 12.5% but does not exceed 15% of = profits the paid-up capital
(c) If the proposed dividend exceeds = not less than 7.5% of the current 15% but does not exceed 20% of = profits The paid-up capital
(d) If the proposed dividend exceeds = not less than 10% of the current 20% of the paid-up capital = profits.

এটি কেম্পানি"স অ্যাক্টের ১৯ নং এপেনডিক্স । নোটিফিকেশন নং জি.এস.আর ৪২৬(ই) , তাং জ¥লাই ২৪ , ১৯৭৫ । গেজেট অফ ইন্ডিয়া , এক্সটÊ¡অর্ডিনারী , পার্ট ট¥ , সেকশন ৩(১) , তাং ২৬ জ¥লাই ১৯৭৫ ।

তার মানে : মুনাফা ঘরে তোলার আগে একটি পঁ¨জিবাদী কোম্পানিকেও মুনাফার একটা অংশ সাধারণ তহবিলে সরিয়ে রাখতে হয় । যাকে একাউন্টিং পরিভাষায় "জেনারেল রির্জাভ' বলে । এছাড়াও বাধ্যতামূলকভাবে "উৎপাদনের যে উপকরণ…লি ব্যয়িত হয়েছে , তা পূরণের খরচ' যাকে একাউন্টিং পরিভাষায় "ডেপ্রিশিয়েশন' বলে তাও মুনাফা থেকে সরিয়ে রাখতে হয় ।

হ্যাঁ , এরা সামাজিক পরিকাঠামো বা কর্মক্ষম নন এমন মানুষের জন্য কিছ¥ করে না , কারণ সে সব করার জন্য তাদের সেবক - সরকার রয়েছে । সরকারী কোম্পানি…লির মুনাফার একটা অংশ ওতে ব্যয়িত হয় ।

এর থেকে আশা করি এমন কোনো সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে না যে , আমি বলছি , পঁ¨জিবাদই একমাত্র পথ । বা , এই কোম্পানি…লো মার্কসবাদী । কিংবা , মার্কস পঁ¨জিবাদী ছিলেন । আমি এটাই দেখাতে চাইলাম যে মার্কস "গোথা কর্মসূচীর সমালোচনা'-য় যা বলেছেন তাতে একথা প্রমাণ হয় না যে সমাজতান্ত্রিক সমাজে "পঁ¨জি' থাকবে না । আমার প্রতিপাদ্য এটাই যে , সমাজতান্ত্রিক সমাজে যে উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র কথা বলা হলো বা যে উৎপাদন ব্যবÙÛ¡ সমাজতান্ত্রিক সমাজে চালু হলো , তা আদতে পঁ¨জিবাদী উৎপাদন ব্যবÙÛ¡রই অন্য এক রূপ ।


তাহলে সমাজতন্ত্রেও রাষ্টÊ থেকে গেলো পীড়নের যন্ত্র হিসাবে । উপরি পাওনা হিসাবে সে এখন পূঁজির মালিকও বটে । কিন্ত¥ রাষ্টÊ আসলে একটা বিমূর্ত বস্ত¥ - যার মূর্ত রূপ হলো তার পরিচালন সংগঠন - সরকার । সরকার চালায় শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধি হিসাবে কমিউনিষ্ট পার্টি - আর কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রীমন্ডলী এবং ছোটো বড়ো অজস্র আমলা, পুলিশ, বিচারক, নিয়মিত °সন্যবাহিনী আর আইনসভার নির্বাচিত সদস্যসমূহের এক বিশাল প্রতিষ্ঠান ।

যেহেত¥ রাষ্টÊ তার ধর্ম অনুযায়ী নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়, ফলে বুর্জোয়া রাষ্টেÊর মতো সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊও তার সমস্ত প্রতিষ্ঠান সমেত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এর ফলে আরও একটা অদ্ভ¨ত অবÙÛ¡ °তরী হয় - পঁ¨জিও তার মালিকের সাথে সাথে সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে । সম্পদের সামাজিকরণ জনÈ দিয়েছিলো ধনতন্ত্রের, সমাজতন্ত্র তাকে সমাজবিচ্ছিন্ন করে দেয় ।

সামন্ততান্ত্রিক সমাজে অলস সম্পদ সামাজিক উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে বুর্জোয়ারা পঁ¥জির জনÈ দেয় । সেই কারনেই, পঁ¥জি শুধুই সম্পদের সমাহার নয় , তা একটা সামাজিক শক্তিও বটে, এ কথা মার্কস বার বার বলেছেন (৭) ।

পঁ¨জির এই অস্বাভাবিক অবÙÛ¡ন, তার সাথে রাষ্টেÊর একটা দ্ব®¾দ্বর সৃষ্টি করে । পূঁজির স্বাভাবিক ঝোঁক তাকে সামাজিক অবÙÛ¡নে নিয়ে যেতে চায়, তার মালিক রাষ্টেÊর পক্ষে তা হতে দেওয়া সম্ভব নয় । পূঁজি তার পথ কেটে নিতে থাকে র্দ¨নীতি আর ভ্রষ্টাচারের হাত ধরে ব্যক্তি আমলা, ব্যক্তি মন্ত্রী, ব্যক্তি নেতার তোষখানায় । এই অলস পূঁজি ও তার অ°বধ মালিকেরা রাষ্টেÊর ভিতরেই রাষ্টেÊর শত্র¥ হয়ে ওঠে এবং আঘাত হানার সু¤যোগ খোঁজে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ।
অন্যদিকে দমনের যন্ত্র হিসাবেও সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊ অদ্ভ¨ত এক অবÙÛ¡র মধ্যে পড়ে । এটা পরিষ্কার যে, ক্ষমতায় না থাকা শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহকে দমন করে রাষ্টÊ - এটা বুর্জোয়া রাষ্টেÊর ক্ষেত্রে সত্য হলেও সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর ক্ষেত্রে তা অর্ধ সত্য হয়ে দাঁড়ায় । মুসকিলটা হয় নানান দিক থেকে । সমাজতন্ত্রতে মতপ্রকাশর স্বাধীনতা না থাকায়, বিরোধী কন্ঠস্বর প্রকাশ্যে থাকে না । ফলে শত্র¥ চিহ্নিতকরণ বেশ কঠিন । তার ওপর শ্রেণী হিসাবে বুর্জোয়ারা যেমন তার স্বাভাবিক শত্র¥, তেমনই, শ্রমিকশ্রেণীর রাজ°নতিক উদ্দেশ্য রাষ্টেÊর বিলোপ হওয়ার ফলে, সেও তার শত্র¥ই বটে ।

যখন রাষ্টÊ বিলোপের প্রশ্ন আসে অর্থাৎ সমাজতন্ত্র থেকে সাম্যসমাজের উত্তরণের প্রশ্ন আসে তখন সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর বিলুপ্তির প্রশ্নই আসে । শ্রমিকশ্রেণীর এই রাজ°নতিক উদ্দেশ্যটি তার জনÈলগ্ন থেকেই থাকে । শ্রমিকশ্রেণীর শ্রেণীচরিত্রই হলো শোষণ বিরোধী, আর রাষ্টÊ মানেই শোষণের যন্ত্র । ফলে রাষ্টেÊর উচ্ছেদই শ্রমিকশ্রেণীর চ¨ড়ান্ত উদ্দেশ্য । তাই সে যে কোন রাষ্টেÊরই বিরোধী । রাষ্টÊ পীড়নের যন্ত্র । তার অস্তিতেÆর যারা বিরোধী তাদের ওপরে সে দমন নমিয়ে আনবে সেটাই স্বাভাবিক । ফলে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, শ্রমিকশ্রেণী সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর শাসক শ্রেণী নয় ।

এটা শুধু একদলীয় সমাজতন্ত্রের সমস্যা নয় । শ্রমিকশ্রেণীর শ্রেণীচরিত্রই তাকে রাষ্টÊ বা পঁ¥জির মালিক হতে বাধা দেয় । শ্রমিকশ্রেণীর কেউ বা কারা যদি সেই অবÙÛ¡নে চলে যায়, তবে নিশ্চিত ভাবেই সে বা তারা শ্রমিকশ্রেণী থেকে চ¥Éত হয় । আমলাতান্ত্রিকতা, শ্রেণীর নামে দলের একনায়কতÆ, দল ও সরকারের একাকার হয়ে যাওয়া, দুর্নীতির হাত ধরে দল ও সরকারী পদাধিকারীদের প্রচ¥র সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা - এ সবই ঘটে চলে শ্রমিকশ্রেণীর নামেই ।
দুই শ্রেণীর উদ্দেশ্য আলাদা হওয়া সত্ত্বেও, সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊ ও তার প্রতিষ্ঠান…লির কাছে দুই শ্রেণীই সমান বিপদের । ফলে সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর দমন যন্ত্রের লক্ষ্য উভয় শ্রেণীই । এটা একেবারেই সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊর বিশেষ সমস্যা । বুর্জোয়া রাষ্টÊ, সামন্ত রাষ্টÊ বা দাস রাষ্টÊকে কখনোই তার শাসকশ্রেণীকে দমন করতে হয় নি । সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊই প্রথম রাষ্টÊ যে তার শাসক শ্রেণী বলে চিহ্নিত শ্রেণীর ওপরেও পীড়ন নামিয়ে আনে । আরও একটা অদ্ভ¨ত ব্যাপার ঘটে - রাষ্টেÊর ভিতরে থেকে যারা অ°বধভাবে পূঁজি সঞ্চয় করে চলে, যেহেত¥ তারাই দমন যন্ত্রের পরিচালক, ফলে তারা রাষ্টÊ বিরোধী হয়েও পীড়নের শিকার হয় না ।

যদিও একটা মত আছে যে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊ আসলে ঠিক রাষ্ট নয় । লেনিন তাঁর ""রাষ্টÊ ও বিপ্লব''- এ বলেছেন - ""ধনতন্ত্র থেকে কমিউনিষ্ট সমাজে উত্তরণের পব®Ñও দমনের প্রয়োজন । কিন্ত¥ এই দমন হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ শোষিত দ্বারা সংখ্যালঘিষ্ঠ শোষকের দমন । দমনের বিশেষ যন্ত্র রাষ্টেÊর তখনো প্রয়োজন । কিন্ত¥ এই রাষ্টÊ হলো এক পরিবর্তনশীল সময়ের রাষ্টÊ । প্রচলিত অর্থে একে রাষ্টÊ বলা চলে না ।'' (নজরটান আমার)

এখানে তিনটে ব্যাপার একদম পরিষ্কার নয় -
প্রথমত: - সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊ কিভাবে শ্রমিকশ্রেণীকে ""সংখ্যাগরিষ্ঠ শোষিত'' আর বুর্জোয়াদের ""সংখ্যালঘিষ্ঠ শোষক'' বলা হচ্ছে ! তবে কি লেনিন বলতে চাইছেন সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊও বুর্জোয়ারা শোষক হিসাবেই থাকে !! কিন্ত¥ তাহলে ""শোষিত''রা কিভাবে ""শোষক''দের ওপর দমন নামিয়ে আনে সেটা পরিষ্কার নয় । আর ""শোষিত''রা যদি ""শোষক''দের ওপর দমন নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়, তবে দমনকারীরা আর ""শোষিত'' থাকে না শাসক হয়ে যায় । উল্টোদিকে দমিতরাও আর ""শোষক'' থাকে না - শাসিত হয়ে যায় ।
তবু ধরে নিচ্ছি, লেনিন ""শোষক'' ও ""শোষিত'' পুরোনো সমাজের প্রেক্ষিতেই ব্যবহার করেছেন ।
দ্বিতীয়ত: - শোষক-শোষিতের বিতর্কে না গিয়ে লেনিনের মতই যদি মেনে নেই, তাহলেও যে রাষ্টÊ সংখ্যালঘুর ওপর পীড়ন চালায় তাকে কেনো প্রচলিত অর্থে রাষ্টÊ বলা যাবে না সেটা বোঝা গেলো না । শুধু অর্থ°নতিক সংখ্যালঘুই তো সংখ্যালঘুতেÆর একমাত্র মাপকাঠি নয় - ধর্ম, জাতি, ভাষাগোষ্ঠী এসবেরও তো সংখ্যালঘু-সংখ্যা…রু হয় - সে বেলা !!!
ত«তীয়ত: - এতসব বিতর্কে না গিয়েও বলা যায় - রাষ্টেÊর প্রধান এবং একমাত্র কাজ যখন দমন করা, তখন সেই কাজ যে রাষ্টÊ করে চলে তাকে প্রচলিত অর্থে রাষ্টÊ না বলার কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না ।
আর তাছাড়া, সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊ কমিউনিষ্ট সমাজ কায়েম করার জন্য আত্মহুতি দিতে ভয়ানক ব্যাগ্র এমন কথা কেউ কখনো বলে নি ।
দেখা যাক লেনিন কি ভাবে প্রচলিত রাষ্টÊ থেকে এর ফারাক করছেন ।
- "মজ¥রশ্রেণী রাষ্টÊযন্ত্রের ÙÛ¡ন কি দিয়ে পূরণ করবে , সে সম্পর্কে অতীব শিক্ষণীয় তথ্য প্যারী কমিউনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া গেছে ।' - রাষ্টÊ ও বিপ্লব, ৩য় অধ্যায়, ১৮৭১ এর প্যারী কমিউনের অভিজ্ঞতা, মার্কসের ব্যাখ্যা ।
সেই অভিজ্ঞতা মার্কসের ভাষায় - "ÙÛ¡য়ী ফৌজ ত¥লে দিয়ে তার জায়গায় সশÙ» জনসাধারনকে নিয়োগ করা.........................এটাই ছিলো কমিউনের প্রথম ফরমান ।' - é¡ন্সে গৃহযুদ্ধ ।
আর রাশিয়ায় কি হলো ?
The old army was a class instrument in the hands of the bourgeoisie for the oppression of the workers. The seizure of power by the workers and propertyless persons renders necessary the formation of a new army. The tasks of this new army will be the defence of the Soviet authority, the creation of a basis for the transformation of the standing army into a force deriving its strength from a nation in arms, and, furthermore, the creation of a basis for the support of the coming Socialist Revolution in Europe.

The Council of People’s Commissars has decided to organize the new army as a ‘Red Army of Workers and Peasants’ on the following basis:
I
1. The Red Army of Workers and Peasants will be formed from the class-conscious and best elements of the working classes.
2. All citizens of the Russian Republic who have completed their eighteenth year are eligible for service. Service in the Red Army is open to anyone ready to give his life and strength for the defence of the achievements of the October Revolution, the Soviet Power and Socialism. Enlistment in the Red Army is conditional upon guarantees being given by a military or civil committee functioning within the territory of the Soviet Power or by Party or Trade Union committees or, in extreme cases, by two persons belonging to one of the above organizations. Should an entire unit desire to join the Red Army, its acceptance is conditional upon a collective guarantee and the affirmative vote of all its members.
II
1. The families of members of the Red Army of Workers and Peasants will be maintained by the State and receive, in addition, a monthly supplement of 50 roubles.
2. Members of soldiers families who are incapable of work and have hitherto been supported by the aforesaid soldiers will receive further support in accordance with the local cost of living, as determined by the local Soviets.
III
The Council of People’s Commissars is the supreme head of the Red Army of Workers and Peasants. The immediate command and administration of the Army is vested in the Commissariat for Military Affairs and in the Special All-Russian College therein contained.

পাÉরী কমিউনের অভিজ্ঞতা থেকে , যাতে প্রচলিত রাষ্টেÊর মতো এই রাষ্টÊও "সমাজের প্রভ¥' না হয়ে বসে , মার্কস আরও বললেন
- "প্রথমত , প্রশাসন বিভাগ , বিচার বিভাগ , শিক্ষা বিভাগ প্রভ«তি সমস্ত পদেই কমিউন সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত লোক নিয়োগ করে ; স®‰ স®‰ নির্বাচনের এই অধিকারও ছিলো যে , তারা যে কোনো সময়ে তাদের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনতে পারবে । দ্বিতীয়ত , অন্যান্য মজ¥রেরা যে পরিমান মজ¥রী পেত , ঊর্দ্ধতন নিমÀতম সমস্ত কর্মচারীকেই মাত্র সেই পরিমান মজ¥রী দেওয়া হত ।' - é¡ন্সে গৃহযুদ্ধ ।
আর রাশিয়ায় কি হলো ?
সরকারী পদে নিয়োগ :
(1) On the relief of Comrade A. I. RYKOV1 from duties as People's Commissar of Communications of the USSR
DECREE OF THE PRESIDIUM OF THE CENTRAL EXECUTIVE COMMITTEE OF THE USSR
The Presidium of the Central Executive Committee of the USSR decrees:
Comrade Aleksei Ivanovich Rykov is relieved from duties as People's Commissar of Communications of the USSR.
Chairman of the Central Executive Committee of the USSR
G. PETROVSKIJ.
Secretary of the Central Executive Committee of the USSR
I. AKULOV.
Moscow, the Kremlin. 26 September 1936.
------------------------------------------------------------------------------------------------------
(2) On the appointment of Comrade G. G. YAGODA2 as People's Commissar of Communications of the USSR
DECREE OF THE PRESIDIUM OF THE CENTRAL EXECUTIVE COMMITTEE OF THE USSR
The Presidium of the Central Executive Committee of the USSR decrees:
Comrade Genrikh Grigorievich Yagoda is appointed People's Commissar of Communications of the USSR, and relieved from the duties of People's Commissar of Internal Affairs of the USSR.
Chairman of the Central Executive Committee of the USSR
G. PETROVSKIJ.
Secretary of the Central Executive Committee of the USSR
I. AKULOV.
Moscow, the Kremlin. 26 September 1936.
-----------------------------------------------------------------------------------------------------
(3) On the appointment of Comrade N. I. YEZHOV as People's Commissar of Internal Affairs of the USSR
DECREE OF THE PRESIDIUM OF THE CENTRAL EXECUTIVE COMMITTEE OF THE USSR
The Presidium of the Central Executive Committee of the USSR decrees:
Comrade Nikolai Ivanovich Yezhov is appointed People's Commissar of Internal Affairs of the USSR.
Chairman of the Central Executive Committee of the USSR
G. PETROVSKIJ.
Secretary of the Central Executive Committee of the USSR
I. AKULOV.
Moscow, the Kremlin. 26 September 1936.
From "Pravda," 27 September 1936, p. 1.

মজ¥রীর প্রশ্নে :
Re Comrade Shlyapnikov’s inquiry concerning rates of pay for high ranking officials, the C.P.C.
1) confirms that the decree establishing 500-ruble monthly salaries for members of the Council of People’s Commissars is to be interpreted as an approximate norm for top salaries and contains no prohibition to pay specialists more.
This motion of Lenin’s was adopted at a meeting of the C.P.C. on January 2 (15), 1918, during the discussion of an inquiry by A. G. Shlyapnikov, People’s Commissar for Labour, concerning the rates of pay for high officials of the factory managements.
Rates of Pay for High-Ranking Officials, January 2 1918, Lenin Collect Works, Vol 42

তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো ?
অন্য আর পাঁচটা বুর্জোয়া রাষ্টেÊর মতোই ÙÛ¡য়ী ফৌজ গড়া হলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊও ।
অন্য আর পাঁচটা বুর্জোয়া রাষ্টেÊর মতোই প্রশাসন , বিচার , শিক্ষা প্রভ«তি সমস্ত পদেই সরকারী আমলারা নিয়োজিত হলেন সরকারী আদেশ বলে - সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊও ।
অন্য আর পাঁচটা বুর্জোয়া রাষ্টেÊর মতোই না হলেও , মজ¥রীর ফারাক থেকেই গেলো - সমাজতান্ত্রিক রাষ্টেÊও ।
অতীব শিক্ষণীয় প্যারী কমিউনের তথ্য কাজে এলো না ।

অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক রাষ্টÊও প্রচলিত অর্থে রাষ্টই, যার কিছ¥ বিশেষ সমস্যা আছে ।
রাষ্টÊ£য় মালিকানায় পূঁজির আবÙÛ¡নের পরিবর্তন ঘটে । পূঁজির সামাজিক ভ¨মিকা লুপ্ত হয় । কিন্ত¥ প্রশ্ন হলো ব্যক্তি থেকে রাষ্টÊ£য় মালিকানায় যাবার মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে কি ?

অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবাÙÛ¡ বলে কিছ¥ হয় কি ? যৌথ খামার বা শ্রমিক পরিচালিত শিল্পে পূঁজির ভ¨মিকা কি ? সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ফলে রাষ্টÊ£য় পূঁজির প্রক«ত মালিক হয়ে দাঁড়ায় - বড় বড় পদÙÛ আমলা, মন্ত্রী, সেনাপ্রধান, পুলিশকর্তা, বিচারপতি এবং অবশ্যই কমিউনিষ্ট পার্টির নেত«বৃন্দ । কারখানা ব্যবÙÛ¡ বজায় থাকে শিল্পে ও ক«ষিতেও । পরিচালক হিসাবে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে যারা থাকেন, তারা হয় পার্টির নেতা বা শাসনযন্ত্রের আমলা বা একসাথে দুইই ।
রাষ্টÊ£য় পূঁজিও উদ্বৃত্ত মূল্য °তরী করে । সেই উদ্বৃত্ত মূল্যেই রাষ্টেÊর অনুৎপাদক প্রতিষ্ঠান…লির খরচ চলে - জেলখানা চালানো থেকে চাঁদে যাওয়া । রাষ্টÊ£য় মালিকানাও পূঁজির চরিত্রহননে সক্ষম হয় না । বরং পূঁজি তার স্বাভাবিক অবÙÛ¡নে, অর্থাৎ সামাজিক অবÙÛ¡নে ফিরে যাবার ঝোঁক বজায় রাখে এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে °তরী করে র্দ¨নীতিগ্রস্ত নীতিনির্ধারক আর সিদ্ধান্তগ্রহনকারী ব্যক্তি, যাদের কোষাগারে জমা হতে থাকে অ°বধ পূঁজি । ফলে সমাজতন্ত্রের নামে যেটা চলে সেটা আদতে ধনতন্ত্রেরই অন্য এক রূপ রাষ্টÊ£য় পঁ¨জিবাদ ।
১৯২১-এ লেনিন বলছেন যে রাষ্টীয় পঁ¥জিবাদই রাশিয়াকে নিশ্চিতভাবে সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে দেবে (৮)।
একই কথা লেনিন ১৯১৮-তে (৯), ১৯১৭-তেও (১০) বলছেন । লক্ষ্য করার বিষয়, রাষ্টীয় পঁ¥জিবাদ সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়ে দেবে, অর্থাৎ রাষ্টীয় পঁ¥জিবাদ কখনোই সমাজতন্ত্র নয়, সে বিষয়ে লেনিন খুব স্পষ্ট । কিন্ত তিনি এটাও খুব জোরের স®‰ বলছেন সমাজতন্ত্র আসবে রাষ্টÊ£য় পঁ¥জির হাত ধরে । কাজেই ১৯১৭-য় বা ১৯২১-এ যা হল, সেটা সমাজতন্ত্র নয়, রাষ্টীয় পঁ¥জিবাদ।

সমাজতন্ত্র বলতে, মার্কস বা লেনিন যা বলেছেন , আমি তার সাথে একমত নই । কারন সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবÙÛ¡ বলতে ওনারা যা বলেছেন , যা অনুশীলন করেছেন , তা পঁ¨জিবাদেরই রকমফের মাত্র । সমাজতন্ত্র , পঁ¨জিবাদ থেকে সাম্যবাদে উত্তরণের পথে কোনো অÙÛ¡য়ী ব্যবÙÛ¡ নয় । এটা আজকের বাস্তব । মার্কস বা লেনিন তা মনে করতেন না । লেনিনের কাছে রাষ্টীয় পঁ¥জিবাদই ছিলো সমাজতন্ত্রের "গ্যারান্টি' ।

ভাবতে হবে , এমনটা কেন হলো ? শুধু তো রাশিয়ায় নয় , চীন-ভিয়েৎনাম-কম্বোডিয়া-লাওস-গোটা পূর্ব ইউরোপ কেন এইভাবে ভে®‰ পড়লো ? কেন সমাজতন্ত্রিক সমাজ…লো ধÆংস হয়ে গেলো ?

এমন ভাবার কোন কারন নেই যে পঁ¨জি কখনো কোন সংকটে পড়ে নি । আর সেই সংকটকালে লেনিন বা স্তালিন যে জাতীয় ভ¥ল করেছিলেন তেমন ভ¥ল কি হিটলার/মুসোলিনী/তোজো বা আইসেনহাওয়ার/চার্চিল/দ্য গল বা আর কেউ করেন নি ? কেন পঁ¨জি বার বার একটার পর একটা সংকট কাটিয়ে ক্রমশ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ? আর সমাজতন্ত্র সংকটে পড়লেই , হয় টÊটস্কি নয় স্তালিন নয় মাও নয় টিটো কেউ না কেউ দায়ী হয়ে যান । আর সমাজতন্ত্রিক সমাজ…লো ফিরে যায় পঁ¨জিবাদের গা—¡য় !!!!

এর থেকে আশা করি এমন কোনো সিদ্ধান্তে কেউ উপনীত হবেন না যে আমি বলছি পঁ¨জিবাদ সমাজতন্ত্রের চেয়ে ভালো । আমি বলছি , পঁ¨জিবাদ সমাজতন্ত্রের চেয়ে সংকটের মোকাবিলায় অনেক বেশী দক্ষ । কিন্ত¥ আজকের পঁ¨জিবাদ মানবতার শত্র¥ । সমাজতন্ত্র পঁ¨জিবাদের চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশী কাম্য ।
সমাজতন্ত্রকে দাঁড়াতে হবে তার নিজস্ব উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র উপর , যে উৎপাদন ব্যবÙÛ¡ পঁ¨জিবাদী উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র চেয়ে ততটাই আলাদা , যতটা পঁ¨জিবাদী উৎপাদন ব্যবÙÛ¡ আলাদা সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র চেয়ে ।

মার্কস তাঁর ""ওয়েজ লেবার এÉ¡ন্ড ক্যাপিটাল''- এ বলেছেন - ""পূঁজি তার বিকাশের জন্য নির্ভর করে শ্রমশক্তির ওপর - জনÈ নেয় শ্রমিকশ্রেণী । আবার শ্রমিকশ্রেণীও তার বিকাশের জন্য নির্ভর করে পূঁজির ওপর । অর্থাৎ পূঁজির বিকাশ মানেই শ্রমিক শ্রেণীর বিকাশ ।'' (নজরটান আমার)

এই সিদ্ধান্ত আজ আর প্রযোজ্য নয় । মার্কস যে ভবিষ্যত সমাজের কথা ভেবেছিলেন, যেখানে রাষ্টÊ অবলুপ্ত হয়ে যাবে, যেখানে শ্রমের জায়গা নেবে যন্ত্র । মানুষের অবসর বেড়ে যাবে । মানুষ তখন তার সৃষ্টিশীল মননের চর্চায় আরও বেশী সময় ও শ্রম দেবে, যাতে সে পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে । কিন্ত¥ বুর্জোয়া সামাজেই যখন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ঐ ধরনের যন্ত্রায়ন ঘটে, তখন ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় ভয়াবহ । পূঁজির বিকাশ আর কোনোভাবেই শ্রমিক শ্রেণীর বিকাশ ঘটায় না - বরং উল্টোটাই করে । এতে চিন্তাবিদ ও বিপ্লবী হিসাবে মার্কস এতোট¥ক¥ খাটো হন না । মার্কস একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন , আর সেই স্বপ্ন পূরণের একটা বাস্তবসম্মত তাত্ত্বিক ভিত্তিও দিয়ে গেছেন তাঁর সময় থেকে বেশ কিছ¥ এগিয়েই । কিন্ত¥ তিনি তো ভবিষ্যতবক্তা বা জ্যোতিষী নন । স্বপ্নভ®‰র দায়িতÆ নি:সন্দেহে তাঁর নয় - আমাদের সকলের , আমরা যারা তাঁর স্বপ্নকে আজকের সময়ে রূপায়নের কথা ভাবি ।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার চ¨ড়ান্ত যন্ত্রায়নের ফলে শ্রমশক্তির ব্যবহার ক্রমশ: কমতে থাকে । শ্রমশক্তির এই সংক¥চনের আওতায় শুধু কায়িক শ্রমই নয়, মানসিক শ্রমও পড়ে যায় । ফলে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে তাকে ভীষণ ভাবে । উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যেট¥ক¥ শ্রমের দরকার পড়ে, পূঁজি তা অনায়সে জোগাড় করে নেয় এবং ত¥লনামূলকভাবে অনেক বেশী মজ¥রী দিয়ে তাদের তাঁবেদারে পরিনত করে । পরিসেবা শিল্পে আজ কাজের সময় অলিখিত ভাবে প্রায় দশ থেকে বারো ঘন্টায় এসে দঁড়িয়েছে । বলা হচ্ছে ব্যাঙ্ক (ধীরে ধীরে সব শিল্পই) খোলা রাখতে হবে রাতদিন-সাতদিন । এই প্রেক্ষিতে, ব্যক্তিপিছ¥ কাজের ঘন্টা কমানোর কথা এবং তার সাথে নত¥ন কর্মী নিয়োগের কথা কোনো শ্রমিক সংগঠন ত¥লছেন কি ?
একট¥ বিশদ হওয়া যাক । শিল্পে যন্ত্রায়নের ফলে যে কাজ করতে আগে আট ঘন্টা লাগতো তা আজ চার ঘন্টায় বা তারও কমে হয় । শ্রমিক সংগঠন…লি একসময় শিল্পে যন্ত্রায়নের প্রচন্ড বিরোধী ছিলো । পরে যখন তারা মেনে নিতে বাধ্য হলো, তখন এই "মেনে নেওয়ার' দরকশাকশিতে কিছ¥ মজ¥রী বাড়িয়ে নিলো । কোনো কোনো শ্রমিক সংগঠন (ছোট ছোট শ্রমিক সংগঠন যারা বড় দল…লির বাইরে) তারাও একসময় হতদ্যম হয়ে চ¥প করে গেলো । অথচ কেউ একবারের জন্যও কাজের সময় কমানোর দাবী ত¥ললো না । বললো না যে চার ঘন্টায় যখন আট ঘন্টার বা তার-ও বেশী কাজ পাওয়া যাচ্ছে, তখন মজ¥রী না বাড়িয়ে বরং কাজের সময় ব্যক্তি পিছ¥ চার ঘন্টা হোক, আর চার ঘন্টার জন্য নত¥ন কর্মী নিয়োগ করা হোক ।
যদিও ব্যতিক্রম যে নেই তা নয় । é¡ন্সে, বেলজিয়ামে, উৎপাদন প্রক্রিয়ার যন্ত্রায়নের সাথে সাথে কাজের ঘন্টা কমানোর এবং কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর আন্দোলন বেশ জোরদার । তবু ব্যাতিক্রম শেষ পর্যন্ত নিয়মকেই প্রতিষ্ঠা করে । তাই, শিল্পে সার্বিক যন্ত্রায়নের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক আন্দোলনের মূল্যায়ন, ভীষণ জরুরী ।
ভীষণ জরুরী পূঁজি ও শ্রমের আন্ত:সম্পর্কের নবমূল্যায়ন । পূঁজি যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে কর্মচ্য¥ত করেছে এবং যে শ্রমশক্তিকে স্রেফ কর্মহীন করে রেখে ক্রমাগত তাদের প্রন্তিক অবÙÛ¡নে ঠেলে দিচ্ছে , সেই কর্মচ্য¥ত/কর্মহীন শ্রম সম্ভাবনার সাথে পূঁজির সম্পর্ক নির্ধারণ আর একটি জরুরী কাজ । এই সব প্রান্তিক হয়ে যাওয়া মানুষের সাথে পূঁজির সম্পর্ক আর উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেই । বরং এদের সাথে পূঁজির সম্পর্ক সম্প¨র্ণ অন্য এক ময়দানে - বাজারে ।

পূঁজির ইতিহাসে এই প্রথম সে তার মুনাফা বাড়ানোর, ফলত: পূঁজি বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় বাজারকে সংক¥চিত করছে । অতীতে পূঁজির বিকাশের সাথে সাথে শ্রমিকশ্রেণীরও বিকাশ ঘটতো । যতো বেশী বেশী মানুষ মজ¥রী দাসে পরিনত হতো - তত বাজার বাড়তো । এই বাজার বাড়ানোর তাগিদেই পূঁজির সাম্রাজ্যবাদী ভ¨মিকা, যা আজ এক শীর্ষে এসে পৌঁছেছে বিশ্বায়নের মধ্য দিয়ে ।
সারা দুনিয়া জ¥ড়ে অবাধ এবং এক নিয়মের বাজার চাইছে পূঁজি । অথচ উৎপাদন প্রক্রিয়ার চ¨ড়ান্ত যন্ত্রায়ন ক্রমাগত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে - বাজার সংক¥চিত হচ্ছে ।

এই সংকটের মোকাবিলায় পূঁজি নানান কায়দা গ্রহন করছে । ভোগ্য পণ্যের বাজার ছেয়ে যাচ্ছে ব্যবহার করো-ফেলে দাও জাতীয় পণ্যে । ক«ত্রিম চাহিদা °তরী হচ্ছে বিজ্ঞাপন আর ক্রেডিট কার্ডের দৌলতে । পূঁজি এবার হাত বাড়াচ্ছে প্রান্তিক মানুষের দিকেও । মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে °তরী হচ্ছে অতি ক্ষ¥দ্র পূঁজিপতি । এতে বাজার কিছ¥ বাড়ছে সন্দেহ নেই, কিন্ত¥ এর ফলে গরীব মানুষের মনে পূঁজি/পূঁজিপতি এই শব্দ…লো যে ঘৃণার অনুস‰ °তরী করতো তা ভে®‰ যাচ্ছে । মাইক্রোক্রেডিট প্রান্তিক মানুষকে নিরানব্বই-এর ধাক্কায় ফেলে দিয়ে - পূঁজির সাথে তাদের মানসিক দূরতÆ কমিয়ে আনছে । পূঁজির বিরুদ্ধে লড়াই-এর দার্শনিক অবÙÛ¡নকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে পূঁজি । বাজার সংক¥চন ছাড়াও বিশ্বায়ন পর্বে পূঁজির এই নত¥ন সংকট নানান চেহারায় উঠে আসছে ।
সমস্ত পণ্যের অবাধ বাজারের সাথে সাথে শ্রমেরও অবাধ বাজার °তরী হচ্ছে । অথচ জাতিরাষ্টেÊর ঘেরাটোপ আজও অক্ষ¥ন্ন । এর ফলে সস্তা শ্রমের খোঁজে, নিজের দেশের মহার্ঘ শ্রমশক্তিকে পায়ে ঠেলে পূঁজি যখন উৎপাদন প্রক্রিয়ার পুরোটাই বা অংশবিশেষ অন্য দেশে নিয়ে যাচ্ছে - তখন নিজের দেশে পূঁজি রাজ°নতিক চাপে পড়ে যাচ্ছে ।
সংকট মোচনের উপায় শুধু যুদ্ধ নয়, পঁ¥জি আজ সাধারন মানুষের মধ্যে মান্যতা গড়ে তোলার চেষ্টায় রত । একদিন "বড়লোক', "বড়লোকি', "পঁ¥জিপতি' শব্দসমূহ গালাগালির নামান্তর ছিলো, সে মাত্র পঁচিশ-তিরিশ বছর আগেকার কথা । আর আজ, অন্তত এই বাংলায়, "বাম', "বামপ¿Û£', "কমিউনিষ্ট', মার্কসবাদী' এই শব্দ…লো তার জায়গা নিয়েছে । এ বড় সু¤খের সময় নয় ।

দুনিয়াজোড়া এক নিয়মের বাজার ধাক্কা খাচ্ছে পৃথিবীর অসম্ভব °বচিত্রময় বহুতেÆর বাস্তবের কাছে ।
প্রক«তি - গোটা পৃথিবীর সব কিছ¥ যার মধ্যে বিলীন হয়ে রয়েছে - মানবজাতিও যার ব্যতিক্রম নয়, কোনোভাবেই একসারতেÆর ধারনায় খাপ খায় না - বহুসারতÆই তার ধর্ম ।

আজ বাজারের বিরুদ্ধে লড়াই এক আশ্চর্য জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে । বিশ্বায়ন/বিশ্ব বাণিজ্য সংÙÛ¡র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আজ °নরাজ্যবাদী, সাম্যবাদী, পরিবেশবাদী, মানবতাবাদী নানান রাজ°নতিক সংগঠন, গণ সংগঠন, এন.জি.ও সকলেই একসাথে লড়ছেন । অথচ কোন কেন্দÊ£য় সংগঠন নেই । সকলেই নিজের নিজের কায়দায় প্রতিবাদ প্রতিরোধে শামিল হচ্ছেন একসাথে, এবং সকলে মিলেই সফলও হচ্ছেন । ইন্টারনেট হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রতিবাদীদের যোগাযোগের, মতবিনিময়ের, আন্দোলনকে তীব্র করে তোলার হাতিয়ার । এক নত¥ন প্রতিবাদী সংস্ক«তির জনÈ দিয়েছে এই আন্দোলন, যা আগের ত¥লনায় অনেক বেশী পরমতসহিষ্ণ¥, অন্য প্রতিবাদী মতের প্রতি অনেক বেশী শ্রদ্ধাশীল । আগে একই লক্ষ্যের বিরুদ্ধে অনেক মতের সমান্তরাল লড়াই চলতো । মতপার্থক্য হলেই সংগঠন ভা‰তো । লড়াই প্রায়শ: নিজেদের মধ্যেও চলতো । আজ একই লক্ষ্যের বিরুদ্ধে অনেক মতের মানুষ/সংগঠন লড়ছে একই সাথে ।

কিন্ত¥ ঝামেলা হলো, যাঁরা সবচেয়ে বেশী নিপিড়ীত, পঁ¥জি যাঁদের জীবন, জীবিকা, জীবনের অনুক¥ল পরিবেশ কেড়ে নিয়ে প্রান্তিকায়িত করেছে, তারা এই আন্দোলনের শরিক নয় । কোন ইন্টারনেটই তাঁদের কাছে পৌঁছয় না । তাদের পক্ষে প্রাগ বা জেনোয়ায় বিক্ষোভ দেখানো অসম্ভব । অথচ নিশ্চিতভাবেই তাঁরা এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড়ো শক্তি । ভাবতে হবে, তাঁদের কিভাবে এই বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলনে শামিল করা যায় । আমার ধারনা এঁরাই আন্দোলনে নত¥ন দিশা দিতে পারেন । এঁদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকাটাই পঁ¥জি এবং বাজারের বিরুদ্ধে লড়াই করে, রাষ্টÊ এবং ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই করে । আজ যাঁরা প্রাগ বা জেনোয়ায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই কখনোই এই মাত্রার নয় । বিশ্বায়ন বিরোধী লড়াই-এর এদের অবÙÛ¡ন বরং অনেক বেশী বৌদ্ধিক । ফলে এই প্রান্তিক মানুষেরা যথাযোগ্য মর্যাদায় যখন ওই আন্দোলনে শামিল হবেন, তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা আন্দোলনকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে - এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ।

আমার আপনার মতো ত¥লনায় সু¤খে থাকা মানুষদের , যাদের পঁ¨জিবাদ/বিশ্বায়ন বিরোধীতা অনেকটাই বৌদ্ধিক , তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় । আমরা বড়জোর সেই নত¥ন ব্যবÙÛ¡কে সূত্রায়িত করতে পারি মাত্র , জনÈ দিতে পার না । এট¥ক¥ আন্দাজ করতে পারি সেই ব্যবÙÛ¡ , উৎপাদনের ক্ষেত্রে পঁ¨জি ও বন্টনের ক্ষেত্রে বাজারকে বাদ দিয়ে অন্যতর কোন ব্যবÙÛ¡র সন্ধান দেবে । তা না হলে পৃথিবী বাঁচবে না । আধুনিক শিল্প , যা পঁ¨জির হাত ধরে গড়ে উঠেছে , কিভাবে তার দূষণের বিষে সমগ্র পৃথিবীর জীবজগতের ওপর ধÆংসের ক¨টিল ছায়া নামিয়ে এনেছে তা আর কোন বির্তকের বিষয় নয় । ইচ্ছা করলেই এই দূষণের কারন…লোকে তার পক্ষে নির্ম¨ল করা সম্ভব নয় । বড়জোর কিছ¥ কমতে পারে । তাতে বিশেষ কোন সু¤রাহা হবে না । নত¥ন উৎপাদন ব্যবÙÛ¡য় হয়তো এর সমাধান থাকবে ।

আবারও বলছি , এঁরাই পঁ¨জি এবং বাজারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নত¥ন মাত্রা যোগ করবেন , যেদিন আমাদের মতো ত¥লনায় সু¤খে থাকা মানুষদের হাত থেকে লড়াইয়ের নেত«তÆ প্রক«তপক্ষে ওঁদের হাতে চলে যাবে । তা না হলে বার বার বিশ্ব-সাম্যবাদী আন্দোলনের মতো , নেত«তÆ প্রক«তপক্ষে "ভদ্রলোক'-দের হাতে থাকার ফল যা হয়েছে , তাই হবে । বার বার "ভ¥ল' হবে , আর তাই নিয়ে অনন্ত বার শতধা হবে আন্দোলন ।

এঁরাই পারবেন আমাদের শেখাতে কিভাবে পঁ¥জিকে বাতিল করে নত¥ন উৎপাদন ব্যবÙÛ¡ উঠে আসবে । কিভাবে বাজারকে অস্বীকার করে, ত¥চ্ছ করে নত¥ন বন্টন ব্যবÙÛ¡ উঠে আসবে ।

এই সব সংকট এবং পূঁজির বিরুদ্ধে মানুষ ও প্রক«তির লড়াই হয়তো কোনো নত¥ন উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র সন্ধান দেবে - যা পূঁজিকে তার চরিত্র থেকে মুক্ত করে অন্য কোনো রূপ দেবে ।
যখন উৎপাদন ব্যবÙÛ¡র সামাজিকরণ একটা চ¨ড়ান্ত জায়গায় পৌঁছবে । লাভ/ক্ষতির হিসাব যখন অপ্রাসωক হয়ে যাবে ।
সেখান থেকেই শুরু হবে নত¥ন কোনো সমাজের পথ চলা, যা মানুষকে এবং ব্যাপক অর্থে প্রক«তিকেও পূর্ণতায় পৌঁছে দেবে ।





কোথায় পেলাম :
(১) We thus see that if capital grows rapidly, competition among the workers grows with even greater rapidity – i.e., the means of employment and subsistence for the working class decrease in proportion even more rapidly; but, this notwithstanding, the rapid growth of capital is the most favorable condition for wage-labor. – Wage Labour & Capital –Effect of Capitalist Competition on the Capitalist Class the Middle Class and the Working Class-Karl Marx
কার্ল মার্কসের লেখা ।১৮৪৭, ব্রাসেলস, জার্মান শ্রমিক সংঘে বক্ত«তামালা হিসাবে পঠিত । প্রথম প্রকাশ জার্মান ভাষায়১৮৪৯ ।


(২) The proletariate with use its political supremacy to wrest, by degree, all capital from the bourgeoisie, to centralise all instruments of production in the hands of the State, i.e., of the proletariat organised as the ruling class; and to increase the total productive forces as rapidly as possible – Communist Manifesto – Proletarians & Communists - Karl Marx & F
কার্ল মার্কস এবং ®éডরিখ এ®‰লসের লেখা, ১৮৪৭ । প্রথম প্রকাশ ১৮৪৮ । কমিউনিস্ট লিগ নামে এক গোপন সংগঠন ১৮৪৭ নভেম্বরে তাদের লন্ডন °বঠকে কার্ল মার্কস এবং ®éডরিখ এ®‰লসকে দলের তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং কর্মসূচী °তরীর দায়িতÆ দেয় । তারই ফলশ্র¥তি হিসাবে লেখা হয় আধুনিক পৃথিবীর সবচেয়ে …রুতÆপূর্ণ লেখা "কমিউনিস্ট ইস্তেহার' ।
(৩) Capital does not consist in the fact that accumulated labor serves living labor as a means for new production. It consists in the fact that living labor serves accumulated labor as the means of preserving and multiplying its exchange value. - Wage Labour & Capital – Nature & Growth Of Capital
১ নং টিকা দেখুন ।
(৪) Centralisation of credit in the banks of the state, by means of a national bank with State capital and an exclusive monopoly. – 5th point of the 10 point agenda of Socialism (where the 1st point was the famous Abolitaion of Property) - Communist Manifesto – Proletarians & Communists

"কমিউনিস্ট ইস্তেহার'-এর মহান ঘোষনা, দশ দফা কর্মসূচী । যার প্রথম কর্মসূচীই হলো সম্পত্তির অবসান । উপরের উদ্ধ«তিটি সেই ঘোষনারই পচ্ঞম দফা ।
(৫) On the business aspect of life in a Russian textile factory I will not linger, for industry is the subject of another volume in this series. Like all the larger concerns in Russia, this mill has been nationalized. On the productive side it is subject to a big organization known as the Textile Trust; on the commercial side a separately organized "syndicate" disposes of its manufactures. In spite of the use of such words as trust and syndicate, no private capital is involved, and the Russians intend only to convey that the idustries grouped as "trusts" enjoy autonomy in the conduct of their affairs, though their profits go to the State. They are under an obligation, however, to return at least ten percent of their annual surplus to the workers in the form of a welfare fund. Last year the Textile Trust did, in fact, assign as much as twenty-two percent of its profits for the benefit of its employees, and this considerable sum was spent mainly upon housing. – How The Soviet Work - Chapter 2: Democracy in the Factory - Vanguard Press, November 1927 by H N Brailsford
এইচ এন ব্রেইলসফোর্ড বামপ¿Û£ ইংরেজ সাংবাদিক । ১৯২০ থেকে ১৯৫২৭-এর মধ্যে বহুবার সোভিয়েৎ রাশিয়ায় গিয়েছেন । ১৯২৭-এর নভেম্বরে একটি কাপড় কল দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা "হাও দ্য সোভিয়েৎ ওয়ার্কস'-এর দ্বিতীয় অধ্যায় ।

(৬) Finances of large State industries:

1924-25
Rubles

1925-26
Rubles

1926-27
Rubles

      Profits

521,000,000

676,000,000

680,000,000

      Losses

63,000,000

66,000,000

80,000,000

Net Profit

458,000,000

610,000,000

600,000,000

Depreciation Fund

277,000,000

360,000,000

398,000,000

      Taxes paid to govt

169,000,000

259,000,000

379,000,000

      Financing by govt

125,000,000

325,000,000

536,000,000

Net receipts from or payments to the govt

- 44,000,000

+ 66,000,000

+ 157,000,000

Credits

564,000,000

431,000,000

454,000,000

Total Net Income

1,255,000,000

1,467,000,000

1,609,000,000

Of this:

      Capital expenditures

385,000,000

810,000,000

1,090,000,000

      Operating Funds

870,000,000

657,000,000

519,000,000

Total

1,255,000,000

1,467,000,000

1,609,000,000



The Soviet Union : Fatcs, Descriptions, Statistics 1917 to 1928–Industry Published in 1929 by Soviet Union Information Bureau – 4 Table.
১৯২৯-এ সোভিয়েৎ ইউনিয়ান ইনফম®Ñশন বুÉরো প্রকাশিত, সোভিয়েৎ ইউনিয়ান সর্ম্পকিত তথ্যাবলীর শিল্প অধ্যায়ের চত¥র্থ সারণী ।
(৭) Thereby, that as an independent social power, i.e. as the power of a part of society – it preserves itself and multiplies by exchange with direct, living labour power. - - Wage Labour & Capital – Nature & Growth Of Capital - Karl Marx
১ নং টিকা দেখুন ।
(৮) Tax In Kind – 1921 Vol 32 Lenin Collected Works - "ট্যাক্স ইন কাইন্ড' এই পুস্তিকাটি লেখা হয় ১৯২১-এ দশম পার্টি কংগ্রেসের ঠিক পরেই । এই লেখায় "নত¥ন অর্থ°নতিক নীতি'র প্রয়োজনীয়তা ব্যখ্যা করেন লেনিন । এই লেখায় বহু জায়গায় রাস্টÊ£য় পঁ¥জিবাদ নিয়ে লেনিন তাঁর মত ব্যক্ত করেছেন ।
(৯) State capitalism would be a step forward as compared with the present state of affairs in our Soviet Republic. If in approximately six months’ time state capitalism became established in our Republic, this would be a great success and a sure guarantee that within a year socialism will have gained a permanently firm hold and will have become invincible in this country. - The Present-Day Economy Of Russia- Referred in another writing “Tax In Kind” – 1921 Vol 32
"ট্যাক্স ইন কাইন্ড' এই পুস্তিকাটিতেই এই লেখাটির উল্লখ আছে । ১৯১৮ সালে "দ্য প্রেজেন্ট ডে ইকনমি অফ রাশিয়া' লেনিন-এর এই লেখাটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয় ।
(১০) “Try to substitute for the Junker-capitalist state, for the landowner-capitalist state, a revolutionary-democratic state, i.e., a state which in a revolutionary way abolishes all privileges and does not fear to introduce the fullest democracy in a revolutionary way. You will find that, given a really revolutionary-democratic state, state-monopoly capitalism inevitably and unavoidably implies a step . . . towards socialism. . . .
“For socialism is merely the next step forward from state-capitalist monopoly. . . .
“State-monopoly capitalism is a complete material preparation for socialism, the threshold of socialism, a rung on the ladder of history between which and the rung called socialism there are no intermediate rungs” (pp. 27 and 28). - The Impending Catastrophe and How To Combat It, written in September 1917. Lelin Collected Works Vol 22
এই লেখাটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে অক্টোবরের শেষদিকে । আসন্ন দুর্ভিক্ষের মোকাবিলায় সরকার, দল এবং মানুষ কি করতে পারে সেই প্রস®‰ লেনিন-এর এই লেখা ।