
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের অনেক কাজ। মাত্র দশ মাসে বর্ণবাদী মিথ্যাপ্রবণ বিজ্ঞান বিরোধী অকর্মণ্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের দৌলতে প্রায় চার লক্ষ আমেরিকান মৃত, আরও মারা যাবেন। চার বছর ধরে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আমেরিকার গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন মিথ্যেকে মিথ্যে না বলে “অল্টারনেটিভ ট্রুথ” নাম দিয়ে। ... ...

দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমি কিছু সোচ্চার বর্ণবাদী বাঙালি ভদ্রসন্তানের কাছে আসন্ন অমঙ্গলের সংকেত। এই অ্যাকাডেমি সফল হলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর ভদ্রসমাজের বংশানুক্রমিক বজ্রআঁটুনি শিথিল হবার সম্ভবনা রয়েছে। ভদ্রসমাজের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতেই দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির ওপর আক্রমণ হানার চেষ্টা চলেছে। এক্সক্লুশানের সংস্কৃতি এক ভগ্নপ্রায় সংস্কৃতি। বাঙালি ভদ্রসমাজের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ না করতে পারলে সমগ্র বঙ্গসংস্কৃতিই চরম সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। ... ...

আনন্দবাই-এর জীবন বড়ো সুখের ছিলনা। মহারাষ্ট্রের কল্যাণে এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদার পরিবারে জন্ম ৩১ মার্চ, ১৮৬৫। পরিবারের ১০ সন্তানের মাঝে ৬ নম্বর সন্তান তিনি। তাঁর আরও পাঁচ বোন এবং চার ভাই ছিল (অবশ্য দুজন পুত্র সন্তানের অকালমৃত্যু হয়)। মাত্র ৯ বছর বয়সে ৩১ মার্চ, ১৮৭৪ সালে বিয়ে হল তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড়ো গোপালরাও যোশীর সাথে। আনন্দবাই স্বামীর রাখা নাম – “হৃদয়ের আনন্দ”, বাবার বাড়িতে নাম ছিল যমুনা। আনন্দবাই-এর ১৪ বচর বয়সে অর্থাৎ ১৮৭৮ সালে এক সন্তানের জন্ম হয়। ১০ দিনের মাথায় সে সন্তান মারা যায়। তাঁর গভীর উপলব্ধি হল যে উপযুক্ত চিকিৎসক না থাকার জন্য শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা তাঁকে চিকিৎসক হবার ব্রতের দিকে যেতে উজ্জীবিত করে তুললো। সন্তানের মৃত্যুর পরে তাঁর উপলব্ধি আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায় – “একটি শিশুর মৃত্যু তার পিতার কোন ক্ষতি করেনা, কিন্তু মা চায় না তার সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যাক।” ... ...

জামিনে মুক্ত বারোটি বর্ণহিন্দু পরিবারের পুরুষ, মহিলা, এমনকী নাবালকরাও ঝাঁপিয়ে পড়ে সুরেখা, সুধীর, রোশন, আর সতের বছরের প্রিয়াঙ্কার ওপর। ভাইয়ালাল সেই সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন, বাঁচাতে পারেননি তাঁর পরিবারের কাউকে। বাড়ি থাকলেও বাঁচাতে পারতেন বলে মনে হয় না। হয়ত নিজেই বাঁচতেন না। বর্ণহিন্দু মহিলারা টেনে বের করে আনে সুরেখা, সুধীর, রোশন, প্রিয়াঙ্কার দলিত দেহগুলি, আর ছুঁড়ে দেয় তাদের পুরুষদের উন্মত্ত বাহুতে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হতে। ... ...

২০১৬ সালে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক হঠাৎ এই সমিতিকে মাওবাদী প্রভাবিত আখ্যা দেয়। তার উদ্দেশ্য কী সে তো দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। জমির ওপর অধিকার কায়েম রাখবার দুই হাতিয়ার হল ল্যান্ড একুইজিশন অ্যাক্ট, ২০১৩ এবং ফরেস্ট রাইট অ্যাক্ট, ২০০৬। এইসব মানবিক আইনি অধিকার ক্রমাগত সংশোধনের চেষ্টা চলছে সরকারি তরফে। বলা বাহুল্য সে সংশোধন কর্পোরেটের কোলেই ঝোল টেনে দিচ্ছে। ... ...

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং আরএসএস এর সমালোচনা করে গর্গ জানালেন, খুব সুকৌশলে হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থানের একটি প্রকল্প বাঙালির ওপর চাপানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বাংলায় কথা বলার জন্য অপদস্থ হতে হচ্ছে বাঙালিকে। এ ধরনের ঘটনার বিরোধিতায় বাংলা পক্ষ সর্বদা তৎপর থেকেছে বলে তাঁর দাবি। ... ...

সাম্প্রতিকতম ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে যে সদ্যোজাত এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার গুজরাটের তুলনায় পশ্চিম বাংলায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। প্রতি ১০০০-এ গুজরাটে গড়ে ৩১.২ জন শিশুর (পাঁচ বছরের কম) মৃত্যু হয়। বাংলায় সেই সংখ্যা ২২। সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুই রাজ্যের সংখ্যা যথাক্রমে ২১.৮ আর ১৫.৫। গুজরাটে অপুষ্ট শিশুর সংখ্যাও অনেক বেশি বাংলার থেকে। ... ...

ফাইজারের বায়োটেকনোলজি-জাত ভ্যাক্সিন এদেশে এখনও আসেনি। সে ভ্যাক্সিনে নরওয়েতে তেইশ জন মারা গিয়েছেন। সকলেই ভ্যাক্সিনের কারণেই মারা গিয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয় - তবু, ধরেই নেওয়া যাক, এঁদের মৃত্যুর কারণ ওই টিকা। এই ভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির এম-আরএনএ ভ্যাক্সিন - পৃথিবীতে প্রথম। আগামী দিনে এই পথেই হয়ত আসবে অজস্র সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধী টিকা। ... ...

এখানে একেবারে বিপরীত একটি নির্মাণ চোখে পড়েছে, ধর্ম প্রতিবাদীর অবলম্বন হয়ে উঠছে অথচ এখানে ধর্ম সহাবস্থানের, হানাহানির নয়। আন্দোলনে ধর্মীয় এই বাতাবরণ একটা দিক, কিন্তু আন্দোলনের চালকের ভূমিকায় আছে কীর্তি কিষাণ ইউনিয়ন, ক্রান্তিকারী কিষাণ ইউনিয়ন, বিকেইউ একতা (উগ্রাহাঁ), বিকেইউ (ক্রান্তিকারী), কিষাণ সংঘর্ষ সমিতি, কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির মত সংগ্রামী ধারার সংগঠনগুলি। আন্দোলনের হার না মানা মনোভাব এবং আপোসহীন সংগ্রামের অঙ্গীকার এবং সাধারণ কৃষকদের সচেতন রাজনৈতিক ভাষ্যে কোথাও খামতি নেই। ... ...
আপনি যদি বুদ্ধিমান হতেন, এই বক্তব্য রাখার আগে একটু কৌশলী হতে পারতেন। আপনাদের নেতারাই বিগ মিডিয়াতে এবং আইটি সেলে ক্রমাগত জাতীয় সংগীত বদলে ফেলার কথা বলে আসছেন। হিন্দিকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রচার করছেন দিবারাত্র। হ্যাঁ, সাহিত্য আপনারা বোঝেন না, এটাই একমাত্র সত্যি কথা আপনি বলেছেন এখানে। বাংলা সাহিত্য বুঝলে বিজেপি করতেন না। ... ...

ওয়াইসির মতো একজন পোড় খাওয়া নেতা যেখানে হালে পানি পাচ্ছেন না, সেখানে পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির মত নবাগত কিসের জোরে ভোটে লড়ার কথা ভাবছেন? তাঁর জোর তো একটিই— গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফুরফুর সরিফের মুরিদরা। পিরের শিষ্য বা ভক্তদের বলা হয় মুরিদ। ফুরফুরা শরিফের পির আবু বকর সিদ্দিকি (১৮৪৫-১৩৩৯) বা দাদাপির সাহেব ছিলেন একজন সুপ্রসিদ্ধ ইসলামি পণ্ডিত ও ধর্মগুরু। ... ...

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মহিলা ছাত্রদের ভর্তি করা নিয়ে চিন্তাভাবনা ১৮৭৬ সাল থেকে শুরু হয়। সেসময়ের বাংলার লেফটন্যান্ট গভর্নর স্যার রিচার্ড টেম্পল এ বিষয়ে উৎসাহী ছিলেন। ১৮৮১-তে প্রধানত ভর্তি হতে উৎসাহী ছাত্রীদের অভিভাবকদের চাপে এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় “discussing the question of accepting an inferior admission qualification for lady students.” (Centenary Volume, 1935, p.46) এই দলিলের ভাষ্য অনুযায়ী সম্ভবত ১৮৮৪ সালে প্রথম মহিলা হিসেবে কাদম্বিনী গাঙ্গুলি অ্যাডমিশন নেন (বা বলা ভালো অ্যাডমিশনের অধিকার পান)। উল্লেখ করা দরকার যেহেতু অক্সফোর্ড এবং কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের প্রবেশাধিকার ছিলনা সেজন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ মহিলাদের ভর্তির ব্যাপারে গররাজি ছিল। ... ...

অনেকের মনে হচ্ছে একটা বার্তা দেওয়া দরকার যে সব বাঙালি একেবারে সাচ্চা হিন্দু রামভক্ত বিজেপির বানরসেনা হয়ে যায়নি। অতএব শুভ কাজে বিলম্ব না করে কয়েকজন মিলে শুরু করে দেওয়া হোল একটা ছোট্ট উদ্যোগ – বিজেপি বিরোধী বাঙালিদের গ্রুপ – বর্গী এল দেশে। ... ...
উত্তর প্রদেশ সহ গোবলয়ে ঠাকুররা আক্ষরিক অর্থেই দেবতা। অর্থাৎ ঠাকুর সম্প্রদায়ভুক্তরা। ঠাকুররা উচ্চবর্ণীয়, ফলে হিন্দি বলয়ের হিন্দুস্তানে, ঠাকুররা দেবতার আসনে বিরাজ করেন। এ হেন বুলন্দশহরে অহিন্দু এক দোকানি, নিজের দোকানে বিক্রি করছিলেন ঠাকুর লেখা জুতো। শুধু লেখা নয়, জুতোর সোলে খোদাই করে লেখা ছিল ঠাকুর। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির আর সম্মান নিয়ে বাঁচার আর কোনো জায়গা থাকবে না। রবীন্দ্রনাথকে একেবারে একটা গৌণ একটা চেহারা দেবে। জাতীয় সঙ্গীত বদল করে ফেলার কথা ওরা অনেকবার বলেছে, রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে অনেক জায়গাতে, তার জায়গায় নাথুরাম গডসের স্ট্যাচু হবে। ... ...

খসড়া প্রস্তাবের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এদিনের সভায়। শুরুতেই বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় একটি বিষয় সম্পর্কে তাঁর সংশয়ের কথা জানান। তিনি বলেন, বিজেপি-কে ভোট দিতে না-বলার ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কাকে ভোট দিতে হবে, সে প্রসঙ্গের উল্লেখও জরুরি। ... ...

গণভোট প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের অংশ। অর্থাৎ যেমন বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়করা জিতে মুখ্যমন্ত্রী বানান, কিংবা লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদরা স্থির করেন প্রধানমন্ত্রী, তার থেকে অনেক বেশি করে জনমতের সরাসরি প্রতিফলন গণভোট। সেই প্রত্যক্ষ পথে যিনি নির্বাচিত হন, ধরাকে সরা জ্ঞান করার অধিকার তার অনেক বেশি। সেই মহান নেতাকে যে অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কিছুটা দমিয়ে রাখবেন সেই সুযোগ কম। তাই যেসব দেশে সরাসরি জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্ধারিত হয়, সেখানে একনায়কতন্ত্রের অধিকার প্রত্যক্ষ করা যায় আরও বেশি তীব্রতায়। ... ...

আমাদের মস্তিষ্ক বাইনারি চয়েসে বেশি অভ্যস্ত। সাদাকালোতে বেশি অভ্যস্ত। বলা যায় গ্রে-স্কেলে দেখতে শিখতে হয়। সরকার গঠনের জন্যে নির্বাচনে এই দুটি বর্গই তো সম্ভব। যে রাজনীতি সরকার গঠনে বিশ্বাস করে না, অথচ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় তাদের চয়েসের সমস্যার কথাই বলা হচ্ছে এখানে। কিন্তু সেটা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার। সমাজসেবী কেউ সরকার গঠনে বিশ্বাস করলে তার এই দুটি বর্গে সমস্যা থাকবে না। ... ...

মানুষ কেন ভোট দেয়? নব্বই কোটি ভোটারের দেশে এ প্রশ্নের অন্তত এক কোটি আলাদা উত্তর পাওয়া যাবে। বছর পাঁচেক আগে চমকে দিয়েছিলেন একজন রেলের হকার, বলেছিলেন ভোট না দিলে ভোটার কার্ড ভ্যালিড থাকবে না. পরবর্তীতে জানতে পারি এইরকম অদ্ভুত গুজব গ্রামেগঞ্জে প্রচলিত, এমনকি শহরেও। ভোটার কার্ড ভ্যালিড না-থাকাটা খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এক দু:স্বপ্নের ব্যাপার। ... ...

আয়ুর্বেদ সহ বিভিন্ন প্রাচীন চিকিৎসাবিধিতে বিভিন্ন সময়, পরিবেশ ও কালে স্থিত মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে কেমন আচরণ হওয়া উচিত এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা আছে। আমি আয়ুর্বেদ খানিকটা জানি। অন্য দেশের এবং চিকিৎসাব্যবস্থার কথা কথা দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারবোনা। এজন্য আয়ুর্বেদে সীমাবদ্ধ থাকছি। আয়ুর্বেদে “সাত্ম্য” বলে একটি ধারণাকে ব্যবহার করা হয়েছে। ধারণাটি হল – বিপুল বিশ্ব জগৎ বা (macrocosm)-এর মাঝে মানুষ বা অন্য যেকোন জীবিত কণা হচ্ছে অণুবিশ্ব বা microcosm। এ দুয়ের ভারসাম্য দিন, ঋতু, স্থান, সময়, ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে বিঘ্নিত হয়। এ ভারসাম্যকে সমস্ত দিক থেকে রক্ষা করতে পারলে মানুষ সুস্থ থাকে, না পারলে অসুখের আবির্ভাব হয়। ... ...