এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ত্রিপুরার বজরংদা

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৭৫৬ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৪ জন)
  • ক্লাস এইট ফেল হলে কী হবে, বজরংদার ভক্তি অটুট। সকালে হোয়া পড়েন, বিকেলে চাচা চৌধুরি। এবার পুজোর দিন হাতকাটা পাঁচুকে নিয়ে অঞ্জলি দিতে গেছেন, প্রতিমা দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ। এ কি দেবী, না  বাঙালি মেয়ে?  সবই তো দেখা যাচ্ছে। নিজেরা দেখাবি দেখা, প্রতিমাতে এইসব কী? ভক্তি তো মাথা থেকে নেমে অন্য কোন জায়গায় চড়ে যাচ্ছে। কিছুতেই আর অঞ্জলি দেওয়া যাচ্ছেনা। হাতকাটা পাঁচুর দিকে তাকিয়ে বজরং দা দেখলেন একই অবস্থা। সে ব্যাটা আবার জুলজুল করে তাকিয়ে। বজরং দা প্রচণ্ড রেগে ছাত্রছাত্রীদের পান্ডাদের ডেকে বললেন, এটা কী হয়েছে? শিবমন্দির গড়তে গিয়ে হনুমান মন্দির গড়া সরকার অ্যালাউ করে দিয়েছে, কিন্তু সরস্বতী গড়তে গিয়ে আইটেম গার্ল ? 
    কে একটা মিনমিন করে বলল, কেন শাস্ত্রেই তো আছে। 
    কী? 
    কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। 
    আবার সংস্কৃত দেখাচ্ছে। প্রচণ্ড রেগে বজংদা বললেন, অ্যাই, পুজো বন্ধ। শিগগির একটা ঢাকাঢুকি দেবার ব্যবস্থা কর।
    পাঁচু বলল, ইয়েস বস। তারপর মোবাইল বার করে ল্যাংড়া রাজুকে ফোন। - শোন শিগগির বড় দেখে গেরুয়া ওড়না নিয়ে আয়। বড় আনবি, অনেকটা ঢাকতে হবে। উফ কত সাইজ আমি জানিনা। পাশে দাদা আছে।
    পাশ থেকে বজরংদা বললেন, বিয়াল্লিশ।
     একটু পরে ওড়না এসে পৌঁছলো বাইকে চড়ে। রাজু মাথায় ফেট্টির মতো করে বেঁধে এনেছে। বজরংদা মোটেই খুশি হলেননা, কিন্তু কী করা যাবে আর। বললেন, অ্যাই ছোঁড়াছুঁড়িরা, সব্বাই হাত লাগাও।
    যেমন কথা তেমনই কাজ। সবাই মিলে মূর্তির শ্লীলতারক্ষায় নেমে পড়ল। ওড়না দিয়ে ভালো করে কুচযুগ ঢেকে তারপর রক্ষে। বজরংদা বললেন, এই ভালো করে বেঁধে দে। যেন বেরিয়ে না আসে।
    সব মিটে যাবার পর, আবার অঞ্জলি দিতে বসে বজরংদা দেখেন, নাঃ তাতেও তো মন দেওয়া যাচ্ছেনা। ঢাকা ঠিকই পড়েছে, কিন্তু ব্যাপারটা তো দেখা যাচ্ছে। এ কী অনাসৃষ্টি। দাদা পাঁচুকে বললেন, তবুও একটু কেমন কেমন লাগছে না রে।
    পাঁচু বলল, কী আর বলব দাদা। গুরুজন লোক, কিন্তু মন দেওয়া যাচ্ছেনা। তাই না রে রাজু।
    রাজু শুনে দাঁত বার হাসল। বজরংদা প্রচণ্ড চটে গিয়ে বললেন, হাসি থামা।
    গর্জন শুনে পুরুতও পুজো থামিয়ে দিয়েছে। বজরংদা আরও চটে গিয়ে বললেন, থেমেছ, বেশ করেছ। আর শুরু করবেনা। অ্যাই, কে আছিস, ডেকরেটারকে খবর দে।
    এক ছাত্র মিনমিন করে বলল, কিন্তু দাদা, খিচুড়ি তো আমরাই রেঁধেছি। 
    বজরংদ বললেন, আমার মাথা কিনে নিয়েছ। অ্যাই রাজু, ফোন লাগা। বল, প্যান্ডেলের তিরপল আর দড়ি নিয়ে আসতে ততক্ষণ সব বন্ধ।
    ঘন্টাখানেক পুজো বন্ধ রইল। তারপর ডেকরেটার এল টেম্পো চড়ে। বজরং দা বললেন, এই মূল্তিটাকে চারদিক দিয়ে কাপড়ে মোড়ো। কোনো খাঁজখোঁজ যেন দেখা না যায়। তারপর দড়ি দেবে।
    ডেকরেটার অবাক হয়ে বলল, দড়ি? কোথায় দেব? 
    বজরংদা প্রচণ্ড রেগে বললেন, নিজের গলায়।
    ডেকরেটার বুদ্ধিমান লোক। সে দড়ি অবশ্য ঠিক জায়গায়ই দিল। মূর্তিকে পুরো প্যাক করে দড়ি বাঁধতে আধ ঘন্টা লাগল। তারপর বজরং দার মনে শান্তি এল।  এই তো কিচ্ছু দেখা যাচ্ছেনা আর। অ্যাই পুরুত, লাও পুজো শুরু কর। 
    পুরুত আবার অংবংচং মন্ত্র পড়তে শুরু করল। বজরংদা কাপড়চোপড়ে ঢাকা মূর্তির দিকে তাকিয়ে অঞ্জলি দিতে গিয়ে দেখেন, নাঃ তাতো লাভ হচ্ছেনা। মূর্তিটা তো ওর ভিতরেই আছে। ঠিক মনে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আবার চিৎকার করে বললেন, অ্যাই থামাও।
    এবার আবার কী? পাঁচু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করতে যাবে, বজরং দা বললেন, কর্পোরেশনকে খবর দে। 
    কেন দাদা? 
    ক্রেন নিয়ে আসবে। এই মূর্তির সামনে পুজো দিতে পারবনা। এটাকে সরাতে হবে।
    পাঁচু ভয়ে ভয়ে বলল, তার জন্য ক্রেন লাগবে কেন দাদা? আমরাই হাতে হাতে ধরে সরিয়ে দিই? 
    তাইই হল। মণ্ডপে আর কোনো মূর্তি নেই। খালি মন্ডপের দিকে হাত জোড় করে বজরংদা বললেন, অ্যাই পুরুত, পুজো কর। 
    এবার বজরংদা মন দিতে পারলেন। আর অংবংচং পড়তে পড়তেই ঠিক করে ফেললেন, সামনের বার থেকে আইন করে দেবেন স্রেফ বাক্স পুজো করার। কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেন বোঝা না যায়।
    ------- 
    গপ্পোটা বানানো। কিন্তু ঘটনাটা নয়। আগরতলার  আর্ট কলেজে ঘটনাটা ঘতেছে, এই পুজোতেই। সরস্বতীর মূর্তি বজরং দলের অপছন্দ হওয়ায়  প্রথমে ওড়না জড়ানো হয়েছে,। সেটাও পছন্দ না হওয়ায় তারপর মুড়ে দেওয়া হয়েছে কাপড়ে। এবং সবশেষে মণ্ডপে পুজো হয়েছে। এই গল্পগুলো আর হাস্যকৌতুক নেই। রীতিমতো সত্যি। হিন্দুত্ব যাঁরা খতরেমে ভাবছেন, তাঁরা ভাবুন, এরা এলে পুজোই খতরেমে। 
    ছবিগুলো Tripurainfoway থেকে নেওয়া। প্রতিবেদনটাও সেখানেই গিয়ে পড়ে নিতে পারেন।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৩১528465
  • এরপরে বোরখাজাতীয় কিছু আর তারপরে সিন্দুক।  তারপরে মুখার আদমচরিতের  মত  সিন্দুকটাকেও ঢাকার দাবী করবে।  গর্বিত হেঁদুরা তালিবান গুয়ের উল্টোপিঠ। 
  • Arindam Basu | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৭528468
  • এরা তালিবানের অধম। তবে খারাপ লাগল জেনে যে এরা খুব মারাত্মক প্রতিবাদের মুখে পড়ল না। এই ব্যাপারগুলো এদের বদমাইশিতে উৎসাহ যোগাবে। 
  • dc | 106.198.42.48 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৫৪528470
  • ওহ সেই আদমচরিত! দুর্দান্ত লেখা হয়েছিল laugh
     
    তবে হিন্দু তালিবানদের জুলুম তো বহু পুরনো। এম এফ হুসেন কে সরস্বতী আঁকার অপরাধে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। 
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.203.220.61 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:০৫528473
  • সন্দেশখালিতে  আপনার  অনুপ্রেরণা দিদি আর তার ল্যাজ নাড়া লুম্পেন কুকুরের দল , চাটুকার দলদাস পুলিশ প্রশাসন মহিলাদের বে আব্রু করছে তার বেলায় আপনার দাড়ি চুলকায় না, খুজলি  কেবল  গেরুয়া  দেখে !  আর ৪২ এর গলপো শোনাচ্ছেন? 
    ভন্ডের গুরু ভান্ডার
     
     
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.203.220.61 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:০৭528474
  • আপনারা সবাই চটি চাটু ক্ষমতার দালাল
  • সৃষ্টিছাড়া | 117.203.220.61 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১৭528476
  • এবার গুরুতে নীল পাড় সাদা শাড়ি আর ব্লাউজের দোকান খুলে বিরাট আলোকপ্রাপ্ত প্রমাণ করা বাকি অপ্রাসঙ্গিক অর্বাচীন গো চোনা 
  • :|: | 174.251.161.113 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৩৩528478
  • সে যাই বলুন, এখন সতীদাহের প্রত্যাবর্তনটা আটকানো বে--শ ঝঞ্ঝাটপূর্ণ।
  • Arindam Basu | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:০৮528480
  • :|:, কথাটা এক সময় হলে হয়ত অবাস্তব মনে করা যেত, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, সতীদাহের প্রত্যাবর্তন একটা গা ছমছম করা বাস্তব। 
    এবং।
    আটকানো ঝঞ্ঝাটময়। 
    আশা করব সে দিন দেখতে হবে না। 
  • | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৪528481
  • রূপ কানোয়ার কেউ  ভোলেন নি আশা করি।  এই ক বছর আগেও রাজস্থানে কিছু কেস হয় তখন চাড্ডিগ্রুপ চামে চিকনে প্রচার শুরু করে যে জানা হরব্রত খুবই মতো হান একটা ব্যপার কারণ ওই মহিলাদের আর কোন উপায় ছিল না। 
  • | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৪528482
  • *জহরব্রত 
  • | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:০৬528483
  • এই সৃস্টিছাড়া দেখি চাড্ডিদেরব কিছু বললেই খিস্তানো শুরু করেন। ইন্টারেস্টিং!  সন্দেশখালি নিয়ে  নন্দিনী সেনগুপ্তর লেখা সম্পাদিত বিভাগে প্রকাশিত সেটা দেখেন নি এ ত হতে পারে না।   দেখেছেন এবং এড়িয়ে গেছেন।  কিন্তু চাডজদের বিরুদ্ধে লেখা দেখেই খিস্তি পেয়ে গেল। আর খিস্তি হল পটির মত পেলে ঢালতেই হয়, এক্ষেত্রে মুখ বা হাত দিয়ে। পটিফিঙ্গারস সৃষ্টিছাড়া বলতে পারি।  আরো কথা হল  আপনার মমব্যান শাজাহান এট আলের নামে যা বলার।আছে লিখে guruchandali @ gmail  এ পাঠিয়ে দিন। অকথ্য খিস্তি বা ব্যক্তি আক্রমণ না থাকলে ছাপা হবেই। কিন্তু তা  ইনি করবেনই না। ইনি এত আহ্লাদ করে একেবারে সবাইকে ভন্ড চটিচাটা বলেছেন তা আমাদেরো কিছু রিটার্ন গিফট দেওয়া উচিৎ। আমি দিলাম ভন্ড ল্যাঙোটিয়া পটিফিঙ্গারস খেতাব। 
     
    আর এই যে 
  • Subhadeep Ghosh | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৬:৩৯528491
  • গোটা দেশটাকে দেশের সমাজকে মধ্যযুগের অন্ধকারে নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত এই চাড্ডিওয়ালাদের শান্তি নেই। সবথেকে চিন্তার ব্যাপার হল এদের শুধু সমর্থক নেই, এদের সমর্থক বিপুল ভাবে ক্রমবর্ধমান!!! 
  • r2h | 208.127.71.78 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৩528493
  • প্রথমে এবিভিপি এসে ওড়না জড়িয়েছে তারপর বজরং দল এসে ঠোঙায় পুরে দিয়েছে।

    ত্রিপুরা সরকারি আর্ট কলেজের অবস্থান এখন শহরের উপকন্ঠে লিচুবাগান নামে জায়গায়। নব্বইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত লিচুবাগান লিচুবাগান ছিল বিহারী দুধ ব্যবসায়ী ও গোপালকদের বসতি।
    এখনে অবশ্য বিহারি বাঙালীর তেমন কোন ব্যাপার নেই, ত্রিপুরা ইনফোওয়ের ফিডে বেশিরভাগ লোকজনই বজরং দলকে বাহবা দিচ্ছে। এমনকি পোর্টালের আমেরিকাপ্রবাসী পরিচালকও ঠারেঠোরে ব্যাপারটাকে সমর্থন করেছেন দেখলাম। যদ্দুর জানি তিনি বামপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন; বিজেপিকে সমর্থনও করেন না।

    তবে অন্যদিকে দেখতে গেলে, ধর্মাচরণ ব্যাপারটাই, হুঁহুঁ, তার ওপর আবার প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে। সুতরাং এইসব তো আসবেই।

    উইন্টার ইজ কামিং আরকি।
  • হাহা | 2605:6400:d152:: | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২১:২০528496
  • চুতিয়াদাদু পুরো ফ্রাস্টুমাল। যখন তখন ফ্রাস্টু পায় এসোশুই পাট্টি মোনয়। আবার এসে কুড়িবছর কেন্সারের কান্দুনি গাইবে।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:৪৫528523
  • ওদিকে ভারতের অগ্রগামী উন্নয়নশীল আইটি শহরের একটিতে বসবাসকারী উজ্জ্বল বাঙালির চিন্তার গভীরতার ততোধিক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! 
     
     
     
    এখন সুনীল গাঙ্গুলি তার অন্য লেখাপত্রে যৌনতাকে অহেতুক পাবলিসিটি পেতে ব্যবহার করেছেন কি বা তিনি সাহিত্যিক হিসেবে কোন মাপের সেইসব নিয়ে কথা থাকলে আমার কিছু বলার ছিল না। আমার কাব্য সাহিত্য জ্ঞান শূন্যের কাছাকাছি। 
     
    কিন্তু সাধারণ বুদ্ধি সম্পন্ন কেউ বুঝবেন যে এখানে লেখক নিজেকে জনসমক্ষে উন্মুক্ত করেছেন, তার প্রকৃত raw self টাকে, কোনো ভণ্ডামি ছাড়া। এখানে সরস্বতীকে নিয়ে খারাপ ভালো কোনো কথাই নেই, (যদিও সেটি তখনও মূর্তি মাত্র) যা বলেছেন তা নিজের কথা। এটা তার আত্মজীবনী। তো সেখানে স্বাধীনতার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে!
     
    এই পোস্টে প্রায় শ দুয়েক মন্তব্য পড়েছে। তার মধ্যে জনা চার পাঁচ ছাড়া সবই পোস্টদাতার সমগোত্রীয়। এই বোধবুদ্ধি নিয়েই সত্তর আশি নব্বই করে মাইনে পাচ্ছি আমরা, আর ধরা কে দেখি সরা .. আর কে আটকায়। এতদিন ক্রিকেট, বলিউড, স্ডাট্যান্ডাপ কমেডি ডালিতে করে ছড়িয়ে দিয়েছে এই বোধবুদ্ধি মনন। তারপর এখন তো ফসল তোলার সময় .. চাষী জানে।
     
    উইন্টার ইস কামিং।
     
  • r2h | 165.1.200.97 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৪528525
  • অরিত্র, এই কোটটা গত বেশ কিছু বছর ঘুরে ঘুরে আসে দেখি। আশির মাঝামাঝি সানন্দাতে বেরিয়েছিল যদ্দুর মনে পড়ে লেখাটা।

    কাগজ টাগজে দুয়েকটা চিঠিপত্র কি বেরিয়েছিল অসন্তোষ ব্যক্ত করে? ঠিক মনে পড়ে না। তবে প্রথম আলোতে কালিকে নিয়ে গিরিশ ঘোষের জবানীতে কী?, ঐ নিয়ে বেশ একটু হয়েছিল।

    আপত্তি থাকতেই পারে, তা নিয়ে প্রতিবাদও করা যায়, তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাপারটাকে অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে।

    তবে কী বলুন তো, এই হট চাড্ডি টপিকগুলি আলোচনা করতে গিয়ে যে একদিকে আমরাও কন্টেকস্টবিহীন শেয়ার করি অনেক সময় - এই নিয়েও আমার একটু দ্বিধা আছে।
    মূল টেক্সট যখন পড়ছি তখন কবে কেন কী প্রসঙ্গে লেখা জানতে পারছি - তাতেও অবশ্যই আপত্তি হতে পারে। কিন্তু সেইগুলি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে যখন এই টুকরোটা কেউ দেখে তখন প্রতিক্রিয়া অন্যরকম হতে বাধ্য।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪৬528526
  • আর২এইচ, হ্যাঁ সেইজন্যেই আমি তো কন্টেক্স্ট উল্লেখ দিলাম (আত্মজীবনী)। অবশ্য ওই অংশ পড়েও বোঝা উচিত। তবে শেয়ার করার আগে ভাবছিলাম, এই স্ক্রিনশটটিই কোন চাড্ডি আবার কোথায় কাজে লাগিয়ে দেবে, আমি হয়তো রসদ জুগিয়ে গেলাম। প্রচারই হয়ে গেলো কি না, কে জানে।
     
     
    ত্রিপুরার ঘটনায় আমার অবশ্য একটু আলাদা চিন্তা আছে।আমার যেটা মনে হচ্ছে সেটাই লিখছি, কিছুটা এসবি ও পপুলার ওপিনিওনের বিপক্ষে গিয়েই। আমার মনে হয় প্রথমে জানা প্রয়োজন সরস্বতীর প্রতিমার যে ছবিটা দেখছি সেটাই কি পুজোর প্রতিমা (খবর পড়ে তাই মনে হয়েছে)। যদি তা না হয়, অর্থাৎ প্যান্ডেলে রাখা শিল্পের নিদর্শন হিসেবে থাকে তাহলে আমার বলার কিছুই নেই। অবশ্য তাতে বজরংদের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পার্থক্য হতো না।

    কিন্তু যদি ছবিটা প্রতিমার হয় তাহলে দুটো অবস্থান হতে পারে। একটি অবন্থান পুজো, ধর্ম, দেবদেবী ইত্যাদির সঙ্গে যে পবিত্রতা বোধ জড়িয়ে থাকে তাকে অস্বীকার করতে চায়। এটা অনেক মৌলিক সমাজ আন্দোলন। অন্য, মধ্যপন্থী ও তুলনায় রক্ষনশীল অবস্থান হলো শিল্প সাহিত্য এবং ধর্মীয় ধ্যানধারণার অধিকার দুটোকেই স্বীকার করা (অন্তত এই সময়ের সাপেক্ষে) এবং দুটোকেই তাদের পরিসর দেওয়া। এই অবস্থান যেমন কোনো বই বা পত্রিকায়, সিনেমায়, আর্ট গ্যালারিতে, উৎসবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বা শহরের দেওয়ালে, পুজোর মণ্ডপেও শিল্পের ও শিল্পীর অধিকার ও স্বাধীনতাকে স্বীকার করে আবার একই সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, অনুষ্ঠানে প্রার্থনা/পুজোর অংশটুকুতে (প্রতিমায়) মানুষের ধর্মবিশ্বাসের পছন্দ ও অধিকারকেও স্বীকার করে। এই অবস্থান থেকে পুজোর "প্রতিমার" গড়ন রূপসজ্জা মোটামুটি প্রথা মেনেই করা হয়। যেমন কলকাতায় দুর্গাপুজোয় সাধারণত আর্টের মূর্তি থাকলে সেই "মূর্তির" পুজো হয় না, পাশে ছোট করে "প্রতিমা" থাকে তারই পুজো হয়।
  • r2h | 165.1.200.97 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫০528527
  • এটা কি আত্মজীবনীর অংশ? অর্ধেক জীবনে আছে?

    আমার যতদূর মনে পড়ে অর্ধেক জীবনে না, তার অনেক আগে সানন্দাতে প্রথম চুমু বা প্রথম প্রেম ধরনের একটা ফিচার হয়েছিল, তাতে সব সেলিব্রিটিরা লিখেছিলেন, সেখানে পড়েছিলাম। তখন সানন্দা সবে শুরু হয়েছে।
  • r2h | 165.1.200.97 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৮528528
  • ধর্মীয় অবস্থান তো ঠিক আছে। কিন্তু সেরকম হলে পুরুতমশাই পুজো করবেন না, মিটে গেল। ঠাকুরের সোল এজেন্টের যদি আপত্তি না থাকে তাহলে এবিভিপি ওড়না নিয়ে আর বজরং দল বোরখা নিয়ে আসার পক্ষে কোন যুক্তি থাকতে পারে না।

    তবে ঐ, প্রতিষ্ঠানে ধর্মাচরন ইত্যাদি, আমরা কখনো ভাবিইনি যে স্কুল কলেজে কারখানা আপিস কাচারীতে মুর্তি পূজা করলেও কারও কোন সমস্যা হতে পারে।
    আর এটা সামাজিক উৎসব, ধর্ম তো গৌন - এসব বলতে গেলে আর শাস্ত্রসম্মত ঠাকুর দেবতার চেহারা এসব নিয়ে ভাবাটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যায়।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:৫৬528530
  • "এটা কি আত্মজীবনীর অংশ? অর্ধেক জীবনে আছে?" – এই রে আমি সেটা একটা মন্তব্যে পড়েছি। মনে হয় আপনি ঠিক বলছেন, তাই জন্যেই "প্রথম চুমুর" কথা বলেছেন। হতে পারে এইটাই আত্মজীবনীতেও আছে, কে জানে!

    "ধর্মীয় অবস্থান তো (...) ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যায়।" – সেটাও ঠিক। এই পুজোটুজো গুলোকে অন্তত বাংলায় যেভাবে করেছি, কেউ ধর্মের দিক থেকে কেউ দেখিনি। কিন্তু আবার গোঁড়ামি না থাকলেও, কি ভাষায় বলবো জানি না, ঠিক "যেমন খুশি তেমন" ভাবেও করা হতো না। পুজোটা উৎসবই ছিল, আন্দোলনের অংশ করা হয় নি। তবে হতো না বলেই, হবে না তা তো নয়। বদল আসবেই ... জানি না, একটু জটিল ব্যাপার।

    আসলে আমি তখন রাজনৈতিক দিকে থেকে ভেবেছি। মনে হলো এই ফ্যাসিসমের দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তে এই জিনিসগুলো রাজনৈতিক দিকে থেকে সাধারণ মানুষ বড় অংশ কিভাবে দেখবে। যদি দেখে 'ফ্যাসিস্ট বিরোধীরা' পুজো প্রতিমার ক্ষেত্রে কোনো তথাকথিত নিয়মনীতির (বা শ্রদ্ধার, তাদের মনে হতে পারে) তোয়াক্কা করতে রাজি নয়, তাহলে কি তারা বিমুখ হবে, ফ্যাসিস্টদের দিকে ঝুঁকে পড়বে? সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অজন্তার দেওয়ালে বা আর্ট গ্যালারিতে দেবদেবীর নানান শৈল্পিক প্রকাশ নিয়ে আপত্তি করেন না, সেগুলো বোঝেন, অর্থাৎ আমার আগের কমেন্টের দ্বিতীয় অবস্থানের কাছাকাছি। এবং এখানেই বিজেপি আরএসএস ও শাখাপ্রশাখা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা বিচ্ছিন্ন। আমার মনে হল, হয়তো এই মুহূর্তে খুব মৌলিক সমাজ বদলের চেষ্টার থেকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে রাখা দরকারি, বড় বিপদটাকে আটকাতে।
  • r2h | 165.1.200.97 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:০০528532
  • সংখ্যাগুরু ব্যাপারটা একটু গোলমেলে।
    "এই পুজোটুজো গুলোকে অন্তত বাংলায় যেভাবে করেছি, কেউ ধর্মের দিক থেকে কেউ দেখিনি" - তাই ভাবতাম, কিন্তু এখন মনে হয় ওটা আসলে 'ওরকম মনে হয়'। নাহলে সামান্য ঘৃতাহুতিতেই এমন আগুন জ্বলে উঠতো না। এই খবরের লিংকে যদি দেখেন... এবং বিদ্বজ্জন ইত্যাদি একেবারে নীরব (পবর মত বিদ্দ্বজ্জন বা সুশীল সমাজের ভয়েস অবশ্য অন্যত্র এত শোনা যায়ও না। পবতেও ২০১১র পর থেকে ব্যাপারটা একদিকে মেরুকৃত তো হয়েইছে, সিস্টেমিকেলি চাপাও হয়ছে, মেজর থ্যাংক্স টু বাম, নিজেদের বিরুদ্ধে যেতেই ডানের সঙ্গে কোন তফাত থাকেনি, আর এই অ্যান্টি ইন্টেলেক্চুয়াল হাওয়া খুবই বিপজ্জনক বলে মনে করি), কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন মতামতই নেই।
    তো, ঠিক কোন সংখ্যাগুরু এটা ধর্মের দিক থেকে দেখেনি? আসলে যারা দেখেনি তারা হয়তো করুণভাবে সংখ্যালঘু।
    বদলও আসছে, তবে বদলটা একেবারেই অন্যদিকে।

    রাজনৈতিক দিক থেকেও... প্রধান বিরোধী দল কং - ধর্মনিরপেক্ষতায় স্ট্রং স্ট্যান্ড আগেও নেয়নি, এখনও একমত হয়ে প্রকাশ্যে নিচ্ছে না। অন্য দলগুলির কথা বলে তো লাভই নেই, আর সহি বামেরা শুধু অভিমান করতে ব্যস্ত।

    আর, "সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অজন্তার দেওয়ালে বা আর্ট গ্যালারিতে দেবদেবীর নানান শৈল্পিক প্রকাশ নিয়ে আপত্তি করেন না, সেগুলো বোঝেন" - কারা এই সংখ্যাগুরু? তাঁরা কোথায় থাকেন? বংচাড্ডি ফেবু গ্রুপগুলিতে ঘুরলে দেখা যায় মাইকেল মধু দত্তকে পারলে লোকে কবর থেকে তুলে হাঁড়িকাঠে তোলে। কোণারক ইলোরা খাজুরাহোর রেফারেন্স দিলেও নানান রকম কাউন্টার তো পাওয়াই যায়, এমনকি কুচযুগ যে আসলে বুড়ো আঙুল তাও শোনা যায়। আবার অন্যত্র ধর্মীয় রেফারেন্স আছে বলেই তাতে আঘাত আসবে না তাও না, ইউপি মহারাষ্ট্র ইত্যাদি জায়গার অনেক বারোয়ারী দুর্গাপুজোয় আমিষ নিষিদ্ধ হয়েছে, তা নিয়ে কারও কোন হেলদোলও তেমন নেই। ধর্ম ব্যাপারটা তো গোলমেলে, ক্রমাগত হাওয়াকল খুঁজে চলে, প্রাক মুসলিম ভারতের ইতিহাস শৈব বৈষ্ণবের মারপিটে তোলপাড়, সুতরাং খাজুরাহোর রেফ এখনো চলছে না, দুদিন পর সিনেমার পোস্টারের মত কালি মেরে দিলেও কিছু বলার থাকবে না, অলরেডি মহেঞ্জোদারোর নর্তকীর রেপ্লিকাকে গোলাপী শাড়ি পরানো হয়েছে। ইনফ্যাক্ট এমন একটা দেখলামও - আগে তো সতীদাহও হত, আমরা পাল্টেছি, আগে লোকে দেবদেবীকে নিয়ে ছ্যাবলামি করলেই কী আমরাও করবো - এই রকম। লে হালুয়া।

    তাছাড়া সংস্কৃত টংস্কৃত, আমাদের ছোটবেলায় কেউ কেউ সংস্কৃত পড়েছি, সেটাকে 'অনেক নাম্বার ওঠে' এর বাইরে কিছু কেউ বিবেচনা করেনি। সংস্কৃত সাহিত্যে বিপুল ইরোটিক জিনিসপত্র আছে, রঘুবংশম আছে - সেসব কেউ স্মরণ করেনা, কাব্য সাহিত্য ইতিহাসে আজাইরা উৎসাহ আছে, এমন লোকজন ছাড়া আর কেই বা সেসব নেড়েচেড়ে দেখে। আপাত উদার সংখ্যাগুরু এটাই প্রমান করতে ব্যস্ত যে টিরানোসরাস রেক্সরা সংস্কৃতে গর্জন করতে করতে শাকান্ন ভক্ষন করতো। 

    তো ঐ ঐতিহ্য সংস্কৃতি উৎসবমূলক ধর্মাচরন, সবই আসলে ঘোঘের বাসা।

    তাহলে পথ কী?

    তার আমি কী জানি। জানলে তো আমিই বকরূপি ধর্ম অথবা নিদেনপক্ষে রাজ্যপাল টাজ্যপাল হতাম।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:০৭528540
  • সংখ্যাগুরু / সংখ্যাগরিষ্ঠ বলতে আমি এমনি সাধারণ মানুষই বুঝিয়েছি। যেমন দেখুন পাড়ায় গলিতে নেশার আসর বসলে, কিংবা ধরুন দেহব্যবসা চলছে জানতে পারলে সাধারণ মানুষ আপত্তি করেছে, ক্ষমতায় কুলোলে বন্ধ করিয়েছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে অজন্তা ইলোরা খাজুরাহো মানুষ গেছে দেখেছে কেউ ফিরে এসে বলেনি - এবাবা কি বাজে, অশ্লীলতা, অসভ্যতা একদম যাবেন না, তাহলে শোরগোল হতো। তাই আমি মনে করেছি সংখ্যাগরিষ্ঠ এগুলো বোঝে, আপত্তি করে না।

    এখন সমাজ ও সমাজ মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে পরিকল্পিত হৈহৈটা খুব বেশি লোক করে না। কিন্তু যারা করে তাদের মধ্যে উনিরা গরিষ্ঠ হয়েছে সন্দেহ নেই। ওরা প্রতিক্রিয়া তৈরী করার চেষ্টা করছে, এবং হিসেব করে করছে। সেটা নিয়েই হৈহৈ করছে যেখানে জানে যে আমরা যা প্রতিক্রিয়া দেব তাতে সাধারণ মানুষের বড় অংশ আমাদের বিপক্ষেই যাবে। যেখানে আমাদের পক্ষে যাবে সেই ইস্যুই তোলে না। তুলবে কেন, সেগুলো তোলার দায় আমাদের। কিন্তু আমাদের পেছনে কর্পো নেই, মিডিয়া ব্যাকিং নেই, কাজেই ওদের তোলা ইস্যুতেই আমাদের খেলতে হবে। একেবারেই আবশ্যিক না হলে, হয়তো বল ছাড়াই ভালো, অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।

    প্রকৃতই ওদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হলে ওদের সংগঠনের বিপরীত ও সমান সংগঠন তৈরী করতে হত। কেউ করে নি। নাগরিক সমাজ করেনি। দলের ওপরে ওঠেনি। কি জানি মনে হয় সুনীল থাকলে করতেন, সাহসী ছিলেন, আগেও রাস্তায় নেমেছিলেন। সত্যজিৎ নিশ্চয়ই চুপ থাকতেন না। আর শুধু মৌখিক প্রতিবাদ নয়, সমাজের মান্যগন্য ব্যক্তিরা এক হয়ে একটি, হ্যাঁ একটি, মঞ্চ/সংগঠন তৈরি করে যদি সাধারণ মানুষকে সামাজিক প্রতিরোধে সামিল হওয়ার ডাক দিতেন তাহলে অন্যরকম হতে পারতো।
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:১৭528541
  • "প্রতিক্রিয়া না দেওয়া" টা এই ইস্যুতে বলিনি। যেকোনো জবরদস্তি বা পুলিশগিরি খুব আপত্তিকর।

    আর দেখুন, ওই শেষের মঞ্চ/সংগঠনের ব্যাপারটায় বলছি। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস, নকশাল নাহয় একজোট হতে পারছে না। কিন্তু তৃণমূল/সিপিএম/নকশাল "পন্থী" বিশিষ্টজনেরাও দলাদলির উর্ধে উঠে আলাদা করে এক হতে পারছেন না! এই আজকে, এই সময়ে এসেও এই ফ্যাসিস্টদের আটকানোর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কী আছে কে জানে। কোথায় আটকায় এদের, কেন এতো নিচে সম্পর্ক নামিয়ে আনতে হবে? কি পেলেন এতো পার্টি বিভক্ত হয়ে!
  • Arindam Basu | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৪৫528543
  • "অবস্থান যেমন কোনো বই বা পত্রিকায়, সিনেমায়, আর্ট গ্যালারিতে, উৎসবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বা শহরের দেওয়ালে, পুজোর মণ্ডপেও শিল্পের ও শিল্পীর অধিকার ও স্বাধীনতাকে স্বীকার করে আবার একই সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, অনুষ্ঠানে প্রার্থনা/পুজোর অংশটুকুতে (প্রতিমায়) মানুষের ধর্মবিশ্বাসের পছন্দ ও অধিকারকেও স্বীকার করে। এই অবস্থান থেকে পুজোর "প্রতিমার" গড়ন রূপসজ্জা মোটামুটি প্রথা মেনেই করা হয়। যেমন কলকাতায় দুর্গাপুজোয় সাধারণত আর্টের মূর্তি থাকলে সেই "মূর্তির" পুজো হয় না, পাশে ছোট করে "প্রতিমা" থাকে তারই পুজো হয়।"
     
    দুটোর কোনটাতেই নগ্ন দেবতার গায়ে কাপড় পরানোর ব্যাপারটা নেই। 
    যে ধর্মে উন্মুক্ত লিঙ্গের পুজোর বিধান রয়েছে, সেখানে এই ধরণের আবদার বালখিল্যেপনা এবং অসুস্থতার পরিচয় দেয়। এখানে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে টেনে এনে যারা গালাগাল দেয়  তাঁরাও ঐ একই রকম  সামাজিক ভাবে অসুস্থ  । যেরকম প্রকারান্তরে অরিত্র লিখেছেন। 
  • r2h | 165.1.200.97 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:০৮528544
  • হুঁ... সুনীল সত্যজিতের উদাহর দেখে অনেকে হতাশ হয়ে মাথা নাড়বেন।
    কিন্তু আমার মনে হয় সুনীল সত্যজিৎ এই প্রসঙ্গে খুবই ভালো উদাহরণ।
    তাঁদের নিজেদের বিবিধ এজেন্ডা, সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, স্বার্থ ইত্যাদি সবই ছিল, আর কারই বা না থাকে।
    কিন্তু তাঁরা মহীরুহ হয়ে অনেককে পথ দেখিয়েছেন, কীভাবে সৃষ্টিকর্ম দিয়ে প্রচলিত ধ্যান ধারনা, কনফর্মিটিকে আঘাত করার অন্তত চেষ্টা করা যায়; পাল্টানো যায়ই লিখতাম, তবে সে আর ভরসা আর নেই। মুশকিল হল, শুধু বিশ্বাস বা প্রতিভা থাকলেই হবে না, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তথা একটু খারাপ ভাবে বললে এক ধরনের সামাজিক প্রতিপত্তিও দরকার। এঁরা সেটা অর্জন করেছিলেন।
    এইসব দেখে মনে হয়, কিছু কিছু আইকন থাকা একটি সামাজিক প্রয়োজনীয়তাও বটে।

    তবে তাতে আবার কে কাকে আইকন বানাবে তা এক চাপ। ইদানীং যেমন হিন্দুবীর গোপালপাঁঠাকে আইকন বানাবার জন্য একদল লোকে উঠে পড়ে লেগেছে, তৎসংক্রান্ত একটি 'ইতিহাসাশ্রয়ী' ফিকশন নাকি বইমেলায় বেস্ট সেলারও হয়েছে।

    ইন্ফ্যাক্ট খুবই ঘাঁটা ব্যাপার স্যাপার। ভারতীয় জাতীয়তাবাদ নির্মানের কর্মশালায় যা যা আয়ুধ বানানো হয়েছে তার অনেকগুলিই যবনের বিরুদ্ধে লড়াই বিষয়ে। সেসব আজ ইতিহাস হিসেবে মান্য হয়েছে।
  • Arindam Basu | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:২৫528546
  • এখানে যবন কথাটকে ধরতে হবে যারা ওদের মতকে মানে না, তাদের। 
    এ জিনিস ভারতে আজ বলে নয়, বরাবরই ছিল। 
    ভদ্রলোকিকতার আড়ালে লুকিয়ে চুরিয়ে চলত।
    তবে অন্তত কিছু সময়কাল মানুষের শুভবুদ্ধির কারণেই হোক, বা যে কোন রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণেই  হোক, এদের বাড়াবাড়ি ঠেকানো গিয়েছিল। 
     
    আজকে সবটাই বেআব্রু।
    সোস্যাল মিডিয়া ভাবতে তো শেখায় না, সবটাই আবেগ সর্বস্ব জীবন। 
    এখন রাজনীতিও ঐরকম। 
     
     
     
  • বকলম -এ অরিত্র | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:৫০528550
  • "কাপড় পরানোর ব্যাপারটা নেই" – না, একেবারেই নেই। অবস্থান দুটো বলেছিলাম আয়োজকের দিক থেকে। বজরং যে দাদাগিরি করেছে তা কোনো সভ্য মানুষ বা সংগঠন করে না। যে যাই করুক, যদি একান্তই স্টেপ নেওয়ার হয় প্রশাসন নেবে, কোনো সংগঠন বড়জোর আপত্তি বা অভিযোগ করতে পারেন। অন্যের  পুজো পাল্টে দেওয়ার ওরা কে, কী অধিকার? 
  • Arindam Basu | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৬:২২528557
  • যে যাই করুক, যদি একান্তই স্টেপ নেওয়ার হয় প্রশাসন নেবে, 
     
    শ্লীলতার প্রশ্নে সাধারণত প্রশাসন মাথা গলায় না। তাদের নিজেদের হাজারো গলদ এ ব্যাপারে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন