এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ছোট গল্পঃ আড়াআড়ি

    Subhadeep Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ অক্টোবর ২০২২ | ৩০৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • মানিব্যাগ প্যান্টের ব্যাক পকেটে রেখে বাঁ হাতে ফিট ব্যান্ডটা চড়িয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে অনিমেষ দেখে মূলত অতনুর তাড়নাতে সাবসক্রাইব করা নতুন নিউজ সাইটটা থেকে দুটো ফিড এসেছে। ওই হুয়ের টেড্রোস গেব্রেইসাস, চায়নায় সংক্রমণের  অবস্থা এই সব। কয়েকদিন আগে এই নিয়ে প্রচুর বাগবিতণ্ডা হয়ে গেছে অতনুর সাথে। মাও-এর চীন, গ্যাং অফ ফোর, দেং-এর রিফর্মড চীন, ঠাণ্ডা যুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীর অবস্থা থেকে শুরু করে আজকের ট্রেড-ওয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি। হয়ত আনঅ্যাভয়েডেবেল তবুও মাথা ধরে গিয়েছিলো অনিমেষের। ফিডগুলো সরিয়ে মোবাইলটা সোজা পকেটে চালান করে দিয়ে অনিমেষ অফিসের ব্যাগটা পিঠে তুলে নেয়। রূপা খাবারের ব্যাগ ঢুকিয়ে দিয়েছে। জুতোয় পা গলায় , সোফায় রাখা জামাকাপড় গুলো তুলে নিয়ে অনিমেষের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মুচকি হেসে রূপা বলে, “তিনটে জামা, দুটো টি শার্ট, দুটো প্যান্ট।”। অনিমেষ অগত্যা গেটের দিকে এগিয়ে যায়, “ওঃ ভালোকথা, লালতু বলে তুমি কাউকে চেনো? কালকে ল্যান্ডলাইনে ফোন করেছিল, তুমি তখনও ফেরনি শুনে লাইনটা কেটে দিল। অত রাতে ফেরায় কাল আর তোমাকে কথাটা বলা হয়নি” – রূপা বলে। অনিমেষ একটা সিগারেট বের করতে করতে ভুরু কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করে। না মনে পরছে না। রূপার দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়ে, বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। লণ্ড্রীতে জিনিস গুলো দিয়ে সিগারেটে একটা জোরে টান দেয়, তারপর এগোতে থাকে মোড়ের দিকে। ফেব্রুয়ারি মাসের এই সময় শীতের আমেজটা আর তেমন নেই। সকাল বেলার রোদটাও তেমন আরামদায়ক বলা যাবে না। অথচ এখনও বেশির ভাগেরই রাস্তায় দেখা যাচ্ছে হাল্কা হলেও গায়ে গরম জামা আছে। চোখ থেকে চশমাটা খুলে বুক পকেটে রেখে, পিঠের ব্যাগ থেকে রোদ-চশমাটা বের করে চোখে দেয় অনিমেষ । সিগারেটটায় শেষ টানটা মেরে রাস্তার পাশে ফেলে দেখে পাশের গলিতে কর্পোরেশনের লোক মশা মারার স্প্রে দিচ্ছে নর্দমার খোলা জায়গাগুলোতে। অনিমেষ গলিতে ঢুকে লোকটিকে ডেকে বলে “দাদা শক্তিসোম বিল্ডার্সের উল্টো দিকের গলিতে আপনারা দেবেন তো?”। “সব জায়গায় দেওয়া হবে দাদা”, না তাকিয়ে উত্তর দেয় লোকটি। অনিমেষ বোঝে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। এখন প্রায় সারা বছরই এদেরকে স্প্রে করতে দেখা যায়। গত তিন চার বছরে অবশ্য তেমন কোনো কেস পাওয়া যায়নি এই অঞ্চলে। অনিমেষের জানা কেস একটাই, ওদের বাড়ির উল্টো দিকে দু তিনটে আগের বাড়ির ছেলেটির দু বছর আগে হয়েছিল। আর্লি ডিটেকশন, তেমন ভুগতেও হয়নি। পর পর দশ দিন হাতের ভাজ থেকে রক্ত টেনে প্লেটলেট পরীক্ষা। অনিমেষই ঠিক করে দিয়েছিল একটি ছেলেকে, ওদের বাড়িতে অনেক দিনের যাতায়াত পরলোকগত ঠাকুমার সুবাদে, শেষের অন্তত তিনটে বছর-তো হবেই। সকালবেলা অফিস যাওয়ার সময় ছেলেটির সঙ্গে দেখা হত মাঝে মাঝে, “ভালো আছে দাদা। যত পারো জল খাওয়া, বারবার হিসি করা, আর প্রচুর প্রোটিন খাওয়া, এই তো।”। সারাক্ষণ মুখে পান, “সারাদিন রক্ত টানতে টানতে নিজেকেই মাঝে মাঝে মশা বলে মনে হয় দাদা!”। জিভ দিয়ে টকটকে লাল ঠোঁট চেটে নিয়ে অদ্ভুত হেঁসে বলেছিল ছেলেটি। অনিমেষ মোড়ের সিগন্যালটায় এসে দাড়ায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পরপর তিন চারটে ম্যাসিভ এক্সিডেন্ট হওয়ার পর এই কিছুদিন আগে এখানে সিগন্যালটা বসেছে। রাত্রে ফেরার পথে প্রায় দু কিলোমিটার জ্যাম, টানা আধাঘণ্টা হেঁটে পাড়ার মোড়ে এসে অনি দেখে পুলিশে-মানুষে গোল করে ঘিরে রেখেছে জায়গাটা, ধড় মুণ্ডুর কিস্‌সা দেখার কোন উপায়ই নেই, শুধু মনে আছে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বাসটা তখনও ধিকিধিকি জ্বলছে।
     
    অনি একবার আড়চোখে সিগন্যালটা দেখে তারপর রাস্তা পার হয়। এই সময় অটো পাওয়াটা একটা দিগদারির ব্যাপার, মিউজিকাল চেয়ার খেলার মত অনেকটা। গাঙ্গুলিবাগানের মোড় থেকে সোজা দক্ষিণের দিকে তাকালে প্রায় এক কিলোমিটার দেখা যায় মানে পুলিস কোয়াটারের বাঁকটা পর্যন্ত। হয় হাওড়া গামী বৈষ্ণবঘাটার মিনি নয় বিবাদিবাগ গামী গড়িয়ার মিনি ওই পুলিশ কোয়াটারের মুখে দাঁড়িয়ে আছে অনি দেখতে পায়। যে কোন একটায় উঠলেই চলে, যাদবপুর থানা থেকে আবার চেঞ্জ জার্নি। অনি পাশের দোকানে এই ফাকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে যায়। “ছিলিমটা বান্টুদা?” একটা বাচ্চা ছেলে, মুখে বিড়ি। দোকানদারটা অনিকে পয়সা ফেরত দেয়, ছেলেটিকে কোনো উত্তর দেয় না। অনি ফিরে দেখে একটা দুশো আঠেরো বাস এগিয়ে আসছে। সচরাচর এই সময় এই বাসটা তেমন চোখে পড়ে না । আজ থেকে প্রায় তেরো বছর আগে এই দুশো আঠেরো,  ফর্টি ফাইভ, ফর্টি ফাইভ এ, এই বাস গুলোতে সামনের ওই সিট গুলোতেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বসত অনি, নিয়মিত যাত্রী ছিল। তখন সিটগুলো এরকম আড়াআড়ি ছিল না, ছিল পাশাপাশি। গন্তব্য শিয়ালদা, বঙ্গবাসী কলেজ। স্মৃতির রং সিপিয়াই হোক বা সাদাকালো, কিছু কিছু স্মৃতির সুখ অ-সুখ হয় না বোধ হয়, কেবল কতগুলো টুকরোটুকরো ঘটনা, সার্টার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বের করে আনা পুরানো এস এল আর ক্যামেরার নেগেটিভ রিল যেন, ডেভেলপড ছবি গুলো, তার স্বাদ-গন্ধ, শরীর-মন ধরে রেখেছে। প্রাচী সিনেমার স্টপেজ, শিয়ালদা ব্রিজের গা দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা, চোরা মার্কেট, বৈঠকখানা বাজার, অনি প্রথম যেদিন ওখানে পা রাখে সেদিন সত্যিই মনে হয়েছিল শহরটার একটা পৃথক চরিত্র আছে। বৈঠকখানা বাজারে দেখতে পাওয়া প্রায় সব রকম মাছের মাথা, শুকনো মাছের গন্ধ, সেই ঢাকতে জ্বলা ধূপের গন্ধ, মাছমাখা ও কর্দমাক্ত যে জল প্রতিদিন অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও প্যান্টের নীচে লেগে যেত তার বয়স ওদের পিতৃপুরুষ ধরে হিসেব করলে তিনশো বছরের উপর হতে বাধ্য। সার্পেন্টাইন লেন, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত একটা শহর ব্যবস্থা, চরম ডিসকম্ফোর্ট, সরু সরু গলির নির্জনতা, পাড়ার রক ও তাতে আদিরসের উদ্গীরণ, থাকার একেবারেই অনুপযুক্ত বিবেচনা করলেও জায়গাগুলোর প্রতি একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করত অনির মধ্যে। ছাত্র পরিষদ ও এস এফ আইয়ের মধ্যে লেগে থাকা ক্রমাগত রক্তপাত ছিল ওই অঞ্চলের কলজে গুলির অন্যতম আকর্ষণ। আরেকটু এগোলেই সুরেন্দ্রনাথ, অধুনা রিপন কলেজ। ওই রিপন কলেজ থেকেই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বঙ্গবাসী কলেজে অনিদের সঙ্গে অঙ্ক বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে এসে ভর্তি হয় রূপা। প্রেম হয়নি কলেজে পড়ার সময়, শুধু মনে আছে, একটি ছেলে আসত, পিছু নিত এবং রূপা নানা ভাবে অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করত ছেলেটিকে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একটা কনফ্রন্টেশনে ছেলেটি খারাপ ভাবে আহত হয়, তারপর থেকে আর ওর কোনো খবর পাওয়া যায় না, রূপার থেকে পরে জানতে পারে অনি।
     
    গাঙ্গুলিবাগান থেকে যাদবপুর যে রাস্তা যেতে আগে লাগতো মাত্র পাঁচ মিনিট, এখন ক্রমান্বয়ে বসানো সিগন্যালের কারণে সময় লাগে অনেক বেশি। এই কুসুমকাননের মোড়েও নাকি দু-একমাস আগে, রূপার এক বান্ধবী কিটি, বাড়ি পরের স্টপেজে মিলিটারি রোডে, রূপাকে জানায়। একটু পিছিয়ে এসে অরুণাচলের মাঠের কাছ থেকে একটা সরকারি বাস ধরে কিটি, কুসুমকাননের ঠিক আগের বাঁকে বাঁ-দিক দিয়ে ওভার-টেক করার সময় বাইকটা বাসের নীচে চলে যায়। কিটি কাঁপা কাঁপা গলায় রূপাকে জানিয়েছিল খালি পায়ের নীচে হঠাৎ নেংটি ইঁদুর পড়লে বা একটা টিকটিকি পায়ের নীচে থেঁতলে গেলে শরীরে যেরকম একটা ঘিনঘিনে অনুভূতি হয় বাস সুদ্দু লোকের নাকি সেদিন সেইরকম একটা অনুভূতি হয়েছিল। কিটি ড্রাইভারটিকে দেখতে পায় সিটের লাগোয়া দরজা খুলে সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেল এবং এও জানায় যে বাস থেকে ধস্তাধস্তি করে নামার সময় সামওয়ান প্রেসড হার ব্রেস্ট, ডানহাতে বেশ চোট লাগে, লোকটিকে যদিও ধড়ার চেষ্টা করে না সে। এই সবের পরপরই একটার পর একটা সিগন্যাল বসে এই রাস্তায়।
     
    অনি বাসের হাতল ধরে দাঁড়ানো অবস্থায় নিচু হয়ে একটু ঝুঁকে জানালা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে সামনে কতটা জ্যাম, বাসটা স্পীড ইচ্ছে করে কমিয়ে মিলিটারি রোডের সিগন্যালটা খায়। একটি যুবতী বাসের পিছন দিকের দরজা দিয়ে এসে ওঠে, অনি ঘাড় ঘুরিয়ে নিবিড়ভাবে দেখে একবার। রূপার সঙ্গে অনেক পরে পুনরায় যোগাযোগ এবং ঘোরাঘুরি শুরু হওয়ার পর কৃষ্ণাগ্লাসের মোড় থেকে রূপা এইভাবেই বাসে এসে উঠত। স্মার্টফোন তখন সবে এসেছে এত বাড়বাড়ন্ত হয়নি। ওদের প্রিয় অভ্যাস ছিল বাসে উঠে পুরানো কলেজ পাড়া অব্দি যাওয়া তারপর হাটতে হাটতে কলেজস্ট্রীট। একটা কমন ইন্টারেস্ট ছিল, যেটা ওরা ওই পুনঃ-সংযোগের সময়কালে বুঝতে পারে, বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়া। এবছর বইমেলায় যাওয়ার আগে রূপা জানায় অনেকেই নাকি যেতে চাইছে না, সংক্রমণের ভয়ে। সেই সময়ই অনিকে অতনু প্রথম লিংকটা পাঠায়, ভারতবর্ষের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি বিশাল লাভ করতে পারে, চীন ব্যাডলি ইনফেক্টেড যদিও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অনিরা অবশ্য বইমেলায় যায় শেষ পর্যন্ত। সেখানেই ভরদুপুরে একটি বিদেশি পাবলিকেশনের স্টলে দাঁড়িয়ে রূপা আচমকা একটু বাঁকা হেসে অনিকে বলে, “তোমরা বোধহয় ভাবো চোখে যদি সানগ্লাস থাকে তাহলে তার ভেতর দিয়ে মেয়েদের কি দেখছ সেটা মেয়েরা বুঝতে পারে না।”। কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত অনি মাথাটা ঘুরিয়ে গ্লাসটা আরো উপরে ঠেলে দিয়ে সেকেন্ড দশেক পরে স্ত্রীকে জবাব দেয়, “নিষিদ্ধ আনন্দ ! কিছু জিনিস খালি চোখে দেখতে নেই, আবার কিছু জিনিস খালি চোখে দেখতেও পাওয়া যায়না, ভৃগু ও পাঁচী যে প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকার তাদের সন্তানের মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে গোপন রেখে গিয়েছিল পৃথিবীর আলো আজ পর্যন্ত কি তার নাগাল পেয়েছে।” – হাতে শেষ একশো বছরের শ্রেষ্ঠ বাংলা গল্পের ইংরেজি অনুবাদ। মানুষের মেটিং যদি সিজ্যানাল হত এবং যদি প্রবৃত্তি নিয়ে প্ল্যান করতে না পারত তাহলে মানুষের অর্ধেক সমস্যাই হয়ত থাকত না। প্রবৃত্তি প্রশমিত হয়, চলে যায়, কিন্তু আবার ফিরে আসে। মাদার নেচারের মনের কথা, এইসব নিয়ে সেদিন অনেক কথা বলে অনি ও রূপা, চারপাশে অঢেল মানুষের ভিড়। হাতের বইটা তাকে রেখে অনি এগিয়ে যায় পেইন্টিঙের মনোগ্রাফগুলোর দিকে। রূপার হাতে জর্জিও আগামবেনের একটি বই, একটু পরে অনির পাশে এসে বলে “এনার কথা তোমাকে বলেছিলাম, নয়-এগারোর পর এনার মতে গোটা পৃথিবীটাই নাকি রয়েছে একটা ইমার্জেন্সির মধ্যে, উই আর অল নাউ হোমো সিসার !, কিরকম ক্লাস্টাফবিক!”। অনি ওর হাতে ধরা ফ্রান্সিসকো গোয়ার মনোগ্রাফ থেকে ‘স্যাটার্ন ডিভোরিং হিস সান’ ছবিটা খুলে রূপাকে দেখিয়ে বলে “সাড়া পৃথিবীর সবকিছু ইন্টার কানেক্টেড রূপা, বহু যুগ ধরে। ‘নিবারণ পটুয়া’ মনে পড়ছে? ভওয়াল ও বীভৎস ছবি আঁকত নিবারণ, ওর সাথে সার্কাসপার্টির একটি মেয়ের আলাপ হয়, মেয়েটি জীবন্ত জীব জন্তু খেয়ে ফেলার খেলা দেখাত, নিবারণ সেটা ওঁর কাছ থেকে শিখে নেয় এবং একদিন নিজেই নিজেকে খেতে শুরু করে।”। রূপা ঘাড় নেড়ে বলে “মর্বিড”, তারপর গোয়ার মনোগ্রাফটা হাতে নিয়ে ভালো করে বাকি ছবি গুলো দেখতে থাকে।
     
    নিদারুণ দাঁড়িয়ে থাকা অস্বাভাবিক এই জ্যামে, অনি বুঝতে পারে সময় আজকে অন্যদিনের চাইতে ধীরে বইছে। সামনে কি আবার কোনো এক্সিডেন্ট হল না কি? কৃষ্ণাগ্লাসে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দশ মিনিট। এক ভদ্রলোক অধৈর্য হয়ে সামনের সিট থেকে উঠে যেতেই অনি একপ্রকার ঠেলে গিয়ে বসে পড়ে। পকেটে মেসেজ আসার শব্দ। মোবাইল বের করে দেখে এক অফিস কলিগের হোয়াটসঅ্যাপ, মধ্য প্রাচ্যের কিছু দেশ বিশেষত ইরান আর ইউরোপেও ছড়িয়েছে সংক্রমণ। চীনের ওয়েট মার্কেট, বন্যপ্রাণী খাওয়ার জন্য কিনতে যাওয়া হয় ওখানে। সন্দেহ করা হচ্ছে বাদুড় ও প্যাঙ্গলিন থেকে মানুষের দেহে এসেছে ব্যাপারটা। এই বাদুড় আদতে পাখি নয়, একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যে উড়তে পারে এবং প্রাচীনতম জীবিত প্রাণীদের একটি। সংক্রমিত দেশগুলির মানুষের ছবি, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে থ্রু ড্রপলেটস, ভীষণ ছোঁয়াচে নাকি, ডাক্তারদের ছবি, অ্যাস্ট্রনটদের মত পোশাক পরা। অথচ অতনু কয়েকদিন আগে জানিয়েছিল হু নাকি বলেছে মানুষে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণ ওরা পায়নি। অনি ব্যাগের ভিতর একটা কৌটো থেকে জোয়ান মুখে দেয়। বেশ গরম লাগছে। জোড়া সিটের জানালার ধারের ভদ্রলোকের সামনে দিয়ে হাত বাড়িয়ে জানালার কাঁচটা টেনে আরেকটু খুলতে গিয়ে থমকে যায়। ধীরেন না? ভালো করে তাকায় আবার, হ্যাঁ ধীরেনই তো! কিন্তু ধীরেনের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই কেন? অনি মুখ ঘুরিয়ে আবার তাকায়, না কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। চোখ দিয়ে নাকি একজন মানুষকে মনে রাখে আরেকজন মানুষ। এক্ষেত্রে সেটা দেখার উপায় নেই, সানগ্লাসে চোখ ঢাকা। অনি একটু নড়েচড়ে বসে, গায়ে চাপ লাগে, কিন্তু তাতেও কিছু না। অদ্ভুত ব্যাপার! অথচ অবিকল চেহারা, একটু মোটা হয়েছে, মাথার ডানদিক থেকে মাঝ বরাবর ওই কাটা দাগটাও স্পষ্ট। ধীরেন নন্দী, বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ, পোস্ট গ্রাজুয়েশন। রূপা পিজি করে না। ধীরেনকে আগে থেকে চিনত একমাত্র অনি আর রূপা। বঙ্গবাসীতে একসাথে পড়ত। গাড়িয়াহাট থেকে ডোভারলেনের গলিটা দিয়ে সোজা তাকালে ওদের বাড়িটা দেখা যায়। মৌসুমি নামে একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে ধীরেন। গ্রীষ্মের কোনো এক ভ্যাপসা দুপুরে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের তিনতলার শেষ মাথার ঘরে একজনের বদলিতে ক্লাস নিতে আসেন ববার্ট রেডফোর্টের মত দেখতে যে মাস্টারমশাইটি, সবার সঙ্গে পরিচয় পর্ব সারার সময় কপালের ঘাম মুছে তিনি মৌসুমিকে বলেছিলেন “আরে, এই সময় তো তোমার জন্যেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি।”। ক্লাসসুদ্দু সবাই হোহো করে হেসে ওঠে। এর কিছুক্ষণ পরে আচমকা পরে যাওয়া ও দাঁতে দাঁত লাগার কিড়মিড় শব্দে অনিরা পিছন ফিরে দেখে ধীরেনের চোখ উল্টানো, পড়ে আছে এবং সঙ্গে প্রচণ্ড খিঁচুনি। ধরাধরি করে সবাই মিলে তোলার সময় কব্জির উপরে কনুই অব্দি চেড়াচেড়া প্রচুর দাগ দেখতে পায় অনি। ধীরেন যথেষ্ট মেধাবী ছিল, ইনটক্সিকেশান ও কিঞ্চিৎ অসংলগ্ন জীবনযাপন মৌসুমিকে আকর্ষণ করত, ধীরেনের প্রপোজাল মৌসুমি ফেরায় না। সেকেন্ড ইয়ারের প্রথমদিকে যতদূর মনে পড়ছে, সকালে ক্লাস করতে গিয়ে অনি দেখে ক্লাস হচ্ছে না, বাইরে কয়েকজনের জটলা। জানতে পারে গত রাতে ধীরেনের একটা ম্যাসিভ অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। কিঞ্চিৎ মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরে, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ধীরেনের আবার ডাক পড়ে। বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে বেড়িয়ে হিন্দুস্থান-পার্কের মোড়টা ঘোরার সময় বাইক স্কিট করে, মাথায় সজোরে গুঁতো লাগে উলটো দিকের ল্যাম্পপোস্টে। সেই থেকে কোনো জ্ঞান নেই, ওর বাবার সোর্সে অত রাতে এসএসকেএম-এ ভর্তি করানো হয়, ফোরহেডে ডিপ কোম্পাউন্ড ফ্রাকচার, মাথার পিছনেও চোট আছে। মাস খানেক যমে মানুষে টানাটানি চলে, অনিরা প্রতিদিন সকালে উঠে দলবেঁধে হাসপাতালে চলে যেত, যদি রক্ত লাগে বা অন্য কোনো মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। এরই মধ্যে অনিরা কানাঘুষো জানতে পারে, ধীরেনের বাবা সম্ভবত ওনার চেনা একজন পুলিশ অফিসারকে বলেছেন “হাউ ইট ক্যান বি অ্যান এক্সিডেন্ট! এতগুলো ছেলে বাইক নিয়ে বেড়িয়ে গেল, ধীরু ছাড়া শুধুমাত্র লাল চিত্তরঞ্জনে ভর্তি আছে, ইন কোমা স্টেজ আমার ছেলের মতো, ও ওর বাইকের পিছনে বসে ছিল, বাট হোয়াট অ্যাবাউট দি আদার্স, প্রাক্টিক্যালি ট্রেসলেস নাউ! পড়লো শুধু এরাই!”। তদন্ত শেষ পর্যন্ত হয়নি, যা হয় আর কি। অনিরা চিত্তরঞ্জনে গিয়ে লালকেও একবার দেখে আসে, অবস্থা বর্ণনার অতীত। প্রায় চার মাস পরে ধীরেন ক্লাসে জয়েন করে, ওর বাবা আর মৌসুমি ওকে ক্লাসে নিয়ে আসে। মাথার মাঝখান থেকে অপেরাশনের কাটা দাগ। মানুষ, খাবার ,আসবাবপত্র এগুলোর মধ্যে অনেকদিন পর্যন্ত কোনো তফাৎ করতে পারতোনা ধীরেন। সম্পূর্ণ অসংলগ্ন সমস্ত কথাবার্তা, সেরিব্রস্পাইনাল ফ্লুইড প্রচুর পরিমাণে বেরিয়ে যাওয়ার আফটার এফেক্ট এটা। লাল তখনও চিত্তরঞ্জন থেকে ছাড়া পায়নি, বাকশক্তিহীন সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থা। মাথার কাটা দাগটার জন্য ধীরেনের মুখটা বিকৃত হয়ে যায়, কিন্তু তার থেকেও বেশি চোখে পড়তো ওর চোখদুটো। মণি দুটো কিংবা মণিসমেত চোখদুটোও বলা যেতে পারে যেন দুটিকে সরে গিয়েছে, ফলে ও কার দিকে তাকাচ্ছে সেটা প্রায় বোঝাই যেত না প্রথম দিকে। সে বছর ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা ধীরেন স্বভাবতই দিতে পারে না। ডাক্তারদের মতানুসারেই খুব ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হতে থাকে, কথায় সংলগ্নতা বাড়তে থাকে এবং কলেজ ছেড়ে আসার সময় অনিরা লক্ষ্য করে ওর চোখের মণি দুটো আগের থেকে খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তারপর অনেকদিন কোনো খবর ছিল না। বছর চারেক আগে একদিন গাড়িয়াহাটের মোড়ে অনি ও রূপা ট্যাক্সি থেকে ধীরেনকে দেখতে পায়। ধীরেন ওদের দেখে হাত নাড়ে। ট্যাক্সিটা ক্রস করে যাওয়ায় অনি পিছন দিকে ঘাড় উঁচু করে দেখে হ্যাঁ ধীরেন ওদেরকে দেখেই হাতটা নেড়েছে, তাকিয়েও আছে যেন ওদের দিকে, চোখ আরো স্বাভাবিক তার মানে। কৌতূহল বসত অনি পরবর্তীকালে জেনেছিল, ধীরেন পিজি কমপ্লিট করে ওদের বছর দুয়েক বাদে, চাকরী করছে, বিয়েও করেছে এবং ওর স্ত্রীর নাম মৌসুমি নয়।
     
    কিন্তু আজকের ব্যাপারটা অনির অদ্ভুত লাগছে, চোখটা যদি একবার দেখা যেত, বাস যাদবপুরের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে এখন। একজন মানুষ কতরকম কারণে আরেকজন মানুষকে চিনতে চায় না! এইতো কিছুদিন আগে ওদের অফিস সদ্য ছেড়ে যাওয়া ছেলেটি, চিংড়িহাটার মোড়ে প্রায়ান্ধকার সাটেলে উঠে অনির পাশেই বসে কিন্তু প্রায় রুবির মোড় পর্যন্ত অনিকে দেখতেই পায় না! শেষমেশ অনি বলে “কি ব্যাপার, তুমি কলকাতায়, ইস্তানবুলের প্রজেক্টটা পাওনি নাকি?”। ছেলেটি শুধু “ওঃ তুমি” বলে সাটেল থেকে রুবির মোড়ে নেমে যায়। ডোভারলেনে ধীরেনের ওটা পৈতৃক বাড়ি ছিল, যদিনা এখন ফ্ল্যাটেট্যাটে গিয়ে থাকে। লোকটা ধীরেন না হলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা কিনা এটা জানার অন্তত একটা সুযোগ নিতেই হবে। অনি পকেট থেকে মোবাইল বের করে অফিসে জানিয়ে দেয় ওর যেতে আজকে একটু দেরি হবে। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’, অফিসের গ্রুপ হোয়াটসঅ্যাপে একটা লিংক এসেছে। মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে এখনো পর্যন্ত ঘটা সবথেকে বড় মহামারী নাকি এটাই! প্রায় পাঁচ কোটি লোক মাড়া গিয়েছিল! চলেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে টানা প্রায় দুবছর। ১৯১৮-র জানুয়ারি থেকে ১৯২০-র ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইউএস, ইউকে, ফ্রান্স জার্মানি এপিসেন্টর হওয়া সত্ত্বেও এই মারণ ইনফ্লুয়েঞ্জাটার নাম স্প্যানিশ ফ্লু হয় যেহেতু স্পেন এটা প্রথম সংবাদে আসতে দেয়, বাকি দেশগুলি যুদ্ধের বাজারে সিভিলিয়ানদের মনোবলের দোহাই দিয়ে পুরো খবরটাই চেপে যায়। ভারতে এটার নাম ছিল বম্বে ইনফ্লুয়েঞ্জা। বম্বে বন্দর থেকে যে বৈদেশিক তরীগুলি ইউরোপে যেত সেগুলো ছিল সংক্রমণের উৎস, ভারত নাকি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির একটি ছিল। এই খবরটা অনির কাছে একদম নতুন, অনেক ভেবেও এর কোনো রেফারেন্সের কথা কোথাও পড়েছে বা দেখেছে বলে মনে করতে পারে না। একমাত্র আবছা যেন মনে পড়ছে, ‘শেষ প্রশ্ন’, শরৎচন্দ্রের উপন্যাস! একটা সাংঘাতিক মহামারীর উল্লেখ ছিল, ইনফ্লুয়েঞ্জাই, সম্ভবত গপ্পের হিরোর ত্রিকোণ প্রতিদ্বন্দ্বীটি অথবা প্রেমিকার অ্যাডমায়ারারও হতে পারে, আর্তের সেবা করতে গিয়ে ওই ইনফ্লুয়েঞ্জাতে মারা যায়, এরকম কিছু একটা ছিল।
     
    কিছুক্ষণ আগে যাদবপুর থানার মোড়ে কিছু লোক নেমে যাওয়ায় বাসের ভিতরের গুঁতোগুঁতিটা একটু কমেছে। কন্ডাক্টর এসে টিকিট কেটে গেছে, অনি আড়চোখে দেখেছে ভদ্রলোক ব্যাগ থেকে পার্স বের করে টাকা ও কয়েন মিলিয়ে ভাড়া দিয়েছে। ফুলহাতা শার্ট তাই হাতটা দেখার উপায় নেই কিন্তু আঙ্গুল গুলোর দিকে চোখ পড়তেই  অনি চমকে ওঠে। ভদ্রলোকের সবগুলো আঙ্গুল অনেকদূর পর্যন্ত চামড়া খাওয়া। ইনটক্সিকেশান জনিত কারণে ধীরেনের যে সিজোফ্রেনিয়া ছিল যার জন্য ও ফিট হয়ে যেত, সেইজন্যই হবে এবং তার সাথে রিলেটেড উদ্বেগ ও অস্থিরতা জন্য ও চামড়া খেত আঙুলের। অস্বাভাবিক রকম বেশি, তাকানো যেত না আঙুলগুলোর দিকে, বিকট লাগতো। অনি একবার ভাবে মৌসুমির নাম্বারটা ওর কাছে আছে কি না? না নেওয়া হয় নি কখনও। বিয়ের পর থেকেই ওরা ইতালিতে সেটেলেড। বছরখানেক আগে দিল্লি এয়ারপোর্টে হঠাৎ দেখা হয় অনি ও রূপার সঙ্গে। বরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। একটা কথা মনে পড়তেই অনির বুকটা এখন কেঁপে ওঠে। দুচার কথার মাঝখানে অনি কৌতূহলী দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে দেখে, বর একটু পাশে সরে যেতেই চাপা গলায় মৌসুমি বলে “ধীরেনের খবরটা পেয়েছিস তো?”। “কেন,আবার কি হল?”- অনি । মৌসুমি উত্তর দেওয়ার আগেই ওর বর আবার চলে আসে। একটু পরে যে যার দিকে চলে যায়, এই নিয়ে আর কোনো কথা হয় না। অনিরা বেশ বুঝতে পারে দে আর স্টিল ইনভল্বড। কিন্তু মৌসুমি কি বলতে পারেনি সেদিন? পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে অনি দেখে, না, এমনিতেই অনি-রূপা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ভাবেই কারোর সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখেনি। ফলে কারো নাম্বারও নেই। অতনু আবার লিঙ্ক পাঠিয়েছে, একদল বিশেষজ্ঞ ভারতবর্ষে শিগগিরি সংক্রমণের আশঙ্কা করছে! তাই দেশে ফেসমাস্কের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে! আরেকটা পিডিএফ, নীচে লেখা “প্লেগ, আলবেয়ার কামু, পারলে আরেকবার পড়িস।”। অনি ‘প্লেগ’ একবারও পড়েনি, কিন্তু আজ থেকে বছর আষ্টেক আগে ‘নাজারিন’ বলে একটি সিনেমা দেখেছিল। ওর স্পষ্ট মনে পড়ে একটি জনপদ দেখানো হয়, মিডিয়াভেল পিরিয়ড, এক পাদ্রী ঘুরতে ঘুরতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়। গোটা জনপদটিতে একটি মাত্র ক্লিষ্ট মানুষ মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে, বাকি আর কেউ বেঁচে নেই, সবাই প্লেগে মারা গেছে।
     
    বাসটা এখন গাড়িয়াহাটের মোড়ে দাড়িয়ে আছে। অনির কিছুক্ষণ ধরেই মনে হচ্ছে লোকটা সানগ্লাসের আড়াল থেকে অনিকে দেখছে। অনির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। বুকের উপরের দুটো বোতাম খুলে দেয়, ফুল হাতা জামাটা কনুই অব্দি গুটিয়ে নেয়। কনুইয়ের সামনের ক্ষতটা এখনও জ্বলজ্বল করছে, মুকুলবোসের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে একটা কড়া ট্যাকলের পর কনুইয়ের মাংস হা হয়ে গিয়েছিল। মাসখানেক লেগেছিল পুরোটা শুকোতে, এখনও মাঝেমাঝে জায়গাটায় অল্প অল্প ব্যথা হয়। হিন্দুস্থান-রোডের গলিটা পেরোতেই লোকটা সিট থেকে উঠে পড়ে, ডোভারলেনের মোড়ে নেমে যায়। মৌসুমি সেদিন কি যে বলতে পারলো না? অনি লোকটার পিছন পিছন উঠে পড়ে কিন্তু নামে একটু পরে বালিগঞ্জ শপিং-মলটা পেরোনোর পর। বাস থেকে নেমে অনি দূরে ডোভারলেনের গলিটার দিকে তাকিয়ে থাকে। পকেটে মোবাইলটা বাজছে, রূপার ফোন, “আরে ওই লালতু না কি, আবার ল্যান্ডলাইনে কল করেছিল, তুমি বেরিয়ে গেছো শুনে লাইনটা কেটে দিল, কি ব্যাপার বলতো!”। কোনো কথা না বলে ফোনটা কেটে দেয়, আজ আর অফিস যাওয়া হবে না। একটা সিগারেট ধরায় অনি, ‘শালা, শুয়োরের বাচ্চা!’ চাপা গলায় গালি দেয়। তারপর হাঁটতে শুরু করে ডোভারলেনের গলিটার দিকে।

    [এই গল্পটি ইতিপূর্বে ২০২০ সালের জুন মাসে 'তবুও প্রয়াস' ওয়েব ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। অতিমারি নিয়ে ত্রয়ী-গল্পমালা সিরিজের প্রথম গল্প ছিল এটি।]
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন