• খেরোর খাতা

  •  নির্মল করো, মঙ্গল করো, মলিন মর্ম বাজেটে

    বন মানুষ লেখকের গ্রাহক হোন
    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৯৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  •  নির্মল করো, মঙ্গল করো, মলিন মর্ম বাজেটে


    দিনের শেষে সরল প্রশ্ন, আমজনতা কী পেল? তবে, এই প্রশ্ন করার আগে, আমজনতার কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে, সরকারের কাছে আসলে কী চায় তারা? সেই প্রত্যাশা কি বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পূরণ করতে পারলেন?


    গত এক বছর ধরে করোনা শিখিয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে যুঝে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয় আমজনতাকে। তার জন্য আলাদা কোনও চিত্রনাট্যের প্রয়োজন হয় না। লকডাউন পরবর্তী সময়ে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে গিয়ে হেরে গিয়েছেন, আত্মবিশ্বাস খুইয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যার ইয়ত্তা নেই। ক্রোশের পর ক্রোশ হেঁটে পায়ের চেটো ফুটিফাটা হয়ে গিয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। সাহায্য বলতে সরকারি চাল-ডাল। কিন্তু তাদের হাতে টাকা কই, কাজ কই? আজ কি নির্মলা সীতারামন তাদের জন্য কাজের ঠিকানা দিতে পারলেন? 


    অর্থাৎ আমজনতা কাজ খুঁজছে। হাতে নগদ টাকা চাইছে যাতে আবার নতুন করে জীবন শুরু করা যায়। নির্মলা যে বাজেট তুলে ধরলেন, তাতে সরাসরি কর্মসংস্থানের দিশা নেই। আছে আশা। রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাঙ্ক ও সংস্থা বেচে আগে নিজের ঘর গোছানোর চিন্তা করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যথেষ্ট বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নির্মলার। কারণ, রাজকোষ ঘাটতি প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার কামড়ে আরও প্রশস্ত হয়েছে সেই ঘাটতি। উৎপাদন নেই। কর থেকে আয় কমেছে। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজের ঘরের জিনিস বেচে যদি কিছু অর্থ জোগান করা যায়, তাতে ক্ষতি কী? তবে, প্রশ্ন ক্ষতির নয়, প্রশ্ন সংশয়ের। এমন ভাবে কত দিন নিজের ঘরের জিনিস বেচে সংসার চালাবে সরকার?  


    এ বার সরকার জনমোহনী বাজেট করার পথে হাঁটেনি। পরিকাঠামোয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করে পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সড়ক সংস্করণে প্রচুর মানুষের কাজ মিলবে এমন কথাও বলেছেন নির্মলা। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্পে কি আদৌ এই মুহূর্তে আশু সমাধান হবে আমজনতার। পেটে ক্ষিদে, দরকার ভাত। আর নুন-লেবু-জল দিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে সরকার। এত দিনে স্পষ্ট, সরকারের হাতে যেমন অর্থ নেই, সাধারণ মানুষেরও একই হাল। এর মাঝে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে এক শতাংশ ধনকুবেরের আয়। কিন্তু তাদের আয়ে কর বসানো হয়নি। শিল্পপতিদের প্রতি সরকারের যে উদাসীনতার অভিযোগ বিরোধীরা বারবার করেন, এই বাজেটে সেই ইঙ্গিতই মিলল। বিমায় বিদেশি বিনিয়োগের দরজা আরও খুলে দেওয়া হয়েছে। এলআইসি-র মতো ভরসাযোগ্য সংস্থার শেয়ার খোলা বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে নির্মলার সিন্দুকে অর্থ আসবে বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষের টাকা কতটা নিরাপদ থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট দিশা দেখাতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।


    এ ছাড়া সরকারের গলায় কাঁটা যাঁরা, সেই কৃষকদের জন্যও তেমন কোনও আশার বাণী শোনাননি নির্মলা। কৃষি ঋণে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত কিসান সম্মান নিধির প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চাষিদের কল্যাণের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কৃষি আইন প্রত্যাহারে ইঙ্গিত তো দূর, ভরা শীতে সিংঘু সীমান্তে কৃষকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য এমন কোনও চমক ঘোষণা শোনা গেল না নির্মলার মুখে। কৃষকরা হয়তো সংসদের অদূরে বসেই সেই প্রত্যাশা করছিলেন। আর পরিযায়ী শ্রমিকরা? প্রধানমন্ত্রী আগেই বলে দিয়েছেন, এর আগে চারটে 'মিনি বাজেট' ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নির্মলার এই বাজেটে এক ধরনের 'মিনি বাজেট'। তাই 'ধার চাহিয়া লজ্জা দিবেন না'-র মতো পরিযায়ী শ্রমিকদের কিছু আশা করাই অন্যায়। গিরিখাতে আটকে জিডিপি, আর নির্মলার বাজেটে ঘুমিয়ে কর্মসংস্থান। দুটোই কবে উঠবে বলা কঠিন। 

  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৯৯ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন