ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • পয়লা বৈশাখ 

    Sayanti Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ১২৭ বার পঠিত
  • “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” - সকালের  ঘুমটা গেল চটকে কবির। এ তো দেখছি সুরের বারোটা বাজিয়ে  দিয়েছে। কি কুক্ষণেই যে লিখেছিলাম। কটা বাজে দেখার জন্য কবি মোবাইলটা অন করলেন। পিং পিং পিং পিং ……মেসেজ ঢুকেই যাচ্ছে। “ নিশি obosan প্রায়”…। “নববরশের নবোদিত suriya……,”।এঃ হেঃ এ যে বানান ভুলে ভর্তি মেসেজ।তারপর বাংলা ইংরাজি মেশানো । নাহ সোশ্যাল মিডিয়া লেখাগুলোর বারোটা বাজিয়ে ছাড়ল।

    বাঙালির নববর্ষ। বঙ্গ নরনারীগন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে উঠেপড়ে লেগেছে। সকালে প্রভাতফেরি। একদল গাইবে একদল নাচতে নাচতে যাবে।মোটামুটি পুরো এলাকাটা কভার করার প্রোগ্রাম। বাঙালিত্ত্ব যাদের একটু উঁচু দরের তারা গেছে শান্তিনিকেতন।গরমটা টেরিফিক বোলপূরে। তা হোক। আম গাছের ছায়ায় বসে অনুষ্ঠান  দেখা, অত গরম লাগবেনা।  যাদের হাঁটু কোমরে ব্যাথা তারা বিশেষ কোথাও যেতে পারেনি। ও টিভি তে বসে দেখাও যা ,সরাসরি দেখাও তাই।সরাসরি জোড়াসাঁকো থেকে লাইভ টেলিকাস্ট হয়। “হে নূতন দেখা দিক আর-বার”,”এদিন আজি কোন ঘরে,”- রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া কি নববর্ষ মানায়।রান্নাঘর থেকেও ভালোই গন্ধ উঠেছে । সকালে গরম গরম ফুলকো লুচি আর আলুর দম,সাথে মিহিদানা। দুপুরে পোলাও,কষা মাংস, চাটনি …শেষ পাতে দই ,মিষ্টি। এসব না হলে বাঙালির নববর্ষ ঠিক জমেনা। যদিও গিন্নি আগেই ঘোষণা করে দিয়েছে ।একবেলা রান্নাঘরে ঢুকবে।দুপুরে একটা জম্পেশ ঘুম তো আগে দেওয়া যাক। সন্ধ্যে বেলা নতুন পাজামা পাঞ্জাবি পড়ে ছেলে মেয়ে গিন্নি সহ বেড়িয়ে পড়া।ওদিকে ছেলে মেয়ের  মধ্যে তর্ক বেঁধেছে -ভজহরি মান্না  না  ষোলোআনা বাঙালি। এইদিন বাঙালি রেস্তোরাঁ  প্রেফার করে বাঙালি।সব বাঙালি রান্না …… শুক্ত,চচ্চড়ি, আলু ভাজা, মুগডাল,মোচার ঘণ্ট, চিংড়ির মালাইকারি,ভেটকি পাতুরি, চিকেন,মাটন ,চাটনি ,পায়েস -কি নেই সেখানে।নেই কোন ঝঞ্ঝাট । অর্ডার দাও আর খাও।প্রাইসটা একটু বেশি। তা হোক ,নববর্ষ বলে কথা।

    বাঙালির নববর্ষ বলতে এখন অনেকটা এই। যদিও ইতিহাস বলছে নববর্ষ বলে বাঙালির আদপেই কোনো উৎসব ছিলনা। বরং  চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক উৎসব ছিল চৈত্রের শেষ লগ্নে। এমনকি নীলষষ্টিরও প্রচলন ছিল । কিন্তু নববর্ষ বলে বাঙালির উৎসবের  তালিকাতে সেরকম কিছু নেই।বাংলাদেশে নবাব মুরশিদ কুলি খাঁ খাজনা আদায়ের উদ্দ্যেশ্যে প্রথম ‘পুণ্যাহ ‘ নামক প্রথা চালু করেন এই বৈশাখ মাসের শুরুতে। সেই প্রথাই পরবর্তীকালে বাংলার  জমিদারকূল মেনে চলত। ঠাকুর পরিবারেও সেই পুণ্যাহ প্রথা ছিল জমিদারী থেকে খাজনা আদায়ের দিন। ঠাকুর পরিবার যেহেতু  ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত ছিল,তাই তৎকালীন  সমাজে ঠাকুর পরিবারের তেমন মর্যাদা ছিলনা। সোজা বাংলায় তারা অনেকটা কুলীন বঙ্গসমাজচ্যুত ছিল। যদিও তাদের শিক্ষাদীক্ষা ধ্যান ধারণা কাজকর্ম আচার ব্যবহার বেশ উন্নত,আধুনিক ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তারা নিজেদের সমাজের মধ্যে ,আরও বেশি করে নিজেদের পরিবারের মধ্যেই নানাবিধ সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চায় নিজেরা লিপ্ত থাকত । পুণ্যাহ তিথিটিকে ঠাকুর পরিবারই প্রথম নববর্ষের উৎসবে পরিণত করে।গান বাজনা, খাওয়া দাওয়া ,নতুন কাপড় জামা পড়া ,গুরুজনদের প্রণাম এসব চালু হয়। একই সাথে জমিদারির খাজনা আদায়ও চলে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় সারাজীবন ধরেই তার নানান সৃষ্টির মাধ্যমে এই দিনটিকে স্বরনীয় করে রেখেছেন। কখনো জোড়াসাঁকোতে,কখনো বা শান্তিনিকেতনে। তিনি তার সৃষ্টির মাধ্যমে চৈত্রের শেষ ও বৈশাখের শুরুটিকে নানা ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 

    খানিকটা অচ্ছুত   ঠাকুর পরিবারের নববর্ষই পরবর্তীকালে আপামর বাঙালির পয়লা বৈশাখে পরিণত হয়।ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে নতুন জামা কাপড় পড়ে মুদির দোকানে যেতাম মিষ্টির প্যাকেট আর নতুন ক্যালেন্ডার আনতে।দোকানে দোকানে লক্ষ্মী গণেশ পুজো হত। ঠোঙ্গা ভর্তি লাড্ডু আসত।নতুন পঞ্জিকা কেনা হত। নববর্ষ তখন বেশির ভাগটাই ব্যবসায়িদের । হালখাতা করার দিন। ছোটকাকুকে দেখেছি এইদিন দক্ষিণেশ্বরে হালখাতার পুজো দিতে যেতে।নববর্ষে বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না হত। বিশেষ কিছু না বুঝলেও আনন্দের অনুভূতিটা ভালোই ছিল। বড় হবার পর মিষ্টির প্যাকেট আনতে দোকানে যাওয়া বন্ধ হল। এখন এই প্রথা অনেকটাই লোপ পেতে চলেছে।এখন চৈত্র সেলের মার্কেটিং, রেস্টুরান্টএ  খাওয়া, সোশ্যাল মিডিয়াতে শুভেচ্ছা বিনিময় করেই নববর্ষ কাটে।

    “হেথা হতে যায় পুরাতন, হেথায় নতুন খেলা আরম্ভ হয়েছে”,“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”,” নিশি অবসানপ্রায় ,ওই পুরাতন বর্ষ হয় গত”,” নববর্ষ এলো আজি দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে”………।নাহ এরা নিজেরা কিছু করবেনা। শুধু কপি পেস্ট শিখেছে।  কবি বিরক্ত হয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন।মনে মনে বলতে থাকেন আমি তো এটাও লিখেছিলাম “ বর্ষ গেল বৃথা গেল কিছুই করিনি হায়”। 
    # নববর্ষ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন