এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • রম্যগল্পঃ

    pradip kumar dey লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ মার্চ ২০২২ | ৫৫৮ বার পঠিত
  • #রম্যরচনাঃ
         " দাঁতকেলানে বাঞ্ছারাম "
                           প্রদীপ দে ~
    ~~~~~~~~~~~~~~~~
    বাপ মায়ের দেওয়া নাম "মনবাঞ্ছা"। জন্মেই নাকি হেসে লুটোপুটি খেয়েছিল। ডাক্তার নার্স বেবিকে ধরে রাখতে পারেনি - এমনি নাকি ছিল তার হাসি। বাবা -হাসুক তলাপাত্র, মা - খুশি তলাপাত্র। ছেলের নাম "হাসিখুশি" বা "হেসেখুশে" রাখবে বলে ঠিক করেছিল তার নিরক্ষর পিতামাতা। শিক্ষিত আত্মীয়, পাড়াপ্রতিবেশীরা আপত্তি জানালে নাম পাল্টে যায়। মনবাঞ্ছা আবার ছোট হয়ে "বাঞ্ছা" -তে রূপান্তরিত হয়।
    এইসব কথা বাঞ্ছা তার সাথে পরিচয়ের প্রথমেই দুপাটি দাঁত বার করে হেসে হেসে সবাইকে জানিয়ে দেয়। তবে একটা মারাত্মক দোষ আছে তার, পরিস্থিতি না বুঝে সে সব সময়েই এই একই আচরণ করে থাকে। 
    অনেক লোকের সঙ্গে তার আলাপ। কথা বলতে ওস্তাদ। দিনের সব খবর তার মগজে।

    এহেন বাঞ্ছা  কি করে 'দাঁত কেলানে বাঞ্ছা' নামে পরিবর্তিত হলো সেটাও এক ঘটনা।

    হেসো বাঞ্ছার বন্ধুবান্ধব প্রচুর। পয়সার অভাব নেই। পারিবারিক অর্থ আর সম্পত্তির উত্তরাধিকার সে। মনটাও ভালো। ফলে ইয়ার বন্ধুদের পিছনে খরচা করবে এটা বলাই বাহুল্য।

    রাস্তায় কেউ দেখলেই হলো -- বাঞ্ছাদা আসো -আসো -কেমন আছো?

    বাঞ্ছা কেলিয়ে হাসে হে হে হে  -- কিরে সব চা পিবি?  তো বল্লেই পারিস?

    বন্ধুদের গাল ভর্তি হাসি -- হে হে --হো হো!

    চা বানাও হাতারাম খুঁড়ো!

    এরকম ভাবেই ইয়ার বন্ধুরা মিষ্টির দোকানে, ফুচকার স্টলে, রোলের দোকানে আবদার চলে এবং বাঞ্ছা হেসে হেসে পকেট ঘেঁটে খাইয়ে দেয়।

    সব সময়েই বন্ধুবান্ধব আত্মীয়দের নিয়ে দাঁত বার করে হেসেখেলে কথা বলে কাটায় বাঞ্ছা। ভালোমন্দ বাছ বিচার আর করা হয়ে ওঠে না।
    সে ভাবে হেসে হেসে কথা বললেই সকলে খুশি হবে। আর সকলকে খাইয়ে দাইয়ে সে খুশিতে ভরে ওঠে। জীবনের রাগ দুঃখের অধ্যায় তার অজানাই রয়ে গেল।

    ইয়ার বন্ধুদের কথা আলাদা। তারা তাকে বোকা- জোকার ভেবে নিয়ে ফেলে। খুব কাছের আত্মীয়রা বাঞ্ছাকে  কেউ কেউ বোঝায় নি এমন নয়। কার কথা কে শোনে। প্রতুত্তরে বাঞ্ছা হে হে করে হেসে সেই গুড়ে জল ঢেলে দিয়েছে।

    ঘটনাটা ঘটে গেল কিছুদিনের মধ্যেই। পাড়ার ললিত বাবুর স্ত্রী করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনদিনের দিন মারা গেল। পাড়ার ক্ষমতাবান ব্যক্তি ললিত বাবু কোন সুযোগই পেল না চিকিৎসা করানোর জন্য। এমনকি করোনা পজিটিভের রেজাল্টটাও এল মৃতদেহ সৎকারের পর। এই নিয়ে বিরাট আলোচনা চলছিল পাড়ার মধ্যে। কাল হলো --
    বাঞ্ছা সব শুনে আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলে  না -- বেশ মজার ব্যাপারতো!

    বাঞ্ছা মজা পেয়ে গেল। হে -হে - করে ধরা গলায় হেসেহুসে ললিত বাবুর সামনে গিয়ে দাঁত বার করে
    সে এমন এক অভিব্যক্তিক আচরণ করে বসলো -- যার পরিণতি হল ভয়ানক। ললিত বাবুর রগচটা মেজো ছেলেটা বাঞ্ছাকে ধরে উত্তম -মধ্যম ধোলাই দিয়ে দিল --আর বেশি মারটাই গিয়ে পড়লো তার খোলা দাঁতের উপর। কেলানোর চোটে তার সামনের দুটো দাঁতের বিচ্যুতি ঘটে গেল। 
    ইয়ার বন্ধুরা মজা পেয়ে গেল। আত্মীয়স্বজন লজ্জায় মুখ লুকালো।

    কিন্তু তাতেও বাঞ্ছার ফেকলু দাঁতের হাসি থামলো না।

    দাঁতে কেলানি খেয়েছিল -- তাই তার নাম হয়ে গেল -- "দাঁত কেলানে বাঞ্ছারাম"!
    -----------------------------------
    মধুরেণ সমাপয়েৎ!

     প্রদীপ দে ~
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন