• খেরোর খাতা

  • বাংলাতেই কি বাংলাভাষা জলাঞ্জলি যাচ্ছে?

    abhijit sen লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ২২৬ বার পঠিত
  • সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ কিছু মানুষের যে কথাটা ভাবিয়ে তোলে তা হল আমরা কি এই রাজ্যে বসেই বাংলা ভাষার অন্তর্জলি যাত্রা নির্বিকার ভাবে দেখে চলেছি? সম্প্রতি রাজ্য সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষায় এবং রাজ্য সরকারি চাকরিতে এক বর্ন বাংলা না জেনেও পরীক্ষায় বসা যাচ্ছে বা চাকরি পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদে, পুলিশের চাকরির পরীক্ষায়। রাজ্য সরকারি দফতরগুলি সাধারণত গ্রামগঞ্জের অফিসগুলিতে একটুও হিন্দি বা ইংরেজি না জানা, অক্ষরজ্ঞান না জানা, শুধুমাত্র বাংলা বলা মানুষকে পরিষেবা দেয়। পুলিশের ক্ষেত্রে তো এই যোগাযোগ আরো গভীর। এই সব ক্ষেত্রে সরকারি লোকদের যদি বাংলা বুঝতে বা পড়তে অসুবিধা হয়, তাতে অনিবার্য ভাবেই ভুলবোঝাবুঝির অবস্থাই যে তৈরী হয় তাই নয়, এর ফলে মানুষের জন্য সরকারের ব্যবস্থাপনা মুখ থুবড়ে পড়ে, দুর্নীতি বারে, এমনকি অনেক সময়েই গুরুতর আইন শৃংখলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই অবস্থা ক্রমবর্ধমান। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ডাক্তার যদি হিন্দীভাষী হন, তাহলে তিনি নিজে যেমন সাধারন গ্রামীন বাংগালী রোগীর ভাষা বুঝতে পারবেন না, তেমনিভাবে রোগীও তাঁর সমস্যা ডাক্তারকে যথাযথ বোঝাতে পারবেন না, ফলতঃ চিকিৎসাবিভ্রাট অনিবার্য এমনকি এই বিভ্রাটে প্রানহানিও হতে পারে। এই ভাষা সমস্যা অহরহ ঘটে চলেছে কলকাতার নামী সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বিশেষত তরুণ হিন্দীভাষী ডাক্তারদের সংগে। এখানে চিকিৎসার জন্য আসা প্রান্তিক বাংগালীরা নিয়ত একটা হেলাফেলার , সংদিগ্ধ চিকিৎসা পাচ্ছেন মুলত এই ভাষা সমস্যার জন্য। অবশ্যই সরকার এই জাতীয় কোন সমস্যা আছে সেটা স্বীকার করে না কারন তাদের কাছে কোন এই জাতীয় অভিযোগ যায় না। এই সব প্রান্তিক বাংগালীর কার ঘাড়ে কটা মাথা আছে যে ভাষাগত কারনে তুচ্ছতাচ্ছিল্যর শিকার হলে অভিযোগ জানাবে যথাযথ জায়গায়! অতএব অভিযোগ নেই, সমস্যাও নেই! ভারতের কোন রাজ্যেই সেই রাজ্যের ভাষা না জেনে সেখানকার সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না তাহলে এই রাজ্যেও এই ব্যবস্থা চালু হবে না কেন? বহু রাজ্যেই সরকারি বেসরকারি চাকরিতে ও-ই রাজ্যের ভাষাতে পারঙগম এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য প্রায় ৮০% এর বেশি চাকরির সংরক্ষণ থাকে, ( বহুজাতিক আই টি সেক্টর বাদে) তাহলে এই রাজ্যে এই ব্যবস্থা করার অসুবিধা কোথায়? বহু রাজ্যেই মাধ্যমিক পর্যন্ত সেই রাজ্যের ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক (সে যে বোর্ডের স্কুল হোক না কেন), তাহলে এই বাংলায় কেন সমস্ত স্কুলে (বোর্ড নির্বিশেষে) বাংলা মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত আবশ্যিক, বাধ্যতামূলক হবে না কেন? শিক্ষা তো সংবিধানের যুগ্ম তালিকায় তাহলে রাজ্যসরকার কেন এই আইন বিধানসভায় আনছে না? এই প্রশ্নের উত্থাপন কি খুব অন্যায্য বা অন্যায়? নাকি এই দাবি করা কি প্রাদেশিক? কেন একবর্ন বাংলা না জেনে এই রাজ্যের স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে এই রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংগালী কে তার ভাষার জন্য তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস পায়? এই রাজ্যের ব্যাংকের করনিকের চাকরিতে বাংলা না জানা লোকের সংখ্যা বাড়ছে, কেন তাদের বাংলা বাধ্যতামূলক ভাবে শেখানোর জন্য আইন আনা যাবে না? এই অবস্থা ক্রমবর্ধমান। আর এটাই আর এস এস এর বহুদিনের প্রচেষ্টা, যে এই রাজ্যে হিন্দীভাষী র সংখ্যা বাড়িয়ে তোলা, সর্বত্র আস্তে আস্তে হিন্দী চাপিয়ে দেওয়া, আর দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই প্রচেষ্টা সফলতা লাভ করছে শাসক দলের ভুল নীতির জন্য। বাংলায়, বাংগালী রা ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে চলেছে, বাংলা ক্রমশ প্রান্তিক ভাষায় পরিনত হয়ে চলেছে, হিন্দীভাষী দের ক্রমবর্ধমান সংখ্যাধিক্যের কারনে এবং ভাষা, স্থানীয় চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের ভুল নীতির জন্য। বাংলাভাষীকে আজ বাংলায় দাড়িয়ে কিছু উদ্ধতস্বভাব বা সাধারন হিন্দীভাষী অবলীলায় বাংলাদেশী বলে অপমানিত করছে, এন আর সি র ভয় দেখিয়ে ভারত ছাড়া করবে বলে হুমকি দিচ্ছে৷ ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। সরকার বা শাসক দল স্বীকার না করলেও, সাধারন ট্রেনে, বাসে রাস্তায় হেটে বেড়ানো বাংগালীরা পদে পদে এই অবমাননাকর অবস্থার সম্মুখীন হয়ে চলেছে। আর বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের নেতারা, সর্বভারতীয় হওয়ার তাগিদে বাংগালীর এই আত্মপরিচয়ের সংকটকে অগ্রাহ্য করে চলেছে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলা সংস্কৃতিও আস্তে আস্তে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলছে। অবিলম্বে যদি বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষত শাসক দল যদি কোন সদর্থক আইনগত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে অচিরেই বাংগালি নিজ ভুমে পরবাসী হয়ে পড়বে, আত্মপরিচয়ের সংকটে পড়বে, তখন বাংগালী নেতাদের গদিচ্যুত হওয়ারও আশংকা থেকে যাবে। অদ্ভুত ভাবে বাংলা সংবাদমাধ্যমও এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। এর ফলে আমও যাবে ছালাও যাবে, বাংগালী এই বাংলাতেই হিন্দীভাষী দের কাছে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকবে। এটাই ভবিতব্য যদি না আমরা এখনো নড়েচড়ে না বসি।

     

  • বিভাগ : অন্যান্য | ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ২২৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:9b:ec4e:ef0d:ec89:752f | ১৬ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪০499673
  • কোন ভাষাই পার্মানেন্ট না। আমরা এখন যে ভাষাগুলো ব্যবহার করি সেগুলো একশো বছর আগেও এরকম ছিলো না, একশো বছর পরেও এরকম থাকবে না। কাজেই বাংলা ভাষা বা অন্য যেকোন ভাষা যদি আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায় তো ক্ষতি কি? তার বদলে অন্য ভাষা আসবে। 
  • abhijit sen | ১৭ অক্টোবর ২০২১ ১৩:২৬499697
  • তাহলে  শুধুমাত্র হিন্দী ভাষাকে সরকারি কাজকর্মের ভাষা হিসাবে সারা ভারতে স্বীকৃতি দেওয়ার কি যুক্তি? আর অন্যান্য রাজ্যের ভাষাভাষীরাও কি একই ভাবনায়  ভাবিত? যুক্তিপূর্ণ উত্তর পেলে ভালো লাগবে।
  • dc | 122.164.108.196 | ১৭ অক্টোবর ২০২১ ১৪:২৫499698
  • অন্যান্য রাজ্যের ভাষাভাষীদের ভাবনা আমি কি করে জানবো? আমি শুধু আমার ভাবনা জানালাম। 
  • ধুর্ধুর | 43.239.80.118 | ১৭ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৪৯499699
  • সবার সব ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কে কি ভাববে সেটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সবার সব ব্যক্তিগত ব্যাপারে গুরুত্ব দিলে চলে না। যারা জীবীকার প্রয়োজনে অন্য রাজ্যে অন্য দেশে রয়েছেন,সেখানের কালচারে অ্যাডাপটেড, স্থানীয় লোকাল ভাষা কাজ চালানো গোছের শিখে ইংরিজি হিন্দির মাধ্যমেই নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে নিচ্ছেন তাদের মতামত বাংলা ভাষার আলোচনার ক্ষেত্রে দরকার নেই তো। একান্ত নিজেরটুকুর বাইরে, ব্যষ্টির বেরিয়ে ভাবতে না পারার মতো লোকজনের সাথে সমষ্টির সমস্যা আলোচনার মানে নেই তো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন