• খেরোর খাতা

  • বাবা 

    Mousumi GhoshDas লেখকের গ্রাহক হোন
    ২০ জুন ২০২১ | ১২৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • একদিন অফিস সেরে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলে তুমি। হঠাৎ দেখলে সামান্য দূরে রাস্তার পাশে যে বালির ঢিবি, তার ওপর দাঁড়িয়ে একটা সাড়ে তিন বছরের মেয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছে।


    হয়তো রাস্তার বা কোয়ার্টারের কোন কাজ হবে বলে বালি ঢিবি করে রাখা ছিল। সেখানেই বেশ কিছু চার/পাঁচের বাচ্চা ছেলেমেয়ে উঠে হুটোপুটি করছিল। একবার চূড়ায় উঠছে নামছে। যখন খেলা শেষ করে সবাই নেমে চলে গেছে। তখন সেই মেয়েটি নামতে পারছিল না। কেবলই ভয় পাচ্ছে আর ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে সেই বালুর ঢিবিতে দাঁড়িয়ে।  মেয়েটির চোখের জলে, নাকের জলে কাজল ধুয়ে লেপ্টে মুখে মাখামাখি। চেনার উপায় নেই। এগিয়ে গেলে তুমি। চিনতে পেরে হাত ধরে নামিয়ে এনে স্নেহ মাখা গলায় বললে, "দূর হাবা মেয়ে, এইটুকু উঁচু থেকে নামতে ভয় পাচ্ছিলি?" 


    পড়ে বড় হয়ে সেই হাবা মেয়েটি জানতে পেরেছিল তার 


    উচ্চতা ভীতি মানে Acrophobia আছে।


     একবার দুর্গা পূজা দেখতে বেরিয়ে হাবা মেয়েটি হারিয়ে গিয়েছিল মানে দলছুট হয়েছিল। সে হা করে দেখছিল মা দুর্গার মুখ। কেমন সুন্দর করে মা তাকিয়ে আছেন একেবারে তারই দিকে। ততক্ষণে সবাই এগিয়ে গেছে বেশ খানিকটা দূরে। এদিকে গিজগিজ করছে ভিড়। হাবা মেয়েটা কি করবে বুঝতে না পেরে প্যান্ডেলের এক কোনে দাঁড়িয়ে যেই কাঁদতে যাবে, অমনি তুমি এগিয়ে এসে হাত ধরলে, "বাইরে বেরোলে সবসময় দলের সঙ্গে থাকতে হয়, বড়দের হাত ছাড়তে নেই, দেখছিস তো কত ভিড়"। 


    এছাড়াও আরও কত কত স্মৃতি বলে শেষ করা যাবে না। সে অন্য কোথাও লিখবো পরে।   


    তবে, জ্ঞান হবার পর থেকে তোমায় যতটা দেখেছি, তুমি খুব গম্ভীর মানুষ। তুমি মনে করতে সন্তানদের কাছে একটা গাম্ভীর্যের মুখোশ পরে থাকা উচিত, নইলে ছেলেমেয়েরা মানুষ হয় না। তাই ছোট বেলা থেকেই বাবা-মেয়ের মধ্যে যে সহজ সরল বন্ধুত্বের সম্পর্ক -তা কোনো দিনই গড়ে ওঠেনি আমাদের। বাবা বাড়ি থাকলে চুপচাপ থাকতে হয়, সময় মতো সব কাজ সারতে হয়, মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়, মোট কথা ভালো বাচ্চা হয়ে থাকতে হয়। 


    কিন্তু একটু বড়ো হওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনাক্রমে বুঝেছি এই গাম্ভীর্যের আড়ালে তোমার অসীম স্নেহ ভালোবাসা এবং সন্তান-পরিবারের জন্য তুমি কতটা দুর্বল ছিলে মনেপ্রাণে। 


    লেখাপড়া শেখা তোমার কাছেই। কোন বিষয় নিয়ে পড়বো তাও তুমিই ঠিক করে দিতে। পরীক্ষার আগে সিলেবাস করে দেওয়া, মুখেমুখে পড়া মুখস্থ করিয়ে দেওয়া, কি খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাবো, টিফিনে কি নেবো, যাওয়ার আগে পেন-পেন্সিল ইত্যাদি সামগ্রী গুছিয়ে নেওয়া, আচার অনুষ্ঠানে কোন জামা পরবো - পছন্দ করে কিনে দেওয়া- সব তোমার ইচ্ছেতেই। 


     মনে মনে খুব রাগ হতো কোনো স্বাধীনতা নেই বলে। কিন্তু এখন বুঝতে পারি, সুপ্ত স্নেহের পাশাপাশি তোমার কড়া শৃঙ্খলায় বড় হয়েছি বলেই হয়তো জীবনে এতটা পথ আসতে পেরেছি। হয়তো সেজন্যই তোমার হাবা মেয়েটির মধ্যেও তোমার মতোই সব কাজে একটু  শৃঙ্খলার ছোঁয়া থাকে। সন্তানকে ঠিক মতো মানুষ করা যে পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ- তা আজ বুঝি। তাই সন্তানের কাছে একটু কঠিন মুখোশ পরার প্রয়োজন আছে বৈকি।


    তবে হাবা মেয়েটার বিয়ের পরে তুমি ধীরে ধীরে গম্ভীর বাবা থেকে সহজ সরল বন্ধুর মতো হয়ে গেলে। সমস্ত মনের কথা এই মেয়েটাকে এসেই বলতে। বোধহয় বয়সকালে একটু মানসিক আশ্রয় পেতে চাইতে। জানি না হাবা মেয়েটা কতটুকু নির্ভরতা দিতে পেরেছিল তোমাকে! 


    পরবর্তী অংশ

  • ২০ জুন ২০২১ | ১২৬ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন