এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দত্ত জুয়েলার্স - ১৫ 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ অক্টোবর ২০২২ | ১৬৩ বার পঠিত
  •           ( শেষ পর্ব )

    সেদিন দত্ত ভিলা থেকে ফেরবার রাস্তায় লেক থানায় এসে বাইক ভেড়াল কলতান ।
    পার্থসারথিবাবু বললেন, ' আরে .... আসুন আসুন ... আমি আপনার কথাই ভাবছিলাম ...'
    ----- ' আরে ... আর বলেন কেন ,  হ্যাপা কি কম ...  যাক সেসব পরে হবে'খন ... এই মোবাইল দুটো রাখুন .... '
    ----- ' কার মোবাইল এগুলো ? '
    ----- ' সতীনাথ এবং তার ওয়াইফ প্রিয়দর্শিনীর 
    মোবাইল এ দুটো । এগুলোর কল রেকর্ড চেক করতে হবে কোন সাইবার এক্সপার্ট দিয়ে । এদের দুজনের সুনীল ধাড়ার সঙ্গে কল রেকর্ড 
    চাই ইন ডিটেল ।  ইটস ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট । '
    ----- ' ওকে ওকে .... হয়ে যাবে , রেখে যান । মন্টুদার কাছে পাঠাচ্ছি ।  এলগিন রোডের  অফিসে .... মন্টুদা  মানে, অনিমেষ সান্যাল ... দারুন কম্পিটেন্ট লোক ... '
    ----- ' সে আপনি যা ভাল বোঝেন .... আর সুনীল ধাড়ার ব্যাপারটা একটু দেখে নেবেন ... খুব জরুরী ইসু ... ' 
    ---- ' ওটা আমার মাথায় আছে ... একটু পরেই বেরোব ... চিন্তা করবেন না ... ' পার্থবাবু আশ্বস্ত করেন ।
    ----- ' ঠিক আছে ... আমি তালে ওই ... দুটো নাগাদ আসব কালকে .... '
    কলতান বেরিয়ে যায় থানা থেকে । 

    কলতান লেক থানায় হাজির হয়ে গেল পরদিন দুপুর সোয়া একটার মধ্যে । ওসি পার্থ চক্রবর্তী একটা ফাইল গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন । চোখ তুলে দেখলেন  কলতান দাঁড়িয়ে আছে । 
    ----- ' আরে ... আসুন মিস্টার গুপ্ত , কাস্টডিতে নিয়েছি .... ' 
    ----- ' কাকে ? '
    ----- ' ওই যাকে বলেছিলেন .... সুনীল ধাড়া ... সাসপেক্ট ফ্রেম করে ইন্টারোগেটরি রিম্যান্ডে নিলাম । ব্লাডও নিয়ে গেছে ফরেন্সিক   ডিপার্টমেন্ট থেকে কাল বিকেলে । রিপোর্ট আসার সময় হয়ে গেছে । একটু ওয়েট করুন ।  মন্টুদা আসবে । ওই মোবাইল দুটো আর সুনীল ধাড়ারটাও ওনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি ।  মন্টুদা সাইবার এক্সপার্ট ।  একদম পারফেক্টলি বার করে ফেলবে । এছাড়া গৌতম বোস আসবে ডি এন এ রিপোর্ট নিয়ে  ... '   
    ----- ' সুনীল কিছু আপত্তি করেনি ? '
    ----- ' হ্যা... প্রথম দিকটা একটু গাঁইগুঁই করছিল , লক আপে ভরে দেবার ভয় দেখাতে আর বেগড়বাঁই করেনি .... আপনার কি খবর বলুন ... '
    ----- ' সতীনাথবাবুকে সস্ত্রীক আসতে বলেছি এখানে ... দুটো নাগাদ ... তারপর একসঙ্গে বসা যাবে । ' 
    ------ ' ও আচ্ছা .... বুঝতে পেরেছি ... '

        সতীনাথ এবং প্রিয়দর্শিনী চলে এলেন দুটো বাজার মিনিট দশেক আগেই । তার মিনিট পনের পরে পরপর এসে ঢুকলেন অনিমেষ সান্যাল এবং গৌতম বসু । সকলেই ওসি পার্থসারথি চক্রবর্তীবাবুর ঘরেই বসলেন । 
    সুনীল ধাড়াকে নিয়ে আসা হল এ ঘরে ।  পার্থবাবু মন্টু সান্যাল এবং গৌতম বোস-এর  সঙ্গে কলতানের পরিচয় করিয়ে দিল । 

       কলতান গৌতম বোস-এর দিকে তাকিয়ে বলল, ' হ্যা... মিস্টার বোস আপনি বলুন ... '
    গৌতমবাবু তার অ্যটাচি থেকে রিপোর্টগুলো বার করে একবার করে চোখ বুলিয়ে নিয়ে  বললেন, ' আমি পাঁচবার ক্রসচেক করে দেখেছি ... '
    ----- ' হ্যা ... বলুন কি দেখলেন ? ' কলতান ব্যস্ত হয়ে ওঠে । ঘরে বাকিরা চুপচাপ বসে আছে অধীর কৌতূহল চেপে রেখে । 
    গৌতমবাবু বললেন, ' কালেক্টেড ব্লাড স্যাম্পলের  সঙ্গে ভাঙা কাঁচের ব্লাড স্পেসিমেন এবং সিমেন স্পেসিমেনের ডি এন এ কনস্টিটিউশান পারফেক্টলি সিনক্রোনাইজ করে গেছে । মানে, তিনটে স্যাম্পল একই লোকের ... '
    কলতান বলে উঠল, ' মানে .... সবই সুনীল ধাড়ার ... তাই বলছেন তো ? '
    ----- ' এগজ্যাক্টলি সো ... ' গৌতমবাবু বললেন ।
    ----- ' থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ মিস্টার বোস ... '
    ---- ' ওয়েলকাম ... '
    ঘরের আর সবাই কথা বলতে ভুলে গেছে । সতীনাথবাবুর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল -----
    ' সে কি ! সু.. নীল .... এসব ... কি বলছেন ? '
    সুনীলকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সে মোটেই পাকাপোক্ত খেলোয়াড় নয় । ঘাড় নীচু করে বসে আছে ধরণী দ্বিধা হও ভঙ্গীতে । চোখে কেমন জ্বরবিকারগ্রস্ত আচ্ছন্নতা । 
    প্রিয়দর্শিনী হঠাৎ ভীষণ উত্তেজিত ভাবে দাঁড়িয়ে উঠল । ঝাঁঝালো গলায় বলল, ' জানতাম ... জানতাম ... সব এই লোকটার জন্যে ... '
    সতীনাথবাবুর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন । 
    সতীনাথবাবুও দাঁড়িয়ে উঠে তীব্র ভঙ্গীতে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন । কলতান তাকে বাধা দিয়ে বলল, ' আহা বসুন বসুন ... কি করছেন কি আপনারা ... এখনই সিনের কার্টেন ড্রপ করতে যাচ্ছেন কেন ? নাটক তো এখনও শুরুই হয়নি ... '  
    সতীনাথবাবু বসে পড়লেন । 
    প্রিয়দর্শিনীর দিকে তাকিয়ে  কলতান বলতে লাগল, ' ক্ষোভ, উষ্মা , বিতৃষ্ণা এসব মানুষের মনে থাকতেই পারে ... তাই বলে ঠান্ডা মাথায় একটা মার্ডারের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করে ফেললেন ! রাত দেড়টার সময় দরজায় টোকা মেরে  মহুয়াদেবীকে ঘুম থেকে তুলে তার ঘরে ঢুকতে সুনীল ছাড়া কেউ পারত না কারণ সে ছিল  নানা ব্যাপারে মহুয়া মিত্রের সাহায্যকারি ... নির্দোষ সাহায্যকারি অবশ্যই .... ইজি অ্যকসেস ছিল সুনীলের ... '
    প্রিয়দর্শিনী ঝটকা মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল চেয়ার থেকে । 
    ----- ' আপনি জানেন ... কি বলছেন আপনি ... আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি ? '
    ----- ' না এখনও পর্যন্ত  ঠিক আছে । তবে কতদিন থাকবে জানিনা .... '
    ----- ' মানে ? '
    ----- ' আপনি টাকার লোভ দেখিয়ে একটা নীরিহ লোককে একটা বিশ্রী ধরণের কুকর্মে জড়িয়ে দিলেন ... এ ব্যাপারে আপনাদের স্বামী স্ত্রীতে কোনও তফাৎ নেই । সতীনাথবাবুও  
     তার দোকানের গরীব কর্মচারীকে ফাঁসাবার চেষ্টা করেছিলেন ... '
    ----- ' এসব কি বলছেন আপনি বুঝতে পারছেন ? নাকি কমপ্লিটলি ইনসেন হয়ে গেছেন । প্রমাণ করতে পারবেন এসব কথা ? ' প্রিয়দর্শিনীর কথায় একইরকম ঝাঁঝ । 
    ----- ' আশা করি পারব ... নিশ্চিতভাবেই পারব ম্যাডাম ... আসলে আমাকে কিছু করতে হবে না । মোবাইলের কল রেকর্ড প্রমাণ করবে ... তাছাড়া সুনীল তো আছেই, সেও প্রমাণ করবে... ' কলতান তার স্বাভাবিক শান্ত কন্ঠে বলে .....
    'ব্যাপারটা আমি একটু বলি, বাকিটুকু নয় আপনি আর সুনীল ভাগাভাগি করে বলবেন ...'
    কলতান বলতে থাকে -----
       ----- ' আমার ধারণা , প্রিয়দর্শিনীদেবী মহুয়া মিত্রের ওপর দীর্ঘদিনের পুষে রাখা রাগ মেটাবার জন্য অস্ত্র হিসেবে সুনীল ধাড়াকে ব্যবহার করলেন । মহুয়া মিত্রের ওপর তার রাগ থাকাটা অস্বাভাবিক নয় অবশ্য । কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিরাট অপরাধ করে ফেললেন । তার আরও বড় অন্যায় হল টাকার লোভ দেখিয়ে সুনীলের মতো একজন গরীব মানুষকে একটা ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে দেওয়া । এখন তার কি হবে ? কে বাঁচাবে তাকে ? মিসেস দত্তর প্রতিশোধস্পৃহা এত তীব্র ছিল যে তিনি আরও বেশি টাকার টোপ দিয়ে সুনীলকে দিয়ে খুনের আগে রেপও করালেন । 
    গলায় ফাঁস লাগিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তারপর বাথরুমের জানালা দিয়ে হাচোড়পাচোড় করে কোনরকমে নিজের শরীর গলিয়ে নীচে নেমে যায় । তার পা খুব সম্ভবত খালি ছিল । জুতোর ঝামেলা রাখেনি পালাবার সুবিধের জন্য । কাজ সেরে জানলা দিয়ে শরীর গলিয়ে নীচে ঝাঁপ মারল খুব সাবধানে । জানা ছিল না বা খেয়াল ছিল না যে ওখানে নিয়মিত 
    মদের বোতল ফেলা হতো । ভাঙা কাঁচে পা পড়ল বেকায়দায় । একেবারে রক্তারক্তি কান্ড । কোনরকমে ডাক্তার টাক্তার দেখিয়ে সেটা ম্যানেজ দিলেও এখনও তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে । সেটা প্রথমদিনই আমার চোখে পড়ে । 
    রক্তমাখা কাঁচের টুকরো খুঁজে পেয়েছিলাম ওই পিছনের অংশ থেকে । তবে একটা ব্যাপার আমার কাছে ক্লিয়ার নয় .... দেয়ালঘড়ির ব্যাটারিটা খুলে নিয়ে সময়টা নটা সাঁইত্রিশ করে রাখা হল কেন । সেটা বোধহয় সতীনাথবাবুর মহুয়ার ফ্ল্যাট থেকে  নির্গমনের নটা চল্লিশ টাইমটা বিশ্বাসযোগ্য করে রাখার জন্য । সেটাও কি মিসেস দত্তর নির্দেশে ... সুনীল ? '
    সুনীল ধাড়া কোন উত্তর না দিয়ে কোলের ওপর  দুহাত জড়ো করে চুপ করে বসে রইল কোন উত্তর না দিয়ে । 
    ঘরের সবাই চুপচাপ বসে আছে । পার্থসারথি চক্রবর্তী সকলের জন্য ঠান্ডা পানীয় আনালেন।
    সুনীল আর প্রিয়দর্শিনী বাদে সকলে গলা ভেজাতে লাগল ।  
    ঠান্ডা পানীয়ের বোতল হাতে নিয়ে কলতান বলতে লাগল ---- ' আর একটা জট আছে .... সেটা হল বোতাম রহস্য । এ ব্যাপারে আমি একটা সিদ্ধান্তে এসেছি । সেটা বলছি .... সুনীলকে বিশ্বাস করে মহুয়াদেবী দরজা খুলেছিলেন । সুনীল ঢুকে দরজা বন্ধ করে যখন তার ওপর ফোর্স অ্যপ্লাই করতে শুরু করে ম্যাডাম মিত্র তখন তার জামার বুকের কাছে খামচে ধরে । টানাটানিতে জামার মাঝখানের দুটো বোতামের সেলাই আলগা হয়ে যায় । বাথরুমের জানালা গ'লে বেরোবার সময় একটা বোতাম খসে পড়ে যায় জানলার ঠিক নীচে , আর .... আর একটা পড়েছিল বিছানার ওপর , সিলিং ফ্যানের নীচে .... মহুয়া মিত্রের শরীর ঝোলাবার সময় । ফাঁসটা নিশ্চয়ই আগেই পরিয়ে নিয়েছিল , মানে ... সোফার ওপর মহুয়ার শরীর ফেলে ক্রিয়াকর্ম সম্পূর্ণ করার ঠিক পরেই .... কি  ঠিক বলছি তো সুনীল ? '
    সুনীল কোন উত্তর দিল না । উদাস চোখে সামনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল । প্রিয়দর্শিনী রুমাল দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে লাগলেন  ঘনঘন ।
    ' ....  হ্যা তারপর যেটা বলছিলাম .... এই হারিয়ে যাওয়া বোতাম দুটো নিয়ে ফাঁপরে পড়ে সুনীল । তার একটাই ইউনিফর্ম , জামায় অন্য রঙের বোতাম লাগালে কারো না কারো চোখে পড়তে পারে । অপরাধী মন সদা সতর্ক থাকে । 
    তাই সে তার বোতাম সংকটের কথা ফোন করে 
    প্রিয়দর্শিনী ম্যাডামকে জানায় । ম্যাডাম তাকে দুটো বোতাম এবং মানানসই রঙের সূতো পাঠান তার কোন বিশ্বস্ত লোককে দিয়ে ... হতে পারে বীরবাহাদুরকে দিয়ে । সেটা বীরবাহাদুরের জামার এক্সট্রা বোতাম । এই দেখুন সেই বোতামের ছবি ... '
    কলতান তার মোবাইল খুলে বীরবাহাদুরের জামার বোতামের ছবিটা দেখায় । 'দেখুন সুনীলের জামার মাঝখানের বোতাম দুটোর রঙের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে কিনা । মিসেস দত্ত আমাকে একবার বলেছিলেন, বাহাদুর তার জন্য জীবন দিতেও পারে, নিতেও পারে .... এ ব্যাপারে বাহাদুরের সংযোগ অবশ্য  প্রমাণসাপেক্ষ । সেটা ওকে ইন্টারোগেট করলেই বেরিয়ে আসবে। পুলিশ বিভাগকে অনুরোধ করব এ দায়িত্বটা নিতে ....হ্যা, যেটা বলছিলাম ... মিসেস দত্ত আর সুনীল ধাড়ার মধ্যে ফোন কলের রেকর্ড  ... '
    কলতান সাইবার এক্সপার্ট অনিমেষ সান্যালের দিকে তাকিয়ে বলল, ' সরি স্যার ... আপনাকে 
    অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছি । আপনি এবার   কাইন্ডলি  আপনার ফাইন্ডিঙ ডিসক্লোজ করুন ... '
    মন্টুবাবু বেশি কথা টথা বলতে পারেন না ।মানে তেমন বাক্যবাগীশ নন । তিনি ভেঙে চুরে বললেন, ' একদম কারেক্ট বলেছেন । গত  পনের দিনে পঁচিশটা কল হয়েছে । বোতামের কথাও আছে , আপনি যেমন বললেন আর  কি ....  প্রিয়দর্শিনী দত্ত এবং সুনীল ধাড়ার মধ্যে কথা হয়েছে । পরিষ্কার রেকর্ড আছে । শোনাতে পারি ... ' ।  সারাৎসার সংক্ষেপে বলে চুপ করে রইলেন । বেশি কথা বলা তার ধাতে নেই । 
    কলতান বলল, ' ঠিক আছে স্যার .... আপনি আইটেমগুলো পুলিশকে হ্যান্ডওভার করে দিন ।আমার শোনার দরকার নেই । এভিডেন্সটা কোর্টে প্রোডিউস করলেই হবে । মিস্টার চক্রবর্তী ... আমার কাজ শেষ । যেটা আমি করতে পারিনি আপনাকে সেটা করতে অনুরোধ করব ... ' 
    ----- ' কি বলুন তো .... ' পার্থসারথি বলেন । 
    ---- ' বিশেষ কিছু না .... ওই বীরবাহাদুরকে প্রপারলি ইন্টারোগেট করতে পারলে কেসটা অনেক ইজি হয়ে যাবে ... '
    ---- ' ... ঠিক আছে থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ ফ্রেন্ডস .... আমার কথাটি ফুরোল, নটে গাছটি মুড়োল ... '
    কলতান নটে গাছটি মুড়িয়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গে সতীনাথ দত্ত হুড়মুড় করে চেয়ার থেকে উঠে স্থান কাল পরিস্থিতি ভুলে গিয়ে 'শালা শুয়োরের বাচ্চা ... ' বলে  তেড়ে গেলেন সুনীল ধাড়ার দিকে । সুনীল এক  ধাক্কায়  সতীনাথকে সরিয়ে দিল । ধাক্কা খেয়ে সতীনাথ কলতানের উপর গিয়ে পড়ল । কলতান তাকে ধরে ফেলে বলল, ' কি করছেন কি দাদা ... থানার মধ্যে মারপিট করছেন । কাস্টডিতে নিয়ে নিলে বেল পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে ... বসুন বসুন ... '
    সুনীল এতক্ষণের স্নায়বিক আচ্ছন্নতা ভেঙে বিস্ফোরণ ঘটাল ----- '  নিজের বৌকে  সামলাতে পারে না ... আমার ওপর মাস্তানি করতে আসছে ... ' বলে একটা অশ্রাব্য গালাগালি দিল । 
    প্রিয়দর্শিনী দত্ত বিষাক্ত কন্ঠে কলতানকে বললেন, ' আমাকে আপনি চেনেন না ... কোর্টে দেখা হবে ... '
    থানার ওসি বললেন, ' অ..ই  বসুন বসুন .... বেশি বকবক করবেন না .... '
    আর কলতান বলল, ' বেস্ট অফ লাক ... গো অ্যহেড .... '
     ( সমাপ্ত )

    ******************************************
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন