এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  কাব্য

  • আত্মপোনিষদ্ (৫) - বৃহদারণ্যক

    Chitralekha Chakraborty লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৪৩ বার পঠিত
  • বৃহদারণ্যক উপনিষদ্ (শুক্ল যজুর্বেদ)

    (১) 
    যারা এই সংসার জগৎ থেকে মুখ ফিরায়ে নিতে চায়
    যদি কারণ অকারণ তাদের জাগিয়ে রাখে নিরূপায়  ...
    তাদের বলি —
    আত্ম ও ব্রহ্মের পরিচয় জ্ঞান  
    এই সৃষ্টির সব কারণ-নির্মূল উৎপাটন উপায়। 

    এই ব্রহ্ম জ্ঞান-ই 'উপনিষদ্' বলিতে হয়
    গুরুর সামনে বসে করো জোড় প্রার্থনা অধ্যায়  
    আর ওস্তাদ ওমনি টানে যবনিকা, সংসার সরিয়ে দেয় ।  
    তবে এই বৃহৎ নৈমিষ্যারণ্যে
    আরণ্যক উপনিষদ্ হবার জন্যে
    সংলাপ শ্রুতি রচনা — মত বিনিময় ॥

    (২)
    এখন, যদি কেউ সচেতন না হয়
    মৃত্যু-পরবর্তী-অস্তিত্ব বিষয়
    তিনি কি ভালো মেনে মন্দ চলিবেন এড়ায়ে?
    — তবে এ তো ব্যক্তি উপলব্ধির বিষয় নাকি?
    — না । সমস্ত উপলব্ধিই আপেক্ষিক ইহ-বিদ্যমানতা  
    উপলব্ধ বস্তু থেকে মৃত্যু-পরবর্তী-অস্তিত্ব ভিন্ন, আলাদা
    যাকে অনুভব করোইনি
    তাকে ইহ ভবে প্রমাণ করিবে কেমনে এখনি?

    (৩)
    যাজ্ঞবল্ক্য উবাচ: আমরা কিছু বোলতে বস্তু-ই বুঝি তাই
    বস্তুহীন-জগৎ শূণ্যই বলা যায় ।
    শুরুতে এখানে সবই ছিল তেমন — শুরুতে অরাজক খাঁ খাঁ
    ছিল সেই অনাদিম পিন্ড — কাঁচের জার খামের মতো ফাঁকা 
    ছিল কেবল মৃত্যু, আদিম ক্ষুধা — তাঁর বাহ্যিকতার প্রকাশ
    ক্ষুধা ও মৃত্যু দোসর — ক্ষুধাই মৃত্যুর কারণ পরিহাস।

    হিরণ্যগর্ভ স্বর্ণ-ডিম্ব আদি-পুরুষ প্রাণোগতি
    ব্রহ্মান্ড বৃহৎ গোলোক প্রকৃতি স্বয়ম্ভূ প্রজাপতি
    আদিমো তরো চিন্তনে তিনি অস্ফুটো ভাবিলেন আজি
    তবে হোউক আমার একহি — আত্ম-মনো-মাঝি
    মন ভাবিল: “বাহ্! … এই তো 'আমি' … এই তো আমার অহং …
    বিষয় আমি … আমারো চাই — বস্তু … জিনিষ … ভড়ং”।   
    অতঃপরে, অদ্যপি নিজেকেই নিজে পূজা রতো যবে
    উদক … বারি … হঠাতি উৎপন্ন সুখানুভবে ।
    এহেন সক্রিয়তা জাগতিক নহে ভাবিয়া 
    সুখানুভবে প্রসন্ন যবে সর্বজনীন কর্ম-ক্রিয়া
    প্রজাপতি পরিশ্রান্ত — ক্লান্তি আভা সামান্য যোগাযোগে
    আগুন … প্রখর … রৌদ্র … উদ্দাম তেজ লাগে  
    জল এসেছিল এমোনি — অর্ক-অগ্নি রাখিলাম তার-ও আগে 
    জলের ওপর সরের ন্যায় গাঢ় ধরাতল উপজাত জলদ জায়া
    আলস্য মদির প্রমোদ কানন ছায়া —
    সৃষ্টি হলো জঘন আর বাদবাকী সব মায়া ॥

    (৪)
    এত কিছু হলো তাও প্রজাপতি খুশি নয় 
    এখনও মানুষ একা একা বিষণ্ণ হয় ...
    ভাবিল সে — সঙ্গী চাই, সাথী চাই
    সে আলিঙ্গন হেতু বৃদ্ধি পেল — দেহ কে করিল দুই
    বিভক্ত মটর দানা এই জন্য-ই …
    সৃষ্টি হলো স্বামী স্ত্রী — শতরূপা প্রজাপতি
    একই বস্তু স্বরূপ ভিন্ন দুধ ও দধি
    যুগল রূপে সৃষ্ট আরো — মনুষ্যজাতি নর নারী ইত্যাবধি ।

    এত কিছু হলো তাও কি শতরূপা খুশি হয়?
    ভাবিল সে — নিজেকে লুকাই, লুকায়ে যাই বিশ্বময় …
    সে তখন হলো গাভী, প্রজাপতি হল ষাঁড়  
    দোঁহে মিলে যুগল রূপে গবাদি পশু একাকার ।
    সে তখন হলো গাধী, প্রজাপতি গর্দভ
    সে হলো ঘোটোকী, প্রজাপতি ঘোড়া  
    দোঁহে মিলে যুগল রূপে ক্ষুর-অলা জন্তু জগৎ জোড়া ।
    সে তখন হলো ছাগী, প্রজাপতি হল ছাগল 
    সে ভেড়ী, প্রজাপতি ভেড়া মেষ আস্তাবল ।
    এমন নর-নারী দ্বৈত যাহায় — মানুষ, পশু বা পিঁপড়া
    দোঁহে মিলে যুগল রূপে তৈয়ার করিল তাহারা ॥   

    (৫)
    কখনো সেখানে বাস করিত গার্গ্য গোত্রীয় বলাকার পুত্র
    — গর্বিত জ্ঞানী ।
    কাশীরাজ অজাতশত্রু নিকটে তার গর্হিত বাণী  
    — “আমি আপোনাকে শেখাবো ব্রহ্ম পাঠ” ।
    অজাতশত্রু প্রত্যুরিলো: “আমি … ক্ষত্রিয় সম্রাট …
    মানুষ আমার জয়োধ্বনি করে, আমি তাদের রাজনেতা
    তা-ও হতে পারি আপোনার ব্রহ্ম জ্ঞান গ্রহীতা  
    দিতে রাজি একশত গরু যদি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি
    যেমন দেন অতি জনপ্রিয় জনক — বিদেহ-নৃপতি” ।

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি আদিত্যমন্ডলে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে উচ্চ বংশজাত ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম সূর্য-সত্তা অতীৎ ভাস্বর জ্যোতিষ্মান
    সূর্যদেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই মুকুটধারী রাজা মহান” ।

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি চন্দ্রে অবস্থিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে উচ্চ গোত্রজাত ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম চন্দ্র-সত্তা অন্নস্থানীয় সোম অতীৎ শুক্ল ধারা 
    সোমদেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই তাঁর ঐশ্বরিক সুরা” ।

    গার্গ্য বলিলো:
    “আমি বিদ্যুতে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে উচ্চ কুলজাত ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম বিদ্যুৎ-সত্তা অতীৎ তেজস্বী, প্রথম আলো চকিতো  
    বিদ্যুৎ অবশ্যি তা জানেন আর তাই তাঁর প্রতিফলন আলোকিত” ।

    গার্গ্য বলিলো:
    “আমি প্রাণ ও হৃদয় বায়ুতে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে দ্বিজ ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম বায়ু-সত্তা অতীৎ সর্বাধীশ সার্বভৌম 
    বায়ুদেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই তিনি অপরাজেয় দুর্দৌমো” ।
    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি অগ্নি-তে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে তপস্বী ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম অগ্নি-সত্তা অতীৎ তেজোময়, জয়শীল জিষ্ণু  
    অগ্নিদেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই তিনি সহনশীল পরো-সহিংষ্ণু” । 

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি শুক্র ও জলে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে ব্রাহ্মণ নিত্যি পূজারী!
    ব্রহ্ম তরল-সত্তা অতীৎ ব্যাপ্ত, স্বচ্ছ অবিকল প্রতিরূপ   
    জলোদেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই তিনি জীবন অনুরূপ” ।

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি বুদ্ধি-দর্পণে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে ভক্ত ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম বুদ্ধি-মত্তা অতীৎ আদর্শ, সুন্দর, উজ্জ্বল স্বভাব    
    বুদ্ধি অবশ্যি তা জানে — সৌন্দর্য্য বর্ণনা-অভাব” ।   

    গার্গ্য বলিলো:
    “আমি অনুনাদে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে ধার্মিক ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম প্রতিধ্বনি অধিক শব্দ, পুনরাবৃত্তি, মন্ত্র-সম শীতল      
    ধ্বনি অবশ্যি তা জানে — মধুর বেশী স্বর্ণ না পিতল” ।

    গার্গ্য বলিলো:
    “আমি দিগ্ সমূহে অধিষ্ঠিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে ঋত্বিক ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম দিগ্-বিদিগ্ অধিক অবিচ্ছিন্ন, অসম্পৃক্ত, নিজেই প্রথম দ্বিতীয়        
    দিগ্-দেব অবশ্যি তা জানেন আর তাই তিনি অবিযুক্ত অদ্বিতীয়”  । 

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি ছায়া দেহে উপস্থিৎ পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে আচার্য ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম ছায়া অধিক দীর্ঘ, ঘনতর মরণ ঝোপ            
    ছায়া অবশ্যি তা জানে আর তাই অনাবশ্যক মৃত্যু অবলোপ” ।

    গার্গ্য উচ্চারিলো:
    “আমি প্রজাপতি-রূপ দেহে-অবস্থিত পুরুষ কে ব্রহ্ম উপাসনা করি”।
    অজাতশত্রু তৎক্ষণাৎ উত্তরি: 
    “বলেন কি হে যাজক ব্রাহ্মণ পূজারী!
    ব্রহ্ম দেহ অধিক সংযত, মনুষ্য, অবিনশ্বর কায়া            
    দেহ অবশ্যি তা জানে আর তাই তার সংযমী আত্মা, আত্ম-মায়া” ।

    আর কি-ই বা আছে বাকী? গার্গ্য এখন নতজানু রাজা প্রতি
    "এখানেই শেষ? এ পর্যন্ত-ই কি?" উচ্চারিলো অধিপতি    
    “ব্রহ্ম তো আরো অনেক — কিভাবে করিবে তাঁর প্রার্থনা?”
    — “আমি ব্রাহ্মণ তবু আজি হইতে করিব ক্ষত্রিয় গুরু উপাসনা”॥

    (৬)
    অতঃপর … অজাতশত্রু কহিল:   
    “চেতন ব্রহ্ম কোথায় ছিল?
    যে অচেতনের পরেই ফিরে এলো?
    চেতন যখন ঘুমায় 
    তারও ভিতর ইন্দ্রিয়রা ঘুমায়
    হৃদয় গর্ত খোপে
    জোয়ার ভাঁটার কোপে
    সোঁ সোঁ নাক ডাকোন ।   
    যখন ইন্দ্রিয় আয়ত্তে স্বয়ং
    তখনি হয় — ঘুম তন্দ্রা সুপ্তি শয়ন ।
    নিমজ্জিত প্রাণ বুঁদ একমন
    বাক্য, গোচর, চিন্তা, শ্রবণ, নয়ন 
    জীবন চুষে গেছে শরীর মরন” ।

    “স্বপ্নে থাকে না জ্ঞান হুঁশ 
    চেতন নিজের খেয়াল খুশ
    রাজা, রাজনেতা
    পূজারী, অভিনেতা
    প্রতিটা উচ্চ ও নিচ দিক 
    সেখানে নৃপতি-মনিব স্বেচ্ছায়
           শহর ঘোরেন চিক্ মিক্
    চেতন ব্রহ্ম আপোনায়
           ইন্দ্রিয়-অনুচর-বেষ্টিত ঋক্
    নিজের শরীরে ঘোরে-ফেরে দিগ্-বিদিক্ 
    বহুপাক্ষিক
    এক-আনা চুল
           নিজের ইচ্ছা অনুকূল” ।

    “কিন্তু যখন মানুষ গাঢ় ঘুমায়
    সময় অসময়
    তখন সে কিছুই জানে না, ফাঁকা, অলিখিত
    ঐ বাহাত্তর হাজার ধমনী গোষ্ঠী 'হি-ত-অ'
    হৃদয় হইতে খাঁচায় তাড়িত   
    চেতন হামাগুড়ি দেয় ওদের ওখানে।
    একটি বাচ্চা — রাজা বা মানুষ — এখানে
    পবিত্র …
    তার খল খল সমস্ত
    অতিক্রম করে নিদ্রা যায় ।
    তাই ব্রহ্ম চেতন শিশুর মতো ঘুমায়
    সময় অসময়” । 

    “যে মতো জড়িত —
    মাকড়সা ও সুতা
    অগ্নি ও তার কণা সমাদৃতা  
    জন্মদাত্রী        জন্মদাতা
    ঠিক তেমোনি অবস্থিত —
    আত্মা অনুভূতি এই-লোক ওই-লোক
    দেবতা প্রাণী শরীর দুঃখ শোক
    ক্রমাগত ...
    সবাই ওতপ্রোত ...
    ব্রহ্ম চেতন অনুগত ...
    সমগ্র
    সত্য আসল ঠিক
    রূপোর গুঁড়ো সাশ্রয় সোনার অধিক ॥

    (৭)
    যাজ্ঞবল্ক্যের পিতা ব্রহ্মরথ ও মাতা সুনন্দা
    নির্মল আত্মা দুইজন
    এই সুনন্দা আবার মহাভারত কথক
    বৈশম্পায়নের বোন ।  
    বৃহদারণ্যক উপনিষদে যাজ্ঞবল্ক্যের দু’ দুটি গিন্নী
    একজন দার্শনিক মৈত্রেয়ী, আরেকজন কাত্যায়নী —
    আটপৌরে গৃহিণী ।

    কোনো এক নিগূঢ় নরমো বিহান বেলা   
    যাজ্ঞবল্ক্য মনে আক্ষেপ অবসাদ মেলা 
    ডাকিল সুনন্দা পুত্র, অবনত স্বর
    মনমরা মস্তিষ্ক গহ্বর:
    “মিতুউউ ... 
    আমি গার্হস্থ্য ত্যাগীয়া সন্ন্যাসে হইব থিতু
    বোধ করি তাই এখনি প্রয়োজন
    সম্পত্তি ... পারিবারিক পুঁজি ... বন্টন ।   
    তুমি আর কাত্যায়নী — থাকিও পরমানন্দে স্বাধীন
    দর্শন বাঁচাবে তোমায়, ওকে ব্যস্ততা দৈনন্দিন । 
    না উন্নিশ না বিশ ... বিভাজন সমান সমান ...
    দুজনায় মুক্তি পাবে ... রিক্ত বন্ধন অবসান” ।
    মৈত্রেয়ী-র সাধাসিধা নিরীহ অকপট প্রশ্ন:
    "যদি বা আমি এই ভূ-গোলোকের মালকিন্ হই কখনো
    ধনো ধান্যো পৃথিবীর ধনো দৌলত আমার
    তাহলে-ও কি এ জীবন দোদুল্যমান হইবে অমর?”
    যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন: "নেতি নেতি …
              জীবন হইবে ভোগপরায়ণ বড়ো জোর 
              অমরত্ব আনিতে পারে না বিত্ত টাকাকড়ি ঘনো ঘোর" ।
    মৈত্রেয়ী-র সাধাসিধা নিরীহ অকপট প্রত্যুত্তর: 
    “প্রার্থনা তো তেমনি ছিল স্বামী ... অবিনশ্বোর
    না হইলে কি করিব অগাধ আড়ম্বর 
    অমরত্বের উপায় সাধন করুন — হোক অস্তিত্ব উর্বর” ।

    যাজ্ঞবল্ক্য বলে: “মিতুউ ...
    প্রিয় পাত্র তুমিই, হৃদয়ে বসন্ত ঋতু
    পাশে বসো আজ, তোমার নিকট
    ব্যাখ্যা করিব জটিল বিকট
    ব্রহ্ম অমরত্ব মার্গো ভ্রমণসুখ
    বুঝিয়া সুঝিয়া নির্ণয় করিও যাত্রা অভিমুখ” ।

    — “আজ এর মালিক ইনি
    কাল এর মালিক উনি
    জগতের এই তো সাধারন একই নিয়ম
    মুঠোর অধিক পয়সা মরীচিকা ভ্রম   
    বস্তু মাত্রই ক্ষয় ক্ষতিতে আঁটা
    ভাঙা গাছ, তরুক্ষীর, দুধেল কষ আঠা” ।

    — “ধোঁয়া, স্ফুলিঙ্গ, কণা প্রথমে আগুন আড়ম্বর 
    পরন্তু স্যাঁতস্যাঁতে কাষ্ঠে প্রজ্জ্বলিত হবার পর
    ধোঁয়া সংযোগচ্যুত  আগুনেরও ওপর ।
    তেমনি চারিবেদ, পুরাণ, ইতিহাস 
    আলাদা উৎপন্ন একেকটি ঘাস
    একই পরমাত্মা নিঃশ্বাস” ।

    — “যেমন চাষার জমিনে ঘিঞ্জি বীজ ও ষণ্ড
    ডুবছে জলে জোয়ার ভাঁটা, বিলীন লবণ খন্ড  
    তেমোনি নিরাকার সর্বব্যাপী ব্রহ্ম দ্রবণপ্রিয় সত্তা
    জ্ঞানের ভর, প্রজ্ঞা দৃঢ় — কঠিন তরল বায়ব বার্তা । 
    ধুলোর ভেতর জীবাণু ঠাসা, জীবাণু ভেতর ছটফট করে প্রাণ
    খাচ্ছো যা যা তাহাই উনি, ব্যাপক শক্তিমান ।
    যেখানে ছুঁয়েছো চেতনা উচ্চ রহস্য মিনার 
    দেওয়াল চুন সুড়কি — উদ্দাম স্তূপাকার
    প্রাসাদ প্রাচীরে ধ্যান করো সেই আচমকা মিলমিশ
    রাজমিসতারির কুশলী যন্ত্র, হাতের ছায়া, ঠোঁটের শিশ” ॥

    (৮)
    একদা বিদেহ সম্রাট জনকের 
    বহু-দক্ষিণা নামক অশ্বমেধ যজ্ঞ কালে 
    বৈদিক পণ্ডিতরা সব কুরু পাঞ্চালের 
           সমবেত পালে পালে । 
    জনক রাজা কৌতূহল পরায়ন প্রাণ
    “এদের মধ্যে সবচেয়ে কে বিদ্বান?”
    খোঁয়ারে বাঁধা ছিল তার সহস্র গরু দুগ্ধ-শুভ্র রাঙা
    এবং প্রতিটি গরুর স্বর্ণ শোভিত শিঙা ।

    বিদেহ সম্রাট বলে: “শ্রদ্ধেয় ব্রাহ্মণ গণ
    যিনি ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ তিনিই করুন গরুগুলো আপন”।
           সাহস করিলো না কোনো বিদ্বান । 
    কেবল যাজ্ঞবল্ক্য বলে: “হে প্রিয়দর্শন ব্রহ্মচারী সমোশ্রবা 
    এই গরুগুলি বাড়াবে আমাদের পর্ণ কুটীর শোভা” ।
    ব্রাহ্মণরা ক্ষুব্ধ হলেন ক্রমান্বয়ে
    রাজার প্রধান যজ্ঞ-হোতা অশ্বল কহয়ে —
    “যাজ্ঞবল্ক্য, আপনি কি সত্যিই জ্ঞানাধীশ?”
    যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিল: “হে তর্কবাগীশ 
    শ্রেষ্ঠ বেদজ্ঞকে আমার প্রণাম, আপনি পুণ্যার্থী
    ইদানীং আমরা কেবলি মাত্র গো-ধন প্রার্থী” ।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, যেদিকে তাকাই অজ্ঞানতা ঘোর 
    তবে যজ্ঞকর্তা যজমান কেমনে এড়াবেন মৃত্যু খপ্পোর ?”
    — “কথা, বাক্য, বাগিন্দ্রিয় যথা
    কথাই আগুন, প্ৰকৃত পুরোহিত, যজ্ঞের হোতা
    মন্ত্রের মত ছন্দময় দৈবতা ।
    এই আগুন হল মুক্তি
    এই মুক্তিই বন্ধন অতিমুক্তি”।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, যেদিকে তাকাই সময় বাড়ায় ভ্রম  
    তবে যজ্ঞকর্তা যজমান কেমনে করিবেন কাল অতিক্রম ?”
    — “চোখ, লক্ষ্য, দৃষ্টি প্রগাঢ়তা
    চোখ-ই সূর্য, অধ্বর্যু
    রোউদ্র রজ্জু
    যজুর মন্ত্র পাঠকারী সহকারী যজ্ঞ হোতা
    দেখার মত অপার গভীরতা ।
    এই চক্ষুই হল মুক্তি
    এই মুক্তিই বন্ধন অতিমুক্তি”।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, যেদিকে তাকাই ঋতুচক্রের ফের   
    তবে যজ্ঞকর্তা যজমান কেমনে সহিবে বৈচিত্র্য জগতের ?”
    — “প্রাণশক্তি, বায়ু, নিঃশ্বাস নির্ভরতা  
    প্রাণো শক্তিই বায়ু, উদ্গাতা, যজ্ঞের হোতা
    গানের মত সুরেলা অভিজ্ঞতা ।
    এই বায়ুই হল মুক্তি
    এই মুক্তিই বন্ধন অতিমুক্তি”।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, যেদিকে তাকাই অন্তরীক্ষ আলম্বন হীন    
    তবে যজ্ঞকর্তা যজমান কেমনে যাহিবেন স্বর্গলোক প্রাচীন ?”
    — “মন, ব্রহ্ম হৃদয়, সিঁড়ি উন্নতি সহায়তা 
    মনই ব্রহ্ম, চালকশক্তি, যজ্ঞের হোতা
    চান্দের মত মিষিটি আলোক ময়তা ।
    এই মনই হল মুক্তি
    এই মুক্তিই বন্ধন অতিমুক্তি”।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, এই যে কূলো পুরোহিত ব্রাহ্মণ ডানদিকে বসা    
    আজ কয়টি দেবতা মারফৎ করিবেন এ যজ্ঞ — শত্রু নিরাপদ, খাসা ?”
    — “মাত্র একখানি নিঃশব্দ ধ্যান অতি নিবিড় ঠাসা
    মন অনন্ত, বিশ্বদেবস্থানীয় অসীম আসমুদ্র ভাসা   
    এ নীরবতা এ মনোনিবেশ — এ-ই বিশ্ব-জয়ের ভাষা”।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, এ যজ্ঞে আজ কয়টি ঋক্ মন্ত্র গাহা হবে ?”
    যাজ্ঞবল্ক্য প্ৰত্তুরিল: “তিন প্রকার সঙ্গীত কলরবে …
    পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ 'শাস্ত্র' মানে যজ্ঞের পূর্বে ঋক্ মন্ত্র আবাহন ও …
    'যাজ্যো' বা যজ্ঞ কালে যজ্ঞ-মাফিক ঋক্ মন্ত্র ভূত তাড়ানো …
    আর সব শেষে 'শস্যা'  
    যেমন ঋক্ স্তোত্র স্তব স্তুতি প্রশংসা
    অনুনয় …
    এই সব যা যা বেঁচে আছে এ তাহারে করে অধিকার, জয়” ।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, বলির পশু তৈয়ারি করিলেন যে অধ্বর্যু
    যিনি প্রস্তুত করিলেন বেদী, পাঠ করিবেন মন্ত্র যজুর 
    এ যজ্ঞে দিবেন আজ কয়টি হোম-অগ্নি দান ?”
    যাজ্ঞবল্ক্য প্রত্তুরিল: “তিন প্রকার হইবে দ্রব্য আহুতি ত্রাণ ।   
    দীপ্যমান যজ্ঞ কাষ্ঠ ও ঘৃতো হুতি দ্বারা দেবলোক
    মাংসাদি-জাতীয় শব্দায়মান আহুতি উৎসর্গ পরলোক
    নিম্নগামী সোম ও দুগ্ধ আহুতি শীতল নরলোক ।
    এ নৈবেদ্য স্বীকার হোক” ।

    অশ্বল কইল: “যাজ্ঞবল্ক্য, সামের মন্ত্র গায়েন যে উদগাতা হিয়া 
    এ যজ্ঞে রাখিবেন আজ কয়টি স্তবো গান বাছিয়া ?”
    যাজ্ঞবল্ক্য প্রত্তুরিল: “ইহারও প্রকার হইবে তিন …
    পুনরাবৃত্তি, যজ্ঞ-মাফিক আর সব শেষে সাধুবাদ ধরে নিন” ।  
    অশ্বল আবারো বলে: “যাজ্ঞবল্ক্য,
    কোন কোন স্তোত্র গুলি ছোঁয় শরীর পালঙ্ক ?”
    — “প্রাণ-ই পুনরাবৃত্তি
    যজ্ঞের গাঁথে ভিত্তি
    এ পৃথিবী তাহার হোক …
    যজ্ঞ-মাফিক যাজ্যো
    অপান সমো বাহ্য
    উর্দ্ধে উঠুক … অন্তরীক্ষ লোক …
    ব্যান-ই শস্যা
    দেহজীবন ধারক পঞ্চবায়ু প্রশংসা
    ভেসে যাক আকাশ দ্যুলোক” ।

    ক্ষান্ত হলো অশ্বল পাছে যজ্ঞ হয় মাটি  
    গাভীগুলি গুটিগুটি যাজ্ঞবল্ক্য বাটী ।।

    (৯)
    তারপর গার্গ্য গোত্রীয় ঋষি বচ্কনু-র কন্যা
    গার্গী ব্রহ্মবাদিনী করিল উত্তর প্রার্থনা ...  
    “যাজ্ঞবল্ক্য, যদি এই সমস্ত কিছুর
    সর্পিল গতি হয় জলের ওপর 
    তবে জল সুস্থির হয় কিসেরো তরে ?”
    — “বায়ু ... যে কুণ্ডলী তৈরী করে” 
    “আর বাতাস ?”
    — “নীল শুভ্র ধূসর মহাকাশ”
    “আর আকাশ ?”
    — “গন্ধর্ব ...
    ইচ্ছা অবয়ব ও 
    যারা মর্ত্যে আনিলো সোম
    যে কোনো যজ্ঞের প্রয়োজনীয় হোম
    সেই একদা গান্ধার দেশের মহান
    গায়ক ও নর্তক দের হোথায় অধিষ্ঠান” ...
    “আর তাদের জীবন ?”
    — “উদীয়মান সূর্য জ্যোতি কিরণ”।
    “আর গ্রহপতি আদিত্য অর্থ্যাৎ ভানু ?”
    — “চন্দ্র বা সোম, হে গার্গ্য কন্যা বচ্কনু”।
    “আর জ্যোৎস্না চন্দ্রালোক ?”
    — “তারার ঝাঁক চোখের পলক”।
    “আর নক্ষত্র মন্ডল আনধার ত্যাগী”?
    — “দেবতা লোক, হে গার্গী”।
    “তাহলে দেবতার চরাচর ?”
    — “ইন্দ্র আবহ নভোশ্চর”।
    “আর ইন্দ্র জগৎ মেঘ বারি ?”
    — “এই ভৌত বিশ্ব বলিহারী”।
    “আর এই ভৌত সৃষ্টি, ইহলোক, ধরণী ?”
    — “হিরণ্যগর্ভ দ্বারা, হে ব্রহ্ম জ্ঞানী”
    “আর হিরণ্যগর্ভ ?”
    — “না না ... প্রশ্ন অনুচিৎ ... প্রগল্ভ ...
    হিরণ্যগর্ভ স্বর্ণ-ডিম্ব আদি-পুরুষ প্রাণোগতি
    ব্রহ্মান্ড বৃহৎ গোলোক প্রকৃতি স্বয়ম্ভূ প্রজাপতি ।
    অনুসন্ধিৎসা ভালো, আরো ভালো সংযম 
    হিরণ্যগর্ভ অধিক নাই কোনো জ্ঞান পারঙ্গম” ।

    ক্ষান্ত হলো গার্গী পাছে যজ্ঞ হয় মাটি
    গাভীগুলি গুটিগুটি যাজ্ঞবল্ক্য বাটী ।।
    ~~~  
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • কাব্য | ২১ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৪৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি প্রতিক্রিয়া দিন