ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ত্রিপুরায় সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা

    Shourya Dipta লেখকের গ্রাহক হোন
    ৩০ অক্টোবর ২০২১ | ৭১০ বার পঠিত | রেটিং ৪ (২ জন)
  • গত বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা পুলিশ জানিয়েছে উত্তর ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা একেবারেই "স্বাভাবিক" ছিল, এবং সেখানে কোনও মসজিদ ভাঙচুর বা পোড়ানো হয়নি। কিন্তু ঘটনা কি একেবারেই তাই? কিছুই যখন ঘটেনি তাহলে ত্রিপুরা হটাৎ শিরোনামে এলো কেন?কেনই বা নিজেরদের মসজিদ রক্ষা করার জন্যে একজোট হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে?
    পুলিশের এই দাবির ঠিক দুদিন আগে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সংখ্যাগুরু মুসলিমদের আক্রমণের বিরোধিতা করে ত্রিপুরায় এক মিছিলের ডাক দেয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বাংলাদেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সেই মিছিলের শুরু থেকেই ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে এবং পরিস্থিতি এমন তৈরি করে যেখানে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা মুসলিম পরিবারদের বাড়ি, দোকান ও মসজিদ ভাঙতে শুরু করে দেন।
     
    কে কিসের মাংস খেল, কে "লাভ জিহাদ" করছে এসবের বাহানা বানিয়ে ভারতে প্রায় রোজই মুসলিমদের উপর আক্রমণ চলছে। এই মুসলিম বিরোধী বা সাম্প্রদায়িক প্রচার শুধু কোন এক ব্যক্তি বা কিছু মানুষ করছেন না এটা করা হচ্ছেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তবু সাম্প্রদায়িক হিংসার মৌখিক বিরোধিতা করতে দেখা গেছে, কিন্তু ত্রিপুরার ঘটনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মৌখিক বিরোধিতা তো দূর একটি টুইট পর্যন্ত দেখা যায়নি। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কবে কি মিছিল করেছেন, কোন কার জন্মদিন বা কবে অমিত শাহ কাশ্মীর ভ্রমণ করেছেন সে বিষয়ে টুইট থাকলেও, নেই সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে কোন টুইট। 
     
    লক্ষণীয় বিরোধী দলগুলি যেমন, কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেসও এ বিষয় নীরব। তৃণমূলের নীরব থাকারই কথা কারণ এবারের বিধানসভার নির্বাচনে তার দলের হয়ে ১৬ জন সংঘ পরিবারের সদস্য ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ব্যস্ত অন্যান্য রাজ্যে "গণতন্ত্র" ফেরাতে, এবং নিজের রাজ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কর্মীদের UAPA ধারায় গ্রেপ্তার করতে। শুধু ত্রিপুরাই নয় "গণতন্ত্রের রক্ষক" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার প্রশাসন এ রাজ্যের উত্তরদিনাজপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার ব্যাপারেও নীরব।
     
    ভারতের প্রধানমন্ত্রীই যখন বলেন যারা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করছেন তারা কারা সেটা নাকি তাদের "পোশাক দেখে বোঝা যায়"। তখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে টিকিয়ে রাখার বা আরও প্রসারিত করার চেষ্টাটা স্পষ্ট বোঝা যায়।
     
    সাম্প্রদায়িক হিংসার আড়ালে আসলে মুসলিমদের ব্যবসা লাটে তুললে দিচ্ছে হিন্দু মৌলবাদীরা, বিশেষ করে গুজরাট গণহত্যা তারই প্রমাণ দেয়, এই ব্যবসার জায়গা গুলি সরাসরি দখল করেছে অন্যান্য কর্পোরেট কোম্পানিগুলো এবং এটা দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের যা সমস্যা তার থেকে নজর ঘোড়াতেই উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদের জিগির তোলা হচ্ছে। 
     
    ত্রিপুরার ঘটনা সামগ্রিকভাবে ত্রিপুরার এটাই প্রমান করছে যে প্রতিষ্ঠানিক মদতেই মুসলিমদের গণহত্যা সংগঠিত হচ্ছে। তাই রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার ও পুলিশ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না। আইন ও প্রশাসনকে সরাসরি গণহত্যাকারীদের সাহায্য করার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে। ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে যে ব্যাপক জন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তাকে আবার বিভাজনের মাধ্যমে জিততে চাইছে বিজেপি এবং বিরোধীদের নীরবতা এই সাম্প্রদায়িক হিংসার হাত শক্ত করছে।
     
    যদি কখনও গণআন্দোলনের চাপে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়ও তাকে সুরক্ষিতভাবে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যাতে এই নাটকীয় গ্রেপ্তারি না করতে হয় তাই গণআন্দোলনের কর্মীদেরই "বিপজ্জনক" বলে দমনমূলক আইনে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Swarnava Bhattacharya | ৩০ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৩500420
  • বিজেপি আরএসএসের মুখ। সংসদীয় বিরোধীরা তো নিজেরাই ব্রাহ্মণ্যবাদী ও সফ্ট হিন্দুত্ববাদী। আপস তো হবেই।
  • অভীক রায় | 2401:4900:16c1:2889:d657:30ac:452b:f93b | ৩০ অক্টোবর ২০২১ ২১:৩১500464
  • লেখাটা শুরু ভালো হয়েছিল, এগুচ্ছিল ভালো,কিন্তু আপনার গুরুত্বপুর্ণ তত্ত্বকে আরো তুলনামূলক বা পরিসংখ্যান জাত তথ্য দিয়ে আরেকটু বিস্তৃত করতে পারলে লেখার পরিসর আরো বড় হতো, লেখাটাও আরো উৎকৃষ্ট হতো হয়তো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন