• খেরোর খাতা

  • স্মৃতিনিবন্ধে দুর্গাপূজা 

    Chayan Samaddar লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৭৮ বার পঠিত
  • দুর্গেতি দৈত্যবচনো হপ্যাকারো নাশবাচকঃ।
    দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা।
    বিপত্তিবাচকো দুর্গশ্চকারো নাশবাচকঃ।
    ত্বং ননাশ পুরা তেন বুধৈদুর্গা প্রকীর্তিতা।। (শব্দকল্পদ্রুম)

    হিন্দুপুরাণে দুর্গার আবির্ভাব নিয়ে একটা কথা কাউকে বলতে শুনি না। সেটা হলো, এই দেবীটি মোটেই ‘মেয়েলি’ নন। যে কাজটা তিনি সবচেয়ে ভালো পারেন, সেটা যুদ্ধ করা। তিনি কোনও পুরুষ দেবতার অধীন নন। তাঁর বাহিনীতেও কোনও পুরুষ নেই। তাঁর সহযোদ্ধা রক্তপিপাসু, ভয়াল সপ্তমাতৃকা আর যোগিনীরা। আদিম, বন্য তাঁদের প্রকৃতি। আর্য প্যান্থিয়নের প্রথম ওয়ারিয়র গডেস মধু বা আসব পানে অভ্যস্থ, মাংসভোজী। খুব পরিষ্কার ভাবে বলতে গেলে, তাঁর ওপর অনার্য ছাপটা খুব প্রকট।

    সমস্ত আর্য দেবীদের যা মডেল, তার মধ্যে এই দেবীটিকে প্রচুর এডিট বা সেনসর করেও, আঁটানো যায় না।

    বালখ বা ব্যাক্ট্রিয়া অঞ্চল থেকে এক সিংহবাহিনী দেবী কেমনভাবে শবর, পুলিন্দ প্রভৃতি আদিম ভারতীয়দের দ্বারা বিন্ধ্যপর্বতে কাত্যায়নী ও কৌশিকী নামে পূজিতা হতে লাগলেন; কেমনভাবে উত্তরভারতে ‘মাতাদি’ হলেন; আর কেমনভাবেই বা ধীরে ধীরে বাঙালির ঘরের মেয়ে উমা হয়ে উঠলেন সেটা একটা অন্য লেখার বিষয়।

    আমার বলার কথা হলো, বঙ্গীয় স্মৃতিনিবন্ধ অনুসারে দুর্গোৎসব একমাত্র পূজা যেখানে ম্লেচ্ছ অধিকার স্বীকৃত। শবরোৎসব দুর্গোৎসবের একটা অপরিহার্য অঙ্গ। সমস্ত দুর্গা পুজোর পদ্ধতিটা যদি স্মৃতিনিবন্ধগুলো থেকে তুলে আনা যায়, তবে দেখা যাবে, পরিশীলিত,সংস্কৃত পূজাবিধির নানা খাঁজ থেকে ঠিকরে আসছে আদিম, হিংস্র মানবিকতার বোধের নানা মাত্রা। আর এগোনর আগে, একটু বুঝে নিই, স্মৃতিনিবন্ধ কাকে বলে।

    মোটামুটি একাদশ শতক থেকে বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম রাজশক্তির দ্রুত উত্থানপতন বাঙালির ধর্মজীবনে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য ও ইসলাম প্রভৃতি ধর্মের নানা প্রভাবের চোরাস্রোতের জন্ম দেয়। এই সময় থেকেই স্মার্ত পণ্ডিতরা নিয়মের নিগড়ে সমাজকে বেঁধে ফেলে ‘ব্রাহ্মণ্য শুদ্ধতা’ নামের ধারণাটাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে চেয়েছিলেন। ১১শ থেকে ১৬শ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভবদেব ভট্ট, জীমূতবাহন, শূলপাণি, প্রমুখ গৃহ্যসূত্র, ধর্মসূত্র ও প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রাদির পর্যালোচনা করে সামাজিক মানুষের আচরণবিধি, পাপক্ষালনের নিয়মাবলী এবং ব্যবহার (যাকে কোড অভ কন্ডাক্ট বলা চলে)-এর রকমসকম ঠিক করে দিতে চান। রচিত হতে থাকে একের পর এক শাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার বা এক জাতীয় গাইডবুক। এগুলোই হলো স্মৃতিনিবন্ধ বা নব্যস্মৃতি। আর, সমস্ত স্মৃতিনিবন্ধকারকে ছাড়িয়ে যান নবদ্বীপের স্মার্ত রঘুনন্দন। আমাদের বিয়ে, শ্রাদ্ধ, পুজোআচ্চা সবই এঁদের লেখা বই আর তার ওপর অন্যদের টীকাটিপ্পনী অনুসরণ করে চলতে থাকে।

    বাংলার স্মৃতিনিবন্ধসমূহে যে সব পুজোর আলোচনা আছে,তাদের মধ্যে দুর্গাপুজোই প্রধান। আজ অবধি এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পুজো। ভারতের কোথাও কোথাও একে ‘নবরাত্রব্রত’ বলা হয়ে থাকে। বসন্তকালে হয় বাসন্তী পূজা, শরৎকালে শারদীয়া পূজা। আমরা দুর্গোৎসব বলতে শারদীয়া পূজাকেই বুঝিয়ে থাকি। এইবার দেখে নেওয়া যাক, এই পুজোর আচার অনুষ্ঠানের আলোচনা বঙ্গীয় স্মৃতিনিবন্ধগ্রন্থগুলি কীভাবে করছে।

    দুর্গাপুজোর ওপর আলোচনার জন্য পণ্ডিতরা মোট ছ’টা প্রধান বইয়ের ওপর নির্ভর করেন -

    ১) জীমূতবাহনের কালবিবেক

    ২) শূলপাণির দুর্গোৎসববিবেক

    ৩) শ্রীনাথ আচার্যচূড়ামণির দুর্গোৎসববিবেক

    ৪) রঘুনন্দনের দুর্গোৎসবতত্ত্ব

    ৫) রঘুনন্দনের দুর্গাপূজাতত্ত্ব

    ৬) রঘুনন্দনের কৃত্যতত্ত্ব

    এই ছ’টা বই মিলিয়ে যদি জানতে চাই যে, দুর্গাপুজো মনের আনন্দে করা যাবে কিনা, তবে স্পষ্ট উত্তর আসবে, না। কাম্যা নয় এ পুজো। একবার করলে বারবার করতে হবে। এ এক নিত্যা পুজো। ভুল করবেন না। কোনও ভক্তিরসের স্থান নেই নিবন্ধকারদের নির্দেশে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পুজো না করে প্রত্যবায়দোষ ঘটালে দেবী ভয়ঙ্করী হয়ে উঠবেন। ধনে-প্রাণে মরতে হবে। ক্রুদ্ধা ভগবতী তস্য কামানিষ্টান নিহ্নন্তি বৈ। বোঝাই যাচ্ছে, একটা টেনশন স্পষ্ট। কোনও এক সামূহিক স্মৃতিরেশের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যে স্মৃতি খুব সুখপ্রদা নয়। এক অজানা আঁধারের ভয়। এক অচেনা সংস্কৃতির অপরত্ত্ব নিয়ে অস্বস্তি।

    যদি অতিরেক মনে হয়, তাহলে একবার পুজোর প্রকারভেদগুলো দেখে নিই আসুন। সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসীভেদে দুর্গাপূজা ত্রিবিধা। সাত্ত্বিকী পূজাতে থাকবে জপ, যজ্ঞ এবং নিরামিষ পূজোপকরণ। রাজসীতে পশুবলি হবে এবং পূজোপকরণ হবে আমিষ। তামসী পুজো সরাসরি কিরাতদের জন্য। এ পুজোয় জপ নেই, যজ্ঞ নেই, মন্ত্র নেই। পূজোপকরণ মদ্য,মাংস প্রভৃতি। আর কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়, বোধ করি। আরও একটা ব্যাপার আছে।

    শূলপাণি বিধান দিয়েছেন যে, ফুল, চন্দন, ধূপ, দীপ ও নৈবেদ্য দিয়ে খুব নমো নমো করেও পুজো সারা যাবে। যাদের সংস্থান নেই তারা শুধু ফুল জল অথবা শুধু জল দিয়েও পুজো করতে পারবে। এই পুজোতে চতুর্বণের অধিকার আছে। আর, সবচেয়ে জরুরী কথা হলো এই যে, সাধারণতঃ হিন্দুর পুজোপার্বণে বর্ণাশ্রমবহির্ভূত ম্লেচ্ছদের অধিকার না থাকলেও, দুর্গাপুজোয় তাদের অধিকার আছে। এইবার নির্দ্বিধায় বলা চলে। বাইরে থেকে এ পুজো আর্য সংস্কৃতিতে এসেছে বলেই এর মধ্যে এত নমনীয়তা। ধনী, দরিদ্র, শবর, কিরাত, শূদ্র - এ পুজো সবার। মানে, এটা একটা সামাজিক মিলনের উৎসব। দুর্গাকে যেমন পুরোপুরি আত্তীকরণ করতে পারেননি আর্য কর্তারা, তেমনই পারেননি তাঁর পুজোর ধরনটাকেও পুরো বদলে দিতে। মনে রাখতে হবে, নব্যস্মৃতিকাররা শাস্ত্রগ্রন্থের সার সংকলন করেছিলেন। ফলে, মূলে যা আছে, তার বাইরে তাঁরা যাননি। আমার কেমন মনে হয়, যেতে চানওনি। বাঙালিদের যে বরাবরই একটু আর্যসংস্কৃতির মূল স্রোতের উলটোদিকে চলার প্রবণতা ছিল, সেকথা তাঁর বিভিন্ন রচনায় বারবার বলেছেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী। আমার বিশ্বাস, রঘুনন্দন, শূলপাণিরা চেয়েছিলেন যে, বাঙালির প্রধান পুজোয় তার মিশ্রসাংস্কৃতিক রূপটা বজায় থাকুক। অংশ নিক আপামর জনগোষ্ঠী।

    বলেছিলাম অনার্যসংস্কৃতিসম্ভূতা দুর্গার মাংস-রুধিরে রুচির কথা। স্মৃতিনিবন্ধগুলি অষ্টমীতিথিতে পশুপাখিবলির বিধান দেয়। দেবীপুরাণে অষ্টমীতিথিতে পশুবলির যে নিষেধ আছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে শূলপাণি তাঁর দুর্গোৎসববিবেক-এ বলেন – ইতি দেবীপুরাণীয়ং তদষ্টমীক্ষণে সন্ধিপূজা-বলিদাননিষেধকমিতি : কেবল সন্ধিপুজোর অষ্টমীক্ষণে বলিদান নিষিদ্ধ। বলিদানের পর পশুর ‘শীর্ষ’ ও ‘রুধির’ দেবীকে দানের ব্যবস্থা আছে। মহিষবলি হলে সমাংস রুধির দেবীকে দান করতে বারণ করছেন শূলপাণি। তিনি বলছেন, শুধু রক্ত দিলেই চলবে! তিনমাসের কমবয়সী পশুপাখি, মাদীপশু, বুড়ো হয়ে যাওয়া, রুগ্ন, ঘেয়ো, লেজ কাটা-শিং ভাঙা পশুবলি নিষিদ্ধ। তাহলে, বলির জন্য প্রশস্ত কোন কোন পশু? ছাগ, মেষ, মহিষ,কোনও কোনও প্রকার হরিণ, শুয়োর, গণ্ডার, গোসাপ, বাঘ, কচ্ছপ, মানুষ! (দুর্গোৎসববিবেক, পৃঃ ১৯)। নানা শাস্ত্রকারের, বিশেষতঃ মনুর, প্রমাণ অনুসারে বঙ্গীয় স্মার্তেরা প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন যে, পশুবলি সাধারণতঃ গর্হিত হলেও দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে এটি পাপজনক নয়।

    এই সমস্ত কিছু থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দুর্গাপুজোর ওপর অনার্যপ্রভাব সুস্পষ্ট। লক্ষ্য করুন, এই বলি প্রথাটার মধ্যে থেকে এমন একটা সমাজের ছবি উঠে আসছে যেখানে নরবলিপ্রথা আছে, আবার অসুস্থ, অক্ষম পশু-পাখি এবং স্ত্রী ও শিশুর প্রতি মমতাও আছে। এটা একটা সম্পূর্ণ আলাদা যাপনছবি। আমার মনে হয়, স্মার্তরা, অন্তত তত্ত্বগতভাবে, এই আদিম হিংস্রতাকে ছাড় দিয়ে আমাদের অন্তর্গত রক্ততৃষ্ণাকে বাইরে আনার একটা উপায় রেখে দিয়েছেন। তত্ত্বগতভাবে, কারণ, কোনও দুর্গাপুজোয় গণ্ডার, বাঘ বা মানুষ বলি হয়েছে, এমন কোনও নজিরের কথা অন্তত আমরা জানি নে। আসলে, এটা এ’ পুজোর উৎসমূলকে স্বীকৃতি জানানো। স্মার্তরা এও বলছেন যে, কুমড়ো এবং আখ বলিও দেবীর কাছে সমান প্রীতিকর। সহিংস–অহিংসের এক বিচিত্র সহাবস্থান। এটাই হওয়ার কথা। যে সময় শূলপাণি–রঘুনন্দন লিখছেন সেই সময়েই বাংলার মাটি ভিজছে বৈষ্ণবধর্মের প্রেমরসে। দুর্গাপুজোতে শ্রেণী-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকারের দর্শনের পেছনে তার প্রভাব যে ছিল না, একথা জোর দিয়ে বলা যায় না।

    দশমী তিথিতে ‘শবরোৎসব’ নামে একটা অনুষ্ঠানের বিধি বঙ্গীয় স্মৃতিনিবন্ধগুলোয় দেখা যায়। এতে ‘ভগলিঙ্গাভিধান’ দ্বারা একে অপরকে গালাগাল করতে হয়। মানে, একেবারে স্ত্রী-পুরুষের জননেন্দ্রিয়ের প্রাকৃত নাম ধরে কাঁচা খিস্তি! তাঁর কালবিবেক-এ জীমূতবাহন বলছেন গালি না দিলে বা না খেলে, দেবী রাগ করবেন। তিনি এও বলছেন যে, শবরদের মতো সারা দেহ পাতায় ঢেকে, কাদা মেখে, বাজনার তালে তালে নাচ, গানও করতে হয় এই উৎসবে। অন্তত একটা দিনে ভদ্রলোক-ছোটোলোক ভেদ ঘুচে যাক; আমাদের ভেতরের আদিমতা মুক্তি পাক; ভারতভূমের তথা বাংলার আদিতম অধিবাসীরা একটা স্বীকৃতি পাক – এটাই কি চেয়েছিলেন স্মার্তরা? যদি তাই হয়, তবে তাঁদের আধুনিকতার দিকে তাজ্জব হয়ে চেয়ে থাকতে হয়। বাখতিনের কার্নিভালেস্ক তত্ত্বের বুকনি ঝাড়ার আগে এঁদের একটা পেন্নাম ঠুকতে হয়।

    শুরুতে বলেছিলাম মানবিকতার নানা বোধ আর মাত্রার কথা। শেষেও তাই বলছি। দুর্গাপুজোর মুখ্য উদ্দেশ্য সামাজিক মিলন। মানুষের শুভ হওয়া। তাই, এ পুজোর মধ্যে এত স্তর। এত মিশেল। এত দ্বান্দ্বিকতা। এ পুজোয় আমি নিরামিষ খেতে পারি, মাংসে পেট ভরাতে পারি, মাল টেনে টাল হতে পারি, উদোম খিস্তি মারতে পারি, গায়ে কাদা মেখে নাচতে পারি। কোনওটাই ‘অশাস্ত্রীয়’ হবে না। মানুষের জন্য শাস্ত্র, শাস্ত্রের জন্য মানুষ নয় – এই কথাটা নব্যস্মৃতি দুর্গাপুজোর মধ্যে দিয়ে যত স্পষ্ট করে বোঝায়, আর কোথাও তার নজির মেলে না।

    ঋণস্বীকার –
    ১) স্মৃতিশাস্ত্রে বাঙ্গালী – শ্রী সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
    ২) দুর্গাবিষয়ক দু’চার কথা – শ্রী শিবাংশু দে
     
    (আখরপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত)
  • আরও পড়ুন
    রণছোড় - Chayan Samaddar
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৭৮ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন