এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শোলে এবং সত্যজিৎ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৮৩৫৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (৩ জন)
  • বেনেগাল লিখেছেন, "বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সবসময়েই ভেবেছে, সত্যজিৎ রায় ভারতের জন্য ঠিক কাজ করছেননা। রাজকাপুরের সঙ্গে তাঁর একবার বিরাট ঝামেলা হয়েছিল। রাজ কাপুরের সিনেমা 'জাগতে রহো' পরিচালনা করেছিলেন বাংলার বিখ্যাত নাট্যপরিচালক শম্ভূ মিত্র। সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের যা উচ্চতা, নাটকে তিনি তার সমানই ছিলেন। শম্ভূ সিনেমাটা বানিয়েছিলেন, এবং ১৯৬৪তে কারলভি ভেরি উৎসবে সেটা রাজকাপুরকে সেটা একটা পুরষ্কারও জিতিয়ে দেয়। ওই একই বছর ভেনিসে অপরাজিত জেতে স্বর্ণ সিংহ। তারপর রাজকাপুর এবং সত্যজিৎ রায়ের কোনো একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়। সত্যজিৎ বলেন, বাংলা সিনেমার জন্য এটা একটা বিরাট সম্মান। 
     
    রাজ কাপুর বলেন, 'বাংলা কেন, আপনি ভারতীয় না? আপনি কেন বলেন, আপনি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক?'
     
    সত্যজিৎ বলেন, কারণ, 'আমি একজন বাঙালি চিত্রপরিচালক'। 
     
    রাজ কাপুর বলেন, 'ভগবানের দিব্যি, আপনি নিজেকে ভারতীয় চিত্রপরিচালক বলতে পারেননা কেন?'" *
     
    বোম্বের সঙ্গে, দিল্লির সঙ্গে বাঙালির এই দড়ি-টানাটানি সেই ১৯৪৭ থেকে। দেশভাগের পর এই সেই সময়, বাংলা যখন প্রবল গাড্ডায় । বাংলা সিনেমার বাজার এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে গেছে, বিপুল সংখ্যক হল পূর্ব পাকিস্তানে চলে গেছে, এক তৃতীয়াংশ স্টুডিওর কাজ নেই। তদুপরি ফিনান্সের সংকট, একটা একটা করে ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিউ থিয়েটার্স সহ বড় প্রতিষ্ঠানগুলি ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা সিনেমা রপ্তানির ব্যবস্থা না বোম্বের সিনেমাকে বিশ্বজুড়ে প্রোমোট করছে। কলকাতা থেকে বোম্বেতে ব্রেনড্রেন চলছে। হিন্দি সিনেমাকেই সরকারি মদতে "ভারতীয়" সিনেমা হিসেবে প্রোজেক্ট করা হচ্ছে। যার একমাত্র অর্থ হল, সিনেমার অন্য কেন্দ্রগুলিকে ধ্বংস করা। বাংলার সিনেমা তারপরেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। একদিকে সত্যজিৎ রায়রা। অন্যদিকে মায়ামায় সাদাকালো জনপ্রিয় জলছবি। বাঙালি রোমান্স, বাঙালির  রূপকথা, উত্তম-সুচিত্রার মহাজুটি এমনি আসেনি। চড়াদাগের রঙিন মোটাদাগের হিন্দি সিনেমার জবাবে সেই ছিল বাংলার শৈল্পিক প্রতিরোধ। সত্যজিৎ রায় নামক ঢ্যাঙা লোকটি, একটুও উচ্চকিত না হয়েই, এই প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন। বল্লভভাই প্যাটেল বলেছিলেন, বাঙালি শুধু কাঁদতে জানে।  নার্গিস বলেছিলেন সত্যজিৎ রায় দারিদ্র‌্য বেচেন। ভুল কিছু বলেননি, ওঁরা ভারতীয়ত্বর নামে মোটা দাগের হিন্দুস্তানি বেচেন, এইটা কেবল বলেননি। 
     
    তো, তারপর যা হয়। মহানায়কের স্বর্ণযুগ তো আসলে ততটা স্বর্ণালী ছিলনা। স্রোতের মতো আসছে, হলে-হলে চলছে, বোম্বের সস্তা সিনেমা। যে পদ্ধতিতে ইংরেজ ধ্বংস করেছিল বাংলার বস্ত্রশিল্পকে, বাংলা সিনেমার ধ্বংস হওয়া তার চেয়ে আলাদা কিছু না। স্বয়ং মহানায়ক এবং মহানায়িকাও দৌড়চ্ছেন বোম্বেতে সিনেমা করতে, স্বর্ণযুগ যে আসলে পতনের যুগ, তার অব্যর্থ প্রমাণ এর চেয়ে বেশি আর কী হয়। এরপর বাংলার লো-টেক, লো-বাজেট শৈল্পিক উৎকর্ষময় সিনেমা-টিনেমা ক্রমশ উঠে যাবে, রাজত্ব করবে চড়া-দাগের হিন্দি সিনেমা। এই নিয়েও চমৎকার মন্তব্য আছে রায়বাবুর। শোলে বেরিয়েছিল ৭৫ সাল নাগাদ। পরবর্তীতে শোলে নিয়ে সত্যজিৎ বলেছিলেন, "খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের"।** এর চেয়ে ভদ্র হ্যাটা আর কী হতে পারে। যে, ব্যাটারা ওয়েস্টার্ন টুকে একটা ফ্ল্যাট ভারতীয়ত্ব খুব দক্ষতার সঙ্গেই বানিয়েছে। কিন্তু ওটা শিল্প হয়নি। এটা কিন্তু "শিল্প হয়নি" বলে এলিটদের নাক কোঁচকানো নয়। এটা হল নকলনবিশীকে হ্যাটা। 
     
    হিন্দি সিনেমা, গান-টান সমেত, এইসময় মূলত টুকে-টুকেই চলেছে। আর দিগ্বিজয় করে ফেলার পর, বাঙালি মননও ক্রমশ ওটাকেই মোক্ষ বলে ভেবেছে। যেভাবে ম্যাঞ্চেস্টারের কাপড় বাজারে জনপ্রিয় হয়েছিল, ফর্মুলা সেই একই। ওটাই বেঞ্চমার্ক হয়ে গেছে। তারপর বাঙালি সেই হিন্দি সিনেমা টুকে-টুকে খারাপতর সিনেমা বানিয়েছে ক্রমশ। সৃষ্টিশীলতা উবে গেছে। মধ্যও না, ক্রমশ নিম্নমেধার কারবার চারদিকে।
     
    তো, সে যা হবার তাইই হচ্ছে, হবে। কিন্তু শোলের কথা উঠলেই, বারবার, ঢ্যাঙা লোকটির "যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের", কথাটা মনে পড়ে। 
     
    *মিহির বোসের বলিউড আ হিস্টরি, পাতা ১৮৮-৯ থেকে অনুদিত।
    ** সাক্ষাৎকার। ইন্ডিয়া টুডে। ১৯৮৩।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 120.22.203.59 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২৩497651
  • তখন মোদীজি আর কোথায় রে ভাই ? উনি তো তখন ঘুনসী পরে নর্মদার জলে কুমীর ধরে বেড়াচ্ছিলেন , নাহলে ওটাই তো টপ চয়েস হত। এসব নেহেরু প্যাটেল দের কে পাত্তা দিতো? । :) :)
  • dc | 2402:e280:2141:9b:cd3:7d6a:9953:dd39 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:৩৩497653
  • সৈকত বাবুর লাস্ট দুটো পোস্ট অনেকটা ক্লিয়ার, সে নিয়ে বিতর্কও করা যায়। এই টইএর শুরুর লেখাটায় হঠাত করে শোলে আর সত্যজিত এসে সব ঘেঁটে ঘন্ট হয়ে গেছিল। 
  • সুকি | 49.207.223.154 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:১১497658
  • এই লেখায় সত্যজিতের কথা ব্যবহৃত হয়েছে - তো এটাও একটু ভাবার যে তাঁর নিজেরও তো লেখা আছে অনেক বাঙলা সিনেমার নানা অবস্থা নিয়ে। তা সেখানে এই সরকারী বঞ্চনার কথা তেমন ভাবে ঈঙ্গিত করেন নি কেন? মৃণাল বাবুর সব লেখা আমি পড়ি নি - কিন্তু ঋত্বিক বাবুর লেখাতেও তেমন সোচ্চার প্রতিবাদ মনে করতে পারছি না (ভুল হতে পারে আমার, মনে আসছে না এই মুতুর্তে, কেউ ধরিয়ে দিলে ভালো হবে)।
     
    ১৯৭৮ সালে পুজো সংখ্যার আনন্দলোকে সত্যজিত লিকেছিলেন "অতীতের বাংলা ছবি"। তো সেই লেখার অরিজিন্যালটা আমার কাছে নেই, কিন্তু ইংরাজী অনুবাদটা আছে। সেখানে শেষের দিকে দেখা যাক কি লিখছেন তিনিঃ
     
    "At the prsent moment, if Bengali ilms have to compete with Hindi movies, we need many more films of the kind that were made by Nirmal Dey. Pure art will never be enough for the industry to survive; at the same time, if Bengali cinema simply tried to imitate Bombay, it will only fall flat on its face. Of course, one needs to consider how many people there are today who can handle their work as well as Nirmal Dey.
     
    Our country has always lacked stories well suitaed to cinema, as well as good script writers. However, what we lack most today are directors who are familiar with every aspect of film-making and who poses a strong sense of responsibility. I do not know how such void can be filled - yet if it is not, we are in serious trouble. I am extremely doubtful whether financial asistance from the fovernment alone will be enough to deal with this crisis".
     
    এই সব আর কি - আলোচনা হলে সব বিস্তারে হওয়াই ভালো। এই পৃথিবীতে কোন কিছুই বিনা অ্যাজেন্ডায় চলে নি - বিশেষ করে রাজনীতি এবং দেশ চালানো। কিন্তু তার উপর সব কিছু চাপিয়ে দেওয়া বালির মধ্যে উঠ পাখির মত মুখ গুঁজে থাকার সমান। 
  • :|: | 174.255.131.176 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:২৫497659
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২৩: "নর্মদা"-র জলেটা মনে হয় নর্দমার জল হবে। 
  • Amit | 103.60.200.23 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৩৩497660
  • পাগল। নর্দমা বললে  দেশে ফিরলেই ইউএপিএ লাগিয়ে ভরে দেবে জেলে। স্টেট্ সিক্রেট ফাঁস করার চার্জে। :) :)
  • সিএস | 49.37.32.200 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:২৪497665
  • সুকির পোস্ট পড়ে মনে হল-

    সত্যজিত রায় '৭৬ সালে বাংলা সিনেমাকে কীরকম হতে হবে সে কথা লিখছেন। তার একটি দিক হল বম্বে সিনেমার নকল না করা আর অন্য দিক হল বাঙালী জীবন নিয়ে ছবি করা, নির্মল দে যেরকম ছবির প্রতিভূ, সাড়ে চুয়াত্তর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আর সৈকত বন্দ্যোপাধ্যয় লিখছে '৫০ থেকে '৭৬ অবধি বাংলা সিনেমা নিজের মতো করে চলে তারপর ভেঙে পড়ছে।

    ভেরি ইন্টারেস্টিং।

    যেন রায় মশাই এই নষ্ট হয়ে যাওয়াটা ধরতে পারছেন, হয়ত সমাজতাত্ত্বিক না বলে দেশভাগ ইত্যাদির সাথে সেই নষ্ট হয়ে যাওয়াকে যুক্ত করছেন না কিন্তু বেঁচে থাকতে গেলে বাংলা সিনেমাকে তার সেরা সময়ের দিকে ফিরতে হবে, সিনেমার practioner হিসেবে সেটুকু বলতে পারছেন। ঈশান হয়ত বলবে, অন্য দৃষ্টি দিয়ে, যে না, সেই ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি আর ছিল না, বাংলা সিনেমা শিল্প তখনই ধ্বংস হয়ে গেছে, যা টিকে থাকার চেষ্টা করবে হিন্দী সিনেমার নকল করে।
  • সিএস | 49.37.32.200 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:২৬497666
  • * সত্যজিত রায় ৭৮ সালে 
  • সিএস | 49.37.32.200 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৮497669
  • আর সত্যজিতের লেখার দ্বিতীয় প্যারায় ব্যক্তির দায়িত্বর কথা এসেছে, সরকারী সাহায্যর ওপর শুধু নির্ভর না করে সেই দায়িত্ব বা ইন্ডিভিজুয়ালের ক্ষমতা ভাল সিনেমা তৈরী করবে। সরকারী সাহায্যের সাথে প ব- এ '৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পরে সিনেমা প্রযোজনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকার বিষয়টি হয়ত যুক্ত। সংস্কৃতিগত অ্যাজেন্ডার জন্যই হোক বা ক্রাইসিসটি বুঝেই হোক, রাজ্য সরকার ভালো সিনেমা বানানোর জন্য টাকা দিত, যেমন হীরক রাজার দেশে সেইভাবেই বানানো। কিন্তু এ ব্যবস্থা মনে হয় না খুব বেশীদিন প্রভাবশালী হয়ে চলেছিল। জনপ্রিয় সিনেমার সিস্টেমটি নষ্ট হয়ে গেলে শুধু সরকারি সাহায্যে ব্যবস্থাটির উন্নতি ঘটানো যায় না মনে হয়। আমার এও সন্দেহ আছে যে ইন্ডিভিজুয়ালের ক্ষমতার ওপরই দায় চাপিয়ে দেওয়ার রায়মশাইয়ের মতটি কতখানি ঠিক,  ট্যালেন্ট মনে হয় স্বয়ম্ভু নয়; সিস্টেমের সাপোর্ট না থাকলে কাজ হয় না। আমার অনুমান এবং  অপ্রমাণিত মত যে বাংলা  সিনেমা  শিল্পটি নষ্ট হয়ে যাওয়া দেখে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির ওপর ভরসা করা ছাড়া সেই সময়ে ওনার আর অন্য উপায় ছিল না। 
  • pi | 14.139.221.129 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:১১497670
  • সরকারি এই সাহায্যের পরিমাপ বছর বছর কীভাবে বেড়েছে বা কমেছে, পরিসংখ্যান আছে? 
  • কোশ্ন | 103.76.82.76 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:৫৯497676
  • হিন্দি ভালো ছবিগুলো তো NFDC র টাকাতেই হত।
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:০১497697
  • হ্যাঁ, আমার কথাটা অন্য সৈকতই লিখে দিয়েছে। এটা তো ৭৮ সালের লেখা। বস্তুত এই একটা লেখাতেই নয়, সত্যজিৎ বাংলা সিনেমা  এবং ইন্ডাস্ট্রির দশা নিয়ে গুচ্ছের হাহাকার করেছেন। সেগুলো প্রায় সবকটাই সত্যি। ৮৩ তে, যে ইন্টারভিউতে শোলে নিয়ে এত কথা, সেখানেই বলেছেন, তিনি টেকনিকাল কাজ সব বোম্বেতে করান। কারণ কলকাতায় ওরকম টেকনিশিয়ান বা সুযোগ নেই। 
     
    তো, এ তো নতুন কথা না। বস্তুত কলকাতা খারাপতর হতে শুরু করে ৫০ সাল থেকেই। স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই।ওই বছরই শিল্পী, কলাকুশলীদের গণনিষ্ক্রমণ শুরু হয়। কলকাতা থেকে বোম্বে তে। আমরা সবাই সেই নামগুলো জানি। বড় স্টুডিওগুলো বন্ধ হয় পাঁচ  ছয় বছরের মধ্যে। বা স্রেফ ভাড়া দেওয়া শুরু হয়। টেকনিকাল এক্সেলেন্স, যা কলকাতার এযাবৎকালের বৈশিষ্ট্য ছিল, সেসবের উন্নতি করা  বন্ধ হয়ে যায়। কলকাতা ক্রমশ বদ্ধ জলায় পরিণত হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৮০, এই তিরিশ বছরে।
     
    পুঁজিহীন, ঢাল-তলোয়ারহীন  বাংলা সিনেমা তিরিশ বছর টিকে ছিল, ওই নির্মল দের পন্থা অবলম্বন করেই। অর্থাৎ, ছোটো পুঁজি, সাদা-কালো ছবি, তাতেও এক্সেলেন্স দেখিয়ে ছবি হিট করানো। অজয় কর, অসিত সেন, অগ্রগামী, অগ্রদূত, -- এঁরা এই জিনিসই করে গেছেন, তিন দশক ধরে।  এঁদের আমরা প্রাপ্য সম্মান দিইনি কখনও। কিন্তু ৭০ এর দশকের পর সেটার পুনরাবৃত্তি আর সম্ভব ছিলনা। ব্যাপারটা, আবারও, সেই তাঁত শিল্পের মতো। এর একশ বছর আগে, অর্থাৎ, ১৮৭৮ সালে ম্যাঞ্চেস্টারের কাপড় পরা অনিবার্য ছিল, কারণ বাংলায় তাঁর শিল্প ব্যাপারটাই বস্তুত উঠে গিয়েছিল। তাতে কোনো ভুল নেই। কিন্তু সেটা ফেয়ার কম্পিটিশনে ওঠেনি। গায়ের জোরে তোলা হয়েছিল। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাপারটাই ছিলনা।   
     
    ৭৮ এর পরেও চেষ্টা হয়নি তা নয়। এই ঘরানার শেষ হিট বাংলা সিনেমা হল দাদার কীর্তি। সেটা হিট করেছিল। ৮০ সালে। কিন্তু তার পরের প্রচেষ্টা ভালোবাসা-ভালোবাসা সাফল্য পায়নি। ১৯৮৪। সেই বছরই সাফল্য পায় শত্রু। সেটা বোম্বের কপি। পরের হিট গুরুদক্ষিণা। সেখানে মেলোড্রামার চূড়ান্ত। এই দুটোই আর বাঙলি ভদ্রলোকের সংস্কৃতি নয়। সাংস্কৃতিকভাবে নিচের তলাকে টার্গেট করে বানানো। এই সাফল্যের মডেলটা বাংলা সিনেমা নিতে বাধ্য হয়। তার কারণ, অমিতাভ বচ্চনের কল্যাণে ততদিনে চড়া মেলোড্রামা, চড়া ডায়লগ, মোটা দাগের গল্প -- থ্যাংকস টু সর্বভারতীয়ত্ব, এগুলো সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে গেছে। লাস্ট অফ দা মোহিকনসরা বিদায় নিচ্ছেন, স্বপন সাহা, অঞ্জন চৌধুরি, তাপস পাল, প্রসেনজিত, শাহরুক এবং আমীরের উত্থান হচ্ছে। আমরা ডিস্কো ড্যান্সারের সুরে নাচছি। হিন্দি সিনেমার ইতিহাসেও সবচেয়ে খারাপ সিনেমাগুলো তৈরি হচ্ছে তখন। আমরা সেগুলোতেই আমদের কৈশোর সমর্পন করছি। ( এবং সেই নস্টালজিয়ার খাতিরে, এখনও সেগুলোকে ভালো বলে চলেছি), আর বাংলা সিনেমা, তার অক্ষম কপি করে চলেছে। এই তো গল্প। 
  • বম্বাইয়ের বম্বেটে | 175.45.142.131 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:১৯497699
  • বম্বাইয়ের বম্বেটে গপ্পে রায় মশাই পষ্ট লিখেচেন বাংলায় মান আর বম্বেতে মানী। লালমোহন বাবুর গপ্পের সিনেমা পরিচালক পুলক ঘোষালের মাধ্যমে উনি বম্বের চড়াদাগের ফিলিমকে ব্যাঙ্গের কশাঘাত করেচেন।
  • বম্বাইয়ের বম্বেটে | 175.45.142.131 | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:২০497700
  • থুড়ি বম্বেতে মানি (টাকা)।
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৫২497704
  • "পরের হিট গুরুদক্ষিণা। সেখানে মেলোড্রামার চূড়ান্ত। এই দুটোই আর বাঙলি ভদ্রলোকের সংস্কৃতি নয়।" অথবা "অমিতাভ বচ্চনের কল্যাণে ততদিনে চড়া মেলোড্রামা, চড়া ডায়লগ, মোটা দাগের গল্প -- থ্যাংকস টু সর্বভারতীয়ত্ব"-ইত্যাদি এই ধরণের নানা মন্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের ভালো কালচার প্রমান করার জন্যে অন্যদেরকে একটা ছকে ফেলে খারাপ দেখানো - এর ​​​​​​​সাথে ​​​​​​​আরএসএস চাড্ডিপনার ​​​​​​​ডিফারেন্স ​​​​​​​টা ঠিক ​​​​​​​কোথায় কেও বোঝাতে পারবেন -?
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৪৭497711
  • ভদ্রলোক একটি ঐতিহাসিক বর্গ। ভারতের ইতিহাসে বাঙালিদের ইউনিক বর্গ। সুমিত সরকার থেকে জয়া চ্যাটার্জি অবধি সবাই ব্যবহার করেছেন। ওটা বাদ দিয়ে বাংলার ইতিহাস লেখা সম্ভব না।
     
    সত্তর আশির হিন্দি সিনেমার সঙ্গে আমাদের অনেকেরই সুখস্মৃতি জড়িত। কেউ আপ্লুত হয়েছি, কেউ ধেই ধেই নেচেছি। তার মানে ওগুলো চড়া এবং মোটা মেলোড্রামা নয় বললে অসত্যকথন হবে। 
     
    হলিউডের র্যাম্বো সিরিজ যেমন একটা চড়া দাগের মোটা সিরিজ ,  যার হয়তো একটা রাজনৈতিক লক্ষ্যও ছিল, অমিতাভর অ্যাংরি ইয়ংম্যান ইমেজও তাই। চড়া, মোটা এবং সম্ভবত রাজনৈতিক লক্ষ্যসম্পন্ন। কোনো ভারতীয় ক্রিটিক আজ পর্যন্ত অস্বীকার করেননি। লক্ষ্য করবেন, সিনেমা মাল্টিপ্লেক্সে সরে আসার পর অমিতাভ স্বয়ং এবং বোম্বের সিনেমারও কেমন চরিত্রবদল হল। নতুন শতাব্দীতে। এগুলো লক্ষ্য না করলে পপ কালচার নিয়ে কীইবা লিখবেন? "আমার শোলে খুবই ভাল লাগে?" লাগুক না। এ নিয়ে আমার তো কোনো তর্ক নেই। শুধু বিশ্বমানবতার স্বার্থে পথের পাঁচালি থেকে রামানন্দ রামায়ন সব সমান, এইটা ক্রিটিকালি বলা যাবেনা। মাপ করবেন।
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:২০497713
  • হতেই পারে "ভারতের ইতিহাসে বাঙালিদের ইউনিক বর্গ। ওটা বাদ দিয়ে বাংলার ইতিহাস লেখা সম্ভব না।"- কোনো দ্বিমত ​​​​​​​নেই। ​​​​​​​সেটা ​​​​​​​নিয়ে ​​​​​​​হাজার ​​​​​​​গন্ডা ​​​​​​​ইতিহাসচর্চা ​​​​​​​চলতে থাকুক। 
    কিন্তু ​​​​​​​জাস্ট সেইটার খাতিরে সেই সো কল্ড ভদ্রলোক কালচারকে টিকিয়ে ​​​​​​​​​​রাখার জন্যে ​​​​​​​​​​​​​​সরকারি ​​​​​​​ট্যাক্স ফান্ড মানি স্পেয়ার করার ​​​​​​​বা মার্কেট ইন্টারভেনশন / রেস্ট্রিক্ট কোনো ​​​​​​​জাস্টিফিকেশন আমি ​​​​​​​অন্তত খুঁজে ​​​​​​​পাইনা। ​​​​​​​আরো ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​প্রায়োরিটি ​​​​​​​আছে ​​​​​​​দেশের ​​​​​​​বা ​​​​​​​রাজ্যের ​​​​​​​কাছে ​​​​​​​যেগুলো ​​​​​​​বেশি ​​​​​​​দরকারি মনে করি। 
     
    ​​​​​​​​​​​​​​​​আর কালের স্বাভাবিক নিয়মেই  ​​​​​​​অনেক ​​​​​​​জিনিস ​​​​​​​ই ​​​​​​​লোপ ​​​​​​​পেয়েছে ​​​​​​​ওভার ​​​​​​​দা ​​​​​​​টাইম। ​​​​​​​গ্রামোফোন , হাতে ​​​​​​​টানা ​​​​​​​রিক্সা , জুড়িগাড়ি ​​​​​​​থেকে ​​​​​​​পালকি, বিয়ে ​​​​​​​বাড়ির ​​​​​​​​​​​ ​​​​​​​​​​​​​
     
    পংক্তি ভোজন , বাংলা পুরাতনী গান -কবিগানের আসর থেকে বাইজি নাচ - সবই একসময় এই বাঙালি কালচারের অঙ্গ ছিল।​ আজকে আর নেই। ​​​​​​​
     
    সুতরাং ​​​​​​​আজকের গ্লোবাল কম্পিটিশনে সেই বাঙালি ভদ্রলোক কালচার বা সিনেমাও নিজের যোগ্যতায় টিকতে পারলে টিকবে , নাহলে জাস্ট কালকের ইতিহাসের অংশ হয়ে থেকে যাবে। সেটা আমার কাছে কোনো সুন্দরবনের বাঘ বা দলমার হাতি নয় যে পরিবেশের খাতিরে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। 
  • সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:৩৮497714
  • এগুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক কথা। ফেয়ার কম্পিটিশনে অসুবিধে থাকবে কেন। এতক্ষণ ধরে দেখালাম, সেটা ছিলনা।লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটাই ছিলনা। এখনও নেই। এর পরে আর দেখাতে পারব না। :-)
  • Amit | 203.0.3.2 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:১৫497718
  • ফেয়ার কম্পিটিশন টাই তো আসল জিজ্ঞাস্য। একটা প্রজেক্ট ​​​​​​​ফ্লো ​​​​​​​চার্ট ​​​​​​​দিয়ে ​​​​​​​দি ​​​​​​​বরং: 
     
    1. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিলোনা  - এগ্রিড। দুনিয়ার হাজারটা কেসেই  থাকেনা। ডিভাইন জাস্টিস ১০০-% ক্ষেত্রে থাকা উচিত বলে মনে করলেও সেটা সবজায়গায় ঘটে না বা কন্ট্রোলে থাকেনা। 
     
    ২। তার কারণ ??- বিবিধ। ইচ্ছাকৃত থেকে কল্যাটেরাল অনেক কিছুই হতে পারে। সাবজেক্ট টু অপিনিওন্স. সবসময় সবার কন্ট্রোলে থাকেনা বা করা হয়না। আর অপিনিওন্ ওপিনিয়ন ই -ফ্যাক্ট নয়। 
     
    3. সেসবের জাস্টিফিকেশন ??- সেটাও বিবিধ।  নানা জনের কাছে নানা ভাবে। এগেন সাবজেক্ট তো অপিনিওন্স। 
     
    যেটা এখানে ফ্যাক্ট - সেটা হলো : এন্ড রেজাল্ট বাংলার ছবিতে লালবাতি জ্বলেছে। এটা নিয়ে বিশেষ কারোর দ্বিমত নেই। 
     
    এবার সেই ফ্যাক্টের থেকে যেদুটো প্রশ্ন আমার উঠে আসছে:
     
    ১। সেই লালবাতি জ্বলাটা কি আপনি জাস্ট ঐতিহাসিক দিক থেকে একটা ওপিনিয়ন পিস্ তৈরী করছেন ? যেটার উদ্দেশ্য শুধু লোকেদের এটার হিস্টোরিক্যাল পার্সপেক্টিভ দেখানো ?
    - সেটা হলে সেইভাবে আলোচনা এগোবে। ওই সময় কি কি করা যেত বা উচিত হতো বা সম্ভব ছিল কিনা ? জাস্ট এক্সচেঞ্জ অফ ডিফারেন্ট অপিনিওন্স। আজকের জন্যে তার আর কোনো সিগ্ফিকেন্স নেই। 
     
    ২। নাকি সেই লালবাতি জ্বলে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রিকে কি আজকে রেভাইভ কিভাবে করা যায় সেটা আজকের পার্স্পেক্টিভ থেকে আলোচনা করতে চাইছেন ? সেক্ষেত্রে আজকের দিনে কি করা উচিত - সেই স্পেসিফিসিস নিয়ে আলোচনা এগোবে এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার বা পাবলিকের প্রায়োরিটি একটা প্রধান আলোচনার বিষয়। 
     
    আর দুটো ক্ষেত্রেই আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় অন্য ভাষার ইন্ডাস্ট্রিকে ছোট করার দরকার আদৌ পড়েনা। সেটা ছাড়াও আলোচনা এগোনো যায় পসিটিভ ফ্রেম অফ মাইন্ড নিয়ে। 
  • dc | 171.49.208.94 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:২২497721
  • "ক লক্ষ্যও ছিল, অমিতাভর অ্যাংরি ইয়ংম্যান ইমেজও তাই। চড়া, মোটা এবং সম্ভবত রাজনৈতিক লক্ষ্যসম্পন্ন"
     
    এটা ১০০% ​​​​​​​সত্যি ​​​​​​​কথা। অমিতাভ বচ্চন ​​​​​​​মাস কমার্শিয়াল ​​​​​​​সিনেমার ​​​​​​​প্রোডাক্ট, ​​​​​​​যার ​​​​​​​টার্গেট ​​​​​​​হলো ​​​​​​​মাস ​​​​​​​মার্কেট ​​​​​​​ক্যাপচার ​​​​​​​করা। ​​​​​​​"অমিতাভ বচ্চন" ব্রান্ডটি ​​​​​​​অত্যন্ত ​​​​​​​সফলভাবে ​​​​​​​সেটা ​​​​​​​করতে ​​​​​​​পেরেছিল, ​​​​​​​আর ​​​​​​​এই ​​​​​​​ব্র‌্যান্ডের ​​​​​​​সোশ্যাল ​​​​​​​বা ​​​​​​​কালচারাল ​​​​​​​ইমপ্যাক্টও ​​​​​​​খুব বড়ো ​​​​​​​ছিলো, ​​​​​​​সত্তর ​​​​​​​আর ​​​​​​​আশির ​​​​​​​দশক ​​​​​​​জুড়ে। ​​​​​​​তবে ​​​​​​​অমিতাভের ​​​​​​​সিনেমায় ​​​​​​​শিল্প ​​​​​​​মনে ​​​​​​​হয় ​​​​​​​কেউই ​​​​​​​খুঁজতে ​​​​​​​যায়না। অমিতাভ ​​​​​​​বচ্চনের ​​​​​​​অয়াক্টিং ​​​​​​​অখাদ্য। ​​​​​​​সিনেমাগুলো ​​​​​​​স্রেফ ​​​​​​​এনটার্টেনমেন্ট ​​​​​​​ছাড়া ​​​​​​​আর কিছু ​​​​​​​না। 
     
    (ডিসক্লেমারঃ অমিতাভের সিনেমা আমি এখনও দেখি, মানে য়ুটুবে ক্লিপগুলো এখনও দেখি)।  
  • কোশ্ন | 43.239.80.196 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:০৫497725
  • তো শোলেতে শিল্প নেই - এতে ঐকমত্য হল? নাকি ন্যাড়াদা আর এলেবেলে এখনো ফাইট দিয়ে যাবেন? 
    "খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের" এটায় এগ্রিমেন্ট হলে তবে না কথা এগোবে। এর পরে এর পালটা ডিফেন্স এলে নাহয় ডিসি রিবিউট করবেন? 
    দেখুন, সাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদার কিছুকাল ‘তদন্ত’ নামে একটি সাপ্তাহিক ডিটেকটিভ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। সেখানে প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের 'দারোগার দপ্তর' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছিল। নবম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, “পাঠক, বুঝিলাম ‘দারোগার দপ্তর’এর জন্য আপনি অত্যন্ত উদ্‌গ্রীব হইয়াছেন, আপনার আর্জি যে উহা এককালীন ছাপান হইতেছে না কেন? পাঠক, দারোগার দপ্তর এককালে ছাপাইতে হইলে, আমাদের নির্ধারিত পৃষ্ঠার সকল পৃষ্ঠাই দপ্তরে পরিণত হয়। ফলে, উহা একটু একটু করিয়া দিতে হইতেছে, ইহাতে আমাদের কষ্টও বড় কম নহে। একটু একটু করিয়া পড়িলে গল্পের সাধারণত ঘটনাই লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সুধীজন যাহাকে আর্ট বলেন, তাহার কথঞ্চিৎও ইহাতে দেখা দেয় না। আর্ট অতি ভীরু বস্তু, বড়ই লাজুক, এতটুকু ইতর বিশেষে তাহার মন্দা হয়। অবশ্য এখানে কি গুরু অপরাধ হইতেছে তাহা জানি না, কারণ, পূর্ব উল্লেখে এই মনে হয় যে, দারোগার দপ্তরকে আর্টের পর্যায়ে ফেলা হইতেছে। গুণী সুধী অপরাধ লইবেন না। ‘জেন্‌টলমেন ইন যুরোপীয়ান ড্রেস’ দেখা সত্ত্বেও ল্যাংট পরিয়া নিরক্ষররাই ঢুকে – আমরা তাহা করিব না।” 
    এই লাস্ট লাইনটা মাস্টারস্ট্রোক। পড়ে একটু ভাববেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এইটা নানা জায়গায় ব্যবহার করব ভেবেছি।
    (পুনশ্চ থেকে সদ্য দারোগার দপ্তর তৃতীয় খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। তার পরিশিষ্টে এই ব্যপারটা লেখা আছে।
  • এলেবেলে | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৫৭497740
  • এলেবেলে অনেক আগে থেকেই এখানে 'ফাইট দেওয়া' বন্ধ করে দিয়েছে। সে এখানে সাকুল্যে দুটো মন্তব্য করেছিল। এখন দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পরে সৈকতের পোচ্চুর লেখা পেয়েছে এবং তিনি সেসব লিখছেন-টিখছেন। আর সেসব লেখায় বাছাই করা লোকজনকে উত্তর দিচ্ছেন। আমি সেই বাছাই তালিকায় থাকার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য - কোনও কিছুই অর্জন করিনি। কাজেই চেপে গেছি।
     
    শোলেতে শিল্প আছে তেমন কথা আমি আদপেই বলিনি। বরং বলেছি যে সপ্তপদীর ওই ন্যাকাস্য ন্যাকা গান (এই পথ যদি না শেষ হয়) এবং সুচিত্রার ও আমাকে টাচ করবে না মার্কা জঘন্য ম্যানারিজমও কোনও অর্থেই শিল্প নয়। ডন যেমন শিল্প নয়, তেমনই বসন্ত বিলাপকেও উচ্চাঙ্গের শিল্প মনে করার কোনও কারণ নেই। এবং জিনাত ও সুপ্রিয়াকে (ঋত্বিক বাদে) চলচ্চিত্র জগৎ একই অর্থে ব্যবহার করেছে।
     
    সঙ্গে এটাও বলতে চেয়েছিলাম ওয়াহিদা রেহমান, উত্তমকুমার, সিমি, মিস শেফালি কিংবা ববিতাকে নেলেওয়ালা লোকের শিল্প নিয়ে জাজমেন্টাল হওয়াকে আমি পাত্তা দিই না। যিনি উত্তাল সত্তরে জন অরণ্য, সীমাবদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বীতে ঘাপটি মেরে থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, তাঁর শিল্প নিয়ে বাতেলাকে অত গুরুত্ব দেওয়ারও কিছু নেই।
  • এলেবেলে | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:০০497742
  • ও হ্যাঁ, চারুলতা মানে যে ছবিকে সত্যজিৎ নিজে 'ফ্ললেস' বলেছিলেন সেটাকে আমি 'খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের' বলে মনে করি।
  • dc | 106.198.0.210 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১০497743
  • "বরং বলেছি যে সপ্তপদীর ওই ন্যাকাস্য ন্যাকা গান (এই পথ যদি না শেষ হয়) এবং সুচিত্রার ও আমাকে টাচ করবে না মার্কা জঘন্য ম্যানারিজমও কোনও অর্থেই শিল্প নয়। ডন যেমন শিল্প নয়, তেমনই বসন্ত বিলাপকেও উচ্চাঙ্গের শিল্প মনে করার কোনও কারণ নেই।"
     
    এলেবেলের সাথে 100% শুধু ​​​​​​​না, ​​​​​​​১১০% ​​​​​​​একমত। ​​​​​​​একেবারে ​​​​​​​আমার ​​​​​​​মনের ​​​​​​​কথা ​​​​​​​লিখেছেন। 
     
    বাংলা সিনেমা কেন উঠে গেল আর হিন্দি সিনেমা কেন জনপ্রিয় হলো, সেই তর্কে হিন্দি সিনেমার শিল্প বা শিল্পহীনতা আনারই কোন মানে হয়না। হিন্দি সিনেমা কমার্শিয়াল সিনেমা, তার এনটারটেনমেন্ট ভ্যালু আছে। হিন্দি সিনেমা দেখার সময়ে কেউ শিল্পবিচার করতে বসে নাকি? 
  • dc | 106.198.0.210 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:১১497744
  • চারুলতা দেখিনি, তাই সে নিয়ে কোন কমেন্ট করবো না। 
  • খিকখিক | 69.65.43.86 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৯:২০497750
  • এলেবেলেবাবু এট্টু পাত্তা চান। ওনাকে এট্টু পাত্তা দেওয়া হউক।
  • এলেবেলে | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০:১১497752
  • কেন গন্ধগোকুল ওয়ান লাইনার, আপনি পাত্তা দিয়েছেন তো। ওতেই চলে যাবে। তবে কিনা অমিতাভ চট্টোপাধ্যায় ও দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের বইদুটো সে ৮৮ সালেই কিনে ফেলেছিল। সম্ভবত বিষয় চলচ্চিত্রটাও। তা তখন আপনি হাফ প্যান্টুল না কোমরে ঘুনসি?
  • হেহে | 216.244.74.202 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৪২497759
  • "ও হ্যাঁ, চারুলতা মানে যে ছবিকে সত্যজিৎ নিজে 'ফ্ললেস' বলেছিলেন সেটাকে আমি 'খুবই দক্ষ, খুবই যোগ্য সিনেমা, যদিও শৈল্পিক ভাবে খুবই নিচু মানের' বলে মনে করি।"
    এই জদি বক্তব্য হয়, ত বই কিনে লাভ কিচু হচ্চে নারে বাপু! মগজে ঘুঁটে থাকলে বই কিনে বেকার পয়সা নষ্ট।
     
    মানিকদার সিনেমা দুনিয়ার লোক সিল্পো বলে অস্কার ফস্কার দিয়ে ফেল্লো, আমঘাটার উনি এলেন  ফিলিম রিভিউ কত্তে। যান মাতাল রিত্বিকের প্যানপেনে মেলোড্রামা দেখুন গে। গেরামের যাত্রাপালা দেখা যাদের অব্যেস, তাদের চোকে ওইটেই সিল্পো! কল্কেতার রুচিশীল পরিবেশে ওসব চলেনা।
  • সম্বিৎ | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫২497760
    • কোশ্ন | 43.239.80.196 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:০৫497725
    • তো শোলেতে শিল্প নেই - এতে ঐকমত্য হল? নাকি ন্যাড়াদা আর এলেবেলে এখনো ফাইট দিয়ে যাবেন? 
     
    ফাইট-টাইটের কোন গল্প নেই। বিশেষতঃ সিল্পো নিয়ে। আমি মনে করি শোলেতে সিল্পো আছে। কিন্তু তা নিয়ে লড়াই করার ইচ্ছে, সময়, সামর্থ্য কোনটাই নেই।
     
    যা বুঝলাম, প্রতিপাদ্য সেইটা নয়। মূল প্রতিপাদ্যর যে সিরিয়াল চলছে, তাতে শোলে সিল্পো না সিল্পো নয় একটা এপিসোড মাত্র। সিরিয়ালের গল্প হল, বাংলার যে সব অ্যাডভান্টেজ ছিল - ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন দিয়ে, ফিনানশিয়াল ক্যাপিটাল মুভ করিয়ে ... ইত্যাদি সেই অ্যাডভান্টেজ নালিফাই করে দেওয়া খুব ভুল - সেটাই 'কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ', সেটাই পরিকল্পিত বাংলা-বিরোধী চক্রান্ত। ওসব না হলে আমরা এত ধ্যাড়াতাম না। তো আমি এই থিসিস্টায় পুরো সাবস্ক্রাইব করিনা। গেল পঁচিশ বছর ধরে নেটে এ জিনিস দেখে ও পড়ে আসছি, নিউজগ্রুপের আমল থেকে। পক্ষে-বিপক্ষের সব যুক্তিই মোটামুটি দেখা-পড়া হয়ে গেছে। নতুন কিছু শোনারও নেই, যোগ করারও নেই।
  • এলেবেলে | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:১১497761
  • তা বাওয়া প্রতিভাবান নেড়ুখোকন, ভুবন সোমের বাজেট কত? স্ক্রিপ্ট ক'পাতার? উৎপল দত্ত, শেখর বন্দ্যো, সাধু মেহের, সুহাসিনী মুলে, কে কে মহাজন আর কচ্ছ নিয়ে সেটা সিলপো হয়েছিল? নাকি শতরঞ্জ কি খিলাড়ি মার্কা আরেক নেড়ুখোকন পিরিয়ড পিস কত্তে গিয়ে সঞ্জীবকুমার, আমজাদ খান, সৈয়দ জাফরি (অহো কী অবিনয়!), শাবানা আজমি, রিচার্ড অ্যাটেনবরো, গোটা আষ্টেক খেরোর খাতা, অসংখ্য ড্রয়িং আর স্কেচ, লখনউ ইত্যাদি প্রভৃতি লেগেছিল। এবং শাল না পেয়ে বসন্ত চৌধুরীকে খিস্তোতে হয়েছিল? ওই চুষিকাঠি নিয়ে বই দ্যাখো বরং, ছবি বস্তুটা তোমার হজম হওয়ার কতা নয় খোকা। হে হে।
  • dc | 122.183.166.239 | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:২১497762
  • আচ্ছা শোলে নিয়ে এতো কথা যখন হলই তখন আরডির থিম মিউজিকটা শুনে নিন। আমার শোনা ওয়ান অফ দ্য বেস্ট, এটা শুনতে শুনতে তর্ক আরও ভালো জমবেঃ 
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন