ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে 

    Diponkar Chanda লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ জুলাই ২০২২ | ১৩৫ বার পঠিত
  • অনেক উঁচু রাজপ্রাসাদের জানালা পাহারা দিচ্ছে দৈত্যাকৃতির মেঘের দল। 
    রাজকন্যা বন্দিনী কঠিন নিয়মের নিগড়ে।
    রাজ্যের বাতাস নীরব নিশ্চল।
    বহুপথ পার হয়ে হতদরিদ্র রাজপুত্র এসে দাঁড়াল প্রাসাদের নিচে। 
    রাজকন্যাকে দেবার জন্য নিজের হৃদয় নিয়ে এসেছে সে।

    কিন্তু রাজকন্যার কুচবরণ দীঘল কেশ সিন্দুকে তুলে রেখে দিয়েছেন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ রাজা। 
    কেশের জাদুকরী কৌশলে যাতে রাজকন্যার কাছে পৌঁছাতে না পারে হতদরিদ্র রাজপুত্র।

    রাজপুত্রের কাছে ছিল অচিন বৃক্ষের বীজ। 
    দ্রুত সে বৃক্ষবীজ রোপন করল মাটিতে। 
    কিন্তু জল চাই যে বৃক্ষবীজের অঙ্কুরোদ্গমের জন্য, বেড়ে ওঠার জন্য চাই আকাশস্পর্শী স্পর্ধা।
    বৃক্ষ বাড়তে বাড়তে প্রাসাদের উঁচু জানালা স্পর্শ করলে তবেই রাজকন্যা খুঁজে পাবে মুক্তির পথ! 

    কিন্তু এ কেমন রাজ্য!
    কাছাকছি জল নেই যে! নদী নেই, নেই কোনো সরোবর, সমুদ্র!
    জল ছাড়া কী করে হবে বীজের অঙ্কুরোদ্গম? 
    কী করে পরিণত হবে বৃক্ষে? 
    কী করে সেই বৃক্ষ প্রসারিত হবে প্রাসাদের জানালা পর্যন্ত?
    ভীষণ চিন্তায় পড়ল রাজপুত্র!

    দূরের আকাশ থেকে নেমে এল একটি তীক্ষ্ণঠোঁট ঈগল। রাজপুত্রকে জিজ্ঞেস করল, কী চিন্তা করছ?

    রাজপুত্র বলল তার একান্ত ইচ্ছের কথা।

    কিন্তু এ রাজ্য যে বৃক্ষহীন! এ রাজ্যে বৃক্ষ বাঁচে না! ঈগল জবাব দিলো বিষণ্ন কণ্ঠে।

    কেন? রাজপুত্রের অবাক জিজ্ঞাসা।

    বুঝতেই পারছ, জল নেই তাই!

    নিশ্চিত তুমি জল নেই রাজ্যের কোথাও?

    ভালোভাবে জেনেই বলছি আমি রাজপুত্র।

    কিন্তু রাজপুত্রের জল না হলে যে চলবেই না!
    জল চাই যেকোনো মূল্যে। 

    রাজপুত্র চিন্তা করল দ্রুত। বলল, আচ্ছা! তুমি কি আমাকে একটু সাহায্য করবে?

    বলো কীভাবে সাহায্য করতে পারি আমি? ঈগল জানতে চাইল।

    তুমি তোমার তীক্ষ্ণঠোঁটে উপড়ে নাও আমার বামহাতের কনিষ্ঠ আঙুল। রাজপুত্রের দৃঢ়কণ্ঠ।

    রাজপুত্রের কথায় ভীষণ অবাক হয় ঈগল। এমন অদ্ভুত কথা সে শোনেনি কোনোদিন! তাই সে বলল, কী বলছ তুমি!

    যা বলছি মঙ্গলের জন্য বলছি! বলছি কল্যাণের জন্য! এবং ভালোবাসার জন্য! আমার কথাটা রাখবে না তুমি?

    রাজপুত্রের সকরুণ আর্তি উপেক্ষায় অসমর্থ ঈগল তা-ই করল অবশেষে।
    ধারালো ঠোঁটের একটানে উপড়ে নিল রাজপুত্রের বামহাতের কনিষ্ঠ আঙুল।
    রাজপুত্র ব্যাথায় চিৎকার করে উঠল।
    প্রচণ্ড ব্যাথায় চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় নামল জল।
    সেই জলে দরিদ্র রাজপুত্র সিঞ্চিত করল বৃক্ষবীজ।
    অঙ্কুরোদ্গম সম্পন্ন হলো অচিন বৃক্ষের।

    এরপর দরিদ্র রাজপুত্র মধ্যম আঙুল উপড়ে নেবার অনুরোধ করল ঈগলকে।
    হতবাক ঈগল তা-ই করল।
    রাজপুত্রের চোখের জলে বৃক্ষ বেড়ে উঠল অনেকটা।
    একে একে সমস্ত আঙুল হারাল রাজপুত্র।
    হারাল হাত পা শরীরের প্রায় সব অঙ্গ।
    গাছ প্রায় উঠে এসেছে অবরুদ্ধ রাজকন্যার জানালার কাছাকাছি।

    এবার?
    রাজপুত্রের কাছে অবশিষ্ট শুধু চোখ আর হৃদয়!
    কী উৎসর্গ করবে রাজপুত্র এবার?
    চোখ?
    চোখ উৎসর্গ করলে হৃদয় পড়ে থাকবে!
    কিন্তু চোখের জল পাওয়া যাবে না। বৃক্ষ বাড়বে না। পৌঁছবে না বৃক্ষ রাজকন্যার জানালা অবধি। মুক্ত হতে পারবে না রাজকন্যা। আর হৃদয় বিসর্জন দিলে রাজপুত্রের কাছে অবশিষ্ট থাকবে না রাজকন্যাকে দেবার মতো কিছু।

    রাজপুত্রের কাছে রাজকন্যার মুক্ত জীবন অতীব কাঙ্ক্ষিত।
    রাজপুত্র হৃদয় বিসর্জন দেবার সিদ্ধান্ত নিল।

    রাজপুত্রের কথা মান্য করে ঈগল ছিন্নভিন্ন করল তার হৃদয়। রক্তাক্ত করল, ব্যথিত অন্তর নিয়ে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করল দরিদ্র রাজপুত্রের হৃদয়কে।
    রাজপুত্রের চোখের জলের বন্যায় বৃক্ষ বাড়ল তীব্রবেগে। বাঁধভাঙা আবেগে উঠে এল বৃক্ষ রাজকন্যার জানালা অবধি।

    রাজকন্যা চন্দ্রাবতী নেমে এলো নিচে।
    পরম মমতায় কুড়িয়ে নিল দরিদ্র রাজপুত্রের ভুলুণ্ঠিত সিক্ত চোখ দুটো।
    চোখ আলোকিত হলো চোখের আলোয়।
    তারপর অক্লেশে আকাশে মিলিয়ে গেল তারা।

    বহুদিন পর চাঁদ জন্ম নিল।
    জন্ম নিল শুকতারা-সন্ধ্যাতারা।

    কেউ কেউ ঠিক টের পেলো, চাঁদ আর কেউ নয়, তাদের রাজকন্যা চন্দ্রাবতী।

    আর শুকতারা-সন্ধ্যাতারা হতদরিদ্র রাজপুত্রের দুই আলোকিত চোখ।
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া দিন