ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বর্তমান পরিস্থিতি এবং  বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রাসঙ্গিকতা 

    subhashis bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ আগস্ট ২০২১ | ৪৬৮ বার পঠিত
  • আজ যখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার বিষ আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ছে, আর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের পায়ের তলায়, তখন আবার করে জরুরী হয়ে পড়েছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

    কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৬ সালে, ‘আমার কৈফিয়ৎ’ (সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ) কবিতাটি লেখেন।
    'আমার কৈফিয়ৎ' কবিতায়, কবি সেই সময়ের যে সাম্প্রদায়িকতার যে ছবি এঁকেছেন, তা আজকেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

    মৌ-লোভী যত মৌলবী আর মোল্-লা’রা ক’ন হাত নেড়ে,
    দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!
    ফতোয়া দিলাম - কাফের কাজী ও,
    যদিও শহীদ হইতে রাজী ও!
    ‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!
    হিন্দুরা ভাবে,‘পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা’ত-নেড়ে!’

    তখন স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে এবং রাজনৈতিক নেতারা সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু বৃহত্তর স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশাপাশি অনেক রাজনৈতিক নেতাই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতির যে ছবি নজরুল এঁকেছেন আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে, তা আজকে কি সমানভাবে প্রযোজ্য নয় ?

    আমি বলি, ওরে কথা শোন ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস খোশ-হালে!
    প্রায় ‘হাফ’-নেতা হ’য়ে উঠেছিস, এবার এ দাঁও ফসকালে
    ‘ফুল’-নেতা আর হবিনে যে হায়!
    বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায়
    গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা! সেই তালে
    নিস তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে।

    তখনো স্বাধীনতা আসে নি। নজরুল লিখছেন, যে স্বাধীনতা মানুষের পেটে দুবেলা খাবার জোটাতে পারে না, সে স্বাধীনতা ব্যর্থ। মনে রাখা দরকার এই কবিতা কিন্তু পরবর্তী সত্তর দশকের নকশাল আন্দোলনের ‘এ আজাদী ঝুটা হ্যায়’ স্লোগানের প্রায় ৫০ বছর আগে লেখা।

    বোঝে না ক’ যে সে চারণের বেশে ফেরে দেশে দেশে গান গেয়ে,
    গান শুন সবে ভাবে, ভাবনা কি! দিন যাবে এবে পান খেয়ে!
    রবে না ক’ ম্যালেরিয়া মহামারী,
    স্বরাজ আসিছে চ’ড়ে জুড়ি-গাড়ী,
    চাঁদা চাই, তারা ক্ষুধার অন্ন এনে দেয়, কাঁদে ছেলে-মেয়ে।
    মাতা কয়, ওরে চুপ্‌ হতভাগা, স্বরাজ আসে যে, দেখ্‌ চেয়ে!

    ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত, একটু নুন,
    বেলা ব’য়ে যায়, খায়নি ক’ বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন।
    কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়,
    স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায়!
    কেঁদে বলি, ওগো ভগবান তুমি আজিও আছে কি? কালি ও চুন
    কেন ওঠে না ক’ তাহাদের গালে, যারা খায় এই শিশুর খুন?

    আমরা ত জানি, স্বরাজ আনিতে পোড়া বার্তাকু এনেছি খাস!
    কত শত কোটি ক্ষুধিত শিশুর ক্ষুধা নিঙাড়িয়া কাড়িয়া গ্রাস
    এল কোটি টাকা, এল না স্বরাজ!
    টাকা দিতে নারে ভুখারি সমাজ।
    মা’র বুক হ’তে ছেলে কেড়ে খায়, মোরা বলি, বাঘ, খাও হে ঘাস!
    হেরিনু, জননী মাগিছে ভিক্ষা ঢেকে রেখে ঘরে ছেলের লাশ!

    যদিও কবি নিজে সবিনয়ে লিখেছেন যে, রবি কবির মত চিরকালীন বাণী লেখা তাঁর কম্ম নয়। তিনি শুধু তাঁর সমকালকে ঘা মেরে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তবু সকল সমকালেই লুকিয়ে থাকে চিরকালীন পথচলা, তাই যা কিছু প্রকৃত অর্থে সমকালীন তা হয়ে ওঠে চিরকালীন।

    বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
    কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
    কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
    ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
    যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?
    দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!’

    সেই চিরকালীন কবিকে আজকের এক নগণ্য অ-কবির প্রণাম।

    /-শুভাশিস
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন