ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • Looking through the rainbow glass:কামিং আউট ও বিবিধ ,পর্ব ১

    সিসা the lead লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৭ মার্চ ২০২২ | ২৫১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৩ জন)
  • এই পর্বটা শুরু করছি,মনে অনেক দ্বিধা,অনেক আশঙ্কা নিয়ে,ভয় না হোক ঠিক,বুক দুরুদুরু করছেই-এসব লেখা গুরুর বাইরে গেলে বা গুরুতেই চেনা কেউ পড়ে আমার পরিচয় বুঝে গেলে কপালে দুঃখু আছে,অনার কিলিং না হোক,মানসিক অত্যাচার হতেই পারে বিবিধভাবে,অলরেডি সন্দেহ অনেকেই করে-কারণ যত‌ই নিজেকে ঢেকে,লুকিয়ে রাখতে চাই,নিজের ইচ্ছাগুলো অন্ধকারে ঘুম পাড়িয়ে ,দমিয়ে রাখতে চাই,শাক দিয়ে তো আর মাছ ঢাকা যায় না,সত্যকেও মিথ্যের ক্যামোফ্লেজ পরিয়ে ধুলো দেওয়া যায় না কারোর চোখেই ,নিজের চোখেও না(যদিও নিজের লিঙ্গায়ত পরিচয়টা অস্বীকার করার ডিনায়াল ব্যাপারটা আমার হয়নি সৌভাগ্যবশত ,যেটা অনেকের‌ই হয় নন-বাইনারি মানুষদের,অজস্র যুদ্ধের মধ্যে মনের সাথে আরো একধরনের যুদ্ধ),সুতরাং,এভাবেই চলছে,মাঝে মাঝে মনে পড়ে দ্বিজেন্দ্রলালের একটা গান ,
     
    "আঃ ,যা করো আস্তে করো বাবা,ঘা করো কেন খুঁচিয়ে /পাতলা একটা যবনিকা আছে,কাজ কি সেটা ঘুচিয়ে?"
     
    এটা হাসির গান,ঠোঁটের কোণে একটা তিক্ত হাসি উঠে আসেও-মানুষের দুনিয়ার থেকে দূরে দূরে থাকি,আগেকার দিনের পর্দানশীন ,অসূর্যম্পশ্যা নারীদের মতোই রঙিন বাতায়নের ধারে একলা বসে বসে দুনিয়াদারি দেখার চেষ্টা করি,(সেজন্যেই আরো এই সিরিজটার নাম দিলাম এরকম,এই জানলা দিয়ে যা দেখতে পাই,যতটা দেখতে পাই ,বুঝতে পারি,তা লেখার অক্ষরে ছাপ তুলে রাখব এখানে) এই সীমানা পেরোতে ভয় পাই,আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়ানোর শক্তি পাই না,এই নিজের চারপাশে নিজেরই টানা লক্ষ্মণরেখার মধ্যে সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক সুরক্ষিত অনুভব করি.....এই প্রথম সেই গন্ডি ছেড়ে বেরোনোর প্রয়াস,জানি বাইরে অনেক পিঁপড়ে,কীট-পতঙ্গ আছে যারা আমার মত "মিঠা" কে নাগালে পেলে মাংস খুবলে নিতে পারে জ্যান্ত,পাথর ছুঁড়ে মারতে পারে "ধর্মগ্রন্থ" এর,"সমাজ" এর অনুশাসন মেনে কারণ তাদের কাছে একজন জ্যান্ত রক্তমাংসের মানুষের প্রাণ,অশ্রুজল,আর্তনাদ,উষ্ণ রক্তপাত,ক্ষত- এর তুলনায় জড় ধর্মগ্রন্থের স্থাবর "অনুশাসন" মেনে "পুণ্যলাভ" ও "পাপবিনাশ" করা ও "সামাজিক স্থিতি" রক্ষা করা অনেক বেশি বাস্তব,সে আমি বা আমার মতোই কোন মানুষ যতোই হৃদয়বান,গুণবান,সংবেদনশীল,শিক্ষিত,রুচিশীল,মানবিক গুণ ও হৃদয়বৃত্তির অধিকারী-অধিকারিণী হোক না কেন।তাই নিজেকে ঢেকে রাখার ,সুরক্ষিত রাখার এত বিফল চেষ্টা,আপাত রূঢ়তা,coldness,shrewdness দিয়ে সবার থেকে ক্রমাগত দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাই অসীম একাকিত্বের পাথর বুকে বেঁধে,কারুর সাথে closure তৈরি করি না,নিজের ব্যথা,অপমান,জ্বালা নিয়ে গুমরে গুমরে মরি নিজের মধ্যেই,আর পারছিলাম না ,দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছল অনুভব করছিলাম,আরেকটু পেছোলেই অতলস্পর্শী শূন্যতা খাদ-তাই ভাবলাম ঘুরে দাঁড়ানোই ভাল,এই লেখার মধ্যে দিয়ে দিয়েই তিলে তিলে রিট্রিভ করার চেষ্টা করি নিজে নিজেই।
     
    এই পর্বটা আমার মোটামুটি ভাবে কোনো পাবলিক ফোরামে কামিং স্টেটমেন্ট বলাই যায়,এর আগে ফেবুতে "আলিপুরদুয়ার কনফেশন" পেজে লিখেছিলাম একবার সংক্ষেপে অ্যানোনিমাসলি ,এখানে একটু বিস্তৃত আকারে লেখার চেষ্টা করি।
     
    কামিং আউট, কোন কোন নন-বাইনারি মানুষের জীবনে একটা মেজর স্টেপ ,আবার কারোর কাছে এই নিজের নন-বাইনারি পরিচয় সবাইকে জানিয়ে কামিং আউট করা,নিতান্তই bothersome ও unnecessary ( অনেক pseudo- lgbtqia+ ally ও এই মতটা সমর্থন করেন বা কামিং আউট কে pulled stunt ,gimmick হিসেবে দেগে দেন ),আবার অনেকে নিজের সুরক্ষার কারণে বেরোতে চান না ক্লোসেট থেকে.....লোকা ভিন্নরুচির্হি।
     
    আমি এর আগে একজন ব্যাক্তিকেই নিজে থেকে জানিয়েছি আমার এই পরিচয়,তাকে আমার চেনা ভারি অদ্ভুত ভাবে,দু'বছর আগে মাধ্যমিক দেবার পরপর‌ই ফেবুতে ফেক প্রোফাইল থেকে তসলিমা নাসরিনের লেখা পড়ার সময় কমেন্ট দেখে তার প্রোফাইল স্টক করে ভাইব চেক করি,তারপর এই উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোনোর পর তারি কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে তাকে ইনস্টায় প্রথম নিজে থেকেই ম্যাসেজ করি ,কাম আউট করি,তারপর হোয়াতে ,ইনস্টায় কথা চলতে থাকে নিয়মিত আর এখন পরিচয়ের ছ-সাত মাস পরে আমরা দু'জনেই খুব ভাল অসমবয়সী ভার্চুয়াল বন্ধু ,একেবারে bad biatches together (lmao),অথচ তার সাথে আমার সামনাসামনি দেখা হয়নি একবার‌ও এখনো পর্যন্ত,অদূর ভবিষ্যতে ও নেই কারণ সে থাকে বরানগর-সিঁথি অঞ্চলে(বরাকৃমির প্রাক্তন ছাত্র,যেমন আমিও মা/রিরাকৃমি-র ছাত্র),আর আমি এই হুগলির প্রাচীন ড্যানিশ কলোনির,মৃদুল দাশগুপ্ত,উইলিয়াম কেরির শহরে থাকি;তারপর সে এখন পুনে ইউনিতে এম‌এসসি করতে গেছে স্ট্যাটে,আমিও যে সাবজেক্ট নিয়ে তার‌ই কলেজে পড়ছি।কিন্ত্ত এই আপাত অচেনা মানুষটাকেই ভরসা করে আমার মতো বন্ধুবান্ধবহীন ইন্ট্রোভার্ট মানুষ নিজের জীবনের এত কথা খুলে বলতে পেরেছে নির্ভয়ে,যেসব কথা তার আত্মীয়স্বজনরা জানে না,কোনোদিন হয়তো তার মা-বাবা ও জানতে পারবে না.....আমাদের মতো নন-বাইনারি মানুষেরা একে অপরের কাছে নিজেদের একান্ত ব্যাক্তিগত দুঃখ শেয়ার করতে অনেক স্বছন্দ বোধ করি আসলে....নিজের পরিবার,তথাকথিত বন্ধু দের যেসব কথা বলা হয়ে ওঠে না,বলা যায় না ,বলে বোঝানো যায় না,বললে খুন হয়ে যাবার,মানসিক চিকিৎসার নামে দীর্ঘস্থায়ী অত্যাচার,শারীরীক নিগ্রহ,কটুবাক্য বর্ষণ,তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গকৌতুক প্রভৃতি নানা আঘাতের আশঙ্কা থাকে ,নিজেদের বাড়িঘর,আজন্ম সব সম্পর্ক-পরিচয়-আত্মীয়তার বাঁধন ছাড়তে হয়....তখন আমরা নিজেরাই পরস্পরের পরিবার হয়ে উঠি ,একজনের কষ্ট সকলে মিলে অনুভব করি,সবাই মিলে বেঁধে বেঁধে থাকার চেষ্টা করি ,তলে তলে আবার রাজনীতি,ভেদাভেদ ও চলে ,তারপরেও সার্বিক ভাবে solidarity বজায় রাখার চেষ্টা করি সকলেই,কারণ আমরাই একে অপরের পরিবার হয়ে উঠি আমাদের রক্তের সম্পর্কের স্বজনদের সাথে দূরত্ব তৈরি হবার পর,হৃদয়ের বন্ধনে নিজেরা কম্যুনিটির মধ্যেই বৃহৎ এক পরিবার গড়ে তুলি সবাই..... এ কথাগুলো পরের পর্বে আরো বিস্তারিত ভাবে লিখতে চেষ্টা করব,আগে নিজের লিঙ্গায়ত পরিচয় খানা সংক্ষেপে দিয়ে দেবার চেষ্টা করি পরের প্যারাগুলোতে। আর আরো একটা কথা,এই যে মানুষটির কথা লিখলাম,ওর নামটা একটু অন্যভাবে লিখে দিই এখানে,ও যদিও আউট এন্ড প্রাউড....তবু ক্যুইর এথিক্স অনুযায়ী আমি ওর বিনা অনুমতিতে আমি কল আউট করতে পারি না ওকে,সুরক্ষাজনিত কারণেও বটে,তাই নামটা আসল নামের কাছাকাছি রেখেই বলি-শ্যামল গাঙ্গুলি,পদবীটা এক‌ই রেখে নামটা কাছাকাছি অর্থের অন্য শব্দ দিয়ে রিপ্লেস করে দিলাম,যারা কোলকাতার বামপন্থী ক্যুইর ও নারী অধিকার সংক্রান্ত সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলির সাথে যুক্ত ,চিনতে পারবেন হয়তো,যাদবপুর-প্রেসিডেন্সি-সেন্ট জেভিয়ার্স কেন্দ্রিক ছাত্র সংগঠনগুলিতে ও বেশ পরিচিত মুখ ,আমরা দু'জন দুজনকে sister বলেই ডাকি , যদিও ও he/they pronoun ই ব্যবহার করে মূলত,ফেমিনিন প্রোনাউন ব্যবহার করে না তেমন-তবে এই ভার্চুয়াল সিস্টারহুড দুজনেই খুব ভালোভাবে অ্যাক্সেপ্ট করে নিয়েছি ও বন্ডিংও স্ট্রং হয়ে গেছে শুধু হোয়া আর ইনস্টায় কথা বলে বলেই,সব মিলিয়ে এই big sister আমার জীবনে এখনো পর্যন্ত প্রথম এমন একজন মানুষ যার সাথে আমার সামনাসামনি দেখা না হয়েও আমি যাকে ট্রাস্ট করে অনেক নিজস্ব দমচাপা কথা বলতে পারছি ,পারস্পরিক অভিজ্ঞতা,মতামত ফ্রী ভাবে শেয়ার করতে পারছি ,গসিপ,bitching,পিএনপিসি করতে পারছি bff দের মতোন - আমি এজন্য খুব‌ই কৃতজ্ঞ ওর কাছে আর ঈশ্বরের কাছেও,এমন একজন মানুষের সাথে অপ্রত্যাশিতভাবেই পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য।(ওকে এই লেখাটা হোয়াতে পাঠালে কপালে অল্পস্বল্প ঝ্যাঁটার বাড়ি আছে বেশ বুঝতে পারছি,এসব কৃতজ্ঞতা-টিতজ্ঞতার কথা লিখেছি দেখলে গাল খেতে হবে ,তবু লিখলাম,ওর ভূমিকা এখনো পর্যন্ত আমার এই ক্ষুদ্র অকিঞ্চিৎকর জীবনে বিশেষ উল্লেখযোগ্য,তাই না লিখে পারলাম না।)
     
    এবার ঝপ করে আত্মপরিচয়খানা দিয়ে ফেলি,দেবীসূক্তের অম্ভৃণকন্যা বাক্ঋষির শ্লোক উল্লেখ করে "অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম ..." বলে না হোক(যদিও মনে মনে নিজেকে সেই পরিচিতি থেকে পৃথক করে দেখি না -সর্বপ্রকার সত্তায় যে মহামায়া,মহাবিদ্যা ও মহা‌অবিদ্যা স্বরূপ/পা ব্রহ্ম ও শক্তি,সাংখ্যে পুরুষ ও প্রকৃতি রূপে বিরাজিত,যিনি পুরুষ,যিনি নারী;যিনি জীব ,যিনি জড়,মৃতবৎ;যিনি খন্ড,ধূলিকণা ,যিনি পূর্ণ বিশ্বরূপ ,যিনি সকল গুণের আধার স্বরূপ অথচ নির্গুণরূপে প্রকাশিত,এই অসীম ব্রহ্মান্ড যাঁর একমাত্র অনাদি-অনন্ত সচ্চিদানন্দ সত্য সাকার রূপ যা নিরাকারের‌ই সমতুল,যাঁর প্রণাম মন্ত্রে "নমস্তস্মৈ/নমস্তস্যৈ" উভয়‌ই ব্যবহৃত হতে পারে,যিনি সকলের রহমত করনেওয়ালা ,দয়াময়,মঙ্গলময়,উদার ঈশ্বর,সুফি সাধক,বাউলের খুদা,খ্রিস্টের করুণাময় পিতা,মিস্টিক সাধকের উপাস্য বিশ্বপরিবেশের স্বরূপ আনন্দময়,স্বমহিমায় আনন্দের মধ্যে দিয়েই যাঁর নিত্য প্রকাশ, আমাদের পাপ ,অপরাধসমূহ যিনি রক্ত দিয়ে মার্জনা করেন ,মুছে দেন প্রতিনিয়ত-তাঁকেই অনুভব করি অন্তরে ,বাহিরে,সর্বত্র,মল-মূত্র-ধূলিকণা-প্রস্তরখন্ড-প্রস্তরখন্ড,প্রতিমায়,নিজের রক্ত মাংস শিরা অস্থি মজ্জায়,আকাশে বাতাসে ,গাছে,ফুলে,সুরে,বর্ণে আলোয় অন্ধকারে হিংসায় রক্তপাতে ,এই বিরাট পরমাপ্রকৃতিকে আমার থেকে ও অন্য কারোর , অন্য কিছুর থেকে অভিন্ন করে দেখি না:যদিও সম্পূর্ণ সমদৃষ্টি আসতে এখনো অনেক দেরি আছে,এ তো শুধু তত্ত্ব আর দর্শনটুকু জানা,উপলদ্ধি র প্রাথমিক ধাপখানি মাত্র)।
     
    এই পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত ১২ রকমের সেক্স (পুরুষ,নারী,ইন্টারসেক্স/হার্মাফ্রোডাইট,টার্নার সিনড্রোমিক ,ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমিক প্রভৃতি ) আর ৭২ রকমের সেক্সুয়ালিটি/জেন্ডার পরিচয়ের কথা বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ ,গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন,স্কুলে যতোই ইংরাজি ক্লাসে জেন্ডার চেঞ্জ করা শেখাক না কেন "ম্যাসকুলিন/ফেমিনিন" আর "মেল/ফিমেল" বাইনারি মডেল ফলো করে (বিস্তারিত তথ্য চাইলে গুগল মামুকে ধরে ভাল ভেরিফাইড আর্টিকল পড়ুন ,ইবুক পড়ুন বা ব‌ই কিনে পড়ুন,গুরুর প্রকাশ করা সুদীপ্ত পাল এর 'সমকামিতা ও বিবর্তন' ব‌ইটাও পড়তে পারেন ,সস্তায় পুষ্টিকর খাঁটি ইনফো পেতে পারেন,আমি এখানে জেন্ডার স্পেক্ট্রাম ,সেক্সুয়াল প্রেফারেন্সের ফ্লুইডিটির বিশাল বিপুল তত্ত্বজ্ঞান বিতরণ করতে পারছিনা সীমিত পরিসরে,এসব কথা সহজ করে বলতে যে পরিমাণ ইন-ডেপথ নলেজ প্রয়োজন হয় ,তাও আমার নেই,শান্তিনিকেতনে থাকলেই যেমন কেউ রবীন্দ্র সংগীত গাইতে শেখেনা ,নন-বাইনারি জগতের ইনসাইডার হয়েও এইসব কথা আমি সাধারণ উৎসাহী পাঠকের কাছে সহজবোধ্য লেখার মাধ্যমে তুলে ধরতে অপারগ ......ye meri expertise bilkul nai hai,so I am out.তার চেয়ে বরং বলি -
    যেকোন মানুষের এই পৃথিবীতে যৌনপরিচয়ের চারটি,মতান্তরে পাঁচটি প্যারামিটার আছে সাধারণ ভাবে:-
    ১.sexual identity/sex.
    ২.sexual expression/behavior.
    ৩.sexual attraction.
    ৪.sexuality/orientation.
    ৫.জানি না,জানলে কমেন্টে জানিয়ে বাধিত করবেন ,আগাম ধন্যবাদ র‌ইল।
     
    এই চারটি বিষয় দিয়ে কোন মানুষের জেন্ডার ডিটারমাইন করা হয় সাধারণত আধুনিক বিশ্বে।
     
    প্রথমে আসি সেক্সের কথায় ,১২ রকমের সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি হয় আগেই লিখেছি ,কিন্ত দুনিয়াতে অধিকাংশ মানুষ‌ই সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির হিসাবে পুরুষ আর নারী হিসাবেই পৃথিবীতে বাস করেন ,এই সেক্স ব্যপারটা নির্ধারিত হয় শরীরে বর্তমানে উপস্থিত যৌনাঙ্গ ও কিছু ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও গৌণ যৌন লক্ষণগুলির দ্বারা বিচার করে,তাই যাঁদের দেহেই জন্ম থেকে পুরুষ যৌনাঙ্গ রয়েছে তাঁদের সেক্স মেল ও যাঁদের দেহে জন্মগত নারী যৌনাঙ্গ রয়েছে তাঁদের সেক্স ফিমেল হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সরকারি,ব্যাঙ্ক,কর্মক্ষেত্রে ,বিভিন্ন ডকুমেন্টে ও সেক্স বলতে M বা F দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।এর বাইরে ইন্টারসেক্স বা প্রাকৃতিক ভাবে মিশ্র ,অপরিণত বা প্রথাগত পুং-স্ত্রী যৌনাঙ্গের বাইরে অন্যরকম যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মানো মানুষরা আলাদা আলাদা সেক্সের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হন,কিন্ত খাতায়কলমে স্বীকৃতি পান খুব কম‌ই বা ক্রোমোজোমাল বিন্যাসজনিত অসুবিধার কারণে এঁরা প্রায়‌ই অপরিণত বয়সে জটিল ব্যাধি ও মৃত্যুর শিকার হন।
    এছাড়া আছেন T রা, অর্থাৎ ট্রান্সসেক্স মানুষেরা ,রূপান্তরিত মানুষেরা(অর্থাৎ যাঁরা সফল sex Reassignment surgery /SRS এর দ্বারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে পরিবর্তন করেছেন বা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন;মনে রাখতে হবে রূপান্তরকামী transgender ,অর্থাৎ যাঁরা বর্তমান মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রূপান্তর বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েও অর্থনৈতিক,পারিবারিক বা নিজস্ব সুরক্ষা জনিত কারণে নিজেদের জন্মগত যৌনাঙ্গ সম্বলিত দেহে আটকা পড়ে আছেন ও রূপান্তরকামিতা নিয়ে দোলাচলে সংশয়ে থাকা genderqueer মানুষরা কিন্ত transsexual পরিচিতি নিতে পারেন ,সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ ,কিন্ত transsex অর্থে T sex হিসাবে identify করতে পারবেন না,যেমন আমিও না)।এই রূপান্তরিত পুরুষ বা নারীরা অবশ্য নিজেদের ইচ্ছামতো M বা F সেক্স বেছে নেওয়ার অধিকার ও ডিজার্ভ করেন,সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত চয়েস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতামূলক মানসিকতার উপর নির্ভর করে,তিনি T transsex এই non-binary sexual identity তেই সন্তুষ্ট থাকবেন না এত টাকা খরচ করে ,এত শারীরীক,মানসিক ধকল সহ্য করে ,লড়াই করে নিজের দেহকে যে নতুন যৌনাঙ্গসম্বলিত রূপ প্রদান করেছেষ ,সেই অনুযায়ী লিঙ্গপরিচয় বেছে নেবেন M বা F।
     
    আবার যেসব মানুষেরা জন্মসূত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রকার যৌনাঙ্গের অধিকারী ও সেই সেক্সুয়াল আইডেন্টিটিতে সন্তষ্ট, তাঁদের বলা হয় AMAB male (assigned -male-at -birth male )ও AFAB female (assigned -female -at-birth- female), আর যাঁরা নন ও নিজেদের শরীরের যৌনাঙ্গ ও যৌন বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তন করেছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ,তাঁরা হলেন Non AMAB male (জন্মসূত্রে‌ পুরুষদেহী নন,রূপান্তরের মাধ্যমে পুরুষদেহী ) ও এক‌ইভাবে Non AFAB female(জন্মসূত্রে নারীদেহী নন,রূপান্তরের মাধ্যমে নারীদেহের অধিকারিণী)।এই গেলো একটা খুব ব্রিফে সেক্স/সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির গল্পটা,কিছু চোনা তো আছে বটেই,অভিজ্ঞজনেরা শুধরে দেবেন :(((।
     
    এবার আমার সেক্স/সেক্সুয়াল আইডেন্টিটির কথাটা বলি,আমি হলাম গিয়ে আপাতত AMAB male,শরীরে প্রাথমিক ও গৌণ পুংলক্ষণগুলি সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই পরিস্ফুট,একটি আস্ত pp with one little d and two effing balls বর্তমান,এবং সেগুলো পরিবর্তন করার ইচ্ছা কালেভদ্রে মনে হলেও খুব একটা তাগিদ অনুভব করি না ভেতর থেকে,সব ডকুমেন্টে M box এই tick off করি ,বা খুব প্রয়োজনে যদি বাড়ির বাইরে পাবলিক ইউরিনাল ব্যবহার করতে হলে gents' toilet /washroom ই ব্যবহার করি ,অন্য টয়লেটে যাওয়ার খুব একটা ইচ্ছা হয় না ,বসার তুলনায় দাঁড়িয়ে টয়লেট করতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি-সুতরাং সেক্স আপাতত মেল না বলে উপায় কি!কিন্ত মাঝে মাঝে একটা হালকাপাতলা ইচ্ছা সুড়সুড় করে না এমন নয়,বেশ মেয়ে হলে বা মেয়ে হয়ে গেলে কেমন হত! বিশেষত যৌনাঙ্গ ও রেচনাঙ্গ নিয়ে বডি ডিসফোরিয়া(গুগল করে জেনে নিতে পারেন ডিসফোরিয়া কি ও কত রকমের, নাহলে আমিই পরের পর্বগুলোতে লিখব 'খন) না থাকলেও তেমন;গৌণ পুংলক্ষণগুলি যেমন -বডি হেয়ারের আধিক্য, অ্যাকনে প্রবলেম প্রভৃতি নিয়ে অস্বস্তি থাকেই,মনকে প্রবোধ দি এই বলে যে অনেক AMAB মেয়েদের বডি হেয়ার ,পিম্পল এর সমস্যা আছেই আজকালকার দিনে Pcos,pcod র মতো lifestyle disease এর কারণে ,সুতরাং শারীরীক ভাবে মেয়ে হলেই এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার কোনো গ্যারান্টি থাকত না,বরং এই পুরুষদেহের আবরণীটা আমাকে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করে -এ আমির আবরণে যে অন্য নারী আমিটা তাকে পিরিয়ডের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়না,গর্ভধারণ করে সন্তান জন্ম দেবার ব্যথা ,ধকল তাকে কোনদিন নিতে হবে না,তার শুধুমাত্র গর্ভবতী হয়ে পড়ার ভয়ে হাজারো শেকল পড়ে থাকতে হয়না প্রতিমূহুর্তে , তার শুধু বসে মূত্রত্যাগের জন্য Urinary tract and internal infection এর আশঙ্কা বহন করতে হয়না,তার দিকে লোলুপ নেকড়েদের হাত বাড়ানোর সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম অনেকটাই(যদিও পশুরা শিকারের বাছবিচার করে না কার্যক্ষেত্রে),তাকে পুরুষতন্ত্র নারী হিসেবে অন্তত দমিয়ে রেখে ভোগ্যপণ্যের মতো,আবর্জনার মতো ব্যবহার করতে পারে না....জানি এসব‌ই মনের coping mechanism উদ্ভূত ভাবনা,তাও মাঝে মাঝে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই সত্যিই যে নারীর মনটুকু দিয়েছেন বলে ,দেহখানি দেননি,ন‌ইলে এই যে লড়াই চালাতে হচ্ছে ,সে লড়াইএর পুরো প্যারাডাইমটাই শিফট হয়ে যেত ,পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হতো ,অন্যরকম সব বাধা,সব মানুষের‌ই জীবনে সমস্যা,ঘাতপ্রতিঘাত আসে,নিজেদের লড়াইগুলো প্রথম থেকে শেষ‌ পর্যন্ত নিজেদের একাই লড়তে হয় ,তাই এসব ভেবে আজকাল খুব sonder feel করি.....এই বিষয়টা আরো বিস্তৃত ভাবে পরের পর্বগুলোতে লেখার চেষ্টা করব ,আপাতত মুভ অন করি,ন‌ইলে বড্ড প্রসঙ্গান্তরে চলে যাচ্ছি ,কথাগুলো ডিরেলড হয়ে যাচ্ছে,কন্টিনিউটি থাকছে না।পরের পয়েন্টে যাই বরং।
     
    সেক্সুয়াল এক্সপ্রেশন/বিহেভিয়ার বা যৌন ও সামাজিক আচরণ ,ব্যবহার এই ব্যাপারটা খুব‌ই রিলেটিভ ,কারণ সমাজ আগে থেকেই কিছু প্রি-ডিটার্মাইনড অবসোলিট স্ট্যান্ডার্ড সেট করেছে-অমুক অমুক আচরণ 'মেয়েলি',অমুক অমুক আচরণ 'পুরুষালি' অথচ সময়,সমাজ ,মানুষের মানসিক চিন্তাধারা যে ডাইনামিক ,তার নাগাল পায়‌ওনি আর চেষ্টাও করেনি,আসলে তো সমাজ সেই অজগরের মতো ,যেটা থেকেও নেই,আর তার পেটের ভেতর আমরা ব্যাঙের দল জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি অনন্তকাল,এটা বোধহয় মাণ্ডুক্য উপনিষদের‌ই গল্প সম্ভবত,আমার এখন মনে নেই,এক্ষেত্রে সেই ঝরনার মাছ আর কাচের জারের গল্পটাও চলতে পারে,মূল কথাটা হল-সমাজ জিনিসটা বড়ো শূন্যগর্ভ বলেই তার বহরখানা এতো মস্ত করে ফাঁদা,ধর্ম,রাজনীতি,কূটনীতি,আইন-শাসনব্যবস্থা,পুলিশ,সেনা সব দিয়ে সাজানো একটা দিব্যি গোলগাল নিটোল ফোঁপরা।তাই এখন খালি বনানী ঘোষের গাওয়া ঐ রবিগানটাই মনের মধ্য গুনগুনিয়ে ওঠে -"লোকের কথা নিসনে কানে,ফিরিসনে আর হাজার প্রাণে ,যেন রে তোর হৃদয় জানে ,হৃদয়ে তোর আছেন রাজা",কিছুদিন আগে এবিপির "লোকে কি বলবে" নামে যে সেশন টা অনুত্তমা কন্ডাক্ট করছেন, অনুপ্রভাও সেখানে এই গানটার কথাই তুললেন....মনের মিল পেলাম,দেখতে পারেন উৎসাহীরা ইউটিউবে খুঁজে।
     
    যাই হোক, যৌন ও যৌনতাভিত্তিক সামাজিক আচরণের প্রসঙ্গে ফিরি,অনেকরকম যৌন আচরণ হয়,শেষপর্যন্ত সবটাই ব্যক্তিবিশেষের উপর নির্ভরশীল, তবু গবেষণার স্বার্থে বিজ্ঞানীরা ও সমাজতাত্ত্বিকরা নানা লেবেল তৈরি করেছেন যেমন -ম্যাসকুলিন,ফেমিনিন,অ্যান্ড্রোজিনাস(মানে পুরুষদেহী মানুষের তথাকথিত 'মেয়েলি ' আচরণ;মজার ব্যাপার গাইন্যানড্রাস আচরণ তেমন শোনা যায় না কিন্ত,অথচ নারীর মধ্যে "পুরুষালি" আচরণ কিন্ত অমিল নয়,অনেক মেয়েরাই এখন কাজের সুবিধার্থে তথাকথিত"পুরুষালি " ড্রেস ক্যারি করেন স্বচ্ছন্দ ভাবে,এখনো অনেক মেয়েকে ট্যাগ পেতে হয় "গেছো মেয়ে","tomboy"প্রভৃতি ছোট করে চুল কাটা হলে " পুরুষালি " ছাঁটে , এই কিছুদিন আগে অবশ্য ভাটে ইন্দ্রাণীদির সাথে যেমন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে ,তাঁর হেয়ারকাট,প্রোফাইল পিক দেখে জনৈক extraterrestrial dumbass পাবলিক ফোরামে তাঁর সেক্সুয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অযথা হ্যারাসমেন্টের চেষ্টা করে,আমি একজন নন-বাই"নারী" হিসেবে তাঁর কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করি,তাঁর লেখনী চলতে থাকুক,ভালো থাকুন ইন্দ্রাণী ,অনেক শুভেচ্ছা র‌ইলো....কিন্ত ব্রডার পিকচার দেখলে বোঝা যায় পুরুষদেহী মানুষের effeminate আচরণ দেখলে সমাজের ধ্বজাধারীরা যত ক্ষুব্ধ হন ,নারীর "পুরুষালি" আচরণে তত ক্ষুব্ধ হন না ,হয়তো অবচেতনে ভাবেন ,নারী পুরুষের নকল করার চেষ্টায় মজে থাকলে থাকুক,কিন্ত পুরুষদেহীরা কেন "নারীসুলভ" আচরণ করবেন বা নারী হতে চাইবেন,সে তো social demotion এর সামিল.....মানে সত্যি,wtf is wrong with this society and its double standards?বিরক্ত লাগে মাঝেমাঝে,সব ছেড়েছুড়ে নির্জন প্রকৃতির কোলে পালিয়ে যাই ,সেখানে সবুজ গাছেরা আমায় বা আমাদের মত মানুষদের দেখে মুখ বাঁকায় না,ঝিরিঝিরি হাওয়া ব‌ওয়া বন্ধ হয়না ঘৃণায় ,এই সব সুনীল আকাশ ,উদাস উদার বাতাস,সমুদ্র ,পাহাড়,বিপুলা প্রকৃতি ,অকৃপণ সূর্যরশ্মি, বারিধারারা আমাদের বিন্দুমাত্র বঞ্চিত করে না ,শুধু মানুষই আঘাত করে ,ঘৃণা করে বিনা যুক্তিতেই,জড় বা অন্যন্য জীবেরা না ,তারা সবসময় ভালো না বাসতে পারুক ,ডিসক্রিমিনেশন ভিত্তিক ঘৃণা,হিংসা ছড়ায় না ধর্ম আর প্রকৃতির দোহাই দিয়ে,যে বানাওটি ধর্ম তারা,মানুষরূপী হিংস্র জীবেরা নিজেরাই মন থেকে গড়েছে আর যে প্রকৃতি আমাদের গড়েছে তারি দোহাই দিয়ে,হাসিও পায়,বিরক্ত ‌ও লাগে।)
     আচ্ছা, দু-'এক কথা বলি জেন্ডারফ্লুইড আইডেন্টিটি এক্সপ্রেশন নিয়ে ,জেন্ডারফ্লুইড আচরণকারীরা নিজেদের সেক্স-সেক্সুয়ালিটি নির্বিশেষে নিজের চয়েজ অনুযায়ী নারী-পুরুষসুলভ আচরণ করেন ,তাঁদের ঐ মুহূর্তের ব্যাক্তিগত চয়েজের ই উপর এটা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল,একজন পুরুষদেহী হয়েও তিনি নারী-পুরুষ উভয় ধরনের সাজ,আচরণ এক্সপ্রেস ,ক্যারি করতে পারেন effortlessly ,একজন জেন্ডারফ্লুইড আচরণশীল নারীদেহীও তাই।(p.s:- জানি,আমি কনভেনশনাল পুরুষ-নারী শব্দবন্ধ ব্যবহার না করে পুরুষদেহী-নারীদেহী ব্যবহার করছি ,tbh আমার নিজের চোখেই একটু creepy ঠেকছে ,কিন্ত যে তাৎপর্যটা আমি imply করতে চাই তা হল,শুধু বাহ্যিক দেহের গঠন,যৌনাঙ্গ দেখে পরিণত মানুষের লিঙ্গনির্ধারণ করা উচিত নয়,তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা,যৌন প্রবণতা,আচরণকে ও সম্মান ও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া উচিত,যেটা বিদ্যালয় জীবন থেকেই ছাত্রছাত্রীদের শেখানো উচিত ও পূর্ণবয়স্ক মানুষদের তো বটেই,এই শিক্ষাটা সকলের‌ই দরকার যে লিঙ্গ-ধর্ম-বর্ণ-জাতি,আর্থ-সামাজিক অবস্থান,সব কিছু নির্বিশেষে সবার‌ই সবাইকে সমান মানুষ হিসেবে সম্মান করা উচিত,এই কথাটা একটা শুকনো নীতিশিক্ষা হিসেবেই থেকে যায় বেশিরভাগ মানুষের কাছে আজকের দিনেও,সেটাই বড় আফশোসের বিষয়।)
     
    আমার নিজের জেন্ডার এক্সপ্রেশন ঠিক অন্য কোন নির্দিষ্ট লেবেল দিয়ে বাঁধা যাবে না,নন-কনফর্মিং বলা যায় ,আমার জেন্ডার এক্সপ্রেশনের সাথে তুলনা দেওয়া যেতে পারে কোন তথাকথিত অলক্ষ্মী,গেছো,টমবয় মেয়ের সাথে,আরেকটু খোলসা করে বলি।আমার ভিতরে যে মেয়ে,যে নারী সে এই বুলশিটে একদম‌ই বিশ্বাস করেনা শুধু সমাজনির্ধারিত কিছু প্রোটোটাইপ আচরণ,কিছু বাহ্যিক সাজগোজ ,যৌনাঙ্গ আর হরমোন দিয়ে নারী বা যেকোন লিঙ্গায়ত পরিচয়ের মানুষকে মাপা যায় -আমি যেমন ,যদি জন্মগত ভাবে cisgender heterosexual straight (এই টার্মগুলোর ব্যাখ্যা ইন্টারনেটে ,ভালো ব‌ই বা প্রবন্ধে খুঁজে নেবেন বা আমিই পরে লিখে দেব অন্য অংশে )নারী হতাম‌ও,আমি খুব একটা সাজগোজ বা ফ্রক,গাউন,শাড়ি জাতীয় "ফেমিনিন" ড্রেস পরতাম না ,এখনো পরার কোন‌ শখ হয় না আমার,femme boy হিসেবেও বা চড়া মেকাপ করা ,এসব শখ আমার অত নেই,ছোটবেলায় যখন জানতাম না ছেলে বা মেয়েদের যৌনাঙ্গ ও শারীরীক গঠন বড়োবয়সে আলাদা হয়ে যায় মানে ছোটবেলায় আমি ভাবতাম সব শিশুরাই এক‌ইরকম শারীরীক গঠনবিশিষ্ট হয় ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে, যে যার ইচ্ছামতো বা বাড়িতে যেমন যাকে সাজানো হয় তেমন সাজে,আমাকে যেমন ছেলেদের জামাকাপড় পরানো হত ও তা নিয়ে আমার কোনো আপত্তিও ছিলনা ,বরং কমফোর্ট‌ই ফিল হত,কিন্ত কল্পনা করতাম বড় হয়ে আমার দেহ ,আমার আশপাশের মা-কাকিমা-দিদিদের মতোই বিকশিত হবে সুন্দরী নারীদেহে,বেশ ফ্রক বা শাড়ি পরে স্কুল-কলেজ যাব,ছোট্ট কাজলের টিপ আর চোখে সরু কাজলের রেখা পরব ,আবার জামা-প্যান্ট ও পরব যেমন ছোটবেলায় পরছি,তারপর আশ্রমে যখন জুনিয়র বেসিকে[class one থেকে five ,আশ্রমের এই পার্টটা কো-এড ছিল,এখান থেকে ফাইভ বা সিক্সে মেয়েরা বেরিয়ে অন্য গার্লস স্কুলে,সাধারণত -আকনা,রমেশ,দেবীশ্বরী,কৃষ্ণ ভামিনী প্রভৃতি হুগলির বিখ্যাত গার্লস স্কুলগুলোতে চলে যেত,আমিও ভাবতাম আকনায় চলে যাব :( ]ভর্তি হলাম তখনও মেয়েদের সাথেই মিশতাম বেশি,ওরাও মিশত খোলামনে,তবে ঝগড়ুটিও ছিল বেশ,সবাই মিলে খেলাধুলো ,হুটোপাটি হত ,কিন্ত মোহভঙ্গের প্রথম ধাক্কাটা লাগল ক্লাস থ্রিতে ,তারপর ক্রমশ বাড়ন্ত বয়সের মেয়েদের যখন শরীর পরিবর্তন দেখলাম চোখের সামনে,প্রথম সন্দেহ হল আমি বোধহয় ঠিকঠাক মেয়ে ন‌ই-এরপর ক্লাস ফাইভে কার না কার বদান্যতায় শরীরী সব ব্যাপার সম্বন্ধে জ্ঞানবৃক্ষের ফলভক্ষণ  হল , আশ্রমের ছেলেপুলেরা তো আবার এসব বিষয়ে এক্সট্রা পাকা অভিজ্ঞরা জানবেন , তো , তারপরেই ধক করে একটা আঘাত শেলের মত বুকে বিঁধলো যে আমার দেহ কোনদিন‌ই প্রাকৃতিক ভাবে নারীদেহে পূর্ণাঙ্গ পরিণতি লাভ করবে না।এই মানসিক ধাক্কাটা লাগার অব্যবহিত পরেই একটা কান্ড হল ।
    ক্রমশ
    অবতরণিকা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Neptune_Pluto | 119.30.39.147 | ২৭ মার্চ ২০২২ ০১:২২505594
  • অসামান্য  লেখা ।..১৯ বছরের কারো এত সংস্কৃত ও ইংলিশ রেফারেন্স সহ এমন লেখা ভাবা যায়না ।..এবার আমার জেন্ডার ফ্লুইডিটি নিয়ে বলি ।..আমি নারী দেহে পুরুষ ।...সেক্স চেঞ্জ সার্জারি করতে চাই ।...জানিনা অনেক টাকা লাগবে কিনা ।..আমি ঘৃণা করি আমার নারী দেহ , নারী কণ্ঠস্বর ।...মেয়েলী পোশাক বাধ্য হয়ে পরি ।...আপনাদের এক সিনিয়র নারী লেখককে দেখে আমি একটূ  বিভ্রান্ত হয়েছিলাম ঠিক ই ।...সে জন্য আপনি অমাকে পেটাতেও চাইতে পারেন ।...তয় আই  চাটগাঁইয়া ফোয়া ।..বিদায় হইলাম ।...ভাল থকিস তু্ই ঊনিশ বছরের ফোয়া ।...থুক্কু মেয়ে ...
  • Neptune_Pluto | 119.30.39.147 | ২৭ মার্চ ২০২২ ০১:২৫505595
  • তুই আরে  ফিটাতো না  ফারিবি ।...আই সেই দূর চাটগাঁ থাকি যে 
  • π | ২৭ মার্চ ২০২২ ১২:২৫505639
  • পড়ছি, লিখতে থাকুন! 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন